Dr. Imran ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান ➤ ডিএইচএমএস - বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল; ঢাকা
➤ ডিএমএস(অ্যালো), বিএসসি এন্ড এমএসসি(ফিজিক্স) - ঢাকা
➤ রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক(রেজিঃ নং-৩৩৪৪২)
➤ বিশেষত্বঃ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, ইউরোলজি, গাইনিকোলজি (হোমিও মেডিসিন)
➤ আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
➤ ফোন : +৮৮ ০১৬৭১-৭৬০৮৭৪ এবং ০১৯৭৭-৬০২০০৪
➤ সাক্ষাৎ : সকাল ১০ থেকে বিকাল ৫ টা
➤ প্রোফাইল ➤ ফেইসবুক ➤ ভিডিও

সাম্প্রতিক আপডেট

জন্মগত ত্রুটি

শিশুর জন্মগত ত্রুটি এবং মারাত্মক রোগ ব্যাধির কার্যকর চিকিৎসা

ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস নির্মূলের ম্যাজিক থেরাপি এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

ভেরিকোসিল

ভেরিকোসিলের অপারেশনবিহীন স্থায়ী চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি

আইবিএস

পেটের পীড়া আইবিএস নির্মূলের স্থায়ী চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি

আইবিডি

পরিপাক তন্ত্রের পীড়া আইবিডি নির্মূলের চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি

মলদ্বারের রোগ

পাইলস, এনাল ফিশার এবং ফিস্টুলা সমস্যায় হোমিওপ্যাথি

নারী স্বাস্থ্য

নারীদের অর্থাৎ স্ত্রীরোগ সম্পর্কিত বিষয়াবলী

পুরুষদের স্বাস্থ্য

পেটের পীড়া আইবিএস নির্মূলের স্থায়ী চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি।

নারী স্বাস্থ্য স্ত্রীরোগ
নারীদের অর্থাৎ স্ত্রীরোগ সম্পর্কিত বিষয়াবলী
মা ও শিশু স্বাস্থ্য
মা ও শিশু স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়াবলী
পুরুষদের স্বাস্থ্য
পুরুষদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়াবলী
রোগ-ব্যাধি অসুখবিসুখ
নানা প্রকার রোগ-ব্যাধি সম্পর্কিত বিষয়াবলী
স্বাস্থ্য বিষয়ক টিপস
স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যাবতীয় টিপস ও ট্রিকস

সাম্প্রতিক আপডেট

সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২০

অল্প সময়ে ইনসুলিন ফ্রি হচ্ছেন ডায়াবেটিস রোগীরা! হোমিওপ্যাথিক ম্যাজিক ট্রিটমেন্ট

আজ আপনারা জানবেন, অল্প খরচে এবং অল্প সময়ে বহু বছর যাবৎ ইনসুলিন নিচ্ছেন এমন Diabetes ডায়াবেটিস রোগীরা কিভাবে প্রোপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে ইন্সুলিন ফ্রি হবেন এবং ধীরে ধীরে এই সমস্যা থেকে কিভাবে সেরে উঠবেন কোন প্রকার জটিলতা ছাড়াই। এটি মূলত অল্প খরচে প্রাকৃতিক উপায়ে ডায়াবেটিস চিকিৎসা এবং ডায়াবেটিস সারানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তবে এর জন্য অবশ্যই রেজিস্টার্ড এবং দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরি। অন্যথায় আপনি হয়তো কোন ফলাফলই পাবেন না। এবার আসুন মূল বিষয়ে আসি- 

দীর্ঘদিন যাবৎ মেডিক্যাল মাফিয়ারা মানুষকে বুঝিয়ে আসছে ডায়াবেটিসে একবার আক্রান্ত হলে, সে রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যায় না বরং এলোপ্যাথিক বা বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক ঔষধ সারা জীবন ধরেই নিয়ে যেতে হয়। নিজেকে শিক্ষিত পরিচয় দেয়া এলিট শ্রেণীর বহু অজ্ঞ লোকজনই তাদের অনুসরণ করে আসছে শুরু থেকেই। বিনিময়ে দিন দিন আরো নানা জটিল পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে দুঃসহ জীবন যাপন করে একসময় সুন্দর পৃথিবীর বুকে নরক যন্ত্রনা ভোগ করে করে একসময় পরপারে পাড়ি জমিয়েছে এবং এখনও সে ধারা অব্যাহত রয়েছে।

বিভিন্ন রাসায়নিক ঔষধ ক্রমাগত শরীরে প্রয়োগ করার ফলে মানুষ দিন দিন আরো জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মেডিসিনের সংখ্যাও। মূলত এটি হলো মেডিক্যাল মাফিয়াদের একটি বিজনেস পলিসি। রোগ নির্মূল না করে বরং রোগ নিয়ন্ত্রণ বা পুষে রাখার পদ্ধতি হলো তাদের ঔষধ ব্যবসার নীতি। মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে তারা এটি করে আসছে যুগ যুগ ধরে। যাদের জন্য যে ঔষধের কোন প্রয়োজন নেই তাদেরকেও নানা প্রকার ক্ষতিকর ঔষধ প্রয়োগ করে রোগী বানিয়ে দিচ্ছে। অথচ প্রোপার হোমিও চিকিৎসার মাধ্যমে এবং আপনার দৈনন্দিন খাবার দাবার আর জীবন যাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন আনলেই ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা থেকে আপনি অনায়াসেই মুক্ত থাকতে পারেন। আজকাল মিডিয়ার সুবিধা সবার হাতের লাগালে চলে আসায় মানুষ সত্য মিথ্যা যাচাই করার সুযোগ পাচ্ছে।
অনেকেই জানেন না যে - ডায়াবেটিস সমস্যায় প্রথম দিকে কোন প্রকার রাসায়নিক ঔষধ শরীরে প্রয়োগ না করে অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তার দেখিয়ে প্রোপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিলে এই সমস্যাটি কয়েক মাসের মধ্যেই নির্মূল হয়ে যায়।
মানব দেহের অনেক দুরারোগ্য সমস্যার পেছনে দায়ী রয়েছে এই ডায়াবেটিস যেমন - চোখের সমস্যা, হৃদরোগ, স্ট্রোক বা কিডনির সমস্যা ইত্যাদি। ডায়াবেটিস হলে কেউ যদি প্রোপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে সেটাকে না সারিয়ে এলোপ্যাথিক বিভিন্ন রাসায়নিক ঔষধের মাধ্যমে শুধু নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে যায় তাহলে সেই সকল রাসায়নিক ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ব্যাক্তির ভাইটাল ফোর্স বা জীবনী শক্তি দিন দিন দুর্বল থেকে দুর্বলতর হতে থাকে এবং যত দিন যেতে থাকে ততই নানা প্রকার দুরারোগ্য এবং জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা শরীরে বাসা বাঁধতে থাকে। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় একটি দুঃসহ জীবন নিয়ে চলতে হয়। আপনার আশেপাশে একটু চোখ কান খোলা রাখলেই এই রকম অনেক রোগী পেয়ে যাবেন যারা বেঁচে থেকেও নরক যন্ত্রণা সহ্য করে চলেছেন শুধু মাত্র সঠিক সময় সঠিক চিকিৎসাটি না পাওয়ার কারণে।
হোমিওপ্যাথিক ম্যাজিক ট্রিটমেন্ট
ডায়াবেটিস রোগীরা প্রথম দিকে কোন প্রকার এলোপ্যাথিক চিকিৎসা না নিয়ে অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তার কর্তৃক প্রোপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ রোগীরাই ৪-৬ মাসের মধ্যেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ করেন। কিন্তু যারা বহুদিন যাবৎ ডায়াবেটিসে ভুগছেন এবং বছরের পর বছর নানা প্রকার রাসায়নিক ঔষধের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে আরো দূরারোগ্য জটিল রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা থেকে সেরে উঠতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। তবে হোমিও চিকিৎসা শুরু করার কিছু দিনের মধ্যেই যারা ইনসুলিন ছাড়া এক দিনও থাকতে পারতেন না তাদের অধিকাংশই অল্প সময়ে ইনসুলিন ফ্রি হয়ে যান অর্থাৎ সুগার লেভেল স্বাভাবিক হয়ে আসায় তাদের ইনসুলিন নেয়ার আদৌ কোন প্রয়োজন পড়ে না। এর সাথে ভাইটাল ফোর্স অর্থাৎ জীবনীশক্তি দিন দিন বাড়তে থাকায় শরীরে শক্তি অনুভব করতে থাকেন। তখন তাদের দেহ এবং মনে সতেজতা এবং আনন্দ বিরাজ করে।

ডায়াবেটিস রোগীদের হোমিও চিকিৎসা নিলে সুবিধা

  • চিকিৎসা খরচ এলোপ্যাথির তুলনায় বহুগুন কম
  • ঔষধ খাওয়ার তেমন কোন ঝামেলা নেই
  • ঔষধ খুব দ্রুত কাজ করে এবং দ্রুত ফল দিতে শুরু করে
  • চিকিৎসার শুরুতেই শরীর ও মনে পরিবর্তন আসে
  • যারা ইনসুলিন নিচ্ছেন তারা খুব দ্রুত ইনসুলিন ফ্রি হয়ে যান
  • ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে মুক্ত থাকা যায়
  • কোন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নেই
  • দ্রুত ভাইটাল ফোর্স অর্থাৎ জীবনীশক্তি উন্নত হতে থাকে
  • অন্যকোন জটিল রোগে আক্রান্ত থাকলে সেটিও ঠিক হয়ে আসে
  • খুব তাড়াতাড়ি শরীরে শক্তি ফিরে আসে
  • দেহ এবং মনে দ্রুত সতেজতা এবং আনন্দ ফিরে আসে
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের মূলতঃ হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতে একটি শক্তিশালী জেনেটিক ট্রিটমেন্ট দেয়া হয়ে থাকে। আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন যে - মানব শিশু তাদের পিতামাতা থেকেই ক্রোমোজোমের মাধ্যমে তাদের পূর্ব পুরুষের রোগ ব্যাধি বা সেগুলির জেনেটিক ম্যাটেরিয়ালস পেয়ে থাকে। যেগুলিকে আমরা প্রকৃত রোগ বা True Disease বলে থাকি। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে বিভিন্ন কারণে যখন মানুষের ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হতে থাকে তখন ভেতরে থাকা সেই প্রকৃত রোগটি বিভিন্ন উপসর্গ প্রকাশ করতে থাকে। আর সেই উপসর্গগুলিকে বিভিন্ন রোগের নামে নামকরণ করে থাকে বিভিন্ন ট্রিটমেন্ট সিস্টেম।

হোমিওপ্যাথি ছাড়া অন্যান্য চিকিৎসা শাস্ত্রগুলি যেহেতু প্রকৃত রোগটি নির্ণয় না করে সেটি দ্বারা সৃষ্ট উপসর্গগুলিকে রোগের নাম দিয়ে চিকিৎসা করে তাই True Disease বা প্রকৃত রোগটি কখনই নির্মূল হয় না, যার ফলে উপসর্গ কিছু সময়ের জন্য দূর হলেও আবার জেগে উঠে। এভাবে ঔষধ খেয়ে খেয়ে থাকতে হয় আর রোগ জটিলতাও দিন দিন বাড়তে থাকে। কিন্তু হোমিওপ্যাথি মানুষের প্রকৃত রোগটির চিকিৎসা দিয়ে সেটিকে ঠিক করে বিধায় সৃষ্ট উপসর্গগুলি একেবারে দূর হয়ে যায়।

যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন তারা মূলত একাধিক প্রকৃত রোগ বা True Disease এর অধিকারী অর্থাৎ Multiple Miasm এর হয়ে থাকেন। তাই তাদের জীবন দর্শন, শিশুকাল থেকে এখন পর্যন্ত যাবতীয় রোগের ইতিহাস, পিতা-মাতা, নানা-নানী, দাদা-দাদীর হিস্ট্রি নিয়ে এক্সপার্ট একজন হোমিও চিকিৎসক তার মধ্যে থাকা প্রকৃত রোগগুলি নির্ণয় করে ধাপে ধাপে সেগুলিকে ঠিক করার জন্য পর্যায়ক্রমে ডায়নামিক হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন প্রয়োগ করে থাকেন। একসময় তার শরীরের যাবতীয় রোগ ব্যাধির উপসর্গ নির্মূল হয়ে পূর্ণাঙ্গ সুস্বাস্থ্য ফিরে আসে।
ফ্যামিলি হিস্ট্রি নিয়ে প্রোপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় খুব দ্রুত দুর্বল জীবনীশক্তির ডায়াবেটিস পেসেন্টদের ভাইটাল ফোর্স শক্তিশালী করা হয় বলে ঔষধ প্রয়োগ করার সাথে সাথেই তারা শরীরে তার প্রতিক্রিয়া অনুভব করতে থাকে। এর সাথে চলে ডায়াবেটিস নির্মূলের একটি প্রাকৃতিক ম্যাজিক থেরাপি
বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন এলোপ্যাথিক বা রাসায়নিক ঔষধ শরীরে প্রয়োগের ফলে সৃষ্ট ট্রমা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দূর করে নির্জীব জীবনীশক্তিকে সঞ্জীবনী শক্তি দিতে অথাৎ দুর্বল ভাইটাল ফোর্সকে শক্তিশালী করতে অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ডাইনামিক হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্দিষ্ট নিয়মে নির্দিষ্ট মাত্রায় প্রয়োগ করার দরকার পড়ে কিছু কিছু পেসেন্টের। এছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে আরো কিছু ম্যানেজমেন্টেরও প্রয়োজন হয় যা চিকিৎসক প্রয়োজনবোধে দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য নানা প্রকার অপচিকিৎসা নিয়েছেন এবং একের পর এক রাসায়নিক ঔষধ প্রয়োগ করে করে শরীরে আরো জটিল জটিল রোগ ব্যাধি যেমনঃ উচ্চ রক্ত চাপ, কিডনি সমস্যা, হার্টের সমস্যা ইত্যাদি সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে নিবিড় যোগাযোগে রেখে ঔষধ প্রয়োগ করে করে স্বাভিবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হয়।

আর যারা কোন ধরনের অপচিকিৎসার খুব বেশি শিকার হননি অর্থাৎ বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন এলোপ্যাথিক বা রাসায়নিক ঔষধ প্রয়োগের ফলে ভেতরে খুব বেশি মেডিসিনাল ট্রমা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরী করেননি অর্থাৎ আরো জটিল জটিল রোগ ব্যাধি যেমনঃ উচ্চ রক্ত চাপ, কিডনি সমস্যা, হার্টের সমস্যা ইত্যাদিতে আক্রান্ত হননি তারা খুব দ্রুত ইম্প্রোভমেন্টের দিকে আগায় যা হয়তো অনেকের কাছেই ম্যাজিকের মতো মনে হয়।

ডায়াবেটিস চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথিক ঔষধ

হোমিওপ্যাথিতে ডায়াবেটিস চিকিৎসার জন্য রয়েছে বহু কার্যকর মেডিসিন। যেগুলি থেকে কেইস টেকিং এর মাধ্যমে পেশেন্টের জন্য নির্বাচিত ঔষধ যথাযথ ভাবে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। আর এই কাজটি করে থাকেন এক্সপার্ট একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। এখানে Synthesis Repertory থেকে ডায়াবেটিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত হোমিওপ্যাথিক ঔষধগুলি দেয়া হলো -
ডায়াবেটিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ
এছাড়া ইউরিন চ্যাপ্টারে সুগারের জন্য আমরা পাই নিম্নুক্ত ঔষধগুলি-
Synthesis Repertory Urine Sugar
বলতে গেলে একমাত্র হোমিওপ্যাথি ছাড়া আর কোন ট্রিটমেন্ট সিস্টেমে ডায়াবেটিস চিকিৎসার জন্য এতো ঔষধ নেই। তবে এই সকল ঔষধ থেকে পেশেন্টের জন্য কেইস হিস্ট্রি নিয়ে নির্বাচিত ঔষধটি প্রয়োগ করতে হয় হোমিওপ্যাথির নির্দিষ্ট নিয়মনীতি মেনে। অন্যথায় আপনি কোন ফলাফল পাবেন না। তাই ডায়াবেটিস সমস্যায় কার্যকর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পেতে অবশ্যই রেজিস্টার্ড এবং অভিজ্ঞ কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরি।

যে বিষয়গুলি আপনি জেনেছেন -

  • প্রাকৃতিক উপায়ে ডায়াবেটিস চিকিৎসা
  • ডায়াবেটিস চিকিৎসায় নতুন উপায়
  • ডায়াবেটিসের প্রাকৃতিক চিকিৎসা
  • ডায়াবেটিস কমানোর উপায়
  • ডায়াবেটিস বেড়ে গেলে করনীয়
  • ডায়াবেটিস সারানোর উপায়
  • ডায়াবেটিস এর আধুনিক চিকিৎসা
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে হোমিও
  • ইনসুলিন হোমিও
  • বহুমূত্র রোগের হোমিও ঔষধ
  • ডায়াবেটিস এ হোমিও চিকিৎসা
  • হোমিওপ্যাথিক ঔষধের মাধ্যমে ডায়াবেটিসের স্থায়ী মুক্তি
বিস্তারিত

সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২০

কার্বাংকল Carbuncles সারা শরীরে ফোঁড়া - কারণ লক্ষণ এবং স্থায়ী চিকিৎসা

কার্বাঙ্কল মূলত লাল, ফোলা এবং ব্যথাযুক্ত একপ্রকার ফোঁড়া এবং এই ফোড়া বেশ বেদনাদায়ক হয়ে থাকে যেগুলি গুচ্ছাকারে ত্বকের নীচে একে অপরের সাথে সংযুক্ত থাকে। এই ফোঁড়া বা কার্বাংকল Carbuncle হচ্ছে চামড়ার লোমকূপ বা হেয়ার ফলিকলের একপ্রকার সংক্রমণ যেগুলির মধ্যে পুঁজ থাকে। এই যন্ত্রণাদায়ক কার্বাংকল শরীরের যেকোন স্থানেই হতে পারে যেমন - নিতম্ব, উরু, কুঁচকি এবং বগলে। তবে তা পিঠে ও ঘাড়ের পিছন দিকে সবচেয়ে বেশি হতে দেখা যায়। মহিলাদের তুলনায় পুরুষেরা বেশি কার্বাংকলে আক্রান্ত হয়ে থাকে। যেহেতু এই সমস্যা সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া সংক্রামক তাই একই সময়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কার্বাংকল হতে পারে। প্রায়ই কার্বাংকল এর কারণ নির্ণয় করা যায় না।

কার্বাংকল Carbuncles - কারণ 

বেশির ভাগ কার্বাংকল Staphylococcus Aureus ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্টি হয়ে। এই ব্যাকটিরিয়াগুলি চুলের ফলিকল, ছোট আঁচড় বা ছিদ্র দিয়ে ত্বকে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়, যদিও কখনও কখনও প্রবেশের কোনও সুস্পষ্ট বিন্দু থাকে না। সংক্রমণটি ছোঁয়াচে, অর্থাৎ এটি দেহের অন্যান্য অংশে বা অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কার্বাঙ্কল যেকোন জায়গায় হতে পারে। কিন্তু তা পিঠে ও ঘাড়ের পিছন দিকে হতে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। মহিলাদের তুলনায় পুরুষেরা বেশি কার্বাংকলে আক্রান্ত হয়ে থাকে। যেহেতু সমস্যা সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া সংক্রামক তাই একই সময়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কার্বাংকল হতে পারে। প্রায়ই কার্বাংকল এর কারণ নির্ণয় করা যায় না।

কার্বাংকল Carbuncles - লক্ষণসমুহ

  • চামড়ার নিচে ফোলা পিণ্ড দেখা দেয়া
  • লাল বর্ণ ধারণ করা এবং জ্বালাপোড়া করা
  • স্পর্শকাতর ব্যথা হওয়া 
  • খুব দ্রুত বেড়ে উঠা 
  • পুঁজ দ্বারা পরিপুর্ণ থাকা
  • পুঁজ বের হওয়া
  •  অন্যান্য ত্বকের অংশে ছড়িয়ে পড়া
এছাড়াও আরো কিছু লক্ষণ এবং উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে, তবে সেগুলি ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে যেমনঃ
  • জ্বর জ্বর অনুভব করা
  • অস্বস্তি বোধ করা 
  • ক্লান্তি বোধ করা 
  • কার্বাংকল হওয়ার পূর্বে ত্বকে চুলকানি

কার্বাংকল Carbuncles - ঝুঁকিতে আছেন যারা 

  • কিডনি সমস্যা যাদের আছে 
  • লিভারের সমস্যা যাদের আছে 
  • ডায়াবেটিস যাদের আছে 
  • দুর্বল ইমিউন সিসটেম
  • পুরাতন চর্মরোগ যাদের আছে 

কার্বাংকল Carbuncles - চিকিৎসা 

চিকিৎসা দিতে গিয়ে দেখেছি যারা এই সমস্যায় আক্রান্ত হন তারা সুচিকিৎসা না পেয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ এই সমস্যাটি নিয়ে কষ্টকর একটি জীবন যাপন করে আসছেন। অথচ প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় কার্বাংকল Carbuncles বা শরীরে এই ফোঁড়ার সমস্যা চিরতরে নির্মূল হয়ে যায়। হোমিওপ্যাথিতে এই সমস্যা নির্মূলের অনেক মেডিসিন রয়েছে। এখানে Oscar E Boericke এর রেপার্টরী থেকে দেখানো হলো -
Oscar E Boericke-Carbuncles
একই ভাবে Synthesis Repertory তে কার্বাংকল Carbuncle এর জন্য যে মেডিসিনগুলি রয়েছে -
Synthesis Repertory-Carbuncles
এই ঔষধগুলি থেকে চিকিৎসক কেইস টেকিং এর সময় আপনার বিস্তারিত তথ্যাদি নিয়ে আপনার উপযোগী ঔষধ আপনার শরীরে নির্দিষ্ট মাত্রায় প্রয়োগ করবেন। এই সমস্যায় কেউ আক্রান্ত হয়ে থাকলে অভিজ্ঞ কোন হোমিও চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করে সুচিকিৎসা নিন, দেখবেন সমস্যাটি কিছুটা সময়ের ব্যবধানে চিরতরে নির্মূল হয়ে আপনি সুস্থ হয়ে উঠছেন। ধন্যবাদ
বিস্তারিত

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২০

পাইলস, এনাল ফিশার এবং ফিস্টুলা বা ভগন্দর - কারণ লক্ষন চিকিৎসা ও হোমিওপ্যাথিক ঔষধ

অর্শ বা পাইলস Haemorrhoids (Piles), এনাল ফিশার (Anal Fissure), অ্যানাল ফিস্টুলা Anal Fistula (ভগন্দর) ইত্যাদি হলো মানুষের মলদ্বারের জটিল এবং কষ্টদায়ক রোগগুলির মধ্যে অন্যতম। কেউ এই সমস্যাগুলির যেকোন একটিতে আক্রান্ত হলে যদি প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা না নিয়ে বিভিন্ন অপচিকিৎসার শিকার হয় তাহলে তাদের কষ্ট বা দুর্ভোগের সীমা থাকে না। যথা সময়ে প্রপার হোমিও চিকিৎসা নিলে এই সমস্যাগুলি তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যায় কিন্তু রোগটি যদি বহু দিনের পুরাতন হয়ে যায় বা ক্রনিক অবস্থায় থাকে তাহলে পুরুপুরি সারতে কিছুটা সময় লাগে। তবে হোমিও চিকিৎসার শুরুতে কয়েক দিনের মধ্যেই রোগীর যাবতীয় জটিল উপসর্গ বা কষ্টগুলি কমতে শুরু করে বিধায় রোগী প্রথম দিকেই অনেক আরাম অনুভব করতে থাকে।

অর্শ বা পাইলস Hemorrhoids (Piles)

অর্শ বা পাইলস হলো মলদ্বারের ভেরিকোজ ভেইন অর্থাৎ রেক্টামের নিচের অংশে মলদ্বারে ফুলে যাওয়া এবং ফাঁপা শিরা। এই রোগ হলে মলদ্বারে আঙ্গুর ফলের মতো বলি বের হতে পারে, সাথে রক্তপাত, মলদ্বার ভেজা, চুলকানি এবং জ্বালাযন্ত্রণা থাকতে পারে। অর্শ বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যদিও এর সঠিক কারণ প্রায়ই জানা যায় না। তবে আমরা যেগুলি বেশি দেখে থাকি এর মধ্যে রয়েছে- দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য, দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া, পরিবারে কারও পাইলস থাকার ইতিহাস ইত্যাদি। এছাড়া মলত্যাগের সময়ে অত্যধিক চাপ দেওয়ার কারণে বা গর্ভাবস্থায় রেক্টামের শিরার উপর চাপ পড়ার কারণেও হতে পারে।

লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে - পায়খানার সময় ব্যথাহীন রক্তপাত হওয়া, মলদ্বারে জ্বালাপোড়া, যন্ত্রণা বা চুলকানি হওয়া, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মলদ্বারে ব্যথাও হতে পারে। এটি নির্ভর করে অর্শের তীব্রতার উপরে। যে অর্শ কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য হয়, খাদ্যাভ্যাসের এবং জীবনধারার গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করা উচিত।

এনাল ফিশার (Anal Fissure) মলদ্বারে ফাটা, ঘা

এনাল ফিশার মলদ্বারের বা পায়ুপথের আরকেটি জটিল প্রকৃতির রোগ। এই রোগের সাধারণ লক্ষণ হল ব্যথা এবং রক্তপাত। সাধারণত, মলত্যাগ করার সময় ব্যথাটা শুরু হয় এবং প্রায় এক ঘন্টার জন্য থাকতে পারে। এতে ফোলাভাব ও অনুভব করা যায়। সাধারনত ব্যথার তীব্রতা সহ্য করা যায়, কিন্তু কখনো কখনো অসহ্য ব্যথাও হতে পারে। পায়খানায়, টিস্যু পেপারে, বা মলদ্বারের চারপাশে লাল রক্তের দাগ দেখা যায়। এছাড়া জ্বালা, চুকলানি, রক্ত, পুঁজ ইত্যাদি দেখা দিয়ে থাকে। মলদ্বারের চামড়ায় একটি পাতলা ফাটল দেখা যায়। দুইবার মলত্যাগ করার মাঝে এই লক্ষণগুলো সাধারনত আর দেখা যায় না।

প্রধানত কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য পায়ু নালীর মাধ্যমে শক্ত, বড় আকারের মল নামার ফলে এনাল ফিশার হয়। ইনফ্লেমমেটরি বাওয়েল ডিজিজ আইবিডি, যেমন - ক্রনস ডিজিজ এর ফলেও ফিশার হতে পারে। গর্ভাবস্থায় এবং সন্তানের জন্মের সময় ফিশার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও পাতলা পায়খানা এবং স্থায়ী ডায়রিয়া ও এই রোগের কারণ হতে পারে।

অ্যানাল ফিস্টুলা Anal Fistula (ভগন্দর)

মলদ্বারে ফোঁড়া বা অ্যাবসেস হলে সেটা এক সময় বাইরে এবং পায়ুপথের ভিতরে ফেটে যায় এবং পায়ুপথের সঙ্গে বাইরের একটি সংযোগ বা নালি তৈরি করে যাকে Anal Fistula অ্যানাল ফিস্টুলা বা ভগন্দর বলা হয়ে থাকে। এটি দিয়ে মলদ্বার বা পায়ুপথ থেকে পুঁজ, রক্ত, মল ইত্যাদি বাইরে আসতে থাকে।

মলদ্বারের ভেতরে অনেক গ্রন্থি রয়েছে, এগুলোর সংক্রমণের কারণে ফোড়া হয়। এই ফোড়া এক সময় ফেটে গিয়ে মলদ্বারের চতুর্দিকের কোনো এক স্খানে একটি ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে আসে এবং পুঁজ নির্গত হতে থাকে এবং তা নালী হয়ে বাহিরের দিকে বের হয় যা দেখতে পোড়ার মত মনে হয় । ( কেউ কেউ মনে করেন কৃমির বাসা থেকে এর উৎপত্তি ! আসলে তা ঠিক নয় তবে কৃমির উপদ্রবের কারনে নুখ দিয়ে চুলকাতে গিয়ে অনেক সময় পায়খানার রাস্থার ভিতরে ইনফেকশন বা ছিদ্র হয়ে হতে পারে)

এই সমস্যা তৈরী হওয়ার পেছনে যে যে কারণগুলি দায়ী সেগুলির মধ্যে রয়েছে - যক্ষ্মা, মলাশয় বা পায়ুপথের ক্যান্সার, এইচআইভি ও এইডস, ক্ল্যামিডিয়া,সিফিলিস, আলসার, সেখানে বিভিন্ন অপারেশনের জটিলতা ইত্যাদি।

পাইলস, এনাল ফিশার, ফিস্টুলা - চিকিৎসা

এই রোগগুলির স্থায়ী কোন এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই। তাই এলোপ্যাথিক চিকিৎসকরা এই সমস্যা হলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আরেকটি শাখা সার্জারিতে ট্রান্সফার করে। তবে সার্জারি বা অপারেশন করলে সাময়িক কিছু সময়ের জন্য আরাম পাওয়া যায় কিন্তু তারপর সমস্যাটি আবার ফিরে আসে এবং সাথে সাথে সমস্যাটি আরো জটিল আকার ধারণ করে। তাই সার্জারি এই সমস্যাগুলির কোন স্থায়ী সমাধান নয়। এই সমস্যাগুলি প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় রোগের তীব্রতা অনুসারে কমবেশি সময়ের ব্যবধানে ঠিক হয়ে যায়। তাই অর্শ বা পাইলস Hemorrhoids (Piles), এনাল ফিশার (Anal Fissure) মলদ্বারে ফাটা, অ্যানাল ফিস্টুলা Anal Fistula (ভগন্দর) মলদ্বারের এই সব জটিল পীড়ায় অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শক্রমে প্রপার হোমিও চিকিৎসা নিন। ধন্যবাদ।

পাইলস, এনাল ফিশার, ফিস্টুলা - হোমিওপ্যাথিক ঔষধ

মলদ্বারের এই জটিল এবং কষ্টদায়ক রোগগুলি চিকিৎসার জন্য রয়েছে বিভিন্ন শক্তির বহু হোমিওপ্যাথিক ঔষধ। একজন হোমিও চিকিৎসক মূলত পেশেন্টের হিস্ট্রি নিয়ে তার সার্বদৈহিক অবস্থা এবং জেনেটিক অবস্থা বিবেচনা পূর্বক নির্দিষ্ট ঔষধ নির্দিষ্ট শক্তিতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রয়োগ করে করে ইম্প্রোভমেন্টে নিয়ে যাবেন। রেপার্টরীতে পাইলস চিকিৎসার জন্য যে যে ঔষধগুলি রয়েছে-
পাইলস - হোমিওপ্যাথিক ঔষধ
এই ঔষধগুলি থেকে পেশেন্টের জন্য নির্বাচিত ঔষধ একজন এক্সপার্ট হোমিও চিকিৎসক পেশেন্টের শরীরে প্রয়োগ করবেন। আবার ফিশার চিকিৎসার জন্য হোমিওতে যে যে ঔষধগুলি রয়েছে-
এনাল ফিশার-হোমিওপ্যাথিক ঔষধ
এনাল ফিস্টুলার চিকিৎসার জন্যও রয়েছে বহু হোমিওপ্যাথিক ঔষধ। এখানে রেপার্টরীতে যে যে ঔষধগুলি রয়েছে -
এনাল ফিস্টুলা-হোমিওপ্যাথিক ঔষধ
এই ঔষধগুলি থেকে পাইলস, এনাল ফিশার এবং ফিস্টুলা বা ভগন্দর এর চিকিৎসার ক্ষেত্রে একেক জনের জন্য একেক রকম ঔষধ প্রয়োগ করতে হয় পেশেন্টের হিস্ট্রি নিয়ে। আর এটি করতে পারেন এক্সপার্ট একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। তাই প্রপার হোমিও চিকিৎসার মাধ্যমে রোগ নির্মূলের জন্য অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরী।
বিস্তারিত

শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২০

মলদ্বার বা পায়খানার রাস্তা বা পায়ু পথে রক্ত পড়ার কারণ ও প্রতিকার

পায়খানা করা ছাড়া অথবা পায়খানার সময় রক্ত যাওয়াকেই মূলত আমরা মলদ্বার দিয়ে রক্তক্ষরণ বুঝে থাকি। পায়ু পথে রক্ত পড়ার কারণ ও প্রতিকার এবং মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ করার উপায় সম্পর্কে আজ আমরা জানবো। পায়ুপথে রক্ত যাওয়া মূলত কোন রোগ নয়, বরং অন্য কোন রোগের লক্ষণ বা উপসর্গ মাত্র। যেহেতু পায়ুপথে রক্ত যাওয়া একটি অস্বাভাবিক ব্যাপার, তাই পায়ুপথে রক্ত গেলে তা যেকোন বয়সেই হোক না কেন, অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে ব্যবস্থা নিতে হবে। রক্ত পড়ার কারণ সাধারণ রোগ থেকে শুরু করে মারাত্মক ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।

পায়ু পথে রক্ত পড়ার কারণ

আগেই বলেছি, পায়ু পথে রক্ত যাওয়া নিজে কোন রোগ নয়, অন্য কোন রোগের লক্ষণ বা উপসর্গ মাত্র। আসুন এবার জেনে নেই কি কি কারণে মলদ্বার বা পায়খানার রাস্তা বা পায়ু পথ দিয়ে রক্ত আসতে পারে -

পাইলস বা হেমরয়েড : অর্শ রোগ নামেই অনেকে চিনে থাকেন। এই রোগে আক্রান্ত হলে অনেকেরই মলদ্বার দিয়ে রক্ত আসতে পারে। প্রথম দিকে পায়খানার পরে টাটক রক্ত ফোটায় ফোটায় বা ফিনকি দিয়ে পড়তে পারে, কিছুদিন পর মলদ্বার দিয়ে মাংসপিণ্ডের মতো বের হতে পারে।

এনাল ফিসার : এই রোগে মলদ্বার ফেটে যায় এবং এ ক্ষেত্রে সেখানে থেকে রক্ত আসতে পারে। এই সম্যসায় রক্ত পড়া ছাড়াও মলত্যাগের সময় ও পরে ব্যথা হতে পারে।

রেক্টাল পলিপ : এই সমস্যা হলে মলদ্বার বা পায়খানার রাস্তা দিয়ে টাটকা রক্ত যায়।  মলদ্বারে গোটার মতো বের হতে পারে। 

রেক্টামে ক্যান্সার : এ রোগ পায়ুপথে রক্ত যাওয়ার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। অনেকে পাইলস মনে করে যথাযথ চিকিৎসা না নিয়ে রোগটি জটিল করে ফেলেন।রেক্টামে ক্যান্সার হলে পায়ুপথে টাটকা রক্ত, মিউকাস যাওয়া ছাড়াও মলত্যাগের পর আরো মলত্যাগের ইচ্ছা থেকে যায়। মাঝে মাঝে ডায়রিয়া ও মাঝে মাঝে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।

রেক্টাল ফিস্টুলা : পায়ুপথের ভেতরে অনেকগুলো গ্রন্থি বা গ্লান্ড থাকে। এই গ্রন্থিতে সংক্রমণের কারণে মলদ্বারের পাশে ফোঁড়া হয়। এই ফোঁড়া একসময় ফেটে গিয়ে ফিস্টুলা হয়। এই রোগ হলে মলদ্বার বা পাশের অঞ্চল ফুলে যায়, ব্যথা করে, পুঁজ বা রক্তও বের হতে পারে। 

রেক্টাল আলসার : রেক্টামে যদি কোন কারণে ক্ষত তৈরী হয় এর কারণেও মলদ্বার দিয়ে রক্ত আসতে পারে। 

বেসিলারি ডিসেন্ট্রি : এক প্রকার আমাশয় যাকে আমরা রক্তামাশয় নামেই বেশি চিনি। এই সমস্যায় পেটের যন্ত্রণা এবং পায়খানা করার সময় রক্ত বের হয়ে থাকে। 
ক্রনস ডিজিজ : এই মূলত ইনফ্লেমেটরি বাওয়েল ডিজিজ - আইবিডি এর একটি রূপ। এই রোগে মুখ থেকে শুরু করে পায়ুপথ পর্যন্ত যেকোন স্থান আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত  স্মল ইনটেসটাইনের একটি বিশেষ অংশ ইলিয়াম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই রোগে কেউ আক্রান্ত হলে অন্যন্য উপসর্গের সাথে মলের সাথে রক্ত যাওয়া বা মলদ্বার দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে। 

 আলসারেটিভ কোলাইটিস : পেটের একটি দুরারোগ্য পীড়া বলেই বিবেচিত হয় আলসারেটিভ কোলাইটিস। ইনফ্লেমেটরি বাওয়েল ডিজিজ আইবিডি এর একটি রূপ হলো আলসারেটিভ কোলাইটিস। আমাদের কোলন বা বৃহদান্ত্রের প্রদাহকেই মূলত কোলাইটিস বলা হয়ে থাকে। ডায়রিয়ার সাথে রক্ত পড়া বা রক্ত আমাশয় হলো আলসারেটিভ কোলাইটিসের প্রধান লক্ষণ। এছাড়াও এর আরো বিভিন্ন উপসর্গ রয়েছে। 

এছাড়াও ডাইভার্টিকুলার ডিজিজ, ইন্টাস সাসসেপশান, এনজিও ডিস্লাসিয়া বা আঘাতজনিত কারণ সহ আরো বিভিন্ন কারণে মলদ্বার দিয়ে রক্ত আসতে পারে।

পায়ু পথে রক্ত পড়ারপ্রতিকার বা চিকিৎসা

কি কারণে মলদ্বার দিয়ে রক্ত আসছে সেগুলি নির্ণয় করে এর চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। তবে যে কারণেই পায়ু পথে রক্ত যাওয়ার সমস্যা তৈরী হোক না কেন এর প্রপার চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। আপনি যদি অভিজ্ঞ কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেন তাহলে এই সমস্যা দূর হয়ে অচিরেই সুস্বাস্থ ফিরে পাবেন ইনশা-আল্লাহ।
বিস্তারিত

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২০

ডায়াবেটিস নির্মূলের ম্যাজিক থেরাপি Cure Diabetes Naturally

ডায়াবেটিস থেকে মুক্ত হবেনই ইনশা-আল্লাহ যদি আপনি Diabetes নির্মূলের এই ম্যাজিক থেরাপি অনুসরণ করেন যেটি মূলত প্রাকৃতিক উপায়ে ডায়াবেটিস চিকিৎসা। এর সাথে রোগীর ভাইটাল ফোর্স বা ইমিউন সিস্টেমকে দ্রুত শক্তিশালী করার জন্য আমরা মূলত পেসেন্টের এবং তার ফ্যামিলি হিস্ট্রি নিয়ে ডাইনামিক হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন প্রয়োগ করে থাকি। তবে কেউ যদি নিজে নিজে বাড়িতে বসে ডায়াবেটিস নির্মূলের নিন্মোক্ত ম্যাজিক থেরাপিটি অনুসরণ করেন তাহলে কোন প্রকার এলোপ্যাথিক বা রাসায়নিক ঔষধ ছাড়া ৪/৬ মাসের মধ্যেই রোগের তীব্রতা ভেদে প্রায় ৭০% পেসেন্টই ডায়াবেটিস থেকে মুক্ত হতে পারবেন ইনশা-আল্লাহ। পরীক্ষিত !

বয়স বাড়ার সাথে সাথে এমনিতেই বিভিন্ন কারণে মানুষের ইমিউন সিস্টেম বা ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হতে থাকে। তার উপর মানুষ পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার না খেয়ে প্রক্রিয়াজাত বিভিন্ন খাবারে অভ্যস্থ হয়ে পড়ে। এছাড়া খাদ্য দ্রব্যে ভেজাল, বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের ব্যবহার, যখন তখন নানা প্রকার এলোপ্যাথিক বা রাসায়নিক ঔষধের প্রয়োগ সব মিলিয়ে ইনসুলিন উৎপাদনকারী অগ্ন্যাশয় এবং মানব দেহের ভিতরের অঙ্গসমূহ দুর্বল হয়ে পড়ে বা তাদের স্ব স্ব কার্যক্রমে ব্যাঘাত তৈরি হওয়ার ফলে ডায়াবেটিসের মত সমস্যা প্রকট হয়ে উঠে।

তাই আপনি ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পেতে হলে এখন শুধু তার উল্টাটি করে যাবেন তাহলেই বাজিমাৎ। অর্থাৎ প্রক্রিয়াজাত খাবার, প্রাণীজ খাবার, এলোপ্যাথিক বা রাসায়নিক ঔষধ সবকিছুকেই বাদ দিয়ে প্রাকৃতিক অর্থাৎ উদ্ভিজ্জ খাবার নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ৪/৬ মাস খেয়ে যাবেন। তাতেই দেখবেন আপনার ইনসুলিন উৎপাদনকারী অগ্ন্যাশয় এবং ভিতরের অঙ্গসমূহ আবার ঠিক হয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন এবং স্ব স্ব কাজ ঠিক ঠাক ভাবে করতে পারছে। এর সাথে আপনার ডায়াবেটিসও পালিয়েছে। অবাক হচ্ছেন তাই না ! এটি ডায়াবেটিস নির্মূলের বহুল পরীক্ষিত প্রাকৃতিক পদ্ধতি। আপনি নিজেই একবার করে দেখুন... প্রমানের জন্য এর চেয়ে বেশি কিছুর আর প্রয়োজন নেই। থেরাপিটি কাগজে লিখে রাখুন..... 
ডায়াবেটিস নির্মূলের ম্যাজিক থেরাপি Cure Diabetes Naturally

ডায়াবেটিস নির্মূলের ম্যাজিক থেরাপি Cure Diabetes Naturally

প্রতিদিন  সকালে খালি পেটে - তাজা শরবত বা Fresh Juice

সবুজ বা তাজা শরবত কিভাবে প্রস্তুত করবেন : শশা, গাঁজর, টমেটো, ক্যাপসিকাম, করলা, মুলা, বাঁধা কপি, পালং শাক, পুঁইশাক, থানকুনি পাতা, তুলসী পাতা, নিম পাতা, আদা, রসুন, হলুদ, আমলকি, সামান্য কাঁচা লবন, গুলঞ্চ ইত্যাদি যত আইটেম হাতের কাছে পাবেন সব কিছু সামান্য অর্থাৎ পরিমান মতো দিয়ে ব্লেন্ডার করে এক গ্লাস শরবত Juice বানিয়ে খাবেন। এক গ্লাস পরিমান জুস তৈরী করতে আইটেমগুলি কতটুকু করে নিবেন সেটা দুয়েক বার তৈরী করলেই আপনার আন্দাজ হয়ে যাবে।
আখ বা খেঁজুরের গুড় মিশিয়ে খেতে পারবেন। তৈরী করতে সমস্যা না হলে সকাল, দুপুর, রাত তিন বেলাতেই খাবেন।

সকালের নাস্তায় যা যা খাবেন-

দুপুর ১২ তা পর্যন্ত আপনি যা যা খাবেন -
  • কাঁচা সবজি : শশা, গাঁজর, টমেটো, ক্যাপসিকাম ইত্যাদি মিলিয়ে সালাদ বানিয়ে খাবেন।
  • ফল : পাকা কলা, আপেল, ডালিম, আনার, পেঁয়ারা, আঙ্গুর, ইত্যাদি এবং সাথে যেকোন প্রকার ফল প্রায় ৬০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি পর্যন্ত খেতে পারবেন। যখন যেসময় যেটা মন চায় সেটাই খাবেন দুপুর ১২ তা পর্যন্ত। 
  • কাঠ বাদাম বা চিনাবাদাম খাবেন (১৫-৩০টি আপনার ইচ্ছানুযায়ী) সিদ্ধ করে। 

দুপুরে এবং রাতে যা যা খাবেন-

  • কাঁচা সবজি : শশা, গাঁজর, টমেটো, ক্যাপসিকাম ইত্যাদি মিলিয়ে সালাদ বানিয়ে খাবেন 
প্রথম ৩ দিন দুপুরে এবং রাতে ভাত খাবেন না। ৩ দিন পর ডায়াবেটিস নেমে স্বাভাবিক অবস্থায় আসলে দুপুরে এবং রাতে সালাদের সাথে হালকা স্বাভাবিক খাবার অর্থাৎ কম পরিমান সরিষার তেল এবং লবন দিয়ে রান্না করা তরকারি দিয়ে পরিমান মতো ভাত খেতে পারবেন। যদি ৩ দিনে ডায়াবেটিস স্বাভাবিক না হয় তাহলে আরো কিছুদিন ভাত খাওয়া বন্ধ রাখতে হবে।
যারা ইনসুলিন নেন, টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস পেসেন্টসহ তারা দুপুরে এবং রাতে আরো যা যা যুক্ত করলে বেশি উপকৃত হবেন -
  • পালং শাক ৩০ গ্রাম, পান পাতা ৫ গ্রাম ,নারিকেল ১০ গ্রাম
  • তুলসী পাতা ১০ গ্রাম , ধনে পাতা ১০ গ্রাম, পুদিনাপাতা ১০ গ্রাম
  • কিশমিশ ৫টি এবং বাদাম ৫টি
  • লেবু - ব্যবহার করবেন স্বাদ বাড়ানোর জন্য
সবগুলি কেটে এক সাথে করে খাবেন যারা যারা ইনসুলিন নেন, টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস পেসেন্টসহ। সবগুলি সংগ্রহ করতে না পারলে যেগুলি পাবেন সেগুলিই খাবেন। আর যদি এই আইটেম তৈরী করতে সম্ভব না হয় তাহলেও চিন্তার কিছু নেই। বাকি গুলি চালিয়ে যাবেন। কারণ এই প্রকারের রোগীদের প্রোপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার আওতায় চলে আসার কারণে ডাইনামিক হোমিওপ্যাথিক মেডিসিনের মাধ্যমেই তাদের ভাইটাল ফোর্স শক্তিশালী হয়ে উঠে।

যে সকল খাবার খাবেন না-

  • সর্ব প্রকার প্রাণীজ খাবার অর্থাৎ Animal Food প্রধানতঃ হাঁস মুরগি ইত্যাদির মাংস এবং হাঁস মুরগির  ডিম। গরু ছাগলের মাংস, গরু ছাগলের দুধ এবং দুগ্ধজাত সকল খাবার বর্জন করবেন।
  • সর্ব প্রকার প্রক্রিয়াজাত পেকেট করা খাবার যেমনঃ বিস্কুট, রুটি, চিপস, চানাচুর, ফাস্ট ফুড ইত্যাদি বর্জন করবেন। 
  • চা এবং কফি বাদ দিবেন। 
বিঃদ্রঃ ভালো হয়ে যাওয়ার পর এই সকল খাবার আপনি পূনরায় খেতে পারবেন তবে পরিমান মতো।

হোমিওপ্যাথিক জেনেটিক ট্রিটমেন্ট

মানব শিশু মূলত পিতামাতা থেকেই ক্রোমোজোমের মাধ্যমে তাদের পূর্ব পুরুষের রোগ ব্যাধি বা সেগুলির জেনেটিক ম্যাটেরিয়ালস পেয়ে থাকে। যেগুলিকে আমরা প্রকৃত রোগ বা True Disease বলে থাকি। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে বিভিন্ন কারণে যখন মানুষের ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হতে থাকে তখন ভেতরে থাকা সেই প্রকৃত রোগটি বিভিন্ন উপসর্গ প্রকাশ করতে থাকে। আর সেই উপসর্গগুলিকে বিভিন্ন রোগের নামে নামকরণ করে থাকে বিভিন্ন ট্রিটমেন্ট সিস্টেম। হোমিওপ্যাথি ছাড়া অন্যান্য চিকিৎসা শাস্ত্রগুলি যেহেতু প্রকৃত রোগটি নির্ণয় না করে সেটি দ্বারা সৃষ্ট উপসর্গগুলিকে রোগের নাম দিয়ে চিকিৎসা করে তাই True Disease বা প্রকৃত রোগটি কখনই নির্মূল হয় না যার ফলে উপসর্গ কিছু সময়ের জন্য দূর হলেও আবার জেগে উঠে। এভাবে ঔষধ খেয়ে খেয়ে থাকতে হয় আর রোগ জটিলতাও দিন দিন বাড়তে থাকে। কিন্তু হোমিওপ্যাথি মানুষের প্রকৃত রোগটির চিকিৎসা দিয়ে সেটিকে ঠিক করে বিধায় সৃষ্ট উপসর্গগুলি একেবারে দূর হয়ে যায়।

যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন তারা মূলত একাধিক প্রকৃত রোগের অধিকারী বা Multiple Miasm এর হয়ে থাকেন। তাই তাদের জীবন দর্শন, শিশুকাল থেকে এখন পর্যন্ত যাবতীয় রোগের ইতিহাস, পিতা-মাতা, নানা-নানী, দাদা-দাদীর হিস্ট্রি নিয়ে এক্সপার্ট একজন হোমিও চিকিৎসক তার মধ্যে থাকা প্রকৃত রোগগুলি নির্ণয় করে ধাপে ধাপে সেগুলিকে ঠিক করার জন্য পর্যায়ক্রমে ডায়নামিক হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন প্রয়োগ করে থাকেন। একসময় তার শরীরের যাবতীয় রোগ ব্যাধির উপসর্গ নির্মূল হয়ে পূর্ণাঙ্গ সুস্বাস্থ্য ফিরে আসে।

ফ্যামিলি হিস্ট্রি নিয়ে প্রোপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় খুব দ্রুত দুর্বল জীবনীশক্তির ডায়াবেটিস পেসেন্টদের ভাইটাল ফোর্স শক্তিশালী করা হয় বলে ঔষধ প্রয়োগ করার সাথে সাথেই তারা শরীরে তার প্রতিক্রিয়া অনুভব করতে থাকে। এর সাথে চলে ডায়াবেটিস নির্মূলের এই ম্যাজিক থেরাপি।

বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন এলোপ্যাথিক বা রাসায়নিক ঔষধ শরীরে প্রয়োগের ফলে সৃষ্ট ট্রমা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দূর করে নির্জীব জীবনীশক্তিকে সঞ্জীবনী শক্তি দিতে অথাৎ দুর্বল ভাইটাল ফোর্সকে শক্তিশালী করতে অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ডাইনামিক হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্দিষ্ট নিয়মে নির্দিষ্ট মাত্রায় প্রয়োগ করার দরকার পড়ে কিছু কিছু পেসেন্টের। এছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে আরো কিছু ম্যানেজমেন্টেরও প্রয়োজন হয় যা চিকিৎসক প্রয়োজনবোধে দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য নানা প্রকার অপচিকিৎসা নিয়েছেন এবং একের পর এক রাসায়নিক ঔষধ প্রয়োগ করে করে শরীরে আরো জটিল জটিল রোগ ব্যাধি যেমনঃ উচ্চ রক্ত চাপ, কিডনি সমস্যা, হার্টের সমস্যা ইত্যাদি সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে নিবিড় যোগাযোগে রেখে ঔষধ প্রয়োগ করে করে স্বাভিবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হয়।

আর যারা এই ধরনের অপচিকিৎসার খুব বেশি শিকার হননি অর্থাৎ বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন এলোপ্যাথিক বা রাসায়নিক ঔষধ প্রয়োগের ফলে ভেতরে খুব বেশি মেডিসিনাল ট্রমা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরী করেননি অর্থাৎ আরো জটিল জটিল রোগ ব্যাধি যেমনঃ উচ্চ রক্ত চাপ, কিডনি সমস্যা, হার্টের সমস্যা ইত্যাদিতে আক্রান্ত হননি তারা বাড়িতে থেকেই ডায়াবেটিস নির্মূলের ম্যাজিক থেরাপিটি অনুসরণ করে ভালো ফলাফল পাবেন ইনশা-আল্লাহ কোন প্রকার ঔষধ ছাড়াই।

যে বিষয়গুলি আপনি জেনেছেন -

  • প্রাকৃতিক উপায়ে ডায়াবেটিস চিকিৎসা
  • ডায়াবেটিস কমানোর সহজ উপায়
  • ডায়াবেটিস চিকিৎসায় নতুন উপায়
  • ডায়াবেটিস বেড়ে গেলে করনীয়
  • ডায়াবেটিস থেকে বাঁচার উপায়
  • ডায়াবেটিস কমানোর প্রাকৃতিক উপায়
  • ডায়াবেটিসের হোমিওপ্যাথি ওষুধ
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে হোমিও
  • ডায়াবেটিসের প্রাকৃতিক চিকিৎসা
  • ডায়াবেটিস এর ভেষজ চিকিৎসা
  • দ্রুত ডায়াবেটিস কমানোর উপায়
  • ডায়াবেটিস চিকিৎসায় নতুন উপায়
  • ডায়াবেটিস কমানোর খাবার
  • বহুমূত্র রোগের হোমিও ঔষধ
  • ডায়াবেটিস এ হোমিও চিকিৎসা
  • হোমিওপ্যাথিক ঔষধের মাধ্যমে ডায়াবেটিসের স্থায়ী মুক্তি
বিস্তারিত

মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২০

Diabetes কত প্রকার, এর লক্ষন এবং ডায়াবেটিস সারানোর উপায় - রাসায়নিক ঔষধ ছাড়াই

সাধারণ ভাবে বলা যায়, ডায়াবেটিস (Diabetes) বা বহুমূত্র রোগ হলো অনিয়ন্ত্রিত খাবার-দাবার গ্রহণ এবং জীবন যাপনের ফলে মানুষের শরীরে জেগে উঠা একটি শারীরিক সমস্যা যা মূলত মানুষের ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হয়ে পড়লে আরো তীব্র ভাবে প্রকাশ পায়। হোমিওপ্যাথির ভাষায় বলতে গেলে এটি মূলত একটি মাল্টি মায়াজমেটিক জটিল শারীরিক সমস্যা। দৈনন্দিন খাবার-দাবার যে ভাবে গ্রহণ করলে মানুষের শরীর সঠিক ভাবে পুষ্টি পায় সেগুলি সেভাবে গ্রহণ না করে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বা প্রোসেস করে গ্রহণ করার ফলে মানুষের শরীর সেভাবে পুষ্টি পায় না। তাছাড়া প্রসেস করার ফলে খাবারে নানা প্রকার ক্ষতিকর উপাদান যেমন যুক্ত হয় তেমনি পুষ্টিগুনও বহুলাংশে কমে যায়। আর সেগুলি বাচবিচার না করে ক্রমাগত গ্রহণের ফলে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক ঔষধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে যখন আমাদের ভাইটাল ফোর্স ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পড়ে তখন ডায়াবেটিসের মতো জটিল স্বাস্থ্য সমস্যাগুলি জেগে উঠে। ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস হওয়ার কারন গুলো একই রকম। কেবল ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে এটা ভিন্ন কারনে হতে পারে।

মানব দেহের অনেক দুরারোগ্য সমস্যার পেছনে দায়ী রয়েছে এই ডায়াবেটিস যেমন - চোখের সমস্যা, হৃদরোগ, স্ট্রোক বা কিডনির সমস্যা ইত্যাদি। ডায়াবেটিস হলে আপনি যদি প্রাকৃতিক উপায়ে সেটাকে না সারিয়ে রাসায়নিক ঔষধের মাধ্যমে শুধু নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে যান তাহলে সেই সকল রাসায়নিক ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আরো দুরারোগ্য রোগ তৈরী হবে আপনার শরীরে। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় আপনাকে একটি দুঃসহ জীবন নিয়ে চলতে হবে।
ডায়াবেটিস হলে সেটিকে রাসায়নিক ঔষধের মাধ্যমে শুধু নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা না করে প্রোপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে সারিয়ে তুলুন। আপনি হয়তো জানেন না ডায়াবেটিস নির্মূলের একটি উন্নত চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। তবে এর জন্য এক্সপার্ট একজন হোমিও চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। 

মেডিক্যালের ভাষায় ডায়াবেটিস

আমরা খাবার খাওয়ার পরে আমাদের শরীর খাবারের শর্করাকে ভেঙে সুগার বা চিনিতে (Glucose) রুপান্তর করে। ইনসুলিন নামের একটি হরমোন নিসৃত হয় অগ্ন্যাশয় থেকে যে হরমোন সুগার বা চিনিকে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়ে থাকে আমাদের শরীরের কোষগুলোকে। এই চিনি শরীরের জ্বালানী বা শক্তি হিসেবে কাজ করে। শরীরে যখন ইনসুলিন তৈরি হতে পারে না বা ঠিক মতো কাজ করে না তখনই মূলত ডায়াবেটিস হয়। এর ফলে রক্তের মধ্যে চিনি জমা হতে শুরু করে।
Diabetes কত প্রকার, এর লক্ষন এবং ডায়াবেটিস সারানোর উপায়

ব্লাড সুগার লেভেল অনুসারে ডায়াবেটিস নির্ণয়

ডায়াবেটিস শনাক্ত করার জন্য সবচেয়ে সঠিক ও বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি হলো OGTT-Oral Glucose Tolerance Test. এই পদ্ধতিতে রোগীকে সকালে খালি পেটে একবার রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করতে হয়, তারপর ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ শরবত পানের দুই ঘণ্টা পর আরেকবার রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করা হয়। এই পদ্ধতিতে নির্ভুলভাবে ডায়াবেটিস ও প্রি-ডায়াবেটিস নির্ণয় করা যায়।
আবার আঙুলে সূঁচ ফুটিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করা হয়। রক্তের গ্লুকোজের লক্ষ্যমাত্রা প্রত্যেক মানুষের ক্ষেত্রে ভিন্ন হয়ে থাকে -
Plasma glucose testNormalPrediabetesDiabetes
RandomBelow 11.1 mmol/l
Below 200 mg/dl
N/A11.1 mmol/l or more
200 mg/dl or more
FastingBelow 5.5 mmol/l
Below 100 mg/dl
5.5 to 6.9 mmol/l
100 to 125 mg/dl
7.0 mmol/l or more
126 mg/dl or more
2 hour post-prandialBelow 7.8 mmol/l
Below 140 mg/dl
7.8 to 11.0 mmol/l
140 to 199 mg/dl
11.1 mmol/l or more
200 mg/dl or more

মেডিক্যালের ভাষায় ডায়াবেটিসের টাইপ

  • প্রিডায়াবেটিস Prediabetes
  • টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস Type 1 diabetes
  • টাইপ টু ডায়াবেটিস Type 2 diabetes
  • গর্ভকালীন ডায়াবেটিস Gestational diabetes (GDM)
এছাড়াও আরো কয়েকটি টাইপে ডায়াবেটিসকে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে যেমনঃ
  • Diabetes LADA (Latent Autoimmune Diabetes of Adulthood)
  • Diabetes MODY (Maturity Onset Diabetes of the Young)
  • Double Diabetes
  • Type 3 Diabetes
  • Steroid Induced Diabetes
  • Brittle Diabetes
তবে আমরা মূলত সর্বাধিক পরিচিত টাইপের ডায়াবেটিসগুলি নিয়েই আলোচনা করব।
তবে আপনাদের চিন্তিত হওয়ার মোটেও কোন কারণ নেই এই জন্যে যে, ডায়াবেটিস এর পরিপোষক কিছু কারন চিহ্নিত করে সেগুলি দূর করার জন্য খাবারের মেন্যু পরিবর্তন করে সব প্রকারের ডায়াবেটিসকেই নির্মূল করা যায় প্রোপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে। 

প্রি-ডায়াবেটিস

প্রিডায়াবেটিস অবস্থাটি হল সেই অবস্থা যখন রক্তে শর্করারর মাত্রা বেড়ে যায়, কিন্তু ততটাও বাড়ে না যাকে পুরোপুরি ডায়াবেটিস বলা যায়। যদিও শর্করার এই মাত্রাটির ফলেও আক্রান্তের শরীরে বেশ কিছু অনভিপ্রেত লক্ষণ দেখা যায়। প্রিডায়াবেটিস অবস্থাটির যদি চিকিৎসা না করানো হয়, তাহলে অচিরেই এই অবস্থাটি টাইপ টু ডায়াবেটিসে উত্তীর্ণ হয়। প্রিডায়াবেটিস অবস্থার কিছু অতি সাধারণ লক্ষণ হল - 
  • অত্যধিক ক্ষুধা (Constant hunger)
  • অত্যধিক তৃষ্ণা (Excessive thirst)
  • ওজন বেড়ে যাওয়া (Weight gain)
  • ঘন ঘন মূত্রত্যাগ (Frequent urination)
  • ঝাপসা দৃষ্টি (Blurred vision) ইত্যাদি
টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস
এ ধরনের ডায়বেটিসের ক্ষেত্রে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তখন রক্তের প্রবাহে গ্লুকোজ জমা হতে শুরু করে। বিজ্ঞানীরা এখনও বের করতে পারেন নি কী কারণে এমনটা ঘটে। তবে তারা বিশ্বাস করেন যে এর পেছনে জিনগত কারণ থাকতে পারে। এছাড়া ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে অগ্ন্যাশয়ে ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলো নষ্ট হয়ে গেলেও এমন হতে পারে বলে মনে করা হয়। ডায়বেটিস আক্রান্তদের মধ্যে সারা বিশ্বে ১০ শতাংশ এই টাইপ ওয়ানে আক্রান্ত। এই ধরনের ডায়াবেটিস সাধারণতঃ ৪০ বছর বয়সের আগে দেখা দেয়। টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসকে একসময় জুভেনাইল ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন-ডিপেন্ডডেন্ট ডায়াবেটিস বলা হত।

জিনগত কারন বা অন্য যে কারণেই ডায়াবেটিসের সমস্যা তৈরী হোক না কেন তার প্রোপার ট্রিটমেন্ট রয়েছে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে। টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস সাধারণ ভাবে শৈশব বা বয়ঃসন্ধিকালে দেখা গেলেও প্রাপ্তবয়স্কদেরও টাইপ ১ ডায়াবেটিস হয়। টাইপ ১ ডায়াবেটিসে নিম্নলিখিত লক্ষণ দেখা দেয় -
  • অস্বাভাবিক ভাবে পিপাসা বেড়ে যায় এবং মুখ শুকিয়ে যায় (Abnormal thirst and dry mouth)
  • হটাৎ করে অস্বাভাবিক ভাবে ওজন কমে যায় (Sudden weight loss)
  • বার বার প্রস্রাব করা (Frequent urination)
  • অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগা (Constant hunger)
  • ছোটদের ক্ষেত্রে হঠাৎ করে বিছানা ভেজানো শুরু হওয়া (Bed wetting)
  • ক্লান্তি এবং দুর্বলতা অনুভব করা (Lack of energy, tiredness)
  • দৃষ্টিশক্তিতে অসচ্ছতা (Blurred vision)
টাইপ টু ডায়াবেটিস
এই ধরনের ডায়াবেটিসের আক্রান্তদের ক্ষেত্রে অগ্ন্যাশয়ে যথেষ্ট ইনসুলিন উৎপন্ন হয় না অথবা এই হরমোনটি ঠিক মতো কাজ করে না। ঠিক কেন এই ধরনের ঘটনা ঘটে তা আজও স্পষ্ট ভাবে অজানা। তবে বংশগতি এবং কিছু পরিবেশগত শর্ত যেমন, স্থুলতা ও সক্রিয়তার অভাব অর্থাৎ দৈনন্দিন স্বাস্থ বিধি পালন না করে জীবনযাপন করার ফলে টাইপ টু ডায়াবেটিস জেগে উঠতে পারে।

এই ধরনের ডায়াবেটিস সাধারণত ৪০ বছরের বেশি বয়সের ব্যক্তিদের মধ্যে দেখা দেয়, যদিও এটা ৪০ বছর বয়সের আগেও হতে পারে। বোঝার সুবিধার জন্য টাইপ ২ ডায়াবেটিসকে প্রাপ্তবয়স্ককালীন ডায়াবেটিস বলা হয় কারণ মূলত বয়স্ক লোকেরাই এই রোগে আক্রান্ত হন। তবে দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটা সত্যি যে আজকাল বহু শিশু এই রোগের শিকার। সম্ভবত শৈশবকালীন স্থুলতা শিশুদের মধ্যে এই রোগ হওয়ার বড় কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

টাইপ ২ ডায়াবেটিসে লক্ষণ ধীরে ধীরে বাড়ে। এমনও হতে পারে বছরের পরে বছর ধরে এই রোগে আক্রান্ত হয়েও অনেকে বুঝতেই পারেন না যে তাঁর এই রোগ হয়েছে। টাইপ ২ ডায়াবেটিসে নিম্নলিখিত লক্ষণ দেখা দেয় -
  • পিপাসা তীব্রভাবে বেড়ে যায় (Excessive thirst and dry mouth)
  • বার বার প্রস্রাব করা (Frequent urination)
  • ক্লান্তি এবং দুর্বলতা অনুভব করা (Lack of energy, tiredness)
  • ক্ষত সারতে সাময় লাগা (Slow healing wounds)
  • বার বার ত্বকে সংক্রমণ হওয়া (Recurrent infections in the skin)
  • দৃষ্টিশক্তিতে অসচ্ছতা (Blurred vision)
  • হাত অথবা পায়ে অসাড়তা (Tingling or numbness in hands and feet)
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস
গর্ভাস্থায় যখন কোন মায়ের সুগারের লেভেল বেশি থাকে তাকে গর্ভাস্থায় ডায়াবেটিস (Gestational Diabetes) বলে থাকে। গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন হরমোনের প্রভাবে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গর্ভাবস্থায় প্রথমবারের মতো ডায়াবেটিস ধরা পড়লে তাকে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস বা জি ডি এম) বলা হয়। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস মা ও শিশু দু'জনেরই ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। এই ঝুঁকি প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজন সঠিক সময়ে ডায়াবেটিস নির্ণয় ও এর চিকিৎসা।

গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতেই ঝুঁকিপূর্ণ সকল গর্ভবতী মহিলার ডায়াবেটিস শনাক্তকারী পরীক্ষা OGTT-Oral Glucose Tolerance Test করে ডায়াবেটিস শনাক্ত করতে হয়। এই পরীক্ষায় খালি পেটে ও ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার ২ঘণ্টা পর রক্তের সুগার পরীক্ষা করা হয়। প্রথম সাক্ষাতে এই পরীক্ষা স্বাভাবিক থাকলে গর্ভকালীন ২৪-২৮ সপ্তাহে আবার একই ভাবে পরীক্ষা করে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস আছে কিনা নিশ্চিত হতে হবে।

এই অবস্থা শিশু এবং মায়ের জন্য একটি মারাত্বক রিস্ক ফ্যাক্টর। পরবর্তি সময়ে সেই শিশুর ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ডায়াবেটিসের এটাও একটা রিস্ক ফ্যাক্টর। যার কারনে ডায়াবেটিস রোগে ভুগতে পারে। জীবনের কোন এক পর্যায়ে এই ধরনের সমস্যায় মা ও শিশু উভয়ই টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারে। বাচ্চা প্রসবের পর থেকে এই ধরনের সমস্যা যদিও থাকে না।

ডায়াবেটিস এর ঝুঁকি

  • রক্তে চিনির পরিমাণ বেশি হলে রক্তনালীর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
  • শরীরে যদি রক্ত ঠিক মতো প্রবাহিত হতে না পারে, যেসব জায়গায় রক্তের প্রয়োজন সেখানে যদি এই রক্ত পৌঁছাতে না পারে, তখন স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • এর ফলে মানুষ দৃষ্টি শক্তি হারাতে পারে।
  • ইনফেকশন হতে পারে পায়ে।
  • বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, অন্ধত্ব, কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ইত্যাদির পেছনে একটি বড় কারণ ডায়াবেটিস।

যেসব কারণে রক্তে সুগারের পরিমাণ বাড়তে পারে

  • সাধারণ সর্দি, ফ্লু বা অন্য কোনও ভাইরাস -যেমন করোনা ভাইরাস (COVID-19)
  • পেট খারাপ
  • গলা ব্যথা
  • মূত্রনালির সংক্রমণ
  • বুকের সংক্রমণ
  • ফোড়া
  • হাড় ভাঙা
  • অন্য অবস্থার জন্য স্টেরয়েড ট্যাবলেট বা ইঞ্জেকশন গ্রহণ

ডায়াবেটিসের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ উপায়

হয়তো মেডিক্যাল মাফিয়ারা আপনাকে এতদিন তাদের মিডিয়ার মাধ্যমে বুঝিয়ে আসছে ডায়াবেটিস ভালো হয় না, এটি ঔষধ খেয়ে খেয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। মিডিয়া সাধারণ মানুষের নাগালের বাহিরে থাকায় তাদের একচেটিয়া প্রচারে মানুষ জানতোই না যে - ডায়াবেটিস একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা ছাড়া আর কিছুই নয়। আজ মিডিয়া সকলের হাতের লাগালে থাকায় মানুষ সত্যটা জানতে পারছে এবং যাচাই করতে পারছে। প্রোপার হোমিও চিকিৎসার মাধ্যমে তারা এই রোগ থেকে মুক্তি পাচ্ছে ৪/৬ মাসের মধ্যেই।

আপনি হয়ত দেখে থাকবেন, বিভিন্ন রাসায়নিক ঔষধ খেয়ে খেয়ে রোগ জটিলতা দিন দিন বেড়ে চলেছে ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষদের। তাই যারা এই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত আছেন তারা অবিলম্বে এই সকল রাসায়নিক ঔষধ খাওয়া বন্ধ না করলে সামনের দিকে আরো জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। এখন হয়তো প্রশ্ন আসবে তাহলে কিভাবে ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পাবেন? 

আপনার চিন্তা করার আদৌ কোন কারণ নেই। ৪/৬ মাসের মধ্যেই আপনি একটি ম্যাজিক রেজাল্ট পেয়ে যাবেন শুধুমাত্র রিয়েল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আর খাবারের মেন্যু পরিবর্তন করার মাধ্যমেই। পরবর্তী পর্বেই এই সম্পর্কে বিস্তারিত দিক নির্দেশনা থাকছে যেগুলি আপনি ঘরে বসেই অনুসরণ করে নিজেই নিজের ডায়াবেটিস সারাতে পারবেন ইনশা-আল্লাহ। প্রাকৃতিক ভাবে ডায়াবেটিস নির্মূলের জন্য থাকছে ম্যাজিক থেরাপি। যদিও একেক জনের রোগ জটিলতা একেক রকম থাকে তারপরও প্রায় ৭০% ডায়াবেটিস রোগীরাই আমার ফর্মূলা অনুসরণ করলে কোন প্রকার ঔষধ ছাড়াই ডায়াবেটিস থেকে সেরে উঠবেন ইনশা-আল্লাহ। তাছাড়া যাদের রোগ জটিলতা বেশি অর্থাৎ চিকিৎসার প্রয়োজন, ম্যানেজমেন্টের শুরু থেকেই তাঁরা রেজাল্ট পেতে শুরু করবেন।
যারা দীর্ঘদিন যাবৎ ইনসুলিন নিচ্ছেন এবং সাথে আরো দুরারোগ্য জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন, তাদের জন্য রয়েছে অল্প সময়ে ইনসুলিন ফ্রি হওয়ার হোমিওপ্যাথিক ম্যাজিক ট্রিটমেন্ট
এ ক্ষেত্রে মূলত রোগীর সার্বদৈহিক অবস্থা এবং ফ্যামিলি হিস্ট্রি নিয়ে একক মাত্রায় ডায়নামিক হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন প্রয়োগ করা হয় যা রোগীর ভাইটাল ফোর্সকে অতি দ্রুত দুর্বল অবস্থা থেকে শক্তিশালী অবস্থায় নিয়ে যায়। তখন রোগী কল্পনাতীত ভাবে শারীরিক এবং মানুষিকভাবে সুস্থ বোধ করতে থাকেন।

যে বিষয়গুলি আপনি জেনেছেন -

  • ডায়াবেটিস মাত্রা
  • ডায়াবেটিস সারানোর উপায়
  • ডায়াবেটিস মাপার নিয়ম
  • প্রি ডায়াবেটিস এর লক্ষন
  • ডায়াবেটিস এর পয়েন্ট কত
  • ডায়াবেটিসের লক্ষণ সমূহ
  • ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
  • ডায়াবেটিস নরমাল কত পয়েন্ট
  • ডায়াবেটিস রোগীর খাবার
  • ডায়াবেটিস প্রতিরোধের উপায়
  • ডায়াবেটিসের প্রাথমিক লক্ষণ
  • ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল
  • ডায়াবেটিস কমে যাওয়ার লক্ষণ
  • ডায়াবেটিস নরমাল কত পয়েন্ট
  • টাইপ ২ ডায়াবেটিসের লক্ষণ
বিস্তারিত

শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০

ভেরিকোস ভেইন শিরা স্ফীতি কারণ লক্ষণ কার্যকর চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

ভেরিকোস ভেইন কি, কেন হয়, এর কারণ লক্ষণ এবং হোমিও চিকিৎসা সম্পর্কে আমরা জানবো। এটি আমাদের শিরা বা রক্তনালীর একটি রোগ। শরীরের কোন অংশের শিরা যদি প্রসারিত হয়ে যায় অর্থাৎ দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে বড় হয়ে যায় তাকে ভেরিকোস ভেইন (Varicose Vein) বলা হয়। শিরা হচ্ছে সে সকল রক্তনালী যেগুলি সারা শরীর থেকে দূষিত রক্তকে পরিশোধিত করার জন্য হৃদপিণ্ডে নিয়ে যায়। যখন এই কাজে বাঁধার সৃষ্টি হয় তখন রক্ত স্থির হয়ে থাকে এবং রক্তনালী ফুলে ওঠে। এই স্ফীত শিরাগুলোকেই ভেরিকোস ভেইন বলে। এই সমস্যা শরীরের যেকোন স্থানেই হতে পারে, তবে পা ও উরুতে বেশি দেখা যায়। এছাড়া পুরুষের স্ক্রোটামের ভেতর বা অন্ডথলির মধ্যেও বেশি হতে দেখা যায় যাকে ভেরিকোসিল বলা হয়ে থাকে, এ সম্পর্কে আপনারা ইতিপূর্বে জেনেছেন। আমরা মূলত এই পর্বে ভেরিকোস ভেইন বা শিরা স্ফীতি সম্পর্কেই আলোকপাত করবো।

পায়ের গোড়ালি থেকে হাঁটুর মাঝখানের অংশে (সেফানাস ভেইন) ভেরিকোস ভেইন বেশি হতে দেখা যায়, এ রোগ হলে শিরা বরাবর রোগী ব্যথা অনুভব করেন। চামড়ার ঠিক নিচে মোটা মোটা ভেইনগুলো দেখতেও বেশ কদাকার মনে হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করালে পায়ে আলসার বা ঘা হয়ে যেতে পারে, পায়ের স্নায়ু নষ্ট হয়ে গ্যাঙ্গরিন হতে পারে। অল্প আঘাতেই এসব শিরা থেকে রক্তপাত শুরু হবার সম্ভাবনাও খুব বেশি। প্রতিরক্ষা বাহিনী বা পুলিশ হিসেবে চাকরি করতে চাইলে ভেরিকোস ভেইন একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
ভেরিকোস ভেইন শিরা স্ফীতি কারণ লক্ষণ এবং কার্যকর চিকিৎসা

ভেরিকোস ভেইন শিরা স্ফীতি - কারণ

  • বংশে থাকলে এই অসুখের প্রবণতা বাড়ে
  • সাধারণত ভেইন বা শিরার ভাল্ব নষ্ট হয়ে যাবার কারণে এই রোগটি হয়
  • শিরায় ইনফেকশন হলে
  • গর্ভাবস্থায়, পেটে টিউমার হলে বা পানি জমলে
  • পেশাগত কারণে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কাজ করার কারণেও এ রোগটি হতে দেখা যায়।

ভ্যারিকোস ভেইন - লক্ষণসমূহ

  • পায়ের রক্তনালী ফুলে আঁকাবাঁকা হয়ে যায়।
  • ভেরিকোস ভেইন বা শিরা স্ফীতি হলে শুরুতে খুব একটা ব্যথা বেদনা থাকে না। 
  • শুরুতে পা ভারী ভারী মনে হয়।
  • পায়ের শিরা ঘন নীল বর্ণ ধারণ করে।
  • পায়ের শিরা পাকানো দড়ির মতো হয়ে যায়, যা বাইরে থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়।
  • পায়ের পাতা ফুলতে শুরু করে, জ্বালা ভাব থাকে।
  • পায়ের মাংসেপশীতে টান ধরা বা খিঁচুনি হতে পারে।
  • যে অংশে শিরা ফুলে ওঠে সেখানে চুলকানি হতে পারে।
  • পায়ের ত্বকের রঙ বদলে যায়, ত্বক শুকিয়ে পাতলা হয়ে যায়, ত্বক থেকে আঁশ ওঠে এবং ফুলে যায়।
  • যত দিন যায় সমস্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। টানা দাঁড়িয়ে বা বসে থাকলে পায়ে ব্যথা শুরু হয়।
  • পায়ের ফুলে ওঠা শিরার ব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকে।
  • চিকিৎসার অভাবে সমস্যা বাড়তেই থাকে, পায়ে আলসার বা ঘা হয়ে যায়। 
  • আচমকা ব্লিডিং শুরু হতে পারে।

ভেরিকোস ভেইন শিরা স্ফীতি - চিকিৎসা 

মূলত হোমিওপ্যাথি ছাড়া এর তেমন কোন ভালো চিকিৎসা নেই। এলোপ্যাথিতে এটিকে অপারেশন করে ঠিক করার চেষ্টা করা হয়ে থাকে এছাড়া বিভিন্ন স্থানিক চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে সেগুলি রোগ সারায় না কিছুটা আরাম দিয়ে থাকে মাত্র। কিন্তু ভেরিকোস ভেইন বা শিরা স্ফীতি সমস্যার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করে হোমিওপ্যাথি। কারণ একমাত্র হোমিওপ্যাথিতেই এই সমস্যার জন্য অনেক কার্যকর ঔষধ রয়েছে। তবে সেগুলি প্রয়োগ করলেই সমস্যা সেরে যাবে না। এর জন্য দরকার প্রোপার কেইস টেকিং এবং প্রোপার মেডিসিন এপ্লিকেশন যা করতে পারেন অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসক। এখানে আপনার নিজের যাবতীয় তথ্যের সাথে আপনার পিতা-মাতা, দাদা-দাদী এবং নানা-নানীর হিস্ট্রি নেয়ার প্রয়োজন হতে পারে একটি উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে। তাই এই সমস্যা নির্মূলে অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

ভেরিকোস ভেইন শিরা স্ফীতি - বিধি নিষেধ

খাবার দাবারে বিধি নিষেধ
  • মাংস, চর্বিজাতীয় ও উচ্চ প্রোটিন জাতীয় খাবার বর্জন করুন
  • যাবতীয় প্রাণীজ খাবার পরিহার করুন 
  • তৈলাক্ত খাবার, ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড, জাংফুড বর্জন করুন
  • লবন, মিষ্টি, চিনি এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার বর্জন করুন
  • চা, কফি এবং গরুর দুধ বর্জন করুন
  • শাকসবজি, ফল এবং ফলের জুস থেকে পারেন
জীবন যাপনে বিধি নিষেধ
  • কর্মস্থলে টানা দাঁড়িয়ে থাকবেন না, মাঝে মাঝে বসুন
  • টানা বসেও থাকবেন না মাঝে মাঝে হাঁটাচলা করুন
  • আঁটসাঁট পোশাক পরিহার করুন, ঢিলেঢালা কাপড় পরিধান করুন
  • তীব্র গরম পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ কাজ করা থেকে বিরত থাকুন
  • অধিক ভারী জিনিস উত্তোলন করা থেকে বিরত থাকুন
  • হালকা ব্যায়াম এবং সকাল বিকাল হাঁটা চলা করা
  • ব্যথা তীব্র হলে বিছানায় শুয়ে পা দুটি কিছুক্ষন উপর দিকে দিয়ে রাখুন
বিস্তারিত