Dr. Imran ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান ➤ ডিএইচএমএস, ডিএমএস; ঢাকা
➤ প্রাইভেট প্রাক্টিশনার হোমিওপ্যাথি
➤ আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
➤ ফোন : +৮৮ ০১৬৭১-৭৬০৮৭৪ এবং ০১৯৭৭-৬০২০০৪

ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন

নারী স্বাস্থ্য (স্ত্রীরোগ)
মা ও শিশু স্বাস্থ্য
পুরুষের স্বাস্থ্য
রোগ-ব্যাধি
হেল্থ টিপস
যোগাযোগ

Thursday, September 12, 2019

যুবকদের যৌন সমস্যা নির্মূলের অব্যর্থ চিকিৎসা রয়েছে 100% Natural

প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশেন বা সহবাসে স্থায়িত্বের অভাব, ইরেকশন ফেইলিউর বা পুরুষাঙ্গের উত্থানে দুর্বলতা, পেনিট্রেশন ফেইলিউর বা যৌনাঙ্গ ছেদনে অক্ষমতা। উত্থান জনিত সমস্যা, ইরেকশন সমস্যা সমাধান, পুরুষত্বহীনতা দূর করার উপায়, ধ্বজভঙ্গ রোগের চিকিৎসা, শীঘ্রপতন বন্ধ করার ঔষধ, ইরেকটাইল ডিসফাংশন এর সমাধান হলো যথাযথ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করা। তবে এর জন্য এমন একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া দরকার যিনি ক্লাসিক্যাল, ক্লিনিক্যাল এবং কমপ্লেক্স হোমিওপ্যাথিতে পারদর্শী।
পুরুষের শারীরিক অক্ষমতা বা দুর্বলতা আজকাল আমাদের সমাজে প্রকট আকার ধারণ করছে। একদম তরুণ থেকে শুরু করে যেকোনো বয়সী পুরুষের মাঝে দেখা যাচ্ছে এমন যৌন সমস্যা।অনেক পুরুষ অকালেই হারিয়ে ফেলছেন নিজের সক্ষমতা, উঠতি বয়সের যুবকরা রীতিমতো হতাশ হয়ে পড়ছেন। এতে বাড়ছে দাম্পত্যে অশান্তি, সন্তানহীনতার হার। এই সমস্যা দূর করতে গিয়ে ৮০% তরুণরাই ভুল চিকিৎসার শিকার হচ্ছেন এবং অকালে হারাচ্ছেন জীবনের সুখ স্বাচ্ছন্দ। আপনার মনে রাখা জরুরী। পুরুষ ও মহিলাদের যৌন সংক্রান্ত সমস্যাগুলি নিরাময়ের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং অব্যর্থ চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি।
বিস্তারিত

Wednesday, September 11, 2019

নখ কুনি ও নখের ফাঙ্গাস! নখ মোটা পুরু বা ফেটে যাওয়া রোগের কার্যকর চিকিৎসা

নখের ফাঙ্গাস হল অতি সাধারণভাবে দেখতে পাওয়া একটি ছত্রাকের সংক্রমণ যা হাতের নখে বা পায়ের নখে হয়। এটি নখের ডগা বা প্রান্তভাগ থেকে শুরু করে নখের মধ্যবর্তী স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এবং নখের রঙকে ফ্যাকাশে অথবা পরিবর্তিত করে। যদিও নখে ছত্রাক সংক্রমণ কোন গুরুতর বা জটিল পরিস্থিতি নয়, তবে এটি নিরাময় হতে দীর্ঘদিন সময় লাগতে পারে।
আবার কারো কারো নখ কুনির সমস্যাও দেখা দেয়। এর সাধারণ অবস্থা হল পায়ের বড় আঙুলর নখ পাশ নরম মাংসের মধ্যে বৃদ্ধি পাওয়া। ফলে কখনও কখনও ব্যথা, লালচেভাব, ফোলা, সংক্রমণ হয়

নখের ফাঙ্গাস -  লক্ষণ ও উপসর্গগুলি 

এর প্রধান লক্ষণ ও উপসর্গগুলি কি কি নখে ছত্রাকের সংক্রমণ নীচে দেওয়া উপসর্গগুলির মধ্যে যেকোন একটির কারণে হতে পারে:
  • নখের চারপাশে ব্যথা
  • নখের চারপাশের অংশ ফোলা
  • নখের আকারের পরিবর্তন
  • নখ শক্ত হয়ে যাওয়া
  • নখের রঙের ফ্যাকাশেভাব বা পরিবর্তন হয়ে যাওয়া
  • ভাঙ্গা নখ
  • নখের ভিতর ময়লা জমে থাকা
  • নখের প্রান্ত ভাগ ভেঙ্গে ভেঙ্গে যাওয়া
  • নখের চকচকে ও উজ্জ্বলভাব কমে যাওয়া

নখের ফাঙ্গাস - প্রধান কারণগুলি

সাধারণত হাতের নখের সংক্রমণের চেয়ে পায়ের নখের সংক্রমণ বেশি হতে দেখা যায়। নীচে দেওয়া পরিস্থিতিগুলি নখে ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়:
  • নখে অথবা ত্বকে সামান্য আঘাত লাগা।
  • দুর্বল অনাক্রম্যতা
  • নখের বিকৃতি
  • নখের রোগ
  • চাপা জুতো পরিধানের ফলে নখে হাওয়া চলাচল বাধা পায়
  • বহুসময় ধরে ত্বক আর্দ্র বা ভিজে অবস্থায় থাকা

নখের ফাঙ্গাস - রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

  • নখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা
  • নখটিকে চাঁচা হয়, এবং টিস্যুটিকে একটি মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এটি নখে কি ধরনের ছত্রাক সংক্রমণ হয়েছে তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
চিকিৎসা: নখ মোটা পুরু বা ফেটে যাওয়া রোগের কার্যকর চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি। এর জন্য এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন।

নখের ফাঙ্গাস - পরামর্শ 

নখের সংক্রমণ প্রতিহত করার উপায়:
  • সর্বদা আপনার নখ ও তার পার্শ্ববর্তী ত্বককে পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখুন
  • আপনার শরীর বা অন্য কারোর উপর অন্যান্য কোন ছত্রাক সংক্রমণের সংস্পর্শ হলে স্থানটিকে যথাযথভাবে ধুয়ে ফেলুন
  • অন্য ব্যক্তির হাত ও পা পরিষ্কারের সরঞ্জাম ব্যবহার এড়িয়ে চলুন
  • আপনার নখ ও ত্বকের সবচেয়ে ভালো পরিচর্যা করুন
নখের ফাঙ্গাস ঔষধ, হাতের নখের ফাঙ্গাস দূর করার উপায়, নখের ইনফেকশন, নখ মরে যাওয়া, ফাঙ্গাস এর চিকিৎসা, পায়ের নখের সমস্যা সমাধান, পায়ের নখ মরে যাচ্ছে এই সকল সমস্যার উন্নত চিকিৎসা মূলত হোমিওপ্যাথি। 
বিস্তারিত

Monday, September 9, 2019

পুরুষদের অন্ডকোষের জটিল রোগসমূহ | অন্ডকোষের রোগব্যাধি VS পুরুষ বন্ধ্যাত্ব

পুরুষদের কিছু জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে যেগুলির সময় মত চিকিৎসা না নিলে জীবনভর ভুগতে হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আরো অধিকতর জটিলতা তৈরী করে থাকে। তাই প্রত্যেক পুরুষকেই বিষয়গুলি সম্পর্কে জেনে রাখা দরকর। Low Testosterone, Low Sexual Desire, Low Sperm Count, Azoospermia, Orchitis, Varicocele, Spermatocele, Hydrocele, Epididymitis, Testicular Atrophy, Testicular Microlithiasis 
এই সকল সমস্যার ভাল এলোপ্যাথিক চিকিৎসা না থাকলেও উন্নত হোমিও চিকিৎসা রয়েছে। তবে এর জন অভিজ্ঞ কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরি।
বিস্তারিত

Friday, September 6, 2019

কিডনির পাথর Kidney Stones ! কারণ লক্ষণ প্রতিরোধ চিকিৎসা বা দূর করার উপায়

কিডনির পাথরগুলো অর্থাৎ Kidney stones কেবল কিডনিতে নয়, এর বিভিন্ন অংশে হতে পারে- কিডনিতে হতে পারে, কিডনির ভেতর থেকে বের হওয়া বৃক্ক নালীতে হতে পারে, প্রস্রাবের থলেতে হতে পারে এবং থলে থেকে বের হয়ে অনেক সময় পাথর মূত্রনালিতে আটকা পড়ে। কিডনি স্টোনের প্রাথমিক লক্ষণগুলো নির্ভর করে পাথর কিডনির কোথায় এবং কীভাবে রয়েছে। কিডনিতে পাথরের আকার-আকৃতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাথর খুব ছোট হলে সেটি কোনও ব্যথা-বেদনা ছাড়াই দীর্ঘদিন পর্যন্ত শরীরে থাকতে পারে! ফলে টেরও পাওয়া যায় না।

কিডনির পাথর - কারণসমূহ

কিডনিতে পাথর জমার বা তৈরি হওয়ার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে কিছু কিছু বিষয় কিডনিতে পাথর তৈরির কারণ বলে বিবেচিত হয়।
  • কিডনিতে বারবার সংক্রমণ এবং এর ঠিকঠাক চিকিৎসা না করা।
  • দৈনিক অল্প পানি পান
  • খাবারে অধিক লবণ
  • কম ফলফলাদি ও শাকসবজি খাওয়া
  • বেশি লাল মাংস যেমন-গরু ও খাসির মাংস এবং পোলট্রির মাংস খাওয়া কিডনিতে পাথর হওয়ার অন্যতম কারণ
  • বেশি বা খুব কম ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া
  • যারা ক্যালসিয়াম জাতীয় ট্যাবলেট প্রচুর পরিমাণে খায় এদেরও পাথর হওয়ার আশঙ্কা বেশি
  • যেসব লোকের ইনফ্লামেটরি বাওয়েল রোগ থাকে, তারা কিডনির রোগ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন
  • টপিরামেট জাতীয় (এটা টোপাম্যাক্স হিসেবে পাওয়া যায়) ওষুধ কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এগুলো সাধারণত মাইগ্রেনের রোগে ব্যবহার করা হয়
  • অতিরিক্ত অক্সালেট জাতীয় শাকসবজি যেমন, পুঁই শাক, পালং শাক, বিট ইত্যাদি বেশি পরিমাণে খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো
  • অনিয়ন্ত্রিত উচ্চরক্তচাপ অথবা বাতের ব্যথা কিংবা মূত্রাশয়ে প্রদাহের উপযুক্ত চিকিৎসা না করলে কিডনিতে পাথর হতে পারে

কিডনিতে পাথর - লক্ষণসমূহ

  • অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো উপসর্গ না-ও থাকতে পারে। তবে-
  • মাঝে মাঝে প্রস্রাবের সঙ্গে ছোট ছোট পাথর যাওয়া
  • হঠাৎ তলপেটে, নিচের পেটের দুই পাশে বা কোমরে তীব্র ব্যথা
  • রক্তবর্ণের লাল প্রস্রাব, ব্যথা, জ্বালাপোড়া থাকতে পারে
  • ব্যথার সাথে বমি বমি ভাব বা বমিও হতে পারে
  • ঘোলাটে এবং দূর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব
  • ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া বা অল্প একটু হয়েই আর না হওয়া।
  • কাঁপুনি দিয়ে জ্বর
তবে আকস্মিকভাবে পেট বা পিঠে ব্যথা অনুভব করা কিংবা প্রস্রাবের সময় ব্যথা অনুভব করা মানেই কিডনিতে পাথরের লক্ষণ নয়, তবে এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন, কারণ হতে পারে এটি মারাত্নক কোন রোগের লক্ষণ। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন আসলেই কিডনিতে পাথরের জন্য এমন হচ্ছে কিনা।

কিডনির পাথর - চিকিৎসা

কিডনিতে পাথর হলেই অপারেশন করতে হয় এমন ধারণা ঠিক নয়। চিকিৎসা নির্ভর করে পাথরের অবস্থান, আকার, ধরন, কিডনির কার্যকারিতা এবং প্রস্রাবের পথে প্রতিবন্ধকতার ওপর। হোমিও চিকিৎসার মাধ্যমে কিডনির পাথর Kidney Stones হলে দূর করা যায় অনেক সহজেই। তবে কিছু ক্ষেত্রে সার্জারী করার প্রয়োজন হয়ে থাকে।

কিডনির পাথর - প্রতিরোধ

  • কখনোই প্রস্রাব আটকে রাখবেন না।
  • প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।
  • আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিমাণ পরিমিত রাখুন।
  • ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে কিন্তু প্রয়োজন ব্যতীত ক্যালসিয়াম ওষুধ ও ভিটামিন ডি যুক্ত ওষুধ না খাওয়াই ভালো।
  • বারবার ইউরিন ইনফেকশন দেখা দিলে এর ঠিকমতো চিকিত্‍সা করান।
  • প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খান।
  • দুধ, পনির বা দুগ্ধজাত খাবার অতিরিক্ত মাত্রায় না খাওয়াই ভাল।
  • ক্যাফেইন এবং সোডা এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত কফি পানে কিডনির অবস্থা আরো খারাপ হবে।
  • কিডনিতে পাথর হওয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত না হলেও অ্যালকোহল কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়া অ্যালকোহল কিডনির কর্মক্ষমতা নষ্ট করে।
বিস্তারিত

Saturday, August 24, 2019

শ্বেতী রোগ Leucoderma or Vitiligo ! কারণ লক্ষণ চিকিৎসা প্রতিরোধ

শ্বেতী রোগের প্রাকৃতিক ঔষধ স্থায়ী হোমিও চিকিৎসা কি হতে পারে ! Meaning in english is leucoderma or vitiligo. নারী কিংবা পুরুষ যে কোনো বয়সেই এই শ্বেতী রোগে আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত শরীরের যেসব অঙ্গ আবরণমুক্ত থাকে যেমন হাত, পা, মুখমণ্ডল এবং ঠোঁট ইত্যাদি অংশে শ্বেতী বেশি দেখা যায়। শ্বেতীরোগে সাধারণত শরীরের নির্দিষ্ট কিছু অংশে সাদা বর্ণের দাগ দেখা যায়। এ ছাড়া বংশগতভাবেও শ্বেতী রোগ হতে পারে। তবে শ্বেতী কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়।
ছোঁয়াচে রোগ না হলেও যে কেউ যেকোন সময় এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। রোগটি মরণব্যাধি কিংবা ঘাতক নয়, তবে একবার শরীরে বাসা বাধলে তা থেকে মুক্তি পাওয়া দুস্কর। এই অসুখে আমাদের ত্বকের রং তৈরি করার কোষ বা মেলানোসাইট নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় বা কমে যায়। বেশির ভাগ শ্বেতী আজকাল অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার থেকে হয়। রোজকার জীবনে এই সব রাসায়নিক সকলের ত্বক সহ্য করতে পারে না। তখনই শুরু হয় সমস্যা।

একবার এ রোগ হলে দ্রুত তা শরীরের অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। শ্বেতীতে আক্রান্ত রোগীরা বেশির ভাগই মানসিক অবসাদে ভোগেন। শ্বেতী বংশগতভাবেও হয়। প্রতি ১০০ জন শ্বেতী রোগীর মধ্যে ৩০ জনের ক্ষেত্রেই শ্বেতী হয় বংশগত ধারায়। বাকি ৭০ শতাংশের ক্ষেত্রে শ্বেতী সাদা দাগ ছড়াতে থাকে নিজস্ব কারণে, যার মূলে রয়েছে মেলানিনের কারসাজি।শ্বেতী রোগ বেশ কয়েক ধরণের হতে পারে:
  • শরীরের অল্প কিছু অংশে হতে পারে 
  • যে কোন একদিকে (বাম অথবা ডান দিকে) - এ ধরণের শ্বেতী শরীরের যেকোনো একপাশের হাত, পা বা মুখ আক্রান্ত হয়। অল্প বয়সেই রোগের লক্ষণ দেখা দেয়।
  • শরীরের অধিকাংশ জায়গায় - এ ধরণের শ্বেতী পুরো শরীরেই ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত এই ধরণের শ্বেতী বেশি দেখা যায়। প্রথমে এটি হাত, পা বা মুখের সামান্য অংশে ছোট ছোট সাদা দাগ হিসেবে দেখা দেয় এবং ক্রমে এগুলো একত্রিত হয়ে বড় আকার ধারন করে এবং সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

শ্বেতী রোগ - কারণ

এখনো পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা শ্বেতীর সঠিক কারণ বের করতে পারেনি। তবে নিম্নোক্ত কারণে শ্বেতী হতে পারে, যেমন -
  • বংশগত কারণে
  • কেউ কেউ জন্মগতভাবে এই রোগে আক্রান্ত হয়
  • শরীরে মেলানিন উৎপাদনকারী কোষ ধ্বংসকারী পদার্থ তৈরী হওয়া
  • অত্যাধিক মানসিক অবসাদ
  • নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক পদার্থ যেমন মনোইথাইলিন বেনজিন ইত্যাদির কারণেও শ্বেতী হতে পারে

শ্বেতী রোগ - লক্ষণসমূহ

  • মুখমণ্ডল, বাহু, হাত বা পায়ের চামড়া বিবর্ণ হয়ে যাওয়া (অধিক প্রচলিত),
  • শরীরে সাদা বা হালকা ফুস্কুরি দেখা দেয়া,
  • শরীরের অন্যান্য অংশ যেমন: বগল, কুচকি, যৌনাঙ্গ বা পায়ুপথ ইত্যাদির চামড়া বিবর্ণ হয়ে যাওয়া,
  • মুখগহবর ও নাকের ভেতরে বিবর্ণ রঙের কোষ দেখা যাওয়া,
  • চুল, ভ্র, চোখের পাপড়ি বা মুখের লোম সাদা হয়ে আসা,

শ্বেতী রোগ - চিকিৎসা

এলোপ্যাথিতে বিভিন্ন ধরণের স্টেরয়েড জাতীয় মলম, এবং মুখে খাবার স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ, রিভোফ্লবিন ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আবার বিভিন্ন থেরাপি এবং সার্জারীও করা হয়ে থাকে। তবে এর উন্নত চিকিৎসা মূলত হোমিওপ্যাথি। এর জন্য এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ধৈর্য ধরে চিকিৎসা নিতে হবে। কারণ এর চিকিৎসা মূলত দীর্ঘমেয়াদি।

শ্বেতী রোগ - সতর্কতা

  • কোনও রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে শরীরে কোনও সাদা দাগ হচ্ছে কি না সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। তেনমনটা দেখা দিলেই বন্ধ করতে হবে ক্ষতিকর রাসায়নিক দেওয়া জিনিসের ব্যবহার।
  • ডিটারজেন্ট ব্যবহারের সময় গ্লাভস ব্যবহার করুন। সাবান, তেল, শ্যাম্পুর বেলায় বিজ্ঞাপনী চমকে প্রভাবিত হয়ে না কিনে, চেষ্টা করুন ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে কিনুন
  • শ্বেতী ধরা পড়লে ছেড়ে দিন প্লাস্টিক বা রবারের জুতো পরা। সার্বিকভাবেই প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করে ফেলতে পারলে ভাল হয়
  • কোনও রকম ফরসা হওয়ার ক্রিম, হেয়ার ডাই ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হবে
  • সানস্ক্রিন ব্যবহারের সময় ইউভি এ ও ইউভি বি দুটোই ব্লক করছে কি না দেখুন। কেবল এসপিএফ-ই নয়, নজর রাখতে হবে পিএফ ফ্যাক্টরেও। এ ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের অনুমোদন দেওয়া সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
  • স্বাস্থ্যকর ডায়েট ও পর্যাপ্ত ঘুম মানসিক চাপ কমায়। 
বিস্তারিত

Thursday, August 15, 2019

স্বপ্নদোষ Nocturnal Emission! কখন স্বাস্থ্য সম্মত কখন রোগ এবং চিকিৎসা কি?

ছেলেরা বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছালে তাদের বীর্যথলিতে বীর্য এবং অন্ডকোষে শুক্রাণু তৈরি হয়। সময়ের সাথে সাথে বীর্য ক্রমাগত বীর্যথলিতে জমা হতে থাকে। বীর্যথলির ধারণক্ষমতা পূর্ণ হওয়ার পর নিদ্রারত অবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবে বীর্যপথে বীর্যপাত ঘটে দেহে বীর্যের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রিত হয়, একেই স্বপ্নদোষ বলা হয়। স্বপ্নদোষের সময় অনেকে স্বপ্নে অবচেতনভাবে যৌন কর্মকাণ্ডের প্রতিচ্ছবি অবলোকন করেন, তবে উক্ত অনুভূতি ছাড়াও স্বপ্নদোষ সঙ্ঘটিত হয়। ব্যক্তিবিশেষের ক্ষেত্রে স্বপ্নদোষে বীর্যপাতের পরিমাণ কম বা বেশী হতে পারে।
স্বপ্নদোষ নারীদের ক্ষেত্রেও হতে পার, তবে তাঁর মাত্রা পুরুষদের তুলনায় অনেক কম। এছাড়া মেয়েদের স্বপ্নদোষের ফলে সাধারণত বীর্য নির্গত হয় না, ফলে তা স্বপ্নদোষ কিনা সেটি সহজে চিহ্নিত বা নির্ণয় করা যায় না।

স্বপ্নদোষ একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, এটি কোন শারীরিক সমস্যা নয়। এটি প্রজননক্ষম জীব হিসেবে মানব প্রজাতির স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার একটি অংশ। বয়ঃসন্ধিকালে দেহের যৌন বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ধনের ফলাফলস্বরূপ এটি ঘটে থাকে। স্বপ্নদোষ সঙ্ঘটনের ধারাবাহিকতার ক্ষেত্রে স্থান ও বয়সভেদে ব্যাপক বিভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। কিছু পুরুষ দাবি করেন যে তারা যে সময়কালটিতে সঙ্গম অথবা স্বমেহন কোনভাবেই যৌনকর্মে সক্রিয় হন না, কেবল তখনই এটি ঘটে থাকে।
কিছু পুরুষ তাঁদের টিন এজার বয়সে বা উঠতি কৈশোরে বহুসংখ্যকবার স্বপ্নদোষের সম্মুখীন হয়েছেন, আর বাকি পুরুষদের জীবনে একবারও এটি ঘটেনি। বয়ঃসন্ধিকালে যারা নতুনভাবে স্বপ্নদোষের অভিজ্ঞতা লাভ করেন তারা অনেকেই প্রথমদিকে একে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারেন না এবং আতঙ্ক ও হীনম্মন্যতা বোধ করেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্বপ্নদোষের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে। এছাড়াও স্বপ্নদোষ হতে নানা কারণে পারে, যেমন-
  • বয়ঃসন্ধিকালে যৌন হরমোনের আধিক্যের জন্য
  • স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত যৌন বিষয়ক চিন্তা করা
  • পর্ণগ্রাফি বা নীল ছবিতে আসক্ত হওয়া
  • যৌন উদ্দীপক বই পড়া
  • শয়নকালের পূর্বে যৌন বিষয়ক চিন্তা করা বা দেখা

স্বপ্নদোষ - স্বাভাবিক মাত্রা

স্বাভাবিক ভাবে সপ্তাতে ১/২ বা মাসে ৫/৬ বার হতে পারে। এছাড়া রাতের বেলা গুরুপাক খাদ্য খেয়ে ঘুমালে পেটের গোলযোগের কারণেও কখনো কখনো হতে পারে।

স্বপ্নদোষ - চিকিৎসা 

স্বপ্নদোষ যদি সপ্তাহে ২ বারের বেশি বা মাসে ৫/৬ বারের বেশি হতে থাকে এবং সেটা ক্রমাগত হতে থাকে তাহলে এটাকে রোগের পর্যায়ে বিবেচনা করা হয়।  এ অবস্থায় এক্সপার্ট একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন কারণ এর চিকিৎসা মূলত হোমিওপ্যাথি। 
বিস্তারিত

Thursday, August 8, 2019

কানের প্রদাহ (Otitis media) কান পাকা রোগ ও এর সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি

অনেকেই আছেন যারা এই কান পাকা রোগটিকে খুব সাধারণ মনে করে থাকেন এবং ঠিকমত চিকিৎসাও করান না। কিন্তু এই রোগের ঠিকমত চিকিৎসা না করালে নানারকম জটিলতা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় রোগী মারাত্মক জটিলতা নিয়ে আমাদের কাছে এত দেরীতে আসে যে তখন সর্বপ্রকার চেষ্টা করেও রোগীকে সুস্থ করা সম্ভব হয় না।
আমাদের কানের তিনটি অংশ আছে। যথা: বহিঃকর্ণ, মধ্যকর্ণ ও অন্তঃকর্ণ। মধ্যকর্ণের প্রদাহকেই আমরা সাধারনত কানপাকা রোগ বলে থাকি। কান দিয়ে পুঁজ পড়া ও কানে কম শোনা এ দুটি এই রোগের প্রধান উপসর্গ। কানপাকা রোগ দুই ধরণের হয়ে থাকে। একটি হল- সাধারণ বা নিরাপদ কানপাকা রোগ, যা সাধারণত কোনো মারাত্মক জটিলতা তৈরি করে না এবং এ ক্ষেত্রে সাধারণত দুর্গন্ধবিহীন, পাতলা পুঁজ কান থেকে বের হয়।

অন্যটি হল, অনিরাপদ কান পাকা রোগ, যা জীবন হানিকর জটিলতা তৈরি করতে পারে। এক্ষেত্রে কানে দুর্গন্ধযুক্ত, ঘন পুঁজ কান থেকে বের হয় ও সেখানে সাধারণত কোলেস্টেটোমা উপস্থিত থাকে। কোলেস্টেটোমা এমন একটি জিনিস, যেটি কানের আশেপাশের হাড় এবং অন্যান্য নরম কোষকলাকে সহজেই ধ্বংস করে কানের প্রদাহ মস্তিষ্কের বাহিরে ও ভিতরে ছড়িয়ে দিতে পারে। ফলে অনিরাপদ কানপাকা রোগে মধ্যকর্ণের প্রদাহ ইহার অস্থি প্রাচীর ভেদ করে মধ্যকর্ণের সাথে নিবিড় সম্পর্কযুক্ত শরীরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেমন- মস্তিষ্কের ঝিল্লী, মস্তিষ্ক, মস্তিষ্কের রক্তবাহী সাইনাস, ফেসিয়াল নার্ভ ও অন্তঃকর্ণ ইত্যাদিতে প্রদাহ সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে; যার পরিণতি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে।

কান পাকা - কারণ

  • মধ্যকর্ণে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের কারণে ইনফেকশন হয়ে থাকে
  • সাধারণ ঠাণ্ডা, ফ্লু বা এ্যালার্জি জনিত সমস্যার জন্য নাসিকা পথ, গলা এবং ইউস্টিশিয়ান নালী (Eustachian tubes) ফুলে যায় ও বন্ধ হয়ে যায় এবং এর জন্য ইনফেকশন হয়ে থাকে
  • শ্বাসতন্ত্রের উপরিভাগের বার বার সংক্রমণ হলে
  • সাধারণ সর্দি এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা হলে
  • মুখ গহ্বরের গ্রন্থি বড় হয়ে গেলে
  • টনসিলের সংক্রমণ হলে
  • নাক ও গলার সংযোগ স্থলে টিউমার হলে বা অন্য কারণে অডিটরি টিউব বন্ধ হয়ে গেলে
  • হাম হলে
  • মুখ ও খুলির হাড়ের মাঝে অবস্থিত ফাঁকা অংশের ঘনঘন প্রদাহ হলে (সাইনোসাইটিস)

কান পাকা - লক্ষণ

  • জ্বর
  • কাশি
  • নাক বদ্ধ হয়ে যাওয়া 
  • গলা ব্যথা
  • বমি
  • কান লাল হয়ে যাওয়া
  • হাত দিয়ে কান টানার অভ্যাস
  • কানে পানি জমা
  • শ্রবণ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া বা কানে কম শোনা
  • কানে বদ্ধতা অনুভব করা
  • বাইরে থেকে কানের ভেতরে আলো ফেললে দেখা যাবে কানের পর্দা লাল হয়ে আছে। পর্দা ফেটে গেলে পুঁজ দেখা যায়।
  • কানের পর্দা ফেটে গেলে কান দিয়ে পুঁজ পড়ে (এ সময় জ্বর ও কান ব্যথা কমে যায়)
  • কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার পর রোগী কানে কম শোনে।

কান পাকা - রোগ নির্ণয়

কান পাকা রোগ শুধু রোগীর রোগ লক্ষণ, রোগীর কান পরীক্ষা ও প্রয়োজনে সামান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা যেমন কানের এক্সরে ইত্যাদি করেই নিণর্য় করা যায়। কান পরীক্ষা করলে সকল ক্ষেত্রেই কানের পর্দায় ছিদ্রের উপস্থিতি নির্ণয় করা যায়। অনিরাপদ কানপাকা রোগে কানের পর্দায় ছিদ্র ছাড়াও সাদা বলের মত কোলেস্টেটোমা দেখা যায়। অডিওমেট্রি পরীক্ষা করে রোগী কানের বধিরতার পরিমাপ করা হয়। কিন্তুু রোগের মস্তিস্কের ভিতরের জটিলতা নির্ণয় করতে হলে উপরোক্ত রোগ লক্ষণের সাথে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা যেমন শিরদাড়ার পানি পরীক্ষা ও মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান করতে হবে। এছাড়াও কোন কোন ক্ষেত্রে রক্তের মধ্যে জীবাণুর উপস্থিতি নির্ণয়ের জন্য রক্ত কালচার পরীক্ষাও করা লাগতে পারে।

কান পাকা - চিকিৎসা

এলোপ্যাথিতে মূলত এন্টিবায়োটিক, এন্টিহিস্টামিন, কানে জীবাণুনাশক ড্রপ ব্যবহার করলেই অস্থায়ীভাবে কান থেকে পুঁজ পড়া বন্ধ করার চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে অপারেশনও করা হয়ে থাকে।

হোমিওপ্যাথিতে রোগীর কান পাকার ধরণ, পুঁজের ধরন এবং অন্যান্য যাবতীয় লক্ষন সমষ্টি নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। তাই এই সমস্যায় অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন।

কান পাকা - প্রতিকার

এছাড়া কিছু নির্দেশ সব সময়ই পালন করতে হবে যেমন- কানে পানি না ঢোকানো, ডুব দিয়ে গোসল না করা, ময়লা কোন কিছু দিয়ে কান পরিষ্কার না করা। 
বিস্তারিত