Dr. Imran ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান ➤ ডিএইচএমএস, ডিএমএস; ঢাকা
➤ প্রাইভেট প্রাক্টিশনার হোমিওপ্যাথি
➤ আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
➤ ফোন : +৮৮ ০১৬৭১-৭৬০৮৭৪ এবং ০১৯৭৭-৬০২০০৪

ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন

নারী স্বাস্থ্য (স্ত্রীরোগ)
মা ও শিশু স্বাস্থ্য
পুরুষের স্বাস্থ্য
রোগ-ব্যাধি
হেল্থ টিপস
যোগাযোগ

Thursday, July 4, 2019

BMI কি? বি এম আই BMI নির্ণয় পদ্ধতি ! অতিরিক্ত ওজন মেদ ভূঁড়ি কমানোর সহজ উপায়

বি এম আই - বডি মাস ইনডেক্স Body Mass Index (BMI) হলো আপনার দেহের ওজন এবং দৈর্ঘ্য বা উচ্চতার বর্গের অনুপাত। এটি হলো একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির ওজন ও উচ্চতার ভিত্তিতে স্থুলতা নির্ণয়ের একটি নির্ভরযোগ্য ও সর্বাধিক প্রচলিত সূচক বা পন্থা, যা ব্যক্তির ওজনাধিক্যের ধরণ নির্দেশ করে নানা স্বাস্থ্যগত সমস্যার ঝুঁকি হতে রক্ষা করে। বিএমআই মানের মাধ্যমে জানা যায় যে দেহের ওজন স্বাভাবিক, কম বা বেশী ইত্যাদির মধ্যে কোন পর্যায়ে আছে।  বি এম আই সূত্র হলো -
BMI = দেহের ওজন (কেজি) / দেহের উচ্চতা (মিটার)২
একেক দেশের লোকসংখ্যা ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী BMI এর স্ট্যান্ডার্ড ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। তবে মানব দেহে সুস্থতার জন্য BMI এর আদর্শ মান হলো ১৮.৫ থেকে ২৪.৯ এর মধ্যে।
বিএমআইশ্রেনী
১৮.৫ওজনহীনতা
১৮.৫ – ২৪.৯স্বাভাবিক ওজন 
২৫ – ২৯.৯অতিরিক্ত ওজন 
৩০ – ৩৪.৯ স্থুলতা
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যগত নানা জটিলতার সাথে ওজনাধিক্যের রয়েছে  নিবিড় সম্পর্ক। যাদের ওজন বেশি, অর্থাৎ, যারা ওজনাধিক্য কিংবা স্থুলতায় ভুগছেন তাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, অষ্টিওপোরেসিস সহ নানা অসুখ হবার আশঙ্কা থাকে, যা মহিলাদের ক্ষেত্রে আরও প্রকট আকার ধারণ করে। পক্ষান্তরে, কারও ওজন যদি খুব কম থাকে, তবে সে সবসময় দুর্বল ও ক্লান্তবোধ করে, তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কম থাকে।

এ সকল বিষয়ের প্রেক্ষিতে প্রতিটি মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবন লাভের জন্য একটি কাম্য ওজন বা Standard weight বিবেচনা করা হয়। ব্যক্তি বিশেষের এই কাম্য ওজন পরিমাপের একটি পদ্ধতি হলো Body Mass Index বা BMI নিরূপণ।
মদ্যপান, অতিরিক্ত ঘুম, মানসিক চাপ, স্টেরয়েড এবং অন্য নানা ধরনের ওষুধ গ্রহণের ফলেও ওজন বাড়তে পারে। বাড়তি ওজন কিংবা ভুঁড়ি নিয়ে অনেক সমস্যা। বাড়তি ওজনের জন্য যেকোনো ধরনের হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া রক্তনালিতে চর্বি জমে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। বাড়তি ওজন রক্তচাপেরও কারণ। ডায়াবেটিস টাইপ-২ দেখা দিতে পারে মেদ বৃদ্ধির জন্য। মেদবহুল ব্যক্তির জরায়ু, প্রস্টেট ও কোলন ক্যান্সারের সম্ভাবনা শতকরা ৫ ভাগ বেশি।

ওজন বৃদ্ধির সাথে সাথে হাঁটাচলা করতে সমস্যা হয়। হাঁটুর সন্ধিস্থল, কার্টিলেজ, লিগামেন্ট ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। আর্থ্রাইটিস, গেঁটে বাত এবং গাউট হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। অতিরিক্ত চর্বি থেকে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, অতিরিক্ত কম ওজন বা অতিরিক্ত বেশি ওজন বা স্থূলত >> দুটোই সুস্থতার বিপরীত। নিজের আদর্শ ওজন নির্ণয় করুন, এবং আপনার অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ওজনকে আদর্শ অবস্থানে আনবার জন্য চেষ্টা করুন। কেবল সুন্দর থাকা মানেই ভালো থাকা নয়, সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকাই সত্যিকারের ভালো থাকা।

অতিরিক্ত ওজন মেদ ভূঁড়ি কমানোর সহজ উপায়

কোন প্রকার পার্শপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই অতিরিক্ত ওজন স্থূলতা বা মেদ ভূঁড়ি কমানোর সহজ উপায় হলো হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা। এই অতিরিক্ত ওজন স্থূলতা বা মেদ ভূঁড়ি সমস্যার পেছনে হরমোনাল কারণসহ বিভিন্ন ধরণের কারণ থাকে যা প্রপার হোমিও চিকিৎসা মাধ্যমে দূর করে ওজন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। তবে এর জন্য আপনাকে অবশ্যই এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিতে হবে। 
বিস্তারিত

Wednesday, July 3, 2019

অতিরিক্ত ওজন মেদ ভূঁড়ি অতিস্থূলতা Obesity কমানোর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা

অতিরিক্ত ওজন মেদ ভূঁড়ি অতিস্থূলতা Obesity আজকাল আমাদের দেশে একটি কমন বিষয়। শরীরে অতিরিক্ত স্নেহ বা চর্বি জাতীয় পদার্থ জমা হয়ে এই সমস্যার তৈরী করে থাকে। অতিরিক্ত ওজন স্থূলতা বৃদ্ধি পেলে আমাদের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রকার রোগের সম্ভাবনা দেখা দেয়, বিশেষত হৃদরোগ, দ্বিতীয় পর্যায়ের ডায়াবেটিস, শুয়ে থাকার সময় শ্বাসকষ্ট, কয়েক ধরনের ক্যান্সার এবং অস্টিওআর্থারাইটিস। অনেকে খুব কম পরিমাণে খাচ্ছেন অথচ ক্রমশ ওজন বৃদ্ধি পাচ্ছে, এর জন্য ধীর বিপাক ক্রিয়া বা ধীরে হজম হওয়াকেই দায়ী করা যেতে পারে।
আপনি সব সময় শুনে এসেছেন যে অতিরিক্ত ওজন হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং আরও অনেক অসুখ ঘটাতে পারে। কিন্তু আপনি কি জানেন অতিরিক্ত শারীরিক ওজন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়? ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে গবেষকরা সন্দেহ করে আসছেন যে শারীরিক ওজনের সঙ্গে ক্যান্সারের সম্পকর্ রয়েছে। বতর্মানে তারা প্রমাণ পেয়েছেন কীভাবে শারীরিক ওজন ক্যান্সার ঘটায়। শরীরের অতিরিক্ত চবির্ শুধু সেখানে বসে থাকে না, সেটা তন্ত্রে সক্রিয় পরিবতর্ন ঘটিয়ে ক্যান্সার সৃষ্টি হওয়াকে সহজ করে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, চবির্ কোষগুলো বুকে হরমোহনসহ শারীরিক বৃদ্ধি ঘটানো বস্তুগুলোর নিঃসরণ ঘটাতে দ্রত কাজ করে। এসব বস্তু শরীরের বিভিন্ন কোষে সঙ্কেত পাঠিয়ে দ্রত কোষের বিভাজন ঘটায়। এভাবে যত্রতত্র কোষ বিভাজন বেড়ে যায় এবং তা ক্যান্সারের সৃষ্টি করে।

অতিরিক্ত ওজন মেদ ভূঁড়ি অতিস্থূলতা Obesity- কারণ

  • কারও কারও জেনেটিক বা বংশগত কারণেই মোটা হওয়ার ধাত তৈরি হয়।
  • অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ মোটা হওয়া বা ওজন বাড়ার অন্যতম কারণ। মনে রাখতে হবে, অতিভোজনই অতি ওজন। খাবারের মধ্যে যা শক্তি সঞ্চয় হয়, কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের মাধ্যমে ক্ষয় না হলে, ওজন বাড়তেই থাকবে।
  • পরিশ্রমবিহীন অলস জীবন মোটা হওয়ার অন্যতম কারণ।
  • অ্যালকোহল, এনার্জি ও হেলথ ড্রিংকস, কোমল পানীয়, ফাস্ট ফুড ইত্যাদি মোটা হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
  • অ্যান্ড্রোক্রাইন ও হরমোনজনিত রোগ, যেমন হাইপোথাইরয়েডিজম, কুশিং সিনড্রোম ইত্যাদি।
  • দীর্ঘদিন যাবৎ কিছু কিছু ওষুধ ব্যবহারের ফলে মোটা হওয়ার প্রবণতা থাকে। যেমন স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ।

অতিরিক্ত ওজন মেদ ভূঁড়ি অতিস্থূলতা Obesity কমাতে যা যা করবেন

  • প্রথমেই আপনাকে  বি এম আই BMI সূত্র>> প্রয়োগ করে আপনার দেহের দৈর্ঘ্য বা উচ্চতার অনুপাতে আপনার শরীরের ওজন ঠিক আছে কিনা সেটা নির্ণয় করতে হবে। 
  •  দ্রুত বা তাড়াহুড়ো করে ওজন কমানো সম্ভব নয়। নিয়মমাফিক ধৈর্য সহকারে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। শুরুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। শারীরিক কোনো রোগ শনাক্ত করা গেলে সে অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। এ ছাড়া ওজন কমানোর অন্যান্য পদ্ধতিগুলো আপনার নিজের হাতের মুঠোতেই। পেটটা অতিরিক্ত খেয়ে ভর্তি না করাই ভালো। বরং পেটের কিছুটা অংশটা খালি রাখা ভালো।
  • ওজন সীমিত রাখতে পরিমিত খাবার খেতে হবে।
  • কম ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে।
  • ফাস্ট ফুড-জাতীয় খাদ্য এবং বাইরের খাবার না খাওয়া।
  • ভাত কম খাওয়াই উচিত। খাওয়ার আগে শসা, টমেটো, পেয়ারা খেয়ে নিলেও বেশি ভাত খেতে ইচ্ছে করবে না।
  • খাদ্যতালিকায় আঁশযুক্ত খাবার, ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেন থাকে।
  • চিনি, মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা। যেকোনো উৎসবেও পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে।
  • বাড়তি চর্বি পোড়ানোর জন্য প্রতিদিন পরিশ্রম করতে হবে। হাঁটা, লিফটে না চড়ে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, অল্প দূরত্বে গাড়ি বা রিকশায় না চড়ে হেঁটে চলার অভ্যাস করতে হবে। এগুলো শরীরের মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। সম্ভব হলে ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম, সাঁতার কাটা, সাইক্লিং, জগিং ইত্যাদি অভ্যাস করা ভালো। সুযোগ থাকলে ওজন কমানোর জন্য জিমেও যেতে পারেন।

অতিরিক্ত ওজন মেদ ভূঁড়ি অতিস্থূলতা Obesity - চিকিৎসা

এই সমস্যা থেকে পরিত্রানের জন্য ব্যায়ামের পাশাপাশি আপনি অভিজ্ঞ একজন চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে হোমিও চিকিৎসা নিলে অব্যর্থ রেজাল্ট পাবেন। 
বিস্তারিত

Friday, June 28, 2019

লাইপোমা টিউমার কি? চর্বিযুক্ত Lipoma Tumor স্থায়ী হোমিও চিকিৎসা সমাধান

লাইপোমা Lipoma একটি নির্দোষ টিউমার যা চর্বিযুক্ত টিস্যু দিয়ে গঠিত। এটি আবার রোগটি ফ্যাটি টিউমার নামেও পরিচিত। নরম টিস্যু টিউমারগুলোর মধ্যে লাইপোমা হচ্ছে সবচেয়ে সাধারণ ধরন। লাইপোমাগুলোতে হাত দিয়ে স্পর্শ করলে নরম অনুভূত হয়, সাধারণত নড়ানো চড়ানো যায় এবং সাধারণভাবে এগুলো ব্যথাহীন। অনেক লাইপোমা ছোট আকারের, সাধারণত এক সেন্টিমিটার ব্যাসের কম; কিন্তু কোনো কোনো লাইপোমা ছয় সেন্টিমিটারের চেয়ে বড় আকারের হতে পারে। সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সে লাইপোমা বেশি দেখা দেয়, তবে শিশুদেরও এটা হতে পারে। কারও কারও মতে লাইপোমা ক্যান্সারে রূপান্তর ঘটতে পারে।
লাইপোমা একটি চর্বিযুক্ত ফোলা অংশ যা খুব ধীরে ধীরে বড় হয়। এটি সাধারণত ত্বক ও মাংসপেশীর মাঝে সৃষ্টি হয়। আঙ্গুল দিয়ে সামান্য চাপ দিলে এটি নড়াচড়া করে, তাই সহজেই একে শনাক্ত করা যায়। এটি সাধারণত বেশ শক্ত হয়। একজন ব্যক্তির একাধিক লাইপোমা হতে পারে। যে কোনো বয়সে লাইপোমা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে মধ্য বয়সীদের এটি বেশি হয়ে থাকে।

লাইপোমা কোনো ক্যান্সার নয় এবং সাধারণত এর ফলে বিশেষ কোনো ক্ষতি হয় না। এর জন্য কোনো চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। তবে যদি এটি বিরক্তিকর মনে হয় বা বড় হয়ে যায় এবং এর কারণে যদি ব্যথার সৃষ্টি হয় তাহলে অপারেশন করা প্রয়োজন।

লাইপোমা টিউমার - টাইপ 

বিভিন্ন টাইপের লাইপোমা রয়েছে, যেমন-
  • অ্যানজিওলাইপোমা: ত্বকের নিচে ব্যথাপূর্ণ গোটা। লাইপোমায় অন্য সব বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
  • অ্যানজিও লাইপো লিওমায়োমা : এটি অর্জিত লাইপোমা। একক। উপসর্গবিহীন গোটা। ত্বকের নিচে গোলাকার টিউমার। পরীক্ষা করলে নরম মাংসপেশি কোষ, রক্তনালি, সংযোজক কলা ও চর্বি পাওয়া যায়।
  • নিউরাল ফাইব্রোলাইপোমা: নার্ভ ট্রাংক বরাবর ফাইব্রো-ফ্যাটি টিস্যুর অতিরিক্ত বৃদ্ধি। নার্ভে চাপ পড়ে।
  • কনড্রয়েড লাইপোমা: মহিলাদের পায়ের গভীরে হয়। শক্ত, হলুদ টিউমার।
  • স্পিনডল-সেল লাইপোমা: উপসর্গবিহীন। বয়স্ক পুরুষদের পিঠ, ঘাড় ও কাঁধের ত্বকের নিচে হয়। ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে।
  • প্লিওমরফিক লাইপোমা: স্পিনডল-সেল লাইপোমার মতো এই লাইপোমাগুলো বয়স্ক পুরুষদের পিঠের বেশিরভাগ জায়গায় ও ঘাড়ে হয়ে থাকে।
  • ইন্ট্রাডার্মাল স্পিনডল সেল লাইপোমা: এই লাইপোমা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মহিলাদের হয়। সচরাচর মাথা, ঘাড়, পেট, বুক, পিঠ এবং হাত ও পায়ে হয়ে থাকে।
  • হাইবারনোমা: এই লাইপোমাতে থাকে বাদামি চর্বি। লাইপোমার সবচেয়ে সাধারণ ধরন হলো সুপারফিসিয়াল সাবকিউটেনিয়াস লাইপোমা, অর্থাৎ ত্বকে ঠিক নিচে অবস্থানকারী লাইপোমা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এগুলো বুক, পিঠ, পেট, উরু এবং হাতে দেখা যায়।

লাইপোমা টিউমার - লক্ষণ 

  • ত্বক ফুলে যাওয়া
  • পিঠে শক্ত পিণ্ড বা চাকা দেখা দেওয়া
  • বাহুতে শক্ত পিণ্ড দেখা দেওয়া
  • ঘাড়ে শক্ত পিণ্ড দেখা দেওয়া
  • কাঁধে শক্ত পিণ্ড দেখা দেওয়া
  • ত্বকের বৃদ্ধি
  • স্তনের চাকা বা পিণ্ড
  • ত্বকের ক্ষত
  • অস্বাভাবিক ত্বক
  • কুঁচকি ফুলে যাওয়া
  • পায়ে শক্ত পিণ্ড দেখা দেওয়া

লাইপোমা টিউমার - চিকিৎসা

এই রোগে আক্রান্ত হলে ভয় পাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। কারন অনেকেরই এটি হয় এবং অনেকে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পরও বুঝতে পারে না। টিউমারগুলোতে ব্যথা না করলে কিংবা হাঁটাচলার অসুবিধা না হলে সাধারণত লাইপোমার চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। সৌন্দর্যগত কারণে এগুলো অপসারণ করা যেতে পারে।  সাধারণত অপারেশনের মাধ্যমে লাইপোমা ফেলে দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে অপারেশনের পরেও আবার লাইপোমা দেখা দিতে পারে ৷ তবে এর আরেকটি স্থায়ী চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। এর জন্য আপনাকে অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিতে হবে 
বিস্তারিত

Saturday, June 15, 2019

অটিজম(Autism) কি? কেন হয়? লক্ষন ও কার্যকর ক্লাসিক্যাল ট্রিটমেন্ট

অটিজম (Autism) এর একটি কার্যকর চিকিৎসা হলো ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথি। অটিজম হলো মানসিক বিকাশ ঘটিত সমস্যা যা মূলত স্নায়ু বা স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও পরিবর্ধন জনিত অস্বাভাবিকতার ফলে হয়ে থাকে অর্থাৎ এটি নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার (Neuro developmental Disorder).অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার (এএসডি) Autism Spectrum Disorder (ASD) শিশু জন্মানোর দেড় থেকে তিন বছরের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই সময় থেকে শিশুর ৫ বছর বয়সের মধ্যে হোমিওপ্যাথির ক্লাসিক্যাল পদ্ধতিতে চিকিৎসা শুরু করা গেলে অতি দ্রুত সর্বোত্তম ফল পাওয়া সম্ভব অনেকেই হয়তো বিষয়টি জানেনই না।
অটিজমে আক্রান্ত শিশুর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে অসুবিধা হয়। অটিজমের কারণে কথাবার্তা, অঙ্গভঙ্গি ও আচরণ একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকে আবার অনেকক্ষেত্রে শিশুর মানসিক ও ভাষার উপর দক্ষতা কম থাকে।

অটিজম (Autism) - কারণ

পেছনের কারণ খুঁজতে গেলে বহু রোগের পেছনের কারণই খুঁজে পাবেন না। অটিজম সমস্যার ক্ষেত্রেও বিষয়টি তাই। অর্থাৎ অটিজমের নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। তবে যে যে কারণের কথা বলা হয়ে থাকে -
  • জেনেটিক বা জীনগত সমস্যা
  • ভাইরাল ইনফেকশন
  • পরিবেশগত
  • গর্ভকালীন জটিলতা ইত্যাদি

অটিজম (Autism) - লক্ষণাবলী

  • অনেক শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ঠিকঠাক ভাবে হয় না
  • অটিজম থাকা শিশুদের মানসিক অস্থিরতার ঝুঁকি বেশী থাকে
  • এসকল শিশুর বিষন্নতা, উদ্বিগ্নতা ও মনোযোগে ঘাটতিসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে
  • ঠিকমত কথা বলতে না পারা, একই শব্দ বারবার বলা, কথার মানে বুঝতে না পারা, ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে কথা বোঝানোর চেষ্টা করা ইত্যাদি
  • অতিরিক্ত রাগ বা জেদ করা, অনেক-বেশী কান্না বা হাসি
  • রুটিন পরিবর্তনে ক্ষিপ্ত হওয়া, কারও চোখের দিকে কম তাকায় বা তাকায় না
  • কাউকে কিছু অনুরোধ করে না এবং সাহায্য চায় না ইত্যাদি
  • কেউ কেউ খুব আক্রমণাত্মক আচরণ করে থাকে যেমন কাউকে আঘাত করা, কামড়ানো, মারতে আসা, জিনিস পত্র ছুড়ে ফেলা বা জিনিস পত্র ভেঙে ফেলা ইত্যাদি 
  • অন্য বাচ্চাদের সাথে মিশতে চায় না, একা খেলাধুলা করে, কেউ তাকে কোলে নিতে গেলে বিরক্তি প্রকাশ করে, সামাজিক রীতি-নীতি বুঝতে পারেনা ইত্যাদি
  • অটিস্টিক শিশুদের প্রায়ই হজমের অসুবিধা, পেট ব্যথা, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটের গ্যাস, বমি ইত্যাদি হতে পারে।

অটিজম (Autism) - চিকিৎসা

এই সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথি একটি বেস্ট চিকিৎসা পদ্ধতি। যথা সময়ে পেশেন্টের হিস্টোরি পর্যালোচনা করে একটি ভালো হোমিও চিকিৎসা দিলে আশাতীত ফলাফল চলে আসে। 
বিস্তারিত

Sunday, June 9, 2019

সিস্টাইটিস(Cystitis) মূত্রাশয় বা মূত্রথলির প্রদাহ ! কারণ উপসর্গ প্রতিকার

সিস্টাইটিস (Cystitis) হলো মূত্রাশয় বা মূত্রথলির প্রদাহ। নারী পুরুষ যেকেউ এতে আক্রান্ত হয়ে থাকে এবং সব বয়সের পুরুষই আক্রান্ত হতে পারে। কারণ ভেদে এটি বিভিন্ন টাইপের হয়ে থাকে -
  • ব্যাকটেরিয়া জনিত সিস্টাইটিস: এটি একটি কমন টাইপ। দেখা গেছে পায়ুপথথেকে ব্যাকটেরিয়া এসে মূত্রনালী দিয়ে মূত্রথলিতে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়।
  • ইন্টারস্টিশিয়াল সিস্টাইটিস: এটি সাধারণত আঘাতের কারণে হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে সংক্রমণের উপস্থিতি খুব কম থাকে।
  • রেডিয়েশন সিস্টাইটিস: যেসকল রোগীরা ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য রেডিয়েশন নিচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে সচরাচর এটি হতে দেখা যায়। 
  • হেমোরেজিক সিস্টাইটিস: এই ধরণের সিস্টাইটিসের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের সাথে রক্ত যেতে থাকে। 
  • কেমিক্যাল সিস্টাইটিস: বিভিন্ন কেমিক্যাল দ্রব্যাদি থেকে যে ধরনের সিস্টাইটিস হয় তাকেই কেমিক্যাল সিস্টাইটিস বলা হয়। 
  • ড্রাগ ইন্ডিউসড সিস্টাইটিস: এলোপ্যাথিক ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মূলত এই প্রকার সিস্টাইটিস হয়ে থাকে।
এছাড়াও বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন টাইপের সিস্টাইটিস দেখা যায় -
  • Diabetes Mellitus (DM)
  • Kidney Stones
  • Enlarged Prostate
  • Spinal Cord Injury

সিস্টাইটিস (Cystitis)  - সাধারণ কারণগুলি 

  • মূত্রথলিতে বি-কোলাই, টাইফয়েড, গনোরিয়া ইনফেকশন
  • স্ট্রেপটোকক্কাস , স্টাফাইলোকক্কাস ইনফেকশন
  • হিম-ঠান্ডা পানিতে ভিজা
  • মূত্রথলিতে পাথরী হওয়া
  • মূত্র থলিতে অত্যধিক চাপ বা আঘাত লাগা
  • যে কোন যৌন ব্যাধির আক্রমণ

সিস্টাইটিস (Cystitis)  - লক্ষণ ও উপসর্গ 

  • তলপেটের সামনের দিকে ব্যাথা
  • তলপেটে চাপ অনুভব করা
  • সর্বদাই মূত্রবেগ কিন্তু মূত্র নিঃসরণে অতিব কষ্ট হয়
  • প্রস্রাব করার সময় ব্যথা বা কষ্ট হওয়া
  • চলাফেরা ও নড়াচড়া করলে বেদনার বৃদ্ধি হয়
  • ঘন ঘন প্রস্রাব করা বা প্রস্রাবের তীব্র ইচ্ছে জাগা
  • রাতের বেলা প্রস্রাবের ইচ্ছে জাগা
  • প্রস্রাব ঘোলাটে হওয়া
  • প্রস্রাব লাল বর্ণ, শ্লেষ্মা ও রক্ত মিশ্রিত
  • প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া
  • প্রস্রাবে দুর্গন্ধ হওয়া
  • জ্বর হতে পারে
  • গা বমি বমি, শীতল ঘাম, হিক্কা ও দূর্বলতা প্রকাশ পায়
  • মূত্র থলিটি ভারী বোধ হয়
  • মূত্র থলিতে খুব জ্বালা পোড়া হয়

সিস্টাইটিস(Cystitis) - চিকিৎসা

এই সমস্যার উন্নত চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। তবে এর জন্য অবশ্যই একজন এক্সপার্ট হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরী। 
বিস্তারিত

Wednesday, June 5, 2019

চিকুনগুনিয়া (Chikungunya) কারণ লক্ষণ প্রতিকার প্রতিরোধ

চিকুনগুনিয়া (Chikungunya) হচ্ছে মশাবাহিত ভাইরাসজনিত একটি রোগ। এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশের দুই থেকে চার দিনের মধ্যে আকস্মিক জ্বর শুরু হয় এবং এর সাথে অস্থিসন্ধিতে ব্যথা থাকে যা কয়েক সপ্তাহ, মাস বা বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এই ভাইরাসের সুপ্তিকাল এক থেকে বারো দিন তবে বেশিভাগ ক্ষেত্রে তা তিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত থাকে। অনেক সময় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও কোনো উপসর্গ প্রকাশ পায় না। সাধারণত ৭২-৯৭% ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা দেয়।
রোগটি সাধারণত আকস্মিক উচ্চমাত্রার জ্বর, জয়েন্টে ব্যথা ও ফুসকুড়ি নিয়ে শুরু হয়। ফুসকুড়ি রোগের শুরুতেই দেখা দিতে পারে তবে অনেক সময় রোগ শুরু হওয়ার দুই থেকে তিন দিন পর জ্বর কমতে শুরু করলে ফুসকুড়ির আবির্ভাব হয়। এছাড়া অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে রয়েছে মাথাব্যথা, ক্লান্তি, পেটব্যথা, ফটোফোবিয়া বা আলোর দিকে তাকাতে সমস্যা, কনজাংটিভাইটিস। বড়দের আর্থ্রাইটিস বা জয়েন্টে প্রদাহ হতে পারে। এই রোগের উপসর্গকে অনেক সময় ডেঙ্গু জ্বর এবং জিকা জ্বরের সাথে ভুল করে তুলনা করা হয়।

রোগের লক্ষণ সমূহ

  • রোগের শুরুতেই ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে রোগ শুরু হওয়ার দুই থেকে তিন দিন পর জ্বর কমতে শুরু করলে ফুসকুড়ির আবির্ভাব হতে পারে।অনিদ্রা হতে পারে।
  • গায়ে লাল লাল দানার মতো র‍্যাশ দেখা যেতে পারে।
  • কনজাংটিভাইটিস হতে পারে।
  •  চিকুনগুনিয়া জ্বরে অসহ্য মাথা ব্যথা হতে পারে। এই জ্বরে দীর্ঘসময় ধরে মাথা ব্যথার প্রভাব থাকতে পারে যা শারীরিকভাবে কষ্ট দেওয়ার পাশাপাশি ঘুমের ক্ষেত্রেও মারাত্মক ব্যঘাত ঘটায়।
  • এই জ্বর হলে শরীর অনেক দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারনে বার বার বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।
  • জ্বর এবং ব্যথায় কাতর হয়ে অনেকের মধ্যে অবসাদের প্রভাব দেখা যেতে পারে। ফলে কোন কাজেই মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না।
  •  অনেক ক্ষেত্রে চোখ লাল হয়ে যাওয়া বা চোখের মধ্যে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। আবার অনেক সময় চোখের ব্যথা এতটাই বেড়ে যায় যে আলোর দিকে তাকাতে সমস্যা হয় এবং চোখ জ্বালা করে।
  • সাধারণত বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে রোগের তীব্রতা অনেক বেশি হয় এবং উপসর্গগুলো বেশিদিন থাকে।
  • ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে জ্বর ভালো হয়ে গেলে কয়েকদিন দুর্বলতা বা ক্লান্তি লাগতে পারে কিন্তু সাধারণত এত দীর্ঘ সময় ধরে শরীর ব্যথা বা অন্য লক্ষণগুলো থাকে না।
  • আবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্তক্ষরণ হয়, যা অনেক সময় খুব ভয়াবহ হতে পারে। কিন্তু চিকুনগুনিয়া রোগে ডেঙ্গু জ্বরের মতো রক্তক্ষরণ হয় না এবং রক্তের প্লাটিলেট খুব বেশি হ্রাস পায় না।

রোগ নির্ণয়ে পরীক্ষা

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা বিশেষ করে ভাইরাস পৃথকীকরণ, RT-PCR কিংবা সেরোলজির মাধ্যমে এ রোগ শনাক্ত করা যেতে পারে। রোগীর রক্তে ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া এন্টিবডি দেখে এ রোগ সনাক্ত করা যেতে পারে। এতে অনেক ক্ষেত্রে ২ থেকে ১২ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

চিকিৎসা পদ্ধতি

চিকুনগুনিয়া ভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসা মূলত উপসর্গ ভিত্তিক। এর কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিশ্রাম নিতে হবে, প্রচুর পানি ও তরলজাতীয় খাবার খেতে হবে। এর রয়েছে উন্নত হোমিও চিকিৎসা। তবে এর জন্য এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন।

প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

চিকুনগুনিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকরী কোনো টিকা এখনও পর্যন্ত আবিস্কার হয়নি। এটি যেহেতু এডিস প্রজাতির মশাবাহিত রোগ, তাই মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করা যেতে পারে। যেমন- ঘুমানোর সময় মশারি টাঙিয়ে ঘুমানো, লম্বা হাতাযুক্ত জামা ও ট্রাউজার পরে থাকা, বাড়ির আশেপাশে জল জমতে না দেয়া ইত্যাদি। শুধু স্ত্রী জাতীয়  মশা দিনের বেলা কামড়ায়। আবার এরা একবারে একের অধিক ব্যক্তিকে কামড়াতে পছন্দ করে। তাই দিনে ঘুমালেও অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে। এ মশার ডিম জলে এক বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। বালতি, ফুলের টব, গাড়ির টায়ার প্রভৃতি স্থানে অল্প পরিমাণ জমে থাকা জলও ডিম পরিস্ফুটনের জন্য যথেষ্ট। যেহেতু এডিস মশা স্থির জলে ডিম পাড়ে তাই যেন বাড়ির আশেপাশে জল জমে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

ডেঙ্গুজ্বরে সাধারণত চারবার পর্যন্ত হতে পারে। অপরদিকে চিকুনগুনিয়া একবার হলে সাধারণত আর হয় না। এছাড়া অনেক বিষয়েই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের মধ্যে সাদৃশ্য আছে। এ রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশা প্রতিরোধ। এজন্য এডিস মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করা এবং মশা নির্মূল করার মাধ্যমে চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধ করা যেতে পারে। সাবধানতাই একমাত্র এই রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে। এ রোগে মৃত্যুঝুঁকি নেই বললেই চলে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা প্রাত্যহিক জীবনে অনেক সমস্যা সৃষ্টি করে। তবে রোগী যদি হোমিও চিকিৎসার আওতায় চলে আসে তাহলে এই সকল জটিলতা থেকে রেহাই পেতে পারে।
বিস্তারিত

Sunday, June 2, 2019

লিভার ক্যান্সার (Liver Cancer) কারণ লক্ষণ প্রতিকার প্রতিরোধ

লিভার ক্যান্সার (Liver Cancer) যাকে হেপাটিক ক্যান্সার (Hepatic Cancer),  প্রাইমারি হেপাটিক ক্যান্সার (Primary Hepatic Cancer) এবং বাংলায় যকৃতের ক্যান্সার বলে। লিভার ক্যান্সারের উৎপত্তি মূলত লিভারেই হয়ে থাকে। যখন অন্য অঙ্গ থেকে ক্যান্সার কোষ লিভারে ছড়ায় তখন তাকে লিভার মেটাস্টাসিস বলে। অর্থাৎ  লিভার ক্যান্সার দুই ধরনের একটি হলো প্রাথমিক লিভার ক্যান্সার - যার উৎপত্তি লিভার থেকে। অপরটি হলো সেকেন্ডারি লিভার ক্যান্সার - যার উৎপত্তি ফুসফুস, স্তন, পাকস্থলী, অন্ত্র এবং জরায়ু থেকে।
লিভার ক্যান্সারের প্রধান কারণ হলো হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি অথবা অ্যালকোহলের কারণে লিভার সিরোসিস হওয়া। অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে আফলাটক্সিন, নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ, ও লিভার ফ্লুকস। প্রধান দুটি টাইপ হলো হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা যা ৮০% ক্ষেত্রে হয় এবং কোলানজিওকার্সিনোমা। অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ টাইপ হলো মিউসিনাস সিস্টিক নিওপ্লাজম ও ইন্ট্রাডাক্টাল প্যাপিলারি নিওপ্লাজম রক্তপরীক্ষা ও মেডিকেল ইমেজিং এর মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা যায় তবে টিস্যু বায়োপসি করে নিশ্চিত হওয়া যায়।

যে কোন বয়সের লোকই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। লিভার ক্যান্সারের ঝুকি পুরুষদের ক্ষেত্রে মহিলাদের চেয়ে ৪ থেকে ৬ গুণ বেশী। সাধারণতঃ ক্যান্সার হওয়ার আগে লিভারে সিরোসিস দেখা দেয়, তবে এর ব্যতিক্রম হওয়াটাও অস্বাভাবিক না। লিভার ক্যান্সারের রোগীরা প্রায়ই পেটের ডান পাশে উপরের দিকে অথবা বুকের ঠিক নীচে মাঝ বরাবর ব্যথা অনুভব করেন যার তীব্রতা রোগী ভেদে বিভিন্ন রকম। সহজেই ক্লান্ত হয়ে পরা, পেট ফাপা, ওজন কমে যাওয়া আর হালকা জ্বর জ্বর ভাব এ রোগের অন্যতম লক্ষণ। 
লিভার ক্যান্সার রোগীদের প্রায়ই জন্ডিস থাকে না, আর থাকলেও তা খুবই অল্প। রোগীদের খাওয়ায় অরুচি, অতিরিক্ত গ্যাস কিংবা কষা পায়খানার উপসর্গ থাকতে পারে- আবার কখনো দেখা দেয় ডায়রিয়া। পেটে পানি থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে। অন্য ক্যান্সারের মতোই লিভার ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোন লক্ষণ প্রকাশ পায়না। ক্যান্সার কোষ ক্রমশ বড় হতে থাকলে বা শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়।

লিভার ক্যান্সার (Liver Cancer) প্রতিরোধমূলক উপায় হিসেবে হেপাটাইটিস বি এর টিকা নিতে হয় এবং হেপাটাইটিস বি ও সি তে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা নিতে হয়। ক্রনিক লিভার ডিজিজের রোগীর নিয়মিত ক্যান্সার স্ক্রিনিং করাহয়ে থাকে প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় । এলোপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে সার্জারি, টার্গেটেড থেরাপি, রেডিওথেরাপি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অ্যাবলেশন থেরাপি, এমবোলাইজেশন থেরাপি বা লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন থেরাপি ব্যবহার করা হয়।

তবে লিভার ক্যান্সার (Liver Cancer) রোগের পার্শপ্রতিক্রিয়াহীন উন্নত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা রয়েছে। যথাসময়ে চিকিৎসা শুরু করলে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ভালো রেজাল্ট চলে আসে। তবে এর জন্য অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরী। 
বিস্তারিত