Showing posts with label নাক কান গলা. Show all posts
Showing posts with label নাক কান গলা. Show all posts

Thursday, August 8, 2019

কানের প্রদাহ (Otitis media) কান পাকা রোগ ও এর সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি

অনেকেই আছেন যারা এই কান পাকা রোগটিকে খুব সাধারণ মনে করে থাকেন এবং ঠিকমত চিকিৎসাও করান না। কিন্তু এই রোগের ঠিকমত চিকিৎসা না করালে নানারকম জটিলতা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় রোগী মারাত্মক জটিলতা নিয়ে আমাদের কাছে এত দেরীতে আসে যে তখন সর্বপ্রকার চেষ্টা করেও রোগীকে সুস্থ করা সম্ভব হয় না।
আমাদের কানের তিনটি অংশ আছে। যথা: বহিঃকর্ণ, মধ্যকর্ণ ও অন্তঃকর্ণ। মধ্যকর্ণের প্রদাহকেই আমরা সাধারনত কানপাকা রোগ বলে থাকি। কান দিয়ে পুঁজ পড়া ও কানে কম শোনা এ দুটি এই রোগের প্রধান উপসর্গ। কানপাকা রোগ দুই ধরণের হয়ে থাকে। একটি হল- সাধারণ বা নিরাপদ কানপাকা রোগ, যা সাধারণত কোনো মারাত্মক জটিলতা তৈরি করে না এবং এ ক্ষেত্রে সাধারণত দুর্গন্ধবিহীন, পাতলা পুঁজ কান থেকে বের হয়।

অন্যটি হল, অনিরাপদ কান পাকা রোগ, যা জীবন হানিকর জটিলতা তৈরি করতে পারে। এক্ষেত্রে কানে দুর্গন্ধযুক্ত, ঘন পুঁজ কান থেকে বের হয় ও সেখানে সাধারণত কোলেস্টেটোমা উপস্থিত থাকে। কোলেস্টেটোমা এমন একটি জিনিস, যেটি কানের আশেপাশের হাড় এবং অন্যান্য নরম কোষকলাকে সহজেই ধ্বংস করে কানের প্রদাহ মস্তিষ্কের বাহিরে ও ভিতরে ছড়িয়ে দিতে পারে। ফলে অনিরাপদ কানপাকা রোগে মধ্যকর্ণের প্রদাহ ইহার অস্থি প্রাচীর ভেদ করে মধ্যকর্ণের সাথে নিবিড় সম্পর্কযুক্ত শরীরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেমন- মস্তিষ্কের ঝিল্লী, মস্তিষ্ক, মস্তিষ্কের রক্তবাহী সাইনাস, ফেসিয়াল নার্ভ ও অন্তঃকর্ণ ইত্যাদিতে প্রদাহ সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে; যার পরিণতি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে।

কান পাকা - কারণ

  • মধ্যকর্ণে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের কারণে ইনফেকশন হয়ে থাকে
  • সাধারণ ঠাণ্ডা, ফ্লু বা এ্যালার্জি জনিত সমস্যার জন্য নাসিকা পথ, গলা এবং ইউস্টিশিয়ান নালী (Eustachian tubes) ফুলে যায় ও বন্ধ হয়ে যায় এবং এর জন্য ইনফেকশন হয়ে থাকে
  • শ্বাসতন্ত্রের উপরিভাগের বার বার সংক্রমণ হলে
  • সাধারণ সর্দি এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা হলে
  • মুখ গহ্বরের গ্রন্থি বড় হয়ে গেলে
  • টনসিলের সংক্রমণ হলে
  • নাক ও গলার সংযোগ স্থলে টিউমার হলে বা অন্য কারণে অডিটরি টিউব বন্ধ হয়ে গেলে
  • হাম হলে
  • মুখ ও খুলির হাড়ের মাঝে অবস্থিত ফাঁকা অংশের ঘনঘন প্রদাহ হলে (সাইনোসাইটিস)

কান পাকা - লক্ষণ

  • জ্বর
  • কাশি
  • নাক বদ্ধ হয়ে যাওয়া 
  • গলা ব্যথা
  • বমি
  • কান লাল হয়ে যাওয়া
  • হাত দিয়ে কান টানার অভ্যাস
  • কানে পানি জমা
  • শ্রবণ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া বা কানে কম শোনা
  • কানে বদ্ধতা অনুভব করা
  • বাইরে থেকে কানের ভেতরে আলো ফেললে দেখা যাবে কানের পর্দা লাল হয়ে আছে। পর্দা ফেটে গেলে পুঁজ দেখা যায়।
  • কানের পর্দা ফেটে গেলে কান দিয়ে পুঁজ পড়ে (এ সময় জ্বর ও কান ব্যথা কমে যায়)
  • কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার পর রোগী কানে কম শোনে।

কান পাকা - রোগ নির্ণয়

কান পাকা রোগ শুধু রোগীর রোগ লক্ষণ, রোগীর কান পরীক্ষা ও প্রয়োজনে সামান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা যেমন কানের এক্সরে ইত্যাদি করেই নিণর্য় করা যায়। কান পরীক্ষা করলে সকল ক্ষেত্রেই কানের পর্দায় ছিদ্রের উপস্থিতি নির্ণয় করা যায়। অনিরাপদ কানপাকা রোগে কানের পর্দায় ছিদ্র ছাড়াও সাদা বলের মত কোলেস্টেটোমা দেখা যায়। অডিওমেট্রি পরীক্ষা করে রোগী কানের বধিরতার পরিমাপ করা হয়। কিন্তুু রোগের মস্তিস্কের ভিতরের জটিলতা নির্ণয় করতে হলে উপরোক্ত রোগ লক্ষণের সাথে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা যেমন শিরদাড়ার পানি পরীক্ষা ও মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান করতে হবে। এছাড়াও কোন কোন ক্ষেত্রে রক্তের মধ্যে জীবাণুর উপস্থিতি নির্ণয়ের জন্য রক্ত কালচার পরীক্ষাও করা লাগতে পারে।

কান পাকা - চিকিৎসা

এলোপ্যাথিতে মূলত এন্টিবায়োটিক, এন্টিহিস্টামিন, কানে জীবাণুনাশক ড্রপ ব্যবহার করলেই অস্থায়ীভাবে কান থেকে পুঁজ পড়া বন্ধ করার চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে অপারেশনও করা হয়ে থাকে।

হোমিওপ্যাথিতে রোগীর কান পাকার ধরণ, পুঁজের ধরন এবং অন্যান্য যাবতীয় লক্ষন সমষ্টি নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। তাই এই সমস্যায় অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন।

কান পাকা - প্রতিকার

এছাড়া কিছু নির্দেশ সব সময়ই পালন করতে হবে যেমন- কানে পানি না ঢোকানো, ডুব দিয়ে গোসল না করা, ময়লা কোন কিছু দিয়ে কান পরিষ্কার না করা। 
বিস্তারিত

Wednesday, February 13, 2019

ফ্যারিনজাইটিস(Pharyngitis) গলায় ব্যথা, ক্ষত, স্বরভঙ্গ ! কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার

ফ্যারিনজাইটিস কি? আমাদের গলার পেছনে অবস্থিত ফ্যারিংসের সংক্রমণকেই মূলত ফ্যারিনজাইটিস বলা হয়ে থাকে। Pharyngitis খুব যন্ত্রণাদায়ক একটি সমস্যা, বিশেষ করে এই সমস্যায় আক্রান্ত হলে আপনি যখন ঢোক গিলতে যাবেন সে সময় ভীষণ কষ্ট হতে পারে অনেক সময়। অ্যাকিউট ফ্যারিঞ্জাইটিস সাধারণত ভাইরাসজনিত ইনফেকশনের কারণে হয়ে থাকে (৪০-৮০%)। এছাড়া ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশন, ফাঙ্গাসজনিত ইনফেকশন, দূষণ সৃষ্টিকারী বস্তু এবং রাসায়নিক পদার্থের কারণেও এই রোগ হতে পারে। ফ্যারিঞ্জাইটিসের চিকিৎসা মূলত এর লক্ষণের উপর নির্ভর করে

লক্ষণ এবং উপসর্গ 

ফ্যারিনজাইটিস(Pharyngitis) সমস্যার প্রধান লক্ষণসমূহের মধ্যে রয়েছে গলা ব্যাথা, জ্বর, টনসিলে পুঁজ, এবং লিম্ফ নোড এর স্ফীতি। এক্ষেত্রে নিচের মত অন্যান্য লক্ষণও থাকতে পারে-
  • মাথায় যন্ত্রণা (মাথা ব্যাথা)
  • বমি করা বা বমির প্রবণতা (বমি ভাব)
  • পেট ব্যথা
  • মাংশ পেশিতে যন্ত্রণা
  • দেহ, বা মুখ বা গলায় ফুসকুড়ি (ক্ষুদ্র লালচে স্ফোটক)। এটি সুনির্দিষ্ট লক্ষণ, তবে সচরাচর তা দেখা যায় না।

কারণসমূহ

  • ভাইরাসজনিত ইনফেকশন
  • ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশন
  • যারা সর্দি ও ফ্লুতে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকে (যেমন স্বাস্থ্যকর্মী) তাদের ফ্যারিঞ্জাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • যাদের অ্যালার্জি ও সাইনাস ইনফেকশন আছে তাদের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। 
  • পরোক্ষ ধূমপানের কারণেও ফ্যারিঞ্জাইটিস হতে পারে।
  • সাধারণত সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও মনোনিউক্লেওসিসের মতো ইনফেকশনের কারণে ফ্যারিঞ্জাইটিস হয়ে থাকে। 

চিকিৎসা

এই সমস্যায় মূলত হোমিও চিকিৎসাই সবচেয়ে কার্যকর। হোমিওপ্যাথিতে রয়েছে এই সমস্যা নির্মূলের জন্য রয়েছে বহু শক্তিকৃত ঔষধ। ফ্যারিনজাইটিস সেটা যে পর্যায়েরই হোক না কেন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তথ্যাবধানে হোমিও চিকিৎসা নিলে এই সমস্যা এক সময় নির্মূল হয়ে যায়।
বিস্তারিত

Tuesday, February 12, 2019

টনসিলাইটিস (Tonsillitis) নতুন বা পুরাতন টনসিল সমস্যা, গলা ব্যথা, ফোলা ! কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার

টনসিলে (Tonsil) যখন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটে তখনই তাকে টনসিলাইটিস (Tonsillitis)বলা হয়ে থাকে। যাদের জীবনী শক্তি কম বা ঠাণ্ডা সহ্য ক্ষমতা কম তাদের বেলায় ভাইরাসজনিত আক্রমণটা কিছুটা বেশি হয়ে থাকে। সাধারণত টনসিলের প্রদাহ বর্ষা কালে বেশি হয়ে থাকে তবে শীতকালে টনসিল প্রদাহ হয়ে থাকে। টনসিলাইটিস সাধারণত দুই ধরনের হয়। ১) একটা হলো তীব্র বা একিউট। ২) অন্যটি হলো দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক টনসিলাইটিস।
টনসিল আমাদের দেহে শ্বেত রক্তকণিকা উৎপন্ন করে থাকে। এই শ্বেত রক্তকণিকা বাইরে থেকে দেহে প্রবেশকারী রোগের জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। কখনো শ্বেতরক্তকণিকা  জীবাণুর বিরুদ্ধে ঠিকমতো কাজ করতে না পারলেই দেহে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াঘটিত বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়। কিন্তু কখনো কখনো এইসব জীবাণুকে ধ্বংস করতে গিয়ে টনসিল গ্রন্থি নিজেই আক্রান্ত হয়ে পড়ে। ফলে ইনফেকশন হয় এবং এই গ্রন্থি ফুলে যায়। একেই আমরা মেডিকেলের ভাষায় টন্সিলাইটিস বলি এবং সাধারণের ভাষায় টনসিলের সমস্যা বলে চিনি।

টনসিলাইটিস লক্ষণ এবং উপসর্গ 

  • টনসিলের ইনফেকশন হলে মূলত গলা ব্যথা হবে, গিলতে অসুবিধা হবে। শরীরে সামান্য জ্বর থাকবে  জ্বরের মাত্রা ৩৯ সেলসিয়াস =১০৩ ফারেনহাইট = অথবা এর বেশীও হতে পারে। অনেক সময় গলার স্বর পরিবর্তিত হয়, নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ থাকে। সঙ্গে শিশুর খাবার গ্রহণে অনীহা কিংবা নাক দিয়ে পানি ঝরা ইত্যাদি থাকতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে গলার বাইরে দিকে গ্রন্থি ফুলে যেতেও দেখা যায়।
  •  ভাইরাসজনিত টনসিলাইটিসে টনসিলের প্রদাহ ধীরে ধীরে বাড়ে, ফলে উপসর্গগুলোও ধীরে ধীরে আবির্ভূত হয়। অন্যদিকে ব্যাকটেরিয়াজনিত টনসিলাইটিস হঠাৎ করেই তীব্রভাবে আক্রমণ করে। ফলে উপসর্গ সমূহ এবং -গলাব্যথা , ব্যাদনা জ্বালা পোড়া ইত্যাদি হঠাৎ করেই দেখা দেয়।
  • শিশুদের বেলায় বমি, পেটে ব্যথা বড়দের বেলায় মাথাব্যথাও থাকতে পারে। ৫ বছরের কম বয়েসীদের বেলায় ডাইরিয়া সহ খাওয়া দাওয়ায় অরুচির লক্ষণ পাওয়া যায় সেই সাথে সকলেরই কম বেশি কাশিও হতে পারে।
  • অ্যাকিউট টনসিলাইটিসের ক্ষেত্রে ঠাণ্ডা- সর্দি, অত্যধিক জ্বর বা জ্বরের সাথে কাঁপুনি ,গলাব্যথা খুসখুসে কাশি,খাবার গিলতে বা পানি পান করতে ব্যাথা , নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা,মুখের ভেতরে টনসিল বেশ লালচে বর্ণ ধারণ করে , টনসিলের ওপর হলুদ বা সাদা আস্তরণ পড়তে পারে, গলার ভেতর এর আশপাশের অন্যান্য লসিকাগ্রন্থিও ফুলে যাওয়া অথবা গলায় ও মাড়িতে ব্যাথা ইত্যাদি।
  • ক্রনিক টনসিলাইটিসের ক্ষেত্রে জিনিসের গন্ধ পাওয়া যায় না, জোর করে ঘ্রাণ নিতে গেলে সবকিছুতেই বাজে গন্ধ পাওয়া যায়।, ঘুমাতে খুব অসুবিধা হয়। শিশু ঘুমাতে ভয় পায় , নাক ডাকার সমস্যা হতে পারে , অনেক সময় বাচ্চার ঘুমের ধরন পাল্টে যায়। থুতনি এগিয়ে আসে , মাথাব্যথা, গলায় ঘায়ের কারণে ব্যথা, কানে ব্যথা, ক্লান্তিময়তা, মুখে অনবরত লালা জমতে থাকে, খাবার খেতে কষ্ট ও মুখ হাঁ করতে অসুবিধা হয় , মুখ দিয়ে লালা বের হয় ও কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে যেতে পারে, মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে পারে।

টনসিলাইটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় যেসকল কারণে

  • অ্যালকোহল গ্রহণ।
  • স্পেনেক্টমি (Splenectomy) (প্লীহা বা স্প্লিন অপসারণ)।
  • টনসিলাইটিসে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা।
  • সিকল সেল অ্যানিমিয়া (Sickle cell anemia)।
  • সাইনোসাইটিস।
  • ধূমপান।
  • সিগারেটের ধোঁয়া।
  • অঙ্গ প্রতিস্থাপন, কেমোথেরাপি, এইডস ইত্যাদি কারণে দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যাওয়া।

টনসিলের চিকিৎসা

এলোপ্যাথিতে মূলত এ রোগের চিকিৎসায় এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হয় বা কখনো কখনো সার্জারী করে তা অপসারণ করতে বলা হয়। অথচ হোমিওপ্যাথিতে রয়েছে এই সমস্যার উন্নত চিকিৎসা। টনসিলাইটিস সেটা যে প্রকারেরই হোক না কেন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তথ্যাবধানে হোমিও চিকিৎসা নিলে এই সমস্যা এক সময় নির্মূল হয়ে যায়।
বিস্তারিত

Saturday, February 9, 2019

নাকে পলিপ, মাংস বৃদ্ধি! কারণ এবং উপসর্গ (Nasal Polyps Symptoms and Causes)

নাকের পলিপকে অনেকেই পলিপাস এবং নাকের মাংস বৃদ্ধি বলে থাকেন। আমাদের নাকের চারপাশে অস্থিসমূহে যে ফাঁকা স্থান বা বায়ুপূর্ণ কুঠুরি অর্থাৎ সাইনাস থাকে সেগুলির মধ্যে ইথময়েড সাইনাস থেকেই মূলত বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পলিপ তৈরি হয়। তবে ম্যাক্সিলারি সাইনাস থেকেও পলিপ তৈরি হতে পারে। আবার নাকের ভেতরে, পার্শ্ব দেয়ালে দুই দিকে দুইটি তাকের মতো মাংসপিণ্ড অর্থাৎ ইনফেরিয়র টারবিনেট থাকে। যখন প্রদাহ হয়ে এর আকৃতি বড় হয়ে যায় তখন তাকে হাইপারট্রফি ইনফেরিয়র টারবিনেট (Inferior Turbinate Hypertrophy) বলা হয় যা মূলত পলিপ নয় কারণ এটি সাইনাস থেকে আসে না বরং নাকের ভিতর থেকেই এটি উৎপত্তি লাভ করে থাকে। যদিও অনেক সময় দুটি একই কারণে হয়ে থাকে।

নাকে পলিপ - কারণ

  • সাধারণভাবে বলা যায় নাকের এলার্জি এর অন্যতম কারণ। এ এলার্জি নাকের ভেতরে ধুলাবালি বা ধোঁয়ার এলার্জি থেকে হতে পারে।
  • অনেকে মনে করেন, নাকের ভেতরে ক্রনিক ইনফেকশনও এ এলার্জির কারণ হতে পারে। নাকের ভেতরে ফাংগাল ইনফেকশনে এলার্জি থেকে কিছু কিছু রোগীর উভয় নাকে এবং অনেক সাইনাসজুড়ে পলিপ তৈরি হয়।
  • নাকের ভেতরে রক্তনালির অসাঞ্জস্যতা বা অস্থিরতা থেকেও অনেক সময় পলিপ তৈরি হয় বলে অনেকে মনে করেন। উল্লেখ্য, নাকের এলার্জি যেটাকে আমরা এলার্জিক রাইনাইটিস বলি, গলার এলার্জি যেটাকে আমরা এলার্জিক ফ্যারিনজাইটিস এবং ফুসফুসের এলার্জি যেটাকে আমরা অ্যাজমা বা হাঁপানি বলে থাকি। এর একটা আরেকটার সঙ্গে সম্পৃক্ত। যাদের নাকের এলার্জি আছে তাদের শতকরা ১৭ থেকে ১৯ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে হাঁপানিও আছে।

নাকে পলিপ - লক্ষণ ও উপসর্গ

  • নাক বন্ধ থাকা- এক বা দুই নাসারন্ধ্র একসঙ্গে বন্ধ থাকতে পারে
  • নাক দিয়ে পানি পড়া
  • বেশি বেশি হাঁচি পাওয়া
  • নাকে কোনো গন্ধ না পাওয়া
  • মাথাব্যথা থাকা
  • নাকিসুরে কথা বলা
  • মুখ হা করে ঘুমানো
  • ইত্যাদি

নাকে পলিপ - চিকিৎসা 

 এলোপ্যাথিতে তেমন কোন ঔষধ নেই যা দিয়ে নাকের পলিপ নির্মূল করা যায়। তাই সেখানে মূলত সার্জারী করে সেগুলি অপসারণ করা হয়ে থাকে। তবে এর রয়েছে উন্নত হোমিও চিকিৎসা যেখানে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রয়োগ করেই এই সমস্যা দূর করা যায়।
বিস্তারিত

Thursday, February 7, 2019

সাইনুসাইটিস (Sinusitis) টাইপ, কারন, লক্ষণ এবং জটিলতা

আমাদের নাকের চারপাশে অস্থিসমূহে যে ফাঁকা স্থান বা বায়ুপূর্ণ কুঠুরি অর্থাৎ সাইনাস থাকে সেই সাইনাসের অভ্যন্তরীন আবরনি ঝিল্লিতে যখন প্রদাহ হয় একেই সাইনুসাইটিস বলা হয়। এটি আবার ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশনের কারণেও হতে পারে।

সাইনুসাইটিস (Sinusitis) - টাইপ

সাইনুসাইটিস মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে –
  • কিউট বা তীব্র
  • ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদি

সাইনুসাইটিস (Sinusitis) - কারণ

  • দাঁত, চোখ, নাকের অসুখ থেকে সাইনুসাইটিস হতে পারে
  • ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা এলার্জির কারণেও সাইনুসাইটিস হয়ে থাকে
  • দীর্ঘদিন ঠান্ডা লেগে থাকলে সাইনুসাইটিস হতে পারে - এছাড়া 
  • নাকের ইনফেকশন
  • দাঁতের ইনফেকশন
  • নাকের প্যাক
  • নাকের পলিপ
  • নাকের বাঁকা হাড়
  • নাকের মাংস ফুলে বড় হয়ে যাওয়া (হাইপারট্রফিড ইনফেরিয়র টার্বিনেট)।
  • দূষিত পানি কিংবা উচ্চমাত্রার ক্লোরিনযুক্ত পানিতে গোসল করলে সাইনুসাইটিস হবার সম্ভাবনা থাকে।
  • যেকোনো আঘাতের কারণে সাইনাস ছিদ্র হয়ে উন্মুক্ত হলে ইনফেকশন হতে পারে।
  • সিস্টিক ফাইব্রোসিস।
  • এডিনয়েড বড় হয়ে গেলে
  • জন্মগতভাবে নাকের পেছনের ছিদ্রটি বন্ধ থাকা ইত্যাদি

সাইনুসাইটিস (Sinusitis) - লক্ষণ ও উপসর্গ

  • মাথা ব্যথা সাইনুসাইটিসের প্রধান লক্ষণ। কপাল ও নাকের চারপাশে ব্যথা অনুভব করবে। মাথা ভার হবে ও নিচের দিকে ঝুঁকে পড়লে ব্যথা বেড়ে যাবে। রোদে গেলেও মাথা ব্যথা বেড়ে যাবে।
  • সব সময় নাক বন্ধ থাকা
  • নাক দিয়ে অবিরত পানিপড়া 
  • হঠাৎ নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • মাথা ভারী লাগা
  • বমি বমি ভাব হবে
  • সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথাব্যথা হতে পারে
  • কাজকর্মে অনীহা
  • স্বাদ ও ঘ্রাণ বুঝতে না পারা
  • মাথা নাড়াচাড়া করলে, হাঁটলে বা মাথা নিচু করলে ব্যথার তীব্রতা আরো বেড়ে যায়
  • জ্বর জ্বর ভাব থাকে, কোনো কিছুতেই ভালো লাগে না এবং অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে যায়
  • সাইনাস এর এক্স রে করলে সাইনাস ঘোলাটে দেখায়
 সাইনুসাইটিসের টাইপ, কারণ, লক্ষণ এবং জটিলতা সম্পর্কে বিস্তারিত রয়েছে ভিডিওতে....

সাইনুসাইটিস (Sinusitis) - জটিলতা 

সাইনাসগুলো চোখ এবং ব্রেইনের পাশে থাকে বলে সাইনাসের ইনফেকশন হলে তা চোখ এবং মস্তিষ্কেরও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। যেমন-
  • অরবিটাল সেলুলাইটিস এবং এবসেস বা চোখের ভেতরের ইনফেকশন।
  • মেনিনজাইটিস বা ব্রেইনের পর্দার প্রদাহ
  • এক্সট্রাডুরাল এবং সাবডুরাল এবসেস
  • অস্টিওমায়েলাইটিস (মাথার অস্থির প্রদাহ)
  • কেভেরনাস সাইনাস থ্রম্বোসিস প্রভৃতি
  • সাইনুসাইটিসের কারণে চোখের ভেতরে ইনফেকশন ঢুকে চোখটি নষ্ট করে দিতে পারে, আবার মাথার ভেতর ইনফেকশন ঢুকে মেনিনজাইটিস এমনকি ব্রেইন এবসেসের মতে মারাত্মক জটিল রোগের জন্ম দিতে পারে।

সাইনুসাইটিস (Sinusitis) - চিকিৎসা

এলোপ্যাথিতে মূলত এই সমস্যার জন্য এন্টিবায়োটিক, নাকে বিশেষ ধরনের ড্রপ, এন্টিহিস্টামিন, ব্যথানাশক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকে যা বহু ক্ষেত্রেই রোগ পুরুপুরি নির্মূলে ব্যর্থ। তবে এর ভালো চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। এর জন্য অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরী।
বিস্তারিত

Wednesday, February 6, 2019

নাকে ঘা বা ক্ষত Nose Ulcer নাক বন্ধ, দুর্গন্ধ, রক্ত পড়া

নাকের ঘা বা ক্ষত Nose Ulcer মূলত নাকের ভিতরের দেওয়ালের স্বাভাবিক টিস্যুতে ফাটলের ফলে সৃষ্টি হয়ে যেখানে উঁচু স্থানযুক্ত ক্ষত দেখা দেয়। সাধারণত কোন আঘাত, এলার্জি, সাইনুসাইটিস, এলোপ্যাথিক ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, সংক্রমণ, র্দীঘদিন নাকে স্প্রে ব্যবহার ইত্যাদি কারণে এটি হতে দেখা যায়।

নাকে ঘা বা ক্ষত - কারণ

  • নাক বদ্ধ হয়ে যাওয়া
  • সাইনাসের আবদ্ধতা
  • নাক দিয়ে রক্ত পড়া
  • গলা ব্যথা
  • মুখে ঘা
  • পুজঁ মিশ্রিত কফ বের হওয়া
  • ত্বকের ক্ষত
  • কাশি
  • অবসাদ 
  • পিঠের দুর্বলতা 
  • কনুইয়ের দুর্বলতা

নাকে ঘা বা ক্ষত - চিকিৎসা 

নাকে ঘা বা ক্ষত নির্মূলের উন্নত চিকিৎসা মূলত হোমিওপ্যাথি। এর জন্য এক্সপার্ট একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন। 
বিস্তারিত