Dr. Imran ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান ➤ ডিএইচএমএস (বিএইচএমসি এন্ড হসপিটাল), ডিএমএস; ঢাকা
➤ রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক(রেজিঃ নং-৩৩৪৪২)
➤ বিশেষত্বঃ পরিপাকতন্ত্র, মূত্রতন্ত্র, বক্ষব্যাধি, স্ত্রীরোগ (হোমিও মেডিসিন)
➤ আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, ডেমরা, ঢাকা।
➤ ফোন : +৮৮ ০১৬৭১-৭৬০৮৭৪ এবং ০১৯৭৭-৬০২০০৪
➤ সাক্ষাৎ : সকাল ১১ টা থেকে বিকাল ৪ টা (শুক্রবার বন্ধ)
➤ শুধু এপয়েন্টমেন্টের জন্য ফোনে যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ
➤ প্রোফাইল ➤ ফেইসবুক ➤ ইউটিউব

জন্মগত ত্রুটি

শিশুর জন্মগত ত্রুটি এবং মারাত্মক রোগ ব্যাধির কার্যকর চিকিৎসা

প্যানক্রিয়াটাইটিস

অ্যাকিউট ও ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিস এর কার্যকর চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি

ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস নির্মূলের ম্যাজিক থেরাপি এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

ভেরিকোসিল

ভেরিকোসিলের অপারেশনবিহীন স্থায়ী চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি

আইবিএস

পেটের পীড়া আইবিএস নির্মূলের স্থায়ী চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি

মলদ্বারের রোগ

পাইলস, এনাল ফিশার এবং ফিস্টুলা সমস্যায় হোমিওপ্যাথি

গ্যাংরিন

গ্যাংরিন বা পচনশীল ক্ষত নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

কিডনি ও মূত্রনালী

কিডনি এবং মূত্রনালীর রোগের চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি।

নারী স্বাস্থ্য স্ত্রীরোগ
নারীদের অর্থাৎ স্ত্রীরোগ সম্পর্কিত বিষয়াবলী
মা ও শিশু স্বাস্থ্য
মা ও শিশু স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়াবলী
পুরুষদের স্বাস্থ্য
পুরুষদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়াবলী
রোগ-ব্যাধি অসুখবিসুখ
নানা প্রকার রোগ-ব্যাধি সম্পর্কিত বিষয়াবলী
স্বাস্থ্য বিষয়ক টিপস
স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যাবতীয় টিপস ও ট্রিকস

সাম্প্রতিক আপডেট

মঙ্গলবার, ৩১ আগস্ট, ২০২১

মানুষকে বোকা বানিয়ে যেভাবে ব্যবসা করছে - মেডিক্যাল মাফিয়ারা

ডায়াগনসিস বা মেডিক্যাল টেস্টের ফাঁদে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা!

ধরা যাক, দু'দিনেও জ্বর ভালো না হওয়ায় আপনি ডাক্তারের কাছে গেলেন। ডাক্তার সাহেব আপনাকে শুরুতেই তিনটি পরীক্ষা (টেস্ট) দেবেন। টেস্ট রিপোর্ট-এ জ্বরের কারণ খুঁজে পাওয়া না গেলেও কোলেস্টেরল আর ব্লাড সুগার লেভেল একটু বেশি পাওয়া যাবে! এখন আপনি আর জ্বরের রোগী নন, ডাক্তারের কথায় আপনিও বিশ্বাস করবেন- আপনার কোলেস্টেরল বেশি আর প্যারা-ডায়াবেটিস হয়ে আছে। আপনাকে এখন থেকে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের ওষুধ খেতে হবে, সঙ্গে অনেকগুলো খাবারে নিষেধাজ্ঞা। আপনি খাবারের নিষেধাজ্ঞা ঠিকঠাক না মানলেও ওষুধ খেতে ভুল করবেন না।

এভাবে তিন মাস যাওয়ার পর আবার টেস্ট। এবারে দেখা যাবে কোলেস্টেরল-এর মাত্রা কিছুটা কমেছে, কিন্তু রক্তচাপ বেড়ে গেছে- যেটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে আরেকটি ওষুধ লাগবে। এদিকে কখন কী হয়ে যায়; এখনো তো কোনোকিছুই গোছানো হয়নি- এমন দুশ্চিন্তায় আপনার রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। ফলে ডাক্তারের পরামর্শে অথবা নিজের বুদ্ধিতে ঘুমের ওষুধ খাওয়া শুরু করে দেবেন! ওদিকে একসঙ্গে এতোগুলো ওষুধ খাওয়ামাত্রই বুক জ্বালাপোড়া করে বিধায় প্রতিবেলা খাওয়ার আগে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে নিতে হবে। মাঝে মধ্যে সোডিয়াম কমে যায়, সেজন্যও আছে সাপ্লিমেন্ট!
মানুষকে বোকা বানিয়ে যেভাবে ব্যবসা করছে - মেডিক্যাল মাফিয়ারা
এভাবে বছর খানেক যাওয়ার পর আপনি বুকে ব্যাথা অনুভব করায় হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে ছুটে গেলেন। ডাক্তার সবকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলবেন, সময়মতো আসায় এই যাত্রায় বেঁচে গেলেন, আরেকটু দেরি করলেই সর্বনাশ হয়ে যেত! তারপর আরো কিছু বিশেষায়িত পরীক্ষা করে বলা হবে, আপনি যে ওষুধগুলো খাচ্ছেন, ওভাবেই চলবে, সঙ্গে হার্ট-এর জন্য আরো দু’টো ওষুধ খেতে হবে আর অবিলম্বে একজন হরমোন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দেখা করুন। সেখানে যাওয়ার পরে যোগ হবে ডায়াবেটিস-এর ওষুধ! এভাবে আরো ছয় মাস চলার পর প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দেবে। রুটিন চেক-আপ করতে গিয়ে জানতে পারবেন- আপনার কিডনিতে সামান্য সমস্যা আছে; ক্রিটিনিন একটু বেশি, নিয়মিত ওষুধ খেলে আর কোনো চিন্তা নেই। ফলে মোট ওষুধের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো দশ-এ।
 
আপনি এখন খাবারের চেয়ে ওষুধ বেশি খান আর নানারকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় খুব দ্রুত মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছেন! অথচ যে জ্বরের জন্য আপনি সর্বপ্রথম ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন, তিনি যদি বলতেন, তেল আর চিনি খাওয়া বাদ দিন, পর্যাপ্ত জল পান করুন, কার্বোহাইড্রেড কমিয়ে টাটকা শাকসবজি ও ফলমূল বেশি করে খান আর ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে হাঁটাহাটি করুন. তাহলেই আপনার শরীর ফিট হয়ে যেত। কোনোপ্রকার ওষুধের প্রয়োজনই হতো না। কিন্তু সেটা করলে ডাক্তার সাহেব আর ওষুধ কোম্পানিগুলোর পেট ভরবে কিভাবে?!? তারচেয়েও বড় প্রশ্ন হলো- কিসের ভিত্তিতে ডাক্তারগণ আপনাকে কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি বিকল আর হৃদরোগী ঘোষণা করছেন, কী সেই মানদন্ড- যা কিনা বিনা চ্যালেঞ্জ-এ সমগ্র বিশ্বব্যাপী ব্যাপক চর্চিত হয়ে আসছে আর সেটি নির্ধারণ করলেন কে বা কারা??? প্রথমেই ডায়াবেটিস

মানুষকে যেভাবে কৌশলে ডায়াবেটিস রোগী বানানো হচ্ছে !

১৯৭৯ সালে রক্তে শর্করার মাত্রা 200ml/dl দেখালে ডায়াবেটিস হিসেবে গণ্য করা হতো। সেই হিসেবে তখন সমগ্র পৃথিবীর মাত্র ৩.৫% মানুষ টাইপ-২ ডায়াবেটিস-এ আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়। তারপর ১৯৯৭ সালে ইনসুলিন প্রস্তুতকারকদের চাপে সেই মাত্রা এক লাফে কমিয়ে 126ml/dl করা হয়। ফলে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ৩.৫% থেকে এক লাফে বেড়ে ৮% হয়ে যায় অর্থাৎ রোগের কোনোরূপ বহিঃপ্রকাশ ছাড়াই স্রেফ ব্যবসায়িক স্বার্থে ৪.৫% মানুষকে রোগী বানিয়ে ফেলা হলো! ১৯৯৯ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই মানদন্ডে সায় দেয়। ওদিকে ফুলে-ফেঁপে ওঠা ইনসুলিন প্রস্তুতকারকেরা অঢেল মুনাফা বিনিয়োগ করে সারাবিশ্বে নিত্য-নতুন প্ল্যান্ট বসাতে থাকে। তাদের চাপে নতি স্বীকার করে American Diabetes Association (ADA) ২০০৩ সালে রক্তে শর্করার মাত্রা 100ml/dl-কে ডায়াবেটিস রোগের মানদন্ড হিসেবে গণ্য করার ঘোষণা দেয়। ফলে কোনো কারণ ছাড়াই ২৭% মানুষ ডায়াবেটিস রোগী হয়ে যায়!
 
বর্তমানে American Diabetes Association (ADA) কর্তৃক ঘোষিত মানদন্ড >140mg/dl (P.P) or >100mg/dl (Fasting) or >HbA1C>5.6% হিসেবে বিশ্বের ৫০.১% মানুষকে কৌশলে ডায়াবেটিস রোগী বানিয়ে ফেলা হয়েছে! এদের অধিকাংশ ডায়াবেটিস রোগী না হওয়া সত্ত্বেও নিয়মিত ওষুধ খেয়ে নানাবিধ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে মারা যাচ্ছেন। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, টেস্ট করালেই যে কোনো মানুষ প্রি-ডায়াবেটিস রোগী হিসেবে গণ্য হবেন! প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯৫৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক কনভেনশনে সিদ্ধান্ত হয় যে, প্রচলিত ওষুধ দিয়ে ৪৮টি রোগের চিরস্থায়ী নিরাময় সম্ভব নয়; সেই তালিকায় ডায়াবেটিসও রয়েছে।
 
কিন্তু আমাদের দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো ডায়াবেটিস-এর মানদন্ড হিসেবে রক্তে শর্করার মাত্রা ৬.৫%-৭% থেকে ৫.৫%-এ নামিয়ে আনার জন্য তাদের এজেন্ট/প্রতিনিধিদের দ্বারা অবিরাম ডাক্তারদের মগজ ধোলাই করে চলেছেন এবং অনেকাংশে সফলও হয়েছেন। পরিণামে আর কিছু হোক বা না হোক দেশে ডায়াবেটিসের ওষুধ বিক্রিতে মাত্রাতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি সুনিশ্চিত হয়েছে। যদিও অনেক প্রাকৃতিক চিকিৎসক মনে করেন- রক্তে শর্করার মাত্রা সর্বোচ্চ ১১% পর্যন্ত ডায়াবেটিস হিসেবে গণ্য করা যায় না। প্রসঙ্গক্রমে আরেকটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করা যেতে পারে।
 
২০১২ সালে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট বিশ্ববিখ্যাত এক ওষুধ কোম্পানিকে তিন বিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছিল। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তারা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য যে ওষুধ বাজারজাত করছে, তা খেয়ে ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রোগীর মৃত্যুহার ৪৩% বেড়ে গেছে! পরে জানা যায়, ওই কোম্পানির কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই ব্যাপারটি জানত এবং তাদের ট্রায়াল থেকেও একই রিপোর্ট এসেছিল। কিন্তু তারা সেদিকে দৃষ্টিপাত না করে মুনাফা অর্জনকে প্রাধান্য দিয়েছিল, মানুষের প্রাণের কোনো মূল্য তাদের বিবেচনায় ছিল না। ফলে ওই সময়ে তারা প্রায় ৩০০ বিলিয়ন মুনাফা করে।
বিস্তারিত

শুক্রবার, ৬ আগস্ট, ২০২১

ঔষধ ছাড়াই কোভিড ১৯ এর প্রাকৃতিক চিকিৎসা ! COVID-19 কিউর ডাইট

ঔষধ ছাড়াই COVID-19 বা করোনা রোগীর প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে ব্যাপক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে যা রাসায়নিক বা এলোপ্যাথিক ঔষধের তুলনায় দুর্দান্ত কার্যকর এবং সহজ। কোভিড ১৯ সমস্যায় দক্ষ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিলে খুব দ্রুত ফলাফল পাবেন এবং পোস্ট কোভিড সিনড্রোমে আক্রান্ত হওয়ারও কোন ঝুঁকি নেই। কিন্তু আপনি কোথাও যেতে পারছেন না সেই মুহূর্তে অথবা জ্বর, কাশি, সর্দি, ব্যথা বা কোভিড ১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার প্রথম থেকেই ঘরে বসে নাচারোপ্যাথির এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। ম্যাজিকের মতো রেজাল্ট পাবেন ইনশা-আল্লাহ। 

COVID-19 কিউর ডাইট

ভাইরাস, জ্বর, কাশি, সর্দি, ব্যথা বা কোভিড১৯ রোগী প্রতিদিন ২০ মিনিট রোদের তাপ নিন আর নিচের থেরাপি অনুসরণ করুন -

জ্বর ১০০ এর নীচে রাখবে

  • ৬ পিস কালো গোল মরিচ, ৬ পিস তুলশি পাতা, কাচা হলুদ হাফ ইঞ্চি, লং ৪ পিস, আদা ১ চামচ, সব একসাথে মিশিয়ে পেস্ট করে। সকালে-দুপুরে-রাতে খাবার আগে খাবেন। এটা এক বেলার/দিনের জন্য দেয়া হল।
  • গরম পানি খাবেন ও গড়গড়া করে কুলি করুন দিনে ৪ বার।
  • যা যা খেতে হবে: ফল ভিটামিন সি- মাল্টা, কমলা, আনারস, আমলকি, ডাব, আনার।

প্রথম  দিন যা যা খেতে হবে 

  • তরল বা জুস খাবার।
  • যদি আপনার ওজন ৭০ কেজি হয় তাহলে ৭০ ÷ ১০ = ৭ গ্লাস। এর মানে হচ্ছে, সারাদিনে ৭ গ্লাস মাল্টা/কমলা/আনারস ফলের জুস + ৭ গ্লাস ডাবের পানি বা আনার ফলের জুস। 

দ্বিতীয় দিন যা যা খেতে হবে

  • তরল খাবার।
  • যদি আপনার ওজন ৭০ কেজি হয় তাহলে ৭০ ÷ ২০ = ৩.৫ গ্লাস। এর মানে হচ্ছে, সারাদিনে ৩.৫ গ্লাস মাল্টা/কমলা/আনারস ফলের জুস + ৩.৫ গ্লাস ডাবের পানি বা আনার ফলের জুস। 
  • সেইসাথে টমেটো + শসার সালাদ খেতে হবে। ওজন যদি হয় ৭০ কেজি তাহলে ৭০✕৫=৩৫০ গ্রাম খেতে হবে দুপুরে ও রাতে।

তৃতীয় দিন যা যা খেতে হবে 

  • সলিড খাবার।
  • যদি আপনার ওজন ৭০ কেজি হয় তাহলে ৭০ ÷ ৩০=২.৫ গ্লাস। এর মানে হচ্ছে, সারাদিনে ২.৫ গ্লাস মাল্টা/কমলা/আনারস ফলের জুস + ২.৫ গ্লাস ডাবের পানি বা আনার ফলের জুস।
  • সেইসাথে টমেটো + শসার সালাদ খেতে হবে। ওজন যদি হয় ৭০ কেজি তাহলে ৭০✕৫=৩৫০ গ্রাম খেতে হবে দুপুরে ও রাতে।
  • রাতে রান্না করা খিচুরি খেতে দিন।
  • গরম পানির ভাব নিন। ২ গ্লাস গরম পানিতে ১ চামচ কালিজিরার তেল, ৪ পিস লং এর গুড়া, ২ চিমটি হলুদ গুড়া, হাফ লেবু দিন। পানি গরম হলে ভাব নিন ৫ মিনিট। দিনে ৩ বার।

ফুসফুসে পানি জমা হলে কি করবেন?

  • নিউমোনিয়া বা ফুসফুসের ইনফেকসন বা শ্বাসকষ্ট থেকে বাচতে হলে, প্রতিদিন ১ চামুচ কাচা হলুদ, ১ গ্লাস গরম পানিতে ফুটাতে হবে,ফুটানো পানি অর্ধেক হয়ে আসলে, ঠান্ডা করে পান করুন। দিনে ৩ বার পান করেন, খাবারের ৩০ মিনিট আগে।
  • কফ জমে গেলে বুকে ৫ চামচ পেয়াজের রস খালি পেটে খেতে দিন।

মালিশ থেরাপি

  • বুকে ও পিঠে ৫ চামচ সরিষার, ৫ চামচ রসুন বাটা, ৫ মিনিট চুলায় গরম করুন, এরপর তেল এ মিশিয়ে এক চিমটি কর্পূর মিশিয়ে মালিশ করুন। দিনে দুইবার।
বিঃদ্রঃ আগে থেকেই দুরারোগ্য কোন রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে বা যেকোন জটিল পরিস্থিতিতে রেজিস্টার্ড এবং দক্ষ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন প্রয়োজন বোধে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ

যা যা জেনেছেন 

করোনার ঘরোয়া চিকিৎসা
বিস্তারিত

শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১

সোরিক, সিফিলিটিক, সাইকোটিক এবং টিউবারকুলার মায়াজমের প্রধান কিছু বৈশিষ্ট্য

সোরিক, সিফিলিটিক, সাইকোটিক এবং টিউবারকুলার মায়াজম এর প্রধান কিছু বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোকপাত করা হবে এই পর্বে। ইতিপূর্বে আপনারা মানব দেহের প্রকৃত রোগগুলি সম্পর্কে জেনেছেন যেগুলি আমরা বংশানুক্রমিক ভাবে পেয়ে থাকি। সকল মায়াজমই হলো প্রকৃত রোগ। সেগুলির মধ্যে কিছু প্রকৃত রোগের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আসুন জেনে নিই- 
মায়াজম
 ক্রিয়াস্থল
  • সোরিক- সোরার ক্রিয়া চিন্তা ধারার উপর
  • সিফিলিটিক- সিফিলিসের ক্রিয়া যকৃতের উপর
  • সাইকোটিক- সাইকোসিসের ক্রিয়া অন্ত্র ও সন্ধি পথে
  • টিউবারকুলার- টিউবারকুলোসিসের ক্রিয়া ফুসফুস, সেরাস মেমব্রেন, গ্রন্থি, অন্ত্র, হাড়
প্রকাশ
  • সোরিক- চুলকানি বা খোসপাঁচড়া দেখা দেয়। মনোকন্ডুয়ন হতে চর্মকন্ডুনের সৃষ্টি। চর্মপীড়া চাপা পড়ে সর্দি। শুষ্ক ও রস শূন্য উদ্ভেদ।
  • সিফিলিটিক- জননেন্দ্রিয়ে ক্ষতের সৃষ্টি প্রাথমিক লক্ষণ। বাগি, তাম্র বর্ণের উদ্ভেদ।
  • সাইকোটিক- দূষিত সহবাসের পর জননেন্দ্রিয়ে আঁচিল। প্রমেহ বা প্রস্রাবের কষ্ট।
  • টিউবারকুলার- জরায়ুর গঠন বিকৃত। নিদ্রিত হওয়ার পর শয্যায় মূত্রত্যাগ, মূত্রে এলবুমেন, নিদ্রাঘোরে বিনাস্বপ্নে বীর্যপাত। প্রস্রাবদ্বার দিয়া রক্তস্রাব।
যে যে রোগে আক্রান্ত হয় 
  • সোরিক- উদরাময়, পেটফাঁপা, অজীর্ণ, চুলকানিযুক্ত চর্মরোগ, চক্ষু ও নাসিকা হতে জ্বালাকর স্রাব নিঃসরণ। প্রদাহ ও জ্বালাযুক্ত স্বরভঙ্গ, যে কোন অঙ্গে জ্বালাযুক্ত প্রদাহ। নানা যন্ত্রের শুধু কার্যগত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করাই সোরার কাজ।
  • সিফিলিটিক- পচনশীল যে কোন রোগ, দুর্গন্ধ পুঁজ ও রস নিঃসরণকারী চর্মপীড়া, দুর্গন্ধযুক্ত ঋতুস্্রাব ও প্রদরস্রাব। কর্ণ, নাসিকা ইত্যাদিতে ক্ষত ও দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব। প্রস্রাব যন্ত্রের ক্ষত, গলক্ষত। মেরুমজ্জার ক্ষত, অস্থিক্ষয়, মুখে ক্ষত ও দুর্গন্ধ লালাস্রাব। পচন, উদরে ক্ষত, অন্ধত্ব, বধিরতা, উন্মাদ ইত্যাদি।
  • সাইকোটিক- দেহের সকল ছিদ্র পথে যন্ত্রণাদায়ক স্রাব, স্রাব সংক্রান্ত বিশৃঙ্খলা ও ব্যথা, যন্ত্রণাদায়ক স্বরভঙ্গ, কাশি, শুষ্ক জাতীয় হাঁপানি, হুপিং কাশি, হৃদপিন্ডের যন্ত্রণা ও স্নায়বিক দুর্বলতা। মস্তিষ্ক আবরক ঝিল্লি প্রদাহ, বাত, স্নায়ুশূল, উদরশূল, গর্ভস্রাব, যন্ত্রণাদায়ক ঋতুস্রাব, অর্শ-ভগন্দর, বসন্ত, আঁচিল, টিউমার হওয়ার প্রবণতা, বন্ধ্যাত্ব, ক্যান্সার, অন্ডকোষ প্রদাহ ইত্যাদি।
  • টিউবারকুলার- শুষ্ক জাতীয় দাদ, একজিমা, উন্মাদ, কৃমি, ম্যালেরিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা, যন্ত্রণাবিহীন স্বরভঙ্গ, অন্ধত্ব। দৈহিক শুষ্কতা। মেরুমজ্জার ক্ষয়, কার্বাংকল জাতীয় ফোড়া, শিশুদের বিছানায় প্রস্রাব করা, গলা ও স্তনের মধ্যে স্থায়ীভাবে গ্রন্থিস্ফীতি, শয্যাক্ষত, পাকস্থলী ও অন্ত্রের ক্ষত, উন্মাদ, মাথাব্যথা, কোমর ব্যথা, সর্দি কাশি, টনসিল ও গলদেশের গ্রন্থি স্ফীতি ইত্যাদি।
আকৃতি
  • সোরিক- কার্যগত পরিবর্তন
  • সিফিলিটিক- ক্ষত সৃষ্টি, ধ্বংস ও পরিবর্তন হয়
  • সাইকোটিক- অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। স্থানিক পরিবর্তন
  • টিউবারকুলার- ধ্বংসাত্মক ও কার্যগত পরিবর্তন
গোসল
  • সোরিক- গোসল করতে চায় না
  • সিফিলিটিক- সামান্য গরম পানি দিয়ে গোসল করে
  • সাইকোটিক- গোসল করতে ভালবাসে
  • টিউবারকুলার- গোসল করতে চায় কিন্তু গোসলে বৃদ্ধি হয়
ক্ষুধা
  • সোরিক- পেট ভর্তি থাকা সত্তে¡ও বার বার খাবার ইচ্ছা। খাওয়া সত্তে¡ও পেট খালি খালি মনে হয়।
  • সিফিলিটিক- খিদে কম বা বেশি কোনটাই সুস্পষ্ট নয়
  • সাইকোটিক- ক্ষুধামন্দা।
  • টিউবারকুলার- বেশ ক্ষুধা বা রাক্ষুসে ক্ষুধা।
পছন্দনীয় খাবার
  • সোরিক- গরম খাদ্য পছন্দ, দুধসহ্য হয় না
  • সিফিলিটিক- ঠান্ডা খাদ্য পছন্দ, দুধ ও মাখন ভালোবাসে
  • সাইকোটিক- অল্প গরম খাদ্য পছন্দ, মশলাযুক্ত খাদ্য বা মাখন সহ্য হয় না
  • টিউবারকুলার- গরম ও শীতল খাদ্য পছন্দ করে, ঠান্ডা দুধ পছন্দ করে
খাদ্য-ইচ্ছা
  • সোরিক- মিষ্টি, টক, মাংস, তরল খাবার, শাক-সবজি, বেশি মশলাযুক্ত, ঘি, মাখনযুক্ত
  • সিফিলিটিক- দুধ, মিষ্টি, রুটি, তরল খাবার, মাংস, লবণ, কফি, ঠান্ডা খাবার
  • সাইকোটিক- লবণ, লবণাক্ত খাদ্যে, ঠান্ডা খাবার, টক, ফল,
  • টিউবারকুলার- দুধ, মিষ্টি, লবণ, চর্বি, ঝাল জিনিস, ফল, ঠান্ডা খাবার, আলু, উত্তেজক দ্রব্যাদি, মাখন, মদ্য
খাদ্য-অনিচ্ছা
  • সোরিক- সিদ্ধ খাদ্য, মাংস, ডিম, দুধ, টক, মিষ্টি, চর্বি, কফি, ফল, রুটি
  • সিফিলিটিক- দুধ, মিষ্টি, রুটি, মাংস, লবণ, কফি, গরমখাবার, চর্বি
  • সাইকোটিক- মাংস, চ, আলু মশলাযুক্ত খাদ্য ও মাখন
  • টিউবারকুলার- মাংস,দুধ, ডিম, টক, কফি ও শাক-সবজি
খাদ্য-অসহ্য
  • সোরিক- দুধ, রুটি, ঠান্ডা পানীয়, চর্বি, গোল আলু, টক, মিষ্টি।
  • সিফিলিটিক- রুটি, কফি, ঠান্ডা খাবার, মিষ্টি, চর্বি, মাংস।
  • সাইকোটিক- কফি, পেঁয়াজ, চর্বি, চা, মাখন, ঠান্ডা পানীয়, মসলাদার খাদ্য, মিষ্টি।
  • টিউবারকুলার- গোলআলু ও শাক-সবজি সহ্য হয় না।
ক্ষমা
  • সোরিক- সহজেই ক্ষমা করতে পারে
  • সিফিলিটিক- ক্ষমা চাইলেও ক্ষমা করতে পারে না
  • সাইকোটিক- ক্ষমা করতে ইতস্ততবোধ করে ও শর্তারোপ করে
  • টিউবারকুলার- ক্ষমা করে
বৃদ্ধি
  • সোরিক- দিন বা রাত যে কোন সময় বাড়ে।
  • সিফিলিটিক- সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত বাড়ে।
  • সাইকোটিক- পূর্বাহ্ণে বা অপরাহ্ণে অর্থাৎ বেলা ৩টা বা রাত ৩টায় বাড়ে।
  • টিউবারকুলার- বর্ষাকালে ও ঝড় বৃষ্টির দিনে, রাত্রিকালে, অন্ধকারে বাড়ে।
কান্না
  • সোরিক- ক্ষণে হাসি, ক্ষণে কান্না
  • সিফিলিটিক- সর্বদা ঘ্যান ঘ্যানে কান্না বা নিশ্চুপ পড়ে থাকে
  • সাইকোটিক- ঘ্যান ঘ্যানে স্বভাব
  • টিউবারকুলার- শিশু নিদ্রাকালে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে
স্মৃতি-শক্তি
  • সোরিক- স্মৃতিশক্তি প্রখর
  • সিফিলিটিক- স্মরণশক্তি ভীষণ দুর্বল
  • সাইকোটিক- স্মরণশক্তির অভাব
  • টিউবারকুলার- স্মৃতিশক্তি কমে আসে
নখ
  • সোরিক- নখের কোন উল্লেখযোগ্য লক্ষণ নেই। তবে নখে ময়লা থাকে।
  • সিফিলিটিক- নখ কাগজের মতো পাতলা, সহজেই ভেঙ্গে যায়।
  • সাইকোটিক- নখ অসম, ফাঁটা ও বিবর্ণ। নখকুনি সুচ ফোঁটা ব্যথা, অঙ্গুলহাড়া
  • টিউবারকুলার- নখভঙ্গুর, ফাঁটা ও কোকড়ান, নখের বিভিন্ন স্থানে সাদা সাদা দাগ।
চর্ম
  • সোরিক- ত্বক অপরিচ্ছন্ন, শুষ্ক, খসখসে, উদ্ভেদপূর্ণ বা উদ্ভেদশূন্য, জ্বালা। মাছের আঁশের মত উদ্ভেদ এবং বার বার চর্মরোগ প্রবণতা। চুলকানি।
  • সিফিলিটিক- ত্বকের যাবতীয় ক্ষত। ফোঁড়া ইত্যাদি ঘা সহজে সারে না। গ্রন্থিবৃদ্ধি ও প্রদাহযুক্ত। তাম্র বর্ণের যাবতীয় চর্মপীড়া। ক্ষতপ্রবণতা।
  • সাইকোটিক- বিসর্পজাতীয় চর্মপীড়া। আঁচিল, টিউমার।
  • টিউবারকুলার- চর্ম তৈলাক্ত, কাল দাগ পরে, গø্যান্ডের বৃদ্ধি, দাদ। মশা, মাছি বা ছাড়পোকার কামড়ে স্থানটি পেকে ওঠে। পুঁজযুক্ত উদ্ভেদ।
পার্শ্ব
  • সোরিক- শরীরের যে কোন দিকে আক্রমণ করে।
  • সিফিলিটিক- ডানদিকে আক্রমণ করে।
  • সাইকোটিক- বামদিকে আক্রমণ করে।
  • টিউবারকুলার- সর্বত্র আক্রমণ করে।
হিসাব
  • সোরিক- হিসাব করার সময় খেয়াল করে না ঠিক হলো কি ভুল হলো। আলস্যে ও দ্রুত শেষ করার প্রচেষ্টা।
  • সিফিলিটিক- চিন্তাশক্তির অক্ষমতার জন্য হিসাব-নিকাশে অক্ষম।
  • সাইকোটিক- বারবার মিলিয়ে দেখে ভুল হলো কিনা।
  • টিউবারকুলার- মাঝে মাঝে খুবই ভাল হিসাব করে আবার কখনও চিন্তাশক্তির অক্ষমতার জন্য হিসাব-নিকাশে অক্ষমতা দেখায়।
জননযন্ত্র:
  • সোরিক- স্বপ্নদোষ। জননযন্ত্রের দুর্বলতা।
  • সিফিলিটিক- লিঙ্গমুন্ডে শক্ত বা নরম ক্ষত। সঙ্গমে অক্ষমতা।
  • সাইকোটিক- জননযন্ত্রের আঁচিল, দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব, গনোরিয়া, আকারগত পরিবর্তন।
  • টিউবারকুলার- অবৈধ উপায়ে শুক্রক্ষয়ের প্রবণতা, প্রস্রাব করার সময় ক্ষয়।
মন
  • সোরিক- মন চঞ্চল ও পরিবর্তনশীল। সহজেই হাঁসে, কাঁদে, উত্তেজিত ও অবসন্ন হয় কখনও কামভাব আবার পরক্ষণেই বৈরাগ্য।
  • সিফিলিটিক- মুর্খতা, অজ্ঞতা, বোকামি, একগুয়েমি ও নৈরাশ্য। সব সময় তিক্ততা, অতৃপ্তি। বুদ্ধির খর্বতা।
  • সাইকোটিক- সন্ধিগ্ধমনা, সঙ্কোচপরায়ণ। গোপনপ্রিয়, মিথ্যাবাদী, আত্মবিশ্বাস বা অপরের প্রতি বিশ্বাসের অভাব। সন্দেহবশে রাতে উঠে দরজার খিল পরীক্ষা করে।
  • টিউবারকুলার- নিত্যনতুন অভিরুচি, যেন কিছুতেই শান্তি নাই, নিত্যনতুন আকাক্সক্ষা, অত্যন্ত ক্রোধপরায়ণ, বিষন্নতা।
ভয়
  • সোরিক- নানা ভয় উৎকণ্ঠা আশঙ্কা ও হতাশা। রোগাক্রান্ত হলে মৃত্যু ভয়।
  • সিফিলিটিক- কুকুরের।
  • সাইকোটিক- অন্ধকারের।
  • টিউবারকুলার- ভয় বিশেষত কুকুর বা অন্য জন্তুর।
 আত্মহত্যার ইচ্ছা
  • সোরিক- রোগমুক্তি সম্বন্ধে আশাহীন।
  • সিফিলিটিক- আত্মবিতৃষ্ণায় আত্মহত্যার ইচ্ছা। খুন করতেও দ্বিধা করে না।
  • সাইকোটিক- অনুতাপে আত্মহত্যার ইচ্ছা।
  • টিউবারকুলার- আশাপূর্ণ ও নির্ভীক বা গর্বিত।
দেখতে কেমন
  • সোরিক- মুখমন্ডলের বিবর্ণতা ও চক্ষুদ্বয়ের উজ্জ্বলতার অভাব, মুখমন্ডলের লাবণ্যহীনতা
  • সিফিলিটিক- বিকলাঙ্গ, আবার অনেকের দেহ শুকিয়ে যায়।
  • সাইকোটিক- রক্তস্বল্পতার কারণে মুখমন্ডল মলিন ও ফ্যাকাসে দেখায়।
  • টিউবারকুলার- যথেষ্ট খাবার গ্রহণের পরেও কোন কারণ ছাড়াই শীর্ণতা।
দাঁত
  • সোরিক- দাঁত ওঠার সময় উদরাময় বা অন্য পীড়ায় দুধ হজম হয় না।
  • সিফিলিটিক- দাঁত ক্ষয়ে যায়, আমাশর প্রবণতা।
  • সাইকোটিক- দাঁত পোকায় খাওয়া বা দাঁত বেরিয়ে ওঠে, সহজেই সর্দি কাশি হয়।
  • টিউবারকুলার- দাঁতগুলো শিশুকালেই পচে যাওয়া শিশু ভয়ানক খিটখিটে ও ঘ্যানঘ্যান করে।
শিশু চরিত্র
  • সোরিক- শিশু চর্মরোগসহ জন্ম হয়। জন্মের পর প্রস্রাব পায়খানা বন্ধ হয়।
  • সিফিলিটিক- ক্ষতসহ জন্ম। নাভি থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয় না। চোখে ক্ষত।
  • সাইকোটিক- যে কোন প্রকারের অসম বৃদ্ধিসহ জন্ম। বৃদ্ধি জনিত বিকলাঙ্গ শিশু।
  • টিউবারকুলার- শিশুর জন্মকালে বংশগত ক্ষয়রোগের ইতিহাস থাকে।
মেধা
  • সোরিক- শিশু সুলভ চপলতা থাকে। পড়াশুনায় পটু। একবার বলে দিলেই বুঝতে পারে। অক্ষর পরিচয়ের সময় লেখা লিখতে বুঝাতে হয় না, দেখে দেখেই লিখতে পারে।
  • সিফিলিটিক- হাবলা গোছের ভাব খেলতে চায় না। ক্ষুধার অভাব, খাওয়ার জন্য বারবার বলতে হয়। রাতে খাইয়ে না দিলে খায় না। ঘুম থেকে জাগিয়ে খাওয়াতে হয়। বিনা চিকিৎসায় রক্তপাত বন্ধ হয় না, বহুদিন জের থেকে যায়। একরোখা, জেদী, রাগলে শান্ত করা যায় না।
  • সাইকোটিক- শিশুসুলভ চপলতার সঙ্গে ভীরুতা ও গোপনীয়তা। একা একা খেলা করার ইচ্ছা। ছোট ছেলেমেয়েদের সঙ্গমের প্রবৃত্তি।
  • টিউবারকুলার- চঞ্চলতা ও পরিবর্তনশীলতা, শিশুর এক খেলনায় দীর্ঘ সময় খেলা করিতে ভাল লাগে না। এক প্রকার খাদ্য দীর্ঘ দিন খেতে ভাল না লাগা। গৃহকর্মী হলে নিত্য নতুন বেশ-ভূষার আকাক্সক্ষায় গৃহকর্তাকে পাগল করে।
বেদনা
  • সোরিক- খেলে ও শীতকালে বাড়ে। গরমে ও সামান্য চাপে কমে।
  • সিফিলিটিক- সূর্যাস্তের পর থেকে ভোর পর্যন্ত বাড়ে। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ও বারবার স্থান পরিবর্তনে কমে।
  • সাইকোটিক- যাবতীয় যন্ত্রণা বিশ্রামে, ভিজা ঠান্ডা ও বর্ষকালে বাড়ে। নড়াচড়ায় শীতকালে, সূর্যাস্তের পর থেকে ভোর পর্যন্ত কমে।
  • টিউবারকুলার- বর্ষাকালে ও ঝড় বৃষ্টির দিনে বৃদ্ধি, রাত্রিকালে ভয়াবহ বৃদ্ধি, অন্ধকারে থাকতে ভয় বা বৃদ্ধি। শুষ্ক আবহাওয়ায় ও মুক্ত বাতাসে উপশম।
মল
  • সোরিক- অতিভোজনের ফলে উদরাময়। সকালে বাড়ে। গরমে ও চাপে বেদনা কমে। দারুণ কোষ্ঠকাঠিন্য ও শক্ত মল।
  • সিফিলিটিক- গুহ্যদ্বারে ক্ষয়। মলত্যাগের পর অস্থিরতা।
  • সাইকোটিক- উদরাময় বা আমাশয়ের সঙ্গে পেট ব্যথা হলে কেঁদে ফেলে, উদরাময়, অর্শ, ভগন্দর প্রকৃতি, মল পরিবর্তনশীল।
  • টিউবারকুলার- নি¤œ উদরে শূন্যতার অনুভূতি, উদরাময়ের সাথে মস্তিষ্ক আক্রান্ত। শিশু জন্মের পর হতে ২/৩ বৎসর বয়স পর্যন্ত যখন তখন উদরাময়।
প্রস্রাব
  • সোরিক- প্রস্রাব বন্ধ, কাশতে কাশতে, হাঁচিতে হাঁচিতে অসাড়ে প্রস্রাব। প্রস্রাব জ্বালাকর। সাদা ফসফেট ও মরিচা রঙের প্রস্রাব।
  • সিফিলিটিক- যন্ত্রণাবিহীন মূত্রকৃচ্ছতা। বারবার প্রস্রাবের তীব্রতা ও
  • ক্ষয়কারীভাব।
  • সাইকোটিক- মূত্রনালী সঙ্কুচিত, প্রস্রাব ও প্রস্রাবকালীন যন্ত্রণা। একশিরা, মূত্র পাথরি ও মূত্রকোষের যাবতীয় রোগ।
  • টিউবারকুলার- বহুমূত্র, মূত্রপচা বা ভ্যাপসা গন্ধযুক্ত। স্বচ্ছ জলের ন্যায়
  • বর্ণশূন্য প্রচুর প্রস্রাব।
হৃৎপিন্ড
  • সোরিক- হৃৎপিন্ডের রক্তোচ্ছাসের অনুভূতি ও দুর্বলতা। বুকে শূন্যতাবোধ।
  • সিফিলিটিক- হৃৎপিন্ডে ক্ষত বা পচা ঘা।
  • সাইকোটিক- হৃৎপিন্ডের আকারের পরিবর্তন। কাঁধ ও কাঁধের ফলকে বেদনা। বাত চাপা পড়ে হৃদরোগ।
  • টিউবারকুলার- রক্ত সঞ্চালন কার্যের বিশৃঙ্খলা, দ্রুত হৃৎস্পন্দন। শ্বাস-প্রশ্বাস কষ্টকর। নাড়ী দ্রুত।
মাথা
  • সোরিক- মাথাঘোরা । সকালে উত্তাপ ও রোদ বাড়ার সঙ্গে বাড়ে। স্থিরভাবে বসে বা শুয়ে থাকলেও রোদের তাপ কমার সঙ্গে কমে।
  • সিফিলিটিক- মাথাব্যথা রাতে বাড়ে। নড়াচড়া ও গরমে বাড়ে। ঠান্ডা দিলে কমে। অচিররোগের পর চুল ওঠা। মাথায় মরামাস ও দুর্গন্ধ পুঁজ স্রাবের চর্মপীড়া। মাথা আকারে বড়।
  • সাইকোটিক- বৃত্তাকারে মাথার চুল ওঠে, টাক পড়ে। মাথায় ঘামসহ শুকনো চর্মপীড়া ও আঁচিল। মাথাব্যথা মাঝরাতে বাড়ে। নড়াচড়ায় কমে।
  • টিউবারকুলার- চুলগুলো ফাঁটাফাঁটা, রুক্ষ, কর্কস এবং চুলে জটা বাঁধা। মস্তকে দাদ ।
কর্ণ
  • সোরিক- কর্ণগহ্বর শুষ্ক ও খসখসে।
  • সিফিলিটিক- দীর্ঘাকৃতি কান, দুর্গন্ধ যুক্ত কানের পুঁজ। সামান্য ঠান্ডা লাগা ও সর্দিতে কান পাকে। উদ্ভেদযুক্ত পীড়ায় কান পাকে।
  • সাইকোটিক- কান পাকে, আঁশটে গন্ধযুক্ত, পুঁজের আকারগত পরিবর্তন, শ্রবণ শক্তির হ্রাস বা বিলোপ।
  • টিউবারকুলার- কর্ণশুল, কানের পুঁজ, শিশুদের ঘন ঘন কর্ণে স্ফোটক হওয়ার প্রবণতা।
চক্ষু
  • সোরিক- কাজের চাপে চোখের বিশৃঙ্খলা। সকালে সূর্যতাপে বাড়ে। কিন্তু গরম দিলে কমে। নানা রং দেখে।
  • সিফিলিটিক- চোখের পাতায় ক্ষত। আলোকভীতি, পক্ষাঘাত ও স্নায়বিক যন্ত্রণা, চক্ষুরোগজনিত জ্বর, রাতে ও গরমে বৃদ্ধি।
  • সাইকোটিক- ঋতু পরিবর্তনে ও বর্ষায় রোগ বাড়ে। অন্ধত্ব ও চোখের আকারগত পরিবর্তন।
  • টিউবারকুলার- অঞ্জনি জাতীয় চক্ষু পীড়া। পুরাতন চক্ষুক্ষত, আলোকভীতি। মাথা ঘোরার সাথে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস। চোখের ব্যথা রাতেবৃদ্ধি।
চিন্তা ধারা 
  • সোরিক- অসামঞ্জস্য পূর্ণ নানা রকম কাল্পনিক চিন্তা, লোকসঙ্গে ভীতস্পৃহা। নির্জন বিলাসী। নিজে না করলেও পরকে জ্ঞান দিতে বেশি আগ্রহী। মুখোশ পরা দার্শনিক।
  • সিফিলিটিক- মেলা মেশার অক্ষমতা। সব সময় মুখ বুজে থাকে। ক্ষিপ্রতার সঙ্গে কথা বলে। হঠকারিতা ও মুর্খতা।
  • সাইকোটিক- একই কথা বারবার বলে। নিজের স্ত্রী ও কন্যার প্রতিও সন্দেহ। হিংসা ও ক্রোধভাব, তুচ্ছ কারণে কলহ করে।
  • টিউবারকুলার- ভবঘুরে, অস্থিরতা, সামান্যক্ষণ মনোসংযোগ করতে পারে না। মন সর্বক্ষণ যেন উড়ে বেড়ায়।
চেহারা
  • সোরিক- ঠোট দুটি নীলাভ, আরক্তিম ও শুষ্ক। জিহ্বা ও মাঢ়ীতে জ্বালা। ভূক্ত দ্রব্যের গন্ধ।
  • সিফিলিটিক- মুখমন্ডল তৈলাক্ত, চকচকে চর্বি মাখানো ও গোল।
  • সাইকোটিক- মুখমন্ডল মৃত ব্যক্তির মত নীলাভ শোথগ্রস্ত।
  • টিউবারকুলার- ওষ্ঠদ্বয় হতে রক্ত বের হবার উপক্রম, সীমাবদ্ধ স্থানে লাল দাগসমূহ।
হাত ও পা
  • সোরিক- হাত ও পায়ের কার্যগত বিশৃঙ্খলা।
  • সিফিলিটিক- হাত ও পায়ের লম্বা হাড়ে ব্যথা। বিশেষ করে রাতে, অস্থিপুষ্টির অভাব।
  • সাইকোটিক- নানা ধরনের বাত, অসাড়তা ও শক্তিহীনতা, সামান্য পরিশ্রমে ক্লান্তি, হঠাৎ হাত পা মচকে যাওয়া।
  • টিউবারকুলার- অস্থিসমূহ সহজে শক্ত হতে চায় না। শিশুরোগী অনেক দেরিতে হাঁটতে শেখে। বৃদ্ধ রোগীর প্রায়ই পক্ষাঘাত।
মুখ গহ্বর
  • সোরিক- পানির পিপাসা, টনসিল বৃদ্ধি, দুর্গন্ধযুক্ত লালা। মুখে বিস্বাদ বা মিষ্টি স্বাদ তিক্ত ও অল্প স্বাদ।
  • সিফিলিটিক- ক্ষয়প্রাপ্ত দাঁত, মাড়িতে স্ফোটক ও পুঁজ জমে। মাড়ির গোড়া আলগা, মুখে দুর্গন্ধ। জিহ্বায় দাঁতের ছাপ। জিহ্বা ভিজা অথচ প্রবল পিপাসা। টনসিল বৃদ্ধি ও মাড়ি থেকে রক্ত ক্ষরণ। মুখে ধাতব স্বাদ।
  • সাইকোটিক- মুখের স্বাদ ও গন্ধ আঁষটে। জ্বালাকর তীব্র পিপাসা। হলদে, স্ফীত ফাঁটলযুক্ত জিহ্বা। মুখগহবরের গ্লান্ডগুলো স্ফীত ও শক্ত হয়।
  • টিউবারকুলার- দন্তমাড়ি ও মুখগহ্বর হতে প্রচুর পরিমাণে উজ্জ্বল লালবর্ণের রক্তস্রাব। দাঁত মাজার সময় মাঢ়ী হতে রক্তস্রাব, দন্তক্ষয় এবং দাঁতের অস্বাভাবিক গঠন, পুঁজ ও রক্তের স্বাদ।
নাক
  • সোরিক- সুগন্ধ ও দুর্গন্ধ কোনটাইসহ্য হয় না। অনেক রকম গন্ধে মুর্চ্ছা যায়।
  • সিফিলিটিক- প্রায়ই সর্দি লাগে। এ জন্য নাক সুড়সুড় করে। নাকে মামড়ি ও চটা পড়ে। দুর্গন্ধ নিঃশ্বাস।
  • সাইকোটিক- ঘ্রাণ শক্তি নষ্ট হয়, মাছের গন্ধযুক্ত স্রাবসহ ক্ষত, সবুজাভ হলুদ স্রাব, অস্বাভাবিক স্রাবে উপশম।
  • টিউবারকুলার- সর্দিস্রাব ঘন, হরিদ্রাবর্ণের পচা পনিরের গন্ধযুক্ত, সামান্য কারণে ঠান্ডা লাগে।
শ্বাসকষ্ট
  • সোরিক- চর্মরোগ চাপা পড়ে শ্বাসকষ্ট। কাশির চোটে মাথাব্যথা ও খিটখিটে মেজাজ। বিরক্তিভাব।
  • সিফিলিটিক- লবণাক্ত ও মিষ্টি স্বাদযুক্ত কফ।
  • সাইকোটিক- প্রচুর শ্লেষ্মাক্ষরণ, রাত্রিকালীন হাঁপানি । শ্বাসকষ্ট হলে পায়চারি করতে হয়। চাপলে কমে।
  • টিউবারকুলার- বুকটি অপ্রশস্ত ও সরু। কাশি গভীর, নিউমোনিয়া।
স্বপ্ন
  • সোরিক- উৎকণ্ঠার, ভয়ংকর দুঃস্বপ্নের, মৃতব্যক্তির, প্রস্রাব বা পায়খানা করছে স্বপ্ন দেখে।
  • সিফিলিটিক- বিভীষিকাময় যেমন-হত্যাকান্ড, অগ্নিকান্ডের, ভীতিকর, বন্দুক ছোঁড়ার, পানির, বিয়ের, জন্তুর কামড়।
  • সাইকোটিক- উড়ে যাওয়া, পড়ে যাওয়া বা মৃত ব্যক্তির, দুর্ভাগ্যের, বিয়ের, মৃতদেহ, মানসিক পরিশ্রমের, দুর্ঘটনার।
  • টিউবারকুলার- নৈশকালীন স্বপ্নে তাদের অন্তর্জগতের প্রতিফলন দেখা যায়। ভ্রমণ, দলগত উৎসব, বিবাহ অনুষ্ঠান অথবা ভীতি ও উদ্বেগপূর্ণ কিংবা প্রথমে জলজ্যান্ত স্বপ্ন দেখে।
স্ত্রীরোগ
  • সোরিক- মাসিক ঋতুস্রাবের যাবতীয় বিশৃঙ্খলা, ক্ষয়কারী ভাব থাকে।
  • সিফিলিটিক- যোনি থেকে দুর্গন্ধ স্রাব। সুতোর মতো লম্বা স্রাব। ঋতুস্্রাব শেষে মুর্চ্ছা।
  • সাইকোটিক- জরায়ু ডিম্বাধার ও ডিম্বনালীর প্রদাহ, বন্ধ্যাত্ব, জ্বালাযুক্ত ঋতুস্রাব, স্তনদ্বয়ে ব্যথা, পচা মাছের গন্ধযুক্ত জমাট বাঁধা স্রাব। সব সময় যৌনচিন্তা।
  • টিউবারকুলার- প্রদরস্রাব, বাধক, মাথাঘোরা, দুর্বল, প্রচুর দীর্ঘস্থায়ী ঋতুস্রাব প্রবাহ, জরায়ু প্রলাপস, প্রসব সহজে ও অল্প সময়ে হয় না।
গর্ভ
  • সোরিক- গর্ভাবস্থায় বমি বমিভাব, মাথাঘোরা, কাশি কফ, টক পানি ওঠে।
  • সিফিলিটিক- অপরিণত শিশুদের জন্ম বা গর্ভ নষ্ট, মৃত সন্তান প্রসব।
  • সাইকোটিক- গর্ভবতী মহিলার ব্যভিচার, গর্ভাবস্থায় সর্দি লাগে, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, উচ্চরক্তচাপ, কষ্টদায়ক গর্ভাবস্থা ও অস্বাভাবিক প্রসব। ভ্রান্তগর্ভ, গর্ভনষ্ট, অপরিণত শিশুর জন্ম।
  • টিউবারকুলার- প্রসবকালীন যন্ত্রণা কষ্টকর, ভয়ানক এবং দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী এবং পরিশ্রান্ত। অনেকেই তাদের সন্তানকে স্তন্যপান করাতে পারে না।

মন - মানুষিকতা

সোরিক -মন 
  • পবিত্র চিন্তা বা একনিষ্ঠ চিন্তা ও ধ্যান ধারণার অক্ষম। অনুচিত জেনেও সে কাজ না করে থাকতে পারে না। অন্তরে স্বার্থপরতা বাইরে উদারতার ভান।
  • ধনী ব্যক্তির জীর্ণবাসে গর্ব অনুভব। নিজের মল-মূত্র ঘ্রাণের প্রবৃত্তি, অপরিষ্কার, অপরিচ্ছন্ন্। চঞ্চল ও অস্থির । অপ্রয়োজনীয় জিনিসের তীব্র আকাক্সক্ষা, মনোবিকৃতি, শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমে অক্ষমতা, অলস, পূর্ণিমা ও প্রতিপদে মানসিক লক্ষণের বৃদ্ধি। ঋতু স্রাবের কাছাকাছি সময়ে মানসিক লক্ষণে বৃদ্ধি।
  •  উৎপাত করে, শীতকাতর, ঈর্ষাপরায়ণ। কৃমি থাকে, রাতে গায়ের ঢাকনা খুলে ফেলে দেয়। কফ চেটে খাওয়ার অভ্যাস।
  • সর্ববিষয়ে হাহুতাশ করে। মানসিক অস্থিরতা বা অস্বাভাবিক মানসিক লক্ষণ, শীতকাতর, গাড়িবাড়ি করে ও আরও অধিক সম্পত্তির জন্য চিন্তা এবং তাতেই বিভোর। স্ত্রীর জন্যও খরচ করতে চায় না। নিজের জন্য যথাসম্ভব ব্যয় করে। সংসারের খরচ বেশি হলে বিরক্ত হয়। ওষুধের জন্য সহজে খরচ করতে চায় না। সংসার ভেঙ্গে আলাদা হয়ে যায়। পুত্রবধুকে আপন করতে পারে না। ভ্রমণবিলাসী তীর্থবাসী।
  • যৌনমিলনে ভয়। নারীর প্রতি ভীতি ভাব। বৈরাগ্য, কুমতলব, সংসারী হওয়ার পরেও অধিক বয়সে সন্ন্যাস গ্রহণ করে।
  • ধর্মোন্মত্ততা, কৃপণ বা অত্যাধিক খরচের ভয়। জীর্নবাসে গর্ববোধ। অপরকে জ্ঞান দেওয়ার প্রবৃত্তি, নিজে কিছুই করে না। নিজেকে বড় ভাবে, বাচাল, কুচিন্তা, চতুর।
  • ঈর্ষার বৃদ্ধি, যেনতেন প্রকারে কার্যসিদ্ধির চিন্তা। আত্মভোলা, মানসিক বিভ্রান্তি, ধৈর্য্যচ্যুতি, উৎকণ্ঠা ও মনোরোগ।
সিফিলিটিক - মন
  • নির্বোধ, অজ্ঞ। কোনটি গ্রহণীয় কোনটি বর্জনীয় বিবেচনা করতে পারে না।
  • নিজ পরিবারের প্রতি কর্তব্য পালনে অক্ষম চিন্তা শক্তির অক্ষমতা। আত্ম- বিশ্বাসের অভাব। কোন কথা বোঝার অক্ষমতা। কিছুক্ষণ পরে তার মনে বোঝার অক্ষমতা।
  • কৈশোরে চঞ্চলতার অভাব, বিমর্ষভাব। সহজে কিছুই বুঝে না। নির্বোধ, একটা পড়া বারবার পড়ে কিন্তু বুঝতে পারে না। হাজার শাস্তি দিলেও কোন ফল হয় না। বরং অপকারই হয়। নিজের ভাল মন্দ বোধটুকুও থাকে না। খাওয়ার সময় সাধতে হয়। খেলার প্রতি বিশেষ ঝোক থাকে। বর্শি দিয়ে মাছ ধরার ঝোক। কিটপতঙ্গ মারতে ওস্তাদ। হাতের লেখা অস্পষ্ট। অংক একবারেই পারে না। মা হওয়ার প্রবণতা।
  •  বিমর্ষতা, অনুতাপ, জীবনে কিছুই করতে না পারায় অনুতপ্ত ও আত্মহত্যা করার প্রবল ইচ্ছা। কখনও কখনও আত্মহত্যা করে বসে।
  • নারী সঙ্গ স্পৃহা, বেপরোয়াভাব, নানাভাবে জৈবিক তৃপ্তির কুফল জনিত রোগ। যৌনাকাঙ্খাহীন, সঙ্গমে অক্ষমতাজনিত বিতৃষ্ণা। জননাঙ্গে ক্ষত, বন্ধ্যাত্ব। বির্মষ, তামাক এবং মাদকদ্রব্যে স্পৃহা, কুসঙ্গ বা অসৎ সঙ্গে পড়া। বিচার বিবেচনার অক্ষমতা। বিবেকহীন ও পশুপ্রবৃত্তি। অপরকে হত্যার ইচ্ছা বা হত্যা করা। পৃথিবী ভালো লাগে না।
সাইকোটিক - মন
  • ভ্রান্ত ধারণা খুঁতখুঁতে শুচিবায়ুগ্রস্থ। পরছিদ্রান্বেষী, পরিবর্তনশীলতা, ধৈর্যহীনতা। সৎ চিন্তার অভাব, অতিরিক্ত অস্থিরতা।
  • প্রবঞ্চক, চিবিয়ে ধীরে ধীরে কথা বলে, স্মৃতি শক্তি হারিয়ে ফেলে, ক্ষণস্থায়ী বিস্মরণ, সাম্প্রতিক ঘটনা ও পরিচিত লোকের নাম বিস্মরণ, মনের নীচতা গোপনের আকাক্সক্ষা। ভীতিভাব। সন্ধিগ্ধচিত্ত। অসন্তোষ এবং চাঞ্চল্যসহ স্মৃতিশক্তির বিশৃঙ্খলা। সবসময় স্ত্রী লোকের চিন্তায় মনটি ভরে থাকে। ঝড়বৃষ্টির সময় ও ঋতু পরিবর্তনে বৃদ্ধি।
  • গরমকাতর। সর্দি কাশি হাঁপানি ও বাতের ব্যথা বর্ষায় বৃদ্ধি। লিঙ্গটি নিয়ে আপন মনে নাড়াচাড়া করতে থাকে।
  • হাঁপানি বা শ্বাস যন্ত্রের কষ্ট, পুত্র, কন্যা বা পুত্রবধুদের প্রতি সন্দেহ, অর্থ গোপনের তীব্র অভিলাস।
  • অধিকমাত্রায় গোপনে অবৈধভাবে শুক্রক্ষয়ের আকাক্সক্ষা, গনোরিয়া রোগ, মেয়েঘেষা, সর্বদা মেয়েদের সম্পর্র্কে বা যৌন সংসর্গের উদ্ভট কল্পনা। গোপনে নারী অঙ্গ দর্শনের তীব্র লালসা, পশু পাখির যৌনক্রীড়া বা অশ্লীল সিনেমা বা চিত্র দর্শনের এবং যৌনসংক্রান্ত নভেল পাঠের স্পৃহা।
টিউবারকুলার - মন
  • কর্মভীতি, অসহিষ্ণুতা বা অধৈর্য, মানসিক চাঞ্চল্য, পরিবর্তনশীলতা।
  • ক্রোধপরায়ণ, অসহিষ্ণু, চঞ্চল ও পরিবর্তনশীল মেজাজ।
  • প্রচন্ড চঞ্চলতা, শুকিয়ে যাবার প্রবণতা, আশাবাদি, চিন্তা শূন্যতা, উদাসিনতা।
  • পেশা এবং চিকিৎসক পরির্বতন চায়। আরোগ্য সম্বন্ধে সর্বদাই আশান্বিত। অভ্যাস দ্রুত পরির্বতন করে, নিজের রোগের গুরুত্ব সম্পর্র্কে উদাসীন ও ভ্রুক্ষেপহীন।
  •  অসংযমপূর্ণ জীবন যাত্রার অভ্যাস। অবৈধ উপায়ে শুক্রক্ষয়, অত্যাধিক কর্মস্পৃহা মনে সদা জাগ্রত থাকে।
  • পরিশেষে প্রস্রাব করার সময়, মলত্যাগকালে বা সামান্য মানসিক উত্তেজনায় বা অবসাদে বীর্য আপনা হতেই অসাড়ে পড়ে। ফলে মনটি সব সময় উৎসাহ শূন্য, বিষন্ন ও নিরুৎসাহ হয়ে পড়ে এবং স্মৃতিশক্তি কমে আসে।

স্বভাব - চরিত্র 

সোরিক স্বভাব - চরিত্র 
  • গোসল করতে চায় না। দুধে অনীহা। মিষ্টি দ্রব্যে স্পৃহা। নোংরা থাকা স্বভাব। নিজের মলমূত্র শোকে। যা পায় মুখে দেয়। ব্যবসা ব্যবসা খেলাতে ঝোঁক বেশি। খিদে প্রচন্ড, মিশতেও পারে তাড়াতাড়ি রাগ করলেও সহজেই শান্ত হয়। চর্মরোগ, প্রচন্ড চুলকানি। হাত মুখ না ধুয়ে খেতে বসে। ধুলো বালি নিয়ে খেলা করে।
  • সুখের, মান অভিমান ও চাঞ্চল্য ভরা অস্বাভাবিক আকাক্সক্ষা ও কামনার অপরিতৃপ্তিজনিত মনক্ষুন্নতা, নারী শ্বাশুড়ীর সঙ্গে ঝগড়া করে, অন্যায়ের প্রতিবাদে মুখর হয়
সিফিলিটিক স্বভাব - চরিত্র 
  • অতি গরম বা অতি শীত কোনটাইসহ্য হয় না। চোর পুলিশ খেলার দিকে বেশি আগ্রহ। একই পড়া বারবার পড়তে হয়। স্কুল গমনে শিশুর সমস্যা।
  • নারীর গর্ভাবস্থায় দাঁত ব্যথা, মুখক্ষত, মাড়ি ফোলা, দুর্গন্ধ। কষ্টদায়ক গর্ভাবস্থা ও প্রসব।
  • প্রতিযোগিতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার তীব্র আকাক্সক্ষা, বাধা এলে তজ্জনিত রোগ।
  • দুঃখপূর্ণ যৌন সমস্যা। বেদনা দায়ক সঙ্গম। সঙ্গমে অক্ষমতাজনিত বিতৃষ্ণা। জননাঙ্গে ক্ষত, বন্ধ্যাত্ব।
সাইকোটিক স্বভাব - চরিত্র 
  • পুতুল বিয়ে বিয়ে খেলা করে। পড়াশোনা করতে অনেক চেষ্টা করতে হয়, নতুবা হয় না। রেগে গেলে সহজে ভুলে না। এটা দিতে হবে ওটা দিতে হবে এরকম আবদার করে। বারে বারে অল্প অল্প খেতে চায় । খুত খুতে স্বভাব। এটা খাবে না ওটা খাবে না বলে জিদ করে। হাঁটা-চলা বা কথা বলতে দেরি হয়। গোসলে স্পৃহা কিন্তু সহজেই ঠান্ডা লাগে।
  • সংসার সুখের হয় না, বন্ধ্যা, বিকলাঙ্গ শিশুর জন্মদান, পুত্রশোকে স্বামী-স্ত্রীতে অসদ্ভাব, সর্বদা কলহ, পারস্পরিক সন্দেহ, অত্যাধিক যৌনাকাক্সক্ষা, যৌন অতৃপ্তি, বহুক্ষেত্রে পুরুষের।
  • প্রেমে আসক্তি, অপাত্রে প্রেম, অবৈধ প্রেম, বন্ধুত্ব। যৌনচারের ফলশ্রæতিরূপে যৌনশক্তি হ্রাস। অত্যধিক জৈবিক তৃপ্তির কুফলজনিত রোগ।
টিউবারকুলার স্বভাব - চরিত্র 
  • নির্দিষ্ট একটি বিষয় নিবিষ্টভাবে চিন্তা করা আশা করা যায় না। ছাত্র রোগী কিছুদিন বিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়ন করে পুনরায় কলা বিষয়ে আকৃষ্ট হয় ও তার পরে আবার একটি নতুন বিষয়ে অনে¦ষণ করে। রোগী পরিবর্তনশীল আচরণ করে। রোগী ঠান্ডা পছন্দ করে, কিন্তু ঠান্ডায় তার বৃদ্ধি।
  • উদাসীনতা, জীবনে বিতৃষ্ণা ও নিজ জীবন নষ্ট করার প্রবৃত্তি, স্বার্থপর। যে খাদ্য হজম করিতে পারে না সেই খাদ্যে আকাক্সক্ষা। আশাবাদী।
  • বন্ধ্যাত্ব, ২/১ টি প্রসবের পর তাদের জরায়ু নানা জাতীয় স্থানচ্যুতি বা বহিনির্গমন, দিনের পর দিন প্রসব বেদনাটি চলতে থাকে। প্রসব করার শক্তি কমতে থাকে।

যা যা জেনেছেন 

  • সিফিলিটিক মায়াজম
  • ঔষধের প্রথম শ্রেণির লক্ষণ ও মায়াজম
  • ক্রনিক মায়াজম
  • সোরা মায়াজম
  • মিশ্র মায়াজম
  • সোরা মায়াজম কি
  • সিফিলিস মায়াজম
বিস্তারিত

বুধবার, ২১ জুলাই, ২০২১

টেস্টে ধরা পড়লো জটিল রোগ: ক্যান্সার, কিডনি ড্যামেজ, হৃদরোগ ইত্যাদিতে আক্রান্ত! করণীয় কি?

ডাক্তারী রিপোর্টে ধরা পড়লো ক্যান্সার, কিডনি ড্যামেজ বা ফেইলুর, প্যানক্রিয়াটাইটিস, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ইত্যাদির মতো ক্রনিক ডিসিজ বা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে আছেন। প্যাথলজিক্যাল বিভিন্ন টেস্ট করার পর যখন কেউ দেখেন তিনি দুরারোগ্য জটিল কোন রোগে আক্রান্ত তখন সেটা সারানোর জন্যই তার সর্বপ্রকার কর্ম প্রচেষ্টা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু ততদিনে তিনি হয়তো বুঝতেই পারেন না যে বড্ড দেরী হয়ে গেছে।

আপনাদের জানা উচিত, প্যাথলজি টেষ্টে ধরা পড়ার সময় বা তার কিছু দিন আগেই কিন্তু কোন রোগ জন্মায় না, রোগের উৎপত্তি হয়েছিল ঐ ব্যক্তি মাতৃগর্ভে ভ্রূণরূপে জন্ম নেবার সময়, যা রোগীর জেনেটিক হিস্ট্রি এবং শৈশবের জীবন দর্শন (Early life philosophy) থেকে অনেক আগেই একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসক নির্ণয় করতে পারেন এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারেন। যা এলোপ্যাথিক চিকিৎসায় প্রায় অসম্ভব।
মেডিক্যাল টেস্টে ধরা পড়লো জটিল রোগে আক্রান্ত
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, যান্ত্রিক সভ‍্যতায় নিজেদের অতি আধুনিক মনে করা মানব সমাজ শারীরিক ও মানসিক কষ্টে ভোগার পরেও, কেবলমাত্র যান্ত্রিক কিছু মেডিক্যাল বা প্যাথলজি টেষ্টের ছাড়পত্রের জন্য অপেক্ষা করে। ততদিনে যা কিছু ধ্বংস হবার তা হয়ে যায়। পরবর্তীকালে তা ঠেকিয়ে রাখতে এলোপ্যাথিতে চিকিৎসার নামে যে সকল ব‍্যবস্থা নেয়া হয়, তা মোটেও বাঁচার উপায় নয়। তা তিলে তিলে মৃত্যুরই ছায়া মাত্র বা প্রলয়ঙ্কারী ঝড়ের মাঝে সামান্য পাতার ছাউনি স্বরূপ। এখন প্রশ্ন হলো "অতি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান কোনটি?"
  • সারাজীবন ধরে নানাবিধ শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণায় ভোগান্তির চরমসীমায় পৌঁছনোর পরে কয়েক দফায় প্যাথলজি টেষ্টের রিপোর্ট অনুযায়ী রোগ ধরা পড়া?
  • নাকি রোগীর শারীরিক, মানসিক কষ্টের লক্ষণ উপসর্গ তার শৈশবের দর্শন এবং জেনেটিক হিস্ট্রি বিচার বিশ্লেষণ করে DNA তে থাকা True Disease বা প্রকৃত রোগটি নির্ণয় করে প্যাথলজি টেষ্টের অনেক আগেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যে, ভবিষ্যতে ব্যক্তির ক‍্যান্সার বা কোন কোন জটিল রোগ হবার সম্ভাবনা রয়েছে এবং পূর্ববর্তী চিকিৎসার মাধ্যমে তা আগে থেকেই রোধ করা?
খটকা লাগছে হইতো অনেকের কাছেই। আগের কিছু পর্বে আপনারা জেনেছেন, আমরা কিভাবে রোগাক্রান্ত হই। রোগ সৃষ্টিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার আদৌ কোন ভূমিকা রয়েছে কি? আমাদের মানব দেহে ভাইটাল ফোর্সের কাজ কি? যদি বিষয়গুলি সম্পর্কে আগে থেকে আপনার জানা না থাকে তাহলে নিন্মোক্ত আর্টিকেলগুলি ভালোভাবে একবার দেখে নিন।
উপরিউক্ত আর্টিক্যালগুলি থেকে জেনেছেন আমরা মূলতঃ আমাদের পূর্ব পুরুষ থেকেই রোগ-ব্যাধি বা বিভিন্ন প্রকৃত রোগের জেনেটিক মেটেরিয়াল পেয়ে থাকি যা একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়ে থাকে। একেক জনের কনস্টিটিউশন একেক রকম হয়ে থাকে। আর তাই, পৃথিবীতে একেক শ্রেণীর মানুষ একেক রকম রোগে ভুগে থাকে। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই তার DNA তে বর্তমান প্রকৃত রোগ এবং তার তীব্রতা অনুসারে নানা প্রকার শারীরিক ও মানুষিক সমস্যায় ভুগে থাকে। যখন ভাইটাল ফোর্স কোন কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে তখনই তার DNA তে Predominant সেই প্রকৃত রোগটি শরীরের নানা অংঙ্গে অর্থ্যাৎ তার দেহ মনে নানা প্রকার লক্ষণ ও উপসর্গ তৈরী করে তাকে কষ্ট দিবে। যথা সময়ে প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে DNA তে Predominant সেই প্রকৃত রোগ Recessive করা না হলে সেটি দিন দিন শক্তিশালী হয়ে উঠে এবং দেহমনে সৃষ্টি করা লক্ষণ ও উপসর্গকে ভয়ঙ্কর পর্যায়ে নিয়ে যায়।

কষ্ট যখন সহ্যের সীমা অতিক্রম করে তখন মানুষ ছুটে হাসপাতালে বা ডাক্তারের কাছে। করা হয় নানা মেডিক্যাল বা প্যাথলজিক্যাল টেস্ট। তখন হয়তো ধরা পড়ে ক্যান্সার, কিডনি ড্যামেজ, প্যানক্রিয়াটাইটিস, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ইত্যাদি নামক জটিল উপসর্গযুক্ত রোগ-ব্যাধি। আর তখন সেগুলি থেকে পরিত্রানের জন্য উঠেপড়ে লেগে যায়লোকজন। কিন্তু হায় ! ততদিনে যা কিছু ধ্বংস হবার তা হয়ে যায়। আগেই বলেছি, পরবর্তীকালে তা ঠেকিয়ে রাখতে এলোপ্যাথিতে চিকিৎসার নামে যে সকল ব‍্যবস্থা নেয়া হয়, তা মোটেও বাঁচার উপায় নয়। তা তিলে তিলে মৃত্যুরই ছায়া মাত্র বা প্রলয়ঙ্কারী ঝড়ের মাঝে সামান্য পাতার ছাউনি স্বরূপ। এই চির সত্য অধিকাংশ মানুষই উপলব্ধি করতে পারে না।
অথচ রোগীর শারীরিক, মানসিক, আচরণগত কষ্টের লক্ষণ এবং জেনেটিক হিস্ট্রি ইত্যাদি বিচার বিশ্লেষণ পূর্বক DNA তে থাকা True Disease বা প্রকৃত রোগটি নির্ণয় করে মেডিক্যাল বা প্যাথলজিক্যাল টেষ্টের অনেক আগেই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় ভবিষ্যতে ক‍্যান্সার বা অন্য কি কি জটিল রোগ হবার সম্ভাবনা রয়েছে এবং পূর্ববর্তী চিকিৎসার মাধ্যমেই তা আগে থেকেই রোধ করা যায় আর সেটা করতে পারে বর্তমান বিশ্বে একটি মাত্র ট্রিটমেন্ট সিস্টেম আর তা হলো - হোমিওপ্যাথি। 
যে মানব শিশুটি তার ছোটবেলা থেকেই প্রপার হোমিও চিকিৎসার তত্থাবধানে চলে আসে সে উচ্চ জীবনীশক্তি নিয়ে বেড়ে উঠে। বিভিন্ন এলোপ্যাথিক বা রাসায়নিক ঔষধের ক্রমাগত প্রয়োগে মানব শরীরে আরো জটিল জটিল সমস্যা সৃষ্টি হতে থাকে। তাই দেখা যায় সেসব মানুষ এলোপ্যাথিক বা রাসায়নিক ঔষধ থেকে যত দূরে দূরে থাকেন তারা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তত বেশি ভালো থাকেন।

আপনি দেখবেন যেকোন ক্রনিক ডিজিসের ক্ষেত্রে এলোপ্যাথিক চিকিৎসকরা জটিল জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত ওয়ান টাইম এলোপ্যাথিক বা রাসায়নিক ঔষধগুলি মানুষকে সারা জীবন ধরেই খেয়ে যেতে বলছে, যা তাৎক্ষণিক আরাম দিলেও জটিল জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা বা রোগ-ব্যাধি সৃষ্টি করে চলেছে মানব দেহে। তাছাড়া চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হয়ে এলোপ্যাথিক চিকিৎসকরা সাধারণ জ্বর-সর্দি থেকে শুরু করে অধিকাংশ রোগেই যখন তখন উচ্চ শক্তির এন্টিবায়োটিক ঔষধ প্রয়োগ করে চলেছে যা ব্যক্তির ভাইটাল ফোর্সকে চরম ভাবে দুর্বল করে তুলছে এবং এর ফলে খুব সহজেই আজকাল লোকজন (এলোপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণকারীরা) অল্প বয়সেই জটিল জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। 

বর্তমান বিশ্বে ক্রনিক ডিজিসের চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের নামে জগন্যতম অপবিজ্ঞান, নোংরা এবং হাতুড়ে কাজগুলির মধ্যে এলোপ্যাথির এই অপচিকিৎসা হলো অন্যতম। তাই এলোপ্যাথিক মেডিক্যাল মাফিয়ারা নিজেদের দোষ-ত্রুটি আড়াল করতে অন্যান্য চিকিৎসা ব্যবস্থাগুলির বিরুদ্ধে তাদেরই নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে একচেটিয়া অপপ্রচার চালিয়ে আসছে শুধু থেকেই। কিন্তু আজকাল মিডিয়া প্রায় সবারই হাতের নাগালে রয়েছে। তাই চিকিৎসা নেয়ার ক্ষেত্রে যারা যাচাই বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তারা শুরু থেকেই লাভবান হোন। আর যারা এলোপ্যাথিক মেডিক্যাল মাফিয়াদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন অথবা কোন প্রকার যাচাই বাছাই করার মতো জ্ঞান রাখেন না তাদের অনেকেই চরম ক্ষতির মুখে পড়েন। কেউ কেউ আবার চিকিৎসা নিতে গিয়ে সহায় সম্পত্তি বিক্রি করে পথে পর্যন্ত বসে যান। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয় না। 

মেডিক্যাল টেস্টে ধরা পড়লো ব্যক্তি জটিল রোগে আক্রান্ত। তখন ব্যক্তির কষ্ট লাঘব করার জন্য বিভিন্ন ওয়ান টাইম রাসায়নিক ঔষধ প্রয়োগ করে কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে পারলেও রোগ কিন্তু নির্মূল করতে অপারগ এলোপ্যাথিক ট্রিটমেন্ট সিস্টেম। কারণ এলোপ্যাথিক ওয়ান টাইম ঔষধগুলি প্রযোগ করা হয়ে থাকে শরীরের নির্দিষ্ট স্থানের কষ্টকর লক্ষণ বা উপসর্গের ঠিক পেছনে কি কারণ বিদ্যমান সেটির সাময়িক উপশমের জন্য, স্থায়ীভাবে রোগ সারানোর জন্য নয়। 

আজ ব্যক্তি যে রোগের রোগী সেটি সৃষ্টি হয়েছিল ব্যক্তির পিতামাতার মিলনে জাইগোটটি যেদিন তৈরী হয়েছিল সেইদিন। বুঝতেই পারছেন আমরা আমাদের পূর্বপুরুষের শত বছরের পুরাতন রোগের জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল বহন করছি। আর সেটি ধীরে ধীরে বছরের পর বছর ধরে আমরা আমাদের শরীরে বাড়তে দিচ্ছি আমাদেরই নানা অজ্ঞতার কারণে। এক সময় সে যখন পূর্ণ শক্তি নিয়ে আবির্ভুত হয় তখন বিভিন্ন মেডিক্যাল টেস্ট করে আমরা সেই প্রকৃত রোগের সৃষ্টি করা কিছু ভয়ঙ্কর লক্ষন বা উপসর্গকে রোগের নাম দিয়ে চিকিৎসা করছি। আর তা ঠেকিয়ে রাখতে এলোপ্যাথিতে চিকিৎসার নামে যে সকল ব‍্যবস্থা নেয়া হয়, তা মোটেও বাঁচার উপায় নয় বরং তা তিলে তিলে মৃত্যুরই ছায়া মাত্র বা প্রলয়ঙ্কারী ঝড়ের মাঝে সামান্য পাতার ছাউনি স্বরূপ। 

এই অবস্থায় একেবারে সংকটময় মুহূর্তে রোগীর প্রপার হিস্ট্রি নিয়ে তার জেনেটিক অবস্থা বিচার বিশ্লেষণ পূর্বক যদি প্রপার একটি হোমিও চিকিৎসা দেয়া হয় তখন সবার ক্ষেত্রেই কিন্তু কার্যকর ফলাফল আসবে না। যাদের ক্ষেত্রে আসবে তারা বেঁচে যাবেন সন্দেহ নেই। আমি ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান আমারই চেম্বারে-
  • ব্লাড ক্যান্সার সেরে যেতে দেখেছি
  • কিডনি ফেইলুর রোগীর কিডনি পুনরায় ঠিক হয়ে যেতে দেখেছি
  • প্যানক্রিয়াটাইটিস এবং এর ফলে সৃষ্ট ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নির্মূল হতে দেখেছি
  • এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভুগা কষ্টকর হাঁপানি সম্পূর্ণ সেরে যেতে দেখেছি 
  • আরো বিভিন্ন ক্রনিক ডিজিস সেরে যেতে দেখেছি
তবে এটাও জেনে রাখুন- প্যানক্রিয়াটাইটিস এর মতো জটিল সমস্যা যেমন প্রায় শতভাগ ঠিক করা যায়, কিছু ক্ষেত্রে একেবারে শেষ অবস্থায় যেমনঃ ক্যান্সার, কিডনি ফেইলুর মতো সমস্যায় সেই সৌভাগ্যটি সবার থাকে না। তবে এটা সত্য যে, সেই অবস্থায় বিশ্বের যত চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে সেগুলির মধ্যে একমাত্র হোমিওপ্যাথিই আপনাকে আশার আলো দেখাবে। কারণ হোমিওপ্যাথিই একমাত্র চিকিৎসা বিজ্ঞান যা আপনার DNA তে Predominant প্রকৃত রোগকে Recessive করার চিকিৎসা দিবে। তবে এটাও ভালো ভাবে জেনে রাখুন, যেখানে সেখানে হোমিও চিকিৎসা নিলেই আপনি ফল পাবেন এমনটি আদৌ আশা করবেন না। রেজিস্টার্ড এবং দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসকের তত্থাবধানে চিকিৎসা নেয়া জরুরী। ভালো থাকুন এবং সুস্থ থাকুন, ধন্যবাদ।
বিস্তারিত

সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১

প্যানক্রিয়াটাইটিস ও ডায়াবেটিস নির্মূল হচ্ছে হোমিও চিকিৎসায় ! প্রামাণ্য কেইস

প্যানক্রিয়াটাইটিস এবং এর ফলে সৃষ্ট ডায়াবেটিস থেকে সম্পূর্ণ সেরে উঠে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে একমাত্র আশার আলো হল হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিজ্ঞান। বর্তমান বিশ্বে অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে স্থায়ী চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে সেখানে অ্যাকিউট ও ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিস অর্থ্যাৎ অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াস প্রদাহ এবং এর ফলে সৃষ্ট ডায়াবেটিস নির্মূলের কার্যকর এবং স্থায়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করছে হোমিওপ্যাথি। এটাও জেনে রাখুন, এর জন্য অবশ্যই রেজিস্টার্ড এবং অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিতে হবে যিনি এই বিষয়গুলি ঠিকঠাক ভাবে হ্যান্ডেল করতে পারেন।

ধারাবাহিক ভাবে এ সংক্রান্ত আর্টিকেল এবং ভিডিও পাবেন আমাদের ওয়েবসাইটে। এবার আসুন প্রামাণ্য একটি কেইস নিয়ে আলোচনা করি। ২৫ বছর বয়স্কা রোগিণীর মাসে অন্তত একবার পেটে ভীষণ ব্যথা এবং বমি হয়। সাথে সাথে হাসপাতালে ভর্তি করে হয়। এর সাথে রয়েছে উচ্চ মাত্রার ডায়াবেটিস এবং এর জন্য দিনে দুইবার ইনসুলিন নিতে হয়। এ অবস্থায় রক্তে শর্করা বা সুগার এর মাত্রা-
  • খালি পেটে 14-15 mmol/l
  • ভরা পেটে 25-26 mmol/l
দুর্বিসহ এক জীবন যাপন করে চলেছেন। বিভিন্ন হাসপাতালে স্ত্রীকে নিয়ে দৌড়াচ্ছেন তার স্বামী। কিন্তু কোথাও এর কোন সমাধান পাননি। এলোপ্যাথিক চিকিৎসকগণ বার বার তাকে হতাশ করছিলেন এই বলে যে- এটি পেটের খুবই খারাপ একটি রোগ এবং তার স্ত্রী কখনো সুস্থ হবেন না। এভাবেই চলতে হবে সারা জীবন আর ঔষধ নিয়ে যেতে হবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য।

এরই মধ্যে একদিন অনলাইনে তিনি জানতে পারলেন এলোপ্যাথিক চিকিৎসায় কোন ক্রনিক ডিজিসই ভাল হয় না ঔষধ খেয়ে খেয়ে থাকতে হয় অথচ হোমিওপ্যাথিতে রয়েছে এই সব সমস্যার কার্যকর সমাধান। কিন্তু এলোপ্যাথিক মেডিক্যাল মাফিয়ারা কখনো মানুষকে জানতেও দেয় না হোমিওপ্যাথিতে স্থায়ীভাবে ভাল হয়ে যায় জটিল এই প্যানক্রিয়াটাইটিস এবং এর ফলে সৃষ্ট ডায়াবেটিস।
প্রপার একটি হোমিও চিকিৎসায় মাত্র ৫ মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলেন সেই রোগিনী। প্যানক্রিয়াটাইটিস নেই এবং এর ফলে সৃষ্ট ডায়াবেটিসও নেই। এখন তার রক্তে শর্করা বা সুগার এর মাত্রা স্বাভাবিক। বিস্তারিত ভিডিওতে দেখুন। ধন্যবাদ 
বিস্তারিত

সোমবার, ৫ জুলাই, ২০২১

জলাতঙ্ক রোগ চিকিৎসা ও প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর ভয়ঙ্কর স্বাস্থ্য জটিলতা ! Post Rabies Syndrome (PRS)

জলাতঙ্ক রোগের চিকিৎসা ও প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর ভয়ঙ্কর স্বাস্থ্য জটিলতা এবং Post Rabies Syndrome (PRS) সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো এ পর্বে। বিস্তারিত ভালোভাবে বুঝতে সংযুক্ত ভিডিওটি দেখুন। কোন প্রাণী যেমনঃ মানুষ, কুকুর, বিড়াল, বেজি, ইঁদুর, বাঁদুর, বানর, হনুমান, শেয়াল, হায়েনা, কুমির, সাপ ইত্যাদির কামড় বা আঁচড়ের পর অথবা কোন পোকামাকড় বা বিষাক্ত পতঙ্গ যেমনঃ ভ্রমর, মৌমাছি, ভীমরুল, বিষ পিঁপড়া, ইত্যাদির কামড়ের পর থেকে অথবা রেবিস ভ্যাকসিন নেয়ার পর থেকে মারাত্মক প্রকৃতির রোগ যেমনঃ আক্রান্ত স্থানে সংক্রমণ হওয়া, হার্টের সমস্যা, কিডনির রোগ, পেনক্রিয়াস বা অগ্নাশয়ের সমস্যা, লিভারের সমস্যা, স্নায়ুবিক সমস্যা, মানুষিক সমস্যা বা যেকোন প্রকার মারাত্মক শারীরিক জটিলতার সৃষ্টি হলে এর কার্যকর চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি।

জলাতঙ্ক রোগ এবং রেবিস ভ্যাকসিন

জলাতঙ্ক রোগ এবং রেবিস ভ্যাকসিন সম্পর্কে নিশ্চয় শুনেছেন। জলাতঙ্ক রোগী পানি দেখলেই ভয় পায়। তাই এ রোগের নাম জলাতঙ্ক বা Hydrophobia হাইড্রোফোবিয়া। জলাতঙ্ক খুবই মারাত্মক প্রকৃতির রোগ। কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজি, বানর, বাদুড়সহ যেকোন প্রাণীর লালা কোন ভাবে মানুষের শরীর তথা একবার মস্তিষ্কের টিস্যুতে প্রবেশ করলে জলাতঙ্ক হয়ে মৃত্যু নিশ্চিত। তবে প্রাণী কামড় দেওয়ার সাথে সাথে দ্রুত সময়ের মধ্যে টিকা নিলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
রেবিস বহনকারী প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে অবশ্যই ভ্যাকসিন নিতে হবে। তবে প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর অথবা এর জন্য ভ্যাকসিন নেয়ার পর জলাতঙ্ক ভিন্ন যেকোন জটিল শারীরিক ও মানুষিক সমস্যা জেগে উঠলে অথবা PRS প্রিডোমিন্যান্ট এমন যেকোন কেইসে এর কার্যকর চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি।
সাধারনত গৃহপালিত প্রাণী ও বন্য প্রাণীদের প্রথমে সংক্রমিত করে, মানুষ এই সংক্রমিত প্রাণীগুলির বা এদের লালার সংস্পর্শে আসলে বা এই প্রাণীগুলি যদি মানুষকে কামড়ায় অথবা আঁচড় দেয় তাহলে এই রোগ মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। তাই কোন প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে রেবিস ভ্যাকসিন দেয়া হয়ে থাকে।

জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ

  • ক্ষতস্থান চুলকানো
  • ক্ষতস্থানে ব্যথা হওয়া 
  • মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ হওয়া
  • পানি দেখে ভয় পাওয়া
  • আলোর সংস্পর্শে এলে আতঙ্ক বেড়ে যাওয়া 
  • তীব্র মৃদু বায়ু প্রবাহে ভয় পাওয়া
  • শরীরে কাঁপুনি হওয়া
  • স্বল্পমাত্রায় জ্বর
  • গিলতে সমস্যা হওয়া
  • আবোল তাবোল বকা
  • প্যারালাইসিস
  • আক্রমণাত্মক আচরণ
  • মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া

প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর করণীয়

জলাতঙ্ক প্রাণঘাতী রোগ হলেও সময়মত ব্যবস্থা নিয়ে মৃত্যু এড়ানো যায়। প্রাণী কামড় বা আঁচড় দিলে ক্ষতস্থান ভাল ভাবে সাবান দিয়ে পনেরো মিনিট যাবৎ ধুতে হবে। সম্ভব হলে স্পিরিট দিয়ে ধৌত করে নিতে হবে। যে প্রাণী কামড়িয়েছে সেটিকে হত্যা না করে সতর্কতার সাথে বেঁধে রেখে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যদি দশ দিনের মধ্যে প্রাণীটির মৃত্যু না হয়, কামড়ের কারণে জলাতঙ্ক হওয়ার ঝুঁকি কম বলে ধরে নেয়া হয়। প্রাণীটির শরীরে জলাতঙ্ক জীবাণু আছে কিনা সেটা প্রাণীটির মস্তিষ্ক থেকে টিস্যু নিয়েও পরীক্ষা করে দেখা যায়। 
জলাতঙ্কের টিকা গ্রহণে শতভাগ জলাতঙ্ক প্রতিরোধ করা যায়। মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, টঙ্গী জেনারেল হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং দেশের প্রায় সবকটি জেলা সদরে অবস্থিত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে বিনা মূল্যে জলাতঙ্কের এই টিকা প্রদান করা হয়। কামড়ানো প্রাণীর দেহে র‌্যাবিসের জীবাণু না থাকলেও টিকা নিতে কোন অসুবিধা নেই।
আপনার আশেপাশে প্রশিক্ষিত কোন চিকিৎসকের পরামর্শক্রমেও টিকা নিতে পারেন। তাছাড়া চিকিৎসক বিস্তারিত জেনে গ্রেড অনুযায়ী আপনার চিকিৎসার পদ্ধতি ঠিক করবেন। প্রাণীর কামড়ের দিনই প্রতিষেধক টিকা নেয়া শুরু করতে হয়। সময়মত টীকা নিয়ে জলাতঙ্কের ঝুঁকি প্রায় শতভাগ এড়ানো সম্ভব। 

জলাতঙ্ক রোগের ক্ষেত্রে বিশেষত্ব হচ্ছে, কোন প্রাণী না কামড়ালেও আগে থেকে এ রোগের টিকানেয়া যায় আবার প্রাণী কামড়ানোর পরও টিকা নেয়া যায়। তবে অন্য যেকোন রোগের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়। জলাতঙ্কে আক্রান্ত কুকুরের কামড়ে গরু, ছাগল ইত্যাদি গৃহপালিত প্রাণীরও জলাতঙ্ক হতে পারে। এসব প্রাণীর মাংস খেয়ে মানুষও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। 

আপনি আগে থেকেই রেবিসের নির্ধারিত টিকাগুলি নিয়ে রেখেছেন। তারপর হয়তো কোন একসময় বেবিস ভাইরাস বহনকারী কোন প্রাণী আপনাকে কামড়িয়েছে বা আঁচড় দিয়েছে, এ অবস্থায়ও বিলম্ব না করে আপনাকে রেবিসের আরো দুটি টিকা নিতে হবে। তাই প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে পরামর্শক্রমে নির্ধারিত চিকিৎসা গ্রহণ করার জরুরী।
কিছু প্রাণী যেমনঃ কাঠবিড়াল, ভোঁদড়, খরগোশ, ইঁদুর ইত্যাদির মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগ না ছড়ালেও এইগুলির কোন একটির কামড় বা আঁচড়ের পর থেকে অন্য কোন বিষাক্ত জীবাণু মানব শরীরে প্রবেশ করার কারণে হয়তো এমনটি দেখা যায়, এরপর থেকে ব্যক্তির শরীরে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে এবং কোন ক্রমেই ভালো হচ্ছেন না অর্থ্যাৎ তিনি আর সুস্থ নেই। এই অবস্থায় একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি।
এছাড়া আপনি হয়তো দেখে থাকবেন রেবিস ভ্যাকসিন দেয়ার পর থেকে অনেকেই বিভিন্ন ধরণের রোগে ভুগছেন। অথবা তিনি তারপর থেকে আর সুস্থ নেই। এই অবস্থায় রোগ যত জটিলই হোক না কেন কার্যকর চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। তবে চিকিৎসক দক্ষ হওয়া চাই।

জলাতঙ্কবিহীন মারাত্মক জটিলতা

কেইস - ০১: সন্ধ্যার পর গ্রামের রাস্তা ধরে চলার পথে কোন এক প্রকার প্রাণী তাকে কামড়ায়। সেটি কুকুর না শেয়াল তিনি ঠিক বুঝতে পারেন নাই। যথারীতি রেবিস ভ্যাকসিন নিলেন। তার শরীরে জলাতঙ্ক রোগ জেগে উঠেনি ঠিকই কিন্তু প্রাণীর কামড়ের স্থানে ভয়াবহ সংক্রমণ সৃষ্টি হলো যা কোন চিকিৎসাতেই ঠিক হচ্ছে না। এলোপ্যাথিক চিকিৎসকগণ উচ্চ শক্তির এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ করেও ঠিক করতে পারছেন না। বছরের পর বছর ধরে এই সংক্রমণ নিয়ে ভুগে চলেছেন। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করছেন এর চিকিৎসার জন্য। তারপর সৌভাগ্যক্রমে প্রপার হোমিও চিকিৎসার তথ্যাবধানে আসার ফলে মাত্র কিছু দিনের চিকিৎসাতেই বলতে গেলে ম্যাজিকের মতো তার সেই সংক্রমণটি চলে গেল আর কখনও ফিরে আসেনি। আগেই বলেছি আক্রান্ত স্থান ১৫ মিনিট সাবান দিয়ে ধৌত করতে হবে। কিন্ত তিনি সেটা করেননি। ভ্যাকসিন নিয়ে জীবন বাঁচিয়েছেন ঠিকই, তবে আক্রান্ত স্থানে ভয়াবহ সৃষ্টি হয়েছিল। 

কেইস - ০২: সাপে কাটার পর এন্টিভেনম ইঞ্জেকশন নিয়ে প্রাণ রক্ষা হলো। কিন্তু তারপরই ব্যক্তির সেরাম ক্রিয়েটিনিন বেড়ে গেলো এবং কিডনি দুটোই অকেজো হয়ে পড়লো। 

কেইস - ০৩: বিলে মাছ ধরার প্রচন্ড নেশা। শিং মাছের কাটা ফুটে বিষের যন্ত্রনায় কত বার যে অজ্ঞান হয়েছিলেন হিসেব নেই। বয়স এখন পঁয়ত্রিশের উপর। সারা শরীরে বিষ-বেদনা নিয়ে কষ্ট করছেন বছরের পর বছর ধরে। কোন চিকিৎসাতেই সারছে না। প্রপার হোমিও চিকিৎসার আওতাধীনে আসার ফলে এই সমস্যা দূর হয়ে যায় স্থায়ী ভাবে।
এই রকম বহু ঘটনা হয়তো আপনার আশেপাশেই আপনি দেখতে পারেন। কোন প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর থেকে মারাত্মক রোগে আক্রান্ত !! আর ভালো হচ্ছে না। জেনে রাখুন, অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিলে এই সমস্যা স্থায়ীভাবে দূর হয়ে যাবে ইনশা-আল্লাহ।

পোস্ট রেবিস সিন্ড্রোম Post Rabies Syndrome (PRS)

কোন প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর ভেকসিন নিয়ে নিলেন আপনার শরীরে হয়তো জলাতঙ্ক জেগে উঠেনি কিন্তু রেবিসের জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল আপনার বংশ পরম্পরায় ট্রান্সফার হতে থাকবে এবং পরবর্তী প্রজন্ম নানা প্রকার ভয়াবহ জটিল স্বাস্থ সমস্যায় আক্রান্ত হবে। যাকে মেডিকেলের ভাষায় বলা হয় পোস্ট রেবিস সিন্ড্রোম Post Rabies Syndrome (PRS). আর এই সমস্যার হোমিওপ্যাথি ছাড়া আর কোন কার্যকর সমাধান নেই - জেনে রাখুন।

যেকোন Animal Bite (Dogs, Monkey, Bates, Snakes etc) এবং ঐ Bite এর কারণে চিকিৎসায় ব্যবহৃত Vaccine বা টিকা জনিত সমস্যা, পরবর্তী সময়ে এবং পরবর্তী প্রজন্মগুলিতে যেসকল জটিল পরিস্থিতি তথা বিভিন্ন অস্বাভাবিক এবং ভয়ঙ্কর সমস্যার সৃষ্টি হয়, সেগুলিকে একত্রে Post Rabies Syndrome (PRS) আখ্যা দেয়া হয়েছে।
  • এই বিষে বিষাক্ত Zygote থেকে সৃষ্ট শিশু, কখনো কখনো মাকে গর্ভাবস্থায় ভীষণ কষ্ট দেয় অর্থাৎ গর্ভাবস্থায় মা ভীষণ কষ্ট ভোগ করেন যদিও সব ক্ষেত্রে এমনটি হয় না।
  • এই বিষাক্ত Zygote থেকে সৃষ্ট শিশু মারাত্মক দৈহিক ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেয়, অবস্থা এমন ভয়ঙ্কর থাকে যে জন্ম নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে NICU তে ভর্তি করতে হয়, কাউকে আবার তক্ষনি অপারেশন করতে হয়, যেমন CDH - Congenital Diaphragmatic Hernia, শিশু জন্ম নিয়েছে কিন্তু মলদ্বার হয়নি ইত্যাদি।
  • শিশু জন্ম নেয়ার আগের মুহূর্তে মায়ের পানি ভেঙে গিয়ে এমন ভযঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল যে শিশুটিকে তক্ষনি পেট কেটে (Cesarean Section) না করলে মারা যেত।
  • শিশুটি মায়ের পেট থেকে বেরিয়ে এসেছিলো নীলবর্ণ, মৃতপ্রায় অবস্থায়, বাঁচবার কোন আশাই ছিল না।
  • এর আগে দুটি শিশু যথাক্রমে তিন মাসে এবং পাঁচ মাসে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক চিকিৎসার পর এই শিশুটি মৃতপ্রায় হয়ে জন্মেছে।
  • আবার এমন বিষাক্ত Zygote থেকে সৃষ্ট শিশু জন্ম নিয়েছে দুরারোগ্য Genetic Disease নিয়ে যেমনঃ Down Syndrome, Cerebral palsy, Autism, Juvenile Diabetes mellitus, Gilbert Syndrome, Thalassemia, Hemophilia, Huntington's Chorea, SLE (Systemic lupus erythrematosus), Psoriasis, Neurofibromatosis, Congenital Heart Diseases etc.
  • কখনো এমন বিষাক্ত Zygote থেকে সৃষ্ট শিশু Pancreas এর তীব্র সমস্যা নিয়ে জন্মায়। এই সমস্যা পরবর্তী সময়ে Acute pancreatitis, Chronic pancreatitis, Pancreatic carcinoma ইত্যাদি রূপে প্রকাশ পায়।
  • Post Rabies Syndrome (PRS) প্রকট, এমন শিশুরা মায়ের গর্ভে অবস্থান কালে মাকে ভীষণ কষ্ট দেয়, Neonatal period এও মাকে ভীষণ কষ্ট দেয় যেমনঃ দিবারাত্র ভীষণ কান্না, যার জন্য মায়ের খাওয়া-ঘুম থাকে না, আবার হঠাৎ হঠাৎ এমন ভয়ংকর অসুস্থ হয়ে যায় যে চিকিৎসকের নির্দেশে তক্ষনি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এই সকল শিশু অপ্রতুল Vital Force নিয়ে জন্মায় যার কারণে তাদের Immune System খুব দুর্বল থাকে ফলে এরা খুব সহজেই বিভিন্ন Infectious disease (Severe Pneumonia, Bronchitis, Typhoid, Gastroenteritis, Cold, Cough, Fever, Measles, Mumps, Pox, Tonsillitis, Cholera, Malaria etc) এ আক্রান্ত হয় এবং প্রত্যেকটি Infectious disease ই দ্রুত ভয়ঙ্কর রূপ নেয়।
  • আবার এমনও হতে পারে যে জন্মের সময় একটু সমস্যা ছিল বা ছিল না কিন্তু কিছু দিন পর ক্যান্সার বা ক্যান্সারের মতো ভয়ঙ্কর রোগ শুরু হলো।
এছাড়া সারাটা জীবন একটা না একটা সমস্যা লেগেই থাকে, সুস্থতার আনন্দ সৃষ্টিকর্তা তাদের জন্য মঞ্জর করেননি। এদের বয়স যত বাড়তে থাকে এদের রোগের জটিলতাও বাড়তে থাকে, কারণ PRS প্রকট এমন শিশু বা মানুষেরা যখন কোন দৈহিক বা মানুষিক সমস্যার চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন Therapeutic System এর চিকিৎসকের কাছে যান, তারা Symptomatic বা উপরি উপরি চিন্তা করে লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা দিয়ে তাৎক্ষণিক আরাম দিয়ে পেসেন্টকে সন্তুষ্ট করেন কিন্তু যে কারণে ঐ কষ্টকর লক্ষণগুলির সৃষ্টি, সেটির কোন প্রতিকার করা হয় না বলে মূল সমস্যা জটিল থেকে জটিলতর এবং সবশেষে জটিলতম অবস্থায় পৌঁছায়। তখন চিকিৎসকরা বলেন - "বয়স হয়েছে, আমরাও যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ভালোমন্দ খেতে দিন।"
এছাড়া Post Rabies Syndrome (PRS) প্রকট নিয়ে জন্মানো শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন অস্বাভাবিকতা দেখা যায় যেমন -
  • ভয়ঙ্কর দৈহিক পরিস্থিতি নিয়ে শিশুটি ভুমিষ্ঠ হয়েছে
  • জন্মাবার পর দীর্ঘক্ষণ কান্না করেনি, এমনকি অনেক চেষ্টার পরও
  • দীর্ঘক্ষণ পায়খানা প্রস্রাব করেনি
  • স্তনপান করেনি বরং বলা ভালো স্তনপান করবার শক্তিটুকু ছিল না
  • মস্তিষ্কে বা অন্য কোন অঙ্গে বড় টিউমার নিয়ে জন্মেছে
  • অসামঞ্জস্য দৈহিক গড়ন
  • শিশুটি ভূমিষ্ঠ হয়েছে দাঁত, চুল, দাঁড়ি, গোঁফ ইত্যাদি নিয়ে
  • জন্ম সময়ে শিশুটির মলদ্বার ছিল না
  • শিশুটি জন্মেছে মাথাটি অস্বাভাবিক বড় 
  • এমন বিপদজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে EDD [Expected date of delivery] এর ১ থেকে ২ মাস পূর্বেই গর্ভের শিশুকে বের করে নিতে হয় (Cesarean Section) অন্যথায় শিশুটির জীবন সংশয় দেখা দিতে পারে
  • শিশুটি জন্ম নেয়ার পর থেকে বা ১-২ দিন পর থেকে দিবারাত্র অবিরাম কান্না দীর্ঘদিন ধরে, কোন কিছুতেই কান্না বন্ধ হতো না, বেদনানাশক বা অচেতন করার ঔষধ না দিলে 
এছাড়া আরো যে যে কারণে Post Rabies Syndrome (PRS) সদৃশ পরিস্থিতি তৈরী হয় -
  • শিশুটি গর্ভে আসার আগে বাবা অথবা মা খুব কঠিন রোগের জন্য প্রচুর ঔষধ খেয়েছিলেন 
  • শিশুটি জন্মগ্রহণ করার পর বাবা অথবা মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়েছে
  • এই শিশুটি গর্ভে আসার পূর্বে পরপর তিনবার বিভিন্ন সময়ে বা মাসে Spontaneous Abortion হয়েছে বলে প্রচুর ঔষধ খাওয়ার পর এই শিশুটি জন্মেছে
  • গর্ভের শিশুটিকে অনাকাঙ্খিত মনে করে বিভিন্ন ঔষধ খেয়ে Induced Abortion করার চেষ্টা হয়েছিল কিন্তু গর্ভপাত হয়নি 
  • পাঁচ বছর আগে বিয়ে হলেও কোন সন্তান হয়নি বলে প্রচুর ঔষধ খেয়ে এই শিশুটি জন্মেছে
  • বিষধর সাপের দংশন এবং দংশনজনিত চিকিৎসার পর বিভিন্ন জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে
  • মায়ের ছোট বেলা অর্থাৎ প্রথম মাসিকের আগে থেকেই সাদা স্রাবের সমস্যা ছিল 
  • মায়ের প্রথম মাসিকে প্রচন্ড ব্যথা (Dysmenorrhea) ছিল।

পোস্ট রেবিস সিন্ড্রোম - চিকিৎসা

কোন প্রাণী যেমনঃ মানুষ, কুকুর, বিড়াল, বেজি, ইঁদুর, বাঁদুর, বানর, হনুমান, হায়েনা, কুমির, সাপ ইত্যাদির কামড় বা আঁচড়ের পর অথবা কোন পোকামাকড় বা বিষাক্ত পতঙ্গ যেমনঃ ভ্রমর, মৌমাছি, ভীমরুল, বিষ পিঁপড়া, ইত্যাদির কামড়ের পর থেকে জলাতঙ্ক ভিন্ন মারাত্মক রোগ যেমনঃ আক্রান্ত স্থানে সংক্রমণ হওয়া, হার্টের সমস্যা, কিডনির রোগ, লিভারের সমস্যা, অগ্নাশয়ের সমস্যা, স্নায়ুবিক সমস্যা, মানুষিক সমস্যা বা যেকোন প্রকার মারাত্মক শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হলে এর কার্যকর চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। এছাড়া  Post Rabies Syndrome (PRS) সমস্যায় প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার জন্য দক্ষ এবং রেজিস্টার্ড কোন হোমিও চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।ধন্যবাদ

যা যা জেনেছেন 

  • জলাতঙ্ক রোগ কিভাবে হয়
  • রেবিস ভ্যাকসিন দেয়ার নিয়ম
  • রেবিস ভ্যাকসিন ডোজ
  • রেবিস ভ্যাকসিন এর দাম
  • রেবিস ভ্যাকসিন এর কার্যকারিতা
  • রেবিস ভ্যাকসিন দেওয়ার নিয়ম
  • রেবিস ভ্যাকসিন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
  • বিড়ালের জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ
  • রেবিস ভ্যাকসিন ডোজ
  • কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন
  • কুকুর কামড়ালে কি রোগ হয়
  • কুকুর কামড়ালে করণীয়
  • কুকুর কামড় দিলে চিকিৎসা
  • কুকুর কামড় দিলে করনীয় কি
  • কুকুর কামড়ের চিকিৎসা
  • জলাতঙ্ক কাকে বলে
  • বিড়াল কামড়ালে কত দিনের মধ্যে টিকা দিতে হয়
  • কুকুরের কামড়ের ইনজেকশন 
  • জলাতঙ্ক রোগ কিভাবে হয়
  • জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ
  • জলাতঙ্ক রোগের টিকা দেওয়ার নিয়ম
  • জলাতঙ্ক রোগের চিকিৎসা
  • জলাতঙ্ক কি
  • জলাতঙ্ক রোগ কি
  • জলাতঙ্ক রোগের হোমিও চিকিৎসা
  • জলাতঙ্ক রোগের টিকার দাম
  • জলাতঙ্ক রোগের ঔষধ
  • গরুর জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ
  • জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাসের নাম কি
  • বিড়ালের জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ
  • জলাতঙ্ক রোগের ডাক্তার
  • জলাতঙ্ক রোগ কাকে বলে
বিস্তারিত

বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১

ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ COPD (Chronic Obstructive Pulmonary Disease)

সিওপিডি এবং এর হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ও চিকিৎসা সম্পর্কে থাকছে এ পর্বে। ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারী ডিজিজ (COPD - Chronic Obstructive Pulmonary Disease) যাকে সহজ বাংলায় পুরাতন বা দীর্ঘস্থায়ী অবরোধক অর্থাৎ রুদ্ধ শ্বাস ফুসফুসীয় ব্যাধি বলে অবহিত করা হয়। সিওপিডি এর প্রচলিত পরিস্থিতি হল ক্রনিক ব্রংকাইটিস (Chronic Bronchitis), এম্ফাইসেমা (Emphysema) এবং স্থায়ীভাবে শ্বাসকষ্ট। কোন ব্যক্তির দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক ব্রংকাইটিস হলে তার উপসর্গগুলি হবে এক নাগাড়ে কাশি আর তার সঙ্গে শ্লেষ্মা ক্ষরণ। 

এম্ফাইসেমার ক্ষেত্রে, অ্যালভিওলাই অর্থাৎ আমাদের ফুসফুসের মধ্যে থাকা ছোটো ছোটো বায়ুথলি আক্রান্ত হয় এবং বিভিন্ন বায়বীয় অস্বস্তিকারক পদার্থ যেমন: সিগারেটের ধোঁয়া, ক্রমাগত ধূলোবালিতে থাকা, কারখানার দূষিত ধোঁয়া ইত্যাদির কারণে ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যায়। এখানে মূলতঃ বায়ু থলিগুলির বেশ কিছু দেয়াল নষ্ট হয়ে যায়। যেহেতু এই দেয়ালের মাধ্যমেই আমাদের রক্ত প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পায়, নষ্ট দেয়ালের জন্যে আমাদের শরীর যথেষ্ট পরিমাণ অক্সিজেন পায় না।
ফুসফুস
সিওপিডি খুবই জটিল প্রকৃতির রোগ কারণ এটি ধীরে ধীরে ডেভেলপ করে এবং প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে ঠিক করতেও বেশ সময় নিয়ে থাকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। যাদের বয়স চল্লিশের উপর তাদের ক্ষেত্রেই এই রোগের প্রকোপটা বেশি দেখা যায় অর্থাৎ এটা মধ্য বয়সে বা বৃদ্ধ অবস্থায় ধরা পড়ে। আর সে বয়সে লোকজন আরো বিভিন্ন প্রকার স্বাস্থ্য সমস্যায়ও আক্রান্ত থাকেন। সিওপিডি শুরু হয় ধীরে ধীরে। কিন্তু বাড়তে বাড়তে এমন অবস্থায় পৌঁছায় যে, হাঁটাচলা করাও কঠিন হয়ে ওঠে। এটি সারানোর কোন এলোপ্যাথিক ওষুধ নেই। তবে বিভিন্ন এলোপ্যাথিক বা রাসায়নিক ঔষধ দিয়ে উপসর্গকে কিছুটা প্রশমিত রাখা যায় এবং রোগী আরাম পায়।

সিওপিডি সমস্যায় বহুলোক তাদের কর্মক্ষমতা হারাচ্ছে এবং বহু লোক মারাও যাচ্ছে। এটা যে ধীর গতিতে ডেভেলপ করে তাতে অনেকেই বুঝতেই পারে না যে তারা এই সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক কোটি কুড়ি লক্ষ লোকে এই অসুখে ভুগছে। আসল সংখ্যা হয়ত তার থেকেও বেশী। তাদের অনেকেই প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় আওতাধীনে না এসে এলোপ্যাথিক রাসায়নিক ঔষধ গ্রহণ করে থাকে যার কারণে এই সমস্যায় তাদের মৃত্যু হারও বেশি। 
এই রোগের কার্যকার কোন এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই তবে জটিলতা বা কষ্ট কমায় এবং আরাম দেয়। তবে হোমিওপ্যাথিতে এই সমস্যার স্থায়ী চিকিৎসা রয়েছে। সিপিওডি সমস্যায় ঠিকঠাক চিকিৎসা না হলে জটিলতা গুরুতর আকার ধারণ করে যেমন হৃৎপিণ্ডের সমস্যা এবং শ্বাস সংক্রান্ত ক্রনিক সংক্রমণ ইত্যাদি।
সিওপিডি COPD সমস্যায় প্রাথমিক অবস্থায় যেমন কিছু লক্ষণ ও উপসর্গ প্রকাশ পায় ঠিক তেমনি সমস্যার বিলম্বিত অবস্থায়ও জটিল কিছু লক্ষণ ও উপসর্গ প্রকাশ পায়। তবে এটি কষ্টদায়ক রোগ হওয়ায় যথাসময়ে প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।
COPD-Chronic Obstructive Pulmonary Disease

সিওপিডি সমস্যায় প্রাথমিক লক্ষণ ও উপসর্গ

  • ক্রনিক স্থায়ী কাশি বা নিরন্তর কাশি
  • কাশতে কাশতে বুকে চাপবোধ এবং দমবন্ধ ভাব
  • কাশির সাথে শ্লেষ্মা নির্গত হওয়া
  • শ্বাসকষ্ট হবে এটাই স্বাভাবিক
  • শ্বাসপ্রশ্বাসের সময় শব্দ হওয়া
  • বুকের মধ্যে সাই সাই শব্দ হতে থাকে
  • হাঁটাচলা করলে নিদারুন ক্লান্তি 

সিওপিডি সমস্যায় বিলম্বিত লক্ষণ ও উপসর্গ

  • হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া
  • জিহ্বা নীল বর্ণ ধারণ করা
  • নখ ও ঠোঁটের রঙ নীলাভ হয়ে যাওয়া
  • হাতের আঙুলের অংগ্রভাগ ফুলে উঠা
  • পা, পায়ের পাতা, গোড়ালী ফুলে উঠা
  • মানুষিক ভাবে অন্যমনস্ক থাকা 

যে যে কারণে সিওপিডি জেগে উঠতে পারে

  • যাদের এই সমস্যার পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে। 
  • রোগীর নিজের বা নিকট আত্মীয়ের কারো টিবি বা যক্ষার ইতিহাস রয়েছে। 
  • যারা হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট সমস্যায় ভোগছেন এবং এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নিয়ে রোগ নিয়ন্ত্রণ করেছেন। 
  • সিওপিডি সমস্যার পেছনে যে বিষয়টি বাহ্যিক ভাবে সবচেয়ে বেশি ট্রিগার করে তা হল - ধুমপান। অ্যাক্টিভ ও প্যাসিভ ধূমপায়ীরা সমান ঝুঁকি থাকে।
  • দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলের ক্ষতিকারক ধোঁয়া, ধুলো, উগ্র রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ সিওপিডি সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলে। 
  • দীর্ঘদিন যাবৎ যারা হার্টের সমস্যা ও ডায়াবেটিস আক্রান্ত আছেন এবং এ সমস্যায় এলোপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করে রোগ নিয়ন্ত্রণ করছেন। 
  • বায়ু দূষণ, যানবাহনের ধোয়াও এ রোগ জেগে উঠার ক্ষেত্রে ট্রিগার করে। 
আপনি হয়তো দেখে থাকবেন একই সাথে বহুলোক একই রকম পরিবেশে বসবাস করলেও তাদের সবাই কিন্তু এই সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে না। তাদের থেকে কিছু মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। একই পরিবেশে বাকিদের সমস্যা হচ্ছে না কেন ? একটা প্রশ্ন থেকে যায়। আসুন উত্তরটাও জেনে নিই।

সিওপিডি সমস্যার চিকিৎসা

সিওপিডি এর কার্যকর এবং স্থায়ী কোন এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই। কারণ এই রোগগুলি জেগে উঠে আমাদের ডিএনএ তে বিদ্যমান প্রিডোমিন্যান্ট কিছু প্রকৃত রোগ অর্থাৎ True Disease এর কারণে যা মূলত মানুষ জন্মগত ভাবে প্রাপ্ত হয়। বয়স বাড়ার সাথে বিভিন্ন পরিপোষক কারণ, অস্বাস্থ্যকর জীবন ধারা, পরিবেশগত বা অন্যকোন কারণে যখন ব্যক্তির ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হতে থাকে তখন ব্যক্তির  ডিএনএ তে বিদ্যমান প্রকৃত রোগটি তার ফুসফুসে বিভিন্ন লক্ষণ উপসর্গ জাগিয়ে তুলে। এইসব  লক্ষণ উপসর্গকে বিভিন্ন নামে চিহ্নিত করে চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে বিভিন্ন থেরাপিউটিক সিস্টেমে। ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ COPD (Chronic Obstructive Pulmonary Disease) হলো তেমনি কিছু লক্ষণ বা উপসর্গের সমষ্টি। 
ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ - সিওপিডি নির্মূলের সর্বাধিক কার্যকর চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। তবে এর জন্য দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক নির্বাচন করা প্রয়োজন যিনি এই সমস্যাগুলির চিকিৎসা দিতে জানেন। 
প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে এই সমস্যাকে স্থায়ী ভাবে ঠিক করতে হলে ব্যক্তির শিশু কালের হিস্ট্রি, তার নিকট আত্মীয় যেমন মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদি, নানা-নানীর হিস্ট্রি প্রয়োজন। তারা কে কোন কোন রোগে ভুগেছেন কে কোন রোগে মারা গিয়েছেন সেগুলির বিস্তারিত তথ্য জেনেই দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক রোগীর ডিএনএ তে প্রিডোমিন্যান্ট প্রকৃত রোগটি নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করবেন এবং সমস্যার পেছনে কোন পরিপোষক কারণ থাকলে সেটা থেকেও পেশেন্টকে দূরে থাকতে বলবেন। 

যেহেতু একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম প্রকৃত রোগ বা True Disease বিদ্যমান থাকতে পারে এবং একেক জনের রোগের তীব্রতা বা জটিলতা একেক রকম হয়ে থাকে তাই একেক জনের ক্ষেত্রে আরোগ্য হওয়ার ধরণ এবং সময়ও ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে পেশেন্টের উচিত ইনভেস্টিগেশনের সময় বিস্তারিত তথ্য দিয়ে চিকিৎসকে সাহায্য করা এবং ধৈর্য ধরে চিকিৎসা নেয়া। কারণ হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতে স্টেপ বাই স্টেপ চিকিৎসার মাধ্যমে এই সমস্যা এক সময় স্থায়ীভাবে নির্মূল হয়ে যায় এবং রোগী স্থায়ী আরোগ্য লাভ করে থাকে।

সিওপিডি সমস্যায় হোমিওপ্যাথিক ঔষধ

ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারী ডিজিজ এর ক্ষেত্রে ক্রনিক ব্রংকাইটিস, এম্ফাইসেমা এবং স্থায়ীভাবে শ্বাসকষ্ট সমস্যায় (Synthesis Repertory) রেপার্টরীতে যে যে হোমিও ঔষধ রয়েছে-
Chronic Obstructive Pulmonary Disease

Chronic Obstructive Pulmonary Diseaseযা যা জেনেছেন

  • সিওপিডির ঔষধ
  • সিওপিডি কি
  • সিওপিডির লক্ষণ
  • সিওপিডি রোগ কি
  • সিওপিডি রোগের লক্ষণ
  • সিওপিডি রোগ নির্ণয়
  • সিওপিডি ও এজমা
  • সিওপিডি এর কারণ কি
  • সিওপিডি এর চিকিৎসা
  • সিওপিডি এর পুরো নাম কি
  • ব্রংকাইটিস এর লক্ষণ
  • ব্রংকাইটিস কি ভালো হয়
  • ব্রংকাইটিস কেন হয়
  • ব্রংকাইটিস এর হোমিও চিকিৎসা
  • ব্রংকাইটিস চিকিৎসা
  • ব্রংকাইটিস রোগের চিকিৎসা
  • Copd লক্ষণ
  • ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস কি
  • Copd বাংলা
  • Copd কি
  • ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ
বিস্তারিত