Showing posts with label পরিপাকতন্ত্রের রোগ. Show all posts
Showing posts with label পরিপাকতন্ত্রের রোগ. Show all posts

Sunday, March 29, 2020

দুরারোগ্য স্বাস্থ্য সমস্যা আইবিএস "IBS" স্থায়ী ভাবে নির্মূলে হোমিওপ্যাথি (প্রামাণ্য কেইস)

হোমিওতে আইবিএস "IBS" স্থায়ী ভাবে নির্মূল হয়। বর্তমান বিশ্বে আইবিএস "IBS - Irritable bowel syndrome" দুরারোগ্য সমস্যা গুলির একটি। আইবিএস এর মূলত কোন এলোপ্যাথিক স্থায়ী চিকিৎসা নেই। ইতিপূর্বে আমার চিকিৎসায় ক্লাসিক্যাল এবং রিয়েল হোমিওপ্যাথি অনুসরণ করেই বহু রোগীর আইবিএস "IBS" নির্মূল হয়েছে। তাদের মধ্যে যারা ভিডিওতে আসতে চায় তাদের নিয়ে আমি প্রামাণ্য ভিডিও তৈরী করি কিন্তু খুব কম সংখ্যক রোগীই ভিডিওতে আসতে চায়। ইতিপূর্বে মামুন সাহেবের ভিডিওটি দিয়েছিলাম যিনি দীর্ঘ ১৫ বছর আইবিএস "IBS" সমস্যায় ভুগছিলেন এবং ঢাকা, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরে ডাক্তার দেখিয়েছেন। তিনি প্রায় ৮ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন এই সমস্যার চিকিৎসা নিতে গিয়ে। আজ তারই কেইস... বিস্তারিত থাকছে.....
নাম : মামুনুর রশিদ (৪৭)
পেশা : ব্যবসা (ব্যায়ামবিদ)
বিয়ে : ২২ বছর
----
---
------------------------------------
- প্রচন্ড ক্ষুধা এবং পেটে জ্বালা
-খওয়ার পরই টয়লেটের চাপ
-পাতলা পায়খানা
-আমাশয়, আলসার
- কোন দুঃসংবাদ শুনলেই পেটের পীড়া বেড়ে যায়
-পাইলস
-পায়খানার সাথে রক্ত
-রক্তচাপের সমস্যা - ঔষধ খেতে হয়
- অনিদ্রা - ঔষধ খেতে হয়
- বুকে কফ জমে থাকে
-------------------------------------
- ১৬ বছর পূর্বে একবার হলে সিনেমা দেখতে গিয়ে কয়েক জন লোক জোর করে কি যেন খাইয়ে অজ্ঞান করে দেয়, তারপর থেকে সমস্যার শুরু ...
- এরপর থেকে টানা বহু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখিয়ে ঔষধ সেবন চলেছে ১৫ বছর যাবৎ
-------------------------------------
Thirst: Extreme
Tongue: Ulcerated left side and edge black color
Saliva: NAD
Appetite: Ravenous
Desire: Cold, Bitter, Egg, Milk
Agg: Milk (Diarrhoea)
Perspiration: NAD
Stool: Soft, sometimes thin, Mucous profuse, Eating after agg, Flatus during
Urine: NAD
Genitalia: Impotence
-------------------------------------
- ছোটবেলা থেকেই ঠান্ডায় ভুগছেন
-৬ বছর বয়সে Rectal Prolapse হয়েছিল, আমাশয় আর পাতলা পায়খানা হতো
-ইতিপূর্বে টনসিলের অপারেশন করিয়েছেন
-ঠান্ডায় গলাব্যথা, হাঁচি,
- এলার্জি
- জন্ডিসে ভুগেছেন
-কুকুরের কামড়ের ভেক্সিন নিয়েছেন
----------------------------------
- মিশুক মানুষ, প্রাণ খোলা, সবার সাথেই দিল খুলে মিশে
- কারো দুঃখ সহ্য করতে পারেন না, দুঃখীদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন, যেকেউ সাহায্য চাইলে এগিয়ে আসেন। মানবতার সেবায় নিবেদিত প্রাণ।
- ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন
- বন্ধবান্ধব অনেক - ছোট বেলা থেকেই
---------------------------------
  • Father: CVA
  • Mother: DM, Kidney problem, Stomach Disorder
  • GF: N/A
  • GM: N/A
  • GF (M): N/A
  • GM (M): N/A
First Prescription: CV 0/2 then CV 0/3 (For PTS) and then..
Second Prescription: Bacillinum 0/3 (For TD)
Bacillinum 0/3 - (Improvement) চললো ৪ মাস প্রায় বাকিটা ভিডিওতে....
শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই হোমিওপ্যাথি সম্পর্কে তেমন ভালো জ্ঞান রাখেন না। অনেকেই হোমিওপ্যাথিকে এলোপ্যাথির মতো মনে করেন এবং রোগের নাম দিয়ে ঔষধ খেতে চান। হোমিওতে একটি ঔষধ প্রয়োগ করতে হলে আপনার নিজের জীবনদর্শন, আপনার পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানীর তথ্যাদির প্রয়োজন হয় যখন আপনি দুরারোগ্য কোন স্বাস্থ সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন। আপনার আরোগ্যের জন্য একটি ঔষধ বের করতে চিকিৎসককেও অনেক যত্নবান হতে হয় এবং বেশ মাথা খাটাতে হয়। উক্ত ব্যক্তি যে ঔষধে সেরেছেন আপনি ভাববেন না অন্যরাও ঠিক একই ঔষধে সেরে যাবেন। বরং অন্যরা এই ঔষধ গ্রহণে উল্টো রোগ জটিলতা আরো বাড়তে পারে। আপনার জন্য যে ঔষধ প্রয়োজন সেটা একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকই আপনাকে সিলেক্ট করে দিতে পারেন। ওহ হে, এখানেই শেষ নয় ! ঔষধটি কখন কোন মাত্রায় আপনার শরীরে কিভাবে প্রয়োগ করতে হবে সেটাও অনেক বড় একটি ফ্যাক্টর। ভাববেন না - ঔষধ বাজার থেকে কিনে আনলাম, খেলাম আর রোগ ভালো হয়ে গেলো। জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে স্থায়ী ভাবে মুক্তি পেতে আপনার চিকিৎসককে অবশ্যই প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী দিয়ে সাহায্য করতে হবে।

হোমিওতে নির্দিষ্ট রোগের কোন নির্দিষ্ট ঔষধ নেই। আপনি যদি হোমিও চিকিৎসা নিতে চান তাহলে আগেই আপনাকে একজন ক্লাসিক্যাল হোমিও চিকিৎসক খুঁজে বের করতে হবে। তারপর যাবতীয় তথ্যাদি দিয়ে যদি চিকিৎসককে সাহায্য করতে পারেন তাহলে পা থেকে মাথা পর্যন্ত সব সমস্যাই দূর হয়ে দেহ আবার নীরোগ হয়ে উঠবে হোমিও চিকিৎসায়। আপনি কি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এখানে সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। মামুন সাহেবের কেইসটি দেখুন - উনি কতগুলি রোগে আক্রান্ত ছিলেন। অথচ উনার নির্দিষ্ট কোনো রোগের ট্রিটমেন্ট করা হয়নি । মূলত উনার হিস্ট্রি নিয়ে ঔষধ প্রয়োগকরা হয়েছে । তার শরীরে সব সমস্যাই চলে গেছে। উনার পাইলস নেই, প্রেসারের সমস্যা নেই, অনিদ্রা নেই সাথে IBS এর সমস্যাও চলে গেছে। এটাই হলো হোমিওপ্যাথি, যার মাধ্যমে শরীরকে আবার নীরোগ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়। ধন্যবাদ।
বিস্তারিত

Monday, February 24, 2020

আইবিএস IBS স্থায়ী ভাবে নির্মূলের কার্যকর চিকিৎসা টেকনিক

আব্দুর রহিম হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর থেকে আসেন আইবিএস IBS - Irritable Bowel Syndrome এর চিকিৎসা নিতে ২১ এপ্রিল ২০১৯ সালে। বয়স ২২ বছর। দীর্ঘ ৮/৯ বছর  বছর যাবৎ পেটের পীড়া আইবিএস সমস্যায় ভুগছেন। একটি অস্বস্থিকর জীবন যাপন করে আসছেন। বহু ডাক্তার দেখিয়ে আর বহু চিকিৎসা নিয়েও ফল হচ্ছে না।

যে যে লক্ষণগুলির কথা বলেছিলেন

  • পেট ফুলে থাকে 
  • টক ঝাল ঢেকুর আসে 
  • নিচ পেটে ভুটভাট শব্দ হতে থাকে 
  • পেটের অস্বস্থি যেন তার নিত্য সঙ্গী 
  • বমি বমি ভাব লেগে থাকে সব সময় 
  • গাড়িতে এবং লঞ্চে চড়তে পারে না 
  • কখনো আমাশয়ে ভুগেন 
  • আবার কখনো কোষ্ঠবদ্ধতায় ভুগেন 
  • টয়লেট কখনো পরিষ্কার হয় না 

চিকিৎসার সময় কাল

  • চিকিৎসা শুরু : ২১ই এপ্রিল ২০১৯
  • সমস্যার  সমাপ্তি: ১৮ই  অক্টবর ২০১৯
  • অবজারভেশন : নভেম্বর, ডিসেম্বর ২০১৯
  • চিকিৎসা সমাপ্তি: ডিসেম্বর ২০১৯
এখন পর্যন্ত তার আইবিএস IBS এর সমস্যা নিয়ে আর কোন অভিযোগ নেই। আল-হামদুল্লিয়াহ।
বিস্তারিত ভিডিওতে দেখুন......

যারা আইবিএস IBS এ ভুগছেন

আইবিএস সমস্যা নির্মূলের একমাত্র উন্নত চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। যারা আইবিএস IBS এ ভুগছেন তারা হয়তো ভাবছেন হোমিওপ্যাথিক ঔষধ টানা কয়েক মাস খেয়ে গেলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন। না, মোটেও না ! এটি একটি জটিল চিকিৎসা টেকনিক। আপনি যদি এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের তথ্যাবধানে চিকিৎসা না নেন তাহলে আপনার আইবিএস থেকে মুক্তি লাভ হয়তো স্বপ্নই থেকে যাবে।

কিন্তু কেন ? কারণ, আইবিএস নির্মূল করতে হয় মূলত হোমিওপ্যাথির ক্লাসিক্যাল টেকনিক ফলো করে এবং এক্ষেত্রে রিয়েল হোমিওপ্যাথি টেকনিক হলো সর্বোত্তম । আপনি এই চিকিৎসা হয়তো বহু ক্ষেত্রেই পাবেন না।
অনেকেই আপনাকে ৪ মাস, ৬ মাস, ৮ মাসের গদবাধা কিছু হোমিও ঔষধ দিয়ে একটা কোর্স ধরিয়ে আপনার কাছে ঔষধ বিক্রি করে যাবে আর আপনিও হয়তো নিজের অজ্ঞতার কারণে অযথাই ঐসব ঔষধ খেয়ে খেয়ে যাবেন। তাছাড়া কিছু কিছু হোমিও ঔষধ বিক্রেতা ডাক্তার রয়েছে যারা আপনাকে বলবে তাদের এখানে ২ বছর ঔষধ খেলে আপনি পার্মানেন্টলি কিউর হয়ে যাবেন। এই ধরণের কোন কথাই কোন হোমিও চিকিৎসক আপনাকে বলবে না। কারণ এভাবে আইবিএস আদৌ নির্মূল হয় না, একটু আরাম দিবে মাত্র। এটি মূলত করে থাকে হোমিওপ্যাথির ঔষধ ব্যবসায়ীরা। কারণ কয়েক মাসও যদি তারা রোগীদের কাছে ঔষধ বিক্রি করতে পারে তাহলে তারা লাভবান হয় (ঠিক এলোপ্যাথিক চিকিৎসার মত) আর যখন রোগী বুঝতে পারে তার তেমন কোন উপকার হচ্ছে না সাময়িক একটু উপশম ছাড়া তখন তারা আবার অন্যত্র চলে যায়। 
অভিজ্ঞ কোন হোমিও চিকিৎসক এই কাজটি কখনই করেন না। যারা এ বিষয়ে সতর্ক নয় অথবা বিষয়টি সম্পর্কে অজ্ঞ তারা পরিনামে অনেক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ পর্যন্ত আইবিএস IBS এর চিকিৎসা দিতে গিয়ে কেইস টেকিং এর সময় এই রকম গল্পই শুনে আসছি বহু ক্ষেত্রে। 

ভাল হোমিও চিকিৎসক বুঝবেন কিভাবে ?

ভালো একজন হোমিও চিকিৎসক আপনাকে নির্দিষ্ট সময় পর পর ঔষধ প্রয়োগ করে করে আপনাকে ইম্প্রোভমেন্টে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন এবং এক সময় আপনিও মামুন সাহেব, সোহান, রাসেল, শাওন বা আব্দুর রহিমদের মত সুস্থ হয়ে যাবেন।

আগেই বলেছি, আইবিএস IBS স্থায়ী ভাবে নির্মূলের কার্যকর চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথির ক্লাসিক্যাল টেকনিক অর্থাৎ ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথি অথাৎ রিয়েল হোমিওপ্যাথি। যারা বলে এই সমস্যা নির্মূল হয় না তারা মূলত নিজেদের অজ্ঞতা বা মূর্খতা বশতঃ এই ধরণের কথা বলে থাকেন, অথবা নিজের নামের পেছনে উচ্চ উচ্চ ডিগ্রী লাগালেও বাস্তব ক্ষেত্রে অর্থাৎ ডাক্তারি করে রোগ সারাবার ক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতা বহুগুন্ কম। মনে রাখা ভালো, একজন চিকিৎসকের যোগ্যতা প্রকাশ পায় রোগীর রোগ সারানোর দক্ষতার উপর নিজের নামের পেছনে উঁচু উঁচু ডিগ্রী লাগানোর মধ্যে নয়। যে চিকিৎসক যত বেশি ক্রনিক রোগ সারাতে দক্ষ তিনিই তত ভাল চিকিৎসক। তিনি হোমিওপ্যাথি, এলোপ্যাথি, আয়ুর্বেদ বা যে ঔষধই প্রয়োগে এক্সপার্ট হোন বা কেন।

জেনে রাখা ভালো, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সম্পর্কে আমাদের শিক্ষিত সমাজের ৮০% এরই সঠিক এবং প্রকৃত কোন জ্ঞান নেই। অনেকেই আবার এলোপ্যাথির সাথে হোমিওপ্যাথিকে গুলিয়ে ফেলেন। মনে রাখতে হবে দুটিই আলাদা চিকিৎসা পদ্ধতি। বহু দুরারোগ্য রোগ রয়েছে যেগুলির এলোপ্যাথিক চিকিৎসাই নেই অথচ সেগুলি হোমিও চিকিৎসায় ঠিক হয়ে যাচ্ছে। তাই যেকোন চিকিৎসা নেয়ার পূর্বেই আপনাকে জানতে হবে কোন চিকিৎসা পদ্ধতিতে কোন রোগের স্থায়ী চিকিৎসা রয়েছে। ধন্যবাদ।
বিস্তারিত

Sunday, May 5, 2019

কেন আপনার IBS ভালো হচ্ছে না? Irritable Bowel Syndrome আইবিএস থেকে মুক্তির উপায়

আইবিএস Irritable bowel syndrome (IBS) সমস্যায় ভয়ের কিছু নেই। এটি যদিও অন্ত্রের রোগ তবে এই সমস্যাটি আপনার সার্বদৈহিক অবস্থার পরিবর্তন নিয়ে আসে। অর্থাৎ আপনি দেখে থাকবেন যখনই আপনি অসুস্থ হন তখন আপনার শরীরে নানা প্রকার পরিবর্তন সংগঠিত হয়। আপনার পিপাসা, জিহ্বা, লালা, ক্ষুধা, খাদ্য, পেটের গ্যাস, মল, মূত্র, ঘুম, সপ্ন, ঘাম, মন-মানুষিকতা ইত্যাদির কোন না কোন দিকে পরিবর্তন হচ্ছে। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা মূলত রোগীর যাবতীয় শারীরিক, মানুষিক পরিবর্তনের লক্ষণ নিয়ে করা হয়ে থাকে।
আপনার শরীরে যে প্রকার রোগই সৃষ্টি হোক না কেন সেই পরিবর্তনগুলিকে বিবেচনায় এনে চিকিৎসা করা হলে শরীরে আক্রান্ত রোগ নির্মূল হয়ে শরীর যন্ত্র আবার বিশৃখল অবস্থা থেকে সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরে আসে। আইবিএস এবং যাবতীয় জটিল রোগের  চিকিৎসার ক্ষেত্রেও হোমিওপ্যাথি সেটিই করে থাকে। তবে এর জন্য দরকার একজন উন্নত জ্ঞানধারী হোমিও চিকিৎসক।

এলোপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় মূলত রোগের কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। অথচ বহু ক্ষেত্রে রোগের পেছনের প্রকৃত কারণ ঠিকঠাক ভাবে নির্ণয় করা যায় না বিধায় বহু ক্রনিক রোগই এলোপ্যাথিক চিকিৎসায় নির্মূল হয় না। অথচ হোমিওপ্যাথি সেখানে শত বছর যাবৎ সফলতা দেখিয়ে আসছে। আইবিএস (IBS) মূলতো হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানেই নির্দোষ ভাবে আরোগ্য করা সম্ভব হচ্ছে। কারণ এর পেছনের কারণ কি সেটা হোমিওপ্যাথির জানার কোন প্রয়োজন নেই। এই রোগটি হলে মানব শরীরে কি কি পরিবর্তন সংগঠিত হয় মূলত সেটাই বিবেচ্য বিষয় যা হোমিওপ্যাথি ছাড়া আর কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি করতে পারে না। এই সবগুলি পরিবর্তন বিবেচনায় এনে একটি উন্নত হোমিও চিকিৎসা দিলে বেশ ভালো ফলাফল আশা করা যায়।
আইবিএস Irritable bowel syndrome (IBS) চিকিৎসার ক্ষেত্রে ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথি নির্দোষ আরোগ্য নিয়ে আসে তবে ক্ষেত্র বিশেষে কমপ্লেক্স হোমিওপ্যাথিও বেশ ভাল ফলাফল দিয়ে থাকে। মনে রাখা জরুরী, IBS এবং অন্য যেকোন প্রকার ক্রনিক রোগের চিকিৎসায় অবশ্যই এক্সপার্ট হোমিও চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। 
বিস্তারিত

লিভার সিরোসিস (Liver Cirrhosis) রোগ কি? কারণ লক্ষণ প্রতিকার

লিভার সিরোসিস মানুষের যকৃতের দীর্ঘস্থায়ী রোগের ফল যা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত থেকে সৃষ্টি হতে পারে এবং মারাত্মক পর্যায়ের সিরোসিসে লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে মানুষের মৃত্যু ডেকে আনতে পারে। সিরোসিসের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এতে যকৃতের সুস্থ-সবল কলা (tissue) ক্ষয়যুক্ত কলা বা নডিউল (nodule) দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়ে যায় ফলে লিভার আর কাজ করতে পারে না।

সিরোসিসের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে লিভারের দীর্ঘস্থায়ী রোগ এবং লিভারে সংক্রমণ ছাড়াও দীর্ঘদিন যাবৎ অতিরিক্ত মদ্যপান, হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, ফ্যাটি লিভার রোগ ইত্যাদি। তবে সিরোসিসের প্রধান কারণ দেশ অনুযায়ী ভিন্ন হয়। যেমন ইউরোপ এবং আমেরিকায় সিরোসিস হয় প্রধানতঃ মদ্যপানের ফলে আর হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের আক্রমেন। পক্ষান্তরে বাংলাদেশে প্রধানতঃ হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের আক্রমণ আর ফ্যাটি লিভার লিভার সিরোসিসের পেছনে দায়ী (প্রায় আড়াই হাজার রোগীর উপরে জরীপ চালিয়ে দেখা গেছে। এছাড়াও অজানা কারণে লিভার সিরোসিস হতে পারে।
লিভার সিরোসিসের প্রাথমিক লক্ষণ ধরা পড়তে দেরি হয়। হঠাৎ রক্তে লিভার এনজাইমের অস্বাভাবিকতা বা আলট্রাসনোগ্রাফিতে যকৃতের আকার-আকৃতির পরিবর্তনের কারণ খুঁজতে গিয়ে লক্ষণ ধরা পড়ে। সাধারণত খাদ্যে অরুচি, ওজন হ্রাস, বমি ভাব বা বমি, বমি বা মলের সঙ্গে রক্তপাত, শরীরে পানি আসা ইত্যাদি হলো মূল উপসর্গ। পরে যকৃতের অকার্যকারিতার সঙ্গে কিডনির অকার্যকারিতা, রক্তবমি, রক্তে আমিষ ও লবণের অসামঞ্জস্য ইত্যাদি জটিলতা।

লিভার সিরোসিস (Liver Cirrhosis) এর উন্নত হোমিও চিকিৎসা রয়েছে। শুরু থেকেই যদি অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ট্রিটমেন্ট স্টার্ট করা যায় তাহলে বেশ ভালো ফলাফল আশা করা যায়। 
বিস্তারিত

Wednesday, April 10, 2019

পেপটিক আলসার(Peptic Ulcer) গ্যাস্ট্রিক আলসার !! কারণ, উপসর্গ ও প্রতিকার

পেপটিক আলসার (Peptic Ulcer) বা গ্যাস্ট্রিক আলসার। খাদ্যনালীর নিম্নাংশ, পাকস্থলী, ডিউডেনামসহ অন্ত্রের ৫টি বিভিন্ন স্থানের যেকোন একটিতে ঘা বা ক্ষত তৈরী হলে আমরা মূলত এটিকে পেপটিক আলসার বলে থাকি। আমাদের পেট খালি থাকলে পেটের উপরিভাগে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হওয়া হল এর একেবারে সাধারণ লক্ষণ। এছাড়াও আরো লক্ষণ এবং উপসর্গ থাকতে পারে।
  • সাধারণত পেটের উপরি ভাগের মাঝখানে বক্ষ পিঞ্জরের ঠিক নিচে পেটিক আলসারের ব্যথা অনুভব হয়। তবে কখনো কখনো ব্যথাটা পেছনের দিকেও যেতে পারে।
  • এ জাতীয় রোগী ক্ষুধার্ত হলেই প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে এবং খাবার খেলে সাথে সাথে ব্যথা কমে যায়।
  • অনেক সময় রাতের বেলা পেটে ব্যথার কারণে রোগী ঘুম থেকে জেগে উঠে কিছু খেলে ব্যথা কমে যায়।
  • পেপটিক আলসারের ব্যথা সাধারণত সবসময় থাকে না, একাধারে ব্যথাটা কয়েক সপ্তাহ চলতে থাকে তারপর রোগী সম্পূর্ণরূপে ভালো হয়ে যায়, এ অবস্থা কয়েকমাস থাকে তারপর আবার কয়েক সপ্তাহ ধরে ঠিক আগের মতো ব্যথা অনুভব হয়।
  • পেপটিক আলসার ব্যথা সাধারণত দুধ, এন্টাসিড, খাবার খেলে কিংবা বমি করলে অথবা ঢেকুর তুললে ব্যথা কমে যায়।
  • এছাড়াও পেপটিক আলসারের রোগীদের মধ্যে বুক জ্বালা, অরুচি, বমি বমি ভাব, ক্ষুধা মন্দা, কিংবা হঠাৎ করে রক্ত বমি অথবা পেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব হতে পারে।
পেপটিক আলসারের যে সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে
  • পাকস্থলী ফুটা হয়ে যেতে পারে
  • রক্ত বমি হতে পারে
  • কালো পায়খানা হতে পারে
  • রক্তশূন্যতা হতে পারে
  • পৌষ্টিক নালীর পথ সরু হয়ে যেতে পারে এবং রোগীর বার বার বমি হতে পারে
  • ক্যান্সার হতে পারে
পেপটিক আলসার বা গ্যাস্ট্রিক আলসার রোগের রয়েছে উন্নত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা। এর জন্য এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন।
বিস্তারিত

Friday, March 29, 2019

জন্ডিস (Jaundice) প্রকারভেদ কারণ, উপসর্গ এবং চিকিৎসা পদ্ধতি

জন্ডিস (Jaundice) রোগের উপসর্গ মাত্র এটি কোনো রোগ নয়। আমাদের লিভাবের কোষগুলো কোনো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা এলোপ্যাথিক ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় নষ্ট হতে থাকলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে জন্ডিস দেখা দেয় (রক্তে বিলিরুবিনের স্বাভাবিক মাত্রা ০.২-০.৮ মিলিগ্রাম/ডি: লি)। বিলিরুবিনের রং হলুদ করে দেয়। জন্ডিসের লক্ষণের মধ্যে রয়েছে - চোখ ও প্রসাবের রং হলুদ হয়ে যাওয়া, আবার সমস্যা বেশি হলে পুরো শরীর গাঢ় হলুদবর্ণ ধারণ করতে পারে, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব অথবা বমি, শারীরিক দুর্বলতা, জ্বর জ্বর অনুভূতি কিংবা কাঁপানি দিয়ে জ্বর আসা, পেট ব্যথা, অনেকসময় পায়খানা সাদা হয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, পাতলা পায়খানা, যকৃত শক্ত হয়ে যাওয়া, শরীরে চুলকানি ইত্যাদি। জন্ডিসের উন্নত চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। এর জন্য এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন। বিস্তারিত ভিডিওতে....
বিস্তারিত

Saturday, March 9, 2019

ডায়রিয়া ও আমাশয়যুক্ত দূরারোগ্য পেটের পীড়া - আইবিএস (IBS)

পুরাতন আমাশয়, পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া মূলত আইবিএস (IBS) যা উন্নত হোমিও চিকিৎসায় নির্মূল হয়ে থাকে। Irritable bowel syndrome (IBS) সমস্যায় ঘন ঘন পাতলা পায়খানা, খাওয়ার পরই পায়খানার বেগ, ঘুম থেকে উঠেই বা তার কিছুক্ষন পর পায়খানার বেগ। মলের সাথে আম বা কখনো কখনো রক্ত যেতেও দেখা যায়। সাথে পেটের অস্বস্থি বা ব্যথা, মেজাজের ভারসাম্যহীনতা পরিলক্ষিত হয়। এছাড়াও একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম লক্ষণ ও উপসর্গ প্রকাশ পেয়ে থাকে।
ডায়রিয়া ও আমাশয়যুক্ত দূরারোগ্য পেটের পীড়া মুলত প্রপার হোমিও চিকিৎসার মাধ্যমে নির্মূল হয়ে থাকে তবে এর জন্য আপনাকে সেই মানের একজন হোমিও ডাক্তারের তথ্যাবধানে ধৈর্য্য সহকারে চিকিৎসা নিতে হবে অন্যথায় ভাল ফলাফল আশা করা যায় না।

চিকিৎসক যদি ঠিকঠাক ভাবে কেইস টেকিং করে আপনাকে চিকিৎসা করে তাহলে ধাপে ধাপে আপনি সুস্থতার দিকে এগুবেন। এক্ষেত্রে আপনারও ধৈর্য্য ধরে চিকিৎসা নেয়া জরুরী। আপনার যাবতীয় সমস্যাবলী চিকিৎসকের সাথে যথা সময়ে শেয়ার করবেন যাতে চিকিৎসক আপনার সব কিছু সম্পর্কে বাস্তব ধারণা নিতে পাবেন। এক্ষেত্রে রোগী এবং চিকিৎসকের মধ্যে সম্পর্ক বন্ধুর মতো হওয়া চাই।  বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে....
বিস্তারিত

Wednesday, February 6, 2019

মলদ্বারের রোগ অ্যানাল ফিস্টুলা Anal Fistula (ভগন্দর বা নালী ঘা) কারণ এবং উপসর্গ

মলদ্বারে ফোঁড়া বা অ্যাবসেস হলে সেটা এক সময় বাইরে এবং পায়ুপথের ভিতরে ফেটে যায় এবং পায়ুপথের সঙ্গে বাইরের একটি সংযোগ বা নালি তৈরি করে যাকে Anal Fistula অ্যানাল ফিস্টুলা বা ভগন্দর বা নালী ঘা ও বলা হয়ে থাকে। এটি দিয়ে মলদ্বার বা পায়ুপথ থেকে পুঁজ, রক্ত, মল ইত্যাদি বাইরে আসতে থাকে।

অ্যানাল ফিস্টুলা Anal Fistula  - কারণ

মলদ্বারের ভেতরে অনেক গ্রন্থি রয়েছে, এগুলোর সংক্রমণের কারণে ফোড়া হয়। এই ফোড়া এক সময় ফেটে গিয়ে মলদ্বারের চতুর্দিকের কোনো এক স্খানে একটি ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে আসে এবং পুঁজ নির্গত হতে থাকে এবং তা নালী হয়ে বাহিরের দিকে বের হয় যা দেখতে পোড়ার মত মনে হয় । ( কেউ কেউ মনে করেন কৃমির বাসা থেকে এর উৎপত্তি ! আসলে তা ঠিক নয় তবে কৃমির উপদ্রবের কারনে নুখ দিয়ে চুলকাতে গিয়ে অনেক সময় পায়খানার রাস্থার ভিতরে ইনফেকশন বা ছিদ্র হয়ে হতে পারে ) অ্যানাল ফিস্টুলা হওয়ার অন্যান্য কারণগুলো হতে পারে-
  • মলাশয় বা পায়ুপথের ক্যান্সার - কোলনের শেষে একটি এলাকা যেখানে মল সংরক্ষিত হয়
  • যক্ষ্মা - এর কারনে প্রধানত ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশন ঘটে, কিন্তু পরবর্তীতে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে
  • এইচআইভি ও এইডস - এমন একটি ভাইরাস যা শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে (রোগ এবং ইনফেকশনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষাকারী) আক্রমণ করে
  • ক্ল্যামিডিয়া - যৌন মিলনের মাধ্যমে ছড়ানো ইনফেকশন যা কোন উপসর্গ দেখায় না
  • সিফিলিস - ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশন যা ড্রাগ, রক্ত বা যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ায়
  • আলসার (বেদনাদায়ক কালশিটে)
  • অপারেশনের জটিলতা
  • স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে জন্ম গ্রহন

অ্যানাল ফিস্টুলা Anal Fistula - লক্ষণ

  • পায়ুপথে ব্যথা হওয়া
  • পেটে তীক্ষ্ণ ব্যথা
  • মলের সাথে রক্ত যাওয়া
  • মলদ্বার দিয়ে রক্তক্ষরণ
  • পিঠের নিম্নাংশের মাংসপেশীতে টান বা খিঁচুনি দেখা দেওয়া
  • শরীরের নিম্নাংশে ব্যথা
  • মলের সাথে স্রাব বা মিউকাস নির্গত হওয়া
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • পায়ুপথের চারিদিকে ফোলা বা চাকা
  • অনৈচ্ছিক মলত্যাগ
  • অণ্ডথলিতে চাকা/পিণ্ড

অ্যানাল ফিস্টুলা Anal Fistula -চিকিৎসা

এলোপ্যাথিতে এর ভালো কোনো চিকিৎসা নেই। তাই সেখানে ডাক্তারগণ সার্জারি করার পরামর্শ দেন। সাধারণত অ্যানাল ফিস্টুলার সার্জারির ফলে জটিলতার সৃষ্টি হয়। এর ফলে ইনফেকশন, মলত্যাগের চাপ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং পুনরায় অ্যানাল ফিস্টুলা হতে পারে। তাই সার্জারি করার আগে ভালোভাবে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিবেন।

তবে  অ্যানাল ফিস্টুলার সমস্যার স্থায়ী চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। তবে এর জন্য অবশ্যই এক্সপার্ট একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরী। 
বিস্তারিত

Tuesday, February 5, 2019

এনাল ফিশার (Anal Fissure) মলদ্বারে ফাটা, ঘা, ব্যথা, জ্বালা,চুলকানি, রক্ত, পুঁজ আসা

এনাল ফিশার (Anal Fissure) মলদ্বারের বা পায়ুপথের একটি রোগ। এই সমস্যা হলে মলদ্বারে ফাটা, ঘা, ব্যথা, জ্বালা, চুকলানি, রক্ত, পুঁজ ইত্যাদি দেখা দিয়ে থাকে। দীর্ঘ দিন যাবৎ কোষ্ঠকাঠিন্য, পাতলা পায়খানা, IBS, ইত্যাদির কারণে এনাল ফিশার বেশি হতে দেখা যায়। এনাল ফিশার দুই ধরনের হয়ে থাকে। হঠাৎ সঙ্কটজনক হয়ে উঠা এনাল ফিশার (Acute Fissure) এবং দীর্ঘস্থায়ী এনাল ফিশার (Chronic Fissure)।

এনাল ফিশার (Anal Fissure)  প্রধান কারণগুলো

  • কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য পায়ু নালীর মাধ্যমে শক্ত, বড় আকারের মল নামার ফলে এনাল ফিশার হয়
  • Inflammatory Bowel Disease(IBD), Irritable bowel syndrome-IBS Crohn's disease এর ফলেও ফিশার হতে পারে
  • গর্ভাবস্থায় এবং সন্তানের জন্মের সময় ফিশার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে
  • এছাড়াও পাতলা পায়খানা এবং স্থায়ী ডায়রিয়াও এই রোগের কারণ হতে পারে

এনাল ফিশার (Anal Fissure) - প্রধান লক্ষণ এবং উপসর্গগুলো

  • এই রোগের সাধারণ লক্ষণ হল ব্যথা এবং রক্তপাত
  • সাধারণত, মলত্যাগ করার সময় ব্যথাটা শুরু হয় এবং প্রায় এক ঘন্টার জন্য থাকতে পারে
  • এতে চুলকানি এবং ফোলা ভাব ও অনুভব করা যায়
  • সাধারনত ব্যথার তীব্রতা সহ্য করা যায়, কিন্তু কখনো কখনো অসহ্য ব্যথাও হতে পারে
  • পায়খানায়, টিস্যু পেপারে, বা মলদ্বারের চারপাশে লাল রক্তের দাগ দেখা যায়
  • মলদ্বারের চামড়ায় একটি পাতলা ফাটল দেখা যায়
  • দুইবার মলত্যাগ করার মাঝে এই লক্ষণগুলো সাধারনত আর দেখা যায় না

এনাল ফিশার (Anal Fissure) - প্রতিরোধ

প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। প্রতিরোধের জন্যে নিন্মোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলা যেতে পারে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য যাতে না হয় সে ব্যবস্থা করা
  • অতিরিক্ত চাপ দিয়ে মলত্যাগের বদভ্যাস ত্যাগ করা
  • বারে বারে মলত্যাগের অভ্যাস ত্যাগ করা
  • নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন
  • অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করা
  • ডায়রিয়া হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া
  • পেটের যেকোন পীড়ায় যথাযথ হোমিও ট্রিটমেন্ট নিয়ে সেটা নির্মূল করা

এনাল ফিশার (Anal Fissure) - কার্যকর চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথি হলো এনাল ফিশার সমস্যার সবচেয়ে উন্নত চিকিৎসা। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে এই সমস্যা দূর করতে এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
বিস্তারিত

Sunday, January 27, 2019

অর্শ বা পাইলস Haemorrhoids (Piles) কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ

অর্শ বা পাইলস Haemorrhoids (Piles) মলদ্বার বা পায়ুপথের একটি পরিচিত রোগ। এই রোগ হলে মলদ্বারে আঙ্গুর ফলের মতো বলি বের হতে পারে, সাথে রক্তপাত, মলদ্বার ভেজা, চুলকানি এবং জ্বালাযন্ত্রণা থাকতে পারে।

অর্শ বা পাইলস হলে বুঝবেন কি করে

মলদ্বারের অভ্যন্তরে হলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে..
  • পায়খানার সময় ব্যথাহীন রক্তপাত হওয়া।
  • মলদ্বারের ফোলা বাইরে বের হয়ে আসতে পারে, নাও পারে । যদি বের হয় তবে তা নিজেই ভেতরে চলে যায় অথবা হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া যায়। কখনও কখনও এমনও হতে পারে যে, বাইরে বের হওয়ার পর তা আর ভেতরে প্রবেশ করানো যায় না বা ভেতরে প্রবেশ করানো গেলেও তা আবার বের হয়ে আসে।
  • মলদ্বারে জ্বালাপোড়া, যন্ত্রণা বা চুলকানি হওয়া।
  • কোনো কোনো ক্ষেত্রে মলদ্বারে ব্যথাও হতে পারে।

অর্শের কারণ

  • দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য
  • দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া।
  • IBS আইবিএস
  • শাকসব্জী ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার এবং জল কম খাওয়া।
  • শরীরের অতিরিক্ত ওজন
  • গর্ভাবস্থা।
  • মলত্যাগে বেশী চাপ দেয়া
  • অতিরিক্ত মাত্রায় লেকজেটিভ (মল নরমকারক ওষুধ)
  • টয়লেটে বেশি সময় ব্যয় করা।
  • পরিবারে কারও পাইলস থাকা।
  • ভার উত্তোলন, দীর্ঘ সময় বসে থাকা ইত্যাদি।
মলদ্বারের বাইরে হলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে..
  •  মলদ্বারের বাইরে ফুলে যাওয়া যা হাত দিয়ে স্পর্শ ও অনুভব করা যায়।
  • কখনও কখনও রক্তপাত বা মলদ্বারে ব্যথাও হতে পারে।

অর্শ বা পাইলস হলে কি করবেন

  • কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং নিয়মিত মলত্যাগ করা।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসব্জি ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবংপানি 
  • সহনীয়মাত্রার অধিক পরিশ্রম না করা।
  • প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানো।
  • শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা।
  • টয়লেটে অধিক সময় ব্যয় না করা।
  • সহজে হজম হয় এমন খাবার গ্রহণ করা। যেমন-আঁশযুক্ত খাবার, শাকসবজি ইত্যাদি।
  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া লাক্সেটিভ বা রেচক ঔষধ বেশি গ্রহণ না করা।
  • মলত্যাগে বেশি চাপ না দেয়া।
  • দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া থাকলে তার চিকিত্‍সা নেয়া।
  • IBS আইবিএস  থাকলে তার চিকিত্‍সা নেয়া।

অর্শ বা পাইলস রোগের চিকিত্‍সা

১ চামচ ইসপগুল সকাল ও রাতে এক গ্লাস পানিসহ খেতে পারেন। এছাড়াও রোগীর অবস্থা বুঝে প্রয়োজনীয় হোমিও গ্রহণ করতে হবে। ব্যবহার না করে চিকিত্‍সকের সাথে যোগাযোগ করে ঔষধ গ্রহণ করলে এবং তার তত্ত্বাবধানে চিকিত্‍সা গ্রহণ করলেই সুস্থতা সম্ভব।অর্শ বড় হলে বা তাতে রক্ত জমাট বেধে গেলে অপারেশন করাও হয়ে থাকে।

প্রতিরোধের উপায়

  • যার মধ্যে রয়েছে মলত্যাগের সময় জোরে চাপ না দেওয়া,
  • উচ্চ আঁশ যুক্ত খাদ্য ও প্রচুর তরল বা আঁশের সম্পূরক খাবার গ্রহণের মাধ্যমে কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়া পরিহার এবং পর্যাপ্ত ব্যায়াম করা।
  • মলত্যাগকালে অল্প সময় ব্যয়, টয়লেটে বসে পড়া বন্ধ করা
  • অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের ওজন কমানো
  • খুব ভারি বস্তু উত্তোলন পরিহার করা হয়
বিস্তারিত

Thursday, January 3, 2019

IBS কি? আইবিএস রোগের উপসর্গ এবং চিকিৎসা-IBS বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

IBS বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থেকে Irritable bowel syndrome-IBS রোগের পরামর্শ চাইলে আপনাকে মূলত একজন এক্সপার্ট হোমিও ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। কারণ একমাত্র হোমিওতে রয়েছে এই রোগের লক্ষণ অনুযায়ী কার্যকর চিকিৎসা। রোগীর পর্যায় অনুযায়ী এখানে চিকিৎসাটি ঠিকঠাক ভাবে সাজাতে পারলে এই সমস্যায় ভাল ফলাফল নিয়ে আসা যায়।
আইবিএসের প্রকৃত কারণ এ পর্যন্ত জানা যায়নি। অনেক কারণে এ রোগ হয় বলে চিকিৎসার আন্তর্নিহিত কারণ উদঘাটন সম্ভব হয়নি। আর এই কারণেই এলোপ্যাথিতে IBS সমস্যার কোন ভাল চিকিৎসা নেই এবং এলোপ্যাথিক চিকিৎসায় আইবিএস নির্মূল হয় না। বর্তমান বিশ্বে আইবিএস নির্মূলের এক মাত্র উন্নত চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। তবে এর জন্য আপনাকে এমন একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিতে হবে যিনি কমপ্লেক্স এবং ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথিতে দক্ষ।

শারীরবৃত্তীয় কারণগুলির মধ্যে রয়েছে অন্ত্রনালীর বেশি স্পর্শকাতরতা, অন্ত্রনালীর অস্বাভাবিক নাড়াচাড়া, এলার্জি ও ইনফেকশন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ গম ও দুধ জাতীয় খাবার সহ্যক্ষমতা কম অর্থাৎ এ জাতীয় খাবার খাওয়ার পরই আমাশয়ের সমস্যা তথা আইবিএস শুরু হয়।

এ সমস্যায় প্রথমেই আছে হতাশ ও দুশ্চিন্তা ইত্যাদি। এ ছাড়া অধিক মানসিক চাপ ও আইবিএসকে প্রভাবিত করে থাকে। আইবিএসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অল্প সমস্যা হলেই মানসিকভাবে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে ফলে তারা পরিস্থিতি সহজে মানিয়ে নিতে পারে না।

এ ছাড়া খাদ্যাভ্যাস, অন্ত্রের প্রদাহ, অন্ত্রের সংক্রমণ, মাদক গ্রহণ, পেটের অপারেশন, বংশগত কারণ, হরমোনজনিত কারণ বিশেষ করে মহিলাদের মাসিক চক্রের সমস্যা এবং অনেক সময় এন্টিবায়োটিকসহ অনেক এলোপ্যাথিক ওষুধ সেবনও আইবিএসের সমস্যাকে ত্বরান্বিত করে।
এ রোগে পুরুষ ও মহিলা উভয়ই ভুগে থাকেন। পুরুষের তুলনায় মহিলারা আনুপাতিক হারে বেশি ভুগে থাকেন। সাধারণত ১৮-৪০ বছরের মহিলা ও পুরুষের মধ্যে রোগের উপসর্গ দেখা দেয়।

আইবিএসের উপসর্গ বা লক্ষণাবলি

  • পাতলা পায়খানা ও কোষ্টকাঠিন্য উভয়ই দেখা যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, কিছু দিন কোষ্টকাঠিন্য আবার কিছু দিন পাতলা পায়খানা হচ্ছে।
  • পেটে ভুটভাট শব্দ হয়।
  • যাদের কোষ্টকাঠিন্য তাদের পেট ব্যথার সাথে ছোট ছোট কষ্টকর মলত্যাগ।
  • আমাশয় প্রধান আইবিএসে ঘন ঘন কিন্তু অল্প পরিমাণ পায়খানা হয়। এ ক্ষেত্রে ওজন ঠিক থাকে। আর মলের সাথে আম যায়। রক্ত যায় না।
  • খাদ্য গ্রহণের পরে পেটে অশান্তি বোধ এবং পেট ফুলে যায়।।
  • ডায়রিয়া সাধারণত সকালে মলত্যাগের সময় হয়ে থাকে।
  • পিচ্ছিল পদার্থ যা চর্বিযুক্ত মলত্যাগ।
  • মলত্যাগের পর ও মলত্যাগের ইচ্ছা অনুভব।
এ সমস্যাগুলো ৬ মাসের বেশি সময় থাকলে চিকিৎসকরা আইবিএস হয়েছে বলে সন্দেহ করেন। এ ছাড়াও যাদের এ সমস্যা আছে, তারা পোলাও, কোর্মা, বিরিয়ানি, তেহারি ইত্যাদি তেলযুক্ত খাবার এবং দুধ, দই, দুধ-চা, পায়েস, সেমাই ইত্যাদি খাবার খেলেই পেট খারাপ হয়ে পড়ে। আমাদের দেশে লিভার সেন্টারের গবেষণা হতে দেখা গেছে, যেসব রোগীর দীর্ঘমেয়াদি লিভার প্রদাহ থাকে এবং ফ্যাটি লিভার থাকে তাদের অধিকাংশই কোনো না কোনো সময় আইবিএসে আক্রান্ত হয়। আবার যেসব রোগীর পায়খানার অভ্যাসের পরিবর্তন, পেট ফোলা, পেটে ব্যথা, পেটে শব্দ, খাদ্য হজমে সমস্যা নিয়ে আসে তাদের অধিকাংশই পরবর্তীতে লিভার সিরোসিস ধরা পড়ে।

বলা বাহুল্য, বমিভাব, বমি, ঢেঁকুর ওঠা, ক্ষুধামন্দা, ঘাম হওয়া, মাথাব্যথা, অনিদ্রা, জ্ঞান হারানো, রক্ত মিশ্রিত পায়খানা এগুলো আইবিএসের উপসর্গ হিসেবে সুনির্দিষ্ট নয়। উপসর্গগুলো কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ, কয়েক মাসও থাকতে পারে। যদিও উপসর্গগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে ঘটে থাকে।
বিস্তারিত