মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২০

সুস্বাস্থ্যবান মানুষের ক্ষেত্রে অশরীরী Vital Force ভাইটাল ফোর্সের ভূমিকা কি ?

মানুষের সুস্থাবস্থায় বস্তুগত দেহকে অর্থাৎ শরীরযন্ত্রকে যে শক্তি বাচিঁয়ে রাখে তাকে অপার্থিব বা অশরীরী (Spiritual) স্বয়ংচালিত বা Autocracy জৈবশক্তি বলে। তা অসীম প্রভাবে দেহকে পরিচালিত করে। ইহা অনুভূতি ও কার্যকারিতায় দেহযন্ত্রের যাবতীয় অংশকে সুন্দররূপে ও সুশৃঙ্খলভাবে নিয়ন্ত্রিত করে। তার ফলেই অনুসন্ধিৎসু, যুক্তিবাদী মানুষ এই জীবন্ত, সুস্থ শরীরযন্ত্রকে মানবজীবনের মহত্তর উদ্দেশ্য সাধনে স্বাধীনভাবে সমর্থ হয়। - স্যার স্যামুয়েল হ্যানিম্যান।

জৈবশক্তি ব্যতীত জড় দেহ অনুভব করতে, কাজ করতে বা আত্বরক্ষা করতে পারে না। একমাত্র এই অশরীরী সত্তা (জৈবনিক মূলনীতি বা Vital Principal) হতেই জীবনের সর্বপ্রকার অনুভূতি ও কার্যকলাপ উদ্ভুত হয়। সুস্থ এবং অসুস্থ উভয় অবস্থাতে ইহাই এই জড় শরীরযন্ত্রকে সঞ্জীবিত রাখে। - স্যার স্যামুয়েল হ্যানিম্যান।

একজন আপাতঃ সুস্থ Apparently Healthy মানুষের ক্ষেত্রে Vital Force ভাইটাল ফোর্সের ভূমিকা - 

  • কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই দেহযন্ত্রকে বাচিয়ে রাখে এবং নিয়ন্ত্রণ করে।
  • দেহযন্ত্রের স্বাভাবিক অনুভূতি এবং কার্যকারিতার সমন্বয় সাধন করে।
  • জীবন্ত, সুস্থ শরীরযন্ত্রকে মানবজীবনের মহত্তর উদ্দেশ্য সাধনে স্বাধীনভাবে নিযুক্ত করতে সমর্থ হয়।
  • রোগ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে।
ভাইটাল ফোর্স মানব দেহযন্ত্রকে আয়ত্ত এবং নিয়ন্ত্রণে রেখে তার জীবন্ত সত্তাকে অটুট রাখে। ভাইটাল ফোর্সের অধীনে দেহযন্ত্র দৈহিক, মানুষিক বিভিন্ন ধরণের কাজ করে। জীবন্ত দেহযন্ত্রের বিভিন্ন চেতনা বা অনুভূতি এবং শরীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ যেমনঃ শ্বাসপ্রশ্বাস, রক্ত চলাচল, পরিপাক, রেচন এবং অনাক্রমতা (নিরাপত্তা বা প্রতিরোধ ব্যবস্থা) সব কিছুই ভাইটাল ফোর্সের উপর নির্ভরশীল। দেহযন্ত্রের জীবন্ত সত্তার বিভিন্ন ধরণের প্রকাশ ভাইটাল ফোর্সের উপর নির্ভরশীল।
সুস্বাস্থ্যবান মানুষের ক্ষেত্রে অশরীরী Vital Force ভাইটাল ফোর্সের ভূমিকা কি
ভাইটাল ফোর্স দেহযন্ত্রের বিভিন্ন অঙ্গ, তন্ত্রের শরীরবৃত্তীয় বিভিন্ন কার্যকলাপ সুশৃঙ্খলভাবে সমন্বয় সাধন করে যেমনঃ হৃদপিন্ড স্পন্দিত হয়, ফুসফুস সম্প্রসারিত এবং সংকোচিত হয়, পরিপাকতন্ত্রের সঞ্চালন হয় ইত্যাদি। কিন্তু মজার ব্যাপার হল একজন সুস্বাস্থের অধিকারী মানুষ কিছুই বুঝতে পারে না যে তার দেহযন্ত্রের মধ্যে কত সব অঙ্গ-তন্ত্র রয়েছে এবং সেগুলির মধ্যে কত দ্রুত কত কিছু প্রতিনিয়ত অবিরাম ঘটেই চলেছে। সুস্বাস্থ্যকর অবস্থায় প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ঐ মানুষটির ইচ্ছা অনুসারে পরিচালিত হয় এবং দেহ ও মনের মধ্যে ভারসাম্যতা বজায় থাকে।

স্বাস্থ্যকর পরিস্থিতিতে দেহ এবং মনের মধ্যে যথাযথ ভারসাম্য বজায় থাকে বলে মানুষটি নিজেকে মাববজীবনের মহত্তর উদ্দেশ্য সাধনে স্বাধীনভাবে নিযুক্ত করতে সমর্থ হয়। 

সুস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতিতে কোন মানুষ যে কোন ধরণের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সমর্থ হয়। আমাদের পার্থিব অস্তিত্ব প্রতিনিয়ত সহস্র রোগশক্তির কাছে উন্মোচিত অর্থাৎ আমরা সবাই সর্বদা সহস্র রোগশক্তি দ্বারা পরিবেষ্টিত, তা সত্ত্বেও সবাই রোগের কবলে পতিত হয় না বা রোগ যন্ত্রনা ভোগ করি না, কারণ ভাইটাল ফোর্স প্রতিনিয়ত মারাত্মক ক্ষতিকারক রোগ শক্তির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিয়ে চলেছে, যার জন্য আমরা সুস্থ থাকি।

ভাইটাল ফোর্সের দুর্বলতার জন্য দায়ী মূলতঃ দুটি ফ্যাক্টর

  • The Endogenous Factor
  • The Exogenous Factor
The Endogenous Factor গুলি জন্মগত (Innate) যা কোন মানুষের মধ্যে আসে বংশগতির মাধ্যমে Incurred from the heredity.
  • দুর্বল ভাইটাল ফোর্স কোন Individual এর মধ্যে আসতে পারে দুর্বল বাবা এবং মা অথবা দুজনের যেকোন একজন থেকে।
  • এক বা একাধিক Predominant প্রকট True disease নিয়ে জন্মাবার ফলে Vital Force দুর্বল হতে পারে।
  • Real Homoeopathic Therapeutic System অনুসরণ করে চিকিৎসা না করা হলে সুপ্ত সোরা Recessive Psoric Miasm প্রাকৃতিক নিয়মে প্রকট হবেই। Psora is the evolution of the state of man's will, the ultimate of his sin অর্থাৎ ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হবেই এবং তখনই অন্যান্য True disease গুলি ক্রমে ক্রমে প্রকট হবে
The Exogenous Factor গুলি হলো পরিবেশের বিভিন্ন অভ্যন্তরীন প্রভাব The various intimate details of the environment factors যা কোন মানুষকে জন্ম থেকে ক্রমাগত এবং নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে প্রভাবিত করতে থাকে যেমনঃ
  • জন্ম হয়েছিল অপরিণত অবস্থায় (আট মাসে), মায়ের রক্তচাপ অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ায় অসময়ে গর্ভপাত করাতে হয়েছিল, তখন মায়ের বুকের দুধ শুকিয়ে যায় অর্থাৎ শিশুটি কখনও মায়ের বুকের দুধ পায়নি বলে দুর্বল ভাইটাল ফোর্সের কারণে একের পর এক বিভিন্ন অসুখে কষ্ট পায়। 
  • Acute Infectious disease (Pox/Measles/Typhoid) ইত্যাদিতে ভীষণ কষ্ট পাওয়ার পর ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হয়, তারপর থেকে বিভিন্ন দৈহিক সমস্যা একের পর এক লেগেই আছে। 
  • মানুষিক আঘাত বা মানুষিক চাপের ফলে ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হয় যেমনঃ দৈনন্দিন জীবনে কোন দুর্ঘটনা Accident ঘটে যাওয়ার পর (ভালো চাকরিটা চলে গেলো, একমাত্র সন্তানের কঠিন দুরারোগ্য অসুখ ধরা পড়লো বা মারা গেল) ইত্যাদিতে প্রচণ্ড মানুষিক আঘাত। ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হলে রক্তচাপ Blood Pressure বেড়ে গেল, Diabetes ধরা পড়ল, একের পর এক বিভিন্ন সমস্যা শুরু হতে লাগলো। ভীষণ ভয় বা আতঙ্কেও এমন হতে পারে। 
  • পরিবেশের প্রতিকূলতায় ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হয়। বাসস্থান, কর্মক্ষেত্রে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মনের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং সেটি যদি দীর্ঘদিন চলতে থাকে তাহলে ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হয়। 
  • Superficial Homeopathic Treatment অর্থাৎ যেক্ষেত্রে True disease এর চিকিৎসা না করে Result of the disease এর চিকিৎসা করা হয় অর্থাৎ Patient এর তাৎক্ষণিক Symptoms বা Rubrics কে গুরুত্ব দিয়ে ঔষধ নির্বাচন এবং প্রয়োগ করে কষ্টের উপশম দেয়া হয় ফলে ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হয়। 
  • চিকিৎসা বিভ্রাটের ফলে ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হয় যেমনঃ 
    • একের পর এক বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে বিভিন্ন ঔষধের প্রয়োগ।
    • বিভিন্ন প্রকার ভ্যাকসিন বা টিকা
    • হাই-পাওয়ারের ক্ষতিকর সব এন্টিবায়োটিক
    • ক্রমাগত বিভিন্ন এলোপ্যাথিক বা রাসায়নিক ঔষধ সেবন
    • ঔষধের ভুল প্রয়োগের ফলে। 
    • ঔষধের পরিমাপ অযৌক্তিক ভাবে বেশি হলে। 
    • ঔষধের Dose এবং Potency মাত্রাতিরিক্ত হলে। 
    • বিভিন্ন Results of the disease এর সমাধান করতে বিভিন্ন ঔষধের এক সঙ্গে প্রয়োগের ফলে এমন ঘটনা ঘটে। 
  • দীঘদিন ধরে বিষাক্ত পানি (Arsenic) যুক্ত এবং বিষাক্ত খাবার খেলেও ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হবে। 
  • নেশা হয় এমন বস্তু Intoxicant দীর্ঘদিন ধরে শরীরে প্রবেশ করলে ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হয়। 
  • রোগগ্রস্থ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করলে ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হয়। 

ভাইটাল ফোর্সের বৈশিষ্ট

  • Spiritual
  • Autocratic
  • Automatic
  • Dynamic
  • Unintelligent and instinctive
Spiritual এর অর্থ অপার্থিব বা অশরীরী Immaterial. ভাইটাল ফোর্স ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয় অর্থাৎ একে প্রত্যক্ষ করা যায় না Imperceptible অর্থাৎ সূক্ষ্ম Subtle.

ভাইটাল ফোর্সের উপস্থিতি বা অস্তিত্ব বা বাস্তবতাকে উপলব্ধি করা যায় শুধুমাত্র তখনই যখন এটি পার্থিব দেহযন্ত্রের মাধ্যমে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় অংশ নেয়। ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় অংশ নেয় বলতে সর্বোচ্চ কর্তৃত্বকারী হিসেবে নিজের মতো করে দেহযন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে, যার ফলে দেহযন্ত্রের বিভিন্ন কোষ, কলা, সিস্টেম, অঙ্গপ্রতঙ্গের মধ্যে অখন্ডতা (Integrity) রক্ষা পায়।

বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কেউ কেউ কিভাবে সুস্থ থাকে?

বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জীবন যাপন করা সত্ত্বেও কোন কোন মানুষ সুস্থ থাকে যার বদান্যতায় Generosity, তার নাম ভাইটাল ফোর্স। এই ভাইটাল ফোর্সের পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে একটি হলো Automatic or Self-acting যার অর্থ স্বয়ংক্রিয় সত্তা যা দেহযন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখে এবং যেকোন অপশক্তির বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলে। এই কাজে যে শক্তির প্রয়োজন তার জন্য ভাইটাল ফোর্সকে কারো উপর নির্ভর করতে হয় না। কারণ এটি স্বাবলম্বী বা আত্মনির্ভরশীল একটি সত্তা অর্থাৎ Self-powered. ভাইটাল ফোর্স সর্বোচ্চ কর্তৃত্বকারী হিসেবে দেহযন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখে বলে একে Autocratic বলে।

এই ভাইটাল ফোর্স দেহযন্ত্রের বিভিন্ন কোষ, কলা, সিস্টেম, অঙ্গপ্রতঙ্গের মধ্যে অখন্ডতা (Integrity) রক্ষা করে। এই গতিশীল সত্তা, ভাইটাল ফোর্স, মানব দেহযন্ত্রের প্রতিটি কোষে, প্রতিটি অনু-পরমাণুতে সমানভাবে প্রভাব বিস্তার করে। এই গতিশীল সত্তা মানব দেহযন্ত্রকে বিভিন্ন রোগ যন্ত্রণার হাত থেকে রক্ষা করে সদাসর্বদা প্রাণবন্ত Animated রাখে। তাই মানুষের ভাইটাল ফোর্স যদি Healthy থাকে তাহলে ঐ মানবদেহের প্রতিটি অনু-পরমাণু, কোষ, কলা, সিস্টেম, অঙ্গপ্রতঙ্গ বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিকে জয় করতে সক্ষম হবে যার জন্য ঐ মানুষটি স্বাচ্ছন্দ Freedom উপভোগ করবে।

এরপরও কোন মানুষ রোগগ্রস্ত হয়, এই রোগগ্রস্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে চাইলে একটি মাত্র উপায় রয়েছে - সেটি হলো Real Homeopathic Therapeutic System এর রীতিনীতি কঠোরভাবে Strictly মেনে চিকিৎসা নেয়া বা চিকিৎসা দেয়া। 
Dr Imran
ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান
ডিএইচএমএস (বিএইচএমসি এন্ড হসপিটাল), ডিএমএস; ঢাকা
রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক (রেজিঃ নং-৩৩৪৪২)
যোগাযোগঃ আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, ডেমরা, ঢাকা।
Phone: +88 01671-760874; 01977-602004 (শুধু এপয়েন্টমেন্টের জন্য)
About Me: Profile ➤ Facebook ➤ YouTube ➤