Showing posts with label কিডনি এবং মূত্রনালীর রোগসমূহ. Show all posts
Showing posts with label কিডনি এবং মূত্রনালীর রোগসমূহ. Show all posts

Friday, September 6, 2019

কিডনির পাথর Kidney Stones ! কারণ লক্ষণ প্রতিরোধ চিকিৎসা বা দূর করার উপায়

কিডনির পাথরগুলো অর্থাৎ Kidney stones কেবল কিডনিতে নয়, এর বিভিন্ন অংশে হতে পারে- কিডনিতে হতে পারে, কিডনির ভেতর থেকে বের হওয়া বৃক্ক নালীতে হতে পারে, প্রস্রাবের থলেতে হতে পারে এবং থলে থেকে বের হয়ে অনেক সময় পাথর মূত্রনালিতে আটকা পড়ে। কিডনি স্টোনের প্রাথমিক লক্ষণগুলো নির্ভর করে পাথর কিডনির কোথায় এবং কীভাবে রয়েছে। কিডনিতে পাথরের আকার-আকৃতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাথর খুব ছোট হলে সেটি কোনও ব্যথা-বেদনা ছাড়াই দীর্ঘদিন পর্যন্ত শরীরে থাকতে পারে! ফলে টেরও পাওয়া যায় না।

কিডনির পাথর - কারণসমূহ

কিডনিতে পাথর জমার বা তৈরি হওয়ার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে কিছু কিছু বিষয় কিডনিতে পাথর তৈরির কারণ বলে বিবেচিত হয়।
  • কিডনিতে বারবার সংক্রমণ এবং এর ঠিকঠাক চিকিৎসা না করা।
  • দৈনিক অল্প পানি পান
  • খাবারে অধিক লবণ
  • কম ফলফলাদি ও শাকসবজি খাওয়া
  • বেশি লাল মাংস যেমন-গরু ও খাসির মাংস এবং পোলট্রির মাংস খাওয়া কিডনিতে পাথর হওয়ার অন্যতম কারণ
  • বেশি বা খুব কম ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া
  • যারা ক্যালসিয়াম জাতীয় ট্যাবলেট প্রচুর পরিমাণে খায় এদেরও পাথর হওয়ার আশঙ্কা বেশি
  • যেসব লোকের ইনফ্লামেটরি বাওয়েল রোগ থাকে, তারা কিডনির রোগ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন
  • টপিরামেট জাতীয় (এটা টোপাম্যাক্স হিসেবে পাওয়া যায়) ওষুধ কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এগুলো সাধারণত মাইগ্রেনের রোগে ব্যবহার করা হয়
  • অতিরিক্ত অক্সালেট জাতীয় শাকসবজি যেমন, পুঁই শাক, পালং শাক, বিট ইত্যাদি বেশি পরিমাণে খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো
  • অনিয়ন্ত্রিত উচ্চরক্তচাপ অথবা বাতের ব্যথা কিংবা মূত্রাশয়ে প্রদাহের উপযুক্ত চিকিৎসা না করলে কিডনিতে পাথর হতে পারে

কিডনিতে পাথর - লক্ষণসমূহ

  • অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো উপসর্গ না-ও থাকতে পারে। তবে-
  • মাঝে মাঝে প্রস্রাবের সঙ্গে ছোট ছোট পাথর যাওয়া
  • হঠাৎ তলপেটে, নিচের পেটের দুই পাশে বা কোমরে তীব্র ব্যথা
  • রক্তবর্ণের লাল প্রস্রাব, ব্যথা, জ্বালাপোড়া থাকতে পারে
  • ব্যথার সাথে বমি বমি ভাব বা বমিও হতে পারে
  • ঘোলাটে এবং দূর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব
  • ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া বা অল্প একটু হয়েই আর না হওয়া।
  • কাঁপুনি দিয়ে জ্বর
তবে আকস্মিকভাবে পেট বা পিঠে ব্যথা অনুভব করা কিংবা প্রস্রাবের সময় ব্যথা অনুভব করা মানেই কিডনিতে পাথরের লক্ষণ নয়, তবে এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন, কারণ হতে পারে এটি মারাত্নক কোন রোগের লক্ষণ। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন আসলেই কিডনিতে পাথরের জন্য এমন হচ্ছে কিনা।

কিডনির পাথর - চিকিৎসা

কিডনিতে পাথর হলেই অপারেশন করতে হয় এমন ধারণা ঠিক নয়। চিকিৎসা নির্ভর করে পাথরের অবস্থান, আকার, ধরন, কিডনির কার্যকারিতা এবং প্রস্রাবের পথে প্রতিবন্ধকতার ওপর। হোমিও চিকিৎসার মাধ্যমে কিডনির পাথর Kidney Stones হলে দূর করা যায় অনেক সহজেই। তবে কিছু ক্ষেত্রে সার্জারী করার প্রয়োজন হয়ে থাকে।

কিডনির পাথর - প্রতিরোধ

  • কখনোই প্রস্রাব আটকে রাখবেন না।
  • প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।
  • আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিমাণ পরিমিত রাখুন।
  • ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে কিন্তু প্রয়োজন ব্যতীত ক্যালসিয়াম ওষুধ ও ভিটামিন ডি যুক্ত ওষুধ না খাওয়াই ভালো।
  • বারবার ইউরিন ইনফেকশন দেখা দিলে এর ঠিকমতো চিকিত্‍সা করান।
  • প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খান।
  • দুধ, পনির বা দুগ্ধজাত খাবার অতিরিক্ত মাত্রায় না খাওয়াই ভাল।
  • ক্যাফেইন এবং সোডা এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত কফি পানে কিডনির অবস্থা আরো খারাপ হবে।
  • কিডনিতে পাথর হওয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত না হলেও অ্যালকোহল কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়া অ্যালকোহল কিডনির কর্মক্ষমতা নষ্ট করে।
বিস্তারিত

Sunday, June 9, 2019

সিস্টাইটিস(Cystitis) মূত্রাশয় বা মূত্রথলির প্রদাহ ! কারণ উপসর্গ প্রতিকার

সিস্টাইটিস (Cystitis) হলো মূত্রাশয় বা মূত্রথলির প্রদাহ। নারী পুরুষ যেকেউ এতে আক্রান্ত হয়ে থাকে এবং সব বয়সের পুরুষই আক্রান্ত হতে পারে। কারণ ভেদে এটি বিভিন্ন টাইপের হয়ে থাকে -
  • ব্যাকটেরিয়া জনিত সিস্টাইটিস: এটি একটি কমন টাইপ। দেখা গেছে পায়ুপথথেকে ব্যাকটেরিয়া এসে মূত্রনালী দিয়ে মূত্রথলিতে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়।
  • ইন্টারস্টিশিয়াল সিস্টাইটিস: এটি সাধারণত আঘাতের কারণে হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে সংক্রমণের উপস্থিতি খুব কম থাকে।
  • রেডিয়েশন সিস্টাইটিস: যেসকল রোগীরা ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য রেডিয়েশন নিচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে সচরাচর এটি হতে দেখা যায়। 
  • হেমোরেজিক সিস্টাইটিস: এই ধরণের সিস্টাইটিসের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের সাথে রক্ত যেতে থাকে। 
  • কেমিক্যাল সিস্টাইটিস: বিভিন্ন কেমিক্যাল দ্রব্যাদি থেকে যে ধরনের সিস্টাইটিস হয় তাকেই কেমিক্যাল সিস্টাইটিস বলা হয়। 
  • ড্রাগ ইন্ডিউসড সিস্টাইটিস: এলোপ্যাথিক ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মূলত এই প্রকার সিস্টাইটিস হয়ে থাকে।
এছাড়াও বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন টাইপের সিস্টাইটিস দেখা যায় -
  • Diabetes Mellitus (DM)
  • Kidney Stones
  • Enlarged Prostate
  • Spinal Cord Injury

সিস্টাইটিস (Cystitis)  - সাধারণ কারণগুলি 

  • মূত্রথলিতে বি-কোলাই, টাইফয়েড, গনোরিয়া ইনফেকশন
  • স্ট্রেপটোকক্কাস , স্টাফাইলোকক্কাস ইনফেকশন
  • হিম-ঠান্ডা পানিতে ভিজা
  • মূত্রথলিতে পাথরী হওয়া
  • মূত্র থলিতে অত্যধিক চাপ বা আঘাত লাগা
  • যে কোন যৌন ব্যাধির আক্রমণ

সিস্টাইটিস (Cystitis)  - লক্ষণ ও উপসর্গ 

  • তলপেটের সামনের দিকে ব্যাথা
  • তলপেটে চাপ অনুভব করা
  • সর্বদাই মূত্রবেগ কিন্তু মূত্র নিঃসরণে অতিব কষ্ট হয়
  • প্রস্রাব করার সময় ব্যথা বা কষ্ট হওয়া
  • চলাফেরা ও নড়াচড়া করলে বেদনার বৃদ্ধি হয়
  • ঘন ঘন প্রস্রাব করা বা প্রস্রাবের তীব্র ইচ্ছে জাগা
  • রাতের বেলা প্রস্রাবের ইচ্ছে জাগা
  • প্রস্রাব ঘোলাটে হওয়া
  • প্রস্রাব লাল বর্ণ, শ্লেষ্মা ও রক্ত মিশ্রিত
  • প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া
  • প্রস্রাবে দুর্গন্ধ হওয়া
  • জ্বর হতে পারে
  • গা বমি বমি, শীতল ঘাম, হিক্কা ও দূর্বলতা প্রকাশ পায়
  • মূত্র থলিটি ভারী বোধ হয়
  • মূত্র থলিতে খুব জ্বালা পোড়া হয়

সিস্টাইটিস(Cystitis) - চিকিৎসা

এই সমস্যার উন্নত চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। তবে এর জন্য অবশ্যই একজন এক্সপার্ট হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরী। 
বিস্তারিত

Tuesday, March 19, 2019

প্রোস্টেট গ্রন্থি বা গ্ল্যান্ড বৃদ্ধির উপসর্গ এবং চিকিৎসা পদ্ধতি (Prostate Enlargement Treatment)

প্রোস্টেট গ্রন্থি বা গ্ল্যান্ড হলো পুরুষদের প্রজনন তন্ত্রের একটি অংশ। সাধারণভাবে আমরা এটাকে প্রোস্টেড বলে থাকি। এর বৃদ্ধির ফলে পুরুষদের প্রস্রাব করতে কষ্ট হয়। একে প্রোস্টাটিজম (Prostatism) বলা হয়ে থাকে। আর প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধিকে বলে বিনাইন প্রোস্টেটিক হাইপার প্লাসিয়া বা বিপিএইচ Benign Prostatic Hyperplasia (BPH)। এই সমস্যাটি বয়স্ক পুরুষের নানাভাবে কষ্ট দিয়ে থাকে।

প্রোস্টেট গ্রন্থি বা গ্ল্যান্ড বৃদ্ধি - কারণ

  • কোন আঘাত লেগে, সাইকেল, স্কুটারে  চড়ার সময় 
  • কোন শক্ত জিনিসের উপর বসা
  • হস্থমৈথুনের কারণেও এই রোগ হতে পারে
  • প্রোস্টেট গ্রন্থির নিকটস্থ কেন যন্ত্রের প্রদাহ হতে যেমন, ইউরেথ্রাইটিস, মূত্রথলিতে পাথরী, মূত্রনালীর সংকোচন ইত্যাদি
  • বাত, গেটে বাত
  • যৌন বাহিত রোগ যেমন - সিফিলিস গনোরিয়া 
  • হার্বাল এলোপ্যাথিক কোন উত্তেজক ঔষধ সেবন
  • অনেক সময় প্রস্রাব দোষ নিবারণের জন্য বিভিন্ন প্রকারের এলোপ্যাথিক উত্তেজক ঔষধ দিনের পর দিন ব্যাপক মাত্রায় ব্যবহার করার ফলে এই রোগ বেশি দেখা দেয়
প্রোস্টেট গ্রন্থি বা গ্ল্যান্ড বৃদ্ধি - উপসর্গ
  • দিন কিংবা রাতে অথবা উভয় সময় ঘন ঘন প্রস্রাব
  • প্রস্রাবের ধারা সরু হওয়া
  • প্রচণ্ড বেগ সত্ত্বেও প্রস্রাবের নির্গমন শুরু হতে দেরি হওয়া
  • প্রচণ্ড বেগ থাকা সত্ত্বেও তৎক্ষণাৎ প্রস্রাব করতে না পারলে খানিকটা প্রস্রাব বেরিয়ে এসে কাপড়চোপড় ভিজে যাওয়া, প্রস্রাবের পরফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব নি:সরণ এবং প্রস্রাব করার পর অতৃপ্তি, যেন কিছু প্রস্রাব রয়ে গেল ইত্যাদি
  • আবার পুরাতন অবস্থায় দেখা যায় - প্রস্রাব আটকে যাওয়া, প্রস্রাবের সাথে রক্তপাত ও কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়া ইত্যাদি

প্রোস্টেট গ্রন্থি বা গ্ল্যান্ড বৃদ্ধি -চিকিৎসা

প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট নিলে এটি বহু ক্ষেত্রেই নির্মূল হয়ে যায়। তবে বয়স যাদের বেশি তাদের রোগ জটিলতা বেশি থাকে বিধায় বিভিন্ন প্রকার ঔষধ খেয়ে যেতে হয় সেক্ষেত্রে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে হয়।
বিস্তারিত

Saturday, December 29, 2018

কিডনি ও মূত্রনালীর সংক্রমণ বা ইউরিনারী ট্রাক্ট ইনফেকশন (UTI) - ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাবে কষ্ট, জ্বালাপোড়া ইত্যাদি

কিডনি ও মূত্রনালির সংক্রমণ Urinary Tract Infection (UTI), কিডনি, ইউরেটার, Urinary bladder (মূত্রথলি), Urethra (মূত্রনালী) তে সংক্রমণের জন্য ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাবে রক্ত যাওয়া, প্রস্রাবে কষ্ট, জ্বালাপোড়া, প্রস্রাব আটকে থাকা, প্রস্রাব দুই নালে বের হওয়া, প্রস্রাব অল্প ঘোলা হওয়া, কারো কারো ক্ষেত্রে তলপেটে ব্যথা, জ্বর আসা, বমি বা বমি বমি ভাব হওয়া, মূত্রনালী সঙ্কীর্ণ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ হতে পারে। হোমিওপ্যাথিতে এই সমস্যাগুলির কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে। বিস্তারিত ভিডিওতে....
বিস্তারিত