সোমবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০১৯

অর্শ বা পাইলস Haemorrhoids (Piles) কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ

অর্শ বা পাইলস হলো মলদ্বারের ভেরিকোজ ভেইন অর্থাৎ রেক্টামের নিচের অংশে এবং মলদ্বারে ফুলে যাওয়া এবং ফাঁপা শিরা। এই রোগ হলে মলদ্বারে আঙ্গুর ফলের মতো বলি বের হতে পারে, সাথে রক্তপাত, মলদ্বার ভেজা, চুলকানি এবং জ্বালাযন্ত্রণা থাকতে পারে। অর্শ বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যদিও এর সঠিক কারণ প্রায়ই জানা যায় না। মলত্যাগের সময়ে অত্যধিক চাপ দেওয়ার কারণে বা গর্ভাবস্থায় রেক্টামের শিরার উপর চাপ পড়ার কারণেও হতে পারে। লক্ষণগুলি সামান্য চুলকানি ও অস্বস্তি থেকে রক্তক্ষরণ এবং স্থানচ্যুতিও হতে পারে। এটি নির্ভর করে অর্শের তীব্রতার উপরে।

যদি চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে অর্শ দীর্ঘস্থায়ী অসুখে পরিণত হবে, ব্যথা ও জ্বালা হবে। তারপর থ্রম্বোসিস (রক্ত জমাট বাঁধ) এবং ঘা হতে পারে। যে অর্শ কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য হয়, খাদ্যাভ্যাসের এবং জীবনধারার গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করা উচিত।

অর্শ বা পাইলস হলে বুঝবেন কি করে

মলদ্বারের অভ্যন্তরে হলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে..
  • পায়খানার সময় ব্যথাহীন রক্তপাত হওয়া।
  • মলদ্বারের ফোলা বাইরে বের হয়ে আসতে পারে, নাও পারে । যদি বের হয় তবে তা নিজেই ভেতরে চলে যায় অথবা হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া যায়। কখনও কখনও এমনও হতে পারে যে, বাইরে বের হওয়ার পর তা আর ভেতরে প্রবেশ করানো যায় না বা ভেতরে প্রবেশ করানো গেলেও তা আবার বের হয়ে আসে।
  • মলদ্বারে জ্বালাপোড়া, যন্ত্রণা বা চুলকানি হওয়া।
  • কোনো কোনো ক্ষেত্রে মলদ্বারে ব্যথাও হতে পারে।

অর্শের কারণ

  • দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য
  • দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া।
  • IBS আইবিএস
  • শাকসব্জী ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার এবং জল কম খাওয়া।
  • শরীরের অতিরিক্ত ওজন
  • গর্ভাবস্থা।
  • মলত্যাগে বেশী চাপ দেয়া
  • অতিরিক্ত মাত্রায় লেকজেটিভ (মল নরমকারক ওষুধ)
  • টয়লেটে বেশি সময় ব্যয় করা।
  • পরিবারে কারও পাইলস থাকা।
  • ভার উত্তোলন, দীর্ঘ সময় বসে থাকা ইত্যাদি।
মলদ্বারের বাইরে হলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে..
  •  মলদ্বারের বাইরে ফুলে যাওয়া যা হাত দিয়ে স্পর্শ ও অনুভব করা যায়।
  • কখনও কখনও রক্তপাত বা মলদ্বারে ব্যথাও হতে পারে।

অর্শ বা পাইলস হলে কি করবেন

  • কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং নিয়মিত মলত্যাগ করা।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসব্জি ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবংপানি 
  • সহনীয়মাত্রার অধিক পরিশ্রম না করা।
  • প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানো।
  • শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা।
  • টয়লেটে অধিক সময় ব্যয় না করা।
  • সহজে হজম হয় এমন খাবার গ্রহণ করা। যেমন-আঁশযুক্ত খাবার, শাকসবজি ইত্যাদি।
  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া লাক্সেটিভ বা রেচক ঔষধ বেশি গ্রহণ না করা।
  • মলত্যাগে বেশি চাপ না দেয়া।
  • দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া থাকলে তার চিকিত্‍সা নেয়া।
  • IBS আইবিএস  থাকলে তার চিকিত্‍সা নেয়া।

অর্শ বা পাইলস রোগের চিকিত্‍সা

অর্শ বা পাইলস এর উন্নত চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিলে মলদ্বার হতে রক্তপাত, মলদ্বার ভেজা, চুলকানি এবং জ্বালাযন্ত্রণা ইত্যাদি উপসর্গসহ এই সমস্যা অচিরেই ঠিক হয়ে আসে।

প্রতিরোধের উপায়

  • যার মধ্যে রয়েছে মলত্যাগের সময় জোরে চাপ না দেওয়া,
  • উচ্চ আঁশ যুক্ত খাদ্য ও প্রচুর তরল বা আঁশের সম্পূরক খাবার গ্রহণের মাধ্যমে কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়া পরিহার এবং পর্যাপ্ত ব্যায়াম করা।
  • মলত্যাগকালে অল্প সময় ব্যয়, টয়লেটে বসে পড়া বন্ধ করা
  • অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের ওজন কমানো
  • খুব ভারি বস্তু উত্তোলন পরিহার করা হয়
Dr Imran
ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান
ডিএইচএমএস, ডিএমএস, বিএসসি এন্ড এমএসসি; ঢাকা
রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক (রেজিঃ নং-৩৩৪৪২)
যোগাযোগঃ আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
ফোন : ০১৬৭১-৭৬০৮৭৪ এবং ০১৯৭৭-৬০২০০৪
প্রোফাইল ➤ ফেইসবুক ➤ ইউটিউব ➤