Dr. Imran ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান ➤ ডিএইচএমএস - বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল; ঢাকা
➤ ডিএমএস(অ্যালো), বিএসসি এন্ড এমএসসি(ফিজিক্স) - ঢাকা
➤ রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক(রেজিঃ নং-৩৩৪৪২)
➤ বিশেষত্বঃ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, ইউরোলজি, গাইনিকোলজি (হোমিও মেডিসিন)
➤ আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
➤ ফোন : +৮৮ ০১৬৭১-৭৬০৮৭৪ এবং ০১৯৭৭-৬০২০০৪
➤ সাক্ষাৎ : সকাল ১০ থেকে বিকাল ৫ টা
➤ প্রোফাইল ➤ ফেইসবুক ➤ ভিডিও

সাম্প্রতিক আপডেট

জন্মগত ত্রুটি

শিশুর জন্মগত ত্রুটি এবং মারাত্মক রোগ ব্যাধির কার্যকর চিকিৎসা

ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস নির্মূলের ম্যাজিক থেরাপি এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

ভেরিকোসিল

ভেরিকোসিলের অপারেশনবিহীন স্থায়ী চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি।

আইবিএস

পেটের পীড়া আইবিএস নির্মূলের স্থায়ী চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি।

নারী স্বাস্থ্য স্ত্রীরোগ
নারীদের অর্থাৎ স্ত্রীরোগ সম্পর্কিত বিষয়াবলী
মা ও শিশু স্বাস্থ্য
মা ও শিশু স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়াবলী
পুরুষদের স্বাস্থ্য
পুরুষদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়াবলী
রোগ-ব্যাধি অসুখবিসুখ
নানা প্রকার রোগ-ব্যাধি সম্পর্কিত বিষয়াবলী
স্বাস্থ্য বিষয়ক টিপস
স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যাবতীয় টিপস ও ট্রিকস

সাম্প্রতিক আপডেট

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২০

ডায়াবেটিস নির্মূলের ম্যাজিক থেরাপি Cure Diabetes Naturally - পরীক্ষিত

ডায়াবেটিস থেকে মুক্ত হবেনই ইনশা-আল্লাহ যদি আপনি Diabetes নির্মূলের এই ম্যাজিক থেরাপি অনুসরণ করেন যেটি মূলত প্রাকৃতিক উপায়ে ডায়াবেটিস চিকিৎসা। এর সাথে রোগীর ভাইটাল ফোর্স বা ইমিউন সিস্টেমকে দ্রুত শক্তিশালী করার জন্য আমরা মূলত পেসেন্টের এবং তার ফ্যামিলি হিস্ট্রি নিয়ে ডাইনামিক হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন প্রয়োগ করে থাকি। তবে কেউ যদি নিজে নিজে বাড়িতে বসে ডায়াবেটিস নির্মূলের নিন্মোক্ত ম্যাজিক থেরাপিটি অনুসরণ করেন তাহলে কোন প্রকার এলোপ্যাথিক বা রাসায়নিক ঔষধ ছাড়া ৪/৬ মাসের মধ্যেই রোগের তীব্রতা ভেদে প্রায় ৭০% পেসেন্টই ডায়াবেটিস থেকে মুক্ত হতে পারবেন ইনশা-আল্লাহ। পরীক্ষিত !

বয়স বাড়ার সাথে সাথে এমনিতেই বিভিন্ন কারণে মানুষের ইমিউন সিস্টেম বা ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হতে থাকে। তার উপর মানুষ পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার না খেয়ে প্রক্রিয়াজাত বিভিন্ন খাবারে অভ্যস্থ হয়ে পড়ে। এছাড়া খাদ্য দ্রব্যে ভেজাল, বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের ব্যবহার, যখন তখন নানা প্রকার এলোপ্যাথিক বা রাসায়নিক ঔষধের প্রয়োগ সব মিলিয়ে ইনসুলিন উৎপাদনকারী অগ্ন্যাশয় এবং মানব দেহের ভিতরের অঙ্গসমূহ দুর্বল হয়ে পড়ে বা তাদের স্ব স্ব কার্যক্রমে ব্যাঘাত তৈরি হওয়ার ফলে ডায়াবেটিসের মত সমস্যা প্রকট হয়ে উঠে।

তাই আপনি ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পেতে হলে এখন শুধু তার উল্টাটি করে যাবেন তাহলেই বাজিমাৎ। অর্থাৎ প্রক্রিয়াজাত খাবার, প্রাণীজ খাবার, এলোপ্যাথিক বা রাসায়নিক ঔষধ সবকিছুকেই বাদ দিয়ে প্রাকৃতিক অর্থাৎ উদ্ভিজ্জ খাবার নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ৪/৬ মাস খেয়ে যাবেন। তাতেই দেখবেন আপনার ইনসুলিন উৎপাদনকারী অগ্ন্যাশয় এবং ভিতরের অঙ্গসমূহ আবার ঠিক হয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন এবং স্ব স্ব কাজ ঠিক ঠাক ভাবে করতে পারছে। এর সাথে আপনার ডায়াবেটিসও পালিয়েছে। অবাক হচ্ছেন তাই না ! এটি ডায়াবেটিস নির্মূলের বহুল পরীক্ষিত প্রাকৃতিক পদ্ধতি। আপনি নিজেই একবার করে দেখুন... প্রমানের জন্য এর চেয়ে বেশি কিছুর আর প্রয়োজন নেই। থেরাপিটি কাগজে লিখে রাখুন..... 
ডায়াবেটিস নির্মূলের ম্যাজিক থেরাপি Cure Diabetes Naturally

ডায়াবেটিস নির্মূলের ম্যাজিক থেরাপি Cure Diabetes Naturally

প্রতিদিন  সকালে খালি পেটে - তাজা শরবত বা Fresh Juice

সবুজ বা তাজা শরবত কিভাবে প্রস্তুত করবেন : শশা, গাঁজর, টমেটো, ক্যাপসিকাম, করলা, মুলা, বাঁধা কপি, পালং শাক, পুঁইশাক, থানকুনি পাতা, তুলসী পাতা, নিম পাতা, আদা, রসুন, হলুদ, আমলকি, সামান্য কাঁচা লবন, গুলঞ্চ ইত্যাদি যত আইটেম হাতের কাছে পাবেন সব কিছু সামান্য অর্থাৎ পরিমান মতো দিয়ে ব্লেন্ডার করে এক গ্লাস শরবত Juice বানিয়ে খাবেন। এক গ্লাস পরিমান জুস তৈরী করতে আইটেমগুলি কতটুকু করে নিবেন সেটা দুয়েক বার তৈরী করলেই আপনার আন্দাজ হয়ে যাবে।
আখ বা খেঁজুরের গুড় মিশিয়ে খেতে পারবেন। তৈরী করতে সমস্যা না হলে সকাল, দুপুর, রাত তিন বেলাতেই খাবেন।

সকালের নাস্তায় যা যা খাবেন-

দুপুর ১২ তা পর্যন্ত আপনি যা যা খাবেন -
  • কাঁচা সবজি : শশা, গাঁজর, টমেটো, ক্যাপসিকাম ইত্যাদি মিলিয়ে সালাদ বানিয়ে খাবেন।
  • ফল : পাকা কলা, আপেল, ডালিম, আনার, পেঁয়ারা, আঙ্গুর, ইত্যাদি এবং সাথে যেকোন প্রকার ফল প্রায় ৬০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি পর্যন্ত খেতে পারবেন। যখন যেসময় যেটা মন চায় সেটাই খাবেন দুপুর ১২ তা পর্যন্ত। 
  • কাঠ বাদাম বা চিনাবাদাম খাবেন (১৫-৩০টি আপনার ইচ্ছানুযায়ী) সিদ্ধ করে। 

দুপুরে এবং রাতে যা যা খাবেন-

  • কাঁচা সবজি : শশা, গাঁজর, টমেটো, ক্যাপসিকাম ইত্যাদি মিলিয়ে সালাদ বানিয়ে খাবেন 
প্রথম ৩ দিন দুপুরে এবং রাতে ভাত খাবেন না। ৩ দিন পর ডায়াবেটিস নেমে স্বাভাবিক অবস্থায় আসলে দুপুরে এবং রাতে সালাদের সাথে হালকা স্বাভাবিক খাবার অর্থাৎ কম পরিমান সরিষার তেল এবং লবন দিয়ে রান্না করা তরকারি দিয়ে পরিমান মতো ভাত খেতে পারবেন। যদি ৩ দিনে ডায়াবেটিস স্বাভাবিক না হয় তাহলে আরো কিছুদিন ভাত খাওয়া বন্ধ রাখতে হবে।
যারা ইনসুলিন নেন, টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস পেসেন্টসহ তারা দুপুরে এবং রাতে আরো যা যা যুক্ত করলে বেশি উপকৃত হবেন -
  • পালং শাক ৩০ গ্রাম, পান পাতা ৫ গ্রাম ,নারিকেল ১০ গ্রাম
  • তুলসী পাতা ১০ গ্রাম , ধনে পাতা ১০ গ্রাম, পুদিনাপাতা ১০ গ্রাম
  • কিশমিশ ৫টি এবং বাদাম ৫টি
  • লেবু - ব্যবহার করবেন স্বাদ বাড়ানোর জন্য
সবগুলি কেটে এক সাথে করে খাবেন যারা যারা ইনসুলিন নেন, টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস পেসেন্টসহ। সবগুলি সংগ্রহ করতে না পারলে যেগুলি পাবেন সেগুলিই খাবেন। আর যদি এই আইটেম তৈরী করতে সম্ভব না হয় তাহলেও চিন্তার কিছু নেই। বাকি গুলি চালিয়ে যাবেন। কারণ এই প্রকারের রোগীদের প্রোপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার আওতায় চলে আসার কারণে ডাইনামিক হোমিওপ্যাথিক মেডিসিনের মাধ্যমেই তাদের ভাইটাল ফোর্স শক্তিশালী হয়ে উঠে।

যে সকল খাবার খাবেন না-

  • সর্ব প্রকার প্রাণীজ খাবার অর্থাৎ Animal Food প্রধানতঃ হাঁস মুরগি ইত্যাদির মাংস এবং হাঁস মুরগির  ডিম। গরু ছাগলের মাংস, গরু ছাগলের দুধ এবং দুগ্ধজাত সকল খাবার বর্জন করবেন।
  • সর্ব প্রকার প্রক্রিয়াজাত পেকেট করা খাবার যেমনঃ বিস্কুট, রুটি, চিপস, চানাচুর, ফাস্ট ফুড ইত্যাদি বর্জন করবেন। 
  • চা এবং কফি বাদ দিবেন। 
বিঃদ্রঃ ভালো হয়ে যাওয়ার পর এই সকল খাবার আপনি পূনরায় খেতে পারবেন তবে পরিমান মতো।

হোমিওপ্যাথিক জেনেটিক ট্রিটমেন্ট

মানব শিশু মূলত পিতামাতা থেকেই ক্রোমোজোমের মাধ্যমে তাদের পূর্ব পুরুষের রোগ ব্যাধি বা সেগুলির জেনেটিক ম্যাটেরিয়ালস পেয়ে থাকে। যেগুলিকে আমরা প্রকৃত রোগ বা True Disease বলে থাকি। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে বিভিন্ন কারণে যখন মানুষের ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হতে থাকে তখন ভেতরে থাকা সেই প্রকৃত রোগটি বিভিন্ন উপসর্গ প্রকাশ করতে থাকে। আর সেই উপসর্গগুলিকে বিভিন্ন রোগের নামে নামকরণ করে থাকে বিভিন্ন ট্রিটমেন্ট সিস্টেম। হোমিওপ্যাথি ছাড়া অন্যান্য চিকিৎসা শাস্ত্রগুলি যেহেতু প্রকৃত রোগটি নির্ণয় না করে সেটি দ্বারা সৃষ্ট উপসর্গগুলিকে রোগের নাম দিয়ে চিকিৎসা করে তাই True Disease বা প্রকৃত রোগটি কখনই নির্মূল হয় না যার ফলে উপসর্গ কিছু সময়ের জন্য দূর হলেও আবার জেগে উঠে। এভাবে ঔষধ খেয়ে খেয়ে থাকতে হয় আর রোগ জটিলতাও দিন দিন বাড়তে থাকে। কিন্তু হোমিওপ্যাথি মানুষের প্রকৃত রোগটির চিকিৎসা দিয়ে সেটিকে ঠিক করে বিধায় সৃষ্ট উপসর্গগুলি একেবারে দূর হয়ে যায়।

যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন তারা মূলত একাধিক প্রকৃত রোগের অধিকারী বা Multiple Miasm এর হয়ে থাকেন। তাই তাদের জীবন দর্শন, শিশুকাল থেকে এখন পর্যন্ত যাবতীয় রোগের ইতিহাস, পিতা-মাতা, নানা-নানী, দাদা-দাদীর হিস্ট্রি নিয়ে এক্সপার্ট একজন হোমিও চিকিৎসক তার মধ্যে থাকা প্রকৃত রোগগুলি নির্ণয় করে ধাপে ধাপে সেগুলিকে ঠিক করার জন্য পর্যায়ক্রমে ডায়নামিক হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন প্রয়োগ করে থাকেন। একসময় তার শরীরের যাবতীয় রোগ ব্যাধির উপসর্গ নির্মূল হয়ে পূর্ণাঙ্গ সুস্বাস্থ্য ফিরে আসে।

ফ্যামিলি হিস্ট্রি নিয়ে প্রোপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় খুব দ্রুত দুর্বল জীবনীশক্তির ডায়াবেটিস পেসেন্টদের ভাইটাল ফোর্স শক্তিশালী করা হয় বলে ঔষধ প্রয়োগ করার সাথে সাথেই তারা শরীরে তার প্রতিক্রিয়া অনুভব করতে থাকে। এর সাথে চলে ডায়াবেটিস নির্মূলের এই ম্যাজিক থেরাপি।

বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন এলোপ্যাথিক বা রাসায়নিক ঔষধ শরীরে প্রয়োগের ফলে সৃষ্ট ট্রমা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দূর করে নির্জীব জীবনীশক্তিকে সঞ্জীবনী শক্তি দিতে অথাৎ দুর্বল ভাইটাল ফোর্সকে শক্তিশালী করতে অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ডাইনামিক হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্দিষ্ট নিয়মে নির্দিষ্ট মাত্রায় প্রয়োগ করার দরকার পড়ে কিছু কিছু পেসেন্টের। এছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে আরো কিছু ম্যানেজমেন্টেরও প্রয়োজন হয় যা চিকিৎসক প্রয়োজনবোধে দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য নানা প্রকার অপচিকিৎসা নিয়েছেন এবং একের পর এক রাসায়নিক ঔষধ প্রয়োগ করে করে শরীরে আরো জটিল জটিল রোগ ব্যাধি যেমনঃ উচ্চ রক্ত চাপ, কিডনি সমস্যা, হার্টের সমস্যা ইত্যাদি সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে নিবিড় যোগাযোগে রেখে ঔষধ প্রয়োগ করে করে স্বাভিবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হয়।

আর যারা এই ধরনের অপচিকিৎসার খুব বেশি শিকার হননি অর্থাৎ বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন এলোপ্যাথিক বা রাসায়নিক ঔষধ প্রয়োগের ফলে ভেতরে খুব বেশি মেডিসিনাল ট্রমা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরী করেননি অর্থাৎ আরো জটিল জটিল রোগ ব্যাধি যেমনঃ উচ্চ রক্ত চাপ, কিডনি সমস্যা, হার্টের সমস্যা ইত্যাদিতে আক্রান্ত হননি তারা বাড়িতে থেকেই ডায়াবেটিস নির্মূলের ম্যাজিক থেরাপিটি অনুসরণ করে ভালো ফলাফল পাবেন ইনশা-আল্লাহ কোন প্রকার ঔষধ ছাড়াই।
বিস্তারিত

মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২০

Diabetes কত প্রকার, এর লক্ষন এবং ডায়াবেটিস সারানোর উপায় - রাসায়নিক ঔষধ ছাড়াই

ডায়াবেটিস (Diabetes) হলো অনিয়ন্ত্রিত খাবার-দাবার গ্রহণের ফলে মানুষের শরীরে জেগে উঠা একটি ভয়াবহ শারীরিক সমস্যা যা মূলত মানুষের ভাইটাল ফোর্স ডাউন হয়ে গেলে তীব্র ভাবে প্রকাশ পায়। দৈনন্দিন খাবার-দাবার যে ভাবে গ্রহণ করলে মানুষের শরীর সঠিক ভাবে পুষ্টি পায় সেগুলি  সেভাবে গ্রহণ না করে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বা প্রোসেস করে গ্রহণ করার ফলে মানুষের শরীর সেভাবে পুষ্টি পায় না। তাছাড়া প্রসেস করার ফলে খাবারে নানা প্রকার ক্ষতিকর উপাদান যেমন যুক্ত হয় তেমনি পুষ্টিগুনও বহুলাংশে কমে যায়। আর সেগুলি বাচবিচার না করে ক্রমাগত গ্রহণের ফলে ডায়াবেটিসের মতো জটিল কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরী হয়।

মানব দেহের অনেক দুরারোগ্য সমস্যার পেছনে দায়ী রয়েছে এই ডায়াবেটিস যেমন - চোখের সমস্যা, হৃদরোগ, স্ট্রোক বা কিডনির সমস্যা ইত্যাদি। ডায়াবেটিস হলে আপনি যদি প্রাকৃতিক উপায়ে সেটাকে না সারিয়ে রাসায়নিক ঔষধের মাধ্যমে শুধু নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে যান তাহলে সেই সকল রাসায়নিক ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আরো দুরারোগ্য রোগ তৈরী হবে আপনার শরীরে। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় আপনাকে একটি দুঃসহ জীবন নিয়ে চলতে হবে।
ডায়াবেটিস হলে সেটিকে রাসায়নিক ঔষধের মাধ্যমে শুধু নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা না করে প্রোপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে সারিয়ে তুলুন। আপনি হয়তো জানেন না ডায়াবেটিস নির্মূলের একটি উন্নত চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। তবে এর জন্য এক্সপার্ট একজন হোমিও চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। 

মেডিক্যালের ভাষায় ডায়াবেটিস

আমরা খাবার খাওয়ার পরে আমাদের শরীর খাবারের শর্করাকে ভেঙে সুগার বা চিনিতে (Glucose) রুপান্তর করে। ইনসুলিন নামের একটি হরমোন নিসৃত হয় অগ্ন্যাশয় থেকে যে হরমোন সুগার বা চিনিকে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়ে থাকে আমাদের শরীরের কোষগুলোকে। এই চিনি শরীরের জ্বালানী বা শক্তি হিসেবে কাজ করে। শরীরে যখন ইনসুলিন তৈরি হতে পারে না বা ঠিক মতো কাজ করে না তখনই মূলত ডায়াবেটিস হয়। এর ফলে রক্তের মধ্যে চিনি জমা হতে শুরু করে।
Diabetes কত প্রকার, এর লক্ষন এবং ডায়াবেটিস সারানোর উপায়

ব্লাড সুগার লেভেল অনুসারে ডায়াবেটিস নির্ণয়

ডায়াবেটিস শনাক্ত করার জন্য সবচেয়ে সঠিক ও বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি হলো OGTT-Oral Glucose Tolerance Test. এই পদ্ধতিতে রোগীকে সকালে খালি পেটে একবার রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করতে হয়, তারপর ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ শরবত পানের দুই ঘণ্টা পর আরেকবার রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করা হয়। এই পদ্ধতিতে নির্ভুলভাবে ডায়াবেটিস ও প্রি-ডায়াবেটিস নির্ণয় করা যায়।
আবার আঙুলে সূঁচ ফুটিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করা হয়। রক্তের গ্লুকোজের লক্ষ্যমাত্রা প্রত্যেক মানুষের ক্ষেত্রে ভিন্ন হয়ে থাকে -
Plasma glucose testNormalPrediabetesDiabetes
RandomBelow 11.1 mmol/l
Below 200 mg/dl
N/A11.1 mmol/l or more
200 mg/dl or more
FastingBelow 5.5 mmol/l
Below 100 mg/dl
5.5 to 6.9 mmol/l
100 to 125 mg/dl
7.0 mmol/l or more
126 mg/dl or more
2 hour post-prandialBelow 7.8 mmol/l
Below 140 mg/dl
7.8 to 11.0 mmol/l
140 to 199 mg/dl
11.1 mmol/l or more
200 mg/dl or more

মেডিক্যালের ভাষায় ডায়াবেটিসের টাইপ

  • প্রিডায়াবেটিস Prediabetes
  • টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস Type 1 diabetes
  • টাইপ টু ডায়াবেটিস Type 2 diabetes
  • গর্ভকালীন ডায়াবেটিস Gestational diabetes (GDM)
এছাড়াও আরো কয়েকটি টাইপে ডায়াবেটিসকে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে যেমনঃ
  • Diabetes LADA (Latent Autoimmune Diabetes of Adulthood)
  • Diabetes MODY (Maturity Onset Diabetes of the Young)
  • Double Diabetes
  • Type 3 Diabetes
  • Steroid Induced Diabetes
  • Brittle Diabetes
তবে আমরা মূলত সর্বাধিক পরিচিত টাইপের ডায়াবেটিসগুলি নিয়েই আলোচনা করব।
তবে আপনাদের চিন্তিত হওয়ার মোটেও কোন কারণ নেই এই জন্যে যে, ডায়াবেটিস এর পরিপোষক কিছু কারন চিহ্নিত করে সেগুলি দূর করার জন্য খাবারের মেন্যু পরিবর্তন করে সব প্রকারের ডায়াবেটিসকেই নির্মূল করা যায় প্রোপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে। 

প্রি-ডায়াবেটিস

প্রিডায়াবেটিস অবস্থাটি হল সেই অবস্থা যখন রক্তে শর্করারর মাত্রা বেড়ে যায়, কিন্তু ততটাও বাড়ে না যাকে পুরোপুরি ডায়াবেটিস বলা যায়। যদিও শর্করার এই মাত্রাটির ফলেও আক্রান্তের শরীরে বেশ কিছু অনভিপ্রেত লক্ষণ দেখা যায়। প্রিডায়াবেটিস অবস্থাটির যদি চিকিৎসা না করানো হয়, তাহলে অচিরেই এই অবস্থাটি টাইপ টু ডায়াবেটিসে উত্তীর্ণ হয়। প্রিডায়াবেটিস অবস্থার কিছু অতি সাধারণ লক্ষণ হল - 
  • অত্যধিক ক্ষুধা (Constant hunger)
  • অত্যধিক তৃষ্ণা (Excessive thirst)
  • ওজন বেড়ে যাওয়া (Weight gain)
  • ঘন ঘন মূত্রত্যাগ (Frequent urination)
  • ঝাপসা দৃষ্টি (Blurred vision) ইত্যাদি
টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস
এ ধরনের ডায়বেটিসের ক্ষেত্রে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তখন রক্তের প্রবাহে গ্লুকোজ জমা হতে শুরু করে। বিজ্ঞানীরা এখনও বের করতে পারেন নি কী কারণে এমনটা ঘটে। তবে তারা বিশ্বাস করেন যে এর পেছনে জিনগত কারণ থাকতে পারে। এছাড়া ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে অগ্ন্যাশয়ে ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলো নষ্ট হয়ে গেলেও এমন হতে পারে। ডায়বেটিস আক্রান্তদের মধ্যে সারা বিশ্বে ১০ শতাংশ এই টাইপ ওয়ানে আক্রান্ত। টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসকে একসময় জুভেনাইল ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন-ডিপেন্ডডেন্ট ডায়াবেটিস বলা হত।

রোগটি সাধারণ ভাবে শৈশব বা বয়ঃসন্ধিকালে দেখা গেলেও প্রাপ্তবয়স্কদেরও টাইপ ১ ডায়াবেটিস হয়। টাইপ ১ ডায়াবেটিসে নিম্নলিখিত লক্ষণ দেখা দেয় -
  • অস্বাভাবিক ভাবে পিপাসা বেড়ে যায় এবং মুখ শুকিয়ে যায় (Abnormal thirst and dry mouth)
  • হটাৎ করে অস্বাভাবিক ভাবে ওজন কমে যায় (Sudden weight loss)
  • বার বার প্রস্রাব করা (Frequent urination)
  • অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগা (Constant hunger)
  • ছোটদের ক্ষেত্রে হঠাৎ করে বিছানা ভেজানো শুরু হওয়া (Bed wetting)
  • ক্লান্তি এবং দুর্বলতা অনুভব করা (Lack of energy, tiredness)
  • দৃষ্টিশক্তিতে অসচ্ছতা (Blurred vision)
টাইপ টু ডায়াবেটিস
এই ধরনের ডায়াবেটিসের আক্রান্তদের ক্ষেত্রে অগ্ন্যাশয়ে যথেষ্ট ইনসুলিন উৎপন্ন হয় না অথবা এই হরমোনটি ঠিক মতো কাজ করে না। ঠিক কেন এই ধরনের ঘটনা ঘটে তা আজও স্পষ্ট ভাবে অজানা। তবে বংশগতি এবং কিছু পরিবেশগত শর্ত যেমন, স্থুলতা ও সক্রিয়তার অভাব এই রোগ হওয়াতে কাজ করে বলে মনে করা হয়।

বোঝার সুবিধের জন্য টাইপ ২ ডায়াবেটিসকে প্রাপ্তবয়স্ককালীন ডায়াবেটিস বলা হয় কারণ মূলত বয়স্ক লোকেরাই এই রোগে আক্রান্ত হন। তবে দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটা সত্যি যে আজকাল বহু শিশু এই রোগের শিকার। সম্ভবত শৈশবকালীন স্থুলতা শিশুদের মধ্যে এই রোগ হওয়ার বড় কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

টাইপ ২ ডায়াবেটিসে লক্ষণ ধীরে ধীরে বাড়ে। এমনও হতে পারে বছরের পরে বছর ধরে এই রোগে আক্রান্ত হয়েও অনেকে বুঝতেই পারেন না যে তাঁর এই রোগ হয়েছে। টাইপ ২ ডায়াবেটিসে নিম্নলিখিত লক্ষণ দেখা দেয় -
  • পিপাসা তীব্রভাবে বেড়ে যায় (Excessive thirst and dry mouth)
  • বার বার প্রস্রাব করা (Frequent urination)
  • ক্লান্তি এবং দুর্বলতা অনুভব করা (Lack of energy, tiredness)
  • ক্ষত সারতে সাময় লাগা (Slow healing wounds)
  • বার বার ত্বকে সংক্রমণ হওয়া (Recurrent infections in the skin)
  • দৃষ্টিশক্তিতে অসচ্ছতা (Blurred vision)
  • হাত অথবা পায়ে অসাড়তা (Tingling or numbness in hands and feet)
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস
গর্ভাস্থায় যখন কোন মায়ের সুগারের লেভেল বেশি থাকে তাকে গর্ভাস্থায় ডায়াবেটিস (Gestational Diabetes) বলে থাকে। গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন হরমোনের প্রভাবে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গর্ভাবস্থায় প্রথমবারের মতো ডায়াবেটিস ধরা পড়লে তাকে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস বা জি ডি এম) বলা হয়। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস মা ও শিশু দু'জনেরই ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। এই ঝুঁকি প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজন সঠিক সময়ে ডায়াবেটিস নির্ণয় ও এর চিকিৎসা।

গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতেই ঝুঁকিপূর্ণ সকল গর্ভবতী মহিলার ডায়াবেটিস শনাক্তকারী পরীক্ষা OGTT-Oral Glucose Tolerance Test করে ডায়াবেটিস শনাক্ত করতে হয়। এই পরীক্ষায় খালি পেটে ও ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার ২ঘণ্টা পর রক্তের সুগার পরীক্ষা করা হয়। প্রথম সাক্ষাতে এই পরীক্ষা স্বাভাবিক থাকলে গর্ভকালীন ২৪-২৮ সপ্তাহে আবার একই ভাবে পরীক্ষা করে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস আছে কিনা নিশ্চিত হতে হবে।

এই অবস্থা শিশু এবং মায়ের জন্য একটি মারাত্বক রিস্ক ফ্যাক্টর। পরবর্তি সময়ে সেই শিশুর ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ডায়াবেটিসের এটাও একটা রিস্ক ফ্যাক্টর। যার কারনে ডায়াবেটিস রোগে ভুগতে পারে। জীবনের কোন এক পর্যায়ে এই ধরনের সমস্যায় মা ও শিশু উভয়ই টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারে। বাচ্চা প্রসবের পর থেকে এই ধরনের সমস্যা যদিও থাকে না।

ডায়াবেটিস এর ঝুঁকি

  • রক্তে চিনির পরিমাণ বেশি হলে রক্তনালীর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
  • শরীরে যদি রক্ত ঠিক মতো প্রবাহিত হতে না পারে, যেসব জায়গায় রক্তের প্রয়োজন সেখানে যদি এই রক্ত পৌঁছাতে না পারে, তখন স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • এর ফলে মানুষ দৃষ্টি শক্তি হারাতে পারে।
  • ইনফেকশন হতে পারে পায়ে।
  • বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, অন্ধত্ব, কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ইত্যাদির পেছনে একটি বড় কারণ ডায়াবেটিস।

যেসব কারণে রক্তে সুগারের পরিমাণ বাড়তে পারে

  • সাধারণ সর্দি, ফ্লু বা অন্য কোনও ভাইরাস -যেমন করোনভাইরাস (COVID-19)
  • পেট খারাপ
  • গলা ব্যথা
  • মূত্রনালির সংক্রমণ
  • বুকের সংক্রমণ
  • ফোড়া
  • হাড় ভাঙা
  • অন্য অবস্থার জন্য স্টেরয়েড ট্যাবলেট বা ইঞ্জেকশন গ্রহণ

ডায়াবেটিসের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ উপায়

হয়তো মেডিক্যাল মাফিয়ারা আপনাকে এতদিন তাদের মিডিয়ার মাধ্যমে বুঝিয়ে আসছে ডায়াবেটিস ভালো হয় না, এটি ঔষধ খেয়ে খেয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। মিডিয়া সাধারণ মানুষের নাগালের বাহিরে থাকায় তাদের একচেটিয়া প্রচারে মানুষ জানতোই না যে - ডায়াবেটিস একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা ছাড়া আর কিছুই নয়। আজ মিডিয়া সকলের হাতের লাগালে থাকায় মানুষ সত্যটা জানতে পারছে এবং যাচাই করতে পারছে। প্রোপার হোমিও চিকিৎসার মাধ্যমে তারা এই রোগ থেকে মুক্তি পাচ্ছে ৪/৬ মাসের মধ্যেই।

আপনি হয়ত দেখে থাকবেন, বিভিন্ন রাসায়নিক ঔষধ খেয়ে খেয়ে রোগ জটিলতা দিন দিন বেড়ে চলেছে ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষদের। তাই যারা এই সমস্যায় আক্রান্ত আছেন তারা অবিলম্বে এই সকল রাসায়নিক ঔষধ খাওয়া বন্ধ করুন। এখন হয়তো প্রশ্ন আসবে তাহলে কিভাবে ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পাবেন? 

আপনার চিন্তা করার আদৌ কোন কারণ নেই। ৪/৬ মাসের মধ্যেই আপনি একটি ম্যাজিক রেজাল্ট পেয়ে যাবেন শুধুমাত্র রিয়েল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আর খাবারের মেন্যু পরিবর্তন করার মাধ্যমেই। পরবর্তী পর্বেই এই সম্পর্কে বিস্তারিত দিক নির্দেশনা থাকছে যেগুলি আপনি ঘরে বসেই অনুসরণ করে নিজেই নিজের ডায়াবেটিস সারাতে পারবেন ইনশা-আল্লাহ। প্রাকৃতিক ভাবে ডায়াবেটিস নির্মূলের জন্য থাকছে ম্যাজিক থেরাপি। যদিও একেক জনের রোগ জটিলতা একেক রকম থাকে তারপরও প্রায় ৭০% ডায়াবেটিস রোগীরাই আমার ফর্মূলা অনুসরণ করলে কোন প্রকার ঔষধ ছাড়াই ডায়াবেটিস থেকে সেরে উঠবেন ইনশা-আল্লাহ। তাছাড়া যাদের রোগ জটিলতা বেশি অর্থাৎ চিকিৎসার প্রয়োজন, ম্যানেজমেন্টের শুরু থেকেই তাঁরা রেজাল্ট পেতে শুরু করবেন। এ ক্ষেত্রে মূলত রোগীর সার্বদৈহিক অবস্থা এবং ফ্যামিলি হিস্ট্রি নিয়ে একক মাত্রায় ডায়নামিক হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন প্রয়োগ করা হয় যা রোগীর ভাইটাল ফোর্সকে অতি দ্রুত দুর্বল অবস্থা থেকে শক্তিশালী অবস্থায় নিয়ে যায়। তখন রোগী কল্পনাতীত ভাবে শারীরিক এবং মানুষিকভাবে সুস্থ বোধ করতে থাকে। 
বিস্তারিত

শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০

ভেরিকোস ভেইন শিরা স্ফীতি কারণ লক্ষণ কার্যকর চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

ভেরিকোস ভেইন কি, কেন হয়, এর কারণ লক্ষণ এবং হোমিও চিকিৎসা সম্পর্কে আমরা জানবো। এটি আমাদের শিরা বা রক্তনালীর একটি রোগ। শরীরের কোন অংশের শিরা যদি প্রসারিত হয়ে যায় অর্থাৎ দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে বড় হয়ে যায় তাকে ভেরিকোস ভেইন (Varicose Vein) বলা হয়। শিরা হচ্ছে সে সকল রক্তনালী যেগুলি সারা শরীর থেকে দূষিত রক্তকে পরিশোধিত করার জন্য হৃদপিণ্ডে নিয়ে যায়। যখন এই কাজে বাঁধার সৃষ্টি হয় তখন রক্ত স্থির হয়ে থাকে এবং রক্তনালী ফুলে ওঠে। এই স্ফীত শিরাগুলোকেই ভেরিকোস ভেইন বলে। এই সমস্যা শরীরের যেকোন স্থানেই হতে পারে, তবে পা ও উরুতে বেশি দেখা যায়। এছাড়া পুরুষের স্ক্রোটামের ভেতর বা অন্ডথলির মধ্যেও বেশি হতে দেখা যায় যাকে ভেরিকোসিল বলা হয়ে থাকে, এ সম্পর্কে আপনারা ইতিপূর্বে জেনেছেন। আমরা মূলত এই পর্বে ভেরিকোস ভেইন বা শিরা স্ফীতি সম্পর্কেই আলোকপাত করবো।

পায়ের গোড়ালি থেকে হাঁটুর মাঝখানের অংশে (সেফানাস ভেইন) ভেরিকোস ভেইন বেশি হতে দেখা যায়, এ রোগ হলে শিরা বরাবর রোগী ব্যথা অনুভব করেন। চামড়ার ঠিক নিচে মোটা মোটা ভেইনগুলো দেখতেও বেশ কদাকার মনে হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করালে পায়ে আলসার বা ঘা হয়ে যেতে পারে, পায়ের স্নায়ু নষ্ট হয়ে গ্যাঙ্গরিন হতে পারে। অল্প আঘাতেই এসব শিরা থেকে রক্তপাত শুরু হবার সম্ভাবনাও খুব বেশি। প্রতিরক্ষা বাহিনী বা পুলিশ হিসেবে চাকরি করতে চাইলে ভেরিকোস ভেইন একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
ভেরিকোস ভেইন শিরা স্ফীতি কারণ লক্ষণ এবং কার্যকর চিকিৎসা

ভেরিকোস ভেইন শিরা স্ফীতি - কারণ

  • বংশে থাকলে এই অসুখের প্রবণতা বাড়ে
  • সাধারণত ভেইন বা শিরার ভাল্ব নষ্ট হয়ে যাবার কারণে এই রোগটি হয়
  • শিরায় ইনফেকশন হলে
  • গর্ভাবস্থায়, পেটে টিউমার হলে বা পানি জমলে
  • পেশাগত কারণে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কাজ করার কারণেও এ রোগটি হতে দেখা যায়।

ভ্যারিকোস ভেইন - লক্ষণসমূহ

  • পায়ের রক্তনালী ফুলে আঁকাবাঁকা হয়ে যায়।
  • ভেরিকোস ভেইন বা শিরা স্ফীতি হলে শুরুতে খুব একটা ব্যথা বেদনা থাকে না। 
  • শুরুতে পা ভারী ভারী মনে হয়।
  • পায়ের শিরা ঘন নীল বর্ণ ধারণ করে।
  • পায়ের শিরা পাকানো দড়ির মতো হয়ে যায়, যা বাইরে থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়।
  • পায়ের পাতা ফুলতে শুরু করে, জ্বালা ভাব থাকে।
  • পায়ের মাংসেপশীতে টান ধরা বা খিঁচুনি হতে পারে।
  • যে অংশে শিরা ফুলে ওঠে সেখানে চুলকানি হতে পারে।
  • পায়ের ত্বকের রঙ বদলে যায়, ত্বক শুকিয়ে পাতলা হয়ে যায়, ত্বক থেকে আঁশ ওঠে এবং ফুলে যায়।
  • যত দিন যায় সমস্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। টানা দাঁড়িয়ে বা বসে থাকলে পায়ে ব্যথা শুরু হয়।
  • পায়ের ফুলে ওঠা শিরার ব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকে।
  • চিকিৎসার অভাবে সমস্যা বাড়তেই থাকে, পায়ে আলসার বা ঘা হয়ে যায়। 
  • আচমকা ব্লিডিং শুরু হতে পারে।

ভেরিকোস ভেইন শিরা স্ফীতি - চিকিৎসা 

মূলত হোমিওপ্যাথি ছাড়া এর তেমন কোন ভালো চিকিৎসা নেই। এলোপ্যাথিতে এটিকে অপারেশন করে ঠিক করার চেষ্টা করা হয়ে থাকে এছাড়া বিভিন্ন স্থানিক চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে সেগুলি রোগ সারায় না কিছুটা আরাম দিয়ে থাকে মাত্র। কিন্তু ভেরিকোস ভেইন বা শিরা স্ফীতি সমস্যার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করে হোমিওপ্যাথি। কারণ একমাত্র হোমিওপ্যাথিতেই এই সমস্যার জন্য অনেক কার্যকর ঔষধ রয়েছে। তবে সেগুলি প্রয়োগ করলেই সমস্যা সেরে যাবে না। এর জন্য দরকার প্রোপার কেইস টেকিং এবং প্রোপার মেডিসিন এপ্লিকেশন যা করতে পারেন অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসক। এখানে আপনার নিজের যাবতীয় তথ্যের সাথে আপনার পিতা-মাতা, দাদা-দাদী এবং নানা-নানীর হিস্ট্রি নেয়ার প্রয়োজন হতে পারে একটি উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে। তাই এই সমস্যা নির্মূলে অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

ভেরিকোস ভেইন শিরা স্ফীতি - বিধি নিষেধ

খাবার দাবারে বিধি নিষেধ
  • মাংস, চর্বিজাতীয় ও উচ্চ প্রোটিন জাতীয় খাবার বর্জন করুন
  • যাবতীয় প্রাণীজ খাবার পরিহার করুন 
  • তৈলাক্ত খাবার, ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড, জাংফুড বর্জন করুন
  • লবন, মিষ্টি, চিনি এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার বর্জন করুন
  • চা, কফি এবং গরুর দুধ বর্জন করুন
  • শাকসবজি, ফল এবং ফলের জুস থেকে পারেন
জীবন যাপনে বিধি নিষেধ
  • কর্মস্থলে টানা দাঁড়িয়ে থাকবেন না, মাঝে মাঝে বসুন
  • টানা বসেও থাকবেন না মাঝে মাঝে হাঁটাচলা করুন
  • আঁটসাঁট পোশাক পরিহার করুন, ঢিলেঢালা কাপড় পরিধান করুন
  • তীব্র গরম পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ কাজ করা থেকে বিরত থাকুন
  • অধিক ভারী জিনিস উত্তোলন করা থেকে বিরত থাকুন
  • হালকা ব্যায়াম এবং সকাল বিকাল হাঁটা চলা করা
  • ব্যথা তীব্র হলে বিছানায় শুয়ে পা দুটি কিছুক্ষন উপর দিকে দিয়ে রাখুন
বিস্তারিত

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার মানে হলো স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় বেগ পাওয়া এবং প্রস্রাব করা। এটি যেকোন ব্যক্তির প্রতিদিনকার দিন লিপিতে বিঘ্ন ঘটায় এবং ঘুমের ব্যাঘাত সৃষ্টি করে থাকে। তাই দ্রুত আরাম পাওয়ার জন্য ঘন ঘন প্রস্রাব হলে শুরুতে অনেকেই না বুঝে এন্টিবায়োটিক খাওয়া শুরু করেন যা বহু ক্ষেত্রেই উল্টো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেকের দিনে ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ আসে আবার অনেকের রাতে বেশি আসে আবার কারো ক্ষেত্রে দিন রাতে সমান থাকে। দিনে ৪-৫ বার প্রস্রাবের চাপ আসা মোটেই অস্বাভাবিক নয়। তবে তার থেকে বেশি বার হলে কিন্তু চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

কেউ কেউ আবার মনে করে থাকেন ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া মানেই ডায়াবেটিস, বিষয়টি কিন্তু তাও নয়।  এর পেছনে যেমন ডায়বেটিস থাকতে পারে তেমনি আরো বহু কারণ থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লাডার যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত কাজ করা শুরু করে তাহলেই ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ আসে। আর এরকমটা নানা কারণে হতে পারে যেমন: অ্যালকোহল সেবন, ক্যাফিন, ডায়াবেটিস, ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশন Urinary Tract Infection (UTI), পেলভিক রিজিয়ানে কোন অসুবিধা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রয়া থেকেও হতে পারে।
প্রচণ্ড পরিশ্রমের কাজ যারা করেন, ঘামেন, তারা ৫ লিটার পানি খেলে হয়ত ২ লিটার প্রস্রাব হবে যারা বিশ্রামে থাকেন বা ঘামেন না তারা ২.৫ লিটার খেলেই ২ লিটার প্রস্রাব হতে পারে তবে এক সাথে ১ গ্লাসের বেশি পানি পান করার দরকার নেই।
ঘন ঘন প্রস্রাব করার সমস্যা যদি বিশেষ করে রাতের বেলায় হয় তাহলে এটা কিডনি রোগের লক্ষণ হতে পারে। যখন কিডনির ছাঁকনি গুলো নষ্ট হয়ে যায় তখন প্রস্রাবের বেগ বৃদ্ধি পায়। আবার কারো কারো ক্ষেত্রে প্রস্রাবের সাথে রক্ত যেতে দেখা যায়। সুস্থ কিডনি সাধারণত ব্লাড সেল গুলোকে শরীরের ভিতরে রেখে রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ মূত্র হিসেবে বের করে দেয়। যখন কিডনি ক্ষতিগ্রস্থ হয় তখন ব্লাড সেল বের হতে শুরু করে। প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়ার এই লক্ষণটির কিডনি রোগের সাথে সাথে টিউমার, কিডনি পাথর বা ইনফেকশনেরও ইঙ্গিত হতে পারে।
ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার কারণ ও প্রতিকার

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার কারণ

  • বেশি বেশি পানি পান করা একটি প্রধান কারণ
  • দুঃশ্চিন্তা, বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষাকালীন সময়ে বা ইন্টারভিউ দেয়ার পূর্বে 
  • যুবকদের পর্ণ দেখা বা উত্তেজক চিন্তার ফলেও ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে 
  • শীতকাল বা ঠান্ডা-শুষ্ক পরিবেশে মানুষের শরীর ঘামে না, ঐ সময় অতিরিক্ত প্রস্রাব তৈরি করে কিডনী শরীরে পানি ও লবণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে
  • কিছু রোগের লক্ষণ হিসেবে অতিরিক্ত প্রস্রাব হয়, যেমন - ডায়াবেটিস, প্রস্টেট গ্রন্থির টিউমার, প্রস্রাবে জীবাণু সংক্রমণ ইত্যাদি
  • কিডনী অকেজো হবার অন্যতম লক্ষণ হল অতিরিক্ত প্রস্রাব হওয়া
  • ব্লাডার ক্যান্সার, ব্লাডার বা কিডনিতে পাথর হলে 
  • মূত্র নালীর সংকোচন হলে ঘন ঘন প্রস্রাব বা প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হতে পারে
  • এছাড়া এলকোহল, চা, কফি পান করাও অতিরিক্ত প্রস্রাব হবার জন্য দায়ী
  • ইনফেক্শন একটি কারণ। এটি হলে প্রস্রাবের সাথে জ্বালাপোড়া হবে। প্রস্রাব ছাড়াও জ্বালাপোড়া হবে। মেয়েদের ক্ষেত্রে দেখা যায় তাদের পেলভিক এরিয়াতে বা তলপেটে জ্বালাপোড়া করছে।
  • পুরুষদের প্রোস্টেটে ইনফেকশন হলেও ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে
  • প্রস্রাবের পথে যদি কোন বাধা থাকে তাহলেও ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে 
  • মেয়েদের গর্ভে সন্তান আসার প্রথম ৩ মাসে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে 
  • মেয়েদের পেলভিক ইনফ্লামেশন হলেও ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে 
  • যক্ষা বা TB হলেও তলপেটে জ্বালাপোড়া, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া এবং ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে 
  • প্রস্রাবের থলিতে ক্যান্সার হলেও প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া এবং ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে, এমনকি রক্তও বের হতে পারে 
অনেকেই আবার ঘন ঘন প্রস্রাব প্রস্রাব হলেই আতংকিত হয়ে পড়েন ডায়াবেটিস হল কিনা এই ভেবে। আপনার আতংকিত হওয়ার মোটেই কোন কারণ নেই। আর ডায়াবেটিস হলেও চিন্তা বা ভয়ের কিছুই নেই কারণ আপনি হয়তো জানেনই না যে - ডায়াবেটিস হলে প্রথমেই যদি আপনি ক্রমাগত এলোপ্যাথিক বা রাসায়নিক ঔষধ দিয়ে এটিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা না করে অভিজ্ঞ কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেন তাহলে ৪-৬ মাসের মধ্যেই অধিকাংশ ডায়বেটিসই নির্মূল হয়ে যায়। তবে যাদের অন্য আরো শারীরিক সমস্যা থাকে তাদের ক্ষেত্রে সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে। ডায়াবেটিস মূলত কোন রোগ নয়। এটি হলো মেডিক্যাল মাফিয়াদের তৈরী করা একটি বিসনেস পলিসি। এতদিন যাবৎ তাদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন মিডিয়ায় এক চেটিয়া প্রচার করে করে মানুষকে তারা বুঝানোর চেষ্টা করতো এই ধরণের রোগ ভালো হয় না কিন্তু এখন মিডিয়া সাধারণ জনগণের হাতের কাছে হওয়ায় তাদের প্রতারণা দিন দিন প্রকাশ হচ্ছে। 

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার লক্ষন

  • ঘন ঘন প্রস্রাব বেগ হওয়া 
  • প্রস্রাবের প্রচণ্ড চাপ অনুভব
  • প্রস্রাবের সময় ব্যাথা, জ্বালাপোড়া ও অসহ্য অনুভূতি
  • তল পেটে স্বাভাবিকভাবে অথবা চাপ দিলে ব্যাথা অনুভব
  • ঘন ফেনার মত অথবা দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব
  • জ্বর-কাঁপুনিসহ অথবা কাঁপুনি ছাড়া
  • বমি বমি ভাব ও বমি হওয়া
  • কোমরের পাশের দিকে অথবা পিছনে মাঝামাঝি অংশে ব্যাথা
  • প্রস্রাবের চাপে রাতে বার বার ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া।

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার প্রতিকার

প্রচণ্ড পরিশ্রমের কাজ যারা করেন, ঘামেন, তারা ৫ লিটার পানি খেলে হয়ত ২ লিটার প্রস্রাব হবে যারা বিশ্রামে থাকেন বা ঘামেন না তারা ২.৫ লিটার খেলেই ২ লিটার প্রস্রাব হতে পারে তবে এক সাথে ১ গ্লাসের বেশি পানি পান করার দরকার নেই।

তবে এর ব্যতিক্রম হলেই চিন্তার বিষয়। কি কারণে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার সমস্যা হচ্ছে সেটি বের করতে হবে এবং সে অনুযায়ী প্রপার হোমিও চিকিৎসা নিতে হবে। ডায়াবেটিস, ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশন, প্রোস্টেটে ইনফেকশন, ব্লাডার ক্যান্সার, ব্লাডার বা কিডনিতে পাথর, মূত্র নালীর সংকোচন ইত্যাদি যে কারণই দায়ী থাকুক না কেন সেটি যথাযথ ভাবে নির্ণয় করে প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট নিলে ধীরে ধীরে এই সমস্যা দূর হয়ে যায়।
বিস্তারিত

বুধবার, ২৭ মে, ২০২০

শিশুদের হাঁপানি শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা ! কারণ লক্ষন ও সমাধানের স্থায়ী উপায়

শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা Asthma বা হাঁপানি মূলত শিশুদের জন্য সর্বাধিক দৃশ্যমান শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা। বেশির ভাগ শৈশবকালীন হাঁপানি শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা ১ থেকে ৫ বছর বয়সে দেখা যায়। দুর্ভাগ্যবশত এই সমস্যার স্থায়ী চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি হওয়া সত্ত্বেও অনেকেই বিষয়টি জানেন না আবার যারা জানেন তারা যথা সময়ে অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসক নির্বাচন করতে ব্যর্থ হন মূলত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শাস্ত্র সম্পর্কে তাদের কোন বাস্তব ধারণা বা জ্ঞান না থাকার কারণে।

বর্তমান বিশ্বে হোমিওপ্যাথি ছাড়া শিশুদের হাঁপানি বা অ্যাজমা সমস্যা নির্মূলের স্থায়ী কোন চিকিৎসা নেই। অন্যান্য চিকিৎসা শাস্ত্রে মূলত সমস্যাটি কমিয়ে রেখে আরাম দেয়ার চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে যার কারণে সাময়িক আরাম পেলেও দিন দিন রোগ জটিলতা বাড়তে থাকে এবং দীর্ঘকাল ব্যাপী নানা প্রকার রাসায়নিক ঔষধ শরীরে প্রয়োগ করার ফলে আরো দুরারোগ্য জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে।

শিশুদের শ্বাসনালীগুলো খুবই ক্ষুদ্র। ২ মি. মি. থেকে ৫ মি. মি. ব্যাসবিশিষ্ট। চারদিকে মাংসপেশি পরিবেষ্টিত। এই ক্ষুদ্র শ্বাসনালীর ভেতর দিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় খুব সহজেই বাতাস আসা-যাওয়া করতে পারে। যদি কখনও এলার্জিক বা উত্তেজক কোন জিনিস শরীরে প্রবেশ করে তখন শ্বাসনালীর মাংস পেশিগুলো সঙ্কুচিত হয়। ফলে শ্বাসনালী সরু হয়ে যায়। তাছাড়া উত্তেজক জিনিসের প্রভাবে শ্বাসনালীর গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় আঠালো কফ, আর ইনফেকশনের কারণে শ্বাসনালীর ভেতরের দিককার মিউকাস আবরণী আঠালো কফ উঠিয়ে ফেলার লক্ষ্যে অনবরত কাশি হয়ে থাকে। কখনও কখনও এই শ্বাসনালী এত সরু হয় যে, বাতাস বায়ুথলিতে পৌঁছায় না, তখন শরীরে অক্সিজেনের অভাব হয়। এটা খুবই মারাত্মক অবস্থা। এ অবস্থা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলে অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু ঘটতে পারে।
শিশুদের হাঁপানি শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা! কারণ লক্ষন ও সমাধানের স্থায়ী উপায়

হাঁপানি বা অ্যাজমা - প্রকারভেদ

  • একিউট অ্যাজমা : তীব্র হাঁপানি এতে ফুসফুসের বায়ুবাহী নালীসমূহ আকস্মিকভাবে সংকুচিত হয় ও শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্টের সৃষ্টি করে
  • ক্রনিক অ্যাজমা : দীর্ঘমেয়াদী হাঁপানি এতে ঘন ঘন অ্যাজমায় আক্রান্ত হয় এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে ও প্রতিরোধে চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে

শিশুদের হাঁপানি বা অ্যাজমা - লক্ষণ 

অ্যাজমা শিশুদের উপসর্গ একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়ে থাকে। আপনার শিশু অ্যাজমায় আক্রান্ত কিনা সেটা কিছু উপসর্গ দেখে বুঝতে পারবেন -
  • শ্বাসত্যাগের সময় প্রতিনিয়ত বাঁশির মতো শব্দ
  • সব সময় অথবা বারে বারে কাশি লেগে থাকে
  • শ্বাসকষ্ট এবং ঘন ঘন ঠান্ডা লাগা, যা প্রায়ই বুকে বসে যায়
  • রাতে শোবার বেলায় বা ভোরের দিকে কাশি বা শ্বাসকষ্টের আওয়াজ
  • রাতে ঘুম থেকে ওঠে বসে থাকা
  • বারবার শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছে এবং শাঁ শাঁ শব্দ
  • বুকে আঁটসাঁট বা দম বন্ধ ভাব 
  • ধোঁয়া, ধুলোবালি, ফুলের রেণু বা পোকামাকড়ের উপস্থিতিতে সমস্যাগুলো  বেড়ে যায়

শিশুদের হাঁপানি বা অ্যাজমা - কারণ

উপরি উপরি চিন্তা করে দেখা যায় শিশুদের ক্ষেত্রে ৮০% এর বেশি অ্যাজমা হলো এলার্জিজনিত। তবে আরো গভীরে গিয়ে চিন্তা করলে দেখা যায় মানুষের মধ্যে বিদ্যমান প্রকৃত কিছু রোগ যেগুলি মূলত নানা প্রকার জটিল উপসর্গ তৈরী করে থাকে। শিশুদের হাঁপানি বা অ্যাজমা হলো তেমনি একটি প্রকৃত রোগের সৃষ্ট উপসর্গ। তবে কিছু কিছু কারণ রয়েছে যেগুলি হাঁপানি সমস্যাটিকে ত্বরান্বিত করে থাকে যেমন -
  • হাঁপানি বা অ্যালার্জির পারিবারিক ইতিহাস
  • ভাইরাল ইনফেকশন
  • লোমশ প্রাণী (যেমন বিড়াল, কুকুর)
  • সিগারেট বা কাঠের ধোঁয়া
  • ঘরের জাজিম, বালিশ বা কার্পেটের ধুলোবালি
  • পুষ্পরেণু ও পোকামাকড় (যেমন তেলাপোকা)
  • তাপমাত্রার পরিবর্তন
  • অ্যারোসল বা সুগন্ধী সামগ্রী
  • অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ

শিশুদের হাঁপানি বা অ্যাজমা  - কারা আক্রান্ত হতে পারে

যেসব শিশুদের ব্যক্তিগত বা পারিবারিকভাবে অ্যালার্জির ইতিহাস আছে এবং যাদের অ্যালার্জিজনিত হাঁপানি বা চর্মরোগ আছে, তাদের হাঁপানিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে এমন নয় যে, হাঁপানি বা পারিবারিক ইতিহাস ছাড়া কোনে শিশুর অ্যাজমা হবে না। বরং ইদানীং এ ধরনের শৈশবকালীন হাঁপানি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

শিশুদের হাঁপানি বা অ্যাজমা - চিকিৎসা

মূলত এই হাঁপানি সমস্যার জেনেটিক মেটেরিয়ালস শিশু জন্ম থেকেই নিয়ে আসে তাদের পূর্বপুরুষ থেকে। হোমিওপ্যাথিতে দুরারোগ্য রোগের কারণ হিসেবে True Disease বা প্রকৃত রোগকে দায়ী করা হয়ে থাকে সেগুলির মধ্যে হাঁপানি বা অ্যাজমা সমস্যার পেছনে মূলত অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দায়ী থাকে Tubercular Diathesis. এছাড়া রয়েছে Post Trauma Syndrome (PTS) And Post Rabies Syndrome (PRS). হোমিওপ্যাথি মূলত মানুষের ভেতরে থাকা True Disease বা প্রকৃত রোগটির চিকিৎসা দিয়ে থাকে। এর মাধ্যমে শিশুদের হাঁপানি বা অ্যাজমাসহ সকল রোগ-ব্যাধি নির্মূল হয়ে শিশু প্রকৃত সুস্বাস্থ্য লাভ করে থাকে।

তবে এর জন্য অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসক - শিশুর নিজের, তার পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানীর হিস্ট্রি নিবেন এবং তার মধ্যে থাকা প্রকৃত রোগটি নির্ণয় করে সেটিকে প্রচ্ছন্ন অবস্থায় নিয়ে আসার জন্য হোমিওপ্যাথির নির্দিষ্ট নিয়মনীতি অনুযায়ী ডাইনামিক হোমিও মেডিসিন প্রয়োগ করবেন এবং ধাপে ধাপে সামনে আগাবেন। ধৈর্য্য ধরে চিকিৎসা নিলে একসময় দেখবেন হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমার সমস্যা স্থায়ীভাবে নির্মূল হয়ে গেছে ইনশা-আল্লাহ।
বিস্তারিত

শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০

ডাউন সিনড্রোম Down Syndrome টাইপ বা প্রকার কারণ লক্ষণ জটিলতা ও নিরাময়ের উপায়

আজকে আমরা ডাউন সিনড্রোম অর্থাৎ একটি জন্মগত ত্রুটি বা জেনেটিক ডিজঅর্ডার এর টাইপ বা প্রকার কারণ লক্ষণ জটিলতা ও নিরাময়ের উপায় সম্পর্কে জানবো। Down Syndrome কে সংক্ষেপে DS or DNS বলা হয়। যা ট্রাইসোমি ২১ নামেও পরিচিত। এটি মূলত শিশুদের  জন্ম পূর্বকালীন অর্থাৎ প্রি-ন্যাটাল পিরিয়ডের অন্যতম একটি দুরারোগ্য জেনেটিক সমস্যা যেখানে ২১ নং ক্রোমোজোমে আরেকটি অতিরিক্ত ক্রোমোজোম বিদ্যমান থাকে। যেহেতু মায়ের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশু জন্ম নেয়ার ঝুঁকিও বাড়ে, তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানে অধিক বয়সে, বিশেষ করে পঁয়ত্রিশোর্ধ্ব বয়সে গর্ভধারণ করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়। এরকম সন্তান জন্মদানের সম্ভাবনা ২০ বছর বয়সী মায়েদের ক্ষেত্রে ০.১% এরও কম এবং ৪৫ বছর বয়সী মায়েদের ক্ষেত্রে তা ৩% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

ডাউন সিনড্রোম নিয়ে জন্ম নেয়া মানুষের ক্রোমোজোমের গঠন সাধারণ মানুষের ক্রোমোজমের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন হয়ে থাকে। ব্রিটিশ চিকিৎসক জন ল্যাংডন ডাউন সর্বপ্রথম ১৮৬৬ সালে এ সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদেরকে চিহ্নিত করেন বলে তার নামানুসারে একে ডাউন সিনড্রোম নামকরণ করা হয়।
ডাউন সিনড্রোম জন্মগত ত্রুটি বা জেনেটিক ডিজঅর্ডার
আপনারা হয়তো জানেন, মানবদেহের গঠনের একককে কোষ বা সেল বলা হয়ে থাকে। আর মানুষের বংশগতি, আচার আচরণ ইত্যাদি সবকিছু নির্ধারিত হয় কোষস্থ DNA এর মাধ্যমে। এ কারণে ডিএনএ-কে বলা হয় আমাদের বংশগতির ধারক ও বাহক। অর্থাৎ আমাদের শারীরিক ও মানসিক যাবতীয় বৈশিষ্ট্য, আচার-আচরণ, বুদ্ধিমত্তা, চেহারা, উচ্চতা, গায়ের রং সব বৈশিষ্ট্যই ডিএনএ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। অন্যদিকে মানব শরীরে ডিএনএ এর অসামঞ্জস্য দেখা দিলে নানারকম শারীরিক ও মানসিক ত্রুটি দেখা দেয়, যাদের আমরা সাধারণভাবে জন্মগত ত্রুটি বা জেনেটিক ডিজঅর্ডার বলে থাকি। ডাউন সিনড্রোম হলো সেরকমই একটি জেনেটিক ডিজঅর্ডার।

ডাউন সিনড্রোম - কিভাবে হয় 

কোষে অবস্থান করা কোটি কোটি ডিএনএ এর সমন্বয়ে একেকটি ক্রোমোজম তৈরি হয়। মানবদেহের প্রতিটি কোষের মধ্যে ২৩ জোড়া ক্রোমোজম নামের অঙ্গানু থাকে, যার অর্ধেক আসে শিশুর মায়ের কাছ থেকে আর বাকি অর্ধেক বাবার কাছ থেকে। ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত মানুষের শরীরের প্রতিটি কোষে ২১ নম্বর ক্রোমোজমটির সঙ্গে আংশিক বা পূর্ণভাবে আরেকটি ক্রোমোজম (ট্রাইসোমি ২১) যুক্ত থাকে। আক্রান্ত শিশুর পিতামাতা জেনেটিক ভাবে স্বাভাবিক থাকে। অতিরিক্ত ক্রোমোজোমের ঘটনা দৈবক্রমে ঘটে থাকে।
২১ নম্বর ক্রোমোজম তিনটি থাকে বলে ২১/৩ বা একুশে মার্চ বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবস হিসেবে পালিত হয়। 
মূলত এই অতিরিক্ত ক্রোমোজমের কারণেই ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশুদের বিশেষ কিছু শারীরিক ও মানসিক ত্রুটি লক্ষ্য করা যায়। চেহারার গঠনগত দিক বিবেচনায় বা আচার আচরণে অধিকাংশ ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তদের মাঝে মিল থাকার কারণে তাদেরকে সহজেই ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশু হিসেবে শনাক্ত করা যায়।

ডাউন সিনড্রোম - টাইপ বা প্রকার

  • ট্রাইসোমি ২১ (Trisomy 21) : এটা ডাউন সিনড্রোমের সব থেকে প্রচলিত ধরণ এবং ৯৫% ক্ষেত্রেই এটি দেখা যায়। যেখানে প্রতিটি কোষে ২১ নং ক্রোমোজোমে আরেকটি অতিরিক্ত ক্রোমোজোম বিদ্যমান থাকে।
  • মোসাইসিসম (Mosaicism) :  এটি মাত্র ১% ক্ষেত্রে দেখা যায়। এক্ষেত্রে সব কোষে না হলেও কয়েকটা কোষে অতিরিক্ত ক্রোমোজোম থাকে। ট্রাইসোমির কয়েকটা উপসর্গ এখানেও দেখা যায়।
  • ট্রান্সলোকেশান (Translocation) :  মূলত ৪% ক্ষেত্রে এটি দেখা যায়। এই ধরণের ডাউন সিনড্রোমে, শুধুমাত্র ২১ নং ক্রোমোজোমের অতিরিক্ত অংশ থাকে অর্থাৎ সর্বমোট ৪৬ টা ক্রোমোজোম থাকলেও এর মধ্যে একটার সাথে ক্রোমোজোম ২১ এর অতিরিক্ত অংশ যুক্ত থাকে।

ডাউন সিনড্রোম - কি কারণে হয় 

ইতিমধ্যে জেনেছেন ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত মানুষের শরীরের প্রতিটি কোষে ২১ নম্বর ক্রোমোজমটির সঙ্গে আংশিক বা পূর্ণভাবে আরেকটি ক্রোমোজম (ট্রাইসোমি ২১) যুক্ত থাকে। কিন্তু সমস্যা হলো, ২১তম ক্রমোজমের অসংগতির ফলে ডাউন সিনড্রোম দেখা দেয়, এটা জানা গেলেও ঠিক কোন কোন কারণে এ অসংগতি হতে পারে, এ সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা আজো নিশ্চিত হতে পারেননি। আর তাই এলোপ্যাথিক সিস্টেমে এর কোন সমাধান নেই।
ডাউন সিনড্রোম মূলত একটি জেনেটিক ডিসঅর্ডার। এই সকল জেনেটিক সমস্যা নিয়ে বহু আগে থেকেই হোমিওপ্যাথি কাজ করে আসছে এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়মনীতি বা সংবিধান যা বিশ্বের আর কোন চিকিৎসা শাস্ত্রের নেই। যেকোন দুরারোগ্য রোগের একটি উন্নত আর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা মানেই হোমিওপ্যাথি। শিশুদের এইসকল  জন্মগত ত্রুটি বা জেনেটিক ডিসঅর্ডার হওয়ার মুলে বিশেষ করে ডাউন সিনড্রোম এর ক্ষেত্রে যে ফ্যাক্টর বেশি কাজ করে তা হলো PRS - Post Rabies Syndrome এছাড়া  PTS অথবা Infectious Miasms - Sycosis & Syphilis Miasm And Tubercular Diathesis ...(Read More) ও এর পেছনে থাকতে পারে, যেগুলি মূলত অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকগণ কেইস টেকিং করার সময় উৎঘাটন করে রোগীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করে থাকেন। মনে রাখবেন, রিয়েল হোমিওপ্যাথি বর্তমান বিশ্বে শিশুদের জন্মগত ত্রুটি বা জেনেটিক ডিজঅর্ডার সংক্রান্ত সমস্যাগুলির একটি কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি।

ডাউন সিনড্রোম - প্রকট বৈশিষ্ট্য

  • মাংসপেশির শিথিলতা
  • আকারে ছোট মাথাসহ কম উচ্চতা
  • চোখের কোনা উপরের দিকে উঠানো বা ট্যারা দৃষ্টি
  • চ্যাপ্টা নাক
  • আকারে ছোট কান ও ঘাড়
  • হাতের তালুতে একটি মাত্র রেখা
  • জিহ্বা বের হয়ে থাকা 
  • অনিয়ন্ত্রিতভাবে লালা ক্ষরণ ইত্যাদি

ডাউন সিনড্রোম - অন্যান্য শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ বা জটিলতা

  • তাদের মাংসপেশী সাধারণ মানুষদের তুলনায় শিথিল হয়। অর্থাৎ সাধারণ একজন মানুষের পেশীতে যতটা শক্তি থাকে তা ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তির থাকে না।
  • অনেকের ক্ষেত্রে আবার বিপরীতটাও লক্ষ্য করা যায়। স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত শক্ত মাংসপেশী থাকে অনেকের যা তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমের জন্যে বাধার সৃষ্টি করে। 
  • কানে কম শোনা, কথা বলতে দেরি হওয়া, কম বুদ্ধি ইত্যাদি জটিলতা থাকে। 
  • কিছু ক্ষেত্রে আক্রান্তদের অল্প বয়সেই হৃদরোগের সমস্যা হয় আর কিছু ক্ষেত্রে বয়স বাড়লে হার্টের সমস্যা গুরুতর হয়ে ওঠে, কেউ কেউ পাকস্থলীর সমস্যায়ও আক্রান্ত হয়ে থাকে। 
  • কারো ক্ষেত্রে থাইরয়েডের ত্রুটি দেখা যায়। 
  • হার্টের ত্রুটি এবং থাইরয়েডের ত্রুটি থাকার কারণে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে।
  • টেস্টিকুলার ক্যান্সার ও লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
  • তাদের আইকিউ বা বুদ্ধিমত্তা অনেক কম হয় তবে ৩০ বছর বয়সের পর সমস্যা আরো বেড়ে যায়। 
  • অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্তরা কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলে। 
ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত একটি শিশু বয়সের সাথে সাথে আর দশজন স্বাভাবিক শিশুর মতো বুদ্ধিবৃত্তিক বা আচরণগত বিকাশ ঘটাতে পারে না। তাদের আবেগীয় বিকাশটি সঠিকভাবে হয়ে ওঠে না। ফলে আশেপাশের যেকোন কিছুর প্রতি তাদের অতিরিক্ত আবেগ প্রদর্শন বা একদমই আবেগীয় কোনো অনুভূতি দেখা যায় না। দেখা গেলো, খুব সাধারণ একটি শব্দে তারা ভয় পেয়ে চমকে ওঠে, কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। আবার অনেক সময় এরাই অনেক ভয়ের বিষয় বা অনুভূতি প্রকাশ করার মতো ঘটনাকে অগ্রাহ্য করে। অর্থাৎ, মানসিক বিকাশ বা জ্ঞানীয় বিকাশগত জায়গা থেকে ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্তদের বেশ কিছু সমস্যা দেখা যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত গুটিকয়েক শিশু অস্বাভাবিক আইকিউ সম্পন্ন হয়ে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এদের Exceptional Children বলা হয়।

ডাউন সিনড্রোম - নিরাময়ের উপায়

বর্তমান বিশ্বে এই সমস্যার একটি কার্যকর চিকিৎসা হল রিয়েল হোমিওপ্যাথি। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শাস্ত্র শিশুদের জীনগত ত্রুটি বা জন্মগত রোগের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করে থাকে। কারণ জেনেটিক ডিসঅর্ডার হওয়ার মুলে যে ফ্যাক্টর কাজ করে তা হলো PRS - Post Rabies Syndrome এছাড়াও Infectious Miasms - Sycosis & Syphilis Miasm And Tubercular Diathesis ও এর পেছনে থাকতে পারে। আর এই সকল সমস্যা সমাধানের কার্যকর উপায় রয়েছে হোমিওপ্যাথিক ট্রিটমেন্ট সিস্টেমে। তবে এর জন্য যথা সময়ে সমস্যাটি চিহ্নিত করে রিয়েল হোমিওপ্যাথিক থেরাপিউটিক সিস্টেমে দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ এবং ট্রিটমেন্ট নিলে আশানুরূপ ফলাফল পেতে পারেন।
বিস্তারিত

সোমবার, ১৮ মে, ২০২০

শিশুর জন্মগত ত্রুটি এবং জন্মের পর মারাত্মক রোগ ব্যাধির প্রকৃত কারণ (PRS, PTS) ও সমাধান

শিশুর জন্মগত ত্রুটি Congenital anomalies এবং জন্মের পর নানা প্রকার মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা বা রোগ ব্যাধির কারণ এবং সমাধানের কার্যকর উপায় সম্পর্কে আজ আমরা জানবো। সাধারণত শিশুদের - Down Syndrome, Cerebral palsy, Autism, Juvenile Diabetes mellitus, Gilbert Syndrome, Thalaseemia, Hemophilia, Huntington's Chorea, SLE (Systemic lupus erythrematosus), Psoriasis, Neurofibromatosis, Congenital Heart Diseases ইত্যাদি সমস্যায় ভুগতে দেখা যায়। এছাড়াও রয়েছে আরো বহু শারীরিক বা মানুষিক প্রতিবন্ধকতা জনিত লক্ষণ এবং উপসর্গ। শিশুরা মূলত তাদের পিতা মাতা বা পূর্বপুরুষদের থেকে এই সকল দুরারোগ্য রোগের জেনেটিক মেটেরিয়ালস পেয়ে থাকে।

হোমিওপ্যাথি ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য চিকিৎসা শাস্ত্রগুলি এই সমস্যার সম্পর্কে উপরি উপরি চিন্তা করে মূলতো সেগুলির পেছনের স্থানিক কিছু কারণ নির্ণয় করার চেষ্টা করে থাকে তবে বহু ক্ষেত্রে সেটাও নির্ণয়ে ব্যর্থ হয়ে সেগুলির সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারে না। বর্তমান বিশ্বে একমাত্র একটি চিকিৎসা শাস্ত্রই এই সমস্যাগুলির প্রকৃত কারণগুলি নিয়ে বহু কাল ব্যাপী গবেষণা করে সমাধানের কার্যকর উপায় উদ্ভাবন করেছে আর তা হলো হোমিওপ্যাথি। আজ মূলত আমরা শিশুদের জন্মগত বা জন্মের পর মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যাগুলির পেছনের প্রকৃত কারণ কি হতে পারে সেগুলি নিয়েই আলোকপাত করবো। প্রধানত দুটি ফ্যাক্টর এই সমস্যাগুলির  পেছনে কাজ করে -
  • PRS - Post Rabies Syndrome
  • PTS - Post Trauma Syndrome
এছাড়া এর পেছনে দায়ী থাকে Morbific Noxious Agent - Psora or Psoric Miasm এবং Infectious Miasms - Sycosis & Syphilis Miasm And Tubercular Diathesis...(Read More). তবে আমরা আজ মূলত শিশুদের ক্ষেত্রে প্রকট PRS এবং PTS নিয়েই আলোচনা করবো যেগুলি হোমিওপ্যাথির নব্য আবিষ্কৃত রত্ন যা চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডাঃ শ্যামল কুমার দাস কর্তৃক বহু বছরের গবেষণা লব্ধ বাস্তব এবং জীবন্ত ফলাফল।
শিশুর জন্মগত এবং জন্মের পর মারাত্মক রোগ ব্যাধির প্রকৃত কারণ ও সমাধান

Post Rabies Syndrome (PRS)

প্রথমেই আসুন পোস্ট রেবিস সিন্ড্রম সম্পর্কে আলোকপাত করা যাক। যেকোন Animal Bite (Dogs, Cats, Bates, Snakes etc) এবং ঐ Bite এর কারণে চিকিৎসায় ব্যবহৃত Vaccine বা টিকা জনিত সমস্যা, পরবর্তী সময়ে এবং পরবর্তী প্রজন্মগুলিতে যেসকল জটিল পরিস্থিতি তথা বিভিন্ন অস্বাভাবিক এবং ভয়ঙ্কর সমস্যার সৃষ্টি হয়, সেগুলিকে একত্রে Post Rabies Syndrome (PRS) আখ্যা দেয়া হয়েছে।
  • এই বিষে বিষাক্ত Zygote থেকে সৃষ্ট শিশু, কখনো কখনো মাকে গর্ভাবস্থায় ভীষণ কষ্ট দেয় অর্থাৎ গর্ভাবস্থায় মা ভীষণ কষ্ট ভোগ করেন যদিও সব ক্ষেত্রে এমনটি হয় না।
  • এই বিষাক্ত Zygote থেকে সৃষ্ট শিশু মারাত্মক দৈহিক ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেয়, অবস্থা এমন ভয়ঙ্কর থাকে যে জন্ম নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে NICU তে ভর্তি করতে হয়, কাউকে আবার তক্ষনি অপারেশন করতে হয়, যেমন CDH - Congenital Diaphragmatic Hernia, শিশু জন্ম নিয়েছে কিন্তু মলদ্বার হয়নি ইত্যাদি।
  • শিশু জন্ম নেয়ার আগের মুহূর্তে মায়ের পানি ভেঙে গিয়ে এমন ভযঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল যে শিশুটিকে তক্ষনি পেট কেটে (Cesarean Section) না করলে মারা যেত।
  • শিশুটি মায়ের পেট থেকে বেরিয়ে এসেছিলো নীলবর্ণ, মৃতপ্রায় অবস্থায়, বাঁচবার কোন আশাই ছিল না।
  • এর আগে দুটি শিশু যথাক্রমে তিন মাসে এবং পাঁচ মাসে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক চিকিৎসার পর এই শিশুটি মৃতপ্রায় হয়ে জন্মেছে।
  • আবার এমন বিষাক্ত Zygote থেকে সৃষ্ট শিশু জন্ম নিয়েছে দুরারোগ্য Genetic Disease নিয়ে যেমনঃ Down Syndrome, Cerebral palsy, Autism, Juvenile Diabetes mellitus, Gilbert Syndrome, Thalaseemia, Hemophilia, Huntington's Chorea, SLE (Systemic lupus erythrematosus), Psoriasis, Neurofibromatosis, Congenital Heart Diseases etc.
  • কখনো এমন বিষাক্ত Zygote থেকে সৃষ্ট শিশু Pancreas এর তীব্র সমস্যা নিয়ে জন্মায়। এই সমস্যা পরবর্তী সময়ে Acute pancreatitis, Chronic pancreatitis, Pancreatic carcinoma ইত্যাদি রূপে প্রকাশ পায়।
  • Post Rabies Syndrome (PRS) প্রকট, এমন শিশুরা মায়ের গর্ভে অবস্থান কালে মাকে ভীষণ কষ্ট দেয়, Neonatal period এও মাকে ভীষণ কষ্ট দেয় যেমনঃ দিবারাত্র ভীষণ কান্না, যার জন্য মায়ের খাওয়া-ঘুম থাকে না, আবার হঠাৎ হঠাৎ এমন ভয়ংকর অসুস্থ হয়ে যায় যে চিকিৎসকের নির্দেশে তক্ষনি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এই সকল শিশু অপ্রতুল Vital Force নিয়ে জন্মায় যার কারণে তাদের Immune System খুব দুর্বল থাকে ফলে এরা খুব সহজেই বিভিন্ন Infectious disease (Severe Pneumonia, Bronchitis, Typhoid, Gastroenteritis, Cold, Cough, Fever, Measles, Mumps, Pox, Tonsillitis, Cholera, Malaria etc) এ আক্রান্ত হয় এবং প্রত্যেকটি Infectious disease ই দ্রুত ভয়ঙ্কর রূপ নেয়।
  • আবার এমনও হতে পারে যে জন্মের সময় একটু সমস্যা ছিল বা ছিল না কিন্তু কিছু দিন পর ক্যান্সার বা ক্যান্সারের মতো ভয়ঙ্কর রোগ শুরু হলো।
এছাড়া সারাটা জীবন একটা না একটা সমস্যা লেগেই থাকে, সুস্থতার আনন্দ সৃষ্টিকর্তা তাদের জন্য মঞ্জর করেননি। এদের বয়স যত বাড়তে থাকে এদের রোগের জটিলতাও বাড়তে থাকে, কারণ PRS প্রকট এমন শিশু বা মানুষেরা যখন কোন দৈহিক বা মানুষিক সমস্যার চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন Therapeutic System এর চিকিৎসকের কাছে যান, তারা Symptomatic বা উপরি উপরি চিন্তা করে লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা দিয়ে তাৎক্ষণিক আরাম দিয়ে পেসেন্টকে সন্তুষ্ট করেন কিন্তু যে কারণে ঐ কষ্টকর লক্ষণগুলির সৃষ্টি, সেটির কোন প্রতিকার করা হয় না বলে মূল সমস্যা জটিল থেকে জটিলতর এবং সবশেষে জটিলতম অবস্থায় পৌঁছায়। তখন চিকিৎসকরা বলেন - "বয়স হয়েছে, আমরাও যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ভালোমন্দ খেতে দিন।"
এছাড়া Post Rabies Syndrome (PRS) প্রকট নিয়ে জন্মানো শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন অস্বাভাবিকতা দেখা যায় যেমন -
  • ভয়ঙ্কর দৈহিক পরিস্থিতি নিয়ে শিশুটি ভুমিষ্ঠ হয়েছে
  • জন্মাবার পর দীর্ঘক্ষণ কান্না করেনি, এমনকি অনেক চেষ্টার পরও
  • দীর্ঘক্ষণ পায়খানা প্রস্রাব করেনি
  • স্তনপান করেনি বরং বলা ভালো স্তনপান করবার শক্তিটুকু ছিল না
  • মস্তিষ্কে বা অন্য কোন অঙ্গে বড় টিউমার নিয়ে জন্মেছে
  • অসামঞ্জস্য দৈহিক গড়ন
  • শিশুটি ভূমিষ্ঠ হয়েছে দাঁত, চুল, দাঁড়ি, গোঁফ ইত্যাদি নিয়ে
  • জন্ম সময়ে শিশুটির মলদ্বার ছিল না
  • শিশুটি জন্মেছে মাথাটি অস্বাভাবিক বড় 
  • এমন বিপদজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে EDD [Expected date of delivery] এর ১ থেকে ২ মাস পূর্বেই গর্ভের শিশুকে বের করে নিতে হয় (Cesarean Section) অন্যথায় শিশুটির জীবন সংশয় দেখা দিতে পারে
  • শিশুটি জন্ম নেয়ার পর থেকে বা ১-২ দিন পর থেকে দিবারাত্র অবিরাম কান্না দীর্ঘদিন ধরে, কোন কিছুতেই কান্না বন্ধ হতো না, বেদনানাশক বা অচেতন করার ঔষধ না দিলে 
এছাড়া আরো যে যে কারণে Post Rabies Syndrome (PRS) সদৃশ পরিস্থিতি তৈরী হয় -
  • শিশুটি গর্ভে আসার আগে বাবা অথবা মা খুব কঠিন রোগের জন্য প্রচুর ঔষধ খেয়েছিলেন 
  • শিশুটি জন্মগ্রহণ করার পর বাবা অথবা মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়েছে
  • এই শিশুটি গর্ভে আসার পূর্বে পরপর তিনবার বিভিন্ন সময়ে বা মাসে Spontaneous Abortion হয়েছে বলে প্রচুর ঔষধ খাওয়ার পর এই শিশুটি জন্মেছে
  • গর্ভের শিশুটিকে অনাকাঙ্খিত মনে করে বিভিন্ন ঔষধ খেয়ে Induced Abortion করার চেষ্টা হয়েছিল কিন্তু গর্ভপাত হয়নি 
  • পাঁচ বছর আগে বিয়ে হলেও কোন সন্তান হয়নি বলে প্রচুর ঔষধ খেয়ে এই শিশুটি জন্মেছে
  • বিষধর সাপের দংশন এবং দংশনজনিত চিকিৎসার পর বিভিন্ন জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে
  • মায়ের ছোট বেলা অর্থাৎ প্রথম মাসিকের আগে থেকেই সাদা স্রাবের সমস্যা ছিল 
  • মায়ের প্রথম মাসিকে প্রচন্ড ব্যথা (Dysmenorrhoea) ছিল।

Post Trauma Syndrome (PTS)

Trauma: 
  • Mental Shock
  • Physical illness
A very difficult or unpleasant experience that causes someone to have mental or emotional problems usually for a long time.

Medical: 
  • A serious injury to a person's body.
  • An injury (such as wound) to living tissue caused by extrinsic agent.
  • A disordered psychic or behavioral state resulting from severe mental or emotional stress or physical injury.
  • An agent, force or mechanism that causes trauma.
Here "Trauma" means effect of different ailments and different medicines used for the treatment for long time on the individual and "Post Trauma Syndrome" means complications after multiple treatment by which disappearance of primary manifestations of the ailments through unscientific way.
শিশুরা PTS পেয়ে থাকে বংশগতির মাধ্যমে, গর্ভে অবস্থান কালে এবং জন্ম নেয়ার পর থেকে 
  • বংশগতির মাধ্যমে : শিশুটি গর্ভে আসার অনেক আগে থেকে হুবু  বাবা-মা অথবা যেকোন একজনের বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসা চলছিল
  • গর্ভে অবস্থান কালে : মায়ের বিভিন্ন সমস্যার জন্য বিভিন্ন বা একটি বা দুটি ঔষধ লাগাতার খেতে হয়েছে
  • জন্ম নেয়ার পর : ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে ভয়ংকর না হলেও পেটের দোষ, ঠান্ডার দোষ  ইত্যাদির জন্য লাগাতার অথবা প্রায় প্রতিদিন ঔষধ খাওয়ার ফলে PTS উৎপন্ন হয়। 

শিশুর জন্মগত এবং জন্মের পর মারাত্মক রোগ ব্যাধির চিকিৎসা

শিশুদের এই সকল রোগের সর্বাধিক কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করছে হোমিওপ্যাথি। পৃথিবীতে হোমিওপ্যাথি ছাড়া অন্য সকল চিকিৎসা শাস্ত্র উপরি উপরি চিন্তা করে চিকিৎসা কার্য্য সম্পাদন করে থাকে যার কারণে মূল থেকে রোগ নির্মূলে ব্যর্থ হয় তারা। তাছাড়া হোমিওপ্যাথি ছাড়া অন্যান্য চিকিৎসা শাস্ত্রে বহু দুরারোগ্য বা ক্রনিক রোগের চিকিৎসাই নেই। একমাত্র হোমিওপ্যাথি রোগের বাস্তব কারণ অনুসন্ধান করে মূল থেকে যেকোন দুরারোগ্য রোগ নির্মূলের চিকিৎসা দিয়ে থাকে। আর এই কারণেই শিশুর জন্মগত এবং জন্মের পর মারাত্মক রোগ ব্যাধির সবচেয়ে কার্যকর এবং সুচিকিৎসা নিশ্চিত করছে হোমিওপ্যাথি। তবে এর জন্য অবশ্যই এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরী।
বিস্তারিত