Showing posts with label রোগ-ব্যাধি. Show all posts
Showing posts with label রোগ-ব্যাধি. Show all posts

Wednesday, September 11, 2019

নখ কুনি ও নখের ফাঙ্গাস! নখ মোটা পুরু বা ফেটে যাওয়া রোগের কার্যকর চিকিৎসা

নখের ফাঙ্গাস হল অতি সাধারণভাবে দেখতে পাওয়া একটি ছত্রাকের সংক্রমণ যা হাতের নখে বা পায়ের নখে হয়। এটি নখের ডগা বা প্রান্তভাগ থেকে শুরু করে নখের মধ্যবর্তী স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এবং নখের রঙকে ফ্যাকাশে অথবা পরিবর্তিত করে। যদিও নখে ছত্রাক সংক্রমণ কোন গুরুতর বা জটিল পরিস্থিতি নয়, তবে এটি নিরাময় হতে দীর্ঘদিন সময় লাগতে পারে।
আবার কারো কারো নখ কুনির সমস্যাও দেখা দেয়। এর সাধারণ অবস্থা হল পায়ের বড় আঙুলর নখ পাশ নরম মাংসের মধ্যে বৃদ্ধি পাওয়া। ফলে কখনও কখনও ব্যথা, লালচেভাব, ফোলা, সংক্রমণ হয়

নখের ফাঙ্গাস -  লক্ষণ ও উপসর্গগুলি 

এর প্রধান লক্ষণ ও উপসর্গগুলি কি কি নখে ছত্রাকের সংক্রমণ নীচে দেওয়া উপসর্গগুলির মধ্যে যেকোন একটির কারণে হতে পারে:
  • নখের চারপাশে ব্যথা
  • নখের চারপাশের অংশ ফোলা
  • নখের আকারের পরিবর্তন
  • নখ শক্ত হয়ে যাওয়া
  • নখের রঙের ফ্যাকাশেভাব বা পরিবর্তন হয়ে যাওয়া
  • ভাঙ্গা নখ
  • নখের ভিতর ময়লা জমে থাকা
  • নখের প্রান্ত ভাগ ভেঙ্গে ভেঙ্গে যাওয়া
  • নখের চকচকে ও উজ্জ্বলভাব কমে যাওয়া

নখের ফাঙ্গাস - প্রধান কারণগুলি

সাধারণত হাতের নখের সংক্রমণের চেয়ে পায়ের নখের সংক্রমণ বেশি হতে দেখা যায়। নীচে দেওয়া পরিস্থিতিগুলি নখে ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়:
  • নখে অথবা ত্বকে সামান্য আঘাত লাগা।
  • দুর্বল অনাক্রম্যতা
  • নখের বিকৃতি
  • নখের রোগ
  • চাপা জুতো পরিধানের ফলে নখে হাওয়া চলাচল বাধা পায়
  • বহুসময় ধরে ত্বক আর্দ্র বা ভিজে অবস্থায় থাকা

নখের ফাঙ্গাস - রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

  • নখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা
  • নখটিকে চাঁচা হয়, এবং টিস্যুটিকে একটি মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এটি নখে কি ধরনের ছত্রাক সংক্রমণ হয়েছে তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
চিকিৎসা: নখ মোটা পুরু বা ফেটে যাওয়া রোগের কার্যকর চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি। এর জন্য এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন।

নখের ফাঙ্গাস - পরামর্শ 

নখের সংক্রমণ প্রতিহত করার উপায়:
  • সর্বদা আপনার নখ ও তার পার্শ্ববর্তী ত্বককে পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখুন
  • আপনার শরীর বা অন্য কারোর উপর অন্যান্য কোন ছত্রাক সংক্রমণের সংস্পর্শ হলে স্থানটিকে যথাযথভাবে ধুয়ে ফেলুন
  • অন্য ব্যক্তির হাত ও পা পরিষ্কারের সরঞ্জাম ব্যবহার এড়িয়ে চলুন
  • আপনার নখ ও ত্বকের সবচেয়ে ভালো পরিচর্যা করুন
নখের ফাঙ্গাস ঔষধ, হাতের নখের ফাঙ্গাস দূর করার উপায়, নখের ইনফেকশন, নখ মরে যাওয়া, ফাঙ্গাস এর চিকিৎসা, পায়ের নখের সমস্যা সমাধান, পায়ের নখ মরে যাচ্ছে এই সকল সমস্যার উন্নত চিকিৎসা মূলত হোমিওপ্যাথি। 
বিস্তারিত

Sunday, August 4, 2019

মাথাব্যথা (Headache) ! মাইগ্রেন টেনশন ক্লাস্টার কারণ লক্ষণ এবং চিকিৎসা

মাথাব্যথা (Headache) খুবই সাধারণত একটি সমস্যা। প্রত্যেক মানুষই জীবনের কোনো না কোনো সময় মাথাব্যথায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। মাথাব্যথার অনেক রকমভেদ আছে যেমন মাইগ্রেন, টেনশন-টাইপ মাথাব্যথা, ক্লাস্টার মাথাব্যথা ইত্যাদি। ঘনঘন মাথাব্যথা প্রাত্যহিক পারিবারিক ও কর্মজীবনকে বিষাদময় করে তুলতে পারে। এছাড়া তীব্র মাথাব্যথা ডিপ্রেশনের ঝুঁকি বাড়ায়।

টেনশন হেডেক 

এই ব্যথা মাথার দুদিকেই হয়, চাপ চাপ ব্যথা অনুভূত হতে পারে এবং মনে হতে পারে যে মাথার চারদিকে একটি ব্যান্ড আটকে আছে। সকালের দিকে মাথাব্যথা কম থাকে এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা বাড়তে থাকে। ব্যথা ৩০ মিনিট থেকে ৭ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। টেনশন হেডেকে বমি বা আলো ভীতি থাকে না।
টেনশন হেডেকের কারণ এখন পর্যন্ত পুরোপুরি জানা যায়নি। কিন্তু্তু বলা হয় যে, মাথা ও ঘাড়ের মাংসপেশির অস্বাভাবিক সংকোচনের ফলে এই ব্যথা হয়। মানসিক চাপ ও অবসাদ রয়েছে টেনশন হেডেকের মূলে। বেশির ভাগ মাথা ব্যাথাই হয় টেনশন বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কারণে। টেনশন হলেই শরীরের অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিগুলো উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে, সেখান থেকে 'অ্যাড্রিনালিন' নামে বিশেষ এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরিত হয়। ফলে দেহকোষ থেকে হিস্টামিন, সেরাটোনিন ও অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসৃত হয়। এতে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত চাপ পড়ে মাথা ব্যথা শুরু হয়। মাথা ব্যথা ছাড়া অতিরিক্ত টেনশন থেকে হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদিও হতে পারে।

মাইগ্রেন হেডেক 

মাথা ব্যথার মধ্যে মাইগ্রেনের ব্যথা অধিকতর তীব্র। ব্রেনের ভেতরে রক্তবাহী নালিগুলো কোনো কারণে সংকুচিত হলে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলের তারতম্যের কারণেই এ ধরনের মাথা ব্যথা হয়। এ জন্য শরীরের পরিপাকপ্রক্রিয়া, মস্তিষ্কের রক্তসঞ্চালনে সমস্যা, এমনকি জেনেটিক্যালিও নানা সমস্যা হতে পারে। এ ধরনের ব্যথা মাথার এক পাশ দিয়ে শুরু হয় এবং আস্তে আস্তে অস্বস্তিকর অবস্থা তৈরি করে। এই ব্যথা শুরু হলে তা কয়েক ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

এই প্রকার মাথাব্যথায় মহিলারাই বেশি আক্রান্ত হন। বয়ঃসন্ধিকাল থেকে মধ্য বয়স পর্যন্ত মহিলাদের হার সবচেয়ে বেশি। তীব্র দপদাপ করে মাথাব্যথা। সাধারণত মাথার একদিকে, সেই সাথে বমি বা বমির ভাব এবং আলো ভীতি-এই হচ্ছে মাইগ্রেনের লক্ষণ। তাছাড়া চোখের সামনে রঙিন আলোকছটা দেখা, দৃষ্টি শক্তির সমস্যা, কথা বলতে বা খেতে অসুবিধা, শরীরে একপাশে দুর্বলতা বা অনুভূতিহীন ইত্যাদি উপসর্গ থাকতে পারে।

ক্লাস্টার হেডেক 

এই প্রকার মাথাব্যথাকে মাইগ্রেন মাথাব্যথার অন্তর্ভুক্ত বলা হয় অনেক সময়। ক্লাস্টার হেডেক বা গুচ্ছ মাথাব্যথায় সাধারণত ধমপায়ী পুরুষেরা আক্রান্ত হন। প্রতিদিন একই সময় বিশেষ করে সকালের দিকে ৩০ থেকে ৯০ মিনিট তীব্র মাথাব্যথা হয়। এভাবে কয়েকদিন, সপ্তাহ বা মাস এই ব্যথা হয় এবং তারপরে কয়েক মাস আবার কোনো ব্যথা থাকে না। ক্লাস্টার হেডেকের সাথে এক চোখ ব্যথা, কনজাংটিভার ইনফেকশন, এক চোখ দিয়ে পানি ঝরা এবং নাক বন্ধ হয়ে যায়
ক্লাস্টার মাথা ব্যথা হঠাৎ করেই শুরু হয়, তবে আস্তে আস্তে এর তীব্রতা বাড়ে। ব্যথা এক পাশে শুরু হয়ে অনেক সময় চোখের পেছনের দিকেও প্রবাহিত হয়ে তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় নাক, চোখ বা ব্যথার স্থান লাল বর্ণও ধারণ করতে পারে। তীব্র আলো, ঘ্রাণ বা গন্ধ এবং শব্দে এ ধরনের মাথা ব্যথা বেড়ে যায়।

মাথাব্যথা চিকিৎসা

মাথাব্যথা সেটা যে ধরণের উপসর্গ নিয়েই আসুক না কেন এর উন্নত এবং স্থায়ী চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। তবে এর জন্য এক্সপার্ট একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরি। 
বিস্তারিত

Monday, July 29, 2019

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ কারণ ও প্রতিকার, Dengue Fever কার্যকর চিকিৎসা

ডেঙ্গু জ্বরে ব্যক্তির সাধারণত উচ্চ জ্বর হয় অর্থাৎ তাপমাত্রা ১০৪-১০৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা তার থেকে বেশি হবে। ডেঙ্গু জ্বরের Dengue Fever যে উপসর্গ বা লক্ষণগুলি দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা,পেশি এবং গাঁটে ব্যথা এবং ত্বকে হামজ্বরের মতো র‍্যাশ। স্বল্প ক্ষেত্রে অসুখটি প্রাণঘাতী ডেঙ্গু হেমোর‍্যাজিক ফিভার-এ পর্যবসিত হয় ,যার ফলে রক্তপাত, রক্ত অনুচক্রিকার কম মাত্রা এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ অথবা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম-এ পর্যবসিত হয়, যেখানে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কম থাকে।
এই Dengue Fever বা ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসার জন্য কার্যকর ঔষধ রয়েছে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শাস্ত্রে তবে এই ক্ষেত্রে অবশ্যই এক্সপার্ট কোন হোমিও ডাক্তারের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরি যিনি আপনার যাবতীয় লক্ষণ সমষ্টি পর্যালোচনা করে ঔষধ প্রয়োগ করবেন। নিজে নিজে ঔষধ গ্রহণ করা থাকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও উপসর্গ

একজন ডেঙ্গু জ্বরে ব্যক্তির সাধারণত উচ্চ জ্বর হয় অর্থাৎ তাপমাত্রা ১০৪-১০৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা তার থেকে বেশি হবে। সাথে নিম্নের লক্ষণগুলোর অন্তত দুটি প্রকাশ পাবে
  • তীব্র মাথা ব্যথা
  • চোখের পিছনের দিকে তীব্র ব্যথা
  • জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা
  • মাংসপেশী অথবা হাড়ে ব্যথা (এজন্য অন্য নাম: হাড় ভাঙ্গা জ্বর)
  • হামের মত র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা যায়
  • নাক, দাঁতের মাড়ি থেকে অল্প রক্তপাত হতে পারে
  • রক্তে শ্বেতকণিকার পরিমাণ করে যাবে
লক্ষণগুলো রোগীর বয়স অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। ছোট বাচ্চা ও প্রথমবার আক্রান্তদের থেকে বয়স্ক, শিশু ও দ্বিতীয়বার আক্রান্তদের মাঝে রোগের তীব্রতা বেশি হয়

ডেঙ্গু জ্বরের পরীক্ষা

ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে কিনা তা বুঝতে যে পরীক্ষা করা হয় তা হলো সিবিসি টেস্ট (CBC Test) । এটা হলো রক্তের প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করতে করা। প্লাটিলেট ( platelets) সাধারণত দেড় লক্ষের নীচে হলে সন্দেহ করা হয় ডেঙ্গুর দিকে যাচ্ছে। আরডেঙ্গু এনএস১এজি (Dengue NS1AG) এই অ্যান্টিজেন থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় ডেঙ্গু হয়েছে কিনা।

যখন পরীক্ষা করবেন 

জ্বর হওয়ার ৪/৫ দিন পর করবেন কারণ এর পূর্বে করলে রিপোর্ট নরমাল আসতে পারে।

কখন হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে?

ডেঙ্গু জ্বর হলেই যে হাসপাতালে ভর্তি হতেই হবে তেমন নয়। প্লাটিলেট কাউন্ট যখন ৩০ হাজারের নিচে নামে তখন আপনি হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেন। এছাড়াও যদি অনেক বমি শুরু হয় আর দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত যায়, কালো পায়খানা হয় এবং রোগী অনেক দূর্বল হয়ে যায়, তখন প্রেশার কমে গেলে দেরী না করে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বরের প্রতিরোধ

এ রোগের কোন টিকা নেই। তাই প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে হয়। এজন্য -
  • জমে থাকা খোলা পাত্রের পানিতে মশকী ডিম পাড়ে। পোষা প্রাণির খাবার পাত্র, পানির পাত্র, ফুল গাছের টব, নারকেলের মালা ইত্যাদিতে পানি জমে থাকতে পারে। সেগুলো পরিষ্কার রাখবেন।
  • দিন ও রাতে আলোতেও এরা কামড়ায়। তাই দিনের বেলাতেও মশারী ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তিকে যাতে মশা কামড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা নিতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা

এই রোগের কোন সুনির্দিষ্ট এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই কারণ এটি হলো ভাইরাস জ্বর। তবে এর ভালো চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। এই রোগের লক্ষণগুলোর উপর চিকিৎসা দেয়া হয়। এর সাথে যা যা করবেন...
  • রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখুন
  • প্রচুর পানি পান করতে দিন
  • ডাবের পানি খেতে দিতে পারেন
  • কমলা খেতে দিতে পারেন রোগীকে 
  • ১ গ্লাস বিশুদ্ধ পানিতে কয়েক ফোটা লেবুর রস মিশিয়ে দিনে কয়েক বার খেতে দিতে পারেন
  • সহজে হজম হয় এমন খাবার এবং শাকসব্জি খেতে দিন
  • স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে কাপড় ভিজিয়ে শরীর বারবার মুছে দিন
  • রোগীকে অ্যাসপিরিন বা এজাতীয় ঔষধ দিবেন না তাতে রক্ত ক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে 
  • ডেঙ্গু জ্বরে ভয়ের কিছু নেই। অভিজ্ঞ কোন হোমিও ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চললে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করা যায়।
বিস্তারিত

Thursday, July 4, 2019

BMI কি? বি এম আই BMI নির্ণয় পদ্ধতি ! অতিরিক্ত ওজন মেদ ভূঁড়ি কমানোর সহজ উপায়

বি এম আই - বডি মাস ইনডেক্স Body Mass Index (BMI) হলো আপনার দেহের ওজন এবং দৈর্ঘ্য বা উচ্চতার বর্গের অনুপাত। এটি হলো একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির ওজন ও উচ্চতার ভিত্তিতে স্থুলতা নির্ণয়ের একটি নির্ভরযোগ্য ও সর্বাধিক প্রচলিত সূচক বা পন্থা, যা ব্যক্তির ওজনাধিক্যের ধরণ নির্দেশ করে নানা স্বাস্থ্যগত সমস্যার ঝুঁকি হতে রক্ষা করে। বিএমআই মানের মাধ্যমে জানা যায় যে দেহের ওজন স্বাভাবিক, কম বা বেশী ইত্যাদির মধ্যে কোন পর্যায়ে আছে।  বি এম আই সূত্র হলো -
BMI = দেহের ওজন (কেজি) / দেহের উচ্চতা (মিটার)২
একেক দেশের লোকসংখ্যা ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী BMI এর স্ট্যান্ডার্ড ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। তবে মানব দেহে সুস্থতার জন্য BMI এর আদর্শ মান হলো ১৮.৫ থেকে ২৪.৯ এর মধ্যে।
বিএমআইশ্রেনী
১৮.৫ওজনহীনতা
১৮.৫ – ২৪.৯স্বাভাবিক ওজন 
২৫ – ২৯.৯অতিরিক্ত ওজন 
৩০ – ৩৪.৯ স্থুলতা
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যগত নানা জটিলতার সাথে ওজনাধিক্যের রয়েছে  নিবিড় সম্পর্ক। যাদের ওজন বেশি, অর্থাৎ, যারা ওজনাধিক্য কিংবা স্থুলতায় ভুগছেন তাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, অষ্টিওপোরেসিস সহ নানা অসুখ হবার আশঙ্কা থাকে, যা মহিলাদের ক্ষেত্রে আরও প্রকট আকার ধারণ করে। পক্ষান্তরে, কারও ওজন যদি খুব কম থাকে, তবে সে সবসময় দুর্বল ও ক্লান্তবোধ করে, তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কম থাকে।

এ সকল বিষয়ের প্রেক্ষিতে প্রতিটি মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবন লাভের জন্য একটি কাম্য ওজন বা Standard weight বিবেচনা করা হয়। ব্যক্তি বিশেষের এই কাম্য ওজন পরিমাপের একটি পদ্ধতি হলো Body Mass Index বা BMI নিরূপণ।
মদ্যপান, অতিরিক্ত ঘুম, মানসিক চাপ, স্টেরয়েড এবং অন্য নানা ধরনের ওষুধ গ্রহণের ফলেও ওজন বাড়তে পারে। বাড়তি ওজন কিংবা ভুঁড়ি নিয়ে অনেক সমস্যা। বাড়তি ওজনের জন্য যেকোনো ধরনের হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া রক্তনালিতে চর্বি জমে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। বাড়তি ওজন রক্তচাপেরও কারণ। ডায়াবেটিস টাইপ-২ দেখা দিতে পারে মেদ বৃদ্ধির জন্য। মেদবহুল ব্যক্তির জরায়ু, প্রস্টেট ও কোলন ক্যান্সারের সম্ভাবনা শতকরা ৫ ভাগ বেশি।

ওজন বৃদ্ধির সাথে সাথে হাঁটাচলা করতে সমস্যা হয়। হাঁটুর সন্ধিস্থল, কার্টিলেজ, লিগামেন্ট ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। আর্থ্রাইটিস, গেঁটে বাত এবং গাউট হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। অতিরিক্ত চর্বি থেকে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, অতিরিক্ত কম ওজন বা অতিরিক্ত বেশি ওজন বা স্থূলত >> দুটোই সুস্থতার বিপরীত। নিজের আদর্শ ওজন নির্ণয় করুন, এবং আপনার অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ওজনকে আদর্শ অবস্থানে আনবার জন্য চেষ্টা করুন। কেবল সুন্দর থাকা মানেই ভালো থাকা নয়, সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকাই সত্যিকারের ভালো থাকা।

অতিরিক্ত ওজন মেদ ভূঁড়ি কমানোর সহজ উপায়

কোন প্রকার পার্শপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই অতিরিক্ত ওজন স্থূলতা বা মেদ ভূঁড়ি কমানোর সহজ উপায় হলো হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা। এই অতিরিক্ত ওজন স্থূলতা বা মেদ ভূঁড়ি সমস্যার পেছনে হরমোনাল কারণসহ বিভিন্ন ধরণের কারণ থাকে যা প্রপার হোমিও চিকিৎসা মাধ্যমে দূর করে ওজন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। তবে এর জন্য আপনাকে অবশ্যই এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিতে হবে। 
বিস্তারিত

Wednesday, July 3, 2019

অতিরিক্ত ওজন মেদ ভূঁড়ি অতিস্থূলতা Obesity কমানোর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা

অতিরিক্ত ওজন মেদ ভূঁড়ি অতিস্থূলতা Obesity আজকাল আমাদের দেশে একটি কমন বিষয়। শরীরে অতিরিক্ত স্নেহ বা চর্বি জাতীয় পদার্থ জমা হয়ে এই সমস্যার তৈরী করে থাকে। অতিরিক্ত ওজন স্থূলতা বৃদ্ধি পেলে আমাদের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রকার রোগের সম্ভাবনা দেখা দেয়, বিশেষত হৃদরোগ, দ্বিতীয় পর্যায়ের ডায়াবেটিস, শুয়ে থাকার সময় শ্বাসকষ্ট, কয়েক ধরনের ক্যান্সার এবং অস্টিওআর্থারাইটিস। অনেকে খুব কম পরিমাণে খাচ্ছেন অথচ ক্রমশ ওজন বৃদ্ধি পাচ্ছে, এর জন্য ধীর বিপাক ক্রিয়া বা ধীরে হজম হওয়াকেই দায়ী করা যেতে পারে।
আপনি সব সময় শুনে এসেছেন যে অতিরিক্ত ওজন হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং আরও অনেক অসুখ ঘটাতে পারে। কিন্তু আপনি কি জানেন অতিরিক্ত শারীরিক ওজন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়? ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে গবেষকরা সন্দেহ করে আসছেন যে শারীরিক ওজনের সঙ্গে ক্যান্সারের সম্পকর্ রয়েছে। বতর্মানে তারা প্রমাণ পেয়েছেন কীভাবে শারীরিক ওজন ক্যান্সার ঘটায়। শরীরের অতিরিক্ত চবির্ শুধু সেখানে বসে থাকে না, সেটা তন্ত্রে সক্রিয় পরিবতর্ন ঘটিয়ে ক্যান্সার সৃষ্টি হওয়াকে সহজ করে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, চবির্ কোষগুলো বুকে হরমোহনসহ শারীরিক বৃদ্ধি ঘটানো বস্তুগুলোর নিঃসরণ ঘটাতে দ্রত কাজ করে। এসব বস্তু শরীরের বিভিন্ন কোষে সঙ্কেত পাঠিয়ে দ্রত কোষের বিভাজন ঘটায়। এভাবে যত্রতত্র কোষ বিভাজন বেড়ে যায় এবং তা ক্যান্সারের সৃষ্টি করে।

অতিরিক্ত ওজন মেদ ভূঁড়ি অতিস্থূলতা Obesity- কারণ

  • কারও কারও জেনেটিক বা বংশগত কারণেই মোটা হওয়ার ধাত তৈরি হয়।
  • অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ মোটা হওয়া বা ওজন বাড়ার অন্যতম কারণ। মনে রাখতে হবে, অতিভোজনই অতি ওজন। খাবারের মধ্যে যা শক্তি সঞ্চয় হয়, কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের মাধ্যমে ক্ষয় না হলে, ওজন বাড়তেই থাকবে।
  • পরিশ্রমবিহীন অলস জীবন মোটা হওয়ার অন্যতম কারণ।
  • অ্যালকোহল, এনার্জি ও হেলথ ড্রিংকস, কোমল পানীয়, ফাস্ট ফুড ইত্যাদি মোটা হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
  • অ্যান্ড্রোক্রাইন ও হরমোনজনিত রোগ, যেমন হাইপোথাইরয়েডিজম, কুশিং সিনড্রোম ইত্যাদি।
  • দীর্ঘদিন যাবৎ কিছু কিছু ওষুধ ব্যবহারের ফলে মোটা হওয়ার প্রবণতা থাকে। যেমন স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ।

অতিরিক্ত ওজন মেদ ভূঁড়ি অতিস্থূলতা Obesity কমাতে যা যা করবেন

  • প্রথমেই আপনাকে  বি এম আই BMI সূত্র>> প্রয়োগ করে আপনার দেহের দৈর্ঘ্য বা উচ্চতার অনুপাতে আপনার শরীরের ওজন ঠিক আছে কিনা সেটা নির্ণয় করতে হবে। 
  •  দ্রুত বা তাড়াহুড়ো করে ওজন কমানো সম্ভব নয়। নিয়মমাফিক ধৈর্য সহকারে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। শুরুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। শারীরিক কোনো রোগ শনাক্ত করা গেলে সে অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। এ ছাড়া ওজন কমানোর অন্যান্য পদ্ধতিগুলো আপনার নিজের হাতের মুঠোতেই। পেটটা অতিরিক্ত খেয়ে ভর্তি না করাই ভালো। বরং পেটের কিছুটা অংশটা খালি রাখা ভালো।
  • ওজন সীমিত রাখতে পরিমিত খাবার খেতে হবে।
  • কম ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে।
  • ফাস্ট ফুড-জাতীয় খাদ্য এবং বাইরের খাবার না খাওয়া।
  • ভাত কম খাওয়াই উচিত। খাওয়ার আগে শসা, টমেটো, পেয়ারা খেয়ে নিলেও বেশি ভাত খেতে ইচ্ছে করবে না।
  • খাদ্যতালিকায় আঁশযুক্ত খাবার, ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেন থাকে।
  • চিনি, মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা। যেকোনো উৎসবেও পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে।
  • বাড়তি চর্বি পোড়ানোর জন্য প্রতিদিন পরিশ্রম করতে হবে। হাঁটা, লিফটে না চড়ে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, অল্প দূরত্বে গাড়ি বা রিকশায় না চড়ে হেঁটে চলার অভ্যাস করতে হবে। এগুলো শরীরের মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। সম্ভব হলে ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম, সাঁতার কাটা, সাইক্লিং, জগিং ইত্যাদি অভ্যাস করা ভালো। সুযোগ থাকলে ওজন কমানোর জন্য জিমেও যেতে পারেন।

অতিরিক্ত ওজন মেদ ভূঁড়ি অতিস্থূলতা Obesity - চিকিৎসা

এই সমস্যা থেকে পরিত্রানের জন্য ব্যায়ামের পাশাপাশি আপনি অভিজ্ঞ একজন চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে হোমিও চিকিৎসা নিলে অব্যর্থ রেজাল্ট পাবেন। 
বিস্তারিত

Friday, June 28, 2019

লাইপোমা টিউমার কি? চর্বিযুক্ত Lipoma Tumor স্থায়ী হোমিও চিকিৎসা সমাধান

লাইপোমা Lipoma একটি নির্দোষ টিউমার যা চর্বিযুক্ত টিস্যু দিয়ে গঠিত। এটি আবার ফ্যাটি টিউমার নামেও পরিচিত। নরম টিস্যু টিউমারগুলোর মধ্যে লাইপোমা হচ্ছে সবচেয়ে সাধারণ ধরন। লাইপোমাগুলোতে হাত দিয়ে স্পর্শ করলে নরম অনুভূত হয়, সাধারণত নড়ানো চড়ানো যায় এবং সাধারণভাবে এগুলো ব্যথাহীন। অনেক লাইপোমা ছোট আকারের, সাধারণত এক সেন্টিমিটার ব্যাসের কম; কিন্তু কোনো কোনো লাইপোমা ছয় সেন্টিমিটারের চেয়ে বড় আকারের হতে পারে। সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সে লাইপোমা বেশি দেখা দেয়, তবে শিশুদেরও এটা হতে পারে। কারও কারও মতে লাইপোমা ক্যান্সারে রূপান্তর ঘটতে পারে।
লাইপোমা একটি চর্বিযুক্ত ফোলা অংশ যা খুব ধীরে ধীরে বড় হয়। এটি সাধারণত ত্বক ও মাংসপেশীর মাঝে সৃষ্টি হয়। আঙ্গুল দিয়ে সামান্য চাপ দিলে এটি নড়াচড়া করে, তাই সহজেই একে শনাক্ত করা যায়। এটি সাধারণত বেশ শক্ত হয়। একজন ব্যক্তির একাধিক লাইপোমা হতে পারে। যে কোনো বয়সে লাইপোমা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে মধ্য বয়সীদের এটি বেশি হয়ে থাকে।

লাইপোমা কোনো ক্যান্সার নয় এবং সাধারণত এর ফলে বিশেষ কোনো ক্ষতি হয় না। এর জন্য কোনো চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। তবে যদি এটি বিরক্তিকর মনে হয় বা বড় হয়ে যায় এবং এর কারণে যদি ব্যথার সৃষ্টি হয় তাহলে অপারেশন করা প্রয়োজন।

লাইপোমা টিউমার - টাইপ 

বিভিন্ন টাইপের লাইপোমা রয়েছে, যেমন-
  • অ্যানজিওলাইপোমা: ত্বকের নিচে ব্যথাপূর্ণ গোটা। লাইপোমায় অন্য সব বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
  • অ্যানজিও লাইপো লিওমায়োমা : এটি অর্জিত লাইপোমা। একক। উপসর্গবিহীন গোটা। ত্বকের নিচে গোলাকার টিউমার। পরীক্ষা করলে নরম মাংসপেশি কোষ, রক্তনালি, সংযোজক কলা ও চর্বি পাওয়া যায়।
  • নিউরাল ফাইব্রোলাইপোমা: নার্ভ ট্রাংক বরাবর ফাইব্রো-ফ্যাটি টিস্যুর অতিরিক্ত বৃদ্ধি। নার্ভে চাপ পড়ে।
  • কনড্রয়েড লাইপোমা: মহিলাদের পায়ের গভীরে হয়। শক্ত, হলুদ টিউমার।
  • স্পিনডল-সেল লাইপোমা: উপসর্গবিহীন। বয়স্ক পুরুষদের পিঠ, ঘাড় ও কাঁধের ত্বকের নিচে হয়। ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে।
  • প্লিওমরফিক লাইপোমা: স্পিনডল-সেল লাইপোমার মতো এই লাইপোমাগুলো বয়স্ক পুরুষদের পিঠের বেশিরভাগ জায়গায় ও ঘাড়ে হয়ে থাকে।
  • ইন্ট্রাডার্মাল স্পিনডল সেল লাইপোমা: এই লাইপোমা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মহিলাদের হয়। সচরাচর মাথা, ঘাড়, পেট, বুক, পিঠ এবং হাত ও পায়ে হয়ে থাকে।
  • হাইবারনোমা: এই লাইপোমাতে থাকে বাদামি চর্বি। লাইপোমার সবচেয়ে সাধারণ ধরন হলো সুপারফিসিয়াল সাবকিউটেনিয়াস লাইপোমা, অর্থাৎ ত্বকে ঠিক নিচে অবস্থানকারী লাইপোমা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এগুলো বুক, পিঠ, পেট, উরু এবং হাতে দেখা যায়।

লাইপোমা টিউমার - লক্ষণ 

  • ত্বক ফুলে যাওয়া
  • পিঠে শক্ত পিণ্ড বা চাকা দেখা দেওয়া
  • বাহুতে শক্ত পিণ্ড দেখা দেওয়া
  • ঘাড়ে শক্ত পিণ্ড দেখা দেওয়া
  • কাঁধে শক্ত পিণ্ড দেখা দেওয়া
  • ত্বকের বৃদ্ধি
  • স্তনের চাকা বা পিণ্ড
  • ত্বকের ক্ষত
  • অস্বাভাবিক ত্বক
  • কুঁচকি ফুলে যাওয়া
  • পায়ে শক্ত পিণ্ড দেখা দেওয়া

লাইপোমা টিউমার - চিকিৎসা

এই রোগে আক্রান্ত হলে ভয় পাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। কারন অনেকেরই এটি হয় এবং অনেকে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পরও বুঝতে পারে না। টিউমারগুলোতে ব্যথা না করলে কিংবা হাঁটাচলার অসুবিধা না হলে সাধারণত লাইপোমার চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। সৌন্দর্যগত কারণে এগুলো অপসারণ করা যেতে পারে।  সাধারণত অপারেশনের মাধ্যমে লাইপোমা ফেলে দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে অপারেশনের পরেও আবার লাইপোমা দেখা দিতে পারে ৷ তবে এর আরেকটি স্থায়ী চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। এর জন্য আপনাকে অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিতে হবে 
বিস্তারিত

Saturday, June 15, 2019

অটিজম(Autism) কি? কেন হয়? লক্ষন ও কার্যকর ক্লাসিক্যাল ট্রিটমেন্ট

অটিজম (Autism) এর একটি কার্যকর চিকিৎসা হলো ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথি। অটিজম হলো মানসিক বিকাশ ঘটিত সমস্যা যা মূলত স্নায়ু বা স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও পরিবর্ধন জনিত অস্বাভাবিকতার ফলে হয়ে থাকে অর্থাৎ এটি নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার (Neuro developmental Disorder).অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার (এএসডি) Autism Spectrum Disorder (ASD) শিশু জন্মানোর দেড় থেকে তিন বছরের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই সময় থেকে শিশুর ৫ বছর বয়সের মধ্যে হোমিওপ্যাথির ক্লাসিক্যাল পদ্ধতিতে চিকিৎসা শুরু করা গেলে অতি দ্রুত সর্বোত্তম ফল পাওয়া সম্ভব অনেকেই হয়তো বিষয়টি জানেনই না।
অটিজমে আক্রান্ত শিশুর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে অসুবিধা হয়। অটিজমের কারণে কথাবার্তা, অঙ্গভঙ্গি ও আচরণ একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকে আবার অনেকক্ষেত্রে শিশুর মানসিক ও ভাষার উপর দক্ষতা কম থাকে।

অটিজম (Autism) - কারণ

পেছনের কারণ খুঁজতে গেলে বহু রোগের পেছনের কারণই খুঁজে পাবেন না। অটিজম সমস্যার ক্ষেত্রেও বিষয়টি তাই। অর্থাৎ অটিজমের নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। তবে যে যে কারণের কথা বলা হয়ে থাকে -
  • জেনেটিক বা জীনগত সমস্যা
  • ভাইরাল ইনফেকশন
  • পরিবেশগত
  • গর্ভকালীন জটিলতা ইত্যাদি

অটিজম (Autism) - লক্ষণাবলী

  • অনেক শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ঠিকঠাক ভাবে হয় না
  • অটিজম থাকা শিশুদের মানসিক অস্থিরতার ঝুঁকি বেশী থাকে
  • এসকল শিশুর বিষন্নতা, উদ্বিগ্নতা ও মনোযোগে ঘাটতিসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে
  • ঠিকমত কথা বলতে না পারা, একই শব্দ বারবার বলা, কথার মানে বুঝতে না পারা, ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে কথা বোঝানোর চেষ্টা করা ইত্যাদি
  • অতিরিক্ত রাগ বা জেদ করা, অনেক-বেশী কান্না বা হাসি
  • রুটিন পরিবর্তনে ক্ষিপ্ত হওয়া, কারও চোখের দিকে কম তাকায় বা তাকায় না
  • কাউকে কিছু অনুরোধ করে না এবং সাহায্য চায় না ইত্যাদি
  • কেউ কেউ খুব আক্রমণাত্মক আচরণ করে থাকে যেমন কাউকে আঘাত করা, কামড়ানো, মারতে আসা, জিনিস পত্র ছুড়ে ফেলা বা জিনিস পত্র ভেঙে ফেলা ইত্যাদি 
  • অন্য বাচ্চাদের সাথে মিশতে চায় না, একা খেলাধুলা করে, কেউ তাকে কোলে নিতে গেলে বিরক্তি প্রকাশ করে, সামাজিক রীতি-নীতি বুঝতে পারেনা ইত্যাদি
  • অটিস্টিক শিশুদের প্রায়ই হজমের অসুবিধা, পেট ব্যথা, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটের গ্যাস, বমি ইত্যাদি হতে পারে।

অটিজম (Autism) - চিকিৎসা

এই সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথি একটি বেস্ট চিকিৎসা পদ্ধতি। যথা সময়ে পেশেন্টের হিস্টোরি পর্যালোচনা করে একটি ভালো হোমিও চিকিৎসা দিলে আশাতীত ফলাফল চলে আসে। 
বিস্তারিত

Wednesday, June 5, 2019

চিকুনগুনিয়া (Chikungunya) কারণ লক্ষণ প্রতিকার প্রতিরোধ

চিকুনগুনিয়া (Chikungunya) হচ্ছে মশাবাহিত ভাইরাসজনিত একটি রোগ। এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশের দুই থেকে চার দিনের মধ্যে আকস্মিক জ্বর শুরু হয় এবং এর সাথে অস্থিসন্ধিতে ব্যথা থাকে যা কয়েক সপ্তাহ, মাস বা বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এই ভাইরাসের সুপ্তিকাল এক থেকে বারো দিন তবে বেশিভাগ ক্ষেত্রে তা তিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত থাকে। অনেক সময় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও কোনো উপসর্গ প্রকাশ পায় না। সাধারণত ৭২-৯৭% ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা দেয়।
রোগটি সাধারণত আকস্মিক উচ্চমাত্রার জ্বর, জয়েন্টে ব্যথা ও ফুসকুড়ি নিয়ে শুরু হয়। ফুসকুড়ি রোগের শুরুতেই দেখা দিতে পারে তবে অনেক সময় রোগ শুরু হওয়ার দুই থেকে তিন দিন পর জ্বর কমতে শুরু করলে ফুসকুড়ির আবির্ভাব হয়। এছাড়া অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে রয়েছে মাথাব্যথা, ক্লান্তি, পেটব্যথা, ফটোফোবিয়া বা আলোর দিকে তাকাতে সমস্যা, কনজাংটিভাইটিস। বড়দের আর্থ্রাইটিস বা জয়েন্টে প্রদাহ হতে পারে। এই রোগের উপসর্গকে অনেক সময় ডেঙ্গু জ্বর এবং জিকা জ্বরের সাথে ভুল করে তুলনা করা হয়।

রোগের লক্ষণ সমূহ

  • রোগের শুরুতেই ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে রোগ শুরু হওয়ার দুই থেকে তিন দিন পর জ্বর কমতে শুরু করলে ফুসকুড়ির আবির্ভাব হতে পারে।অনিদ্রা হতে পারে।
  • গায়ে লাল লাল দানার মতো র‍্যাশ দেখা যেতে পারে।
  • কনজাংটিভাইটিস হতে পারে।
  •  চিকুনগুনিয়া জ্বরে অসহ্য মাথা ব্যথা হতে পারে। এই জ্বরে দীর্ঘসময় ধরে মাথা ব্যথার প্রভাব থাকতে পারে যা শারীরিকভাবে কষ্ট দেওয়ার পাশাপাশি ঘুমের ক্ষেত্রেও মারাত্মক ব্যঘাত ঘটায়।
  • এই জ্বর হলে শরীর অনেক দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারনে বার বার বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।
  • জ্বর এবং ব্যথায় কাতর হয়ে অনেকের মধ্যে অবসাদের প্রভাব দেখা যেতে পারে। ফলে কোন কাজেই মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না।
  •  অনেক ক্ষেত্রে চোখ লাল হয়ে যাওয়া বা চোখের মধ্যে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। আবার অনেক সময় চোখের ব্যথা এতটাই বেড়ে যায় যে আলোর দিকে তাকাতে সমস্যা হয় এবং চোখ জ্বালা করে।
  • সাধারণত বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে রোগের তীব্রতা অনেক বেশি হয় এবং উপসর্গগুলো বেশিদিন থাকে।
  • ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে জ্বর ভালো হয়ে গেলে কয়েকদিন দুর্বলতা বা ক্লান্তি লাগতে পারে কিন্তু সাধারণত এত দীর্ঘ সময় ধরে শরীর ব্যথা বা অন্য লক্ষণগুলো থাকে না।
  • আবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্তক্ষরণ হয়, যা অনেক সময় খুব ভয়াবহ হতে পারে। কিন্তু চিকুনগুনিয়া রোগে ডেঙ্গু জ্বরের মতো রক্তক্ষরণ হয় না এবং রক্তের প্লাটিলেট খুব বেশি হ্রাস পায় না।

রোগ নির্ণয়ে পরীক্ষা

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা বিশেষ করে ভাইরাস পৃথকীকরণ, RT-PCR কিংবা সেরোলজির মাধ্যমে এ রোগ শনাক্ত করা যেতে পারে। রোগীর রক্তে ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া এন্টিবডি দেখে এ রোগ সনাক্ত করা যেতে পারে। এতে অনেক ক্ষেত্রে ২ থেকে ১২ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

চিকিৎসা পদ্ধতি

চিকুনগুনিয়া ভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসা মূলত উপসর্গ ভিত্তিক। এর কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিশ্রাম নিতে হবে, প্রচুর পানি ও তরলজাতীয় খাবার খেতে হবে। এর রয়েছে উন্নত হোমিও চিকিৎসা। তবে এর জন্য এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন।

প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

চিকুনগুনিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকরী কোনো টিকা এখনও পর্যন্ত আবিস্কার হয়নি। এটি যেহেতু এডিস প্রজাতির মশাবাহিত রোগ, তাই মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করা যেতে পারে। যেমন- ঘুমানোর সময় মশারি টাঙিয়ে ঘুমানো, লম্বা হাতাযুক্ত জামা ও ট্রাউজার পরে থাকা, বাড়ির আশেপাশে জল জমতে না দেয়া ইত্যাদি। শুধু স্ত্রী জাতীয়  মশা দিনের বেলা কামড়ায়। আবার এরা একবারে একের অধিক ব্যক্তিকে কামড়াতে পছন্দ করে। তাই দিনে ঘুমালেও অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে। এ মশার ডিম জলে এক বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। বালতি, ফুলের টব, গাড়ির টায়ার প্রভৃতি স্থানে অল্প পরিমাণ জমে থাকা জলও ডিম পরিস্ফুটনের জন্য যথেষ্ট। যেহেতু এডিস মশা স্থির জলে ডিম পাড়ে তাই যেন বাড়ির আশেপাশে জল জমে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

ডেঙ্গুজ্বরে সাধারণত চারবার পর্যন্ত হতে পারে। অপরদিকে চিকুনগুনিয়া একবার হলে সাধারণত আর হয় না। এছাড়া অনেক বিষয়েই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের মধ্যে সাদৃশ্য আছে। এ রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশা প্রতিরোধ। এজন্য এডিস মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করা এবং মশা নির্মূল করার মাধ্যমে চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধ করা যেতে পারে। সাবধানতাই একমাত্র এই রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে। এ রোগে মৃত্যুঝুঁকি নেই বললেই চলে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা প্রাত্যহিক জীবনে অনেক সমস্যা সৃষ্টি করে। তবে রোগী যদি হোমিও চিকিৎসার আওতায় চলে আসে তাহলে এই সকল জটিলতা থেকে রেহাই পেতে পারে।
বিস্তারিত

Wednesday, April 3, 2019

গ্যাংগ্রিন (Gangrene) পচনশীল দূষিত ঘা বা ক্ষত! নিরাময় হতে পারে যেভাবে।

গ্যাংগ্রিন (Gangrene) দূষিত পচা হয়ে থাকে যখন টিস্যু বা কলাতে পচন ধরে। এটা বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে - শুকনো, ভেজা এবং গ্যাস গ্যাংগ্রিন। একেক টির ক্ষেত্রে একেক রকম লক্ষণ প্ৰকাশ করতে পারে। গ্যাংগ্রিন (Gangrene) বা গ্যাংরিন একটি গুরুতর অবস্থা সংঘটিত হয় শরীরের টিস্যু মারা গেলে। কোন আঘাত বা সংক্রমণের ফলে অথবা রক্ত সঞ্চালনের কোনো দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা ভোগার ফলে এটি হতে পারে। গ্যাংরিন প্রাথমিক কারণ রক্ত সঞ্চালনের টিস্যুর কমে যাওয়া যেটি কোষের মৃত্যুর কারণ। ডায়াবেটিস ও দীর্ঘমেয়াদী ধূমপান গ্যাংগ্রিনের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
শুকনো গ্যাংগ্রিন (Dry Gangrene)
  • এই প্রকার গ্যাংগ্রিন মূলত ডায়বেটিস রোগীদের বেলায় বেশি দেখা যায়
  • ধীরে ধীরে রোগের বিস্তার হয়
  • খুব বেশি দুর্গন্ধ থাকে না৷
  • আক্রান্ত চামড়া শুকনো এবং কখনো কালো বর্ণের হয়ে থাকে 
  • সাধারণত ইনফেকশন থাকে না
ভেজা গ্যাংগ্রিন (Moist Gangrene)
  • সাধারণত ইনফেকশন থাকে
  • ক্ষতস্থান থেকে দুর্গন্ধ বের হবে
  • দ্রুত রোগের বিস্তার হয় 
  • আক্রান্ত চামড়া ভেঁজা ভেঁজা হয়ে থাকে
  • প্রথম দিকে আক্রান্ত স্থানের চামড়া লালচে এবং পরে নীলাভ বর্ণ ধারণ করে 
গ্যাস গ্যাংগ্রিন (Gas Gangrene)
  • চামড়ার ক্ষতস্থানে ইনফেকশন থাকে
  • আক্রান্ত স্থান থেকে দুর্গন্ধ বের হয়
  • আক্রান্ত স্থান লালচে বর্ণের হয়ে থাকে 
  • ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে গ্যাস তৈরি করে 
  • দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে রোগীর মৃত্যু হতে পারে
গ্যাংগ্রিনের উন্নত চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। এর জন্য এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন।
বিস্তারিত

Friday, March 15, 2019

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (Rheumatoid Arthritis) সন্ধিবাত বা গাঁট ফোলানো বাত

সন্ধিবাত বা গাঁট ফোলানো বাত (Rheumatoid Arthritis) রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস আমাদের হাত বা পায়ের ক্ষুদ্র জয়েন্টে আক্রমণ করে থাকে। এই সমস্যাটি হলে দেখা যায় - প্রথমে হাত ও পায়ের ছোট ছোট জয়েন্টগুলিতে ব্যাথা করে, জয়েন্ট গুলি ফুলে যায়, রিউম্যাটিক নডিউল দেখা যায় আবার ব্যাথার পাশাপাশি শরীরে জ্বর জ্বর অনুভূত হয়। এই রোগের উন্নত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা রয়েছে। বিস্তারিত ভিডিওতে.....
বিস্তারিত

Thursday, March 14, 2019

দূরারোগ্য আইবিএস (IBS)! মল নরম কিন্তু (পেট) পায়খানা পরিষ্কার হয় না !

ইরিটেবল বাওল সিনড্রোম বা আইবিএস (IBS) বলতে কতগুলো উপসর্গের সমষ্টিকে বুঝায় যা খাদ্যনালীর স্বাভাবিক কার্যকারিতার ব্যাঘাত ইঙ্গিত করে। যদিও খাদ্যনালীতে কোন প্রমাণযোগ্য জৈবিক রোগ থাকে না। সাধারণত বৃহদন্ত (কোলন) থেকে মিউকাস নিঃসৃত হয়। এই নিঃসরণ বিভিন্ন কারণে বাড়তে পারে। তাকে ভুল করে রোগীরা ক্রনিক আমাশয় ভাবেন।
বলতে গেলে আজকাল ক্রনিক আমাশয় প্রায় দেখা যায় না। তার বদলে দেখা যায় পায়খানায় অতিরিক্ত আম যায় যার আর এক নাম ইরিটেবল বাওল সিনড্রোম (আইবিএস)। এই রোগে অন্ত্রের স্পর্শকাতরতা বেড়ে যায। তাই রোগীর গ্যাস, ঢেঁকুর, পেটভার, পায়খানা পরিষ্কার না হওয়া ইত্যাদি হয়। উন্নত হোমিও চিকিৎসা না নিলে এ রোগ সারাজীবন চলে। এটা না আলসার, না ক্যান্সার, না টিবি। ইরিটেবল বাওল সিনড্রোমকে আগে নানাভাবে নাম দেয়া হয়েছিল। বলা হতো কোলাইটিস, মিউকাস কোলাইটিস, স্পাস্টিক কোলন অথবা স্পঙ্কি বাওল।

পাতলা পায়খানা এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ ছাড়াও আইবিএস (IBS) এর ক্ষেত্রে আরো কিছু জটিল উপসর্গ প্রকাশ করতে পারে যার মধ্যে রয়েছে - মল নরম হওয়া সত্ত্বেও পায়খানা পরিষ্কার না হওয়া। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে....
পাতলা পায়খানা  বা কোষ্ঠকাঠিন্য- এর মাঝে যেকোন একটি অথবা দুটোই একসাথে হতে পারে। সবসময় বিশেষ করে সকালের সময়টাতে বেশি মনে হতে পারে যে পেট পরিষ্কার হয়নি। সারাদিন এমন অস্বস্তিতে ভুগতে পারেন। অনেক সময় পেটের বাঁ দিকে তলপেটে মোচড় দিয়ে ব্যথা হতে দেখা যায়। পেট পরিষ্কার হলে এই ব্যথা কমে যায়।

অনেক ক্ষেত্রে খাবার গ্রহণের পর ব্যথা অনুভূত হয় এবং মোশন আসতে পারে। ক্ষুধা কমে আসে। গলা ও বুকে জ্বালাপোড়া ভাব থাকতে পারে। সবসময় পেট ফাঁপা বা পেট ভার হয়ে থাকা ভাব অনুভূত হতে পারে। অনেকের আবার বমি বমি ভাব, এমনকি বমি হয়েও যেতে পারে। শরীর সবসময় অবসাদগ্রস্থতায় বা ক্লান্তিতে ছেয়ে থাকতে দেখা যায়। এই রোগের চরম পর্যায়ে সাধারণত জ্বর জ্বর ভাব বা মলের সাথে রক্তপাত না হলেও আলাদাভাবে এসব উপসর্গ দেখা যেতে পারে।

এই রোগের সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা মূলতঃ হোমিওপ্যাথি। এর জন্য অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরী।
বিস্তারিত

Monday, March 11, 2019

বাত বা বাতের ব্যথা (Arthritis) আথ্রাইটিস কি? অষ্টিওআর্থ্রাইটিস গেঁটে বাত স্পন্ডিলাইটিস সায়াটিকা

সন্ধিবাত বা গাঁট ফোলানো বাত (Rheumatoid Arthritis) অষ্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis) বা অস্থিসংযোগ গ্রন্থি প্রদাহ, গেঁটে বাত (Gout), কটিবাত বা কোমর প্রদাহ (Lumbago), মেরুদণ্ড প্রদাহ বা স্পন্ডিলাইটিস (Spondylitis), সায়াটিকা/কোটি স্নায়ুশূল(Sciatica, আম বাত বা আর্টিকেরিয়া বা অ্যালার্জি(Urticaria), বাতজ্বর (Rheumatic Fever), সংক্রামক বাত বা সেপটিক আর্থ্রাইটিস রোগের লক্ষণসমূহ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা। নিম্নোলিখিত রোগগুলোই সাধারণত একত্রিত হয়ে বাতরোগ গঠিত হয়-
  • সন্ধিবাত/ গাঁট - ফোলানো বাত (Rheumatoid Arthritis)
  • অষ্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis)/অস্থিসংযোগ গ্রন্থি প্রদাহ
  • গেঁটে বাত (Gout)
  • কটিবাত বা কোমর প্রদাহ (Lumbago)
  • মেরুদণ্ড প্রদাহ বা স্পন্ডিলাইটিস (Spondylitis)
  • সায়াটিকা/কোটি স্নায়ুশূল (Sciatica)
  • আম বাত/আর্টিকেরিয়া/অ্যালার্জি (Urticaria)
  • বাতজ্বর (Rheumatic Fever)
  • সংক্রামক বাত/সেপটিক আর্থ্রাইটিস
বাতের ব্যথায় ভূগেনি এমন নানা-নানী বা দাদা দাদী খুজে পাওয়া খুবই দুস্কর। রক্তে ইউরিক এসিডের (Uric acid) মাত্রা বেড়ে গেলে বাত বা গাঊট (Gout) হয়। কিছু কিছু অসুধ সেবনে রক্তে uric acid এর মাত্রা বেড়ে যেতে পারে যেমন থায়াজাইড, এসপিরিন, পাইরাজিনামাইড ইত্যাদি। তেমনি রেনাল ফেইলুর, হাইপার প্যারাথাইরয়েডিজম এমন কিছু রোগেও ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে বাত হতে পারে।

শতকরা ৭০ ভাগ বাতের ব্যথাই শুরু হয় পায়ের বুড়ো আঙ্গুলে। এথেকে গোড়ালি, হাটু, হাত ও পায়ের ছোট জয়েন্ট, কবজি, কনুই ক্রমান্বয়ে এরোগে আক্রান্ত হতে পারে। আক্রান্ত অস্থিসন্ধিটি ফুলে কিছুটা লালচে বর্ণ ধারণ করে এবং ব্যথা করে। অনেক সময় খুধামন্দা এবং জ্বরও এর সহচর হিসেবে দেখা দেয়।

বাত রোগে রক্তে ইউরিক এসিড এর মাত্রার সাথে সাথে ই,এস,আর এবং শ্বেতকনিকার সংখাও বৃদ্ধি পায়। এক্সরে করলে হাড়ে পরিবর্তন ধরা পড়ে। অস্থিসন্ধি থেকে সাইনোভিয়াল ফ্লুইড বা অস্থিরস পরীক্ষা করেও এই রোগ নিশ্চিত হওয়া যায়।
সন্ধিবাত বা গাঁট ফোলানো বাত (Rheumatoid Arthritis): কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্রমশ এক বা একাধিক অস্থি সন্ধিতে ব্যথা, আড়ষ্ঠভাব প্রকাশ পায়। সাধারণত হাত ও পা প্রথমে আক্রান্ত হয় আবার কখনও শুধু একটি সন্ধি। অস্থিসন্ধিবাত প্রধানত দুই প্রকার, যথা: (ক) তরণ অস্থিসন্ধি বাত (খ) পুরাতন অস্থিসন্ধি বাত। যেমন- হাঁটু, কনুই, পাছার সন্ধি আক্রান্ত হয়। মাঝে মাঝে এই লক্ষণগুলো মারাত্মকভাবে দেখা দেয় এবং রোগী অচল হয়ে পড়ে ইহাই অস্থি সন্ধিবাত।

অষ্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis): অষ্টিও শব্দের অর্থ হলো অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট আর আর্থ্রাইটিস হলো ইনফ্লামেসন বা প্রদাহ। অর্থাৎ অষ্টিওআর্থ্রাইটিস শব্দের অর্থ হলো অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট এ প্রদাহ। হাঁটু ভাঁজ করতে ব্যথা হয়, ফুলে যায়, উঠতে বসতে ব্যথা হয়। নীচে বসে নামাজ পড়া, বাথরুমে বসা, সিঁড়ি দিয়ে নামাউঠা করা বেশ কষ্টকর হয়। কখনও কখনও ভিতরে কট্ কট্ শব্দ করে। দীর্ঘ দিন চিকিৎসা না নিলে মাংসপেশী দূর্বল হয়ে পা বাঁকা হয়ে যায়।

গেঁটে বাত (Gout): গেঁটে বাত বা গাউট হচ্ছে একটি প্রদাহজনিত রোগ; এতে সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি ও এর আশেপাশের টিস্যুতে মনোসোডিয়াম ইউরেট মনোহাইড্রেট ক্রিস্টাল জমা হয়। সাধারণত মাত্র ১-২% লোক এই রোগে আক্রান্ত হয় তবে মহিলাদের তুলনায় পুরুষেরা ৫ গুণ বেশি আক্রান্ত হয়। এটি পুরুষ ও বৃদ্ধা মহিলাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে লক্ষণীয় প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিস। পুরুষরা সাধারণত ৩০ বছরের পর এবং মহিলারা মেনোপজ বা রজোনিবৃত্তির পরে বেশি আক্রান্ত হয়। বয়স বৃদ্ধি ও রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে। মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের ইউরিক এসিডের মাত্রা বেশি থাকে তবে বয়স ও ওজন বাড়লে রক্তে ইউরিক এসিডও বাড়বে। কিছু এথনিক গ্রুপ যেমন মাউরি উপজাতি ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপের জনগোষ্ঠীদের রক্তে ইউরিক এসিড একটু বেশি থাকে। রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে তাকে হাইপারইউরিসেমিয়া বলে।

কটিবাত বা কোমর প্রদাহ (Lumbago): মেরুদন্ডের মাংসপেশি, লিগামেন্ট মচকানো, আংশিক ছিড়ে যাওয়া, দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিস্ক সমস্যা, কশেরুকার অবস্থানের পরিবর্তন ও মেরুদন্ডের নির্দিষ্ট বক্রতার পরিবর্তনকে বোঝায়। চলাফেরা, জীবিকার ধরন, খুব বেশী ভার বা ওজন বহন, মেরুদন্ডের অতিরিক্ত নড়াচড়া, একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে কোনো কাজ করা, মেরুদন্ডে আঘাত পাওয়া সর্বোপরি কোমরের অবস্থানগত ভুলের জন্য হয়ে থাকে। অন্যান্য কারণের মধ্যে বয়সজনিত মেরুদন্ডে ক্ষয় বা বৃদ্ধি, অস্টিওআথ্রাইটিস বা গেঁটে বাত, অস্টিওপোরোসিস, এনকাইলজিং স্পনডাইলোসিস, মেরুদন্ডের স্নায়বিক সমস্যা, টিউমার ক্যান্সার, বোন টিবি, কোমরের মাংসপেশির সমস্যা, পেটের বিভিন্ন ভিসেরার রোগ বা ইনফেকশন, বিভিন্ন স্ত্রীরোগজনিত সমস্যা, মেরুদন্ডের রক্তবাহী নালির সমস্যা, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, মেদ বা ভুঁড়ি অতিরিক্ত ওজন ইত্যাদি।

মেরুদণ্ড প্রদাহ বা স্পন্ডিলাইটিস (Spondylitis): স্পন্ডিলাইটিস  ঘাড়ে, পিঠে বা কোমরে যে কোনও জায়গায় হতে পারে। তবে ঘাড়েই বেশি হতে দেখা যায়। স্পন্ডিলাইটিস হচ্ছে মেরুদন্ডে প্রদাহজনিত সমস্যা। যেমন অ্যাষ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস, রিউম্যাটয়েড স্পন্ডিলাইটিস ইত্যাদি। ঘাড়ের স্পন্ডিলাইটিসে ঘাড়ে ব্যথার সাথে সাথে হাত বরাবর যন্ত্রণা নেমে আসে। দিনে দিনে এই রোগের সমস্যা বাড়ছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যেও এই রোগের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ছে। সার্ভাইকাল স্পন্ডিলাইটিসের কারণগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায় একনাগাড়ে ঘাড় নীচু করে কাজ করা, সেলাই করা হোক বা লেখাপড়ার কাজ, কম্পিউটার নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কাজ, অতিরিক্ত ওজন কিংবা ভারী স্কুলের ব্যাগ, উঁচু বালিশে শোয়া ইত্যাদি। লাম্বার স্পন্ডিলাইটিসের ক্ষেত্রে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা প্রণালী অথবা কাজকর্মের ধরনের ওপরও মেরুদন্ডের বাত নির্ভর করে। দেখা গেছে যারা ক্রমাগত বসে কাজ করেন যেমন অফিসের করনিক, কম্পিউটারে কাজ, সোনা-রূপোর দোকানে যারা কাজ করেন তাদের মেরুদন্ডে বাত ধরতে পারে। তেমনি আবার যারা দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে কাজ করেন তাদেরও স্পন্ডিলাইটিস হতে পারে।

সায়াটিকা/কোটি স্নায়ুশূল (Sciatica) : আমাদের শরীরে সায়াটিক নামের একটি নার্ভ বা স্নায়ু রয়েছে যার অবস্থান আমাদের মেরুদন্ডের লাম্বার স্পাইনের দিকের কশেরুকা বা ভার্টিরা এল ৩, ৪, ৫ ডিস্ক এবং সেকরাল স্পাইনের এস ১ কশেরুকা বা ভার্টিবা থেকে ঊরুর পিছন দিক দিয়ে হাঁটুর নিচের মাংসপেশির মধ্যে দিয়ে পায়ের আঙ্গুল পর্যন্ত। যখন কোনো কারণে এই নার্ভ বা স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে তখন এই নার্ভ বা স্নায়ুর ডিস্ট্রিবিউশন অনুযায়ী ব্যথা কোমর থেকে পায়ের দিকে ছড়িয়ে যায়, এটাকে সায়াটিকা বলা হয়।

বাত বা বাতের ব্যথা এবং চিকিৎসা

এই সকল বাতের ব্যথা নিরাময়ে কার্যকর এবং পার্শপ্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। এর জন অভিজ্ঞ কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিলে বেস্ট একটা রেজাল্ট পেয়ে যাবেন ইনশা-আল্লাহ। 
বিস্তারিত

Wednesday, February 27, 2019

বাতজ্বর (Rheumatic Fever) কারণ, লক্ষণ এবং স্বল্প মেয়াদী চিকিৎসা পদ্ধতি

বাতজ্বর(Rheumatic Fever) স্ট্রেপ্টোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ঘটিত এক ধরনের প্রদাহজনিত রোগ। বিটা হিমোলাইটিক স্ট্রেপ্টোকক্কাস দ্বারা ফ্যারিংসে সংক্রমণ হওয়ার ২ থেকে ৪ সপ্তাহ পর বাতজ্বর দেখা দিতে পারে। সে সময় ফ্যারিঞ্জাইটিসের লক্ষণসমূহ আর থাকেনা।  বাতজ্বর সাধারণত ৫-১৫ বছর বয়েসী বাচ্চাদের বেশী হয়ে থাকে। তবে বয়স্করাও এতে আক্রান্ত হতে পারে।

বাতজ্বরের উপসর্গ

মাইগ্রেটরি পলি-আর্থ্রাইটিস: বাতজ্বরে আক্রান্ত ৭৫% রোগীর এই লক্ষণটি প্রকাশ পায়। সাধারণত হাঁটু, গোড়ালির গাঁট, কব্জি ও কনুই এর মতো বড় জয়েন্টগুলো আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত জয়েন্ট ফুলে লাল হয়ে যায়, অত্যন্ত ব্যথা ও গরম থাকে। সাধারণত ১-৩ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যায়। মেরুদণ্ড, হাত ও পায়ের ছোট ছোট জয়েন্ট ও নিতম্বের জয়েন্ট আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

কার্ডাইটিস: ৫০-৬০% রোগীর ক্ষেত্রে এটি হয়।বাতজ্বরে হার্টের তিনটি স্তরেই (এন্ডোকার্ডিয়াম, মায়োকার্ডিয়াম, পেরিকার্ডিয়াম)প্রদাহ হয় বলে এটা প্যানকার্ডাইটিস নামে পরিচিত। হার্টের ভালব বা কপাটিকা বিশেষ করে মাইট্রাল ভালব ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাইট্রাল ভালবের সাথে কখনো কখনো অ্যাওর্টিক ভালবও আক্রান্ত হতে পারে। তবে শুধু অ্যাওর্টিক ভালব বা ডানপার্শ্বীয় ট্রাইকাসপিড ভালব সাধারণত আক্রান্ত হয়না।

সিডেনহাম কোরিয়া: ১০-১৫% রোগীর এই সমস্যা হয়।ঐচ্ছিক পেশির অনিয়মিতভাবে অনৈচ্ছিক আন্দোলন কে কোরিয়া বলে। এই রোগীদের হাত বেঁকে গিয়ে চামুচের মতো আকৃতি ধারণ করতে পারে, জিহ্বা বাইরে বের হয়ে লাফাতে থাকে। এছাড়া হাতের লেখা খারাপ হতে থাকে, লেখাপড়ায় অবনতি হয়। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। মানসিক চাপের সময় এই লক্ষণগুলো বাড়ে তবে ঘুমানোর সময় আর থাকেনা।

সাবকিউটেনিয়াস নডিউল: ত্বকের নিচে ব্যথাহীন কিছুটা শক্ত দলা পাওয়া যায়।

ইরাইথেমা মার্জিনেটাম: এক ধরণের লালচে চুলকানিমুক্ত ফুসকুড়ি যার মধ্যভাগ কিছুটা বিবর্ণ। এটিদেহ,হাত ও পায়ে হয়ে থাকে তবে মুখমণ্ডলে হয়না। চামড়া গরম হলে ফুসকুড়ি বেশি হয়।
বাতজ্বরের রোগীর সাধারণত নিম্নলিখিত উপসর্গসমূহ দেখা দেয়
  • জ্বর
  • রক্তের ইএসআর অনেক বেশী হওয়া।
  • অস্থিসন্ধিতে মৃদু বা তীব্র ব্যথা যা প্রায়ই পায়ের গোড়ালি, হাঁটু, কনুই অথবা হাতের কবজি এবং কখনো কখনো কাঁধ, কোমর, হাত, পায়ের পাতায় হয়ে থাকে।
  • ব্যথা সাধারণত এক অস্থিসন্ধি থেকে আরেক অস্থিসন্ধিতে ছড়িয়ে পড়ে যা মাইগ্রেটরি পলি-আর্থ্রাইটিস নামে পরিচিত।
  • জয়েন্ট লাল,উষ্ণ ও ফোলা থাকে
  • ত্বকের নিচে ক্ষুদ্র ব্যথাহীন পিন্ড বা সাবকিউটেনিয়াস নডিউল থাকে।
  • বুকে ব্যথা ও বুক ধড়ফড় করে
  • অল্পতে ক্লান্ত বা দুবর্ল বোধ হয়
  • শ্বাসকষ্ট হয় ইত্যাদি

যে কারণগুলি বাতজ্বর হওয়ার ক্ষেত্রে ট্রিগার করে

  • দারিদ্র্য
  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব
  • ঠাণ্ডা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে এবং অজ্ঞতাই এ রোগের প্রধান কারণ।
  • যেসব শিশুর দীর্ঘ দিন ধরে খোসপাঁচড়া ও টনসিলের রোগ থাকে, তাদের বাতজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে

চিকিৎসা পদ্ধতি

  • এলোপ্যাথিক : এই সিস্টেমে দীর্ঘ মেয়াদী অর্থাৎ ৫ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে এন্টিবায়োটিক নিতে হয় যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে
  • হোমিওপ্যাথিক : এই সিস্টেমে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ঔষধের মাধ্যমেই ৪/৫ মাসের মধ্যেই বাতজ্বর ভাল হয়ে যায়
বিস্তারিত

Saturday, January 5, 2019

দাদ (in english Ringworm) প্রকারভেদ, উপসর্গ এবং চিকিৎসা পদ্ধতি

দাদ (in english Ringworm or Taeniasis) এটি একটি সংক্রামক রোগ যা সহজেই আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সুস্থ দেহে বিস্তার লাভ করতে পারে। তাই এই চর্মরোগটি হওয়ার সাথে সাথেই চিকিৎসার মাধ্যমে নির্মূল করা উচিত। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে.....
বিস্তারিত

Saturday, December 29, 2018

কিডনি ও মূত্রনালীর সংক্রমণ বা ইউরিনারী ট্রাক্ট ইনফেকশন (UTI) - ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাবে কষ্ট, জ্বালাপোড়া ইত্যাদি

কিডনি ও মূত্রনালির সংক্রমণ Urinary Tract Infection (UTI), কিডনি, ইউরেটার, Urinary bladder (মূত্রথলি), Urethra (মূত্রনালী) তে সংক্রমণের জন্য ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাবে রক্ত যাওয়া, প্রস্রাবে কষ্ট, জ্বালাপোড়া, প্রস্রাব আটকে থাকা, প্রস্রাব দুই নালে বের হওয়া, প্রস্রাব অল্প ঘোলা হওয়া, কারো কারো ক্ষেত্রে তলপেটে ব্যথা, জ্বর আসা, বমি বা বমি বমি ভাব হওয়া, মূত্রনালী সঙ্কীর্ণ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ হতে পারে। হোমিওপ্যাথিতে এই সমস্যাগুলির কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে। বিস্তারিত ভিডিওতে....
বিস্তারিত