শিশুর জটিল রোগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শিশুর জটিল রোগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

থ্যালাসেমিয়া কি এবং কেন হয়? Thalassemia রোগীর লক্ষণ ও চিকিৎসা

থ্যালাসেমিয়া Thalassemia একটি ব্লাড ডিজ়অর্ডার এবং জিনগত রোগ। বংশ পরম্পরায় শিশুর দেহে বাসা বাঁধে। এই রোগের ফলে শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমতে থাকে। এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের রক্তে লোহিত রক্তকণিকা ও হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ মারাত্মক কমে যায়। খুব স্বাভাবিক ভাবেই রক্তাল্পতার সমস্যা দেখা দেয়। যদি বাবা-মা দু'জনেই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন, সে ক্ষেত্রে সন্তান থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে।

থ্যালাসেমিয়া - টাইপ 

  • আলফা থ্যালাসেমিয়া
  • বিটা থ্যালাসেমিয়া
বিটা থ্যালাসেমিয়ার চেয়ে আলফা থ্যালাসেমিয়া কম তীব্র হয়। আলফা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের উপসর্গ মৃদু বা মাঝারি প্রকৃতির। বিটা থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে রোগের তীব্রতা বেশি। তবে বিশ্বে আলফা থ্যালাসেমিয়ার প্রাদুর্ভাব বেশি।

আলফা থ্যালাসেমিয়া: এর জন্য ১৬ নম্বর ক্রোমোজ়োমে উপস্থিত আলফা-চেন উৎপাদনকারী জিনের মিউটেশন বা ডিলিশন দায়ী। চারটি জিন দিয়ে আলফা থ্যালাসেমিয়া চেন তৈরি হয়। বাবা-মায়ের থেকে প্রাপ্ত চারটির মধ্যে এক বা একাধিক জিন ত্রুটিপূর্ণ হলে আলফা থ্যালাসেমিয়া হয়। জিন যত ত্রুটিপূর্ণ হবে, সমস্যা তত বাড়বে।
  • একটি ত্রুটিপূর্ণ জিন হলে থ্যালাসেমিয়ার কোনও লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা যাবে না। তবে আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁর সন্তানের মধ্যে এই রোগ ছড়াতে পারে। 
  • দু'টি জিন ত্রুটিপূর্ণ হলে হালকা উপসর্গ দেখা যাবে। একে বলে আলফা থ্যালাসেমিয়া মাইনর বা আলফা থ্যালাসেমিয়া ট্রেট। 
  • তিনটি জিন ত্রুটিপূর্ণ হলে থ্যালাসেমিয়ার উপসর্গ মাঝারি থেকে মারাত্মক আকার ধারণ করে। একে বলা হয় হিমোগ্লোবিন এইচ ডিজ়িজ়। 
  • চারটি জিনই ত্রুটিপূর্ণ হলে বলা হয় আলফা থ্যালাসেমিয়া মেজর বা হাইড্রপস ফিটালিস।
বিটা থ্যালাসেমিয়া: ২টি জিন দিয়ে বিটা থ্যালাসেমিয়ার চেন গঠিত হয়। মা-বাবার কাছ থেকে প্রাপ্ত জিন ত্রুটিপূর্ণ হলেই বিটা থ্যালাসেমিয়া হয়ে থাকে।
  • একটি জিন ত্রুটিপূর্ণ হলে কিছুটা কম উপসর্গ দেখা যায়। একে বলা হয় বিটা থ্যালাসেমিয়া মাইনর বা বিটা থ্যালাসেমিয়া ট্রেট। 
  • দু'টি জিন ত্রুটিপূর্ণ হলে মাঝারি থেকে মারাত্মক উপসর্গ দেখা যায়। একে বলে বিটা থ্যালাসেমিয়া মেজর অথবা হাইড্রপস ফিটালিস। 
নবজাতক যে শিশুদের এই সমস্যা থাকে, তারা কিন্তু জন্মের সময়ে বেশ স্বাস্থ্যবান হয়। তবে জন্মের প্রথম দু'বছরের মধ্যেই এর উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে।
থ্যালাসেমিয়া

থ্যালাসেমিয়া - কীভাবে হয় ?

যে কোন সাধারন ব্যাক্তির শরীরে ৪৬ টি ক্রোমোজম থাকে, তার ২৩টি পিতা থেকে এবং বাকি ২৩টি তার মায়ের থেকে আসে। যে কোন ধরনের থ্যালাসেমিয়াই বংশগত হয়, অর্থাৎ কোন পিতা মাতার শরীরের DNA তে থ্যালাসেমিয়া জীন থাকলে, তা তাদের শিশুর শরীরে চলে আসে ও সেই শিশুটি থালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত হয় ।
  • মাতা বা পিতা কারো শরীরেই যদি থ্যালাসেমিয়ার জীন না থাকে, তাহলে শিশুটি সম্পূর্ন সুস্থ হয়
  • যদি মাতা বা পিতার মধ্যে কোন একজনের শরীরে থ্যালাসেমিয়ার জীন থাকে তাহলে, শিশুর থ্যালাসেমিয়া হওয়ার ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা থাকে
  • যদি মাতা বা পিতা দুজনের শরীরেই থ্যালাসেমিয়ার জীন থাকে, তাহলে শিশুরও থ্যালাসেমিয়া হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে

থ্যালাসেমিয়া - লক্ষণসমূহ

  • রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া
  • হলদে ত্বক বা জন্ডিস
  • প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া
  • লিভার বেরে যায়
  • সংক্রমণ বা ইনফেকশন
  • বুক ধড়ফড় করা
  • অস্বস্তি এবং শ্বাসকষ্ট
  • দুর্বলতা এবং অবসাদ অনুভব
  • হাড়ের গঠন অস্বাভাবিক হয়
  • গাঢ় রঙের প্রস্রাব
  • হৃৎপিণ্ডে সমস্যা
  • মুখ-মন্ডল ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
  • মুখের হাড়ের বিকৃতি
  • ধীরগতিতে শারীরিক বৃদ্ধি

থ্যালাসেমিয়া - রোগ শনাক্ত

  • এইচপিএলসি - হাই পাওয়ার লিকুইড ক্রোমাটোগ্রাফি
  • কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট
  • ডিএনএ টেস্ট
  • হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস টেস্ট 
এখানে কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট অর্থাৎ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তে লোহিত রক্তকণিকার মাত্রা, লোহিত রক্ত কণিকার আকারের পরিবর্তন, বিবর্ণ লোহিত রক্ত কণিকা, লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিনের অসম থাকা, শিশুর রক্তে আয়রনের পরিমাণ, হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ইত্যাদি জানা যায়। আবার ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে রোগীর থ্যালাসেমিয়া আছে কিনা অথবা রোগী ত্রটিপূর্ণ হিমোগ্লোবিন জিন বহন করছে কিনা তা নির্ণয় করা যায়। গর্ভস্থ সন্তানের থ্যালাসেমিয়া আছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য কোরিওনিক ভিলিয়াস স্যাম্পলিং, এ্যামনিওসেনটিসিস, ফিটাল ব্লাড স্যাম্পলিং ইত্যাদি পরীক্ষা করা যেতে পারে।

থ্যালাসেমিয়া -  চিকিৎসা 

ব্লাড ট্রান্সফিউশন:- এ ক্ষেত্রে রোগীকে নিয়মিত রক্ত বদলাতে হয়। রক্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি ভাগ রয়েছে।
  • সুপার ট্রান্সফিউশন: শিশুর জন্মের প্রথম ছ'মাসের মধ্যে মেজর থ্যালাসেমিয়ার জন্য সুপার ট্রান্সফিউশন প্রোগ্রাম নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে রক্তে হিমোগ্লোবিন ১২ গ্রাম/ডিএল-এর কমে নামতে দেওয়া হয় না। এই চিকিৎসার ফলে একজন রোগী তিরিশ বছর পর্যন্ত ভাল থাকতে পারেন। 
  • হাইপার ট্রান্সফিউশন: অন্য দিকে পূর্ণবয়স্কদের জন্য প্রয়োগ করা হয় হাইপার ট্রান্সফিউশন। এখানে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ১০ থেকে ১২ গ্রাম/ডিএল-এর মধ্যে রাখা হয়। 
  • সেফ লেভেল: আরও একটি পদ্ধতি হল সেফ লেভেল। এই স্তরে সপ্তাহে এক দিন রোগীকে হিমোগ্লোবিনের লেভেল বা স্তর ধরে রাখতে রক্ত দিতে হয়। 
তবে নিয়মিত রক্ত দেওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। এতে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে অতিরিক্ত আয়রন জমে যায়। ফলে যকৃত বিকল হয়ে রোগীর প্রাণনাশের আশঙ্কাও থাকে।

মেডিকেশন ও সাপ্লিমেন্ট-আয়রন সিলেকশন:- দেহের অতিরিক্ত আয়রন বার করে দেওয়ার জন্য আয়রন চিলেটিং দেওয়া হয়ে থাকে। আয়রনযুক্ত খাবার এবং ওষুধ খাওয়া চলবে না। এর সঙ্গে ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট হিসেবে দেওয়া হয়ে থাকে। বাড়তি আয়রন শরীর থেকে বার করে দেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনই নিয়মিত ফলিক অ্যাসিড এবং ক্যালসিয়াম খাওয়াও জরুরি।

প্লীহা ও গল ব্লাডার বাদ:- বারবার রক্ত দেওয়ার ফলে অনেকের প্লীহা বড় হয়ে যায়। তখন সেটি চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাদ দিয়ে দেওয়া বাঞ্ছনীয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গল ব্লাডারও বাদ দেওয়া হয়।

বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট:- অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন বা বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন কার্যকর চিকিৎসা। তবে এই চিকিৎসা পদ্ধতি অনেক জটিল এবং খরচসাপেক্ষ।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা :- যেহেতু এটি একটি জেনেটিক বা জিনগত রোগ তাই এই রোগের সব চেয়ে ভালো চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। এ ক্ষেত্রে রিয়েল হোমিপ্যাথিক থেরাপিউটিক সিস্টেমে চিকিৎসা দিলে আশানুরূপ ফলাফল নিয়ে আসা যায়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক রোগীর এবং তার পিতা-মাতা, দাদা-দাদি, নানা-নানী অর্থাৎ পারিবারিক হিস্ট্রি নিয়ে চিকিৎসা শুরু করবেন। পেসেন্টের অভিভাবকের উচিত কেইস টেকিং এর সময় যথাযথ তথ্যাদি দিয়ে চিকিৎসককে সহায়তা করা। এতে খুব দ্রুত কাংখিত ফলাফল পাওয়া যায়। তবে এর জন্য রিয়েল হোমিপ্যাথিক থেরাপিউটিক সিস্টেমে দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক খুঁজে বের করুন।

যা যা জেনেছেন 

  • থ্যালাসেমিয়া কি
  • থ্যালাসেমিয়া রোগীর লক্ষণ
  • থ্যালাসেমিয়ার লক্ষণ
  • থ্যালাসেমিয়া রোগের কারন
  • থ্যালাসেমিয়া কি কারনে হয়
  • থ্যালাসেমিয়া রোগ কেন হয়
  • থ্যালাসেমিয়া রোগীর বিয়ে
  • থ্যালাসেমিয়া রোগীর খাবার
  • থ্যালাসেমিয়া ডাক্তার
  • থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা
  • হিমোগ্লোবিন ই বিটা থ্যালাসেমিয়া
  • থ্যালাসেমিয়া টেস্ট
  • থ্যালাসেমিয়া হাসপাতাল
  • থ্যালাসেমিয়া চিকিৎসা
  • থ্যালাসেমিয়া কি ধরনের রোগ
বিস্তারিত

বুধবার, ২৭ মে, ২০২০

শিশুদের হাঁপানি শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা ! কারণ লক্ষন ও সমাধানের স্থায়ী উপায়

শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা Asthma বা হাঁপানি মূলত শিশুদের জন্য সর্বাধিক দৃশ্যমান শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা। বেশির ভাগ শৈশবকালীন হাঁপানি শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা ১ থেকে ৫ বছর বয়সে দেখা যায়। দুর্ভাগ্যবশত এই সমস্যার স্থায়ী চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি হওয়া সত্ত্বেও অনেকেই বিষয়টি জানেন না আবার যারা জানেন তারা যথা সময়ে অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসক নির্বাচন করতে ব্যর্থ হন মূলত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শাস্ত্র সম্পর্কে তাদের কোন বাস্তব ধারণা বা জ্ঞান না থাকার কারণে।

বর্তমান বিশ্বে হোমিওপ্যাথি ছাড়া শিশুদের হাঁপানি বা অ্যাজমা সমস্যা নির্মূলের স্থায়ী কোন চিকিৎসা নেই। অন্যান্য চিকিৎসা শাস্ত্রে মূলত সমস্যাটি কমিয়ে রেখে আরাম দেয়ার চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে যার কারণে সাময়িক আরাম পেলেও দিন দিন রোগ জটিলতা বাড়তে থাকে এবং দীর্ঘকাল ব্যাপী নানা প্রকার রাসায়নিক ঔষধ শরীরে প্রয়োগ করার ফলে আরো দুরারোগ্য জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে।

শিশুদের শ্বাসনালীগুলো খুবই ক্ষুদ্র। ২ মি. মি. থেকে ৫ মি. মি. ব্যাসবিশিষ্ট। চারদিকে মাংসপেশি পরিবেষ্টিত। এই ক্ষুদ্র শ্বাসনালীর ভেতর দিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় খুব সহজেই বাতাস আসা-যাওয়া করতে পারে। যদি কখনও এলার্জিক বা উত্তেজক কোন জিনিস শরীরে প্রবেশ করে তখন শ্বাসনালীর মাংস পেশিগুলো সঙ্কুচিত হয়। ফলে শ্বাসনালী সরু হয়ে যায়। তাছাড়া উত্তেজক জিনিসের প্রভাবে শ্বাসনালীর গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় আঠালো কফ, আর ইনফেকশনের কারণে শ্বাসনালীর ভেতরের দিককার মিউকাস আবরণী আঠালো কফ উঠিয়ে ফেলার লক্ষ্যে অনবরত কাশি হয়ে থাকে। কখনও কখনও এই শ্বাসনালী এত সরু হয় যে, বাতাস বায়ুথলিতে পৌঁছায় না, তখন শরীরে অক্সিজেনের অভাব হয়। এটা খুবই মারাত্মক অবস্থা। এ অবস্থা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলে অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু ঘটতে পারে।
শিশুদের হাঁপানি শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা! কারণ লক্ষন ও সমাধানের স্থায়ী উপায়

হাঁপানি বা অ্যাজমা - প্রকারভেদ

  • একিউট অ্যাজমা : তীব্র হাঁপানি এতে ফুসফুসের বায়ুবাহী নালীসমূহ আকস্মিকভাবে সংকুচিত হয় ও শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্টের সৃষ্টি করে
  • ক্রনিক অ্যাজমা : দীর্ঘমেয়াদী হাঁপানি এতে ঘন ঘন অ্যাজমায় আক্রান্ত হয় এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে ও প্রতিরোধে চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে

শিশুদের হাঁপানি বা অ্যাজমা - লক্ষণ 

অ্যাজমা শিশুদের উপসর্গ একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়ে থাকে। আপনার শিশু অ্যাজমায় আক্রান্ত কিনা সেটা কিছু উপসর্গ দেখে বুঝতে পারবেন -
  • শ্বাসত্যাগের সময় প্রতিনিয়ত বাঁশির মতো শব্দ
  • সব সময় অথবা বারে বারে কাশি লেগে থাকে
  • শ্বাসকষ্ট এবং ঘন ঘন ঠান্ডা লাগা, যা প্রায়ই বুকে বসে যায়
  • রাতে শোবার বেলায় বা ভোরের দিকে কাশি বা শ্বাসকষ্টের আওয়াজ
  • রাতে ঘুম থেকে ওঠে বসে থাকা
  • বারবার শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছে এবং শাঁ শাঁ শব্দ
  • বুকে আঁটসাঁট বা দম বন্ধ ভাব 
  • ধোঁয়া, ধুলোবালি, ফুলের রেণু বা পোকামাকড়ের উপস্থিতিতে সমস্যাগুলো  বেড়ে যায়

শিশুদের হাঁপানি বা অ্যাজমা - কারণ

উপরি উপরি চিন্তা করে দেখা যায় শিশুদের ক্ষেত্রে ৮০% এর বেশি অ্যাজমা হলো এলার্জিজনিত। তবে আরো গভীরে গিয়ে চিন্তা করলে দেখা যায় মানুষের মধ্যে বিদ্যমান প্রকৃত কিছু রোগ যেগুলি মূলত নানা প্রকার জটিল উপসর্গ তৈরী করে থাকে। শিশুদের হাঁপানি বা অ্যাজমা হলো তেমনি একটি প্রকৃত রোগের সৃষ্ট উপসর্গ। তবে কিছু কিছু কারণ রয়েছে যেগুলি হাঁপানি সমস্যাটিকে ত্বরান্বিত করে থাকে যেমন -
  • হাঁপানি বা অ্যালার্জির পারিবারিক ইতিহাস
  • ভাইরাল ইনফেকশন
  • লোমশ প্রাণী (যেমন বিড়াল, কুকুর)
  • সিগারেট বা কাঠের ধোঁয়া
  • ঘরের জাজিম, বালিশ বা কার্পেটের ধুলোবালি
  • পুষ্পরেণু ও পোকামাকড় (যেমন তেলাপোকা)
  • তাপমাত্রার পরিবর্তন
  • অ্যারোসল বা সুগন্ধী সামগ্রী
  • অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ

শিশুদের হাঁপানি বা অ্যাজমা  - কারা আক্রান্ত হতে পারে

যেসব শিশুদের ব্যক্তিগত বা পারিবারিকভাবে অ্যালার্জির ইতিহাস আছে এবং যাদের অ্যালার্জিজনিত হাঁপানি বা চর্মরোগ আছে, তাদের হাঁপানিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে এমন নয় যে, হাঁপানি বা পারিবারিক ইতিহাস ছাড়া কোনে শিশুর অ্যাজমা হবে না। বরং ইদানীং এ ধরনের শৈশবকালীন হাঁপানি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

শিশুদের হাঁপানি বা অ্যাজমা - চিকিৎসা

মূলত এই হাঁপানি সমস্যার জেনেটিক মেটেরিয়ালস শিশু জন্ম থেকেই নিয়ে আসে তাদের পূর্বপুরুষ থেকে। হোমিওপ্যাথিতে দুরারোগ্য রোগের কারণ হিসেবে True Disease বা প্রকৃত রোগকে দায়ী করা হয়ে থাকে সেগুলির মধ্যে হাঁপানি বা অ্যাজমা সমস্যার পেছনে মূলত অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দায়ী থাকে Tubercular Diathesis. এছাড়া রয়েছে Post Trauma Syndrome (PTS) And Post Rabies Syndrome (PRS). হোমিওপ্যাথি মূলত মানুষের ভেতরে থাকা True Disease বা প্রকৃত রোগটির চিকিৎসা দিয়ে থাকে। এর মাধ্যমে শিশুদের হাঁপানি বা অ্যাজমাসহ সকল রোগ-ব্যাধি নির্মূল হয়ে শিশু প্রকৃত সুস্বাস্থ্য লাভ করে থাকে।

তবে এর জন্য অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসক - শিশুর নিজের, তার পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানীর হিস্ট্রি নিবেন এবং তার মধ্যে থাকা প্রকৃত রোগটি নির্ণয় করে সেটিকে প্রচ্ছন্ন অবস্থায় নিয়ে আসার জন্য হোমিওপ্যাথির নির্দিষ্ট নিয়মনীতি অনুযায়ী ডাইনামিক হোমিও মেডিসিন প্রয়োগ করবেন এবং ধাপে ধাপে সামনে আগাবেন। ধৈর্য্য ধরে চিকিৎসা নিলে একসময় দেখবেন হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমার সমস্যা স্থায়ীভাবে নির্মূল হয়ে গেছে ইনশা-আল্লাহ।
বিস্তারিত

শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০

ডাউন সিনড্রোম Down Syndrome টাইপ বা প্রকার কারণ লক্ষণ জটিলতা ও নিরাময়ের উপায়

আজকে আমরা ডাউন সিনড্রোম অর্থাৎ একটি জন্মগত ত্রুটি বা জেনেটিক ডিজঅর্ডার এর টাইপ বা প্রকার কারণ লক্ষণ জটিলতা ও নিরাময়ের উপায় সম্পর্কে জানবো। Down Syndrome কে সংক্ষেপে DS or DNS বলা হয়। যা ট্রাইসোমি ২১ নামেও পরিচিত। এটি মূলত শিশুদের  জন্ম পূর্বকালীন অর্থাৎ প্রি-ন্যাটাল পিরিয়ডের অন্যতম একটি দুরারোগ্য জেনেটিক সমস্যা যেখানে ২১ নং ক্রোমোজোমে আরেকটি অতিরিক্ত ক্রোমোজোম বিদ্যমান থাকে। যেহেতু মায়ের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশু জন্ম নেয়ার ঝুঁকিও বাড়ে, তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানে অধিক বয়সে, বিশেষ করে পঁয়ত্রিশোর্ধ্ব বয়সে গর্ভধারণ করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়। এরকম সন্তান জন্মদানের সম্ভাবনা ২০ বছর বয়সী মায়েদের ক্ষেত্রে ০.১% এরও কম এবং ৪৫ বছর বয়সী মায়েদের ক্ষেত্রে তা ৩% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

ডাউন সিনড্রোম নিয়ে জন্ম নেয়া মানুষের ক্রোমোজোমের গঠন সাধারণ মানুষের ক্রোমোজমের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন হয়ে থাকে। ব্রিটিশ চিকিৎসক জন ল্যাংডন ডাউন সর্বপ্রথম ১৮৬৬ সালে এ সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদেরকে চিহ্নিত করেন বলে তার নামানুসারে একে ডাউন সিনড্রোম নামকরণ করা হয়।
ডাউন সিনড্রোম জন্মগত ত্রুটি বা জেনেটিক ডিজঅর্ডার
আপনারা হয়তো জানেন, মানবদেহের গঠনের একককে কোষ বা সেল বলা হয়ে থাকে। আর মানুষের বংশগতি, আচার আচরণ ইত্যাদি সবকিছু নির্ধারিত হয় কোষস্থ DNA এর মাধ্যমে। এ কারণে ডিএনএ-কে বলা হয় আমাদের বংশগতির ধারক ও বাহক। অর্থাৎ আমাদের শারীরিক ও মানসিক যাবতীয় বৈশিষ্ট্য, আচার-আচরণ, বুদ্ধিমত্তা, চেহারা, উচ্চতা, গায়ের রং সব বৈশিষ্ট্যই ডিএনএ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। অন্যদিকে মানব শরীরে ডিএনএ এর অসামঞ্জস্য দেখা দিলে নানারকম শারীরিক ও মানসিক ত্রুটি দেখা দেয়, যাদের আমরা সাধারণভাবে জন্মগত ত্রুটি বা জেনেটিক ডিজঅর্ডার বলে থাকি। ডাউন সিনড্রোম হলো সেরকমই একটি জেনেটিক ডিজঅর্ডার।

ডাউন সিনড্রোম - কিভাবে হয় 

কোষে অবস্থান করা কোটি কোটি ডিএনএ এর সমন্বয়ে একেকটি ক্রোমোজম তৈরি হয়। মানবদেহের প্রতিটি কোষের মধ্যে ২৩ জোড়া ক্রোমোজম নামের অঙ্গানু থাকে, যার অর্ধেক আসে শিশুর মায়ের কাছ থেকে আর বাকি অর্ধেক বাবার কাছ থেকে। ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত মানুষের শরীরের প্রতিটি কোষে ২১ নম্বর ক্রোমোজমটির সঙ্গে আংশিক বা পূর্ণভাবে আরেকটি ক্রোমোজম (ট্রাইসোমি ২১) যুক্ত থাকে। আক্রান্ত শিশুর পিতামাতা জেনেটিক ভাবে স্বাভাবিক থাকে। অতিরিক্ত ক্রোমোজোমের ঘটনা দৈবক্রমে ঘটে থাকে।
২১ নম্বর ক্রোমোজম তিনটি থাকে বলে ২১/৩ বা একুশে মার্চ বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবস হিসেবে পালিত হয়। 
মূলত এই অতিরিক্ত ক্রোমোজমের কারণেই ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশুদের বিশেষ কিছু শারীরিক ও মানসিক ত্রুটি লক্ষ্য করা যায়। চেহারার গঠনগত দিক বিবেচনায় বা আচার আচরণে অধিকাংশ ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তদের মাঝে মিল থাকার কারণে তাদেরকে সহজেই ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশু হিসেবে শনাক্ত করা যায়।

ডাউন সিনড্রোম - টাইপ বা প্রকার

  • ট্রাইসোমি ২১ (Trisomy 21) : এটা ডাউন সিনড্রোমের সব থেকে প্রচলিত ধরণ এবং ৯৫% ক্ষেত্রেই এটি দেখা যায়। যেখানে প্রতিটি কোষে ২১ নং ক্রোমোজোমে আরেকটি অতিরিক্ত ক্রোমোজোম বিদ্যমান থাকে।
  • মোসাইসিসম (Mosaicism) :  এটি মাত্র ১% ক্ষেত্রে দেখা যায়। এক্ষেত্রে সব কোষে না হলেও কয়েকটা কোষে অতিরিক্ত ক্রোমোজোম থাকে। ট্রাইসোমির কয়েকটা উপসর্গ এখানেও দেখা যায়।
  • ট্রান্সলোকেশান (Translocation) :  মূলত ৪% ক্ষেত্রে এটি দেখা যায়। এই ধরণের ডাউন সিনড্রোমে, শুধুমাত্র ২১ নং ক্রোমোজোমের অতিরিক্ত অংশ থাকে অর্থাৎ সর্বমোট ৪৬ টা ক্রোমোজোম থাকলেও এর মধ্যে একটার সাথে ক্রোমোজোম ২১ এর অতিরিক্ত অংশ যুক্ত থাকে।

ডাউন সিনড্রোম - কি কারণে হয় 

ইতিমধ্যে জেনেছেন ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত মানুষের শরীরের প্রতিটি কোষে ২১ নম্বর ক্রোমোজমটির সঙ্গে আংশিক বা পূর্ণভাবে আরেকটি ক্রোমোজম (ট্রাইসোমি ২১) যুক্ত থাকে। কিন্তু সমস্যা হলো, ২১তম ক্রমোজমের অসংগতির ফলে ডাউন সিনড্রোম দেখা দেয়, এটা জানা গেলেও ঠিক কোন কোন কারণে এ অসংগতি হতে পারে, এ সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা আজো নিশ্চিত হতে পারেননি। আর তাই এলোপ্যাথিক সিস্টেমে এর কোন সমাধান নেই।
ডাউন সিনড্রোম মূলত একটি জেনেটিক ডিসঅর্ডার। এই সকল জেনেটিক সমস্যা নিয়ে বহু আগে থেকেই হোমিওপ্যাথি কাজ করে আসছে এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়মনীতি বা সংবিধান যা বিশ্বের আর কোন চিকিৎসা শাস্ত্রের নেই। যেকোন দুরারোগ্য রোগের একটি উন্নত আর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা মানেই হোমিওপ্যাথি। শিশুদের এইসকল  জন্মগত ত্রুটি বা জেনেটিক ডিসঅর্ডার হওয়ার মুলে বিশেষ করে ডাউন সিনড্রোম এর ক্ষেত্রে যে ফ্যাক্টর বেশি কাজ করে তা হলো PRS - Post Rabies Syndrome এছাড়া  PTS অথবা Infectious Miasms - Sycosis & Syphilis Miasm And Tubercular Diathesis ...(Read More) ও এর পেছনে থাকতে পারে, যেগুলি মূলত অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকগণ কেইস টেকিং করার সময় উৎঘাটন করে রোগীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করে থাকেন। মনে রাখবেন, রিয়েল হোমিওপ্যাথি বর্তমান বিশ্বে শিশুদের জন্মগত ত্রুটি বা জেনেটিক ডিজঅর্ডার সংক্রান্ত সমস্যাগুলির একটি কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি।

ডাউন সিনড্রোম - প্রকট বৈশিষ্ট্য

  • মাংসপেশির শিথিলতা
  • আকারে ছোট মাথাসহ কম উচ্চতা
  • চোখের কোনা উপরের দিকে উঠানো বা ট্যারা দৃষ্টি
  • চ্যাপ্টা নাক
  • আকারে ছোট কান ও ঘাড়
  • হাতের তালুতে একটি মাত্র রেখা
  • জিহ্বা বের হয়ে থাকা 
  • অনিয়ন্ত্রিতভাবে লালা ক্ষরণ ইত্যাদি

ডাউন সিনড্রোম - অন্যান্য শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ বা জটিলতা

  • তাদের মাংসপেশী সাধারণ মানুষদের তুলনায় শিথিল হয়। অর্থাৎ সাধারণ একজন মানুষের পেশীতে যতটা শক্তি থাকে তা ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তির থাকে না।
  • অনেকের ক্ষেত্রে আবার বিপরীতটাও লক্ষ্য করা যায়। স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত শক্ত মাংসপেশী থাকে অনেকের যা তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমের জন্যে বাধার সৃষ্টি করে। 
  • কানে কম শোনা, কথা বলতে দেরি হওয়া, কম বুদ্ধি ইত্যাদি জটিলতা থাকে। 
  • কিছু ক্ষেত্রে আক্রান্তদের অল্প বয়সেই হৃদরোগের সমস্যা হয় আর কিছু ক্ষেত্রে বয়স বাড়লে হার্টের সমস্যা গুরুতর হয়ে ওঠে, কেউ কেউ পাকস্থলীর সমস্যায়ও আক্রান্ত হয়ে থাকে। 
  • কারো ক্ষেত্রে থাইরয়েডের ত্রুটি দেখা যায়। 
  • হার্টের ত্রুটি এবং থাইরয়েডের ত্রুটি থাকার কারণে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে।
  • টেস্টিকুলার ক্যান্সার ও লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
  • তাদের আইকিউ বা বুদ্ধিমত্তা অনেক কম হয় তবে ৩০ বছর বয়সের পর সমস্যা আরো বেড়ে যায়। 
  • অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্তরা কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলে। 
ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত একটি শিশু বয়সের সাথে সাথে আর দশজন স্বাভাবিক শিশুর মতো বুদ্ধিবৃত্তিক বা আচরণগত বিকাশ ঘটাতে পারে না। তাদের আবেগীয় বিকাশটি সঠিকভাবে হয়ে ওঠে না। ফলে আশেপাশের যেকোন কিছুর প্রতি তাদের অতিরিক্ত আবেগ প্রদর্শন বা একদমই আবেগীয় কোনো অনুভূতি দেখা যায় না। দেখা গেলো, খুব সাধারণ একটি শব্দে তারা ভয় পেয়ে চমকে ওঠে, কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। আবার অনেক সময় এরাই অনেক ভয়ের বিষয় বা অনুভূতি প্রকাশ করার মতো ঘটনাকে অগ্রাহ্য করে। অর্থাৎ, মানসিক বিকাশ বা জ্ঞানীয় বিকাশগত জায়গা থেকে ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্তদের বেশ কিছু সমস্যা দেখা যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত গুটিকয়েক শিশু অস্বাভাবিক আইকিউ সম্পন্ন হয়ে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এদের Exceptional Children বলা হয়।

ডাউন সিনড্রোম - নিরাময়ের উপায়

বর্তমান বিশ্বে এই সমস্যার একটি কার্যকর চিকিৎসা হল রিয়েল হোমিওপ্যাথি। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শাস্ত্র শিশুদের জীনগত ত্রুটি বা জন্মগত রোগের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করে থাকে। কারণ জেনেটিক ডিসঅর্ডার হওয়ার মুলে যে ফ্যাক্টর কাজ করে তা হলো PRS - Post Rabies Syndrome এছাড়াও Infectious Miasms - Sycosis & Syphilis Miasm And Tubercular Diathesis ও এর পেছনে থাকতে পারে। আর এই সকল সমস্যা সমাধানের কার্যকর উপায় রয়েছে হোমিওপ্যাথিক ট্রিটমেন্ট সিস্টেমে। তবে এর জন্য যথা সময়ে সমস্যাটি চিহ্নিত করে রিয়েল হোমিওপ্যাথিক থেরাপিউটিক সিস্টেমে দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ এবং ট্রিটমেন্ট নিলে আশানুরূপ ফলাফল পেতে পারেন।
বিস্তারিত

সোমবার, ১৮ মে, ২০২০

শিশুর জন্মগত ত্রুটি এবং জন্মের পর মারাত্মক রোগ ব্যাধির প্রকৃত কারণ (PRS, PTS) ও সমাধান

শিশুর জন্মগত ত্রুটি Congenital anomalies এবং জন্মের পর নানা প্রকার মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা বা রোগ ব্যাধির কারণ এবং সমাধানের কার্যকর উপায় সম্পর্কে আজ আমরা জানবো। সাধারণত শিশুদের - Down Syndrome, Cerebral palsy, Autism, Juvenile Diabetes mellitus, Gilbert Syndrome, Thalaseemia, Hemophilia, Huntington's Chorea, SLE (Systemic lupus erythrematosus), Psoriasis, Neurofibromatosis, Congenital Heart Diseases ইত্যাদি সমস্যায় ভুগতে দেখা যায়। এছাড়াও রয়েছে আরো বহু শারীরিক বা মানুষিক প্রতিবন্ধকতা জনিত লক্ষণ এবং উপসর্গ। শিশুরা মূলত তাদের পিতা মাতা বা পূর্বপুরুষদের থেকে এই সকল দুরারোগ্য রোগের জেনেটিক মেটেরিয়ালস পেয়ে থাকে।

হোমিওপ্যাথি ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য চিকিৎসা শাস্ত্রগুলি এই সমস্যার সম্পর্কে উপরি উপরি চিন্তা করে মূলতো সেগুলির পেছনের স্থানিক কিছু কারণ নির্ণয় করার চেষ্টা করে থাকে তবে বহু ক্ষেত্রে সেটাও নির্ণয়ে ব্যর্থ হয়ে সেগুলির সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারে না। বর্তমান বিশ্বে একমাত্র একটি চিকিৎসা শাস্ত্রই এই সমস্যাগুলির প্রকৃত কারণগুলি নিয়ে বহু কাল ব্যাপী গবেষণা করে সমাধানের কার্যকর উপায় উদ্ভাবন করেছে আর তা হলো হোমিওপ্যাথি। আজ মূলত আমরা শিশুদের জন্মগত বা জন্মের পর মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যাগুলির পেছনের প্রকৃত কারণ কি হতে পারে সেগুলি নিয়েই আলোকপাত করবো। প্রধানত দুটি ফ্যাক্টর এই সমস্যাগুলির  পেছনে কাজ করে -
  • PRS - Post Rabies Syndrome
  • PTS - Post Trauma Syndrome
এছাড়া এর পেছনে দায়ী থাকে Morbific Noxious Agent - Psora or Psoric Miasm এবং Infectious Miasms - Sycosis & Syphilis Miasm And Tubercular Diathesis...(Read More). তবে আমরা আজ মূলত শিশুদের ক্ষেত্রে প্রকট PRS এবং PTS নিয়েই আলোচনা করবো যেগুলি হোমিওপ্যাথির নব্য আবিষ্কৃত রত্ন যা চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডাঃ শ্যামল কুমার দাস কর্তৃক বহু বছরের গবেষণা লব্ধ বাস্তব এবং জীবন্ত ফলাফল।
শিশুর জন্মগত এবং জন্মের পর মারাত্মক রোগ ব্যাধির প্রকৃত কারণ ও সমাধান

Post Rabies Syndrome (PRS)

প্রথমেই আসুন পোস্ট রেবিস সিন্ড্রম সম্পর্কে আলোকপাত করা যাক। যেকোন Animal Bite (Dogs, Cats, Bates, Snakes etc) এবং ঐ Bite এর কারণে চিকিৎসায় ব্যবহৃত Vaccine বা টিকা জনিত সমস্যা, পরবর্তী সময়ে এবং পরবর্তী প্রজন্মগুলিতে যেসকল জটিল পরিস্থিতি তথা বিভিন্ন অস্বাভাবিক এবং ভয়ঙ্কর সমস্যার সৃষ্টি হয়, সেগুলিকে একত্রে Post Rabies Syndrome (PRS) আখ্যা দেয়া হয়েছে।
  • এই বিষে বিষাক্ত Zygote থেকে সৃষ্ট শিশু, কখনো কখনো মাকে গর্ভাবস্থায় ভীষণ কষ্ট দেয় অর্থাৎ গর্ভাবস্থায় মা ভীষণ কষ্ট ভোগ করেন যদিও সব ক্ষেত্রে এমনটি হয় না।
  • এই বিষাক্ত Zygote থেকে সৃষ্ট শিশু মারাত্মক দৈহিক ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেয়, অবস্থা এমন ভয়ঙ্কর থাকে যে জন্ম নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে NICU তে ভর্তি করতে হয়, কাউকে আবার তক্ষনি অপারেশন করতে হয়, যেমন CDH - Congenital Diaphragmatic Hernia, শিশু জন্ম নিয়েছে কিন্তু মলদ্বার হয়নি ইত্যাদি।
  • শিশু জন্ম নেয়ার আগের মুহূর্তে মায়ের পানি ভেঙে গিয়ে এমন ভযঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল যে শিশুটিকে তক্ষনি পেট কেটে (Cesarean Section) না করলে মারা যেত।
  • শিশুটি মায়ের পেট থেকে বেরিয়ে এসেছিলো নীলবর্ণ, মৃতপ্রায় অবস্থায়, বাঁচবার কোন আশাই ছিল না।
  • এর আগে দুটি শিশু যথাক্রমে তিন মাসে এবং পাঁচ মাসে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক চিকিৎসার পর এই শিশুটি মৃতপ্রায় হয়ে জন্মেছে।
  • আবার এমন বিষাক্ত Zygote থেকে সৃষ্ট শিশু জন্ম নিয়েছে দুরারোগ্য Genetic Disease নিয়ে যেমনঃ Down Syndrome, Cerebral palsy, Autism, Juvenile Diabetes mellitus, Gilbert Syndrome, Thalaseemia, Hemophilia, Huntington's Chorea, SLE (Systemic lupus erythrematosus), Psoriasis, Neurofibromatosis, Congenital Heart Diseases etc.
  • কখনো এমন বিষাক্ত Zygote থেকে সৃষ্ট শিশু Pancreas এর তীব্র সমস্যা নিয়ে জন্মায়। এই সমস্যা পরবর্তী সময়ে Acute pancreatitis, Chronic pancreatitis, Pancreatic carcinoma ইত্যাদি রূপে প্রকাশ পায়।
  • Post Rabies Syndrome (PRS) প্রকট, এমন শিশুরা মায়ের গর্ভে অবস্থান কালে মাকে ভীষণ কষ্ট দেয়, Neonatal period এও মাকে ভীষণ কষ্ট দেয় যেমনঃ দিবারাত্র ভীষণ কান্না, যার জন্য মায়ের খাওয়া-ঘুম থাকে না, আবার হঠাৎ হঠাৎ এমন ভয়ংকর অসুস্থ হয়ে যায় যে চিকিৎসকের নির্দেশে তক্ষনি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এই সকল শিশু অপ্রতুল Vital Force নিয়ে জন্মায় যার কারণে তাদের Immune System খুব দুর্বল থাকে ফলে এরা খুব সহজেই বিভিন্ন Infectious disease (Severe Pneumonia, Bronchitis, Typhoid, Gastroenteritis, Cold, Cough, Fever, Measles, Mumps, Pox, Tonsillitis, Cholera, Malaria etc) এ আক্রান্ত হয় এবং প্রত্যেকটি Infectious disease ই দ্রুত ভয়ঙ্কর রূপ নেয়।
  • আবার এমনও হতে পারে যে জন্মের সময় একটু সমস্যা ছিল বা ছিল না কিন্তু কিছু দিন পর ক্যান্সার বা ক্যান্সারের মতো ভয়ঙ্কর রোগ শুরু হলো।
এছাড়া সারাটা জীবন একটা না একটা সমস্যা লেগেই থাকে, সুস্থতার আনন্দ সৃষ্টিকর্তা তাদের জন্য মঞ্জর করেননি। এদের বয়স যত বাড়তে থাকে এদের রোগের জটিলতাও বাড়তে থাকে, কারণ PRS প্রকট এমন শিশু বা মানুষেরা যখন কোন দৈহিক বা মানুষিক সমস্যার চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন Therapeutic System এর চিকিৎসকের কাছে যান, তারা Symptomatic বা উপরি উপরি চিন্তা করে লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা দিয়ে তাৎক্ষণিক আরাম দিয়ে পেসেন্টকে সন্তুষ্ট করেন কিন্তু যে কারণে ঐ কষ্টকর লক্ষণগুলির সৃষ্টি, সেটির কোন প্রতিকার করা হয় না বলে মূল সমস্যা জটিল থেকে জটিলতর এবং সবশেষে জটিলতম অবস্থায় পৌঁছায়। তখন চিকিৎসকরা বলেন - "বয়স হয়েছে, আমরাও যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ভালোমন্দ খেতে দিন।"
এছাড়া Post Rabies Syndrome (PRS) প্রকট নিয়ে জন্মানো শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন অস্বাভাবিকতা দেখা যায় যেমন -
  • ভয়ঙ্কর দৈহিক পরিস্থিতি নিয়ে শিশুটি ভুমিষ্ঠ হয়েছে
  • জন্মাবার পর দীর্ঘক্ষণ কান্না করেনি, এমনকি অনেক চেষ্টার পরও
  • দীর্ঘক্ষণ পায়খানা প্রস্রাব করেনি
  • স্তনপান করেনি বরং বলা ভালো স্তনপান করবার শক্তিটুকু ছিল না
  • মস্তিষ্কে বা অন্য কোন অঙ্গে বড় টিউমার নিয়ে জন্মেছে
  • অসামঞ্জস্য দৈহিক গড়ন
  • শিশুটি ভূমিষ্ঠ হয়েছে দাঁত, চুল, দাঁড়ি, গোঁফ ইত্যাদি নিয়ে
  • জন্ম সময়ে শিশুটির মলদ্বার ছিল না
  • শিশুটি জন্মেছে মাথাটি অস্বাভাবিক বড় 
  • এমন বিপদজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে EDD [Expected date of delivery] এর ১ থেকে ২ মাস পূর্বেই গর্ভের শিশুকে বের করে নিতে হয় (Cesarean Section) অন্যথায় শিশুটির জীবন সংশয় দেখা দিতে পারে
  • শিশুটি জন্ম নেয়ার পর থেকে বা ১-২ দিন পর থেকে দিবারাত্র অবিরাম কান্না দীর্ঘদিন ধরে, কোন কিছুতেই কান্না বন্ধ হতো না, বেদনানাশক বা অচেতন করার ঔষধ না দিলে 
এছাড়া আরো যে যে কারণে Post Rabies Syndrome (PRS) সদৃশ পরিস্থিতি তৈরী হয় -
  • শিশুটি গর্ভে আসার আগে বাবা অথবা মা খুব কঠিন রোগের জন্য প্রচুর ঔষধ খেয়েছিলেন 
  • শিশুটি জন্মগ্রহণ করার পর বাবা অথবা মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়েছে
  • এই শিশুটি গর্ভে আসার পূর্বে পরপর তিনবার বিভিন্ন সময়ে বা মাসে Spontaneous Abortion হয়েছে বলে প্রচুর ঔষধ খাওয়ার পর এই শিশুটি জন্মেছে
  • গর্ভের শিশুটিকে অনাকাঙ্খিত মনে করে বিভিন্ন ঔষধ খেয়ে Induced Abortion করার চেষ্টা হয়েছিল কিন্তু গর্ভপাত হয়নি 
  • পাঁচ বছর আগে বিয়ে হলেও কোন সন্তান হয়নি বলে প্রচুর ঔষধ খেয়ে এই শিশুটি জন্মেছে
  • বিষধর সাপের দংশন এবং দংশনজনিত চিকিৎসার পর বিভিন্ন জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে
  • মায়ের ছোট বেলা অর্থাৎ প্রথম মাসিকের আগে থেকেই সাদা স্রাবের সমস্যা ছিল 
  • মায়ের প্রথম মাসিকে প্রচন্ড ব্যথা (Dysmenorrhoea) ছিল।

Post Trauma Syndrome (PTS)

Trauma: 
  • Mental Shock
  • Physical illness
A very difficult or unpleasant experience that causes someone to have mental or emotional problems usually for a long time.

Medical: 
  • A serious injury to a person's body.
  • An injury (such as wound) to living tissue caused by extrinsic agent.
  • A disordered psychic or behavioral state resulting from severe mental or emotional stress or physical injury.
  • An agent, force or mechanism that causes trauma.
Here "Trauma" means effect of different ailments and different medicines used for the treatment for long time on the individual and "Post Trauma Syndrome" means complications after multiple treatment by which disappearance of primary manifestations of the ailments through unscientific way.
শিশুরা PTS পেয়ে থাকে বংশগতির মাধ্যমে, গর্ভে অবস্থান কালে এবং জন্ম নেয়ার পর থেকে 
  • বংশগতির মাধ্যমে : শিশুটি গর্ভে আসার অনেক আগে থেকে হুবু  বাবা-মা অথবা যেকোন একজনের বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসা চলছিল
  • গর্ভে অবস্থান কালে : মায়ের বিভিন্ন সমস্যার জন্য বিভিন্ন বা একটি বা দুটি ঔষধ লাগাতার খেতে হয়েছে
  • জন্ম নেয়ার পর : ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে ভয়ংকর না হলেও পেটের দোষ, ঠান্ডার দোষ  ইত্যাদির জন্য লাগাতার অথবা প্রায় প্রতিদিন ঔষধ খাওয়ার ফলে PTS উৎপন্ন হয়। 

শিশুর জন্মগত এবং জন্মের পর মারাত্মক রোগ ব্যাধির চিকিৎসা

শিশুদের এই সকল রোগের সর্বাধিক কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করছে হোমিওপ্যাথি। পৃথিবীতে হোমিওপ্যাথি ছাড়া অন্য সকল চিকিৎসা শাস্ত্র উপরি উপরি চিন্তা করে চিকিৎসা কার্য্য সম্পাদন করে থাকে যার কারণে মূল থেকে রোগ নির্মূলে ব্যর্থ হয় তারা। তাছাড়া হোমিওপ্যাথি ছাড়া অন্যান্য চিকিৎসা শাস্ত্রে বহু দুরারোগ্য বা ক্রনিক রোগের চিকিৎসাই নেই। একমাত্র হোমিওপ্যাথি রোগের বাস্তব কারণ অনুসন্ধান করে মূল থেকে যেকোন দুরারোগ্য রোগ নির্মূলের চিকিৎসা দিয়ে থাকে। আর এই কারণেই শিশুর জন্মগত এবং জন্মের পর মারাত্মক রোগ ব্যাধির সবচেয়ে কার্যকর এবং সুচিকিৎসা নিশ্চিত করছে হোমিওপ্যাথি। তবে এর জন্য অবশ্যই এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরী।
বিস্তারিত

শনিবার, ১৬ মে, ২০২০

সেরিব্রাল পালসি - শিশুর স্নায়বিক ভারসাম্যহীনতার কারণ লক্ষণ ও উন্নত চিকিৎসা

শিশুর জন্মগত ত্রুটি সেরিব্রাল পালসি Cerebral Palsy  সম্পর্কে আজ আলোকপাত করবো। Cerebral মানে মস্তিষ্ক আর Palsy মানে অবশভাব অর্থাৎ "মস্তিষ্কের অবশভাব" বা "মস্তিষ্কের অবশ হয়ে পড়া" যা মূলত একধরনের স্নায়বিক ভারসাম্যহীনতা। এক্ষেত্রে শিশুর স্নায়বিক ভারসাম্যহীনতার পেছনে মস্তিষ্ক গঠনের সময় আঘাতজনিত কারণ দায়ী থাকে যাকে বলা হয় Post Trauma Syndrome(PTS). এছাড়া স্নায়ুকোষের ঠিকঠাক ভাবে কাজ না করার মতো কারণও পাওয়া যায় যার পেছনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দায়ী Post Rabies Syndrome(PRS).  চিকিৎসা দেয়ার সময় আমরা মূলত এই বিষয়গুলিই বেশি দেখে থাকি।

বিভিন্ন দুরারোগ্য রোগের জেনেটিক মেটেরিয়ালের প্রকটতাও এই ধরণের সমস্যার জন্য দায়ী যা একমাত্র হোমিও চিকিৎসার মাধ্যমে প্রচ্ছন্ন করা যায়। শিশুর জন্মগত ত্রুটি এবং জন্মের পর মারাত্মক রোগ ব্যাধিগুলির প্রকৃত কারণ ও সমাধান সংক্রান্ত আর্টিকেলটি দেখে নিবেন কারণ সেরিব্রাল পালসি তেমনই একটি সমস্যা। সেরিব্রাল পালসির জন্য শিশুর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের নড়াচড়া, পেশীর সক্ষমতা, ভারসাম্য, সব কিছুই ব্যাহত হয়। এটি হল শিশুদের একটি দুরারোগ্য অক্ষমতা। তবে এর উন্নত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা রয়েছে।

সেরিব্রাল পালসি জন্মের সময় পাওয়া আঘাতে বা জন্মগত ত্রুটি অর্থাৎ (PTS and PRS) এর জন্য হতে পারে। এছাড়া প্রসবকালীন জটিলতার জন্য নবজাতকের মস্তিষ্কে যদি অক্সিজেনের অভাব ঘটে তাহলে শিশুটির মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে। শিশুর জন্মগত ত্রুটি গর্ভাবস্থায় মায়ের সংক্রামক রোগ বা জিনগত বিকৃতির জন্য হয়ে থাকে। জন্মগত সেরিব্রাল পালসি জন্মের আগে বা জন্মের সময় হওয়া মস্তিষ্কের ক্ষতির জন্য হয়ে থাকে।
সেরিব্রাল পালসি - স্নায়বিক ভারসাম্যহীন শিশুর উন্নত চিকিৎসা
যেহেতু সেরিব্রাল পলসি হচ্ছে শিশুর জন্মের সময়, আগে অথবা জন্মের কিছু পরে ব্রেইন এর কোন আঘাত বা রক্ত চলাচলের ব্যঘাতের ফলে সৃষ্ট শারীরিক চলাচলের এবং এর সমন্বয়ের সমস্যা তাই সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৫০% শিশুরা বুদ্ধিগত প্রতিবন্ধকতার শিকার। তবে কিছু শিশু সাধারণের চেয়ে অনেক গুণ বেশি বুদ্ধি সম্পন্ন হয়ে থাকে। সেরিব্রাল পালসি শারীরিক প্রতিবন্ধীতার মতই। অটিজমে মানসিক সমস্যা তৈরি হয়। সেরিব্রাল পালসিতে মস্তিষ্কে সমস্যা হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে।
জন্মগত ত্রুটি নিয়ে কোন বাচ্চা কোন পরিবারে জন্মগ্রহণ করুক তা কারোই কাম্য নয়। আর যদি কোন পরিবারে এমন বাচ্চা জন্ম হয় বা পরে সেরিব্রাল পালসির মতো সমস্যায় আক্রান্ত হয় তবে তাকে বোঝা মনে না করে সুস্থ করে তুলতে হবে। শিশুটির বর্তমান ত্রুটি, তার পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানী অর্থাৎ ফ্যামিলি হিস্ট্রি নিয়ে একটি প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা মাধ্যমের সেরিব্রাল পালসির মতো সমস্যার বিভিন্ন পর্যায়ে আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায়।

সেরিব্রাল পালসি - টাইপ

মস্তিষ্কের কোন অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে সেরিব্রাল পালসিকে চারটি শ্রেণীতে বিন্যস্ত করা যায়। এগুলো হলো:
  • Spastic Cerebral Palsy
  • Athetoid Cerebral Palsy
  • Ataxic Cerebral Palsy
  • Mixed Cerebral Palsy
স্প্যাস্টিক সেরিব্রাল পালসি: সেরিব্রাল পালসির প্রকরণগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে সাধারণ (প্রায় ৯১ শতাংশ)। সেরিব্রাল কর্টেক্সে আঘাতের ফলে এটি দেখা দেয়। আক্রান্ত শিশুর মাংসপেশি শক্ত এবং মাংসপেশীতে টানটান ভাব অনেক বেশি থাকে। জয়েন্টের নড়াচড়া অনেক শক্ত হয়ে যায়। 

অ্যাথিটয়েড সেরিব্রাল পালসি: এতে আক্রান্ত শিশুর মাংসপেশি খুব দ্রুত শক্ত হয়ে ওঠে, হাতে-পায়ে অনিয়ন্ত্রিত ঝাঁকুনি দেয়। জিহ্বা ও কণ্ঠনালি নিয়ন্ত্রণ করতে সমস্যা হওয়ায় এদের কথা বলতে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়।

আটাক্সিক সেরিব্রাল পালসি: এটি সবচেয়ে বিরল প্রজাতির সেরিব্রাল পালসি। সাধারণত ব্রেইনের সেরিবেলাম অংশে দুর্বিলতা থাকে অথবা সেরেবেলামে আঘাতের ফলে এটি দেখা দেয়। এ ধরনের শিশুরা নিজে থেকে কিছু করতে গেলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ভেতর সমন্বয় করতে পারে না এবং ভারসাম্যেও সমস্যা থাকে। মাথা, ঘাড় ও কেমড় স্থির রাখতে পারে না। 

মিক্সড সেরিব্রাল পালসি: এ ধরনের শিশুদের লক্ষণসমূহ বিভিন্ন প্রকার সেরিব্রাল পালসির সমন্বয়ে হয়ে থাকে। যদিও স্প্যাস্টিক ও অ্যাথিটয়েড এই দুই প্রকারের সমন্বয়ই বেশি দেখা যায়।

সেরিব্রাল পালসি - কারণ

ঠিক কী কারণে শিশুদের মধ্যে সেরিব্রাল পালসি দেখা দেয়, তা এখন পর্যন্ত অজানা তবে গর্ভাবস্থায় বা জন্মের সময় বা জন্মের প্রথম তিন বছরের মধ্যে মস্তিষ্কের আঘাত বা ক্ষতকেই এর মূল কারণ হিসেবে ধরা হয় যাকে বলা হয়ে থাকে Post Trauma Syndrome(PTS). প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রেই গর্ভাবস্থায় মস্তিষ্কের আঘাত শিশুকে সেরিব্রাল পালসির দিকে ঠেলে দেয়।
  • শিশুর জন্মগত ত্রুটি গর্ভাবস্থায় মায়ের সংক্রামক রোগ বা জিনগত বিকৃতির জন্য হয়ে থাকে
  • জন্মগত সেরিব্রাল পালসি জন্মের আগে বা জন্মের সময় হওয়া মস্তিষ্কের ক্ষতির জন্য হয়ে থাকে
  • গর্ভাবস্থায় প্রসূতির বিভিন্ন অসুস্থতা থাকলে। যেমন: হাম, অনিয়ন্ত্রিত বহুমূত্র, উচ্চ রক্তচাপ, ভাইরাস জ্বর ইত্যাদি
  • গর্ভাবস্থায় প্রসূতি অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করলে কিংবা প্রয়োজনীয় ফলিক অ্যাসিড এর অভাব হলে
  • অপরিণত অবস্থায় শিশু ভূমিষ্ট হলে
  • প্রসবের সময় মস্তিষ্কে আঘাত পেলে
  • জন্মের পর শিশুটি স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে না পারলে
  • শিশুটি তীব্র জন্ডিসে আক্রান্ত হলে
  • জন্মের পর মস্তিষ্কের সংক্রমণজনিত ব্যধিতে আক্রান্ত হলে। যেমন: মেনিনজাইটিস
  • কোনো দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পেলে
  • কোনো রোগ বা সংক্রমণের কারণে (জ্বর বা ডায়রিয়ায়) শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়লে
  • রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ের ফলেও (যেমন চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো, খালাতো বোন-ভাইয়ের মধ্যে বিয়ে) তাদের বাচ্চা সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়
  • এছাড়াও বাবা এবং মায়ের রক্তের গ্রুপ একই হলে অনাগত শিশুর সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি  হতে পারে
মূলত এই সকল কারণগুলি আমরা উপরি উপরি চিন্তা করে নির্ণয় করে থাকি। প্রকৃত পক্ষে এই সমস্যার পেছনের বাস্তব কারণ হলো Post Rabies Syndrome(PRS) and Post Trauma Syndrome(PTS) এবং বংশগত ভাবে প্রাপ্ত বিভিন্ন দুরারোগ্য রোগের জেনেটিক মেটেরিয়ালস।

সেরিব্রাল পালসি - লক্ষণ

সাধারণত শিশু জন্মের প্রথম তিন বছরের মধ্যেই সেরিব্রাল পালসির লক্ষণগুলো স্পষ্ট হতে শুরু করে। এটি শরীরের যেকোন অঙ্গকে আক্রমণ করতে পারে। মস্তিষ্কের আঘাত বা ট্রমার প্রকৃতি ও মাত্রার ওপর রোগটির তীব্রতা নির্ভর করে। তাই এর উপসর্গগুলো একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। তবে যেগুলি আমরা বেশি দেখি সেগুলির মধ্যে রয়েছে -
  • আক্রান্ত শিশুদের দেহের ভারসাম্য বজায় রাখতে অসুবিধা যা শিশুর বসা, দাঁড়ানো, হাঁটার শিখার সময় স্পষ্ট হয়ে ওঠে
  • আক্রান্ত শিশুর পেশীর গঠন অধিক শক্ত বা শিথিল হতে দেখা যায়। এর জন্য আক্রান্ত শিশুদের হাত পা কুঁকড়ে যায়, অনিয়মিত পেশীর সঙ্কোচন ঘটে এবং ক্রমাগত কাঁপতে থাকে। এর ফলে কারো সাহায্য ছাড়া হাঁটাচলা, বসে থাকা বা দাঁড়ানো কোনোটাই সম্ভব হয় না
  • হামাগুড়ি দেওয়ার সময় একদিকে হেলে থাকা, ছয় মাস বয়সে পেরিয়ে যাবার পরেও বসতে না শেখা, অথবা ১২-১৮ মাসের পরেও হাঁটতে না পারা, এগুলো সেরিব্রাল পালসির লক্ষণ হতে পারে
  • কেউ কেউ লেখা, দাঁত মাজা বা জুতো পরা, এগুলো করতে পারে না
  • কারো ক্ষেত্রে শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ, কথা বলা ও খাদ্য চর্বনে তাদের অসুবিধা দেখা দেয়
যদিও সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুরা অনেক সময়ই স্পষ্ট ভাবে কথা বলতে পারে না, কিন্তু তারা অন্যদের বলা কথা বা দেওয়া নির্দেশ সঠিক ভাবে বুঝতে এবং অনুসরণ করতে পারে। সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত বেশীরভাগ শিশু অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত হয়। ভিন্নতাও কিছুটা আছেই, কারন এ রোগের উৎপত্তির একটা মূল কারণ জন্মের সময় কিংবা পরে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত হওয়া।

সেরিব্রাল পালসি - চিকিৎসা 

ট্র্যাডিশনাল ট্রিটমেন্ট: মূলত সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপিস্ট, স্পীচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট, পেডিয়াট্রিসিয়ান, অক্যুপেশনাল থেরাপিস্ট, বিশেষ ধরনের শিক্ষক এবং মানসিক চিকিৎসক সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন পড়ে ট্র্যাডিশনাল চিকিৎসা ব্যবস্থায় যা অনেক ক্ষেত্রেই ব্যায়বহুল এবং সাধারণের সাধ্যের বাহিরে।

হোমিওপ্যাথিক ট্রিটমেন্ট: শিশুদের সেরিব্রাল পালসি সমস্যার একটি উন্নত এবং নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা পদ্ধতি হলো হোমিওপ্যাথি। প্রপার একটি হোমিও চিকিৎসায় এই ধরণের শিশুদের স্থায়ী পরিবর্তন নিয়ে আসা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। তবে এর জন্য অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরী অন্যথায় ভাল ফলাফল আশা করা দুস্কর। এক্ষেত্রে হোমিও চিকিৎসকগণ শুধুমাত্র উপরি উপরি দিক চিন্তা করেই চিকিৎসা প্রদান করেনা না কারণ এর পেছনে থাকে PTS, PRS এবং পিতা-মাতা বা পূর্ব পুরুষ থেকে প্রাপ্ত দুরারোগ্য রোগের জেনেটিক মেটিরিয়াল। তাই এই ক্ষেত্রে শিশুর বর্তমান অবস্থা, পিতা-মাতা, দাদা-দাদী অর্থাৎ ফ্যামিলি হিস্ট্রি জেনে তার জেনেটিক্যাল অবস্থা বিচার বিশ্লেষণ পূর্বক চিকিৎসা শুরু করতে হয়। তখন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এবং হোমিওপ্যাথির নিয়মনীতি অনুসরণ করে একটি উন্নত চিকিৎসা দিলে শিশু দিন দিন উন্নতির দিকে যেতে থাকে এবং এক সময় সার্বিক একটি স্থায়ী পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় যা হোমিওপ্যাথি ছাড়া অন্যকোন চিকিৎসা শাস্ত্রে সম্ভব হয় না।
বিস্তারিত

রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৯

অটিজম Autism কি? কেন হয়? লক্ষন ও কার্যকর ক্লাসিক্যাল ট্রিটমেন্ট

অটিজম Autism হল মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা। যা মূলত স্নায়ু বা স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও পরিবর্ধন জনিত অস্বাভাবিকতার ফলে হয়ে থাকে অর্থাৎ এটি নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার (Neurodevelopmental Disorder).অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার (এএসডি) Autism Spectrum Disorder (ASD) শিশু জন্মানোর দেড় থেকে তিন বছরের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

অটিজমে আক্রান্ত শিশুর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে অসুবিধা হয়। অটিজমের কারণে কথাবার্তা, অঙ্গভঙ্গি ও আচরণ একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকে আবার অনেক ক্ষেত্রে শিশুর মানসিক ও ভাষার উপর দক্ষতা কম থাকে।

অটিজম Autism - কারণ

পেছনের কারণ খুঁজতে গেলে বহু রোগের পেছনের কারণই খুঁজে পাবেন না। অটিজম সমস্যার ক্ষেত্রেও বিষয়টি তাই। অর্থাৎ অটিজমের নির্দিষ্ট কোন কারণ নেই। উপরি উপরি চিন্তা করে অটিজম এর নানা কারণ সনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে যেমন রয়েছে জিন ঘটিত কারণ তেমনই রয়েছে অনেক অসুখ যেগুলি থেকে অটিজম হতে পারে যেমনঃ ভাইরাল ইনফেকশন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্রোমোজোমের সংখ্যার হ্রাস বা বৃদ্ধির কারণেও এই রোগ হয়ে থাকে। এই রোগের প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনও অনুসন্ধান চলছে। তবে একটা জিনিস বোঝা গিয়েছে তা হল আমাদের মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রের বিভিন্ন কোষগুলির পারস্পরিক সংযোগ কমে যাওয়া অথবা স্নায়ু থেকে নিঃসৃত কিছু রাসায়নিক পদার্থের অভাব— ইত্যাদির কারণেও এই রোগ হতে পারে।

বর্তমানে দেখা যায়, শিশু মাতৃগর্ভে থাকাকালীন মায়ের কোন অসুখ করলে অথবা শিশু ভূমিষ্ঠ হাওয়ার পরে তার শারীরিক অবস্থার কোন ত্রুটি থাকলে মস্তিষ্কের উপরে চাপ পরে। ফলে মস্তিষ্কের অভ্যন্তরীণ গঠন পরিবর্তিত হতে পারে। এর মুলে রয়েছে মূলত Post Trauma Syndrome (PTS). 

নারীদের তুলনায় পুরুষদের অটিজমে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা ৪ গুণ বেশি। এছাড়াও পরিবারে কারও অটিজম থাকলে শিশুর এই সমস্যায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। আবার বেশি বয়সে সন্তান ধারণ ও গর্ভকালীন জটিলতা থাকলে সন্তানের অটিজমে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। মোট কথা হলো সুপারফিশিয়াল চিন্তা করে আমরা এই সমস্যার সাধারণ যে কারণগুলি খুঁজে পাই সেগুলি হলো -
  • জেনেটিক বা জীনগত সমস্যা
  • ভাইরাল ইনফেকশন
  • পরিবেশগত সমস্যা
  • গর্ভকালীন জটিলতা ইত্যাদি

অটিজম Autism - প্রকৃত কারণ

হোমিওপ্যাথি কিন্তু এর গভীরে গিয়ে চিন্তা করে এই সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের চেষ্টা করে থাকে। জেনে রাখা ভালো মানুষ মূলত রোগ-ব্যাধি পেয়ে থাকে তাদের পূর্ব পুরুষ থেকেই জেনেটিক ম্যাটেরিয়ালস এর মাধ্যমে। তাই অটিজম হওয়ার পেছনে দায়ী থাকে বিভিন্ন প্রকৃত রোগ বা True Diseases যেমন: Post Rabies Syndrome (PRS), Post Trauma Syndrome (PTS), Morbific Noxious Agent - Psora or Psoric Miasm And Infectious Miasms - Sycosis & Syphilis Miasm And Tubercular Diathesis...(Read More). তাই একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসক মূলত কেইস টেকিং এর সময় পেসেন্টের মধ্যে কোন প্রকৃত রোগটি প্রি -ডোমিনেন্ট অবস্থায় রয়েছে সেটিই খুঁজে বের করে সেটিকে প্রচ্ছন্ন করার জন্য ট্রিটমেন্ট দিয়ে থাকেন আর তাতেই পেসেন্ট দিন দিন উন্নতির দিকে আগায়। তাই বর্তমান বিশ্বে অটিজমের একটি কার্যকর চিকিৎসার হলো হোমিওপ্যাথি। 

অটিজম হয়েছে কিভাবে বুঝবেন ?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশুটির মা বাবা প্রথমেই বুঝতে পারে যে তাদের শিশুটি অন্যান্য শিশুদের থেকে কিছুটা আলাদা। অনেক সময় শিশুদের স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও ওই শিশুটির প্রতি বাবা মার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যে, শিশুটির আচরণ অন্যদের থেকে আলদা। এ ছাড়াও অনেক সময় মা প্রথম বুঝতে পারে যে তার শিশুটি কথা বলতে পারছে না বা কথা বলতে দেরি হচ্ছে। তখন তারা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তখন রোগটি ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা শুরু করা যায়।

অটিজম Autism - লক্ষণাবলী

  • অনেক শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ঠিকঠাক ভাবে হয় না
  • অটিজম থাকা শিশুদের মানসিক অস্থিরতার ঝুঁকি বেশী থাকে
  • এসকল শিশুর বিষন্নতা, উদ্বিগ্নতা ও মনোযোগে ঘাটতিসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে
  • ঠিকমত কথা বলতে না পারা, একই শব্দ বারবার বলা, কথার মানে বুঝতে না পারা, ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে কথা বোঝানোর চেষ্টা করা ইত্যাদি
  • কেউ কেউ একই শব্দ বারবার বলছে 
  • অতিরিক্ত রাগ বা জেদ করা, অনেক-বেশী কান্না বা হাসি
  • রুটিন পরিবর্তনে ক্ষিপ্ত হওয়া, কারও চোখের দিকে কম তাকায় বা তাকায় না
  • কাউকে কিছু অনুরোধ করে না এবং সাহায্য চায় না ইত্যাদি
  • কেউ কেউ খুব আক্রমণাত্মক আচরণ করে থাকে যেমন কাউকে আঘাত করা, কামড়ানো, মারতে আসা, জিনিস পত্র ছুড়ে ফেলা বা জিনিস পত্র ভেঙে ফেলা ইত্যাদি 
  • অন্য বাচ্চাদের সাথে মিশতে চায় না, একা খেলাধুলা করে, কেউ তাকে কোলে নিতে গেলে বিরক্তি প্রকাশ করে, সামাজিক রীতি-নীতি বুঝতে পারেনা ইত্যাদি
  • অটিস্টিক শিশুদের প্রায়ই হজমের অসুবিধা, পেট ব্যথা, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটের গ্যাস, বমি ইত্যাদি হতে পারে।

অটিজম Autism - চিকিৎসা

এই সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য হোমিওপ্যাথি একটি বেস্ট চিকিৎসা পদ্ধতি। যথা সময়ে পেসেন্টের এবং ফ্যামিলি হিস্ট্রি পর্যালোচনা করে একটি ভালো হোমিও চিকিৎসা দিলে আশাতীত ফলাফল চলে আসে। তবে এর জন্য চিকিৎসককে শিশুটির মধ্যে বিদ্যমান True Disease বা প্রকৃত রোগটি খুঁজে বের সামনে আগাতে হয় তাই পেসেন্টের পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানী অর্থাৎ পূর্ববর্তী প্রজন্মের বিস্তারিত হিস্টি দিয়ে অবশ্যই চিকিৎসককে সাহায্য করতে হবে। 
বিস্তারিত