মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১

এপেন্ডিসাইটিস কি? অপারেশন ছাড়াই মুক্তি মিলে যেভাবে !

এপেন্ডিসাইটিস  Appendicitis এর কারণ লক্ষণ পরীক্ষা অপারেশন ঘরোয়া বা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বা প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত থাকছে এই পর্বে। মানবদেহের বৃহদন্ত্র নলের মতো ফাঁপা। বৃহদন্ত্রের তিনটি অংশের মধ্যে প্রথম অংশ হচ্ছে সিকাম। এই সিকামের সাথে ছোট একটি আঙ্গুলের মত দেখতে প্রবৃদ্ধি হল এপেনডিক্স। আর এর প্রদাহকে বলা হয় এপেন্ডিসাইটিস। এটি অ্যাকিউট এবং ক্রনিক দুটিই হতে পারে।

এপেনডিক্স একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেটি আমাদের হজমের সহায়ক উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার আশ্রয়স্থল। ডায়রিয়া বা অন্য কোন কারণে যখন আমাদের পেট পুরুপুরি পরিষ্কার হয়ে হজমে সহায়ক উপকারী সব ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস হয়ে পড়ে ঠিক তখনই অ্যাপেন্ডিক্স থেকে আগত সেই উপকারী ব্যাক্টেরিয়াগুলি আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করে তুলে। আপনি অ্যাপেন্ডিক্সকে হজমে সহায়ক উপকারী ব্যাক্টেরিয়াগুলির আশ্রয়স্থল হিসেবেও চিন্তা করতে পারেন।

এপেন্ডিসাইটিস
কিন্তু এলোপ্যাথিক চিকিৎসকগণ আপনাকে বুঝাবে এটি একটি অকেজো অঙ্গ। তাই অ্যাপেন্ডিক্স এর কোনরূপ সমস্যায় এটিকে কেটে ফেলে দিয়ে থাকে তারা। কারণ এলোপ্যাথিতে এপেন্ডিসাইটিস এর স্থায়ী কোন চিকিৎসা নেই। 
কিন্তু আপনি নিশ্চিত থাকুন, এপেন্ডিসাইটিস এর দ্রুত কার্যকর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা রয়েছে। আপনি এটিও জেনে রাখুন, আল্লাহ পাক মানব দেহের কোন অঙ্গকেই বৃথা সৃষ্টি করেননি।

অ্যাপেন্ডিসাইটিস - কেন ও কীভাবে হয়

দুর্ঘটনা বশতঃ কোন কারণে যদি অ্যাপেন্ডিক্স এর মধ্যে পাঁচিত খাদ্য, মল বা কৃমি ঢুকে যায়, তাহলে রক্ত ও পুষ্টির অভাব দেখা দেয়। নানান জীবাণুর আক্রমণে ঐ অংশে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। একেই এপেনডিসাইটিস বলে।

এপেন্ডিসাইটিস - প্রকারভেদ

অবস্থাগত দিক থেকে এপেন্ডিসাইটিসকে তিনভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
  • প্রদাহ অবস্থা: কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত মাছ-মাংস আহার, এপেনডিক্সের মধ্যে মল, মাছের কাটা, ছোট হাড়ের টুকরা ইত্যাদি প্রবেশ করে এই জাতীয় প্রদাহের সৃষ্টি করে।
  • ক্ষতযুক্ত অবস্থা: এই অবস্থায় এপেনডিক্স এর ভিতর ক্ষত সৃষ্টি হয় বা ছিদ্রের সৃষ্টি হয়। এতে ভয়ানক জ্বালা যন্ত্রণার সৃষ্টি হয়।
  • পচনশীল অবস্থা: এটাই সবচেয়ে ভয়ংকর অবস্থা। এতে উপাঙ্গের অগ্রভাগ সামগ্রিকভাবে উপাঙ্গটি বিনষ্ট হয়। এতে সিকাম এবং ক্ষুদ্রান্তের কিছু অংশ একসঙ্গে জড়িত হয়ে অন্ত্রনালীর আংশিক বা সামগ্রিক অবরুদ্ধভাবের সৃষ্টি করে।

এপেন্ডিসাইটিস - লক্ষণ ও উপসর্গ

এপেন্ডিসাইটিস এর প্রধান লক্ষণ হল ব্যথা। ব্যথা সাধারণত নাভির চারপাশে শুরু হয়, পরে ধীরে-ধীরে ডানে সরে গিয়ে তলপেটের ডান পাশে স্থায়ী হয়। এই স্থানে চাপ প্রয়োগ করলে ব্যথা বেশি অনুভূত হয়। চাপ প্রয়োগ করতে করতে একসময় হঠাত্‍ করে ছেড়ে দিলে ব্যথা আরও বেশি অনুভূত হয়। কাশি দিলেও ঐ স্থানে ব্যথা লাগে। বমি বমি ভাব থাকে, কখনও বমি হতে পারে, সঙ্গে জ্বরও থাকতে পারে। কাশি, কোষ্ঠকাঠিণ্যও হতে পারে।

এপেনডিসাইটিস - পরীক্ষা

রোগীকে কাশি দিতে বলে দেখতে হবে পেটে তীব্র ব্যথা হয় কিনা। অথবা ধীরে ধীরে কুঁচকির একটু ওপরে জোরে চাপ দিন যতক্ষণ না একটু ব্যথা লাগে। তারপর চট করে হাতটা সরিয়ে নিন। এছাড়া তলপেটের বামদিকে সমানভাবে চাপদিলে পেটের মধ্যে নাড়িভুঁড়ি বাঁদিক থেকে সরে ডান দিকে যায়। যদি এর ফলে ডানদিকের তলপেটে একটা প্রচন্ড তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় তাহলে সম্ভবতঃ এপেনডিসাইটিস হয়েছে বলে বুঝতে হবে। এছাড়া আল্ট্রাসনোগ্রাম করেও আপনি তা বুঝতে পারেন। 

এপেন্ডিসাইটিস এর  চিকিৎসা

আগেই বলেছি এলোপ্যাথিতে এপেন্ডিসাইটিস এর কোন চিকিৎসা নেই তাই সার্জারি করে অঙ্গটি কেটে ফেলে দিয়ে থাকে তারা। এর কোন স্থায়ী ঘরোয়া নিরাময়ও নেই। তবে কোন প্রকার অপারেশন ছাড়াই আপনি এই সমস্যা থেকে ঠিক হয়ে উঠতে পারেন দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রপার একটি হোমিও চিকিৎসায়।
কিন্তু যে বিষয়ে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে সেটি হলো দক্ষ একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার নির্বাচনে ব্যর্থ হলে ফলাফল শূন্য হতে পারে। অধিকাংশ হোমিও ডাক্তাররাই রেপার্টরির আলোকে গদবাধা কিছু হোমিও ঔষধ যেমনঃ বেলেডোনা (Belladona), আইরিস টেনাক্স (Iris Tenax), আর্নিকা মন্ট (Arnica Mont), প্লাম্বব মেট (Plumbum Met), এচিনেশিয়া (Echinacea), ফেরাম ফস (Ferrum Phos), লাইকোপোডিয়াম (Lycopodium), ল্যাকেসিস (Lachesis) ইত্যাদি ঔষধ প্রয়োগ করে এপেন্ডিসাইটিস সারানোর ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালায়। এই ঔষধগুলি রোগীকে কিছুটা আরাম দিলেও এপেন্ডিসাইটিস নির্মূলে ব্যর্থ হয়। অর্থাৎ শুরুর দিকে আরাম দিলেও কিছু দিন পর আবার সমস্যা দেখা দেয়। 
তাই এপেন্ডিসাইটিস সমস্যা থেকে পরিত্রানের জন্য দক্ষ এবং রেজিস্টার্ড একজন হোমিও চিকিৎসক নির্বাচন করুন যিনি রোগীর বর্তমান অবস্থা, তার জীবন দর্শন এবং ফ্যামিলি হিস্ট্রি নিয়ে প্রপার একটি হোমিও চিকিৎসা দিতে পারেন। মনে রাখবেন, দক্ষ একজন হোমিও ডাক্তার কর্তৃক নির্বাচিত একটি মাত্র হোমিও ঔষধের যথাযথ প্রয়োগ এপেন্ডিসাইটিস এর সমস্যা সমূলে নির্মূল করে দিতে পারে। শুধু তাই না, ঔষধ প্রয়োগ করার পরই রোগীর যাবতীয় উপসর্গ কমতে শুরু করে এবং রোগী বিষ্ময়কর উন্নতি দেখতে পায়।

যা যা জেনেছেন ?

  • এপেন্ডিসাইটিস এর লক্ষণ
  • এপেন্ডিসাইটিস এর কারণ
  • এপেন্ডিসাইটিস এর ঔষধ
  • এপেন্ডিসাইটিস চিকিৎসা
  • এপেন্ডিসাইটিস ছবি
  • এপেন্ডিসাইটিস এর পরীক্ষা
  • এপেন্ডিসাইটিস ফেটে গেলে
  • এপেন্ডিসাইটিস এর লক্ষণ কি
  • এপেন্ডিসাইটিস অপারেশন খরচ
  • এপেন্ডিসাইটিস এর ঘরোয়া চিকিৎসা
  • এপেন্ডিসাইটিস হয় কি কারনে
  • এপেন্ডিসাইটিস এর অপারেশন খরচ
  • এপেন্ডিসাইটিস এর ব্যথা কোথায় হয়
Dr. Delowar Jahan Imran
ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান
ডিএইচএমএস (বিএইচএমসি এন্ড হসপিটাল), ডিএমএস; ঢাকা
রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক (রেজিঃ নং-৩৩৪৪২)
যোগাযোগঃ আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, ডেমরা, ঢাকা।
Phone: +88 01671-760874; 01977-602004 (শুধু এপয়েন্টমেন্টের জন্য)
About Me: Profile ➤ Facebook ➤ YouTube ➤