Dr. Imran ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান ➤ ডিএইচএমএস - বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল; ঢাকা
➤ ডিএমএস(অ্যালো), বিএসসি এন্ড এমএসসি(ফিজিক্স) - ঢাকা
➤ রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক(রেজিঃ নং-৩৩৪৪২)
➤ বিশেষত্বঃ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, ইউরোলজি, গাইনিকোলজি (হোমিও মেডিসিন)
➤ আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
➤ ফোন : +৮৮ ০১৬৭১-৭৬০৮৭৪ এবং ০১৯৭৭-৬০২০০৪
➤ সাক্ষাৎ : সকাল ১০ থেকে বিকাল ৫ টা
➤ প্রোফাইল ➤ ফেইসবুক ➤ ভিডিও

সাম্প্রতিক আপডেট

আইবিএস

পেটের পীড়া আইবিএস নির্মূলের স্থায়ী চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি।

ভেরিকোসিল

ভেরিকোসিলের অপারেশনবিহীন স্থায়ী চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি।

পুরুষ বন্ধ্যাত্ব

পুরুষদের বন্ধ্যাত্ব সমস্যা নির্মূলের কার্যকর চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি।

নারী স্বাস্থ্য

স্ত্রীরোগ বা নারীদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যাবতীয় আপডেট দেখুন

নারী স্বাস্থ্য স্ত্রীরোগ
নারীদের অর্থাৎ স্ত্রীরোগ সম্পর্কিত বিষয়াবলী
মা ও শিশু স্বাস্থ্য
মা ও শিশু স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়াবলী
পুরুষদের স্বাস্থ্য
পুরুষদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়াবলী
রোগ-ব্যাধি অসুখবিসুখ
নানা প্রকার রোগ-ব্যাধি সম্পর্কিত বিষয়াবলী
স্বাস্থ্য বিষয়ক টিপস
স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যাবতীয় টিপস ও ট্রিকস

সাম্প্রতিক আপডেট

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার মানে হলো স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় বেগ পাওয়া এবং প্রস্রাব করা। এটি যেকোন ব্যক্তির প্রতিদিনকার দিন লিপিতে বিঘ্ন ঘটায় এবং ঘুমের ব্যাঘাত সৃষ্টি করে থাকে। তাই দ্রুত আরাম পাওয়ার জন্য ঘন ঘন প্রস্রাব হলে শুরুতে অনেকেই না বুঝে এন্টিবায়োটিক খাওয়া শুরু করেন যা বহু ক্ষেত্রেই উল্টো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেকের দিনে ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ আসে আবার অনেকের রাতে বেশি আসে আবার কারো ক্ষেত্রে দিন রাতে সমান থাকে। দিনে ৪-৫ বার প্রস্রাবের চাপ আসা মোটেই অস্বাভাবিক নয়। তবে তার থেকে বেশি বার হলে কিন্তু চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

কেউ কেউ আবার মনে করে থাকেন ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া মানেই ডায়াবেটিস, বিষয়টি কিন্তু তাও নয়।  এর পেছনে যেমন ডায়বেটিস থাকতে পারে তেমনি আরো বহু কারণ থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লাডার যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত কাজ করা শুরু করে তাহলেই ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ আসে। আর এরকমটা নানা কারণে হতে পারে যেমন: অ্যালকোহল সেবন, ক্যাফিন, ডায়াবেটিস, ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশন Urinary Tract Infection (UTI), পেলভিক রিজিয়ানে কোন অসুবিধা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রয়া থেকেও হতে পারে।
প্রচণ্ড পরিশ্রমের কাজ যারা করেন, ঘামেন, তারা ৫ লিটার পানি খেলে হয়ত ২ লিটার প্রস্রাব হবে যারা বিশ্রামে থাকেন বা ঘামেন না তারা ২.৫ লিটার খেলেই ২ লিটার প্রস্রাব হতে পারে তবে এক সাথে ১ গ্লাসের বেশি পানি পান করার দরকার নেই।
ঘন ঘন প্রস্রাব করার সমস্যা যদি বিশেষ করে রাতের বেলায় হয় তাহলে এটা কিডনি রোগের লক্ষণ হতে পারে। যখন কিডনির ছাঁকনি গুলো নষ্ট হয়ে যায় তখন প্রস্রাবের বেগ বৃদ্ধি পায়। আবার কারো কারো ক্ষেত্রে প্রস্রাবের সাথে রক্ত যেতে দেখা যায়। সুস্থ কিডনি সাধারণত ব্লাড সেল গুলোকে শরীরের ভিতরে রেখে রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ মূত্র হিসেবে বের করে দেয়। যখন কিডনি ক্ষতিগ্রস্থ হয় তখন ব্লাড সেল বের হতে শুরু করে। প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়ার এই লক্ষণটির কিডনি রোগের সাথে সাথে টিউমার, কিডনি পাথর বা ইনফেকশনেরও ইঙ্গিত হতে পারে।
ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার কারণ ও প্রতিকার

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার কারণ

  • বেশি বেশি পানি পান করা একটি প্রধান কারণ
  • দুঃশ্চিন্তা, বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষাকালীন সময়ে বা ইন্টারভিউ দেয়ার পূর্বে 
  • যুবকদের পর্ণ দেখা বা উত্তেজক চিন্তার ফলেও ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে 
  • শীতকাল বা ঠান্ডা-শুষ্ক পরিবেশে মানুষের শরীর ঘামে না, ঐ সময় অতিরিক্ত প্রস্রাব তৈরি করে কিডনী শরীরে পানি ও লবণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে
  • কিছু রোগের লক্ষণ হিসেবে অতিরিক্ত প্রস্রাব হয়, যেমন - ডায়াবেটিস, প্রস্টেট গ্রন্থির টিউমার, প্রস্রাবে জীবাণু সংক্রমণ ইত্যাদি
  • কিডনী অকেজো হবার অন্যতম লক্ষণ হল অতিরিক্ত প্রস্রাব হওয়া
  • ব্লাডার ক্যান্সার, ব্লাডার বা কিডনিতে পাথর হলে 
  • মূত্র নালীর সংকোচন হলে ঘন ঘন প্রস্রাব বা প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হতে পারে
  • এছাড়া এলকোহল, চা, কফি পান করাও অতিরিক্ত প্রস্রাব হবার জন্য দায়ী
  • ইনফেক্শন একটি কারণ। এটি হলে প্রস্রাবের সাথে জ্বালাপোড়া হবে। প্রস্রাব ছাড়াও জ্বালাপোড়া হবে। মেয়েদের ক্ষেত্রে দেখা যায় তাদের পেলভিক এরিয়াতে বা তলপেটে জ্বালাপোড়া করছে।
  • পুরুষদের প্রোস্টেটে ইনফেকশন হলেও ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে
  • প্রস্রাবের পথে যদি কোন বাধা থাকে তাহলেও ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে 
  • মেয়েদের গর্ভে সন্তান আসার প্রথম ৩ মাসে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে 
  • মেয়েদের পেলভিক ইনফ্লামেশন হলেও ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে 
  • যক্ষা বা TB হলেও তলপেটে জ্বালাপোড়া, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া এবং ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে 
  • প্রস্রাবের থলিতে ক্যান্সার হলেও প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া এবং ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে, এমনকি রক্তও বের হতে পারে 
অনেকেই আবার ঘন ঘন প্রস্রাব প্রস্রাব হলেই আতংকিত হয়ে পড়েন ডায়াবেটিস হল কিনা এই ভেবে। আপনার আতংকিত হওয়ার মোটেই কোন কারণ নেই। আর ডায়াবেটিস হলেও চিন্তা বা ভয়ের কিছুই নেই কারণ আপনি হয়তো জানেনই না যে - ডায়াবেটিস হলে প্রথমেই যদি আপনি ক্রমাগত এলোপ্যাথিক বা রাসায়নিক ঔষধ দিয়ে এটিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা না করে অভিজ্ঞ কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেন তাহলে ৪-৬ মাসের মধ্যেই অধিকাংশ ডায়বেটিসই নির্মূল হয়ে যায়। তবে যাদের অন্য আরো শারীরিক সমস্যা থাকে তাদের ক্ষেত্রে সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে। ডায়াবেটিস মূলত কোন রোগ নয়। এটি হলো মেডিক্যাল মাফিয়াদের তৈরী করা একটি বিসনেস পলিসি। এতদিন যাবৎ তাদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন মিডিয়ায় এক চেটিয়া প্রচার করে করে মানুষকে তারা বুঝানোর চেষ্টা করতো এই ধরণের রোগ ভালো হয় না কিন্তু এখন মিডিয়া সাধারণ জনগণের হাতের কাছে হওয়ায় তাদের প্রতারণা দিন দিন প্রকাশ হচ্ছে। 

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার লক্ষন

  • ঘন ঘন প্রস্রাব বেগ হওয়া 
  • প্রস্রাবের প্রচণ্ড চাপ অনুভব
  • প্রস্রাবের সময় ব্যাথা, জ্বালাপোড়া ও অসহ্য অনুভূতি
  • তল পেটে স্বাভাবিকভাবে অথবা চাপ দিলে ব্যাথা অনুভব
  • ঘন ফেনার মত অথবা দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব
  • জ্বর-কাঁপুনিসহ অথবা কাঁপুনি ছাড়া
  • বমি বমি ভাব ও বমি হওয়া
  • কোমরের পাশের দিকে অথবা পিছনে মাঝামাঝি অংশে ব্যাথা
  • প্রস্রাবের চাপে রাতে বার বার ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া।

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার প্রতিকার

প্রচণ্ড পরিশ্রমের কাজ যারা করেন, ঘামেন, তারা ৫ লিটার পানি খেলে হয়ত ২ লিটার প্রস্রাব হবে যারা বিশ্রামে থাকেন বা ঘামেন না তারা ২.৫ লিটার খেলেই ২ লিটার প্রস্রাব হতে পারে তবে এক সাথে ১ গ্লাসের বেশি পানি পান করার দরকার নেই।

তবে এর ব্যতিক্রম হলেই চিন্তার বিষয়। কি কারণে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার সমস্যা হচ্ছে সেটি বের করতে হবে এবং সে অনুযায়ী প্রপার হোমিও চিকিৎসা নিতে হবে। ডায়াবেটিস, ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশন, প্রোস্টেটে ইনফেকশন, ব্লাডার ক্যান্সার, ব্লাডার বা কিডনিতে পাথর, মূত্র নালীর সংকোচন ইত্যাদি যে কারণই দায়ী থাকুক না কেন সেটি যথাযথ ভাবে নির্ণয় করে প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট নিলে ধীরে ধীরে এই সমস্যা দূর হয়ে যায়।
বিস্তারিত

বুধবার, ২৭ মে, ২০২০

শিশুদের হাঁপানি শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা ! কারণ লক্ষন ও সমাধানের স্থায়ী উপায়

শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা Asthma বা হাঁপানি মূলত শিশুদের জন্য সর্বাধিক দৃশ্যমান শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা। বেশির ভাগ শৈশবকালীন হাঁপানি শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা ১ থেকে ৫ বছর বয়সে দেখা যায়। দুর্ভাগ্যবশত এই সমস্যার স্থায়ী চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি হওয়া সত্ত্বেও অনেকেই বিষয়টি জানেন না আবার যারা জানেন তারা যথা সময়ে অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসক নির্বাচন করতে ব্যর্থ হন মূলত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শাস্ত্র সম্পর্কে তাদের কোন বাস্তব ধারণা বা জ্ঞান না থাকার কারণে।

বর্তমান বিশ্বে হোমিওপ্যাথি ছাড়া শিশুদের হাঁপানি বা অ্যাজমা সমস্যা নির্মূলের স্থায়ী কোন চিকিৎসা নেই। অন্যান্য চিকিৎসা শাস্ত্রে মূলত সমস্যাটি কমিয়ে রেখে আরাম দেয়ার চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে যার কারণে সাময়িক আরাম পেলেও দিন দিন রোগ জটিলতা বাড়তে থাকে এবং দীর্ঘকাল ব্যাপী নানা প্রকার রাসায়নিক ঔষধ শরীরে প্রয়োগ করার ফলে আরো দুরারোগ্য জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে।

শিশুদের শ্বাসনালীগুলো খুবই ক্ষুদ্র। ২ মি. মি. থেকে ৫ মি. মি. ব্যাসবিশিষ্ট। চারদিকে মাংসপেশি পরিবেষ্টিত। এই ক্ষুদ্র শ্বাসনালীর ভেতর দিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় খুব সহজেই বাতাস আসা-যাওয়া করতে পারে। যদি কখনও এলার্জিক বা উত্তেজক কোন জিনিস শরীরে প্রবেশ করে তখন শ্বাসনালীর মাংস পেশিগুলো সঙ্কুচিত হয়। ফলে শ্বাসনালী সরু হয়ে যায়। তাছাড়া উত্তেজক জিনিসের প্রভাবে শ্বাসনালীর গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় আঠালো কফ, আর ইনফেকশনের কারণে শ্বাসনালীর ভেতরের দিককার মিউকাস আবরণী আঠালো কফ উঠিয়ে ফেলার লক্ষ্যে অনবরত কাশি হয়ে থাকে। কখনও কখনও এই শ্বাসনালী এত সরু হয় যে, বাতাস বায়ুথলিতে পৌঁছায় না, তখন শরীরে অক্সিজেনের অভাব হয়। এটা খুবই মারাত্মক অবস্থা। এ অবস্থা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলে অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু ঘটতে পারে।
শিশুদের হাঁপানি শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা! কারণ লক্ষন ও সমাধানের স্থায়ী উপায়

হাঁপানি বা অ্যাজমা - প্রকারভেদ

  • একিউট অ্যাজমা : তীব্র হাঁপানি এতে ফুসফুসের বায়ুবাহী নালীসমূহ আকস্মিকভাবে সংকুচিত হয় ও শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্টের সৃষ্টি করে
  • ক্রনিক অ্যাজমা : দীর্ঘমেয়াদী হাঁপানি এতে ঘন ঘন অ্যাজমায় আক্রান্ত হয় এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে ও প্রতিরোধে চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে

শিশুদের হাঁপানি বা অ্যাজমা - লক্ষণ 

অ্যাজমা শিশুদের উপসর্গ একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়ে থাকে। আপনার শিশু অ্যাজমায় আক্রান্ত কিনা সেটা কিছু উপসর্গ দেখে বুঝতে পারবেন -
  • শ্বাসত্যাগের সময় প্রতিনিয়ত বাঁশির মতো শব্দ
  • সব সময় অথবা বারে বারে কাশি লেগে থাকে
  • শ্বাসকষ্ট এবং ঘন ঘন ঠান্ডা লাগা, যা প্রায়ই বুকে বসে যায়
  • রাতে শোবার বেলায় বা ভোরের দিকে কাশি বা শ্বাসকষ্টের আওয়াজ
  • রাতে ঘুম থেকে ওঠে বসে থাকা
  • বারবার শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছে এবং শাঁ শাঁ শব্দ
  • বুকে আঁটসাঁট বা দম বন্ধ ভাব 
  • ধোঁয়া, ধুলোবালি, ফুলের রেণু বা পোকামাকড়ের উপস্থিতিতে সমস্যাগুলো  বেড়ে যায়

শিশুদের হাঁপানি বা অ্যাজমা - কারণ

উপরি উপরি চিন্তা করে দেখা যায় শিশুদের ক্ষেত্রে ৮০% এর বেশি অ্যাজমা হলো এলার্জিজনিত। তবে আরো গভীরে গিয়ে চিন্তা করলে দেখা যায় মানুষের মধ্যে বিদ্যমান প্রকৃত কিছু রোগ যেগুলি মূলত নানা প্রকার জটিল উপসর্গ তৈরী করে থাকে। শিশুদের হাঁপানি বা অ্যাজমা হলো তেমনি একটি প্রকৃত রোগের সৃষ্ট উপসর্গ। তবে কিছু কিছু কারণ রয়েছে যেগুলি হাঁপানি সমস্যাটিকে ত্বরান্বিত করে থাকে যেমন -
  • হাঁপানি বা অ্যালার্জির পারিবারিক ইতিহাস
  • ভাইরাল ইনফেকশন
  • লোমশ প্রাণী (যেমন বিড়াল, কুকুর)
  • সিগারেট বা কাঠের ধোঁয়া
  • ঘরের জাজিম, বালিশ বা কার্পেটের ধুলোবালি
  • পুষ্পরেণু ও পোকামাকড় (যেমন তেলাপোকা)
  • তাপমাত্রার পরিবর্তন
  • অ্যারোসল বা সুগন্ধী সামগ্রী
  • অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ

শিশুদের হাঁপানি বা অ্যাজমা  - কারা আক্রান্ত হতে পারে

যেসব শিশুদের ব্যক্তিগত বা পারিবারিকভাবে অ্যালার্জির ইতিহাস আছে এবং যাদের অ্যালার্জিজনিত হাঁপানি বা চর্মরোগ আছে, তাদের হাঁপানিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে এমন নয় যে, হাঁপানি বা পারিবারিক ইতিহাস ছাড়া কোনে শিশুর অ্যাজমা হবে না। বরং ইদানীং এ ধরনের শৈশবকালীন হাঁপানি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

শিশুদের হাঁপানি বা অ্যাজমা - চিকিৎসা

মূলত এই হাঁপানি সমস্যার জেনেটিক মেটেরিয়ালস শিশু জন্ম থেকেই নিয়ে আসে তাদের পূর্বপুরুষ থেকে। হোমিওপ্যাথিতে দুরারোগ্য রোগের কারণ হিসেবে True Disease বা প্রকৃত রোগকে দায়ী করা হয়ে থাকে সেগুলির মধ্যে হাঁপানি বা অ্যাজমা সমস্যার পেছনে মূলত অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দায়ী থাকে Tubercular Diathesis. এছাড়া রয়েছে Post Trauma Syndrome (PTS) And Post Rabies Syndrome (PRS). হোমিওপ্যাথি মূলত মানুষের ভেতরে থাকা True Disease বা প্রকৃত রোগটির চিকিৎসা দিয়ে থাকে। এর মাধ্যমে শিশুদের হাঁপানি বা অ্যাজমাসহ সকল রোগ-ব্যাধি নির্মূল হয়ে শিশু প্রকৃত সুস্বাস্থ্য লাভ করে থাকে।

তবে এর জন্য অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসক - শিশুর নিজের, তার পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানীর হিস্ট্রি নিবেন এবং তার মধ্যে থাকা প্রকৃত রোগটি নির্ণয় করে সেটিকে প্রচ্ছন্ন অবস্থায় নিয়ে আসার জন্য হোমিওপ্যাথির নির্দিষ্ট নিয়মনীতি অনুযায়ী ডাইনামিক হোমিও মেডিসিন প্রয়োগ করবেন এবং ধাপে ধাপে সামনে আগাবেন। ধৈর্য্য ধরে চিকিৎসা নিলে একসময় দেখবেন হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমার সমস্যা স্থায়ীভাবে নির্মূল হয়ে গেছে ইনশা-আল্লাহ।
বিস্তারিত

শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০

ডাউন সিনড্রোম Down Syndrome টাইপ বা প্রকার কারণ লক্ষণ জটিলতা ও নিরাময়ের উপায়

আজকে আমরা ডাউন সিনড্রোম অর্থাৎ একটি জন্মগত ত্রুটি বা জেনেটিক ডিজঅর্ডার এর টাইপ বা প্রকার কারণ লক্ষণ জটিলতা ও নিরাময়ের উপায় সম্পর্কে জানবো। Down Syndrome কে সংক্ষেপে DS or DNS বলা হয়। যা ট্রাইসোমি ২১ নামেও পরিচিত। এটি মূলত শিশুদের  জন্ম পূর্বকালীন অর্থাৎ প্রি-ন্যাটাল পিরিয়ডের অন্যতম একটি দুরারোগ্য জেনেটিক সমস্যা যেখানে ২১ নং ক্রোমোজোমে আরেকটি অতিরিক্ত ক্রোমোজোম বিদ্যমান থাকে। যেহেতু মায়ের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশু জন্ম নেয়ার ঝুঁকিও বাড়ে, তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানে অধিক বয়সে, বিশেষ করে পঁয়ত্রিশোর্ধ্ব বয়সে গর্ভধারণ করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়। এরকম সন্তান জন্মদানের সম্ভাবনা ২০ বছর বয়সী মায়েদের ক্ষেত্রে ০.১% এরও কম এবং ৪৫ বছর বয়সী মায়েদের ক্ষেত্রে তা ৩% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

ডাউন সিনড্রোম নিয়ে জন্ম নেয়া মানুষের ক্রোমোজোমের গঠন সাধারণ মানুষের ক্রোমোজমের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন হয়ে থাকে। ব্রিটিশ চিকিৎসক জন ল্যাংডন ডাউন সর্বপ্রথম ১৮৬৬ সালে এ সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদেরকে চিহ্নিত করেন বলে তার নামানুসারে একে ডাউন সিনড্রোম নামকরণ করা হয়।
ডাউন সিনড্রোম জন্মগত ত্রুটি বা জেনেটিক ডিজঅর্ডার
আপনারা হয়তো জানেন, মানবদেহের গঠনের একককে কোষ বা সেল বলা হয়ে থাকে। আর মানুষের বংশগতি, আচার আচরণ ইত্যাদি সবকিছু নির্ধারিত হয় কোষস্থ DNA এর মাধ্যমে। এ কারণে ডিএনএ-কে বলা হয় আমাদের বংশগতির ধারক ও বাহক। অর্থাৎ আমাদের শারীরিক ও মানসিক যাবতীয় বৈশিষ্ট্য, আচার-আচরণ, বুদ্ধিমত্তা, চেহারা, উচ্চতা, গায়ের রং সব বৈশিষ্ট্যই ডিএনএ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। অন্যদিকে মানব শরীরে ডিএনএ এর অসামঞ্জস্য দেখা দিলে নানারকম শারীরিক ও মানসিক ত্রুটি দেখা দেয়, যাদের আমরা সাধারণভাবে জন্মগত ত্রুটি বা জেনেটিক ডিজঅর্ডার বলে থাকি। ডাউন সিনড্রোম হলো সেরকমই একটি জেনেটিক ডিজঅর্ডার।

ডাউন সিনড্রোম - কিভাবে হয় 

কোষে অবস্থান করা কোটি কোটি ডিএনএ এর সমন্বয়ে একেকটি ক্রোমোজম তৈরি হয়। মানবদেহের প্রতিটি কোষের মধ্যে ২৩ জোড়া ক্রোমোজম নামের অঙ্গানু থাকে, যার অর্ধেক আসে শিশুর মায়ের কাছ থেকে আর বাকি অর্ধেক বাবার কাছ থেকে। ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত মানুষের শরীরের প্রতিটি কোষে ২১ নম্বর ক্রোমোজমটির সঙ্গে আংশিক বা পূর্ণভাবে আরেকটি ক্রোমোজম (ট্রাইসোমি ২১) যুক্ত থাকে। আক্রান্ত শিশুর পিতামাতা জেনেটিক ভাবে স্বাভাবিক থাকে। অতিরিক্ত ক্রোমোজোমের ঘটনা দৈবক্রমে ঘটে থাকে।
২১ নম্বর ক্রোমোজম তিনটি থাকে বলে ২১/৩ বা একুশে মার্চ বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবস হিসেবে পালিত হয়। 
মূলত এই অতিরিক্ত ক্রোমোজমের কারণেই ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশুদের বিশেষ কিছু শারীরিক ও মানসিক ত্রুটি লক্ষ্য করা যায়। চেহারার গঠনগত দিক বিবেচনায় বা আচার আচরণে অধিকাংশ ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তদের মাঝে মিল থাকার কারণে তাদেরকে সহজেই ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশু হিসেবে শনাক্ত করা যায়।

ডাউন সিনড্রোম - টাইপ বা প্রকার

  • ট্রাইসোমি ২১ (Trisomy 21) : এটা ডাউন সিনড্রোমের সব থেকে প্রচলিত ধরণ এবং ৯৫% ক্ষেত্রেই এটি দেখা যায়। যেখানে প্রতিটি কোষে ২১ নং ক্রোমোজোমে আরেকটি অতিরিক্ত ক্রোমোজোম বিদ্যমান থাকে।
  • মোসাইসিসম (Mosaicism) :  এটি মাত্র ১% ক্ষেত্রে দেখা যায়। এক্ষেত্রে সব কোষে না হলেও কয়েকটা কোষে অতিরিক্ত ক্রোমোজোম থাকে। ট্রাইসোমির কয়েকটা উপসর্গ এখানেও দেখা যায়।
  • ট্রান্সলোকেশান (Translocation) :  মূলত ৪% ক্ষেত্রে এটি দেখা যায়। এই ধরণের ডাউন সিনড্রোমে, শুধুমাত্র ২১ নং ক্রোমোজোমের অতিরিক্ত অংশ থাকে অর্থাৎ সর্বমোট ৪৬ টা ক্রোমোজোম থাকলেও এর মধ্যে একটার সাথে ক্রোমোজোম ২১ এর অতিরিক্ত অংশ যুক্ত থাকে।

ডাউন সিনড্রোম - কি কারণে হয় 

ইতিমধ্যে জেনেছেন ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত মানুষের শরীরের প্রতিটি কোষে ২১ নম্বর ক্রোমোজমটির সঙ্গে আংশিক বা পূর্ণভাবে আরেকটি ক্রোমোজম (ট্রাইসোমি ২১) যুক্ত থাকে। কিন্তু সমস্যা হলো, ২১তম ক্রমোজমের অসংগতির ফলে ডাউন সিনড্রোম দেখা দেয়, এটা জানা গেলেও ঠিক কোন কোন কারণে এ অসংগতি হতে পারে, এ সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা আজো নিশ্চিত হতে পারেননি। আর তাই এলোপ্যাথিক সিস্টেমে এর কোন সমাধান নেই।
ডাউন সিনড্রোম মূলত একটি জেনেটিক ডিসঅর্ডার। এই সকল জেনেটিক সমস্যা নিয়ে বহু আগে থেকেই হোমিওপ্যাথি কাজ করে আসছে এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়মনীতি বা সংবিধান যা বিশ্বের আর কোন চিকিৎসা শাস্ত্রের নেই। যেকোন দুরারোগ্য রোগের একটি উন্নত আর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা মানেই হোমিওপ্যাথি। শিশুদের এইসকল  জন্মগত ত্রুটি বা জেনেটিক ডিসঅর্ডার হওয়ার মুলে বিশেষ করে ডাউন সিনড্রোম এর ক্ষেত্রে যে ফ্যাক্টর বেশি কাজ করে তা হলো PRS - Post Rabies Syndrome এছাড়া  PTS অথবা Infectious Miasms - Sycosis & Syphilis Miasm And Tubercular Diathesis ...(Read More) ও এর পেছনে থাকতে পারে, যেগুলি মূলত অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকগণ কেইস টেকিং করার সময় উৎঘাটন করে রোগীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করে থাকেন। মনে রাখবেন, রিয়েল হোমিওপ্যাথি বর্তমান বিশ্বে শিশুদের জন্মগত ত্রুটি বা জেনেটিক ডিজঅর্ডার সংক্রান্ত সমস্যাগুলির একটি কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি।

ডাউন সিনড্রোম - প্রকট বৈশিষ্ট্য

  • মাংসপেশির শিথিলতা
  • আকারে ছোট মাথাসহ কম উচ্চতা
  • চোখের কোনা উপরের দিকে উঠানো বা ট্যারা দৃষ্টি
  • চ্যাপ্টা নাক
  • আকারে ছোট কান ও ঘাড়
  • হাতের তালুতে একটি মাত্র রেখা
  • জিহ্বা বের হয়ে থাকা 
  • অনিয়ন্ত্রিতভাবে লালা ক্ষরণ ইত্যাদি

ডাউন সিনড্রোম - অন্যান্য শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ বা জটিলতা

  • তাদের মাংসপেশী সাধারণ মানুষদের তুলনায় শিথিল হয়। অর্থাৎ সাধারণ একজন মানুষের পেশীতে যতটা শক্তি থাকে তা ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তির থাকে না।
  • অনেকের ক্ষেত্রে আবার বিপরীতটাও লক্ষ্য করা যায়। স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত শক্ত মাংসপেশী থাকে অনেকের যা তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমের জন্যে বাধার সৃষ্টি করে। 
  • কানে কম শোনা, কথা বলতে দেরি হওয়া, কম বুদ্ধি ইত্যাদি জটিলতা থাকে। 
  • কিছু ক্ষেত্রে আক্রান্তদের অল্প বয়সেই হৃদরোগের সমস্যা হয় আর কিছু ক্ষেত্রে বয়স বাড়লে হার্টের সমস্যা গুরুতর হয়ে ওঠে, কেউ কেউ পাকস্থলীর সমস্যায়ও আক্রান্ত হয়ে থাকে। 
  • কারো ক্ষেত্রে থাইরয়েডের ত্রুটি দেখা যায়। 
  • হার্টের ত্রুটি এবং থাইরয়েডের ত্রুটি থাকার কারণে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে।
  • টেস্টিকুলার ক্যান্সার ও লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
  • তাদের আইকিউ বা বুদ্ধিমত্তা অনেক কম হয় তবে ৩০ বছর বয়সের পর সমস্যা আরো বেড়ে যায়। 
  • অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্তরা কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলে। 
ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত একটি শিশু বয়সের সাথে সাথে আর দশজন স্বাভাবিক শিশুর মতো বুদ্ধিবৃত্তিক বা আচরণগত বিকাশ ঘটাতে পারে না। তাদের আবেগীয় বিকাশটি সঠিকভাবে হয়ে ওঠে না। ফলে আশেপাশের যেকোন কিছুর প্রতি তাদের অতিরিক্ত আবেগ প্রদর্শন বা একদমই আবেগীয় কোনো অনুভূতি দেখা যায় না। দেখা গেলো, খুব সাধারণ একটি শব্দে তারা ভয় পেয়ে চমকে ওঠে, কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। আবার অনেক সময় এরাই অনেক ভয়ের বিষয় বা অনুভূতি প্রকাশ করার মতো ঘটনাকে অগ্রাহ্য করে। অর্থাৎ, মানসিক বিকাশ বা জ্ঞানীয় বিকাশগত জায়গা থেকে ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্তদের বেশ কিছু সমস্যা দেখা যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত গুটিকয়েক শিশু অস্বাভাবিক আইকিউ সম্পন্ন হয়ে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এদের Exceptional Children বলা হয়।

ডাউন সিনড্রোম - নিরাময়ের উপায়

বর্তমান বিশ্বে এই সমস্যার একটি কার্যকর চিকিৎসা হল রিয়েল হোমিওপ্যাথি। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শাস্ত্র শিশুদের জীনগত ত্রুটি বা জন্মগত রোগের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করে থাকে। কারণ জেনেটিক ডিসঅর্ডার হওয়ার মুলে যে ফ্যাক্টর কাজ করে তা হলো PRS - Post Rabies Syndrome এছাড়াও Infectious Miasms - Sycosis & Syphilis Miasm And Tubercular Diathesis ও এর পেছনে থাকতে পারে। আর এই সকল সমস্যা সমাধানের কার্যকর উপায় রয়েছে হোমিওপ্যাথিক ট্রিটমেন্ট সিস্টেমে। তবে এর জন্য যথা সময়ে সমস্যাটি চিহ্নিত করে রিয়েল হোমিওপ্যাথিক থেরাপিউটিক সিস্টেমে দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ এবং ট্রিটমেন্ট নিলে আশানুরূপ ফলাফল পেতে পারেন।
বিস্তারিত

সোমবার, ১৮ মে, ২০২০

শিশুর জন্মগত ত্রুটি এবং জন্মের পর মারাত্মক রোগ ব্যাধির প্রকৃত কারণ (PRS, PTS) ও সমাধান

শিশুর জন্মগত ত্রুটি Congenital anomalies এবং জন্মের পর নানা প্রকার মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা বা রোগ ব্যাধির কারণ এবং সমাধানের কার্যকর উপায় সম্পর্কে আজ আমরা জানবো। সাধারণত শিশুদের - Down Syndrome, Cerebral palsy, Autism, Juvenile Diabetes mellitus, Gilbert Syndrome, Thalaseemia, Hemophilia, Huntington's Chorea, SLE (Systemic lupus erythrematosus), Psoriasis, Neurofibromatosis, Congenital Heart Diseases ইত্যাদি সমস্যায় ভুগতে দেখা যায়। এছাড়াও রয়েছে আরো বহু শারীরিক বা মানুষিক প্রতিবন্ধকতা জনিত লক্ষণ এবং উপসর্গ। শিশুরা মূলত তাদের পিতা মাতা বা পূর্বপুরুষদের থেকে এই সকল দুরারোগ্য রোগের জেনেটিক মেটেরিয়ালস পেয়ে থাকে।

হোমিওপ্যাথি ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য চিকিৎসা শাস্ত্রগুলি এই সমস্যার সম্পর্কে উপরি উপরি চিন্তা করে মূলতো সেগুলির পেছনের স্থানিক কিছু কারণ নির্ণয় করার চেষ্টা করে থাকে তবে বহু ক্ষেত্রে সেটাও নির্ণয়ে ব্যর্থ হয়ে সেগুলির সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারে না। বর্তমান বিশ্বে একমাত্র একটি চিকিৎসা শাস্ত্রই এই সমস্যাগুলির প্রকৃত কারণগুলি নিয়ে বহু কাল ব্যাপী গবেষণা করে সমাধানের কার্যকর উপায় উদ্ভাবন করেছে আর তা হলো হোমিওপ্যাথি। আজ মূলত আমরা শিশুদের জন্মগত বা জন্মের পর মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যাগুলির পেছনের প্রকৃত কারণ কি হতে পারে সেগুলি নিয়েই আলোকপাত করবো। প্রধানত দুটি ফ্যাক্টর এই সমস্যাগুলির  পেছনে কাজ করে -
  • PRS - Post Rabies Syndrome
  • PTS - Post Trauma Syndrome
এছাড়া এর পেছনে দায়ী থাকে Morbific Noxious Agent - Psora or Psoric Miasm এবং Infectious Miasms - Sycosis & Syphilis Miasm And Tubercular Diathesis...(Read More). তবে আমরা আজ মূলত শিশুদের ক্ষেত্রে প্রকট PRS এবং PTS নিয়েই আলোচনা করবো যেগুলি হোমিওপ্যাথির নব্য আবিষ্কৃত রত্ন যা চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডাঃ শ্যামল কুমার দাস কর্তৃক বহু বছরের গবেষণা লব্ধ বাস্তব এবং জীবন্ত ফলাফল।
শিশুর জন্মগত এবং জন্মের পর মারাত্মক রোগ ব্যাধির প্রকৃত কারণ ও সমাধান

Post Rabies Syndrome (PRS)

প্রথমেই আসুন পোস্ট রেবিস সিন্ড্রম সম্পর্কে আলোকপাত করা যাক। যেকোন Animal Bite (Dogs, Cats, Bates, Snakes etc) এবং ঐ Bite এর কারণে চিকিৎসায় ব্যবহৃত Vaccine বা টিকা জনিত সমস্যা, পরবর্তী সময়ে এবং পরবর্তী প্রজন্মগুলিতে যেসকল জটিল পরিস্থিতি তথা বিভিন্ন অস্বাভাবিক এবং ভয়ঙ্কর সমস্যার সৃষ্টি হয়, সেগুলিকে একত্রে Post Rabies Syndrome (PRS) আখ্যা দেয়া হয়েছে।
  • এই বিষে বিষাক্ত Zygote থেকে সৃষ্ট শিশু, কখনো কখনো মাকে গর্ভাবস্থায় ভীষণ কষ্ট দেয় অর্থাৎ গর্ভাবস্থায় মা ভীষণ কষ্ট ভোগ করেন যদিও সব ক্ষেত্রে এমনটি হয় না।
  • এই বিষাক্ত Zygote থেকে সৃষ্ট শিশু মারাত্মক দৈহিক ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেয়, অবস্থা এমন ভয়ঙ্কর থাকে যে জন্ম নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে NICU তে ভর্তি করতে হয়, কাউকে আবার তক্ষনি অপারেশন করতে হয়, যেমন CDH - Congenital Diaphragmatic Hernia, শিশু জন্ম নিয়েছে কিন্তু মলদ্বার হয়নি ইত্যাদি।
  • শিশু জন্ম নেয়ার আগের মুহূর্তে মায়ের পানি ভেঙে গিয়ে এমন ভযঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল যে শিশুটিকে তক্ষনি পেট কেটে (Cesarean Section) না করলে মারা যেত।
  • শিশুটি মায়ের পেট থেকে বেরিয়ে এসেছিলো নীলবর্ণ, মৃতপ্রায় অবস্থায়, বাঁচবার কোন আশাই ছিল না।
  • এর আগে দুটি শিশু যথাক্রমে তিন মাসে এবং পাঁচ মাসে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক চিকিৎসার পর এই শিশুটি মৃতপ্রায় হয়ে জন্মেছে।
  • আবার এমন বিষাক্ত Zygote থেকে সৃষ্ট শিশু জন্ম নিয়েছে দুরারোগ্য Genetic Disease নিয়ে যেমনঃ Down Syndrome, Cerebral palsy, Autism, Juvenile Diabetes mellitus, Gilbert Syndrome, Thalaseemia, Hemophilia, Huntington's Chorea, SLE (Systemic lupus erythrematosus), Psoriasis, Neurofibromatosis, Congenital Heart Diseases etc.
  • কখনো এমন বিষাক্ত Zygote থেকে সৃষ্ট শিশু Pancreas এর তীব্র সমস্যা নিয়ে জন্মায়। এই সমস্যা পরবর্তী সময়ে Acute pancreatitis, Chronic pancreatitis, Pancreatic carcinoma ইত্যাদি রূপে প্রকাশ পায়।
  • Post Rabies Syndrome (PRS) প্রকট, এমন শিশুরা মায়ের গর্ভে অবস্থান কালে মাকে ভীষণ কষ্ট দেয়, Neonatal period এও মাকে ভীষণ কষ্ট দেয় যেমনঃ দিবারাত্র ভীষণ কান্না, যার জন্য মায়ের খাওয়া-ঘুম থাকে না, আবার হঠাৎ হঠাৎ এমন ভয়ংকর অসুস্থ হয়ে যায় যে চিকিৎসকের নির্দেশে তক্ষনি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এই সকল শিশু অপ্রতুল Vital Force নিয়ে জন্মায় যার কারণে তাদের Immune System খুব দুর্বল থাকে ফলে এরা খুব সহজেই বিভিন্ন Infectious disease (Severe Pneumonia, Bronchitis, Typhoid, Gastroenteritis, Cold, Cough, Fever, Measles, Mumps, Pox, Tonsillitis, Cholera, Malaria etc) এ আক্রান্ত হয় এবং প্রত্যেকটি Infectious disease ই দ্রুত ভয়ঙ্কর রূপ নেয়।
  • আবার এমনও হতে পারে যে জন্মের সময় একটু সমস্যা ছিল বা ছিল না কিন্তু কিছু দিন পর ক্যান্সার বা ক্যান্সারের মতো ভয়ঙ্কর রোগ শুরু হলো।
এছাড়া সারাটা জীবন একটা না একটা সমস্যা লেগেই থাকে, সুস্থতার আনন্দ সৃষ্টিকর্তা তাদের জন্য মঞ্জর করেননি। এদের বয়স যত বাড়তে থাকে এদের রোগের জটিলতাও বাড়তে থাকে, কারণ PRS প্রকট এমন শিশু বা মানুষেরা যখন কোন দৈহিক বা মানুষিক সমস্যার চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন Therapeutic System এর চিকিৎসকের কাছে যান, তারা Symptomatic বা উপরি উপরি চিন্তা করে লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা দিয়ে তাৎক্ষণিক আরাম দিয়ে পেসেন্টকে সন্তুষ্ট করেন কিন্তু যে কারণে ঐ কষ্টকর লক্ষণগুলির সৃষ্টি, সেটির কোন প্রতিকার করা হয় না বলে মূল সমস্যা জটিল থেকে জটিলতর এবং সবশেষে জটিলতম অবস্থায় পৌঁছায়। তখন চিকিৎসকরা বলেন - "বয়স হয়েছে, আমরাও যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ভালোমন্দ খেতে দিন।"
এছাড়া Post Rabies Syndrome (PRS) প্রকট নিয়ে জন্মানো শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন অস্বাভাবিকতা দেখা যায় যেমন -
  • ভয়ঙ্কর দৈহিক পরিস্থিতি নিয়ে শিশুটি ভুমিষ্ঠ হয়েছে
  • জন্মাবার পর দীর্ঘক্ষণ কান্না করেনি, এমনকি অনেক চেষ্টার পরও
  • দীর্ঘক্ষণ পায়খানা প্রস্রাব করেনি
  • স্তনপান করেনি বরং বলা ভালো স্তনপান করবার শক্তিটুকু ছিল না
  • মস্তিষ্কে বা অন্য কোন অঙ্গে বড় টিউমার নিয়ে জন্মেছে
  • অসামঞ্জস্য দৈহিক গড়ন
  • শিশুটি ভূমিষ্ঠ হয়েছে দাঁত, চুল, দাঁড়ি, গোঁফ ইত্যাদি নিয়ে
  • জন্ম সময়ে শিশুটির মলদ্বার ছিল না
  • শিশুটি জন্মেছে মাথাটি অস্বাভাবিক বড় 
  • এমন বিপদজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে EDD [Expected date of delivery] এর ১ থেকে ২ মাস পূর্বেই গর্ভের শিশুকে বের করে নিতে হয় (Cesarean Section) অন্যথায় শিশুটির জীবন সংশয় দেখা দিতে পারে
  • শিশুটি জন্ম নেয়ার পর থেকে বা ১-২ দিন পর থেকে দিবারাত্র অবিরাম কান্না দীর্ঘদিন ধরে, কোন কিছুতেই কান্না বন্ধ হতো না, বেদনানাশক বা অচেতন করার ঔষধ না দিলে 
এছাড়া আরো যে যে কারণে Post Rabies Syndrome (PRS) সদৃশ পরিস্থিতি তৈরী হয় -
  • শিশুটি গর্ভে আসার আগে বাবা অথবা মা খুব কঠিন রোগের জন্য প্রচুর ঔষধ খেয়েছিলেন 
  • শিশুটি জন্মগ্রহণ করার পর বাবা অথবা মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়েছে
  • এই শিশুটি গর্ভে আসার পূর্বে পরপর তিনবার বিভিন্ন সময়ে বা মাসে Spontaneous Abortion হয়েছে বলে প্রচুর ঔষধ খাওয়ার পর এই শিশুটি জন্মেছে
  • গর্ভের শিশুটিকে অনাকাঙ্খিত মনে করে বিভিন্ন ঔষধ খেয়ে Induced Abortion করার চেষ্টা হয়েছিল কিন্তু গর্ভপাত হয়নি 
  • পাঁচ বছর আগে বিয়ে হলেও কোন সন্তান হয়নি বলে প্রচুর ঔষধ খেয়ে এই শিশুটি জন্মেছে
  • বিষধর সাপের দংশন এবং দংশনজনিত চিকিৎসার পর বিভিন্ন জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে
  • মায়ের ছোট বেলা অর্থাৎ প্রথম মাসিকের আগে থেকেই সাদা স্রাবের সমস্যা ছিল 
  • মায়ের প্রথম মাসিকে প্রচন্ড ব্যথা (Dysmenorrhoea) ছিল।

Post Trauma Syndrome (PTS)

Trauma: 
  • Mental Shock
  • Physical illness
A very difficult or unpleasant experience that causes someone to have mental or emotional problems usually for a long time.

Medical: 
  • A serious injury to a person's body.
  • An injury (such as wound) to living tissue caused by extrinsic agent.
  • A disordered psychic or behavioral state resulting from severe mental or emotional stress or physical injury.
  • An agent, force or mechanism that causes trauma.
Here "Trauma" means effect of different ailments and different medicines used for the treatment for long time on the individual and "Post Trauma Syndrome" means complications after multiple treatment by which disappearance of primary manifestations of the ailments through unscientific way.
শিশুরা PTS পেয়ে থাকে বংশগতির মাধ্যমে, গর্ভে অবস্থান কালে এবং জন্ম নেয়ার পর থেকে 
  • বংশগতির মাধ্যমে : শিশুটি গর্ভে আসার অনেক আগে থেকে হুবু  বাবা-মা অথবা যেকোন একজনের বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসা চলছিল
  • গর্ভে অবস্থান কালে : মায়ের বিভিন্ন সমস্যার জন্য বিভিন্ন বা একটি বা দুটি ঔষধ লাগাতার খেতে হয়েছে
  • জন্ম নেয়ার পর : ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে ভয়ংকর না হলেও পেটের দোষ, ঠান্ডার দোষ  ইত্যাদির জন্য লাগাতার অথবা প্রায় প্রতিদিন ঔষধ খাওয়ার ফলে PTS উৎপন্ন হয়। 

শিশুর জন্মগত এবং জন্মের পর মারাত্মক রোগ ব্যাধির চিকিৎসা

শিশুদের এই সকল রোগের সর্বাধিক কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করছে হোমিওপ্যাথি। পৃথিবীতে হোমিওপ্যাথি ছাড়া অন্য সকল চিকিৎসা শাস্ত্র উপরি উপরি চিন্তা করে চিকিৎসা কার্য্য সম্পাদন করে থাকে যার কারণে মূল থেকে রোগ নির্মূলে ব্যর্থ হয় তারা। তাছাড়া হোমিওপ্যাথি ছাড়া অন্যান্য চিকিৎসা শাস্ত্রে বহু দুরারোগ্য বা ক্রনিক রোগের চিকিৎসাই নেই। একমাত্র হোমিওপ্যাথি রোগের বাস্তব কারণ অনুসন্ধান করে মূল থেকে যেকোন দুরারোগ্য রোগ নির্মূলের চিকিৎসা দিয়ে থাকে। আর এই কারণেই শিশুর জন্মগত এবং জন্মের পর মারাত্মক রোগ ব্যাধির সবচেয়ে কার্যকর এবং সুচিকিৎসা নিশ্চিত করছে হোমিওপ্যাথি। তবে এর জন্য অবশ্যই এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরী।
বিস্তারিত

শনিবার, ১৬ মে, ২০২০

সেরিব্রাল পালসি - শিশুর স্নায়বিক ভারসাম্যহীনতার কারণ লক্ষণ ও উন্নত চিকিৎসা

শিশুর জন্মগত ত্রুটি সেরিব্রাল পালসি Cerebral Palsy  সম্পর্কে আজ আলোকপাত করবো। Cerebral মানে মস্তিষ্ক আর Palsy মানে অবশভাব অর্থাৎ "মস্তিষ্কের অবশভাব" বা "মস্তিষ্কের অবশ হয়ে পড়া" যা মূলত একধরনের স্নায়বিক ভারসাম্যহীনতা। এক্ষেত্রে শিশুর স্নায়বিক ভারসাম্যহীনতার পেছনে মস্তিষ্ক গঠনের সময় আঘাতজনিত কারণ দায়ী থাকে যাকে বলা হয় Post Trauma Syndrome(PTS). এছাড়া স্নায়ুকোষের ঠিকঠাক ভাবে কাজ না করার মতো কারণও পাওয়া যায় যার পেছনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দায়ী Post Rabies Syndrome(PRS).  চিকিৎসা দেয়ার সময় আমরা মূলত এই বিষয়গুলিই বেশি দেখে থাকি।

বিভিন্ন দুরারোগ্য রোগের জেনেটিক মেটেরিয়ালের প্রকটতাও এই ধরণের সমস্যার জন্য দায়ী যা একমাত্র হোমিও চিকিৎসার মাধ্যমে প্রচ্ছন্ন করা যায়। শিশুর জন্মগত ত্রুটি এবং জন্মের পর মারাত্মক রোগ ব্যাধিগুলির প্রকৃত কারণ ও সমাধান সংক্রান্ত আর্টিকেলটি দেখে নিবেন কারণ সেরিব্রাল পালসি তেমনই একটি সমস্যা। সেরিব্রাল পালসির জন্য শিশুর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের নড়াচড়া, পেশীর সক্ষমতা, ভারসাম্য, সব কিছুই ব্যাহত হয়। এটি হল শিশুদের একটি দুরারোগ্য অক্ষমতা। তবে এর উন্নত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা রয়েছে।

সেরিব্রাল পালসি জন্মের সময় পাওয়া আঘাতে বা জন্মগত ত্রুটি অর্থাৎ (PTS and PRS) এর জন্য হতে পারে। এছাড়া প্রসবকালীন জটিলতার জন্য নবজাতকের মস্তিষ্কে যদি অক্সিজেনের অভাব ঘটে তাহলে শিশুটির মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে। শিশুর জন্মগত ত্রুটি গর্ভাবস্থায় মায়ের সংক্রামক রোগ বা জিনগত বিকৃতির জন্য হয়ে থাকে। জন্মগত সেরিব্রাল পালসি জন্মের আগে বা জন্মের সময় হওয়া মস্তিষ্কের ক্ষতির জন্য হয়ে থাকে।
সেরিব্রাল পালসি - স্নায়বিক ভারসাম্যহীন শিশুর উন্নত চিকিৎসা
যেহেতু সেরিব্রাল পলসি হচ্ছে শিশুর জন্মের সময়, আগে অথবা জন্মের কিছু পরে ব্রেইন এর কোন আঘাত বা রক্ত চলাচলের ব্যঘাতের ফলে সৃষ্ট শারীরিক চলাচলের এবং এর সমন্বয়ের সমস্যা তাই সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৫০% শিশুরা বুদ্ধিগত প্রতিবন্ধকতার শিকার। তবে কিছু শিশু সাধারণের চেয়ে অনেক গুণ বেশি বুদ্ধি সম্পন্ন হয়ে থাকে। সেরিব্রাল পালসি শারীরিক প্রতিবন্ধীতার মতই। অটিজমে মানসিক সমস্যা তৈরি হয়। সেরিব্রাল পালসিতে মস্তিষ্কে সমস্যা হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে।
জন্মগত ত্রুটি নিয়ে কোন বাচ্চা কোন পরিবারে জন্মগ্রহণ করুক তা কারোই কাম্য নয়। আর যদি কোন পরিবারে এমন বাচ্চা জন্ম হয় বা পরে সেরিব্রাল পালসির মতো সমস্যায় আক্রান্ত হয় তবে তাকে বোঝা মনে না করে সুস্থ করে তুলতে হবে। শিশুটির বর্তমান ত্রুটি, তার পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানী অর্থাৎ ফ্যামিলি হিস্ট্রি নিয়ে একটি প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা মাধ্যমের সেরিব্রাল পালসির মতো সমস্যার বিভিন্ন পর্যায়ে আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায়।

সেরিব্রাল পালসি - টাইপ

মস্তিষ্কের কোন অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে সেরিব্রাল পালসিকে চারটি শ্রেণীতে বিন্যস্ত করা যায়। এগুলো হলো:
  • Spastic Cerebral Palsy
  • Athetoid Cerebral Palsy
  • Ataxic Cerebral Palsy
  • Mixed Cerebral Palsy
স্প্যাস্টিক সেরিব্রাল পালসি: সেরিব্রাল পালসির প্রকরণগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে সাধারণ (প্রায় ৯১ শতাংশ)। সেরিব্রাল কর্টেক্সে আঘাতের ফলে এটি দেখা দেয়। আক্রান্ত শিশুর মাংসপেশি শক্ত এবং মাংসপেশীতে টানটান ভাব অনেক বেশি থাকে। জয়েন্টের নড়াচড়া অনেক শক্ত হয়ে যায়। 

অ্যাথিটয়েড সেরিব্রাল পালসি: এতে আক্রান্ত শিশুর মাংসপেশি খুব দ্রুত শক্ত হয়ে ওঠে, হাতে-পায়ে অনিয়ন্ত্রিত ঝাঁকুনি দেয়। জিহ্বা ও কণ্ঠনালি নিয়ন্ত্রণ করতে সমস্যা হওয়ায় এদের কথা বলতে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়।

আটাক্সিক সেরিব্রাল পালসি: এটি সবচেয়ে বিরল প্রজাতির সেরিব্রাল পালসি। সাধারণত ব্রেইনের সেরিবেলাম অংশে দুর্বিলতা থাকে অথবা সেরেবেলামে আঘাতের ফলে এটি দেখা দেয়। এ ধরনের শিশুরা নিজে থেকে কিছু করতে গেলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ভেতর সমন্বয় করতে পারে না এবং ভারসাম্যেও সমস্যা থাকে। মাথা, ঘাড় ও কেমড় স্থির রাখতে পারে না। 

মিক্সড সেরিব্রাল পালসি: এ ধরনের শিশুদের লক্ষণসমূহ বিভিন্ন প্রকার সেরিব্রাল পালসির সমন্বয়ে হয়ে থাকে। যদিও স্প্যাস্টিক ও অ্যাথিটয়েড এই দুই প্রকারের সমন্বয়ই বেশি দেখা যায়।

সেরিব্রাল পালসি - কারণ

ঠিক কী কারণে শিশুদের মধ্যে সেরিব্রাল পালসি দেখা দেয়, তা এখন পর্যন্ত অজানা তবে গর্ভাবস্থায় বা জন্মের সময় বা জন্মের প্রথম তিন বছরের মধ্যে মস্তিষ্কের আঘাত বা ক্ষতকেই এর মূল কারণ হিসেবে ধরা হয় যাকে বলা হয়ে থাকে Post Trauma Syndrome(PTS). প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রেই গর্ভাবস্থায় মস্তিষ্কের আঘাত শিশুকে সেরিব্রাল পালসির দিকে ঠেলে দেয়।
  • শিশুর জন্মগত ত্রুটি গর্ভাবস্থায় মায়ের সংক্রামক রোগ বা জিনগত বিকৃতির জন্য হয়ে থাকে
  • জন্মগত সেরিব্রাল পালসি জন্মের আগে বা জন্মের সময় হওয়া মস্তিষ্কের ক্ষতির জন্য হয়ে থাকে
  • গর্ভাবস্থায় প্রসূতির বিভিন্ন অসুস্থতা থাকলে। যেমন: হাম, অনিয়ন্ত্রিত বহুমূত্র, উচ্চ রক্তচাপ, ভাইরাস জ্বর ইত্যাদি
  • গর্ভাবস্থায় প্রসূতি অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করলে কিংবা প্রয়োজনীয় ফলিক অ্যাসিড এর অভাব হলে
  • অপরিণত অবস্থায় শিশু ভূমিষ্ট হলে
  • প্রসবের সময় মস্তিষ্কে আঘাত পেলে
  • জন্মের পর শিশুটি স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে না পারলে
  • শিশুটি তীব্র জন্ডিসে আক্রান্ত হলে
  • জন্মের পর মস্তিষ্কের সংক্রমণজনিত ব্যধিতে আক্রান্ত হলে। যেমন: মেনিনজাইটিস
  • কোনো দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পেলে
  • কোনো রোগ বা সংক্রমণের কারণে (জ্বর বা ডায়রিয়ায়) শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়লে
  • রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ের ফলেও (যেমন চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো, খালাতো বোন-ভাইয়ের মধ্যে বিয়ে) তাদের বাচ্চা সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়
  • এছাড়াও বাবা এবং মায়ের রক্তের গ্রুপ একই হলে অনাগত শিশুর সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি  হতে পারে
মূলত এই সকল কারণগুলি আমরা উপরি উপরি চিন্তা করে নির্ণয় করে থাকি। প্রকৃত পক্ষে এই সমস্যার পেছনের বাস্তব কারণ হলো Post Rabies Syndrome(PRS) and Post Trauma Syndrome(PTS) এবং বংশগত ভাবে প্রাপ্ত বিভিন্ন দুরারোগ্য রোগের জেনেটিক মেটেরিয়ালস।

সেরিব্রাল পালসি - লক্ষণ

সাধারণত শিশু জন্মের প্রথম তিন বছরের মধ্যেই সেরিব্রাল পালসির লক্ষণগুলো স্পষ্ট হতে শুরু করে। এটি শরীরের যেকোন অঙ্গকে আক্রমণ করতে পারে। মস্তিষ্কের আঘাত বা ট্রমার প্রকৃতি ও মাত্রার ওপর রোগটির তীব্রতা নির্ভর করে। তাই এর উপসর্গগুলো একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। তবে যেগুলি আমরা বেশি দেখি সেগুলির মধ্যে রয়েছে -
  • আক্রান্ত শিশুদের দেহের ভারসাম্য বজায় রাখতে অসুবিধা যা শিশুর বসা, দাঁড়ানো, হাঁটার শিখার সময় স্পষ্ট হয়ে ওঠে
  • আক্রান্ত শিশুর পেশীর গঠন অধিক শক্ত বা শিথিল হতে দেখা যায়। এর জন্য আক্রান্ত শিশুদের হাত পা কুঁকড়ে যায়, অনিয়মিত পেশীর সঙ্কোচন ঘটে এবং ক্রমাগত কাঁপতে থাকে। এর ফলে কারো সাহায্য ছাড়া হাঁটাচলা, বসে থাকা বা দাঁড়ানো কোনোটাই সম্ভব হয় না
  • হামাগুড়ি দেওয়ার সময় একদিকে হেলে থাকা, ছয় মাস বয়সে পেরিয়ে যাবার পরেও বসতে না শেখা, অথবা ১২-১৮ মাসের পরেও হাঁটতে না পারা, এগুলো সেরিব্রাল পালসির লক্ষণ হতে পারে
  • কেউ কেউ লেখা, দাঁত মাজা বা জুতো পরা, এগুলো করতে পারে না
  • কারো ক্ষেত্রে শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ, কথা বলা ও খাদ্য চর্বনে তাদের অসুবিধা দেখা দেয়
যদিও সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুরা অনেক সময়ই স্পষ্ট ভাবে কথা বলতে পারে না, কিন্তু তারা অন্যদের বলা কথা বা দেওয়া নির্দেশ সঠিক ভাবে বুঝতে এবং অনুসরণ করতে পারে। সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত বেশীরভাগ শিশু অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত হয়। ভিন্নতাও কিছুটা আছেই, কারন এ রোগের উৎপত্তির একটা মূল কারণ জন্মের সময় কিংবা পরে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত হওয়া।

সেরিব্রাল পালসি - চিকিৎসা 

ট্র্যাডিশনাল ট্রিটমেন্ট: মূলত সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপিস্ট, স্পীচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট, পেডিয়াট্রিসিয়ান, অক্যুপেশনাল থেরাপিস্ট, বিশেষ ধরনের শিক্ষক এবং মানসিক চিকিৎসক সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন পড়ে ট্র্যাডিশনাল চিকিৎসা ব্যবস্থায় যা অনেক ক্ষেত্রেই ব্যায়বহুল এবং সাধারণের সাধ্যের বাহিরে।

হোমিওপ্যাথিক ট্রিটমেন্ট: শিশুদের সেরিব্রাল পালসি সমস্যার একটি উন্নত এবং নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা পদ্ধতি হলো হোমিওপ্যাথি। প্রপার একটি হোমিও চিকিৎসায় এই ধরণের শিশুদের স্থায়ী পরিবর্তন নিয়ে আসা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। তবে এর জন্য অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরী অন্যথায় ভাল ফলাফল আশা করা দুস্কর। এক্ষেত্রে হোমিও চিকিৎসকগণ শুধুমাত্র উপরি উপরি দিক চিন্তা করেই চিকিৎসা প্রদান করেনা না কারণ এর পেছনে থাকে PTS, PRS এবং পিতা-মাতা বা পূর্ব পুরুষ থেকে প্রাপ্ত দুরারোগ্য রোগের জেনেটিক মেটিরিয়াল। তাই এই ক্ষেত্রে শিশুর বর্তমান অবস্থা, পিতা-মাতা, দাদা-দাদী অর্থাৎ ফ্যামিলি হিস্ট্রি জেনে তার জেনেটিক্যাল অবস্থা বিচার বিশ্লেষণ পূর্বক চিকিৎসা শুরু করতে হয়। তখন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এবং হোমিওপ্যাথির নিয়মনীতি অনুসরণ করে একটি উন্নত চিকিৎসা দিলে শিশু দিন দিন উন্নতির দিকে যেতে থাকে এবং এক সময় সার্বিক একটি স্থায়ী পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় যা হোমিওপ্যাথি ছাড়া অন্যকোন চিকিৎসা শাস্ত্রে সম্ভব হয় না।
বিস্তারিত

শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

হোমিওপ্যাথিতে প্রতিষেধক ও মহামারীতে রোগীর লক্ষণ ভিত্তিতে ঔষধ নির্বাচন চিকিৎসা ব্যবস্থা

প্রতিষেধক ঔষধ নির্বাচন করা হয়ে থাকে যে কোন মহামারীতে (মহামারীর প্রাইমারী স্টেজে) আক্রান্ত দশ জন বা বিশ জন রোগীর রোগ লক্ষণ সংগ্রহ করে যে কয়টা লক্ষণ কমন থাকে অর্থাৎ প্রায় সকলের মধ্যেই পাওয়া যায় সেই লক্ষণের উপর ভিত্তি করে। চিকিৎসক কর্তৃক পর্যবেক্ষিত কমন (যে কয়টি লক্ষণ সকলের ম‌ধ্যেই দৃষ্টিগোচর হয়) লক্ষণ গুলো হোমিওপ্যাথিক যে ঔষধটি সুস্থ মানবদেহে উৎপাদন করতে সক্ষম সেই ঔষধটিই হবে উক্ত মহামারীর জন্য যথার্থ প্রতিষেধক ঔষধ। 

মহামারীতে আক্রান্ত রোগীর বা রোগীদের সেকেন্ডারী স্টেজের লক্ষণ বা কনস্টিটিউশনাল সিম্পটম অর্থাৎ ধাতুগত লক্ষণ নিয়ে সঠিক প্রতিষেধক ঔষধ নির্বাচন করা সম্ভব নয়।  তবে সেকেন্ডারী স্টেজে যদি প্র‌তি‌টি রোগী‌কে স্বতন্ত্রভাবে পর্যবেক্ষণ করে তাদের লক্ষণ সমষ্টি অনুযায়ী একক ঔষধ সূক্ষ্ম মাত্রায় রোগীকে প্রদান করা যায় তাহলে অবশ্যই রোগী পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবে।

মহামারী (Epidemic) :  মড়ক, যে সংক্রামক রোগে বহু লোক মৃত্যুবরণ করে। সংক্রামক রোগের দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে একটি স্বল্প সময়ের মধ্যে, সাধারণত দুই সপ্তাহ বা তার কম সময়ের মধ্যে জনসংখ্যার একটি বৃহৎ সংখ্যক লোককে। উদাহরণস্বরূপ, মেনিংকোকাল ইনফেকশনগুলিতে, প্রতি হেক্টর প্রতি ১০০,০০০ জন লোকের মধ্যে ১৫ টির বেশি ক্ষেত্রে আক্রমণের হার একটি মহামারী বলে মনে করা হয়।

মহামারী রোগে ১৮০১খ্রি. ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান এর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিজ্ঞান এর সংবিধান "অর্গানন অব মেডিসিন" গ্রন্থ এর এফোরিজম ৩৩ ফুটনোট ১৭ তে হোমিওপ্যাথিক প্রতিষেধক আছে ও হোমিওপ্যাথি ঔষধ প্রয়োগ করে ভাল ফলাফল পেয়েছেন তা উল্লেখ করেছেন। যা ইংরেজি ও বাংলা অনুদিত অংশ সংযুক্ত আছে।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতির জনক বিজ্ঞানী ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান এর "দি লেজার রাইটিং" গ্রন্থ এর ৩৭৬-৩৮৩ পৃষ্ঠায় হোমিওপ্যাথিক প্রতিষেধক সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
তখনকার সময় scarlet fever এর জন্য তিনি হোমিওপ্যাথি ঔষধ Belladonna প্রতিষেধক হিসাবে ব্যবহার করেছিলেন।

তার দেখানো পদ্ধতি অনুসারে বিশ্বে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মহামারীতে ও সম্প্রতি চিকনগুনিয়া জ্বর, ডেঙ্গু জ্বরে হোমিওপ্যাথি প্রতিষেধক ও চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি সফলতা অর্জন করেছে।
বর্তমানে বিশ্বে মহামারী রুপ ধারণকারী কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস এর প্রতিষেধক হিসাবে হোমিওপ্যাথি ঔষধ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকগণ পরীক্ষা পরীক্ষামূলক ভাবে দিতে পারেন এবং লক্ষণ ভিত্তিক হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ও সফল চিকিৎসা প্রদান করা যাবে। 

এছাড়া হোমিওপ্যাথিক লক্ষণ ভিত্তিতে ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান এর অর্গানন অব মেডিসিন, দি লেজার রাইটিং, হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা, হোমিওপ্যাথিক রেপার্টরী সহ অন্যান্য গ্রন্থের সহায়তায় সফলতার সহিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা প্রদান করা যাবে।
হোমিওপ্যাথিতে প্রতিষেধক মহামারীতে ঔষধ নির্বাচন
হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠার পর হতেই বিভিন্ন মহামারীতে সাফল্যের সাথে চিকিৎসা করে এসেছে এবং তুলনাযোগ্য প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রচলিত চিকিৎসা ধারার তুলনায় তার সফলতা ছিলো আশ্চর্যজনক রকমের বেশি। ডা. স্যামুয়েল হ্যানিমান তার রচনাকৃত হোমিওপ্যাথির মূল গ্রন্থ ‘অর্গানন অব মেডিসিন’-এ মহামারী সম্বন্ধে বিশেষভাবে আলোচনা করেছেন এবং হোমিওপ্যাথি পদ্ধতি মোতাবেক তিনি কীভাবে এর চিকিৎসা করতে হবে, সে ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছেন। কেবল তাত্ত্বিক ধারণা নয়, সর্বপ্রথম ১৮০১ সালে স্কারলেট ফিভারের মহামারীতে তিনি বেলোডোনা ঔষধটির রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক সক্ষমতার বাস্তব প্রমাণ দিলেন এবং পরবর্তীতে নেপোলিয়ান আর্মিতে হওয়া টাইফাস মহামারীতে তিনি নিজে চিকিৎসা করে নজির স্থাপন করলেন তার আরোগ্য ক্ষমতার শ্রেষ্ঠত্বের। এরপর থেকে বিগত ২০০ বৎসরে বিভিন্ন এপিডেমিক (মহামারী) তে হোমিওপ্যাথির ফলপ্রসূ ভূমিকার বহু নজির বিদ্যমান। অর্গানন অব মেডিসিন গ্রন্থের ৬ষ্ঠ সংস্করণের ১০০ হতে ১০৪ সূত্রে Epidemic Disease (মহামারী রোগ) বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। মহামারী রোগে প্রচলিত চিকিৎসার পাশাপাশি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সফলতার কিছুসংখ্যক দৃষ্টান্ত সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো-
  • ১৭৯৯ ও ১৮০১ সালে মহামারী আকারে দেখা দেয়া স্কারলেট ফিভার কিভাবে হোমিওপ্যাথি ঔষধ বেলেডোনা-৩০ প্রয়োগ করে ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান অন্যান্য চিকিৎসা ব্যবস্থার চেয়ে রোগীর মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন।
  • ১৮১৩ সালে জার্মানীর টাইফাস ফিভার মহামারীতে প্রচলিত চিকিৎসা ধারায় মৃত্যুর হার ছিল যেখানে ৩০% সেখানে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ছিল ২%।
  • ৮৩১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কলেরা মহামারীতে প্রচলিত চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ৪০% থাকলেও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ছিল মাত্র ১০%।
  • ১৮৪৯ সালের যুক্তরাষ্ট্রের সিনসিনাটির কলেরা মহামারীতে হোমিওপ্যাথির সাফল্য ৯৭% প্রচলিত চিকিৎসায় সাফল্য ৯৭% প্রচলিত চিকিৎসায় সাফল্য ছিল মাত্র ৪০% থেকে ৫০%।
  • ১৮৫৪ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের কলেরা মহামারীতে প্রচলিত চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ছিল ৫৯.২% আর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ছিল মাত্র ৯%।
  • ১৮৫৫ সালে আফ্রিকার রিও-র কলেরা মহামারীতে প্রচলিত চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ছিল ৪০% থেকে ৬০% আর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ছিল মাত্র ২%।
  • ১৮৬২ থেকে ১৮৬৪ সালের নিউইয়র্ক ডিপথেরিয়ার সংক্রমণে প্রচলিত চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ছিল ৮৩.৬% আর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ছিল মাত্র ১৬.৪%।
  • ১৮৭৮ সালে আমেরিকার ইউলো ফিভার মহামারীতে প্রচলিত চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ছিল ১৫.৫% আর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ছিল মাত্র ৬%।
  • ১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লু মহামারীতে প্রচলিত চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ছিল মাত্র ২৮.২% আর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ছিল ১.০৫%।
এছাড়া ১৯৭৪ সালে ব্রাজিলের ম্যানিনজাইটিস, ১৯৭১ সালের ভারতের জাপানিজ এনসেফালাইটিস, ২০০৭ সালে কিউবার ল্যাপটোস্পাইরোসিস এবং ২০০৯ সালে ভারতের সোয়ান ফ্লু ইত্যাদি রোগ মহামারী (Epidemic) আকারে দখা দেবার ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে হোমিওপ্যাথির সফলতা ছিল শীর্ষে। মৃত্যুর হার ছিল না বললেই চলে।

স্মরণকালের ডেঙ্গু জ্বর ও চিকনগুনিয়া জ্বর রোগের প্রার্দুভাবেও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার সাফল্য রয়েছে।

১৯৯৫ সালে কিউবাতে কেরাটোকঞ্জাকটিভকইটিস রোগে ও ২০০৭ সালে ভারতের কেরালাতে চিকনগুনিয়া রোগে হোমিওপ্যাথি ঔষধ প্রয়োগ করে সফলতা পাওয়া যায়।

সম্প্রতি ২০১৫ সালে বাংলাদেশে বেসরকারী আশা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিবিসি- বাংলা যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৪০% লোক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা গ্রহণ করে আসছে।

সেখানে জেনারেল স্ট্যাটিসটিকস, বিভিন্ন সময়ে দেখা দেয়া কলেরা, স্কারলেট ফিভার, ইয়ালো ফিভার, নিউমোনিয়া, টাইফাস ফিভার, ডিফথেরিয়া, শিশুরোগ, উন্মত্ততা ইত্যাদি এপিডেমিক ও রোগগুলোর বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত, পরিসংখ্যান, বিভিন্ন হাসপাতালের রিপোর্ট ও তথ্যসূত্রসহ যে প্রমাণ ও বর্ণনা উপস্থাপন করা হয়েছে- তা দেখলে আশ্চর্য হয়ে ভাবতে হয়, চোখের সামনে মানুষের আরোগ্যকারী এই উপায় থাকা সত্ত্বেও কেন তাকে যথাযোগ্য মর্যাদা প্রদান করছি না?

লিখেছেন :- ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু); চিকিৎসক, শিক্ষক, কলামিস্ট ও প্রাক্তন সাংবাদিক; ডা. আব্দুস সালাম হোমিওপ্যাথি হেলথ কেয়ার, শেরপুর, বগুড়া

তথ্যসূত্র :
  • Book: Organon of Medicine - Dr. Samuel Hahnemann
  • Book: The Lesser Writings - Dr. Samuel Hahnemann
  • Book: Practical Key to Homeopathy - Dr. Nazir Hossain
  • Website: https://hpathy.com
  • Website: http://www.similia.lv/interesanti/par-homeopatiju/lives-saved-by-homeopathy/
বিস্তারিত

মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২০

করোনাভাইরাস (COVID-19) হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পরামর্শ - হার্ট, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস রোগীরা উচ্চ ঝুঁকিতে

করোনাভাইরাস (COVID-19) এ উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে মূলত বয়স্ক ও আগে থেকে অসুস্থ ব্যক্তিরা বিশেষ করে যারা হার্ট, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের সমস্যায় ভুগছেন। কারণ মাসের পর মাস অথবা বছরের পর বছর ধরে নানা প্রকার অপচিকিৎসায় এবং রাসায়নিক ঔষধের ক্রমাগত প্রয়োগের ফলে তাদের অনেকেরই ভাইটাল ফোর্সের অবস্থা প্রায় তলানিতে ঠেকেছে। বলতে গেলে আধুনিক রাসায়নিক ঔষধ প্রয়োগ করে করে মানুষকে আজ মেডিসিনের রোগীতে পরিণত করা হয় এবং সময়ের সাথে সাথে তারা আরো দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়, যার ফলে তারা ঔষধ ছাড়া কিছুতেই বাঁচতে পারে না। অথচ যথাসময়ে হার্ট, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এর প্রপার হোমিও চিকিৎসা করা হলে বহু ক্ষেত্রেই তারা স্থায়ী ভাবে আরোগ্য লাভ করে থাকে।

কিন্তু অনেকেই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শাস্ত্র সম্পর্কে ততটা জ্ঞান রাখে না বিধায় এই সকল রোগের আক্রমণে তারা প্রপার হোমিও চিকিৎসা নিয়ে স্থায়ীভাবে সুস্থতা লাভ করা থেকে বঞ্চিত হয় এবং নানা প্রকার অপচিকিৎসা নিয়ে এবং সাময়িক ভাবে ভালো থাকার জন্য ক্রমাগত বিভিন্ন রাসায়নিক ঔষধ প্রয়োগ করে করে সেগুলির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় শরীরে আরো নানা প্রকার জটিল রোগের জন্ম দিচ্ছে। যার ফলে সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে তারা একটি দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে। প্রথম অবস্থায় এই সকল রোগ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় যতটা সহজে নিরাময় করা যায় পরবর্তীতে যখন তারা মেডিসিনের রোগী হয়ে যায় তখন তাদের ভাইটাল ফোর্সকে উন্নত করতে বেশ সময় লেগে যায়। তবে আশার দিক হলো - ধৈর্য ধরে প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিলে ধীরে ধীরে তারাও ঠিক হয়ে আসে।
ইন্টারনেটে যেভাবে ঢালাওভাবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে হোমিওপ্যাথিক ঔষধের নাম বলে দিয়ে সেগুলি খেতে বলা হয় - হার্ট, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা অন্যকোন জটিল সমস্যায় আক্রান্ত পেসেন্টরা সেগুলি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ যারা এই সকল রোগে আক্রান্ত থাকেন তাদের ভাইটাল ফোর্স উন্নত করার জন্য অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে প্রপার ট্রিটমেন্ট নেয়া জরুরী। তখন বর্তমান রোগ জটিলতা যেমন কমে আসবে সাথে সাথে করোনাভাইরাস প্রতিরোধক ক্ষমতাও তৈরী হবে।

কীভাবে হোমিও চিকিৎসায় ঠিক হয়ে আসে ?

প্রতিটি মানুষই মূলত জন্মলগ্ন থেকেই পূর্বপুরুষের থেকে প্রাপ্ত রোগ ব্যাধি নিয়ে আসে। কিভাবে নিয়ে আসে এ সম্পর্কে আগে আলোচনা করি। মনে করুন... পিতার শুক্রাণু এবং মাতার ডিম্বাণুর মিলনে ঘন্টা খানেক হলো একটি জাইগোট তৈরি হয়েছে। সেখানে রয়েছে তার পিতা মাতা উভয়ের থেকে প্রাপ্ত ক্রোমোজোম যা হচ্ছে বংশগতির প্রধান উপাদান। মজার ব্যাপার হলো জাইগোটটির বয়স ১ ঘন্টা হলেও তার ভাইটাল ফোর্সকে ঘিরে যে ক্রোমোজোম রয়েছে তার বয়স কিন্তু কয়েক লক্ষ বছর বা তারও বেশি। এর মাধ্যমেই আপনার পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানী বা তারও পূর্ব পুরুষ থেকে সকল রোগের জেনেটিক মেটেরিয়াল অর্জন করে রেখেছেন জন্ম থেকেই।

যতদিন আপনার ভাইটাল ফোর্স শক্তিশালী অবস্থায় থাকবে তত দিন ভেতরের প্রকৃত রোগটি বা অনেকগুলি জটিল রোগের জেনেটিক মেটেরিয়াল এমনিতেই নিস্তেজ অবস্থায় থাকে। আর যখন ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হয়ে যাবে তখন ভেতরের সেই True Disease বা প্রকৃত রোগটি প্রকট হয়ে উঠে অথবা নানা প্রকার উপসর্গ প্রকাশ করে কষ্ট দিয়ে থাকে। যখন আপনার ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হয়ে পড়ে তখন হার্ট, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস এর মতো রোগে আপনি আক্রান্ত হচ্ছেন। পূর্ব পুরুষ থেকে প্রাপ্ত রোগ বা রোগের জেনেটিক মেটেরিয়াল সরাসরি আপনার মধ্যে হয়তো প্রকাশিত হবে না। তবে যেটির জেনেটিক মেটেরিয়াল প্রকট থাকবে সেটি নানা প্রকার উপসর্গ প্রকাশ করে আপনাকে কষ্ট দিতে থাকবে, যতদিন না আপনি প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট নিয়ে সেটিকে ঠিক করেছেন। কারণ পৃথিবীতে একটি মাত্র চিকিৎসা শাস্ত্রই এই বিষয়টির যথাযথ সমাধান করতে পারে আর সেটি হলো হোমিওপ্যাথি। 

এই সকল উপসর্গকে এবং উপসর্গের স্থানিক কারণগুলি নির্ণয় করে বিভিন্ন রোগের নাম দিয়ে উপরি উপরি চিকিৎসা দিয়ে থাকে হোমিওপ্যাথি ছাড়া পৃথিবীর সকল ট্রিটমেন্ট সিস্টেম। অথচ ভিতরে প্রকৃত রোগের চিকিৎসা না করার কারণে সাময়িক ভাবে লক্ষণ বা উপসর্গ কিছুটা কমে আসে বা নিয়ন্ত্রণে থাকে কিন্তু কখনই স্থায়ীভাবে ঠিক হয় না। আবার যেহেতু রাসায়নিক ঔষধ প্রয়োগ করে এক প্রকার জোর করে এই কাজটি করা হয় তাই সেক্ষেত্রে জটিলতা দিন দিন বাড়তে থাকে। একসময় ভাইটাল ফোর্স এতোটাই ক্ষীণ হয়ে পড়ে যে, সাধারণ ভাইরাসের আক্রমণেই তাদের অনেকের ভবলীলা সাঙ্গ হয়ে যায়।
করোনাভাইরাস (COVID-19) হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পরামর্শ
করোনাভাইরাস বলতে ভাইরাসের একটি শ্রেণিকে বোঝায় যেগুলি স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং পাখিদেরকে আক্রান্ত করে। মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস শ্বাসনালীর সংক্রমণ ঘটায়। যদি আপনার ভাইটাল ফোর্স শক্তিশালী থাকে তাহলে এই সকল কোন ভাইরাসই শরীরে ঢুকে কোন সুবিধা করতে পারে না। 

আপনি যখন অভিজ্ঞ কোন হোমিও চিকিৎসকের নিকট যাবেন তিনি আপনার মা, বাবা, দাদা-দাদী, নানা-নানী এবং আপনার নিজের বিস্তারিত হিস্ট্রি নিবেন এবং এবং আপনার মধ্যে বিদ্যমান প্রকৃত রোগটি বের করে সেটিকে দূর করার জন্য ডায়নামিক হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রয়োগ করবেন। তখন ধীরে ধীরে আপনার ভাইটাল ফোর্স উন্নত হতে থাকবে আপনি সুস্থতার দিকে আগাবেন। তাই বর্তমান পরিস্থিতে অভিজ্ঞ কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন।  মূলত চিকিৎসক আপনার হিস্ট্রি নিয়ে আপনার অবস্থার আলোকে যে সদৃশ ঔষধটি প্রয়োগ করবেন সেটিই আপনার ঔষধ এবং সেটিই আপনার রোগ প্রতিরোধ করবে। রোগ প্রতিরোধের শর্ত ব্যক্তিকে সুস্থ্য থাকা।

হোমিওপ্যাথির ভাষায় জীবনীশক্তি (Vital Force/ Vital Principle) বা এলোপ্যাথির ভাষায় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (Immune System) একই বিষয়। যখন কোন রোগশক্তির প্রতি সংবেদনশীল হয় তখনই মানুষ অসুস্থ হয়। প্রতিটি মানুষের মাঝে "আত্মা" ও "ভাইটাল ফোর্স বা জীবনীশক্তি" রয়েছে এবং দুটোই অদৃশ্য সত্ত্বা। 
আপনার ভাইটাল ফোর্স বা জীবনী শক্তি উন্নত সেটা বুঝবেন কিভাবে ?
আপনার মধ্যে পাপ চিন্তা নেই, অন্যের ক্ষতি করার চিন্তা নেই, রোগ হওয়ার ভয় নেই, ভাইরাস ব্যাক্টেরিয়ার ভয় নেই এবং আপনি নীরোগ, আপনাকে ক্রমাগত কোন ঔষধ খাওয়া লাগে না তার মানে আপনার ভাইটাল ফোর্স বা জীবনীশক্তি উন্নত। এবার আপনি নিজেই চিন্তা করে দেখুন আপনি কোন অবস্থায় আছেন। হোমিওপ্যাথি ছাড়া ট্রাডিশনাল চিকিৎসা ব্যবস্থা মানুষকে সারা জীবন ধরেই বিভিন্ন রাসায়নিক ঔষধ খাইয়ে যায় যেগুলি মেডিসিনাল ট্রমা তৈরী করে এবং এই কারণেও মানুষের ভাইটাল ফোর্স বা জীবনীশক্তি দিন দিন দুর্বল হতে থাকে। এক সময় সামান্য ভাইরাসের আক্রমণেই দুর্বল জীবনীশক্তির এই লোকজন কাবু হয়ে যায়। অথচ ভাইটাল ফোর্স বা জীবনীশক্তি উন্নত অবস্থায় থাকলে ভাইরাস ও রোগ জীবাণুকে মুহূর্তের মধ্যেই আমাদের শরীর বের করে দেয়।
ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান "ভাইটাল ফোর্স বা জীবনীশক্তি" মতবাদ গ্রহণ করে হোমিওপ্যাথিতে প্রতিষ্ঠা করেন। এ বিষয়ে বলেন যে, জড় দেহের সকল চেতনা, শক্তি, সামর্থ্য, অনুভূতি, সুখ-দুঃখ অনুভব, চিন্তা-ভাবনা, স্মৃতিশক্তিসহ সকল প্রকার জৈব-ক্রিয়াকলাপের মূলে হলো ভাইটাল ফোর্স বা জীবনীশক্তি। আত্মার অন্তঃপ্রবাহ ভাইটাল ফোর্স বা জীবনীশক্তির মাধ্যমে জীবদেহকে সকল কর্মকান্ডের উপযোগী করে রাখে। আত্মা ও জীবনীশক্তি উভয়ই অদৃশ্য বটে কিন্তু একই জিনিস নয়। স্রষ্টার আদেশ ঘটিত আত্মার অন্তঃপ্রবাহের দরুণ জড়দেহ চেতনা লাভ করে। এই আত্মাটি অমর কিন্তু জীবনী শক্তি ক্ষয়শীল এবং জড়দেহটি ধ্বংসশীল।

বর্তমানে যে ইমিউনিটি সিস্টেমের (রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা) কথা হয়ে থাকে তা ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান দুইশত বছর আগেই বলে গিয়েছেন। মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ করা, রোগাক্রান্ত হওয়া, রোগযন্ত্রণা ও রোগ লক্ষণ প্রকাশ করা, ইন্দ্রিয় সমূহের মাধ্যমে অনুভূতি গ্রহণ করা এবং রোগে আক্রান্ত হবার পর যথার্থ সদৃশ ঔষধ শক্তির সাহায্যে রোগ আরোগ্য করা ইত্যাদি ভাইটাল ফোর্স বা জীবনীশক্তির প্রধান কাজ। আমরা তখনই অসুস্থ হই যখন আমাদের ভাইটাল ফোর্স বা জীবনীশক্তি কোন রোগশক্তির প্রতি সংবেদনশীল হয়। সহজ কথায় আমাদের জীবনীশক্তিতে যখন কোন রোগের প্রতি চাহিদা তৈরী হয় তখন সেই রোগে পীড়িত হই।

রোগ শক্তির বিরুদ্ধে নাছোড় জীবনীশক্তি (ভাইটাল ফোর্স) অবিরত সংগ্রাম করে চলেছে। সংগ্রামে পরাভুত হলেই সৃষ্টি করে অস্বাভাবিক লক্ষণসমষ্টি। সাহায্যের নিমিত্ত বলবত্তর অধিকতর শক্তিশালী সদৃশ ঔষধ শক্তি যখন জীবনীশক্তির (ভাইটাল ফোর্স) সংস্পর্শে আসে, তখন অপেক্ষাকৃত দুর্বল রোগশক্তি আর টিকে থাকতে পারে না, দ্রুত অপসৃত হয়। ঔষধ শক্তির সীমিত ক্রিয়া শেষ হয়ে গেলে জীবনীশক্তি (ভাইটাল ফোর্স) সম্পূর্ণ মুক্ত হয় ও রোগী আরোগ্য লাভ করে।

যেহেতু হোমিওপ্যাথি ঔষধ বিভিন্ন শক্তিকৃত শক্তি এবং কোন রাসায়নিক অস্তিত্ব থাকে না, কাজেই এটা দেহের উপর গতিশীল প্রক্রিয়ায় কাজ করে। আপনার দুরারোগ্য যেকোন স্বাস্থ সমস্যায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করুন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের তথ্যাবধানে চিকিৎসা নেয়া জরুরি।
বিস্তারিত