রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অ্যাকিউট ও ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিস! অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াস প্রদাহের কারণ লক্ষণ জটিলতা চিকিৎসা

কোন কারণে আমাদের প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ হলে তাকে প্যানক্রিয়াটাইটিস Pancreatitis বলা হয়ে থাকে।প্যানক্রিয়াস দেহের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। এর অবস্থান পেটের ভেতর পাকস্থলীর পেছনে, যার ওজন প্রায় ৮০ গ্রামের মতো। প্যানক্রিয়াসের কাজ হল দু'টি। একটি হলো পাচক রস বা এনজ়াইম তৈরি করা। যা আমাদের খাবার হজম করতে সাহায্য করে। শর্করা, আমিষ এবং স্নেহ এই তিন ধরনের খাবার হজমেই সাহায্য করে অগ্ন্যাশয়ে তৈরি হওয়া এই উৎসেচক। প্যানক্রিয়াসের সঙ্গে আবার কিছু ডাক্টের মাধ্যমে ইনটেস্টাইন বা অন্ত্রের সংযোগ থাকে। যেগুলি দিয়ে প্যানক্রিয়াসে তৈরি পাচক রস অন্ত্রে পৌঁছয়। তার পরেই খাবার হজমের প্রক্রিয়া শুরু হয়। একে এক্সোক্রিন প্যানক্রিয়াস বলে। প্যানক্রিয়াসের আর একটি কাজ হল ইনসুলিন বা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন তৈরি করা। একে এন্ডোক্রিন প্যানক্রিয়াস বলে।  

সাধারণত পাচক রস বা এনজ়াইমস তৈরি হওয়ার পরে তা প্যানক্রিয়াসে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। অন্ত্রে পৌঁছনোর পরেই সেগুলি সক্রিয় হয়। এবং খাবার হজমের ক্ষমতা তৈরি হয়। কিন্তু কোনও কারণে যদি প্যানক্রিয়াসে থাকা অবস্থাতেই এনজ়াইমগুলি সক্রিয় হয়ে ওঠে, তখন তা প্যানক্রিয়াস গ্ল্যান্ডকেই হজম করতে শুরু করে। হজম করার এই প্রক্রিয়ার ফলে ইনফ্ল্যামেটরি মিডিয়েটর বেরোয়। যা ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহে সাহায্য করে। অগ্ন্যাশয়ের এই প্রদাহকেই প্যানক্রিয়াটাইটিস বলে। প্যানক্রিয়াসের প্রদাহ দুই রকমভাবে হতে পারে-
  • অ্যাকিউট প্যানক্রিয়াটাইটিস
  • ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিস
অ্যাকিউট প্যানক্রিয়াটাইটিস:-  যে সকল কারণে উপরের পেটে মাঝারি হতে তীব্র ব্যথা হয় সেগুলির মধ্যে অ্যাকিউট প্যানক্রিয়াটইটিস বা প্যানক্রিয়াসের আকস্মিক তীব্র প্রদাহ অন্যতম। কোন কারণে আমাদের প্যানক্রিয়াসে আকস্মিক তীব্র প্রদাহ ঘটলে তাকে অ্যাকিউট প্যানক্রিয়াটাইটিস বলা হয়ে থাকে। এর ফলে কিডনি কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে বা হার্টফেল হতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অ্যাকুইট প্যানক্রিয়াটাইটিসের প্রধান কারণ পিত্তনালির পাথর বা গলস্টোন। এ ছাড়া অতিরিক্ত মদ্যপান, রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস, অগ্ন্যাশয়ে আঘাত, এলোপ্যাথিক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, অতিরিক্ত ওজন, সার্জারি, ইনফেকশন, জন্মগত ত্রুটি, আলসার বা জিনগত কারণেও অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ হতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো কারণ থাকে না।

ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিস:- প্রচুর মদ্যপানের কারণে দীর্ঘমেয়াদী বা ক্রনিক প্যানক্রিয়াটিটিস দেখা দেয়। এটা দীর্ঘসময় ধরে থাকে এবং রিয়েল হোমিওপ্যাথিক ট্রিটমেন্ট ছাড়া এর ঠিক হওয়ার সম্ভাবনাও খুবই কম থাকে। ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিস রোগীর ঘন ঘন পেটে ব্যথা হয়। খাদ্য হজম হয় না। ওজন কমে যায়। ফেনাযুক্ত পায়খানা হয়। ডায়াবেটিস হতে পারে।
অ্যাকিউট ও ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিস

প্যানক্রিয়াটাইটিস - লক্ষণ ও উপসর্গ

  • তীব্র পেটের উপরিভাগে এবং পিঠে ব্যথা
  • পেট ফুলে যাওয়া।
  • বমি বমি ভাব
  • বমি হওয়া
  • দ্রুত হৃদস্পন্দন
  • তীব্র ব্যথার সঙ্গে বমি হতে পারে
  • অনেক ক্ষেত্রেই রোগী অজ্ঞান হয়ে যায়
  • জ্বর হওয়া
  • ডায়েরিয়া হওয়া
  • ওজন কমে যাওয়া
  • অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
  • অগ্নাশয় বা পিত্তনালি নালী বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • পিত্তনালি সরু হয়ে গেলে জন্ডিস দেখা দিতে পারে
  • হঠাৎ প্রদাহে রোগী মারাও যেতে পারে

প্যানক্রিয়াটাইটিস - কারণগুলি কি কি

  • মদ্যপান
  • গলব্লাডারে পাথর
  • অগ্নাশয়ের বংশগত সমস্যা
  • এলোপ্যাথিক ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন : স্টেরয়েড
  • পেটে আঘাত পাওয়া
  • প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার
  • হাইপারগ্লাইসেমিয়া এবং হাইপারট্রাইগ্লাইসেরিডেমিয়া
  • মাম্পস

প্যানক্রিয়াটাইটিস - রোগ নির্ণয়

  • রক্তে অ্যামাইলেজের মাত্রা
  • আল্ট্রাসাউন্ড
  • কিছু ক্ষেত্রে সিটিস্ক্যান
  • কিছু ক্ষেত্রে ইআরসিপির 

প্যানক্রিয়াটাইটিস - জটিলতা

  • অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ থেকে অনেক জটিলতা হতে পারে। যেমন :
  • অগ্ন্যাশয়ের ক্ষতিগ্রস্ত কোষে ঘা বা ফোঁড়া তৈরি হওয়া
  • শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দেওয়ার কারণে খিঁচুনি হওয়া
  • অগ্ন্যাশয়-সংলগ্ন অন্ত্রনালি সরু হয়ে যাওয়া ইত্যাদি
  • অগ্ন্যাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হলে উৎপন্ন তরল পদার্থ জমে জমে এক ধরনের সিস্ট Psendocyst তৈরি করে
  • জটিলতা হিসেবে রোগীর ডায়াবেটিসও হতে পারে
  • শ্বাসতন্ত্র আক্রান্ত হয়ে শ্বাসকষ্ট শুরু হতে পারে
  • অন্যান্য অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে যেমন : কিডনি বিকল হওয়া, লিভার বিকল হওয়া ইত্যাদি
  • পিত্তনালি বন্ধ হয়ে গিয়ে জন্ডিস হতে পারে
  • ভালো হয়ে যাওয়ার পরও অনেক রোগী দীর্ঘমেয়াদি ধীরগতির প্রাদাহে আক্রান্ত হতে পারে। সঠিক সময়ে রোগনির্ণয় এবং চিকিৎসা শুরু না হলে রোগী মারা যেতে পারে

প্যানক্রিয়াটাইটিস - চিকিৎসা

এটি একটি জটিল প্রকৃতির সমস্যা। অগ্ন্যাশয়ে হঠাৎ প্রদাহ একটি জরুরি অবস্থা। যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু করতে হয়। মনে রাখতে হবে, আইসিইউ-এর ব্যবস্থা রয়েছে, এমন হাসপাতালে রোগীকে ভর্তি করা ভাল। কারণ এ সময়ে হঠাৎই রোগীর বিভিন্ন অঙ্গ বিকল হতে শুরু করে, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে আইসিইউ বা সিসিইউ জরুরি। পিত্তে পাথরের জন্য এই রোগ হলে অস্ত্রোপচার বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে। তবে প্যানক্রিয়াটাইটিস সারিয়ে নিয়ে তবেই অস্ত্রোপচার করতে হবে।

কেউ যদি বারবার অ্যাকিউট প্যানক্রিয়াটাইটিসে আক্রান্ত হন, তখন প্যানক্রিয়াস ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। সে ক্ষেত্রে প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ভালো ফলাফল বয়ে আনে। দেখা যায় যারা এই সমস্যায় আক্রান্ত হন তাদের কিছু দিন পর পরই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। এর চিকিৎসায় বিভিন্ন কারণে সার্জারি করার পরামর্শ দিয়ে থাকে এলোপ্যাথিক চিকিৎসকগণ কিন্তু এক্ষেত্রে এর চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল। তবে আপনি হয়তো জেনে স্বস্তি পাবেন যে - প্যানক্রিয়াটাইটিস এর মতো জটিল প্রকৃতির রোগের অসাধারণ চিকিৎসা রয়েছে রিয়েল হোমিওপ্যাথিক থেরাপিউটিক সিস্টেমে। তবে এর জন্য অবশ্যই দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করবেন আশা করি নিরাশ হবেন না ইনশা-আল্লাহ।

প্যানক্রিয়াটাইটিস - সাবধানতা

ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিস হলে চর্বিজাতীয় খাবার যেমন ডিম, দুধ, রেড মিট এড়িয়ে চলতে হবে। তেল জাতীয় খাবার বা ভাজাভুজিও চলবে না। ধূমপান এবং মদ্যপানও বন্ধ করতে হবে। 
  • পেনক্রিয়াস কি
  • অগ্নাশয়ের অবস্থান
  • অগ্নাশয় ইনফেকশন
  • পেনক্রিয়াস পাথর
  • প্যানক্রিয়াস ইনফেকশন
  • প্যানক্রিয়াটাইটিস রোগীর খাদ্য
  • ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিস
  • প্যানক্রিয়াটাইটিস ক্যান্সার
  • অ্যাকিউট প্যানক্রিয়াটাইটিস
  • প্যানক্রিয়াটাইটিস বিশেষজ্ঞ
  • প্যানক্রিয়াস ইনফেকশন
  • অগ্নাশয় ভালো রাখার উপায়
Dr Imran
ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান
ডিএইচএমএস, ডিএমএস, বিএসসি এন্ড এমএসসি; ঢাকা
রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক (রেজিঃ নং-৩৩৪৪২)
যোগাযোগঃ আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী-ডেমরা রোড, ঢাকা।
Phone: +88 01671-760874; 01977-602004 || E-mail : delowaridb@gmail.com
About Me: Profile ➤ Facebook ➤ YouTube ➤