Dr. Imran ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান ➤ ডিএইচএমএস (বিএইচএমসি এন্ড হসপিটাল), ডিএমএস; ঢাকা
➤ রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক(রেজিঃ নং-৩৩৪৪২)
➤ বিশেষত্বঃ ইউরোলজি, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, গাইনিকোলজি (হোমিও মেডিসিন)
➤ আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী-ডেমরা রোড, ঢাকা।
➤ ফোন : +৮৮ ০১৬৭১-৭৬০৮৭৪ এবং ০১৯৭৭-৬০২০০৪
➤ সাক্ষাৎ : সকাল ১১ টা থেকে বিকাল ৪ টা (শুক্রবার বন্ধ)
E-mail : delowaridb@gmail.com
➤ প্রোফাইল ➤ ফেইসবুক ➤ ইউটিউব

সাম্প্রতিক আপডেট

জন্মগত ত্রুটি

শিশুর জন্মগত ত্রুটি এবং মারাত্মক রোগ ব্যাধির কার্যকর চিকিৎসা

ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস নির্মূলের ম্যাজিক থেরাপি এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

ভেরিকোসিল

ভেরিকোসিলের অপারেশনবিহীন স্থায়ী চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি

আইবিএস

পেটের পীড়া আইবিএস নির্মূলের স্থায়ী চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি

আইবিডি

পরিপাক তন্ত্রের পীড়া আইবিডি নির্মূলের চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি

মলদ্বারের রোগ

পাইলস, এনাল ফিশার এবং ফিস্টুলা সমস্যায় হোমিওপ্যাথি

গ্যাংরিন

গ্যাংরিন বা পচনশীল ক্ষত নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

কিডনি ও মূত্রনালী

কিডনি এবং মূত্রনালীর রোগের চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি।

নারী স্বাস্থ্য স্ত্রীরোগ
নারীদের অর্থাৎ স্ত্রীরোগ সম্পর্কিত বিষয়াবলী
মা ও শিশু স্বাস্থ্য
মা ও শিশু স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়াবলী
পুরুষদের স্বাস্থ্য
পুরুষদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়াবলী
রোগ-ব্যাধি অসুখবিসুখ
নানা প্রকার রোগ-ব্যাধি সম্পর্কিত বিষয়াবলী
স্বাস্থ্য বিষয়ক টিপস
স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যাবতীয় টিপস ও ট্রিকস

সাম্প্রতিক আপডেট

শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

যক্ষা বা TB রোগের জটিলতা ! শ্বাসকষ্ট বা ঠান্ডার দোষ, পেটের অসুখ, ফুসফুস, হার্ট, কিডনি, বন্ধ্যাত্ব, মানুষিক সমস্যা ইত্যাদি

বিভিন্ন জটিল প্রকৃতির শারীরিক সমস্যার  পেছনে Tuberculosis (TB) যক্ষ্মা বা যক্ষা ফ্যাক্টর নিয়ে আজ আলোকপাত করবো। আপনারা হয়তো অনেকেই লক্ষ্য করে থাকবেন যিনি TB বা যক্ষাতে আক্রান্ত হন অথবা তার নিকট আত্মীয় কারো TB থাকলে তিনি বিভিন্ন রকম শারীরিক এবং মানুষিক সমস্যায় আক্রান্ত থাকেন। যেমন পেটের পীড়া - আইবিএস, আইবিডি, কোষ্টকাঠিন্য, শ্বাসকষ্ট বা ঠান্ডার দোষ, বন্ধ্যাত্ব, হার্ট, কিডনি, চর্মরোগ, মানুষিক সমস্যা ইত্যাদি যেন লেগেই থাকে। বছরের পর বছর ধরে লোকজন দেশ বিদেশে এলোপ্যাথির নামকরা চিকিৎসকের পেছনে দৌড়াতে থাকে কিন্তু সমস্যার আদৌ কোন স্থায়ী সমাধান হয় না।

কারণ এলোপ্যাথিতে মূলতঃ মূল রোগের চিকিৎসা করা হয় না বরং মূল রোগ বা তার জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল দ্বারা সৃষ্ট কিছু লক্ষণ ও উপসর্গকে রোগের নাম দিয়ে চিকিৎসা করা হয় তাও আবার স্থানিক ভাবে। যার কারণে এলোপ্যাথিতে ক্রনিক ডিজিস আদৌ স্থায়ীভাবে ভাল হয় না। যখন কোন রোগের পেছনের মূল কারণ থাকে TB বা যক্ষা অথবা ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল তখন বুঝতেই পারছেন আপনি যতই এলোপ্যাথিক ঔষধ সেবন করেন না কেন আপনার সমস্যা আদৌ স্থায়ী ভাবে নির্মূল হবে না। তবে ঔষধ খাওয়া অবস্থায় কিছুটা আরাম পাবেন মাত্র অর্থাৎ রোগ যন্ত্রনা উপশম হবে কিন্তু রোগ  আরোগ্য হবে না। তখন এলোপ্যাথিক চিকিৎসকগণ রোগীকে সারা জীবন ধরেই ঔষধ খেয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে। তাছাড়া মানুষকে সারা জীবন ধরে ঔষধ খাওয়ানোটা হল এলোপ্যাথিক মেডিক্যাল মাফিয়াদের একটা বিজনেস পলিসি। 
মূলত হোমিওপ্যাথিক নিয়মে প্রপার ইনভেস্টিগেশন করে TB বা যক্ষা অথবা ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়ালকে তার প্রিডোমিনান্ট অবস্থা থেকে রিসিসিভ করার জন্য চিকিৎসা দেয়াই হলো বিশ্বের সর্বোৎকৃষ্ট এবং কার্যকর একটি চিকিৎসা।
বিশ্বের যে দশটি রোগে বেশি মানুষ মারা যায় TB বা যক্ষা হলো তার একটি। যক্ষ্মা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ফুসফুসে। এছাড়া দেহের বিভিন্ন জয়েন্ট, গ্রন্থিসহ আমাদের মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে, ত্বক, অন্ত্র, লিভার, কিডনি, হাড়সহ দেহের যেকোন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে TB বা যক্ষার সংক্রমণ হতে পারে। বলতে গেলে আমাদের এমন কোন অঙ্গ নাই, যেখানে যক্ষ্মা হয়না। কারণ যক্ষ্মা হচ্ছে একটি বায়ুবাহিত ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক ব্যাধি যেটা মাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকুলোসিস জীবাণুর সংক্রমণে হয়ে থাকে। যতগুলো যক্ষ্মা বা TB রয়েছে, এর মধ্যে ৮০ ভাগই ফুসফুসে হয়ে থাকে এবং এটি সবচেয়ে গুরুতর ও ভীষণ ছোঁয়াচে প্রকৃতির। শরীরের অন্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের যক্ষ্মা এতোটা ছোঁয়াচে নয়। তাই সেগুলি ফুসফুসের যক্ষ্মার মতো ছড়ানোর ক্ষেত্রে ততটা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। যেহেতু যক্ষা বা TB নিয়ে কথা বলছি তাই আসুন এর লক্ষণ ও উপসর্গগুলি সম্পর্কেও কিছুটা জেনে নিই-

ফুসফুসের যক্ষার প্রধান উপসর্গ

  • ফুসফুসে যক্ষ্মা হলে হাল্কা জ্বর ও কাশি হতে পারে
  • কাশির সঙ্গে গলার ভিতর থেকে থুতুতে রক্তও বেরোতে পারে
  • বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট হিসেবে ৫-৬ মাস জ্বর থাকার মূল কারণ এই টিবি
  • সাধারনত তিন সপ্তাহের বেশি কাশি
  • জ্বর থাকে 
  • কাশির সাথে কফ এবং মাঝে মাঝে রক্ত বের হওয়া
  • অস্বাভাবিকভাবে ওজন হ্রাস পাওয়া 
  • অবসাদ অনুভব করা 
  • রাতে ঘাম হওয়া
  • বুকে ব্যথা, দুর্বলতা ও ক্ষুধামন্দা
  • ইত্যাদি
যক্ষা ফুসফুস থেকে অন্যান্য অঙ্গেও ছড়িয়ে পরতে পারে বিশেষ করে যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তাদের এবং বাচ্চাদের ক্ষেত্রে। তখন একে অ-শ্বাসতন্ত্রীয় যক্ষা বা Extra pulmonary Tuberculosis বলা হয়, যেমন-
  • কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে মেনিনজাইটিস
  • লসিকাতন্ত্রে স্ক্রফুলা
  • প্রজনন তন্ত্রে প্রজনন তন্ত্রীয় যক্ষা
  • পরিপাক তন্ত্রে পরিপাক তন্ত্রীয় যক্ষা
  • অস্থিকলায় পট'স ডিজিস
অনেক ক্ষেত্রে ফুসফুসীয় এবং অ-ফুসফুসীয় যক্ষা একসাথে বিদ্যমান থাক্তে পারে। পৃথিবীর যক্ষ্মা রোগীদের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি অর্থাৎ প্রায় অর্ধেকই হল ভারতীয় উপমহাদেশবাসী।
যক্ষা বা TB রোগের জটিলতা
তবে একবার কেউ এই রোগে আক্রান্ত হলে সেটা আর বের হতে পারে না। আপনি হয়তো আমাদের ট্রাডিশনাল চিকিৎসা ব্যবস্থায় ৬ মাস, ৯ মাস....১৮ মাস চিকিৎসা নিয়ে রোগের তীব্রতা সেই পরিমান কমিয়ে আনতে পারবেন যেটি আপনার জীবন নাশ করবে না। অর্থাৎ আপনি হয়তো টেস্ট করে দেখছেন আপনার শরীরে টিবির জীবাণু নেই। কিন্তু তারপরও যক্ষা বা এর জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল আপনার শরীরে থেকে যাবে এবং আপনার থেকে আপনার পরবর্তী প্রজন্মে DNA এর মাধ্যমে বিস্তার লাভ করবে। আপনার বংশধরদের মধ্যে যাকে সুবিধা করতে পারবে তার শরীরেই TB বা যক্ষা জেগে উঠবে অথবা তাদের শরীরে বিভিন্ন অঙ্গে নানা প্রকার জটিল প্রকৃতির সমস্যা সৃষ্টি করে তাকে জীবনভর কষ্ট দিয়ে যাবে। 

পূর্বে টিবি আক্রান্ত হলে বা নিকট আত্মীয়ের টিবি থাকলে

কারো পাস্ট হিস্ট্রিতে টিবি থাকলে অথবা তার নিকট আত্মীয় যেমন মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী কারো টিবি থাকলে তার মধ্যে নিম্নোক্ত স্বাস্থ্য সমস্যাগুলি তার মধ্যে জেগে উঠতে পারে-
  • আইবিএস, ক্রনিক ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা প্রকার পেটের অসুখ
  • হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট বা ঠান্ডার দোষ
  • ফুসফুসের নানা সমস্যা
  • স্বরযন্ত্রের সমস্যা
  • হার্টের সমস্যা
  • লিভারের সমস্যা
  • পুরুষদের অর্কাইটিস ও  বন্ধ্যাত্ব
  • নারীদের ডিম্বাশয়ের সমস্যা ও  বন্ধ্যাত্ব
  • নানা প্রকার মানুষিক সমস্যা
  • নানা প্রকার চর্মরোগ
  • মাইগ্রেন
  • পাইলস, ফিস্টুলা, মলদ্বার দিয়ে রক্ত ক্ষরণ 
  • ক্যান্সার
  • শরীর শুকিয়ে যাওয়া
  • ইত্যাদি

কাদের টিউবারকুলার ডায়াথেসিস প্রিডোমিনান্ট

এবার আসুন আমরা জেনে নিই কোন একজন রোগীর Family History তে কোন কোন দোষ উপস্থিত থাকলে তার মধ্যে Tubercular Diathesis, Predominant বলা যাবে। Pathological indications from Family History are as follows-
  • Tuberculosis
  • Leprosy
  • Heart disease with or without valvular lessions
  • Diabetes
  • Rheumatism
  • Cancer
  • Headache
  • Cerebro vascular accident (CVA)
  • IBS, IBD, Chronic  Dysentery Diarrhoea or Constipation
  • Anorectal Diseases - Piles, Fistula, Sinuses, stricture in rectum, Bleeding per rectum etc.
  • Obstructive airways disease -  Asthma, chronic bronchitis, emphysema, cystic fibrosis, and bronchiolitis
  • Bronchiectasis - Permanent enlargement of parts of the airways of the lung
  • Laryngitis - Inflammation of voice box (larynx)
  • Different types of skin diseases especially ring-worm, Pityriasis, allergy etc.
  • Lice at different parts of the body
  • Breathing distress or Asthma
  • Mental or Psychiatric Problem - Schizophrenia, Mania, Insanity, Uncontrolled rage from beginning etc.
  • Massive Haemoptysis - Coughing of blood originating from the respiratory tract

যক্ষা বা TB পরবর্তী জটিলতার চিকিৎসা

তাই কোন একটি মানুষের Past History তে Tuberculosis (TB) থাকলে তার চিকিৎসার বিষয়ে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। কারণ আপনাকে মনে রাখতে হবে-
Tuberculosis is results of disease and also one way disease.
একবার দেহ-মনে ঢুকলে আর বের হতে পারে না। দ্বিতীয় কারণটি হলো কোন মানুষ Tuberculosis এ আক্রান্ত হওয়ার পূর্বে এবং পরে বিভিন্ন সমস্যায় বিশেষ করে ঠান্ডাজনিত সমস্যায় বার বার কষ্ট পেতে থাকে এবং বিভিন্ন ঔষধ খেতে থাকে যার ফলে PTS বা Trauma তৈরী হয় তবে সেটা কিন্তু Triple Trauma.
  • প্রথমতঃ আগে পিছে বিভিন্ন ঔষধ খাওয়ার জন্য Trauma
  • দ্বিতীয়তঃ Tuberculosis নিজেই Trauma তৈরী করছে
  • তৃতীয়তঃ Tuberculosis থেকে মুক্তির জন্য ঔষধ খেতে হয় যা পূনরায় Trauma তৈরী করে
সুতরাং বুঝতেই পারছেন নানা জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের Past History তে Tuberculosis (TB) থাকলে অথবা নিকট আত্মীয়ের যেমন মা-বাবা,ভাই-বোন রোগ কারো  TB থাকলেও বুঝতে হবে তার শরীরেও ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল বিদ্যমান যেটি হয়তো সে পেয়েছে তার পূর্ব পুরুষ থেকে DNA এর মাধ্যমে বা অন্য কোন মাধ্যমে। তাই সেক্ষেত্রে Tuberculosis (TB) বা TD (Tubercular Diathesis) Predominant একজন IBS রোগীর চিকিৎসা করা মানেই হলো তার শরীর থেকে ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল রিসিসিভ করা। অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়ালকে নিস্তেজ করে করে সুপ্তাবস্থায় পাঠিয়ে রোগীর ভাইটাল ফোর্সকে শক্তিশালী করা না যাবে পেশেন্ট কখনই তার অনান্য শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ করবেন না।
তাই যেকোন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের Past History তে Tuberculosis (TB) থাকলে অথবা নিকট আত্মীয়ের TB থাকলে দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক খুঁজে বের করুন যিনি প্রপারলি ইনভেস্টিগেশন করে আপনাকে চিকিৎসা দিয়ে আপনার DNA তে Predominant ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল রিসিসিভ করার চিকিৎসা দিবেন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই পেশেন্টকে কিছুটা ধৈর্য ধরে চিকিৎসা নিতে হবে। কারণ রোগের তীব্রতা ভেদে ভালো হতে একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম সময় লাগতে পারে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং আল্লাহ পাক যেন আমাদের সকলকে এই প্রকার জটিল সমস্যা থেকে বাঁচিয়ে রাখেন - সেই কামনায়। ধন্যবাদ। 
বিস্তারিত

বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

আইবিএস এর Tuberculosis TB যক্ষা ফ্যাক্টর ! IBS রোগীর বা নিকট আত্মীয়ের হিস্ট্রিতে টিবি বা যক্ষ্মা

আইবিএস IBS এর ক্ষেত্রে Tuberculosis (TB) যক্ষ্মা বা যক্ষা ফ্যাক্টর নিয়ে আজ আলোকপাত করবো। আপনারা হয়তো অনেকেই লক্ষ্য করে থাকবেন যিনি TB বা যক্ষাতে আক্রান্ত হন অথবা তার নিকট আত্মীয় কারো TB থাকলে তিনি বিভিন্ন রকম শারীরিক এবং মানুষিক সমস্যায় আক্রান্ত থাকেন। যেমন পেটের পীড়া, শ্বাসকষ্ট বা ঠান্ডার সমস্যা ইত্যাদি যেন সারা বছর লেগেই থাকে। বছরের পর বছর ধরে দেশ বিদেশে নানা এলোপ্যাথিক চিকিৎসকের পেছনে দৌড়াতে থাকে কিন্তু সমস্যার আদৌ কোন স্থায়ী সমাধান হয় না।

কারণ এলোপ্যাথিতে মূলতঃ মূল রোগের চিকিৎসা করা হয় না বরং মূল রোগ বা তার জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল সৃষ্ট কিছু লক্ষণ ও উপসর্গের চিকিৎসা করা হয় তাও আবার স্থানিক ভাবে। যার কারণে এলোপ্যাথিতে ক্রনিক ডিজিস আদৌ স্থায়ীভাবে ভাল হয় না। ঠিক তেমনি ভাবে আইবিএস IBS এর পেছনে যখন মূল কারণ থাকে TB বা যক্ষা অথবা ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল তখন বুঝতেই পারছেন আপনি পেট ঠান্ডা রাখার জন্য যতই এলোপ্যাথিক ঔষধ সেবন করেন না কেন আপনার পেটের সমস্যা আদৌ নির্মূল হবে না। তবে ঔষধ খাওয়া অবস্থায় আরাম পাবেন মাত্র।
এক্ষেত্রে মূলত হোমিওপ্যাথিক নিয়মে প্রপার ইনভেস্টিগেশন করে TB বা যক্ষা অথবা ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়ালকে তার প্রিডোমিনান্ট অবস্থা থেকে রিসিসিভ করার জন্য চিকিৎসা দেয়াই হলো বিশ্বের সর্বোৎকৃষ্ট এবং সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসা।
বিশ্বের যে দশটি রোগে বেশি মানুষ মারা যায় TB বা যক্ষা হলো তার একটি। যক্ষ্মা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ফুসফুসে। এছাড়া দেহের বিভিন্ন জয়েন্ট, গ্রন্থিসহ আমাদের মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে, ত্বক, অন্ত্র, লিভার, কিডনি, হাড়সহ দেহের যেকোন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে TB বা যক্ষার সংক্রমণ হতে পারে। বলতে গেলে আমাদের এমন কোন অঙ্গ নাই, যেখানে যক্ষ্মা হয়না। কারণ যক্ষ্মা হচ্ছে একটি বায়ুবাহিত ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক ব্যাধি যেটা মাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকুলোসিস জীবাণুর সংক্রমণে হয়ে থাকে। যতগুলো যক্ষ্মা বা TB রয়েছে, এর মধ্যে ৮০ ভাগই ফুসফুসে হয়ে থাকে এবং এটি সবচেয়ে গুরুতর ও ভীষণ ছোঁয়াচে প্রকৃতির। শরীরের অন্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের যক্ষ্মা এতোটা ছোঁয়াচে নয়। তাই সেগুলি ফুসফুসে যক্ষ্মার মতো ঝুঁকিপূর্ণ নয়। 
আইবিএস এর Tuberculosis TB যক্ষা ফ্যাক্টর
তবে একবার কেউ এই রোগে আক্রান্ত হলে সেটা আর বের হতে পারে না। আপনি হয়তো আমাদের ট্রাডিশনাল চিকিৎসা ব্যবস্থায় ৬ মাস, ৯ মাস....১৮ মাস চিকিৎসা নিয়ে রোগের তীব্রতা সেই পরিমান কমিয়ে আনতে পারবেন যেটি আপনার জীবন নাশ করবে না। কিন্তু তারপরও যক্ষা বা এর জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল আপনার শরীরে থেকে যাবে এবং আপনার থেকে আপনার পরবর্তী প্রজন্মে DNA এর মাধ্যমে বিস্তার লাভ করবে। আপনার বংশধরদের মধ্যে যাকে সুবিধা করতে পারবে তার শরীরেই TB বা যক্ষা জেগে উঠতে অথবা শরীরে বিভিন্ন অঙ্গে নানা প্রকার জটিল প্রকৃতির সমস্যা সৃষ্টি করে থাকে কষ্ট দিবে। যেমনঃ আইবিএসসহ নানা প্রকার পেটের অসুখ, হাঁপানি, হার্টের সমস্যা, লিভারের সমস্যা, পুরুষদের অর্কাইটিস, নারীদের ডিম্বাশয়ের নানা সমস্যা, বন্ধ্যাত্ব ইত্যাদি।

কাদের টিউবারকুলার ডায়াথেসিস প্রিডোমিনান্ট

এবার আসুন আমরা জেনে নিই কোন একজন রোগীর Family History তে কোন কোন দোষ উপস্থিত থাকলে তার মধ্যে Tubercular Diathesis, Predominant বলা যাবে। অর্থাৎ আপনার নিকট আত্মীয়ের অর্থাৎ মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী কারো নিন্মোক্ত রোগব্যাধি থাকলে আপনি বুঝে নিবেন আপনার মধ্যেও Tubercular Diathesis, Predominant অর্থাৎ IBS সহ নানা প্রকার পেটের পীড়া, ঠান্ডার দোষ বা হাঁপানি অথবা আরো নানা জটিল স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগতে পারেন। Pathological indications from Family History are as follows-
  • যক্ষা
  • কোষ্ঠরোগ
  • হৃদরোগ
  • ডায়াবেটিস
  • ব্যাত ব্যথা
  • ক্যান্সার
  • মাথাব্যথা, মাইগ্রেন
  • স্ট্রোক
  • আইবিএস, আইবিডি, পুরাতন আমাশয়, পুরাতন উদরাময়, পুরাতন কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি 
  • মলদ্বারের রোগ -অর্শ বা পাইলস,ভগন্দর বা ফিস্টুলা, রেক্টাল স্ট্রিক্টচার, মলদ্বার দিয়ে রক্ত আসা ইত্যাদি
  • শ্বাসতন্ত্র সম্পর্কিত রোগব্যাধি - হাঁপানি, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদি
  • Bronchiectasis - Permanent enlargement of parts of the airways of the lung
  • Laryngitis - Inflammation of voice box (larynx)
  • Different types of skin diseases especially ring-worm, Pityriasis, allergy etc.
  • Lice at different parts of the body
  • Breathing distress or Asthma
  • Mental or Psychiatric Problem - Schizophrenia, Mania, Insanity, Uncontrolled rage from beginning etc.
  • Massive Haemoptysis - Coughing of blood originating from the respiratory tract
তাই কোন একটি মানুষের Past History তে Tuberculosis (TB) থাকলে তার চিকিৎসার বিষয়ে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। কারণ আপনাকে মনে রাখতে হবে-
Tuberculosis is results of disease and also one way disease.
একবার দেহ-মনে ঢুকলে আর বের হতে পারে না। দ্বিতীয় কারণটি হলো কোন মানুষ Tuberculosis এ আক্রান্ত হওয়ার পূর্বে এবং পরে বিভিন্ন সমস্যায় বিশেষ করে ঠান্ডাজনিত সমস্যায় বার বার কষ্ট পেতে থাকে এবং বিভিন্ন ঔষধ খেতে থাকে যার ফলে PTS বা Trauma তৈরী হয় তবে সেটা কিন্তু Triple Trauma.
  • প্রথমতঃ আগে পিছে বিভিন্ন ঔষধ খাওয়ার জন্য Trauma
  • দ্বিতীয়তঃ Tuberculosis নিজেই Trauma তৈরী করছে
  • তৃতীয়তঃ Tuberculosis থেকে মুক্তির জন্য ঔষধ খেতে হয় যা পূনরায় Trauma তৈরী করে
সুতরাং বুঝতেই পারছেন IBS রোগীদের Past History তে Tuberculosis (TB) থাকলে অথবা নিকট আত্মীয়ের TB থাকলেও বুঝতে হবে তার শরীরেও ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল বিদ্যমান যেটি হয়তো সে পেয়েছে তার পূর্ব পুরুষ থেকে DNA এর মাধ্যমে বা অন্য কোন মাধ্যমে। তাই সেক্ষেত্রে Tuberculosis (TB) বা TD (Tubercular Diathesis) Predominant একজন IBS রোগীর চিকিৎসা করা মানেই হলো তার শরীর থেকে ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল রিসিসিভ করা। অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়ালকে নিস্তেজ করে করে সুপ্তাবস্থায় পাঠিয়ে রোগীর ভাইটাল ফোর্সকে শক্তিশালী করা না যাবে পেশেন্ট কখনই তার আইবিএস সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ করবেন না।
তাই এক্ষেত্রে IBS রোগীদের Past History তে Tuberculosis (TB) থাকলে অথবা নিকট আত্মীয়ের TB থাকলে দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক খুঁজে বের করুন যিনি প্রপারলি ইনভেস্টিগেশন করে আপনাকে চিকিৎসা দিয়ে আপনার DNA তে Predominant ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল রিসিসিভ করার চিকিৎসা দিবেন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই পেশেন্টকে কিছুটা ধৈর্য ধরে চিকিৎসা নিতে হবে। কারণ এক্ষেত্রে রোগের তীব্রতা ভেদে ভালো হতে একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম সময় লাগতে পারে। ধন্যবাদ।
বিস্তারিত

শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

আইবিএস চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথির সাফল্যের হার এবং কখন কোন অবস্থায় হোমিও চিকিৎসায় কিরূপ ফল পেতে পারেন

প্রপার একটি হোমিও চিকিৎসার মাধ্যমে আইবিএস এর মতো জটিল পেটের পীড়া স্থায়ীভাবে নির্মূল করা যায়। তবে এক্ষেত্রে যদি সাফল্যের হার চিন্তা করেন তাহলে আমার কয়েক বছরের চিকিৎসার বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু তথ্য উপস্থাপন করতে পারি। যথা সময়ে প্রোপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিলে আইবিএস এর মতো জটিল পেটের পীড়া থেকে মুক্তি পেতে খুব একটা বেগ পেতে হয় না যদিও শুরুতে অধিকাংশ পেশেন্টই হোমিও চিকিৎসার তথ্যাবধানে আসেন না। তাই সেক্ষেত্রে সাফল্যেটা সবার ক্ষেত্রে দ্রুত আসে না। কিছু ক্ষেত্রে আবার  চিকিৎসা নিয়েও খুব ফল হয়ে থাকে। তবে-
১০০% IBS পেশেন্টের মধ্যে ৭০% আইবিএস রোগীরা প্রায় নির্দোষভাবে সুস্থতা লাভ করে থাকেন চিকিৎসার বিভিন্ন পর্যায়ে। ২০% আইবিএস রোগীদের পূর্ণ সুস্থতা লাভ করতে কিছুটা সময় লাগে আর বাকি ১০% ক্ষেত্রে খুব কম ফলাফল পাওয়া যায় বিভিন্ন কারণে।
রোগের শুরুতেই প্রপার হোমিও চিকিৎসার তথ্যাবধানে আসলে প্রায় শতভাগ আইবিএস রোগীই আরোগ্য লাভ করে থাকেন। তবে পুরুপুরি ভালো হতে হয়তো একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম সময় লাগতে পারে। বছরের পর বছর ধরে রোগে ভুগার পর অথবা দেরিতে হোমিও চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ক্ষেত্রে আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলি দেখে থাকি-
আইবিএস চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথির সাফল্যের হার
দেরিতে চিকিৎসা নিতে আসা পেশেন্টদের মধ্যে ৫০% আইবিএস রোগী নির্দোষ ভাবে এবং স্থায়ীভাবে হোমিও চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠেন যাদের ফলাফল পেতে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয় না। তবে পুরুপুরি ভালো হতে হয়তো একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম সময় লাগতে পারে।

আবার দেরিতে আসা ২০% আইবিএস রোগীদের ৮০-৯০% সমস্যাই দূর হয়ে যায় তবে চিকিৎসার পর তাদের জীবনধারায় হালকা কিছুটা পরিবর্তন নিয়ে আসলেই তারা প্রায় ১০০% সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন কোন প্রকার অসুবিধা ছাড়াই। তাই এক অর্থে বলা যায় ৭০% আইবিএস রোগীই স্থায়ী ভাবে আইবিএস থেকে মুক্তি পেয়ে থাকেন যাদের ফলাফল পেতে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।

এবার আসুন, দেরিতে চিকিৎসা নিতে আসা ৩০% আইবিএস রোগীদের দিকে মনোযোগ দেই যাদের মধ্যে ২০% রোগীতে ফলাফল আসতে কিছুটা দেরি লাগলেও ১০% এর ক্ষেত্রে খুব কম ফলাফল পাওয়া যায় নিন্মোক্ত কারণে-
চিকিৎসক ও চিকিৎসা সংক্ৰান্ত ত্রুটি 
  • হোমিওপ্যাথি একটি মহা সমুদ্রতুল্য চিকিৎসা ব্যবস্থা। বিশ্বের আর সকল চিকিৎসা শাস্ত্রের ঔষধের পরিমান হোমিওপ্যাথির অর্ধেক ঔষধের সমপরিমাণ হবে না। হোমিওপ্যাথদের প্রতিনিয়ত পড়াশোনায় থাকতে হয়। একজন চিকিৎসক হিসেবে এবং মানুষ হিসেবে নির্দ্বিধায় স্বীকার করতেই হবে সর্বাধিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও চিকিৎসা দানের ক্ষেত্রে কিছু ক্ষেত্রে হয়তো কিছু না কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি থাকতে পারে যদিও চিকিৎসক সেটা খুব দ্রুতই শুধরে নিয়ে থাকেন।
  • তাছাড়া চিকিৎসক নির্বাচনে যদি আপনি ব্যর্থ হন তাহলেও আপনি এই সমস্যা থেকে পরিত্রানের কোন আশা করতে পারেন না। কারণ আপনি ভাববেন না যে, একজন হোমিও চিকিৎসকের কাছে গেলেন, কিছুদিন চিকিৎসা নিলেন আর তাতেই আপনি সেরে উঠবেন। এখানে মূলতঃ দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক প্রপার ইনভেস্টিগেশনের মাধ্যমে আপনার  DNA তে প্রিডোমিনেন্ট True Disease নির্ণয় করে সেগুলিকে রেসিসিভ করবেন। তাই যে হোমিও চিকিৎসকের কাছে গেলেন তার যদি এই বিষয়গুলি নিয়ে পর্যাপ্ত পড়াশোনা না থাকে তাহলে তিনি আপনার দৃষ্টিতে যত নামী আর বিখ্যাত চিকিৎসকই হন না কেন আপনার আইবিএস নির্মূলের ক্ষেত্রে হয়তো সাফল্য নাও পেতে পারেন। 
  • তাছাড়া যেসব চিকিৎসকরা স্থূল মাত্রার হোমিও ঔষধ প্রয়োগ করে ক্রনিক ডিজিসের চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করে থাকে তাদের চিকিৎসায় আইবিএস কখনই নির্মূল হবেনা আপনি সে বিষয়ে ১০০% নিশ্চিত থাকতে পারেন। কিভাবে বুঝবেন ? আপনি দেখবেন চিকিৎসার সময় ৪/৫টি হোমিওপ্যাথিক ঔষধের বোতল ধরিয়ে দিবে এবং ৬ মাস, ৮মাস, ১ বছর, ২ বছর ইত্যাদি কোর্স ধরিয়ে লাগাতার আপনার শরীরে নানা অসদৃশ হোমিও ঔষধ প্রয়োগ করতে থাকবে। এমনটি হলে শুরুতেই চিকিৎসক পরিবর্তন করুন। তা নাহলে সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে হয়ত উল্টো PTS Predominant হয়ে উঠতে পারে। 
পেশেন্ট সংক্রান্ত বিশেষ ত্রুটি
  • ইনভেস্টিগেশনে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব। কিছু রোগীরা তাদের ফ্যামিলি হিস্ট্রি বলতেই পারেন না।
  • ইনভেস্টিগেশনে তথ্য লোকানো বা অসমাপ্ত কেইস টেকিং। চিকিৎসক যেহেতু আপনার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আপনার DNA তে প্রিডোমিনেন্ট True Disease নির্ণয় করবেন তাই ভুল/অসত্য/অসম্পূর্ণ তথ্য বা তথ্য লোকানোর কারণে ইনভেস্টিগেশন অপূর্ণাঙ্গ থেকে যাবে সেটাই স্বাভাবিক। আর এক্ষেত্রে চিকিৎসক চিকিৎসা দিলে হয়তো বহুক্ষেত্রেই তাৎক্ষণিক ফলাফল আশা করা যায় না।
  • যেকোন দুরারোগ্য রোগের ক্ষেত্রে শুধু কারেন্ট সিম্পটোম অথবা পেশেন্টের সার্বদৈহিক অবস্থার আলোকে হোমিও ঔষধ সিলেক্ট করে চিকিৎসা দিলে অধিকাংশ পেশেন্টের ক্ষেত্রেই আশানুরূপ ফলাফল আসে না বিধায় এক্ষেত্রে পেশেন্টের পাস্ট হিস্ট্রি এবং ফ্যামিলি হিস্টিসহ পূর্ণাঙ্গ ইনভেস্টিগেশন জরুরি, যাতে চিকিৎসক বুঝতে পারেন আপনার DNA তে প্রিডোমিনেন্ট প্রকৃত রোগগুলির সম্যক অবস্থা এবং সেগুলি রেসিসিভ করতে পারলেই অধিকাংশ পেশেন্টরা এক প্রকার দ্রুতই সেরে উঠেন।
  • যিনি চিকিৎসা নিতে আসছেন অর্থাৎ রোগীর DNA তে প্রিডোমিনেন্ট মাল্টিপল True Disease এর উপস্থিতি তার চিকিৎসা কাল দীর্ঘায়িত করতে পারে।
  • দীর্ঘদিন বিভিন্ন হোমিওপ্যাথিক, আয়ুর্বেদিক, হারবাল এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বা এলোপ্যাথিক ঔষধের নির্বিচার প্রয়োগের ফলে অনেকেরই PTS প্রকট হয়ে উঠে এবং ভাইটাল ফোর্স দুর্বল থেকে দুর্বলতর অবস্থায় পৌঁছায়।
  • কোন দুরারোগ্য রোগের ক্ষেত্রে (যেমনঃ যক্ষা) এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেয়ার ফলে নানা প্রকার জটিল শারীরিক সমস্যা এবং এর সাথে পেটের অসুখ বা আইবিএস এর মতো সমস্যাও জেগে উঠেছে। আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, খুব তাড়াতাড়ি আপনি সেরে উঠবেন না বা আদৌ সম্পূর্ণ ভাবে সুস্থ হবেন কিনা সেটাও কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। কারণ এক্ষেত্রে রোগীর ভাইটাল ফোর্সের অবস্থা চরম দুর্বলতর অবস্থায় পৌঁছায়। 
  • অনেকেই আবার সার্জারি বা বিভিন্ন অপচিকিৎসায় PTS প্রাপ্ত হয় এবং রোগ জটিলতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেন তাদের অনেকের ক্ষেত্রে খুব দ্রুত আশানুরূপ ফলাফল আশা করা যায় না আবার কিছু ক্ষেত্রে মাত্র কিছুটা ফলাফল পাওয়া যায়।
  • কিছু পেশেন্ট আছে ২/১ বার এসেই কিছু না কিছু ফলাফল আসল কি আসলো না অমনি অন্য দিকে দৌড় দেয় অর্থ্যাৎ তারা চিকিৎসা নিতে আসে না বরং একের পর এক ডাক্তার পরিবর্তন করে করে এর দুর্নাম ওর কাছে বলে বেড়ায় অথবা দেশ বিদেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন তার গল্প বলে বেড়ায়। এক্ষেত্রে এটা তাদের এক প্রকার দূর্ভাগ্যই বলা চলে।
  • অধিকাংশ শিক্ষিত লোকজনই হোমিওপ্যাথির মতো অসাধারণ একটি ট্রিটমেন্ট সিস্টেম সম্পর্কে খুব একটা জ্ঞান রাখেন না। দেখা যায়, যে রোগটি এলোপ্যাথিক চিকিৎসায় আদৌ ভালো হয় না সেক্ষেত্রেও তারা বছরের পর বছর এলোপ্যাথির পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে, বিভিন্ন দেশ-মহাদেশ ঘুরে এক সময় হোমিও চিকিৎসা নিতে আসে - ততদিনে জল হয়তো নদী পাড়ি দিয়ে সাগরে পৌঁছায়। অথচ সময় মতো প্রপার হোমিও চিকিৎসা নিলে হয়তো খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠত।
সবশেষে - তারপরও বলবো যারা খুব তাড়াতাড়ি চিকিৎসায় রেজাল্ট পাচ্ছেন না তারাও হতাশ হবেন না। কারণ যারা ধৈর্য ধারণ করে তারাও এক সময় ধৈর্যের সুমিষ্ট ফল লাভ করে থাকেন। হয়তো কিছুটা সময় পর আপনিও রোগ থেকে মুক্তি লাভ করে সুস্বাস্থ ফিরে পাবেন ইনশা-আল্লাহ।
বিস্তারিত

সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

অ্যাজমা Asthma - কারণ, লক্ষণ এবং হাঁপানি থেকে মুক্তির উপায়

অ্যাজমা Asthma শ্বাসকষ্ট সমস্যার কারণ, লক্ষণ এবং হাঁপানি থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত থাকছে আজকের পর্বে। হাঁপানি বলতে আমরা বুঝি শ্বাসপথে বায়ু চলাচলে বাধা সৃষ্টির জন্য শ্বাসকষ্ট Dyspnoea. সারা বিশ্বের প্রায় ১৫ কোটিরও বেশি মানুষ অ্যাজমা বা হাঁপানীতে আক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর ৫০ হাজার লোক এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। শ্বাসনালির প্রদাহজনিত জটিল একটি সমস্যা হল এই অ্যাজমা। শ্বাসনালিতে বিভিন্ন কোষ প্রধানত ইওসিনোফিল ও অন্যান্য উপাদান জমা হয়ে শ্বাসনালির ছিদ্র পথ সরু হয়ে যায়। রোগী শ্বাসকষ্টসহ শুকনো কাশি, বুকে কফ জমে যাওয়া, শ্বাস নেওয়ার সময় বুকে শোঁ শোঁ আওয়াজ হওয়া ইত্যাদি সমস্যায় ভুগতে থাকে। শীতকালে শুষ্ক ঠান্ডা আবহাওয়া বাতাসে উড়ে বেড়ানোয় ধূলিকণার আধিক্যে অ্যাজমা রোগীদের কষ্ট বেড়ে যেতে দেখা যায়।

অ্যাজমা Asthma - মূল কারণ

ইতিপূর্বে যারা আমার লেখা পড়েছেন তারা হয়তো জেনেছেন, আমরা যে সব রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকি সেগুলি মূলত আমাদের DNA তে প্রিডোমিনেন্ট কিছু True Disease এর তৈরী করা কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ। ঠিক তেমনি অ্যাজমা Asthma বা হাঁপানি সমস্যার মূলেও রয়েছে True Disease. অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা দেখি যারা এই সমস্যায় আক্রান্ত হন তারা মূলত Tubercular Diathesis এর পেশেন্ট। 
বর্তমান বিশ্বে একমাত্র হোমিওপ্যাথিই আপনার DNA তে প্রিডোমিনেন্ট True Disease কে ডায়নামিক হোমিও ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে রিসিসিভ করতে পারে আর তাই হোমিও চিকিৎসায় অ্যাজমা বা হাঁপানি স্থায়ী ভাবে নির্মূল হয়ে যায়। 
তবে এক্ষেত্রে আপনাকে দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক নির্বাচন করতে হবে যিনি হোমিওপ্যাথিক নিয়মনীতি অনুসারে আপনাকে যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে আপনার DNA তে প্রিডোমিনেন্ট True Disease কে রিসিসিভ করবেন। 
অ্যাজমা Asthma - কারণ, লক্ষণ এবং হাঁপানি থেকে মুক্তির উপায়
যারা অ্যাজমা বা হাঁপানিতে আক্রান্ত হন বিভিন্ন পরিবেশগত বা পরিপোষক কারণে তাদের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যেতে পারে যেমনঃ ঘরের উপাদানের থাকা ক্ষুদ্র কীট, ধুলাবালি, গাছ-আগাছা, ফুলের পরাগরেণু, পশুপাখির পালক, কীটপতঙ্গ ইত্যাদি হাঁপানি রোগীদের শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ট্রিগার করে থাকে। 

অ্যাজমা Asthma - লক্ষণ ও উপসর্গ

  • শ্বাসকষ্ট হওয়া 
  • হাঁটলে বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করলে শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া
  • বুকে কফ জমে যাওয়া
  • বুকে সাঁ-সাঁ শব্দে কষ্টসহ শ্বাস নেয়া 
  • শ্বাস নেওয়ার সময় বাঁশির মতো শব্দ হওয়া  
  • শুকনো কাশি বা কফযুক্ত কাশি
  • রাতে ঘুমানোর সময় কাশি বেড়ে যাওয়া
  • বুক ভার হয়ে থাকা
  • বুকে চাপ ধরা বা দমবন্ধ অনুভব করা 

অ্যাজমা Asthma -স্থায়ী চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি

আপনারা হয়তো জানেন, এলোপ্যাথিতে অ্যাজমা বা হাঁপানি নির্মূলের স্থায়ী কোন চিকিৎসা নেই। অন্যান্য ক্রনিক ডিজিসের মতো এই সমস্যায় ও এলোপ্যাথি রোগ পুষে রেখে সারাজীবন ধরে আপনার সাথে বিজনেসের নীতিতে চলবে এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এলোপ্যাথিক ক্ষতিকর স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধসহ অন্যান্য রাসায়নিক ঔষধের দীঘদিন যাবৎ ক্রমাগত প্রয়োগে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আরো জটিল প্রকৃতির স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি হবে সেটাও অস্বাভাবিক নয়।

ইতিমধ্যেই আপনারা জেনেছেন, আমরা যে সব রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকি সেগুলি মূলত আমাদের DNA তে প্রিডোমিনেন্ট কিছু True Disease এর তৈরী করা কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ। ঠিক তেমনি অ্যাজমা বা হাঁপানি সমস্যার মূলেও রয়েছে True Disease. অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা দেখে থাকি - যারা এই সমস্যায় আক্রান্ত হন তারা মূলত Tubercular Diathesis এর পেশেন্ট। বর্তমান বিশ্বে একমাত্র হোমিওপ্যাথিই আপনার DNA তে প্রিডোমিনেন্ট True Disease কে ডায়নামিক হোমিও ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে রিসিসিভ করতে পারে আর তাই হোমিও চিকিৎসায় অ্যাজমা বা হাঁপানি স্থায়ী ভাবে নির্মূল হয়ে যায়। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক নির্বাচন করতে হবে যিনি হোমিওপ্যাথিক নিয়মনীতি অনুসারে আপনাকে যথাযথ চিকিৎসা দিতে পারবেন।

অপরদিকে এলোপ্যাথি স্থানিক ভাবে শ্বাসপথে বায়ু চলাচলে বাধাকে সাময়িক ভাবে দূর করে শ্বাসকষ্টের উপশম ঘটায় মাত্র স্থায়ীভাবে আদৌ হাঁপানি নির্মূল করতে পারে না। কারণ এলোপ্যাথিক চিকিৎসা শাস্ত্র আপনার DNA তে প্রিডোমিনেন্ট True Disease কে নির্ণয় করে সেটিকে রেসিসিভ করার চিকিৎসা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। আর তাই শ্বাসপথে বায়ু চলাচলে বাধাকে এলোপ্যাথিক পদ্ধতিতে দূর করলে কিছুটা সময় পর আবার সেখানে একই বাধা তৈরী হয়ে শ্বাসকষ্ট সমস্যার সৃষ্টি করে।

তবে একটা বিষয় আপনাকে মনে রাখতে হবে, অ্যাজমা বা হাঁপানির সমস্যা নিয়ে আপনি যখন রেজিস্টার্ড এবং দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসকের নিকট যাবেন, তিনি মূলত হোমিওপ্যাথিক নিয়মে ইনভেস্টিগেশন করে আপনার DNA তে প্রিডোমিনেন্ট True Disease কে নির্ণয় করে সেটি রেসিসিভ করার চিকিৎসা দিবেন। এক্ষেত্রে চিকিৎসক আপনার নিজের এবং আপনার পিতা-মাতা, দাদা-দাদি, নানা-নানীর হিস্ট্রি নিবেন অর্থাৎ আপনার নিকট আত্মীয়রা কে কোন কোন রোগে ভুগেছেন বা কে কোন কোন রোগে মারা গিয়েছেন সেগুলির বিস্তারিত তথ্যাদি নিয়ে চিকিৎসক আপনার চিকিৎসা কার্যটি শুরু করবেন। এক্ষেত্রে মূলতঃ ডাইনামিক হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রয়াগের মাধ্যমে আপনাকে স্টেপ বাই স্টেপ ইম্প্রোভমেন্টের দিকে নিয়ে যাবেন এবং এক সময় আপনি অ্যাজমা বা হাঁপানির সমস্যা থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি লাভ করবেন ইনশা-আল্লাহ।

যা যা জেনেছেন-

  • এজমা কেন হয়
  • শ্বাসকষ্টের ঔষধ
  • এজমা কাশি
  • এজমার হোমিও ঔষধ
  • হাঁপানি থেকে মুক্তির উপায়
  • এজমা রোগের হোমিও চিকিৎসা
  • হাঁপানি রোগের লক্ষণ
  • এলার্জি ও এজমা বিশেষজ্ঞ
  • হাঁপানি হোমিও
  • হাঁপানি রোগের আধুনিক চিকিৎসা
  • হাঁপানি থেকে মুক্তির উপায়
  • হাঁপানি রোগের লক্ষণ
  • হাঁপানি হলে করণীয়
  • হাঁপানি থেকে বাঁচার উপায়
বিস্তারিত

রবিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২১

হাইপারথাইরয়েডিজম ও হাইপোথাইরয়েডিজম ! থাইরয়েড রোগের লক্ষণ ও স্থায়ী প্রতিকার

থাইরয়েড সমস্যা - হাইপারথাইরয়েডিজম Hyperthyroidism ও হাইপোথাইরয়েডিজম Hypothyroidism এবং সেগুলির লক্ষণ ও উপসর্গ এবং স্থায়ীভাবে নির্মূলের উপায় সম্পর্কে জানবো এই পর্বে। থাইরয়েড হল অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি যার অবস্থান আমাদের গলায় অর্থাৎ স্বরযন্ত্রের দুই পাশে থাকা একটি বিশেষ গ্রন্থি। এই গ্রন্থি থেকে কিছু প্রয়োজনীয় হরমোন অর্থাৎ থাইরয়েড হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন আমাদের বিপাকসহ আরো বিভিন্ন কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই হরমোন তৈরির জন্য এই গ্রন্থিটির প্রয়োজনীয় পরিমাণে আয়োডিনের দরকার হয়। উক্ত হরমোন আমাদের বিপাক ক্রিয়াসহ বিভিন্ন শারীরিক এবং মানসিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। থাইরয়েড গ্রন্থি সাধারণত দুই ধরণের হরমোন নিঃসরণ করে যথাঃ 
  • ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন (T3)
  • থাইরক্সিন (T4)
অর্থাৎ থাইরয়েড হরমোন বলতে ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন এবং থাইরক্সিনকে বুঝায়। এরা টাইরোসিন ভিত্তিক হরমোন যা থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। আংশিকভাবে আয়োডিন দ্বারা তৈরি আয়োডিনের অভাবে হরমোনের উৎপাদন কমে যায় এবং থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে গলগণ্ড রোগ সৃষ্টি করে। 
বর্তমান বিশ্বে থাইরয়েড সমস্যার স্থায়ী কোন এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই। এলোপ্যাথিতে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু ওয়ান টাইম ওষুধ সারাজীবন ধরেই খেয়ে যেতে বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে রেডিও থেরাপির মাধ্যমে থাইরয়েড গ্রন্থিটি অকেজো বা নষ্ট করে দেয়া  হয় অথবা কেটে ফেলে দেয়া হয়। নিজেদের অজ্ঞতার কারণে বা না জানার কারণে বহু মানুষই এই রকম অপচিকিৎসা, কুচিকিৎসা বা হাতুড়ে চিকিৎসার শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত অথচ প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় থাইরয়েডের সমস্যা স্থায়ীভাবে দূর হয়ে যায়। 
আমরা সাধারণত বেশি যে ধরনের থাইরয়েড সমস্যা দেখতে পাই তা হলো - 
  • হাইপারথাইরয়েডিজম
  • হাইপোথাইরয়েডিজম 
আমাদের শরীরে যতটুকু হরমোন থাইরয়েড হরমোন প্রয়োজন তার চেয়ে কম কিংবা বেশি পরিমাণে এই হরমোন তৈরি হলে তখন নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে এই হরমোন তৈরি হলে হাইপোথাইরয়ডিজম হতে পারে। আবার প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরিমাণে এই হরমোন উৎপন্ন হলে হাইপারথাইরয়ডিজম হতে পারে। যেগুলির কোনটারই স্থায়ী কোন এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই তবে প্রপার হামিওপ্যাথিক চিকিৎসায় এই সমস্যা দূর হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। এছাড়াও থাইরয়েড গ্রন্থিতে আরো বিভিন্ন রকমের রোগ হতে পারে যেমনঃ 
  • গয়েটার(Goiter)
  • নডিউল(Nodule)
  • থাইরয়েড ক্যান্সার(Thyroid Cancer)
  • গ্রেভস ডিজিজ(Graves' disease)
হাইপারথাইরয়েডিজম ও হাইপোথাইরয়েডিজম ! থাইরয়েড রোগের লক্ষণ ও স্থায়ী প্রতিকার

থাইরয়েড সমস্যার কারণ

ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন এবং থাইরক্সিন গ্রন্থি বাচ্চাদের ক্ষেত্রে জন্মের সময় ঠিকভাবে তৈরি না হলে কিংবা প্রয়োজনমত হরমোন তৈরি করতে না পারলে বাচ্চাদের শারীরিক এবং মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। থাইরয়েডের সমস্যা হওয়ার একটি  বিশেষ কারণ হল আয়োডিনের অভাব। শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়োডিন না গেলে এই রোগের সমস্যাটি দেখা দিতে পারে। তবে থাইরয়েড সমস্যার প্রকৃত কারণ হলো রোগীর জন্মলগ্ন থেকে DNA এর মাধ্যমে প্রাপ্ত কিছু True Disease বা প্রকৃত রোগ। এই প্রকৃত রোগগুলির মধ্যে যেগুলি তার মধ্যে Predominant থাকবে সেগুলিই তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে বিভিন্ন প্রকার বিশৃখলা তৈরি করে নানা প্রকার লক্ষণ ও উপসর্গ তৈরি করে কষ্ট দিবে। হাইপারথাইরয়েডিজম ও হাইপোথাইরয়েডিজম তেমনই True Disease কর্তৃক সৃষ্ট বিশৃখলা যা প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় স্থায়ী ভাবে নির্মূল হয়ে যায়। 

হাইপারথাইরয়েডিজম Hyperthyroidism - লক্ষণ ও উপসর্গ

হাইপারথাইরয়েডিজম হলো এমন একটি শারীরবৃত্তীয় অবস্থা যখন দেহের থাইরয়েড গ্রন্থি অতিরিক্ত থাইরক্সিন হরমোন উৎপাদন করে। আমাদের থাইরয়েড গ্রন্থিকে নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি। মস্তিষ্কের এই পিটুইটারি গ্রন্থি কে আবার নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস নামক অংশ। এই হাইপোথ্যালামাস Thyrotropin Releasing Hormone (TRH) নামক এক প্রকার হরমোন নির্গত করে। এই TRH হরমোন এর কাজ হল পিটুইটারি গ্রন্থিকে TSH (Thyroid Stimulating Hormone) নামক এক হরমোন নির্গত করার জন্য সংকেত পাঠানো। এই TSH হরমোন থাইরয়েড গ্রন্থিকে থাইরয়েড হরমোন নির্গত করার জন্য সংকেত পাঠায়। সতরাং বুঝতেই পারছেন, এই হরমোন উৎপাদনের জন্য শুধুমাত্র থাইরয়েড গ্রন্থি দায়ী নয়। হাইপোথ্যালামাস, পিটুইটারি গ্রন্থি এবং থাইরয়েড গ্রন্থির মিলিত প্রচেষ্টায় হরমোন নির্গমণ কাজ সম্পন্ন হয়। 
টিএসএইচ TSH (Thyroid Stimulating Hormone) আমাদের মস্তিষ্কের ভিতরে অবস্থিত পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এবং থাইরয়েড গ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। রক্তে টি-থ্রি, টি-ফোর হরমোন বেশি মাত্রায় থাকলে টিএসএইচ-এর পরিমাণ কমে যায়।
এখন উক্ত তিনটি গ্রন্থির যেকোন একটি বা একাধিক গ্রন্থি যদি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কাজ করে ফেলে তখন ফলাফল হিসেবে যতটুকু হরমোন দরকার তার চেয়ে বেশি পরিমাণ হরমোন উৎপন্ন হয়। আর তখনই  বাঁধে সমস্যা। যেটা হাইপারথাইরয়ডিজম নামে পরিচিত। হাইপারথাইরয়েডিজম এর সমস্যা হলে নিন্মোক্ত লক্ষণ ও উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে-
  • ওজন কমে যাওয়া
  • গরম সহ্য না হওয়া
  • খিটখিটে ভাব এবং মেজাজের পরিবর্তন
  • গয়টার বা গলগণ্ড তৈরী হওয়া
  • দুর্বলতা এবং উদ্বেগ
  • হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া
  • ঘাম বৃদ্ধি এবং হৃদপিন্ডের দ্রুত সঞ্চালন
  • অনৈচ্ছিকভাবে হাত কাঁপা
  • ঘুমের সমস্যা
  • পেশী দুর্বলতা বিশেষত উপরের বাহু এবং উরুর
  • ডায়রিয়া হওয়ার প্রবণতা
  • বমি বমিভাব হতে পারে 
  • মহিলাদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত মাসিক দেখা দিতে পারে

হাইপোথাইরয়েডিজম Hypothyroidism - লক্ষণ ও উপসর্গ

হাইপোথাইরয়েডিজম হলো এমন একটি রোগ, যা থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে উৎপাদিত থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনের স্বল্পতার কারণে হয়ে থাকে। শিশুদের মধ্যে থাইরয়েড হরমোন জন্মগত অভাবজনিত বামনত্ব, পেশীকাঠিন্য ও মানসিক জড়তা হলে তাকে ক্রেটিনিজম বলে। হাইপোথাইরয়েডিজম হলে যে যে লক্ষণ ও উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে -
  • ঠাণ্ডা সহ্য করতে না পারা, ঠাণ্ডার প্রতি স্পর্শকাতরতা বৃদ্ধি পায়
  • ওজন বৃদ্ধি, এমনকি কম খেলেও ওজন বৃদ্ধি পায়
  • শরীরে আন্তঃকোষীয় কলা বৃদ্ধি ও পানি জমা শুরু
  • নাড়ির গতি হ্রাস পাওয়া -স্পন্দন মিনিটে ষাট বারেরও কম হয়
  • ঘামের পরিমাণ হ্রাস পাওয়া
  • ত্বকের শুষ্কতা ও চুলকানি প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়া
  • পেশি এবং অস্থিসন্ধিতে ব্যথা
  • দৈহিক অবসাদ বা অস্বস্তি
  • বিষণ্ণতা বা মানসিক অবসাদগ্রস্থতা
  • গলগণ্ড থাকতে পারে আবার নাও থাকতে পারে
  • গলার স্বর পাল্টে যাওয়া
  • চিকন, ভঙ্গুর চুল, বেশি চুল পড়া 
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • ত্বক শুষ্ক এবং ফুলে যায়, বিশেষ করে মুখ
  • শরীর তাপমাত্রা হ্রাস পায়
  • চিন্তাধারার গতি স্লথ হয়ে যায় ও মনে রাখার ক্ষমতা কমে যাওয়া
  • নারীদের রজঃস্রাব প্রাথমিক দশায় বৃদ্ধি পেতে পারে
  • নারীদের রজঃচক্র অনিয়মিত হয়ে পড়ে
  • গর্ভাবস্থায় এই রোগ থাকলে বাচ্চার নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে
  • জন্মের পরেই কোনও শিশু এই রোগে আক্রান্ত হলে তার বুদ্ধির স্বাভাবিক বিকাশ, পড়াশোনা, বয়ঃসন্ধির সময়ে নানা সমস্যা হতে পারে

থাইরয়েড সমস্যা থাকলে নারীদের ক্ষেত্রে জটিলতা

মেয়েদের Menarche অর্থাৎ প্রথম মাসিক হওয়া থেকে Menopause বা রজঃনিবৃত্তি পর্যন্ত যেকোন সময়ই থাইরয়েড হরমোনের নানা ভারসাম্যহীনতা নারীদের এই রজঃজীবনকে বিপর্যস্ত করতে পারে। অনিয়মিত মাসিক, মাসিকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, কখনো মাসিক মাসের পর মাস বন্ধ থাকা হতে পারে থাইরয়েড সমস্যার লক্ষণ। কিশোরীর মাসিক শুরু হতে অনেক দেরি হওয়া বা খুব অল্প বয়সে সময়ের আগেই শুরু হয়ে যাওয়া, আবার মধ্যবয়সী নারীর সময়ের আগেই মেনোপজ হয়ে যাওয়া বা বেশি বয়স পর্যন্ত অতিরিক্ত মাসিক হতে থাকা - যেকোন রকমের গোলমালই হতে দেখা যায় থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে। তাই রজঃজীবনের যেকোন পর্যায়ে যেকোন রকমের অনিয়ম হলে থাইরয়েড পরীক্ষা করে সমস্যা ধরা পড়লে প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নেয়া জরুরি।

থাইরয়েডের হরমোন সমূহের পরীক্ষা

থাইরয়েডে আক্রান্তদের হঠাৎ করেই কোনও কারণ ছাড়া ওজন বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তাই হঠাৎ করে ওজন পরিবর্তিত হয়ে থাকলে থাইরয়েড হরমোনের পরীক্ষা করানো উচিত। একই ভাবে হঠাৎ করেই বেশ খানিকটা ওজন কমে গেলেও হাইপারথাইরয়েডিসম থাকার সম্ভাবনা থাকে। হাইপো থাইরয়েডিসম হল শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় কম থাইরয়েড হরমোন তৈরি হওয়া। তাই নিয়মিত শরীর অবসন্ন লাগার অন্যতম কারণ হতে পারে হাইপোথাইরয়েডিসম। রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরেও যদি সকালে অবসন্ন লাগে অথবা সারাদিন ধরে ঝিমুনি আসে তাহলে থাইরয়েড হরমোন ঠিক মতো কাজ করছে কিনা পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত। রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করা যায়। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সাধারণত নিচের টেস্টগুলো কতা হয়ঃ
  • Thyroid stimulating hormone(TSH): এই পরীক্ষায় রক্তে TSH এর মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। রক্তে TSH এর মাত্রা কম হলে বুঝতে হবে হাইপারথাইরয়ডিজমে রোগী আক্রান্ত। আর বেশি হলে হাইপোথাইরয়ডিজমে আক্রান্ত।
  • Thyroxine hormone(T4): রক্তে উচ্চমাত্রার T4 এর উপস্থিতির অর্থ হাইপারথাইরয়ডিজম আর নিম্নমাত্রার T4 এর উপস্থিতির অর্থ হাইপোরথাইরয়ডিজম।
  • Tri-iodothyronine hormone(T3): রক্তে উচ্চমাত্রার T3 এর উপস্থিতির অর্থ হাইপারথাইরয়ডিজম আর নিম্নমাত্রার T3 এর উপস্থিতির অর্থ হাইপোথাইরয়ডিজম।
  • TSH receptor antibody(TSI): রক্তে TSI এর উপস্থিতির অর্থ রোগী গ্রেভস রোগ এ আক্রান্ত। এই রোগে চোখের চারপাশ ফুলে উঠে।
  • Serum Lipid Profile Test - LDL কোলেস্টেরল ও Triglycerides (Fat) এর মান পর্যবেক্ষণ

হাইপারথাইরয়েডিজম ও হাইপোথাইরয়েডিজম - চিকিৎসা

হাইপারথাইরয়েডিজম ও হাইপোথাইরয়েডিজম অর্থাৎ থাইরয়েড সমস্যার স্থায়ী কোন এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই। তাই এই সমস্যায় আপনি এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নিতে গেলে প্রতারণার শিকার হবেন এটাই স্বাভাবিক। কারণ এই সমস্যা দূর করার যেহেতু কোন স্থায়ী এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই তাই সমস্যাটি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বা পুষে রাখার জন্য এলোপ্যাথিক মেডিক্যাল মাফিয়ারা আপনাকে সারা জীবন ধরেই ওয়ান টাইম কিছু ঔষধ খেয়ে যেতে বলবে। কেউ যদি সেই ফাঁদে পা দেয় তাহলে তার সমস্যাটি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দিন দিন ভেতরে ভেতরে রোগ জটিলতা বাড়তে থাকে এবং এক সময় এলোপ্যাথিক ঔষধ ছেড়ে দিলে রোগ জটিলতা আরো তীব্র আকারে প্রকাশ পায়। তাছাড়া বিভিন্ন রেডিও থেরাপির মাধ্যমে থাইরয়েড গ্রন্থিটি ধ্বংস করা হয়ে থাকে বা কেটে ফেলে দেয়া হয়ে থাকে। তাই শুরু থেকেই হাইপারথাইরয়েডিজম ও হাইপোথাইরয়েডিজমসহ যেকোন থাইরয়েড সমস্যায় এলোপ্যাথিক চিকিৎসা বর্জন করে প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নেয়া উচিত।

তবে এক্ষেত্রে দক্ষ এবং রেজিস্টার্ড হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া বাঞ্ছনীয়। কারণ হোমিওপ্যাথিক সুচিকিৎসা ছাড়াও আপনি এই রোগ থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি লাভ করার আশা করতে পারেন না। একজন দক্ষ হোমিও চিকিৎসক যদি ঠিকঠাক ভাবে হোমিওপ্যাথিক নিয়মে ইনভেস্টিগেশন করে ডায়নামিক হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা করেন তাহলে থাইরয়েড এর যেকোন সমস্যা স্থায়ীভাবে দূর হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। ধন্যবাদ

যা যা জেনেছেন 

  • থাইরয়েড রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
  • থাইরয়েড সমস্যা সমাধান
  • থাইরয়েড সমস্যা প্রতিকারের সাধারণ উপায়
  • থাইরয়েড টেস্ট রিপোর্ট
  • থাইরয়েড টেস্ট খরচ
  • থাইরয়েড নরমাল কত
  • গলায় থাইরয়েড সমস্যা
  • থাইরয়েড কমানোর উপায়
  • থাইরয়েড সমস্যা কেন হয়
  • থাইরয়েড কেন হয়
  • থাইরয়েড নরমাল কত
  • থাইরয়েড লক্ষণ
  • থাইরয়েড কি কারনে হয়
  • থাইরয়েড বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ঢাকা
  • থাইরয়েড পরীক্ষা
  • থাইরয়েড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
  • হাইপোথাইরয়েডিজম এর চিকিৎসা
  • হাইপোথাইরয়েডিজম এর হোমিও চিকিৎসা
  • হাইপোথাইরয়েডিজম থেকে মুক্তির উপায়
  • হাইপার থাইরয়েড থেকে মুক্তির উপায়
  • হাইপোথাইরয়েডিজম রোগীর ডায়েট চার্ট
  • হাইপারথাইরয়েডিজম থেকে মুক্তির উপায়
বিস্তারিত

শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২১

ODS ! বাধাগ্রস্থ মলত্যাগের প্রবৃত্তি বা কোষ্ঠ প্রাকৃতিক ভাবে পরিষ্কার না হওয়া - স্থায়ী চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি

রেক্টাম প্রাকৃতিক ভাবে পরিষ্কার না হওয়া বা বাধাগ্রস্থ মলত্যাগের প্রবৃত্তি Obstructed Defecation Syndrome ODS বা মল নরম হওয়া সত্ত্বেও পায়খানা পরিষ্কার না হওয়া বা জটিল প্রকৃতির কোষ্ঠকাঠিন্য। এই ধরনের উপসর্গ আইবিএস IBS বা আইবিডি IBD তে আক্রান্ত রোগীদেরও কিছু ক্ষেত্রে হতে পারে। একে এক প্রকার জটিল প্রকৃতির কোষ্ঠকাঠিন্যও বলা যায় যদিও এক্ষেত্রে অধিকাংশ রোগীদের মল নরম থাকা সত্ত্বেও চাপ বা প্রেশার দিয়ে পায়খানা করতে হয়। আমাদের মা-বোনদেরই মূলত এই সমস্যাতে বেশি আক্রান্ত হতে দেখা যায়। 

আগেই বলে নেই - এই প্রকারের সমস্যার মূলত স্থায়ী কোন এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই। এলোপ্যাথিক ওয়ান টাইম রাসায়নিক ঔষধগুলি এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না বিধায় এলোপ্যাথিক চিকিৎসকরা এই ধরণের কেইস সার্জারি বিভাগে ট্রান্সফার করে থাকে যদিও সার্জারি ODS সমস্যার কোন সুচিকিৎসা নয় বরং একে জোড়াতালি মার্কা এক প্রকারের হাতুড়ে চিকিৎসাই বলা চলে। কারণ সার্জারি করেও ODS স্থায়ীভাবে আদৌ নির্মূল হয় না। কিছু ক্ষেত্রে কিছুটা সময়ের জন্য (সর্বোচ্চ তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত) কিছু রোগ লক্ষণ উপশম হয় মাত্র রোগী আদৌ সুস্থ হন না। 
তাছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখবেন ODS এর Stapled Trans Anal Rectal Resection (STARR) Operation অর্থাৎ স্টার সার্জারিসহ যেকোন প্রকার অপারেশন করেও তেমন কোন ফল তো হয়ই না বরং পরবর্তীতে জটিলতা আরো বেড়ে যায়। মাঝখান থেকে সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা এবং মূর্খতার সুযোগ নিয়ে এলোপ্যাথিক মেডিক্যাল মাফিয়ারা এক ধাক্কায় লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থাৎ রোগ আরোগ্য লাভের পরিবর্তে মানুষ এইসব সার্জারীর নামে মেডিক্যাল প্রতারণার শিকার হচ্ছে বেশি, ঠিক সন্তান জন্মদানের সময় হাসপাতালে যেভাবে নরমাল ডেলিভারির পরিবর্তে অনিচ্ছা সত্ত্বেও সিজারিয়ান ডেলিভারির শিকার হচ্ছেন মা-বোনরা। যা হয়তো ২%-৫% ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতো কিন্তু করা হচ্ছে ৯৫%-৯৮% ক্ষেত্রেই। 
    আমাদের দেশেও ODS সার্জারির নাম দিয়ে করা মেডিক্যাল প্রতারনার শিকার হচ্ছেন বহু সাধারণ মানুষ। অথচ এই সমস্যার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করে রেখেছে হোমিওপ্যাথি বহু আগে থেকেই। তাই প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় Obstructed Defecation Syndrome ODS মতো সমস্যাগুলি ধীরে ধীরে দূর হয়ে যায়।
    ODS ! বাধাগ্রস্থ মলত্যাগের প্রবৃত্তি বা কোষ্ঠ প্রাকৃতিক ভাবে পরিষ্কার না হওয়া

    ODS এর সাধারণ কিছু লক্ষণ ও উপসর্গ

    • মলাশয়ে মল এসে থাকলেও সেই মল বের হতে চায় না
    • পায়খানা মলদ্বারের কাছে এসে আটকে যায়
    • সহজে বের হয়না তাই আংগুল দিয়ে বের করতে হয়
    • মল নরম থাকা সত্ত্বেও সহজে বের না হওয়া
    • দীর্ঘক্ষন বসে থাকার পর সামান্য মল ত্যাগ
    • মলত্যাগে দীর্ঘ সময় লাগা
    • প্রেসার বা চাপ দিয়ে মলত্যাগ
    • কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ভেড়ার মলের মতো মল আসা
    • পেটে অস্বস্তি বা যন্ত্রনা
    • খাওয়ার পরই মলবেগ 
    • সারা শরীরে জ্বালাপোড়া করা ইত্যাদি

    ODS এর প্রকৃত কারণ 

    রেক্টামে বা অন্ত্রের ভাজের সমস্যা বা সেখানে ঘাঁ, ক্ষত বা কোন প্রকার বাধা বা অবস্ট্রাকশনকেই আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ODS এর পেছনের কারণ বলে বিবেচনা করে থাকে যদিও এটি মূলত ODS এর একটি স্থানিক কারণ মাত্র আদৌ প্রকৃত কারণ নয়। তাই সার্জারি করে বা এলোপ্যাথিক ঔষধ প্রয়োগ করে অন্ত্রের ভাজের সমস্যা বা ক্ষতকে সারানোর চিকিৎসা দিলেও এই সমস্যা আদৌ নির্মূল হয় না বরং বহু ক্ষেত্রেই জটিলতা আরো বেড়ে যায়। এই সমস্যার পেছনের প্রকৃত কারণ মূলত আপনার DNA অর্থ্যাৎ আপনার DNA তে Predominant কিছু True Disease. আর ODS হলো সেই True Disease কর্তৃক সৃষ্ট একটি লক্ষণ বা উপসর্গ মাত্র। তাই যারা ODS এর সার্জারি করে বা এলোপ্যাথিক ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা করে থাকে তারা মূলত True Disease কর্তৃক সৃষ্ট একটি লক্ষণকে দূর করার ব্যর্থ চিকিৎসা দিয়ে থাকে। এই রকম স্থানিক চিকিৎসায় ODS কিছু দিনের জন্য কিছুটা উপশম হয় মাত্র রোগ আদৌ নির্মূল হয় না। আগেই বলেছি এই সমস্যার মূল কারণ হলো আপনার DNA তে Predominant কিছু True Disease. আমরা কিভাবে জটিল জটিল স্বাস্থ সমস্যায় আক্রান্ত হই বিষয়টি আরো ভালো ভাবে বুঝার জন্য নিচের লিংকে ক্লিক করে আর্টিকেলটি পড়ে নিন। 

    ODS এর প্রকৃত চিকিৎসা

    এই True Disease গুলি মূলত আমরা জন্ম থেকেই পেয়ে থাকি। কোন কারণে আমাদের ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হয়ে পড়লে সেগুলি আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে নানা প্রকার লক্ষণ এবং উপসর্গ সৃষ্টি করে। আর সেই লক্ষণ এবং উপসর্গকে আলাদা ভাবে রোগের নাম দিয়ে ব্যবসা করে থাকে এলোপ্যাথিক মেডিক্যাল মাফিয়ারা। কারণ প্রকৃত রোগ বা True Disease এর সৃষ্ট লক্ষণকে আলাদাভাবে চিকিৎসা করা হলে রোগ আদৌ নির্মূল হয় না বরং একটি লক্ষণের উপশম হয় কিছু দিনের জন্য। তাই হোমিওপ্যাথিক সিস্টেম কখনোই রোগীর একটি লক্ষনকে দূর করার চিকিৎসা দেয় না। এখানে শরীরের সকল লক্ষণ বা উপসর্গকেই প্রাধান্য দেয়া হয়ে থাকে এবং হোমিওপ্যাথিক নিয়মে ইনভেস্টিগেশন করে DNA তে Predominant সেই True Disease কে Recessive করা হয়ে থাকে। তখন দেখা যায় রোগীর শরীরের সকল প্রকার রোগ লক্ষণ দূর হয়ে সুস্বাস্থ ফিরে আসে। ঠিক তেমনি ভাবে ODS এর সাথে মল ত্যাগের সমস্যা এবং পেটের সমস্যাসহ অন্যান্য সমস্যাবলী দূর হয়ে যায়।

    তবে এর জন্য আপনাকে একজন রেজিস্টার্ড এবং দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক খুঁজে বের করতে হবে যিনি আপনার বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে এবং আপনার ফ্যামিলি হিস্টি নিয়ে হোমিওপ্যাথিক নিয়মে ইনভেস্টিগেশন করে আপনার চিকিৎসা কার্যটি সম্পন্ন করবেন। ধন্যবাদ

    যা যা জেনেছেন-

    • ODS কি?
    • Starr অপারেশন
    • ODS সার্জারি
    • ODS অপারেশন
    • ওডিএস সার্জারি
    • ODS এর প্রকৃত কারণ 
    • ODS এর লক্ষণ 
    • ODS চিকিৎসা
    • ODS হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
    বিস্তারিত

    বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২১

    আইবিএস IBS এর সার্জারি ও স্থানিক চিকিৎসা অকার্যকর এবং নির্দোষ রোগ নিরাময়ে ব্যর্থ

    আইবিএস IBS এর সার্জারি ও স্থানিক চিকিৎসা অকার্যকর এবং নির্দোষ রোগ নিরাময়ে ব্যর্থ। আপনি যখন হোমিওপ্যাথি ছাড়া অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিতে এই সমস্যার চিকিৎসা নিতে যাবেন তখন সে চিকিৎসা পদ্ধতির চিকিৎসক রোগ লক্ষণকে অবলম্বন করে স্থানিকভাবে সমস্যাটির কারণ নির্ণয় করার প্রচেষ্টা চালাবে যদিও বহু ক্ষেত্রেই তারা কোন কারণই খুঁজে পায় না। আবার দেখা যায়, কিছু স্থানিক কারণ খুঁজে পেলেও সেটিকে অবলম্বন করে চিকিৎসা দিলে রোগ লক্ষন সাময়িক ভাবে উপশম হয় কিন্তু ঔষধ না খেলে কিছুটা সময় পরেই আবার ফিরে আসে। এর পেছনের বাস্তব কারণ হলো, আপনার পেটে অথবা অন্ত্রে ঘা, ক্ষত, ফোলা, নুডুলস বা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি মূলত আপনার এই সমস্যা হওয়ার পেছনের প্রকৃত কারণ নয়। এইগুলি হলো আপনার DNA তে বর্তমান True Disease বা প্রকৃত রোগ সৃষ্ট কিছু লক্ষণ ও উপসর্গ মাত্র। আর এই সব লক্ষণ ও উপসর্গকে বিভিন্ন রোগের নাম দিয়ে মূলত চিকিৎসা দিয়ে থাকে বা ব্যবসা করে থাকে এলোপ্যাথিক চিকিৎসা সিস্টেমের মেডিক্যাল মাফিয়ারা। 

    আপনার রোগ স্থায়ীভাবে সারানোর আদৌ কোন উদ্দেশ্য থাকে থাকে না তাদের। তারা মূলত আপনার রোগ পুষে রেখে রেখে আপনাকে আজীবন ঔষধ খাওয়াবে এবং আপনার সাথে ব্যবসা করে যাবে আজীবন। বলতে গেলে কোন রোগেরই স্থায়ী চিকিৎসা নেই এলোপ্যাথিতে। তবে কোন দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসা, হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট বা একিউট রোগের ক্ষেত্রে এলোপ্যাথির স্থানিক চিকিৎসা বেশ ফলদায়ক সন্দেহ নেই। কিন্তু কোন রোগ নিয়ে আপনি এলোপ্যাথিতে গেলে আপনি দেখবেন আপনাকে সেই স্থানিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওয়ান টাইম রাসায়নিক ঔষধগুলিই জীবনভর ঔষধ খেয়ে যেতে বলছে তারা। ফলশ্রুতিতে রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বছর বছর ধরে সেই ঔষধ খেয়ে যাওয়ার কারণে ভেতরে ভেতরে রোগটি আরো জটিল আরো কঠিন হতে থাকে। এর সাথে ক্ষতিকর ঔষধের পার্শপ্রতিক্রিয়ায় আর জটিল জটিল সমস্যা শরীরে তৈরী হতে থাকে।

    আপনার আইবিএস IBS এর সমস্যা আছে। এক্ষেত্রে হয়তো আপনার Obstructed Defecation Syndrome (ODS) আছে অর্থাৎ রেক্টাম প্রাকৃতিক ভাবে পরিষ্কার হচ্ছে না অর্থ্যাৎ বাধাগ্রস্থ মলত্যাগের প্রবৃত্তি। এছাড়া হয়তো রেক্টামে একটু ফোলা ভাব বা নুডুলস তৈরি করছে আপনার DNA তে বর্তমান প্রকৃত রোগটি। তবে নুডুলস বা ফোলাটি অথবা ODS মূলত একটি লক্ষণ বা উপসর্গ মাত্র। আপনার আইবিএস তৈরী হওয়ার পেছনে কিন্তু এই গুলির কোন ভূমিকা নেই। এই সমস্যার চিকিৎসা দিতে অক্ষম এমন কেউ হয়তো মূর্খতা বশতঃ আপনাকে বললো এই ফোলা ভাব বা নুডুলস বা এই ODS ই আপনার আইবিএস এর জন্য দায়ী। তাই আপনাকে সার্জারি করে সেটি কেটে ফেলে দিতে বলছে আর আপনিও যন্ত্রনা থেকে পরিত্রানের আশায় সেটিই করেছেন। ফলশ্রুতিতে কি হলো ?

    মাত্র ৩ থেকে ৬ মাস কিছুটা আরাম পেলেন মাত্র, আপনার আইবিএস কিন্তু আদৌ সাড়েনি। কিছুটা আরাম পেলেও এর মধ্যেও কিন্তু আপনি ভাল নেই। কিছু ক্ষেত্রে আপনি কিছুটা সময়ের জন্য কিছুটা আরাম পেয়েছেন মাত্র। ৩ থেকে ৬ মাস এর মধ্যেই আবার কিন্তু আপনার রেক্টামে একটু ফোলা ভাব বা নুডুলস তৈরি হয়ে যেতে পারে বা উপসর্গ পরিবর্তন হয়ে শরীরে অন্য জায়গায় আরো জটিল উপসর্গ তৈরী হয়ে যেতে পারে। অথবা রেক্টামে সার্জারি করে কাটাছেঁড়া করার কারণে সমস্যাটি আরো জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠতে পারে। কারন, এখানে আপনি মূলত DNA তে বর্তমান প্রকৃত রোগ সৃষ্ট কিছু লক্ষণ এবং উপসর্গের স্থানিক চিকিৎসা করেছেন মাত্র আপনার প্রকৃত রোগের কোন চিকিৎসাই করেননি। যার কারণে প্রকৃত রোগটি বার বার আপনার আইবিএস IBS এর বিভিন্ন লক্ষণ ও উপসর্গ তৈরী করছে।
    স্থায়ীভাবে আইবিএস নিরাময়ের চিকিৎসা হলো জন্মলগ্ন থেকে আপনার DNA তে বর্তমান সক্রিয় True Disease কে নিষ্ক্রিয় করা। আর সেটি বর্তমান বিশ্বে হোমিওপ্যাথি ছাড়া আর কোন চিকিৎসা শাস্ত্রই করতে পারে না। তাই সুস্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সর্বাধিক কার্যকর।

    কিন্তু এর মানে এই নয় যে - আপনি একজন হোমিও ডাক্তারের কাছে গেলেন, কিছু দিন ঔষধ খেলেন আর ঠিক হয়ে গেলেন। আপনার DNA থেকে প্রকৃত রোগের জেনেটিক ম্যাটারিয়াল নিষ্ক্রিয় করা মানে হলো আপনি পা থেকে মাথা পর্যন্ত যাবতীয় রোগ থেকেই মুক্ত হয়ে যাচ্ছেন। এই মেথডে মূলত শুধু আপনার পেটের পীড়ার সিম্পটোম নেয়া হবে না। এখানে আপনার সারা জীবনের তথ্যাদি, আপনার ফ্যামিলি হিস্ট্রি নিয়ে আপনার DNA তে অবস্থানরত True Disease টি নির্ণয় করে চিকিৎসক সেটিকে প্রচ্ছন্ন করার ট্রিটমেন্ট দিবেন। এর জন্য কিছুটা সময় দরকার। কারণ DNA তে পরিবর্তন নিয়ে আসতে হলে দরকারি মেডিসিনগুলি কয়েকটা সাইকেল তৈরী করে নির্দিষ্ট অর্ডারে প্রয়োগ করতে হয় যা ভালো বুঝেন রিয়েল হোমিওপ্যাথিক মেথডে দক্ষ একজন চিকিৎসক। আর তাই চিকিৎসা নেয়ার পূর্বে এই মেথডে এক্সপার্ট হোমিও চিকিৎসক খুঁজে বের করাও আপনার জন্য একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
    বিস্তারিত