Dr. Imran ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান ➤ রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক(রেজিঃ নং-৩৩৪৪২)
➤ ডিএইচএমএস (বিএইচএমসি এন্ড হসপিটাল), ডিএমএস; ঢাকা
➤ বিশেষত্বঃ প্যানক্রিয়াটাইটিস, আইবিএস, আইবিডি, অর্কাইটিস, ভেরিকোসিল...
➤ নিউটাউন হোমিও হল, নিউটাউন কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন, সাইনবোর্ড, ডেমরা, ঢাকা
➤ ফোন : +৮৮ ০১৬৭১-৭৬০৮৭৪ এবং ০১৯৭৭-৬০২০০৪
➤ সাক্ষাৎ : সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ২টা (শুক্রবার বন্ধ)
➤ শুধু এপয়েন্টমেন্টের জন্য ফোনে যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ
➤ প্রোফাইল ➤ ফেইসবুক ➤ ইউটিউব

প্যানক্রিয়াটাইটিস

অ্যাকিউট ও ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিস এর কার্যকর চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি

ক্যান্সার

টিউমার ও ক্যান্সার চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি স্রষ্টার এক আর্শীবাদ

আইবিএস

পেটের পীড়া আইবিএস নির্মূলের স্থায়ী চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি

আইবিডি

আলসারেটিভ কোলাইটিস ও ক্রনস ডিজিজ এর কার্যকর চিকিৎসা

ভেরিকোসিল

ভেরিকোসিলের অপারেশনবিহীন কার্যকর চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি

মলদ্বারের রোগ

পাইলস, এনাল ফিশার এবং ফিস্টুলা সমস্যায় হোমিওপ্যাথি

পুরুষের স্বাস্থ্য

পুরুষদের বিভিন্ন রোগের কার্যকর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

নারী স্বাস্থ্য

নারীদের বিভিন্ন রোগের কার্যকর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

নারী স্বাস্থ্য স্ত্রীরোগ
নারীদের অর্থাৎ স্ত্রীরোগ সম্পর্কিত বিষয়াবলী
মা ও শিশু স্বাস্থ্য
মা ও শিশু স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়াবলী
পুরুষদের স্বাস্থ্য
পুরুষদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়াবলী
রোগ-ব্যাধি অসুখবিসুখ
নানা প্রকার রোগ-ব্যাধি সম্পর্কিত বিষয়াবলী
স্বাস্থ্য বিষয়ক টিপস
স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যাবতীয় টিপস ও ট্রিকস

সাম্প্রতিক আপডেট

বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

কথিত রেডিওথেরাপি ক্যান্সার চিকিৎসা নাকি প্রতারণা !!

টাকার ফুটানি দেখিয়ে রেডিওথেরাপি নেওয়ার আগে প্রকৃত সত্যটা জেনে-বুঝে নেয়া সবার জন্য জরুরী। কোনো মানুষ যখন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, তখন তাঁর পূর্ণ অধিকার রয়েছে সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসাপদ্ধতি বেছে নেওয়ার।  কিন্তু বাস্তবে ঘটছে ঠিক তার উল্টোটা। ক্যান্সার শনাক্ত হওয়া মাত্রই রোগীদেরকে অনকোলজি সেন্টারে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে ব্যবহৃত চিকিৎসা উপাদান/সামগ্রীগুলো রোগীদেরকে ক্রমশ গুরুতর ক্ষতির দিকেই টেনে নিয়ে যায়- যেটা ধরে-বেঁধে পশু জবাইয়ের চাইতেও নির্মম ও নিষ্ঠুর বলেও কেউ কেউ তুলনা করেন!
কেমোথেরাপি/রেডিওথেরাপি/সার্জারি কোনোটাই ক্যান্সারের প্রকৃত চিকিৎসা নয়, এগুলো প্রয়োগ করে কেবলমাত্র ক্যান্সারের লক্ষণকে সাময়িক ধামাচাপা দেওয়া হয়!
বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসার নামে এমন এক ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি চালু রয়েছে- যেখানে মানুষের জীবনের চাইতেও ব্যবসায়িক মুনাফাকে অধিক গুরুত্ব তথা প্রধান্য দেওয়া হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্র্রে এই শিল্পের স্বার্থ মানব-জীবনের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ক্যান্সারের প্রচলিত চিকিৎসা গ্রহণ করেও শেষ পর্যন্ত যারা প্রাণে বেঁচে যান, এমন নয় যে তাঁরা এই চিকিৎসা গ্রহণের কারণেই সুস্থ হয়েছেন, বরং বুঝে নিতে হবে- সৌভাগ্যক্রমে তাঁদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা খুবই শক্তিশালী ও সুদৃঢ় ছিল। নইলে প্রচলিত ক্যান্সার চিকিৎসার নামে রোগীর দেহে যে পরিমাণ অত্যাচার ও নির্যাতন চালানো হয়, অধিকাংশ মানুষের পক্ষে তা সহ্য করে বেঁচে থাকা অসম্ভব!
রেডিওথেরাপি ক্যান্সার চিকিৎসা
এমন বাস্তবতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সাধারণ মানুষকে সচেতন ও সতর্ক করা। তথ্যের প্রবাহ এমন নির্বিঘ্ন হওয়া উচিত যেন সবাই নিজের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে যে কোনো সিদ্ধান্ত তথা পদক্ষেপ নিজেরাই নিতে পারেন। কেউ যখন ডাক্তার বা অন্য কারো কাছ থেকে কোনো পরীক্ষা বা চিকিৎসার পরামর্শ পান, সেটা গ্রহণ করা বা না করার অর্থাৎ 'না' বলার অধিকার রোগীদের অবশ্যই থাকা উচিত। শরীর যার, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত তাঁকেই নিতে হবে। কিন্তু চলমান বাস্তবতা রোগীদেরকে সেই সুযোগ/অধিকার দেয় কি? নিজের শরীরে রেডিয়েশন থেরাপি নেওয়ার আগে প্রকৃত সত্যটা জানা-বোঝার সুযোগ পান ক’জনা?

এই গবেষণা-লব্ধ নিবন্ধে আমি রেডিওথেরাপি’র আদ্যোপান্ত তুলে ধরার চেষ্টা করবো। অনুগ্রহ করে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পাঠ করার জন্য সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে প্রচলিত চিকিৎসাপদ্ধতির দালালদের প্রতি উন্মুক্ত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে চাই- পারলে আমার এই লেখনীকে তথ্য ও যুক্তি দিয়ে ভুল প্রমাণ করুন? আর সেটা না পারলে পাপের পথ (রেডিয়েশন দিয়ে মানব-জীবন ধ্বংস) পরিত্যাগ করুন।

রেডিয়েশন থেরাপি বা সংক্ষেপে রেডিওথেরাপি এমন এক উদ্ভট (!) চিকিৎসাপদ্ধতি- যেখানে টিউমারের উপর আয়োনাইজিং এক্স-রে এবং গামা রশ্মি প্রয়োগ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলোকে মেরে ফেলার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালানো হয়। রেডিয়েশন দিয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষে আঘাত হানলে সেগুলোর আকৃতিগত ও সংখ্যা বৃদ্ধি সাময়িক ঠেকানো গেলেও এই ক্ষতিকর রশ্মি তার চলার পথে বিদ্যমান প্রত্যেকটি কোষকে (ভালো-মন্দ নির্বিশেষে) ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং এমন নেতিবাচক শারীরিক প্রতিক্রিয়ার ধারা সূচনা করে- যা বহুকাল (এমনকি উত্তরাধিকার সূত্রে পরবর্তী প্রজন্ম পর্যন্ত) স্থায়ী হতে পারে!

বর্তমানে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের ৬০% তাঁদের চিকিৎসার অংশ হিসেবে আগে/পরে রেডিওথেরাপি গ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁদের একজনও আয়োনাইজিং রেডিয়েশন-এর সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি সম্পর্কে ন্যূনতম সচেতন বা অবগত নন। আমরা জানি- জার্মান পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক উইলহেলম রন্টগেন ১৮৯৫ সালে প্রথম এক্স-রে আবিষ্কার করেন। এই আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯০১ সালে নোবেল পুরস্কার পান; কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী দু'জনেই এক্স-রে'র সংস্পর্শে আসার কারণে সৃষ্ট ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করেছিলেন! ব্যাপারটা কতখানি মর্মান্তিক- ভেবে দেখেছেন কি?
 সূত্র : NOBEL LECTURES, PHYSICS 1901-1921, ELSEVIER PUBLISHING COMPANY, AMSTERDAM, 1967. AVAILABLE: HTTP://WWW.NOBLEPRIZE.ORG/NOBLE_PRIZES/PHYSI CS/LAUREATS/1901/RONTGEN-BIO.HTML. (December 1, 2016)
এক্স-রে উৎপাদন করতে পারে- এমন একটি যন্ত্রের আবিষ্কার হওয়া মাত্র কোষ ধ্বংস করার জন্য ছ্যাঁকা দেওয়া বা এসিড দিয়ে পোড়ানোর চাইতেও চিত্তাকর্ষক উপায় চলে আসে চিকিৎসকদের হাতে। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের উপরে আয়োনাইজিং রেডিয়েশন-এর যথেচ্ছ ব্যবহার শুরু হলে এর তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় পোড়া, ত্বকের রোগ এবং অযাচিত টিউমার গঠনের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটতে থাকে গণহারে, কিন্তু চিকিৎসক-সমাজ এই সতর্কবার্তাগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিতে ব্যর্থ হন বা ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যান। ফলস্বরূপ ১৯২২ সালের মধ্যে ১০০ জনেরও বেশি রেডিওলজিস্ট ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এক্স-রে'র কারণে সৃষ্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তারপরেও কেউ সতর্ক হয়নি বা বন্ধ হয়নি রেডিওথেরাপি'র যথেচ্ছ অপব্যবহার।

১৯৮৬ সালে চেরনোবিল পারমাণবিক দুর্ঘটনায় বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয় পদার্থ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে তা ইউরোপের বড় অংশ জুড়ে বৃষ্টি ও ধুলার মাধ্যমে ভূমিতে নেমে আসে। এই তেজস্ক্রিয় পদার্থের সংস্পর্শে আসা কারো ক্যান্সার নিরাময় হয়েছে- এমন প্রমাণ নাই, বরং ১০০০টিরও বেশি প্রকাশিত গবেষণা এবং ৫০০০টিরও বেশি অনলাইন ও মুদ্রিত প্রকাশনা (যা কিনা এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার বিষয়ক সবচেয়ে বড় ও বিস্তৃত গবেষণা) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৯৮৬ সাল থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে চেরনোবিল দুর্ঘটনায় নির্গত তেজস্ক্রিয়তার কারণে কমপক্ষে নয় লক্ষ ৮৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে- যাদের অধিকাংশ ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। 
সূত্র : YABLOKOV AV, NESTERENKO VB, NESTERENKO AV ET AL. CHERNOBYL, CONSEQUENCES OF THE CATASTROPHE FOR PEOPLE AND THE ENVIRONMENT. JOHN WILEY & SONS; 2010
অথচ এ ধরনের তেজস্ক্রিয় পদার্থই রেডিওথেরাপিতে ব্যবহার/প্রয়োগ করা হয়। তার মানে রেডিওথেরাপি দিয়ে ক্যান্সার নির্মূল হোক বা না হোক, উল্টো ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়! অথচ এ বিষয়ে কেউ কোনো উচ্চবাচ্য করেন না বা বিশ্ব-বিবেকের সামনে প্রশ্ন উত্থাপন করেন না?
বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের এমিরেটস অধ্যাপক ওয়েড অ্যালিসন ২০১২ সালে নিউক্লিয়ার টেকনোলজি বিষয়ক একটি প্রতিবেদনে প্রসঙ্গক্রমে রেডিওথেরাপি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। তিনি সেখানে উল্লেখ করেন- এক মাসের চিকিৎসা চলাকালে টিউমার অংশে প্রায় ৪০ হাজার মিলিসিভার্ট (mSv) এবং আশেপাশের সুস্থ কোষগুলোতে ২০ হাজার মিলিসিভার্ট (mSv) বিকিরণ পৌঁছায়- যেটা কিনা চেরনোবিল দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কিছু কর্মীর শরীরে পাওয়া প্রাণঘাতী বিকিরণ মাত্রার প্রায় পাঁচগুণ। তাঁর মতে, রেডিওথেরাপির ডোজ যদি সময়ের ব্যবধানে ভাগ ভাগ করে না দিয়ে একবারে দেওয়া হতো, তাহলে সেই মাত্রার বিকিরণে রোগীরা তাৎক্ষণিক মারা যেতেন! 
সূত্র : ALLISON,W. (2009). PUBLIC TRUST IN NUCLEAR ENERGY. [ONLINE]. AVAILABLE: HTTP://DOCPLAYER.NET/21237548-PUBLIC-TRUST-IN-NUCLEAR-ENERGY.HTML (December 1, 2016)
রেডিওথেরাপি চালু হওয়ার পর থেকে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত মহিলাদের জন্য ক্যান্সার চিকিৎসার মানদন্ড নির্ধারণ করা হয় প্রথমে সার্জারির মাধ্যমে স্তন অপসারণ (রেডিক্যাল ম্যাস্টেকটমি), তারপর রেডিওথেরাপি। তবে চিকিৎসার নামে এই পদ্ধতিটি যখন চালু করা হয়, তখন পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত/প্রতিষ্ঠিত হয়নি যে, এটি রোগীদের জন্য আদৌ উপকারী কোনো পদ্ধতি কিনা? বরং ১৯৬০ সাল পর্যন্ত এর বিরোধিতা করে প্রচুর গবেষণাপত্র লেখা হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসা মাফিয়ারা অত্যন্ত সুকৌশলে পরিকল্পিতভাবে সেগুলোকে Limelight-এ আসতে দেয়নি!
ক্যান্সার চিকিৎসা
১৯৭০ সালে 'অ্যানালস অব সার্জারি'-তে প্রকাশিত গবেষণাতেও দেখা গেছে, রেডিওথেরাপি সকল রোগীর বেঁচে থাকার হার কমিয়ে দিচ্ছে- সার্জারি করার তিন, চার ও পাঁচ বছর পর রোগীদের বেঁচে থাকার যে হার নির্ধারণ করা হয়েছিল, রেডিয়েশন নেওয়া রোগীদের বেঁচে থাকার হার প্রতিবারই ক্রমশ কমছিল। বেঁচে থাকার হার কমে যাওয়াটা পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হলেও সেদিকে সুনজর দেওয়া হয়নি সম্ভবত চিকিৎসা মাফিয়াদের ইশারাতেই?

চিকিৎসাবিদ্যার সুপরিচিত জার্নাল 'দ্য লান্সেট'-এ প্রকাশিত আরেকটি গবেষণা প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা এই মর্মে সিদ্ধান্ত পৌঁছান যে, প্রাথমিক স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুর হার বৃদ্ধির সঙ্গে স্থানীয় পোস্ট-অপারেটিভ রেডিয়েশনের রুটিন ব্যবহারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে!

এ পর্যন্ত প্রকাশিত নিয়ন্ত্রিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলোর মধ্যে ৩৪০০ রোগীর উপরে পরিচালিত ছয়টি ট্রায়ালেই দেখা গেছে- শুধুমাত্র ম্যাস্টেকটমি (সার্জারি) দ্বারা চিকিৎসা করা রোগীদের তুলনায় রেডিয়েশন নেওয়া রোগীদের বেঁচে থাকার হার ১% থেকে ১০% পর্যন্ত কমে গেছে। এছাড়াও 'দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন'-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা রিপোর্টে বলা হয় : সার্জারির সঙ্গে রেডিওথেরাপি যোগ করায় পরবর্তী ১০ বছর বেঁচে থাকার হারে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য দেখা যায়নি! তার মানে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত সকল গবেষণা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এটাই প্রতীয়মান তথা প্রমাণিত হয় যে, সর্বোত্তম ক্ষেত্রেও রেডিওথেরাপি স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের বেঁচে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারেনি, বরং এটি রোগীদের মৃত্যুকে ক্ষেত্রবিশেষে ত্বরান্বিত করেছে! এমনকি ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে অস্ত্রোপচারের পরে রেডিওথেরাপি দেওয়া হলে একই (উপরোক্ত) ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।

১৯৯৮ সালে 'দ্য ল্যান্সেট'-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, সার্জারির পরে রেডিওথেরাপি নেওয়া রোগীদের মৃত্যু ঝুঁকি ২৭% বেড়ে গিয়েছিল। গবেষকেরা শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, পোস্ট-অপারেটিভ রেডিওথেরাপি প্রাথমিক পর্যায়ের সম্পূর্ণ কেটে ফেলা নন-স্মল-সেল লাং ক্যান্সার (NSCLC) রোগীদের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি নিয়মিত ব্যবহার করা অনুচিত।

আমেরিকার বিজ্ঞানীরা ২০০৫ সালে নন-স্মল-সেল লাং ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে সার্জারির পরে রেডিওথেরাপির কার্যকারিতা নিয়ে একটি বিস্তৃত গবেষণা পরিচালনা করেন। 'লাং ক্যান্সার' জার্নালে প্রকাশিত ওই পর্যালোচনায় তাঁরা দেখেছেন- পোস্ট-অপারেটিভ রেডিওথেরাপি (PORT) এতোটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, মৃত্যুর সম্ভাবনা আপেক্ষিকভাবে ১৮% বেড়ে যায়। তারচেয়েও আশঙ্কাজনক খবর হলো, ক্যান্সারে মৃত্যুর পরিসংখ্যান প্রকাশের সময় ইচ্ছাকৃতভাবেই কারসাজি করা হয় যেন ক্যান্সার চিকিৎসার নামে যা কিছু চলছে- সেটাকে অপেক্ষাকৃত ভালো কিছু বলে মনে করা হয় (চালিয়ে দেওয়া যায়)!

রেডিওথেরাপি মানবদেহের মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, কলিজা, যকৃৎ, থাইরয়েড, ইমিউন সিস্টেমসহ শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও সিস্টেমগুলোর মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে এবং নিরাময় প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এর তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো শেষ পর্যন্ত রোগীদেরকেই মেরে ফেলে- যার অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে, কিন্তু চিকিৎসা প্রচেষ্টার দোহাই দিয়ে এসব হত্যাকাণ্ডের (!) বিচার দূরে থাক, আদালতে উত্থাপন পর্যন্ত করা হয় না!

১৯৯৩ সালে আমেরিকার টেক্সাস রাজ্যের হিউস্টনের অ্যান্ডারসন ক্যান্সার সেন্টারের গবেষকগণ চার লক্ষ ৭০ হাজার ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর কারণ পরীক্ষা করে এ সংক্রান্ত সরকারি পরিসংখ্যানের গ্রহণযোগ্যতা তথা বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। 'জার্নাল অব দ্য ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট'-এ প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যান্সার ছাড়া অন্য কারণে মৃত্যু বলে প্রতিবেদন দাখিল করা রোগীদের ২৭% রোগ নির্ণয়ের এক বছরের মধ্যে মারা গিয়েছিলেন। ধারণা করা হয়- এই অতিরিক্ত মৃত্যুর নেপথ্য কারণ ছিল ক্যান্সারের বিতর্কিত চিকিৎসা গ্রহণ করা। স্পষ্ট জেনে রাখুন- ক্যান্সার চিকিৎসা সম্পর্কে আমাদেরকে যা কিছু বোঝানো হয়, বাস্তবে এগুলো তার চেয়ে অনেক কম কার্যকর। অন্যদিকে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে যে মৃত্যুর পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়, বাস্তবে অঘটন ঘটে তার চাইতে অ-নে-ক বেশি!

একজন রোগী যদি কেমোথেরাপি গ্রহণ করার এক সপ্তাহ, এক মাস বা কয়েক বছর পরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, সেটাকে ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যর্থতা না বলে heart failure হিসেবেই গণ্য করা হয়; সাধারণ মানুষ কখনোই জানতে পারেন না যে, এর নেপথ্যেও রেডিওথেরাপির ব্যর্থতার দায়ভার লুকিয়ে আছে!

রেডিয়েশন থেরাপি দিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করা করা অল্প বয়েসী রোগীরা সেকেন্ডারি ক্যান্সার হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন আজীবন। অথচ রেডিওথেরাপি দেওয়ার আগে চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট কেউ এই চরম সত্যটা রোগীদের সামনে প্রকাশ করেন না (সচেতনভাবে গোপন রাখেন) যে, রেডিয়েশন-এর ক্ষতি জীবনের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে!

মূলধারার তত্ত্ব বলে- রেডিয়েশন সরাসরি DNA ক্ষতি করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে মেরে ফেলে। তবে ১৯৯২ সালে হার্ভার্ডের গবেষকেরা এমন কিছু খুঁজে পান বা আবিষ্কার করেন- যেটা প্রচলিত ধারণাটিকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে! তাঁদের মতে, ক্যান্সার আক্রান্ত একটি কোষে যখন রেডিয়েশন দেওয়া হয়, তখন আহত কোষটি থেকে এমন কিছু নির্গত হয়- যা একই ক্ষতি অ-রেডিয়েটেড কোষগুলোতেও স্থানান্তরিত হয়; এটাকে 'বাইস্ট্যান্ডার এফেক্ট' বলা হয়।
২.
অতি সম্প্রতি ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একদল ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী ও তাঁদের আত্মীয়-স্বজনকে মিছিল করতে দেখা যায়। তাঁদের দাবি ছিল- হাসপাতালে রেডিওথেরাপির মেশিনের সংখ্যা বাড়াতে হবে যেন রোগীরা আরো দ্রুতগতিতে অধিক সংখ্যক রেডিয়েশন থেরাপি নিতে পারেন! কিন্তু ওই সকল অসচেতন ও বোকা মানুষগুলো কি জানেন- যে কোনো প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যন্ত্রের ত্রুটি বা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে?

রেডিওথেরাপি প্রয়োগ/গ্রহণের সময় এখন পর্যন্ত এমন কিছু ভুল হয়েছে, যার পরিণতি ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর। ক্যান্সার আক্রান্ত স্কট জেরোম পার্কস অতিরিক্ত মাত্রায় রেডিয়েশন পেয়ে গুরুতরভাবে দগ্ধ হন, শ্রবণশক্তি হারান, দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মুখে ঘা হয়, দাঁত পড়ে যায়, এমনকি তিনি শ্বাস নিতে ও খাবার গিলতেও অক্ষম হয়ে পড়েন এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন। আরেকজন ভুক্তভোগী ছিলেন ৩২ বছর বয়েসী স্তন ক্যান্সারের রোগী আলেকজান্দ্রা জে. চার্লস- যিনি ২৭ দিন ধরে অতিরিক্ত রেডিয়েশন পান (এর মধ্যে ভুলটা কারো চোখেই পড়ে নাই)। এর ফলে তাঁর বুকে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং তিনি এতোটা তীব্র ব্যথা অনুভব করতেন যে, কষ্ট থেকে বাঁচতে আত্মহননের পরিকল্পনা পর্যন্ত চূড়ান্ত করে ফেলেছিলেন..!

রেডিওথেরাপি নিয়ে এতোসব ভয়ঙ্কর তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরার পরেও যারা নিতান্ত বাণিজ্যিক স্বার্থে এর পক্ষে সাফাই গাইতে চান, তাঁদের অবগতির জন্য আরো কিছু প্রমাণিত সত্য উপস্থাপন করছি :-
  • রেডিওথেরাপি মেরুদন্ডের ক্ষতি করে, হাড়ভাঙ্গার কারণ হয়, হাড়ের সংযোগে ক্ষয় ঘটায়।
  • রেডিওথেরাপি বুদ্ধিমত্তা ও স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দেয় এবং মনোযোগকে দুর্বল করে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়।
  • রেডিওথেরাপি দৃষ্টিশক্তি হ্রাস করে, এমনকি অন্ধত্বের কারণ হতে পারে।
  • রেডিওথেরাপি সম্পূর্ণ চুল পড়ার (অ্যালোপেসিয়া) কারণ হয়।‌ ক্ষত নিরাময়কে ধীর করে দেয়।
  • রেডিওথেরাপি ৪৫.৭১% রোগীর ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক বধিরতা ঘটায়। সময় অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটতে থাকে।
  • রেডিওথেরাপি হৃৎপিন্ডের মাইক্রো-ভাসকুলার ক্ষতি করে, হৃৎপিন্ডের চারপাশের রক্তনালীকে দুর্বল করে দেয়, ধমনীকে সংকীর্ণ করে।
  • রেডিওথেরাপি ইমিউন সিস্টেমকে দমন করে, এন্টি-টিউমার ইমিউনিটিকে বাধাগ্রস্ত করে, সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দেয়। ছোটবেলায় রেডিওথেরাপি নিলে বড়বেলাতেও সেই দুর্বলতা কাটে না।
  • রেডিওথেরাপি প্রদাহ সৃষ্টি করে, কলিজা ও যকৃৎ বিকলের কারণ হতে পারে।
  • রেডিওথেরাপি মানসিক ব্যাধি, উদ্বেগ, বিষন্নতা বাড়িয়ে দেয়।
  • রেডিওথেরাপি দন্তক্ষয়ের উপলক্ষ হয়, চোয়ালের হাড়ের মৃত্যু ঘটায়, লালাগ্রন্থির কার্যকারিতা নষ্ট করে, মুখ খোলার সীমাবদ্ধতা (ট্রিসমাস) এবং গিলতে অসুবিধার (ডিসফ্যাজিয়া) কারণ হতে পারে।
  • রেডিওথেরাপি ৯০% রোগীর ক্লান্তির উপলক্ষ। বমি বমি ভাব ও মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
  • রেডিওথেরাপি ৪৮% রোগীর মধ্যে অপ্রত্যাশিত স্বাদ এবং গন্ধের পরিবর্তন ঘটায়। ৬৪% রোগীকে তাঁদের প্রধান খাদ্যগ্রহণের মাধ্যমে হিসেবে নলের ওপরে নির্ভর করতে বাধ্য করে। সার্বিক জীবন-মানকে যথেষ্ট দুর্বল করে দেয়!
  • রেডিওথেরাপি প্রজনন ও জেনেটিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এমনকি বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে। ৭৮% মহিলা রোগীর ক্ষেত্রে যৌন আকাঙ্ক্ষাহীনতা আর ৯৩.৯% পুরুষের ক্ষেত্রে ইরেক্টাইল ডিজফাংশনের কারণ হয়।
  • রেডিওথেরাপি ত্বক ও সংযোগকারী টিস্যুর পুরুত্ব এবং দাগ সৃষ্টি করে। আলসারসহ ডার্মাটাইটিস-এর কারণ হয়।
  • রেডিওথেরাপি নেওয়া প্রায় অর্ধেক রোগী বাকি জীবনে আর কখনোই ঠিকমতো ঘুমাইতে পারেন না।
  • রেডিওথেরাপি কন্ঠ ও কথার অবক্ষয় ঘটায়। ৫৩% রোগীর ক্ষেত্রে হাইপো-থাইরয়েডিজমের কারণ হতে পারে।
  • রেডিওথেরাপি অনিচ্ছাকৃত প্রস্রাবের কারণ এবং দীর্ঘমেয়াদী অসংযম ও অন্ত্রের কার্যকারিতাই বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটায়।
  • রেডিওথেরাপি একাধারে ফ্রি রেডিকেল বাড়ায়, কর্টিসোল বাড়ায়, এড্রেনালিন বাড়ায়, ইস্ট্রোজেন বাড়ায়, প্রোল্যাক্টিন বাড়ায়, নাইট্রিক অক্সাইড বাড়ায়, ভাস্কুলার এন্ডোথেলিয়াল গ্রোথ ফ্যাক্টর বাড়ায়, এপিডার্মাল গ্রোথ ফ্যাক্টর বাড়ায়, টিউমার নেক্রোসিস ফ্যাক্টর আলফা বাড়ায়, ইন্টারলিউকিন-১/৪/৬/৮ বাড়ায়, নিউক্লিয়ার ফ্যাক্টর কাপ্পা বি বাড়ায়, পোস্টাগ্ল্যান্ডিন বাড়ায়, ল্যাকটিক এসিড বাড়ায়, স্টেমসেল উৎপাদন বাড়ায়, হিস্টামিন বাড়ায়, সেরোটোনিন বাড়ায়, হাই মোবিলিটি গ্রুপ বাক্স ১ প্রোটিন বাড়ায়।
পরিশেষে সুস্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই- ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী হিসেবে শনাক্ত হওয়া মাত্রই চিকিৎসা ব্যবসায়ীদের পরামর্শ অনুযায়ী রেডিয়েশন থেরাপি গ্রহণ করতে শুরু করে দেবেন না। নিজের শরীরে বিষাক্ত কিছু (এক্স-রে ও গামা রশ্মি) ঢোকানোর আগে অবশ্যই প্রকৃত সত্যটা ভালোভাবে জেনে ও বুঝে নেবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মস্তিষ্ক ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় এই মর্মে স্বীকার করেছিলেন যে, ‘আমি যদি রোগীদেরকে রেডিয়েশনের জন্য সুপারিশ না করতাম, তাহলে আমাকেই হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হতো!’ সুতরাং বুঝতেই পারছেন- রেডিওথেরাপি ক্যান্সারের প্রকৃত চিকিৎসা নয়, এতে রোগীদের দফারফা হয়ে গেলেও চিকিৎসা ব্যবসায়ীদের পকেট ঠিকই ভর্তি হয়!

আমি আসলেই বুঝতে পারি না- প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রিধারী মেধাবী চিকিৎসকেরা কিভাবে স্পষ্ট প্রমাণ উপেক্ষা করতে পারেন যে, রেডিওথেরাপি ভালোর চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতির কারণ? অন্যদিকে পৃথিবীর সব অর্থ সম্পদ ঢেলে দিলেও রেডিওথেরাপি দিয়ে (সাময়িক লক্ষণ ধামাচাপা দেওয়া ব্যতীত) কাউকে পরিপূর্ণ সুস্থ করে তোলা যায় না- এই চরম সত্যটা কবে বুঝবে সাধারণ মানুষ?

সত্যি বলতে কি, ক্যান্সার কাউকে কবরের কাছাকাছি পৌঁছিয়ে দেয় না, বরং আক্রান্ত রোগীরা স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে রেডিওথেরাপি নিয়ে নিজেরাই মৃত্যুকে কাছে ডেকে আনছেন..! ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদেরকে রেডিওথেরাপি দিয়ে কোনো লাভ হয় না।  শুধু শুধু টাকা নষ্ট আর বাড়ায় রোগীর কষ্ট! ডক্টর জুলিয়ান হুইটেকার এম.ডি যথার্থই বলেন : ‘আমি এমন থেরাপিতে আগ্রহী নই- যা ইমিউন সিস্টেমকে পঙ্গু করে দেয় এবং বেশিরভাগ ক্যান্সার রোগীর ক্ষেত্রে কার্যত ব্যর্থতা সুনিশ্চিত করে।’ আর দুইবারের নোবেল পুরস্কার বিজয়ী লিনাস পাউলিং বলেছেন : ‘সবার জানা থাকা উচিত যে, ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মূলত একটি সুস্পষ্ট প্রতারণা!’
..........লিখেছেনঃ রাজীব আহম্মেদ 
বিস্তারিত

বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

অগ্নি সঞ্জীবন পাচক - গ্যাস্ট্রিক ও কোষ্ঠকাঠিন্য রোগের প্রাকৃতিক মহৌষধ

পাচকাগ্নি বর্ধনকারী এবং কঠিন প্রকৃতির গ্যাস্ট্রিক সমস্যায় দুর্দান্ত কার্যকর ফুড সাপ্লিমেন্ট হলো অগ্নি সঞ্জীবন পাচক। এটি মূলত কিছু প্রাকৃতিক উপাদানের মিশ্রনে তৈরী করা কোলন ও পাকস্থলী পরিষ্কারক যার কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। অগ্নি সঞ্জীবন পাচক মূলত গ্যাস্ট্রিক ও কোষ্ঠকাঠিন্য রোগের প্রাকৃতিক মহৌষধ যা ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট হিসেবে জল খাবারের মতো প্রতিদিনই ব্যবহার উপযোগী।

ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট হলো একটি বস্তু বা উপাদান যা কোন খাবারের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ঐ খাবারের সমস্ত উপাদান সমূূহ সাপ্লিমেন্টের পরিপূরক হিসাবে দেয়া হয়, যাতে ঐ বস্তুর মধ্যে সঠিক মাত্রায় গুনগত মান ঠিক রেখে সমস্ত পুষ্টির মান সমূহ দেয়া থাকে। ডায়েটারি সাপ্লিমেন্টের উপাদান সমূহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয় কিছু উপাদানের সমন্বয়ে তৈরী হয়ে থাকে। ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট সমূহ বিভিন্ন অবস্থায় পাওয়া যেতে পারে- যেমন ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, সফট জেল, জেলক্যাপ, লিকুইড বা তরল এবং পাউডার আকারে। অগ্নি সঞ্জীবন পাচক মূলত পাউডার আকারে পাওয়া যায়। 

অগ্নি সঞ্জীবন পাচক - কি কি উপাদানে তৈরী ?

আমলকি, হরিতকি, বহেড়া, ইসুবগুল চূর্ণ, শিলাজিৎ মেথি, জৈন, সোনাপাতা, ধনিয়া, মৌরি, তোকমা, কালোজিরা, আদাশুট, বেলশুট এবং সৈন্দব লবনের মতো কার্যকরী শক্তিশালী প্রাকৃতিক উপাদানের সমন্বয়ে তৈরী করা হয়েছে অগ্নি সঞ্জীবন পাচক। এটি মূলতঃ একটি হোমমেড প্রোডাক্ট যা আমাদের নিকট ছাড়া অন্য কোথাও আপনি পাবেন না। 
অগ্নি সঞ্জীবন পাচক
ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি হতে আপনাকে রক্ষা করবে। সাথে সাথে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে। আপনার বিভিন্ন অরগানের কার্যক্ষমতা দ্রুত বাড়াবে। অগ্নি সঞ্জীবন পাচক তেমনি একটি ফুড সাপ্লিমেন্ট বা ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট যা কোষ্ঠ কাঠিন্যযুক্ত আইবিএস ও কঠিন প্রকৃতির গ্যাস্ট্রিক রোগের ক্ষেত্রে দুর্দান্ত উপকারী প্রমাণিত হয়েছে। 

অগ্নি সঞ্জীবন পাচক কি কি কাজ করে?

  • কঠিন গ্যাস্ট্রিক ও বুক জ্বালাপোড়া বন্ধ করে
  • পাকস্থলী পরিষ্কার রাখে
  • পেট ব্যথা, পেট ফাপা, পেটে গ্যাস দূর করে
  • হজমশক্তি বৃদ্ধি করে
  • দ্রুত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
  • এন্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে
  • লিভারের সংক্রমণ প্রতিরোধ করে
  • লিভারে পিত্তরস নিঃস্বরণ বাড়ায়

কারা কারা অগ্নি সঞ্জীবন পাচক ব্যবহার করবেন না

  • যারা আমাশয় ও ডায়রিয়ার সমস্যায় আক্রান্ত
  • যারা মিউকাস কোলাইটিস এ আক্রান্ত 
  • যারা ইনফ্লেমেটরি বাওয়েল ডিজিজ (আইবিডি) অর্থাৎ অলসারেটিভ কোলাইটিস ও ক্রনস ডিজিজে আক্রান্ত
  • যারা আমাশয় ও ডায়রিয়াযুক্ত আইবিএস সমস্যায় আক্রান্ত
কোষ্ঠকাঠিন্য ও কঠিন প্রকৃতির গ্যাস্ট্রিক সমস্যায় আপনার চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ফুড সাপ্লিমেন্ট হিসেবে অগ্নি সঞ্জীবন পাচক ব্যবহার করতে পারেন। গ্যাস্ট্রিক বা বদহজম নিমিষেই দূর করবে ডাইজেশন উন্নত করে থাকে। তবে যেকোন সমস্যার জটিল অবস্থায় রেজিস্টার্ড এবং অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ধন্যবাদ।
বিস্তারিত

মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

হাই প্রেশার বা উচ্চ রক্তচাপের হোমিওপ্যাথিক প্রতিকার

হাই প্রেশার বা হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা খুবই কার্যকর এবং পার্শপ্রিতিক্রিয়াবিহীন। যেখানে এলোপ্যাথিক পার্শপ্রিতিক্রিয়াযুক্ত ঔষধ সারা জীবন ধরে খেয়ে যেতে হয় সেখানে প্রাথমিক অবস্থায় প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা দিলে বহু রোগীরাই ঠিক হয়ে উঠছেন। তবে জটিল ক্ষেত্রে একটি মাত্র হোমিওপ্যাথিক ঔষধ দিন একবার করে নিয়মিত খেয়ে গেলেও ভালো থাকছেন সবাই। হোমিওপ্যাথিতে এই সমস্যার যেমন ভালো ও কার্যকর ঔষধ রয়েছে তেমনি অনেক অভিজ্ঞ চিকিৎসকও রয়েছে।

উচ্চ রক্তচাপ কী

এবার আসুন হাইপারটেনশন সম্পর্কে কিছুটা জেনে নেই। হৃৎপিণ্ডের ধমনীতে রক্ত প্রবাহের চাপ অনেক বেশি থাকলে সেটিকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার বলা হয়ে থাকে। দু'টি মানের মাধ্যমে এই রক্তচাপ রেকর্ড করা হয় - যেটার সংখ্যা বেশি সেটাকে বলা হয় সিস্টোলিক প্রেশার, আর যেটার সংখ্যা কম সেটা ডায়াস্টলিক প্রেশার।

প্রতিটি হৃৎস্পন্দন অর্থাৎ হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও সম্প্রসারণের সময় একবার সিস্টোলিক প্রেশার এবং একবার ডায়াস্টলিক প্রেশার হয়।
  • একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের রক্তচাপ থাকে সিস্টোলিক ১২০ এবং ডায়াস্টোলিক ৮০ মিলিমিটার মার্কারি।
  • কারও ব্লাড প্রেশার রিডিং যদি সিস্টোলিক ১৪০ এবং ডায়াস্টোলিক ৯০ বা এর চেয়েও বেশি হয়, তখন বুঝতে হবে তার উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে।
  • অন্যদিকে রক্তচাপ যদি সিস্টোলিক ৯০ এবং ডায়াস্টোলিক ৬০ বা এর আশেপাশে থাকে, তাহলে তাকে লো ব্লাড প্রেশার হিসেবে ধরা হয়।
  • যদিও বয়স নির্বিশেষে রক্তচাপ খানিকটা বেশি বা কম হতে পারে।
হাই প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপের হোমিওপ্যাথিক প্রতিকার

উচ্চ রক্তচাপের কারণ

উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার পেছনে যে কারণগুলিকে সাধারণত দায়ী করা হয়ে থাকে সেগুলি হলঃ 
  • বেশি লবণ গ্রহণ
  • অতিরিক্ত মেদ বা মাত্রাতিরিক্ত ওজন
  • কাজের চাপ বা স্ট্রেস
  • ধূমপান ও মদ্যপান করা 
  • অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ
  • অতিরিক্ত চা-কফি, কোমল পানীয় পান করা 
  • পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম না করা
  • নিদ্রাহীনতা
  • বয়স ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে হওয়া
  • নিকট আত্মীয়দের হাই ব্লাড প্রেশার থাকা
উচ্চরক্তচাপ সর্বাপেক্ষা সাধারণ জটিল উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অসুস্থতার একটি। এখন পর্যন্ত ৫০ টির অধিক জিনকে চিহ্নিত করা হয়েছে উচ্চ রক্তচাপের গবেষণার জন্য এবং এই সংখ্যা দিনে দিনে বেড়ে চলেছে

এক সময় ধরে নেয়া হত কেবল বয়স্ক মানুষ অর্থাৎ ৪০ বছরের বেশি হলেই কারো উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু এখন চিকিৎসকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অল্পবয়সীদের মধ্যেও এ রোগ দেখা যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় শঙ্কার ব্যাপার হচ্ছে, বেশিরভাগ মানুষ নিজেরাই জানেন না যে তারা  উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনে ভুগছেন।

তবে যাদের অল্প বয়সে উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত হয়, তাদের রক্তচাপ বেশি থাকার কিছু কারণ দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছেঃ কিডনি সমস্যা, রক্তনালী সরু হয়ে গেছে, হরমোন সমস্যা, থাইরয়েড সমস্যা, পিটুইটারি গ্লান্ডের সমস্যা, মস্তিষ্কে কোন সমস্যা থাকলে, স্টেরয়েড গ্রহণের ধারাবাহিকতা ইত্যাদি। 
অনেকে মনে করেন, কারো অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করার প্রবণতা থাকলে হয়ত সেটিকে হাইপারটেনশন বলে। কেউ মনে করেন কারো উচ্চ রক্তচাপ থাকলে হয়ত উদ্বেগ উৎকণ্ঠার সময় যে বুক ধড়ফড় করে সেটাই হাইপারটেনশন।- এগুলি মূলত ভুল ধারণা 

উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণসমূহ

উচ্চ রক্তচাপের একেবারে সুনির্দিষ্ট কোন লক্ষণ সেভাবে প্রকাশ পায় না। তবে সাধারণ কিছু লক্ষণের মধ্যে রয়েছে:
  • প্রচণ্ড মাথা ব্যথা করা
  • মাথা গরম হয়ে যাওয়া
  • মাথা ঘোরানো
  • ঝাপসা দৃষ্টি বা দাগ দেখা
  • ঘাড় ব্যথা করা
  • বুকে ব্যথা বা চাপ
  • অস্বাভাবিক ক্লান্তি
  • বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
  • মাঝে মাঝে কানে শব্দ হওয়া
  • অল্পতেই রেগে যাওয়া
  • অস্থির হয়ে শরীর কাঁপতে থাকা
  • রাতে ভালো ঘুম না হওয়া
  • নাক দিয়ে রক্ত ​​পড়া
  • অনেক সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলা

উচ্চ রক্তচাপ হলে কী করবেন

জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা দরকার এবং কয়েকটি বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে-
  • নিয়মিত ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রম করা
  • ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করা 
  • খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে দেয়া 
  • ওজন নিয়ন্ত্রণ করা
  • মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা কম করা
  • খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা 

উচ্চ রক্তচাপের হোমিও প্রতিকার

হাই প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের আশার আলো দেখাচ্ছে হোমিওপ্যাথি। এমন কিছু হোমিওপ্যাথিক ঔষধ রয়েছে যেগুলি এই সমস্যায় ম্যাজিকের মতো ফল দিয়ে থাকে। মিডিয়ার কল্যানে আজ মানুষজন এই বিষয়গুলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারছেন এবং হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খেয়ে উপকৃত হচ্ছেন।
বহু চিকিৎসকরা হাই প্রেশার বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ব্যক্তি ভেদে এবং লক্ষণ সাদৃশ্যে কিছু হোমিও ঔষধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন যেগুলি ব্যবহার করে অনেক রোগীদের ব্লাড প্রেশার স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে অনায়াসেই। যেমনঃ Natrum Mur, Glonoinum, Crataegus, Strophanthus, Passiflora, Veratrum Viride, Rauvolfia Serp, Adrinalin, Zincum met ইত্যাদি। 
সাধারণ অবস্থায় কোনো প্রকার জটিলতা ছাড়াই লক্ষণ সাদৃশ্যে এই রকম কিছু ঔষধ গ্রহণ করেও অনেক রোগীরা উপকৃত হচ্ছেন। এই সমস্ত হোমিওপ্যাথিক ঔষধের এলোপ্যাথির মতো কোন সাইড ইফেক্ট নেই। তবে আপনি যদি চিকিৎসক না হয়ে থাকেন তাহলে নিজ নির্বাচনে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। 

অভিজ্ঞ একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ঔষধ গ্রহণ করা জরুরি। কারণ এছাড়াও বহু হোমিওপ্যাথিক ঔষধ রয়েছে যা কেইস টেকিং করে প্রয়োগ করলে বেশ ভালো ফল পাওয়া যায়। আসুন রেপার্টরীতে হাই প্রেশার চিকিৎসার জন্য নির্বাচিত কিছু ঔষধ দেখে আসি....
উচ্চ রক্তচাপের হোমিও ঔষধ
ইতিপূর্বে আমি বলেছি উচ্চ রক্তচাপ এর এলোপ্যাথিতে যে চিকিৎসা রয়েছে সেখানে সারাজীবন ধরেই ওষুধ খেয়ে যেতে হয়। যেগুলি বিভিন্ন পার্শপ্রিতিক্রিয়া তৈরী করে। কিন্তু আপনি হয়তো জেনে থাকবেন, যখনই কারো উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা তৈরি হয় তার পিছনে কোন না কোন কারণ বিদ্যমান থাকে। সঠিক কারণটির নির্ণয় করে প্রথম অবস্থায় যদি এই ধরনের রোগীদের প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসা যায় তাহলে তখনই তারা সুস্থ হয়ে ওঠেন। 

কিন্তু দেখা যায়, যারা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিতে আসেন তারা মূলত দীর্ঘদিন যাবত এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নিতে নিতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং দীর্ঘদিন যাবৎ এলোপ্যাথিক ওষুধ খাওয়ার কারণে তাদের শরীরে বিভিন্ন রোগ জটিলতা জেগে উঠে। এক্ষেত্রেও হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রয়োগ করা হলে জটিল রোগীরাও ভালো থাকছেন। সুতরাং আমরা বলতে পারি, উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের জন্য হোমিওপ্যাথি স্রষ্টার একটি আশীর্বাদ ছাড়া আর কিছুই নয়।
বিস্তারিত

সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

ক্যান্সার চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি ও কেমোথেরাপির কার্যকারিতা

ক্যান্সার চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি ও কেমোথেরাপির কার্যকারীতার প্রশ্ন যদি আসে তাহলে জেনে নিবেন পৃথিবীতে ক্যান্সার নিরাময়ের যত চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে কোনটাই আপনাকে এই গ্যারান্টি দিবে না যে ট্রিটমেন্ট নিলেই আপনি সেরে উঠবেন। ফল দিক বা না দিক, কাজ তেমন করুক বা না করুক রোগটির জন্য চিকিৎসা আছে তাই প্রসিডিউর ফলো করা হয় এর বেশি কিছু নয়। এর মধ্যেই কেউ কেউ সারভাইব করে থাকেন। 

তবে অর্থনৈতিক অবস্থা, ঔষধের মারাত্মক সব পার্শপ্রিতিক্রিয়া, রোগীর শারীরিক অবস্থা ইত্যাদি  সব দিক বিবেচনা করলে ক্যান্সার চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি স্রষ্টার এক আর্শীবাদ ছাড়া কিছুই নয়। 

কিছুদিন আগেও বিভিন্ন প্রকারের থেরাপি এবং সার্জারিকেই ক্যান্সার নিরাময়ের প্রধান উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু হোমিওপ্যাথিক ওষুধ প্রয়োগে ক্যান্সার রোগীরা আজ ভালো হওয়াতে অনেক ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীরা এখন আশার আলো দেখছেন। আপনি হয়তো আপনার আশেপাশে দেখে থাকবেন অথবা গুগল সার্চ করেই এর প্রমান পেয়ে যাবেন।
ক্যান্সার চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি ও কেমোথেরাপি

ক্যান্সার চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথির কার্যকারীতা

জেনে রাখা ভালো, যেকোনো প্রকারের ক্যান্সার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় কতটা ফল দিবে তা নির্ভর করে রোগী কোন ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং রোগের কোন পর্যায়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিতে আসছেন তার উপর। লিভার ক্যান্সার, ব্রেন টিউমার, প্রস্টেট ক্যান্সার, ইউরিনারি ব্লাডার বা মূত্রথলির ক্যান্সার, অস্ট্রিওসারকোমা, স্কিন ক্যান্সার, মহিলাদের ব্রেস্ট ক্যানসার, জরায়ু বা সার্ভিক্স ক্যান্সারের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সবচেয়ে বেশি ফল দিয়ে থাকে।

তবে মনে রাখা ভালো, যিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন তার শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে রোগ আদৌ সারবে কিনা। দেখা গেছে, রোগীর ডায়াবেটিস এর মতো সমস্যা থাকলে তার ভাইটাল ফোর্স এমনিতেই দুর্বল থাকে। সেক্ষেত্রে ক্যান্সার রোগ সারানো কঠিন হয়ে পড়ে। তবু এসব ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা যথেষ্ট ভালো কাজ দিচ্ছে।

কখনো কখনো ক্যান্সার লক্ষণবিহীন অবস্থায়ও থাকতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে ক্যান্সার নিজে থেকেই সেরে যায়। ক্যান্সারের প্রথম স্টেজে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শুরু করলে অবশ্যই ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জটিলতর অবস্থা নিয়ে রোগীরা আমাদের কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন। এক্ষেত্রেও হোমিওপ্যাথি কাজ দেয়। প্রাথমিক স্টেজে কেউ যদি অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা করেন সেক্ষেত্রে অনেকটাই ভালো ফলাফল লাভ করা সম্ভব।

অন্যান্য রোগের মতো হোমিওপ্যাথিতে ক্যান্সার চিকিৎসাও নির্দিষ্ট কোনো ছকে আবদ্ধ নয়। মনে করবেন না যে, কিছু হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খেলেই ক্যান্সারের মতো জটিল সমস্যা নির্মূল হয়ে যাবে।  কারণ হোমিওপ্যাথিতে নির্দিষ্ট রোগের নির্দিষ্ট কোন ঔষধ হয় না। হোমিও চিকিৎসা এলোপ্যাথির মতো নয়। এটি সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী একটি পার্শপ্রিতিক্রিয়াহীন যুগান্তকারী চিকিৎসা পদ্ধতি। 

রোগীর ব্যাক্তিগত ও পারিবারিক হিস্ট্রি, তার ক্যান্সার সম্পর্কিত লক্ষণসমূহ বিবেচনা করে চিকিৎসা করা হয়। মনে রাখা ভালো, একেক জনের একেক রকম কস্টিটিউশন থাকে বিধায় একই কারণে ব্যক্তি ভেদে ক্যান্সারসহ যেকোন রোগের লক্ষণ সমূহ আলাদা হয়ে থাকে। তাই চিকিৎসার জন্য ঔষধও ভিন্ন হবে এটাই স্বাভাবিক। ক্যান্সারের পেছনে শারীরিক বা মানসিক কারণ, পরিবেশগত ও পারিবারিক কারণ ইত্যাদি বিবেচনা করে হোমিওপ্যাথিতে চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। কী ধরনের ক্যান্সার, সেটা কীভাবে ছড়াচ্ছে, যন্ত্রণার মাত্রা কিরূপ, এছাড়া রোগীর সার্বদৈহিক লক্ষণসমূহ বিবেচনাপূর্বক পরিপূর্ণ কেইস টেকিং এর মাধ্যমে হোমিওপ্যাথিতে চিকিৎসা শুরু করা হয়।

ক্যান্সার চিকিৎসায় কেমোথেরাপির কার্যকারীতা

কেমোথেরাপি হচ্ছে বিভিন্ন ওষুধের মাধ্যমে শরীরে থাকা ক্যানসারের কোষকে ধ্বংস করা। এক্ষেত্রে ওষুধ ইনজেকশনের মাধ্যমে রোগীর শরীরে প্রয়োগ করা হয়। অনেক দিন ধরে একটু একটু করে ওষুধ রক্তে মিশে যায়। কেমোথেরাপি নিলে ভয়াবহ রকমের বমির পাশাপাশি শরীরে খিচুনি হয়। ক্ষুধা একেবারে কমে যায়। শরীর প্রচণ্ড রকম দুর্বল এবং মানসিক অবসাদ দেখা দেয়। মাথার চুল এবং চোখের ভ্রু পড়ে যায়।

প্রশ্ন হচ্ছে, ক্যানসার হওয়ার পর কেমোথেরাপি দিলে রোগটি নির্মূলের হার কতখানি? কেমোথেরাপিকে ক্যানসার নিরাময়ের সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা বলে মনে করা হয়। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য হলো প্রাণঘাতী ক্যানসারে মানুষ মারা যাওয়ার পেছনে প্রধান দায়ী এই কেমোথেরাপি।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. হার্ডিন বি জোনস ক্যানসার চিকিৎসায় কেমো ও বিভিন্ন থেরাপির ব্যবহার নিয়ে ২৫ বছর ধরে গবেষণা শেষে এমন তথ্য দিয়েছেন। গবেষণায় তিনি উল্লেখ করেন, ক্যান্সার চিকিৎসা এক ধরনের ব্যবসা, যা শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠার চেয়েও বেশি লাভজনক। এই ব্যবসায় প্রতিটি ডাক্তার, হাসপাতাল, ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট সবাই জড়িত।

ব্যবসাটা তখনই শুরু হয়, যখন কোনও রোগী মারাত্মক রোগের তথাকথিত চিকিৎসা, যেমন: কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন বা শরীরের কোনও অংশের জটিল চিকিৎসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। রোগীদের যারা কেমো নিতে আসেন, তারা একটি ভয়ংকর পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে যান। কেমো নেওয়া রোগী অন্য যে কোনও চিকিৎসা পদ্ধতির চেয়ে দ্রুত মারা যান এবং অধিক যন্ত্রণা ভোগ করেন। এসব বিষয়গুলো কঠিন গোপনীয়তার মধ্যে করা হয়। কারণ এখানে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা জড়িত।

নিউইয়র্ক একাডেমি অব সায়েন্সে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, কেমোথেরাপি নেননি, এমন রোগী কেমো গ্রহণকারীর চেয়ে সাড়ে ১২ বছর বেশি বাঁচেন। কেমোথেরাপি নেয়ার তিন বছরের মধ্যে রোগী মারা যান। এমনকি কেমোথেরাপি শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অনেকে মারা যান। স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীরা যারা প্রচলিত বিভিন্ন থেরাপি নেননি তারা অন্যদের চেয়ে চারগুণ বেশি সময় বাঁচেন।

তিনি বলেন, এসব গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় না। যাতে করে কেমোথেরাপি ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সবচেয়ে কার্যকর ওষুধ- এরকম মিথ ছড়ানো অব্যাহত থাকে।

১৯৭৯ সালের আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের একটি গবেষণায় দেখা যায়, চিকিৎসায় ব্যবহৃত এখন পর্যন্ত কোনও থেরাপি প্রকৃতপক্ষে ক্যানসারের নিরাময়ে কিংবা মানুষকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে কোনও ভূমিকা রাখতে পারেনি।

ক্যানসার নিরাময়ে বিভিন্ন থেরাপির ভূমিকা নিয়ে ১৯৭৮ সালেও দুটি গবেষণা করা হয়েছিল। যার একটি হয়েছিল ইসরায়েলে ও অন্যটি ব্রিটেনে। এই দুই গবেষণায় ক্যানসারের চিকিৎসায় কেমো বা বিভিন্ন থেরাপি তেমন কোনও ভূমিকা রাখতে পারে না বলে তথ্য দেয়া হয়। তথ্য সূত্রঃ আরটিভি অনলাইন

কোথায় কোন পদ্ধতির চিকিৎসা নিবেন?

কে কোথায় চিকিৎসা নিবেন সেটা মূলত ব্যক্তির পছন্দের ভিত্তিতে হয়ে থাকে। তাই ক্যান্সারের চিকিৎসা আপনি কোথায় করবেন সেটাও আপনার নিজেরই পছন্দ। পূর্বেই বলেছি পৃথিবীতে যত প্রকার চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে অর্থাৎ আপনি যে চিকিৎসা পদ্ধতিতেই ক্যান্সারের চিকিৎসা নেন না কেন অথবা পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা নেন না কেন কেউ কিন্তু আপনাকে এই গ্যারান্টি দেবে না যে, চিকিৎসা নিলেই ভালো হয়ে যাবেন। 

বিভিন্ন চিকিৎসা ব্যবস্থায় ক্যান্সারের চিকিৎসা বিভিন্ন ভাবে করা হয়ে থাকে। কিছু কিছু চিকিৎসা পদ্ধতিতে আপনার খরচ অনেক বেশি পড়বে, একই সাথে জটিল পার্শপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। আবার কোন কোন চিকিৎসা পদ্ধতিতে খরচ কম পড়বে এবং তেমন কোন পার্শপ্রতিক্রিয়ার সম্ভবনাও নেই। যেমন ধরুন, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে যদি আপনি ক্যান্সারের চিকিৎসা নেন সেক্ষেত্রে কেমোথেরাপির মতো খরচ এবং জটিল কোনো পার্শপ্রতিক্রিয়ার সম্ভবনা নেই।

সব দিক বিবেচনা করলে হোমিওপ্যাথি ক্যান্সার চিকিৎসায় স্রষ্টার আর্শীবাদ ছাড়া কিছুই নয়। তবে এক্ষেত্রে রেজিস্টার্ড এবং অভিজ্ঞ কোনো হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন।
বিস্তারিত

শুক্রবার, ১০ মে, ২০২৪

মানব দেহে ফ্রি-রেডিক্যাল নিষ্ক্রিয় করতে এন্টি অক্সিডেন্টযুক্ত সুপারফুড কাদের জন্য উপকারী

ফ্রি-রেডিক্যাল নিষ্ক্রিয় করতে এন্টি অক্সিডেন্টযুক্ত যে সকল সুপারফুড আমাদের দেশে অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে সেগুলি আদৌ কি আপনার কোন উপকারে আসছে ? অনেকেই নানা প্রকার চটকদার বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে সয়া, চিয়া সীড, বীটরুট, মরিঙ্গা বা সজিনা পাতা ইত্যাদির পাউডার বা বিভিন্ন কোম্পানির তৈরী করা ন্যাচারাল সুপার ফুড কিনে কিনে মুড়ির মতো খেয়ে চলেছেন। সেগুলির আদৌ কি আপনার শরীরের জন্য প্রয়োজন আছে? আপনি কি কখনো এই বিষয়টি চিন্তা করে দেখেছেন? প্রথমেই আসুন ফ্রি-রেডিক্যাল এবং এন্টি অক্সিডেন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।  

ফ্রি রেডিক্যাল Free radicals হচ্ছে অক্সিজেন বিপাক ক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট সক্রিয় অণু বা একটি বিষাক্ত উপজাত Byproducts যা আমাদের শরীরে মুক্তভাবে চলাফেরা করে। এই মুক্ত অণু অক্সিডেটিভ স্ট্রেস প্রক্রিয়ায় শরীরের ডি.এন.এ এবং জীবিত কোষসমুহকে ধ্বংস সাধন করে, ফলশ্রুতিতে আমাদের শরীর ক্যান্সার, হৃদরোগ, প্রদাহজনিত রোগ, চোখে ছানি ইত্যাদি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়।

আমাদের বেঁচে থাকার জন্য শক্তি দরকার। এই শক্তি উৎপাদনের বায়বীয় জ্বালানি হলো অক্সিজেন। অক্সিজেন ছাড়া খাদ্য হজম হয় না, হজম হওয়া খাদ্য ব্যবহৃতও হয় না। যে গ্লুকোজ, ফ্যাটি এসিড ও অ্যামাইনো ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হয়, সেই শক্তি উৎপাদন অক্সিজেন জ্বালানি ছাড়া কখনো সম্ভব নয়। আমাদের শরীরের ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন সেল থেকে অনবরত নানান রিয়েকশনের মাধ্যমে এই শক্তি উৎপাদিত হচ্ছে।
এন্টি অক্সিডেন্টযুক্ত সুপারফুড কতটা জরুরী
মানব শরীরে যত শক্তি বা এনার্জি উৎপন্ন হয় তা জারণ বা অক্সিডেশনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়। প্রকৃতির সর্বত্রই এই নিয়ম মেনে চলে। যেমন- আমরা যখন আগুন জ্বালাই তখন বাতাসের অক্সিজেন ব্যবহৃত তথা বিজারিত হয়ে আগুন জ্বলতে সাহায্য করে, আর কাঠ বা কয়লা অক্সিজেন গ্রহণ করে জারিত হয় এবং এর মাধ্যমে আমরা তাপ ও আলোক শক্তি পাই।

সাধারণভাবে কোষগুলোতে চলা সব কেমিক্যাল রিয়েকশনের সময় অক্সিজেন পুরোপুরিভাবে বিজারিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন হয়। কিন্তু কখনো কখনো যখন অক্সিজেনের এই বিজারণ প্রক্রিয়া আংশিকভাবে ঘটে যায় তখনই অনাকাংখিত ভাবে বাই-প্রডাক্ট হিসেবে যে প্রডাক্ট বের হয়ে আসে তাকেই রিয়েকটিভ অক্সিজেন স্পেসিস বলে। এদের মাধ্যমে শরীরে যে ড্যামেজ প্রক্রিয়া সংঘটিত হয় তাকেই ফ্রি রেডিক্যাল ইনজুরি বলে, আর যারা এই ড্যামেজ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাদের এক কথায় ক্ষতিকর অক্সিডেন্টও বলে।

ফ্রি রেডিক্যালগুলো আসলে কী?

আমরা জানি, প্রত্যেকটি পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা হলো পরমাণু। এই পরমাণু গঠিত হয় ইলেকট্র্রন, প্রোটন ও নিউট্রন দিয়ে যার কেন্দ্রে জড়াজড়ি করে থাকে প্রোটন ও নিউট্রন আর কেন্দ্রের বাইরে বিভিন্ন কক্ষপথে ঘুরতে থাকে বিভিন্ন সংখ্যক ইলেকট্র্রন। আসলে কেমিক্যাল রিয়েকশন বলতে বাইরে কক্ষপথে ঘুরতে থাকা ইলেকট্র্রনের যোগ-বিয়োগকে বোঝায়।
ফ্রি-রেডিক্যাল
সুতরাং ফ্রি রেডিক্যাল হলো এমন এক ধরনের কেমিক্যাল স্পেসিজ Chemical Species যাদের সর্ব বাইরের কক্ষ পথে বেজোড় সংখ্যক ইলেকট্রন থাকে, যা খুবই অস্থির, ক্ষণস্থায়ী ও আনপ্রেডিক্টেবল বা অপ্রত্যাশিত। এই অস্থায়ী ইলেকট্রনগুলো জোড়ার অভাবে সর্বদাই রিয়েকটিভ অবস্থায় থাকতে চায়, ফলে বারবার অনাকাঙ্খিত রিয়েকশন হয়ে নতুন নতুন রিয়েকটিভ অক্সিজেন স্পেসিজ তৈরি হতে থাকে আর ফলে কোষের মধ্যে থাকা প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট উপাদানগুলো আঘাতপ্রাপ্ত হতে থাকে।

ক্ষতিকর এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ দিতে ন্যাচারালি শরীরে প্রস্তুত থাকা এন্টি অক্সিডেন্টগুলো আনপ্রেডিক্টেবল অক্সিজেন স্পেসিজগুলোকে নানারকম রিয়েকশনের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। এই নিষ্ক্রিয় করে ফেলার কাজ যত বেশি হবে তত বেশি আমরা ফ্রি রেডক্যাল ইনজুরির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারব।

ফ্রি রেডিক্যাল স্পেসিজ কখন উৎপাদিত হয়?

ফ্রি রেডিক্যাল ও অন্যান্য রিয়েকটিভ অক্সিজেন স্পেসিজ মানবদেহে স্বাভাবিক প্রয়োজনীয় বিপাকীয় প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে, এক্স-রে, ওজোন, ধূমপান, অত্যন্ত মানসিক ও শারীরিক চাপে থাকা ব্যক্তির শরীরে, বায়ুদূষণকারী ও শিল্প রাসায়নিকের এক্সপোজারের মতো বাহ্যিক উৎসের উত্তেজকের ভূমিকার কারণে তৈরি হতে থাকে। 

এ ছাড়া উদ্বেগের সাথেই বলতে হচ্ছে, চিনি জাতীয় খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবার, বেকিং, ডিপ ফ্রাইং ফুড, টিনজাত খাবার, ট্রান্সফ্যাট, মদ্যপান, মিষ্টি আচার, চকোলেট, চিপস, বিস্কুট এবং কেবল সুস্বাদু ও স্থায়ী করার উদ্দেশে ডালডা, পার্শিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড খাবার ইত্যাদি মানবসৃষ্ট পুষ্টিহীন খাবার ফ্রি রেডিক্যাল ইনজুরি তৈরি করার ভাগাড়।

ফ্রি রেডিক্যাল বেড়ে যাওয়ার কারণ কি?

এমন কিছু নিয়ামক রয়েছে যাদের প্রভাবে আমাদের শরীরে ফ্রি রেডিক্যালের আধিক্য দেখা দিয়ে তা অক্সিডেটিভ স্ট্রেসে রূপ নিতে পারে। এর কিছু কারন হলো - রেডিয়েশন, কীটনাশক ও রাসায়নিক সার, ধূমপান, এলকোহল, তেলে ভাজা খাবার, স্থুলতা, সুষম খাবারের অভাব, কিছু কিছু এলোপ্যাথিক ঔষধ সেবন, নানা প্রকারের দূষণ ইত্যাদি। 

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মূলতঃ কি?

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট Antioxydant হলো একটি অণু যা অন্যান্য অণুর জারণ Oxidation ক্রিয়ায় বাধা দেয়। বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় আমাদের দেহে অনবরত উৎপাদিত হচ্ছে ক্ষতিকর ফ্রি রেডিক্যালস। এই ফ্রি রেডিক্যালকে নিষ্ক্রিয় করতে ভূমিকা পালন করে থাকে এন্টি অক্সিডেন্ট।

দেখা গেছে যারা সুদীর্ঘ বছর বেঁচে থাকেন তাদের দেহে সুপার অক্সাইড ডিসমুটেজ নামক এনজাইম তৈরি হয় যা ফ্রি রেডিক্যালকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে। মানুষের দেহের অভ্যন্তরেও ফ্রি রেডিক্যালকে নিষ্ক্রিয় করার মতো পদার্থ আছে। যেমন বিলিরুবিন, গ্লুটাথিওন ইত্যাদি। আবার কিছু খাদ্য-উপাদান থেকেও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। যেমন বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন 'সি' ও ভিটামিন 'ই'। 

এসব অ্যান্টি অক্সিডেন্টগুলো প্রবলভাবে কাজ করতে দেখা যায় না। তবে ধীরে ধীরে হলেও এরা মুক্ত মৌলের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের বিরোধিতা করে এবং কোষকে রক্ষা করতে সচেষ্ট হয়। 

কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ক্ষেত্র বিশেষে শরীরের ক্ষতি করে। অনেক সময় অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যেমন:- ভিটামিন 'সি' এবং বিটা ক্যারোটিন শরীরে ইতিমধ্যে বেড়ে ওঠা ক্যানসার কোষকে মদদ জোগায়। ভিটামিন 'ই'  ছাড়া অন্য কোনো অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উচ্চ মাত্রায় শরীরে গ্রহণ করলে বিশেষ কোনো উপকার হয় বলে জানা যায়নি। তারপরও ভিটামিন 'ই' এর কার্যকারিতার ক্ষেত্রে সবসময় 'হতে পারে' শব্দটি বেশ জোড়েসোরেই উচ্চারিত হয়ে আসছে। এটি ভিটামিন 'ই' এর গুরুত্বকে কিছুটা হলেও ম্লান করে দিচ্ছে।

কোন ধরনের খাবারে পাওয়া যায় অ্যান্টি অক্সিডেন্ট

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আমাদের প্রাত্যহিক খাবারের মধ্যে পাওয়া সম্ভব। যেমন- গ্রীন টি, কফি, শসা, বেগুন, টমেটো, বাধাকপি, গাজর, গোলমরিচ, ওলকপি, পালং শাক, উদ্ভিজ্জ তেল, শিম, লাউ, কলা, পেয়ারা, তরমুজ, আমলকী, লেবু, বাতাবি লেবু, আনারস, কমলা লেবু, কাচা মরিচ, পুদিনা পাতা এবং এক রাশিয়ান গবেষনায় বলা হয়েছে হিমায়িত শাকসবজি এবং ফলমুলে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পরিমাণে বেশি থাকে। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার মূলত বয়স বাড়ার গতিকে ধীর করতে সহায়ক হয়। কারও কারও মতে অ্যান্টি অক্সিডেন্টগুলো হৃৎপিণ্ডকেও রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 
অক্সিডেন্টযুক্ত শাকসবজি ও ফল
তাই এই আধুনিক এবং শহরে জীবনে ফরমালিন, ইথিলিন, কার্বাইড বা অন্য কোন ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য মিশানো শাক সবজি বা ফলমূল যেমন আমাদের জীবনকে তিল তিল করে ধ্বংস করে দিচ্ছে। ঠিক তেমনি যেকোন ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য বিহীন টাটকা শাক সবজি বা ফলমূলই হতে পারে আমাদের জন্য দীর্ঘায়ু লাভের উপায়। কারণ সেগুলিই মূলত আমাদের প্রত্যাহিক জীবনে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এর চাহিদা পূরণ করে চলেছে। এর জন্য আদৌ সব সময় বাজার থেকে কোন না কোন কোম্পানির তৈরী করা ফ্রি-রেডিক্যাল প্রোটেক্টর সুপার ফুড কিনে খাওয়ার খুব একটা প্রয়োজন পড়ে না। তবে হ্যা, এই রকম সুপার ফুড কিছু কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে কিছু কিছু মানুষের জন্য ক্ষেত্র বিশেষে প্রয়োজন হতে পারে। তাই, আজকাল ইন্টারনেটে সুপারফুড নামক নানা প্রকার চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হবেন না। 

অ্যান্টি অক্সিডেন্টযুক্ত সুপারফুড কতটা নিরাপদ?

বেশি দিন সুস্থ দেহে যৌবনময় জীবনযাপনের জন্য কেউ কেউ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ওষুধ বা ফুড সাপ্লিমেন্ট হিসেবে খাচ্ছেন। তবে এসব ওষুধ বা ফুড সাপ্লিমেন্ট মানুষের জন্য যথেষ্ট উপকারী হওয়ার সম্ভাবনা কম। তার প্রধান কারণ হল, এই সকল ফুড সাপ্লিমেন্টে যে পরিমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে তা একজন মানুষের প্রাত্যহিক চাহিদার চেয়ে বহু গুণ বেশি থাকে।
একজন স্বাভাবিক মানুষের জন্য অতিরিক্ত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষের অক্সিডেটিভ প্রক্রিয়া কমাবে না, কোষের শক্তি উৎপাদনকে ব্যাহত করবে। পরিণামে কোষের মৃত্যু তাড়াতাড়ি হবে।
একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের জন্য ক্ষতিকর হবে। এদিকে আমরা প্রতিদিনের খাদ্য থেকেও কিছু পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পেয়ে থাকি। এদের সম্মিলিত প্রভাবে কোষের মৃত্যুই শুধু এগিয়ে আসবে। তাই ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্রচারণায় প্রলুব্ধ হয়ে নানা প্রকার অ্যান্টি অক্সিডেন্টযুক্ত সুপারফুড বা ফুড সাপ্লিমেন্ট চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। 

মনে রাখবেন, ঋতুভেদে প্রকৃতি থেকে পাওয়া ফ্রি-রেডিক্যাল প্রোটেক্টর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাদ্য উপাদানসমূহ প্রতিদিন যথেষ্ট পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রাণিজ আমিষ, বিশেষ করে গরু ও ছাগলের মাংস খাওয়া কমিয়ে আনা, প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহে তিন দিন পরিমিত ব্যায়াম করা এবং শৃঙ্খলিত জীবন যাপন করা আমাদের দীর্ঘায়ু লাভে সহায়ক।

অ্যান্টি অক্সিডেন্টযুক্ত সুপারফুড কাদের জন্য উপকারী 

ফ্যামিলি হিস্ট্রি নিয়ে দেখা গেছে, যাদের Tubercular অথবা PRS প্রিডোমিনেন্ট তাদের ভাইটাল ফোর্স খুবই দুর্বল থাকে এবং তারা জীবন ভর ক্রমাগত নানা প্রকার রোগে কষ্ট পেতে থাকেন। চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে সেই সকল ব্যক্তিদের জন্য কিছু কিছু সুপারফুড আশীর্বাদ বয়ে আনতে পারে।

যা যা জেনেছেনঃ 

  • এন্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবারের তালিকা
  • এন্টি অক্সিডেন্ট কাকে বলে
  • এন্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে কোন ভিটামিন
  • এন্টি অক্সিডেন্ট এর কাজ কি
  • এন্টি অক্সিডেন্ট ট্যাবলেট
  • প্রাকৃতিক এন্টি অক্সিডেন্ট কোনটি
  • দুটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর নাম
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর উদাহরণ
বিস্তারিত

বুধবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৪

জিডিএম সয়া প্রো ম্যাক্স GDM Soya Pro Max ও সয়া হেলথ ড্রিংক Health Drink

GDM Soya Pro Max জিডিএম সয়া প্রো ম্যাক্স এবং সয়া হেলথ ড্রিংক হলো ফার্মেন্টেড বা গাঁজনকৃত সয়া প্রোটিনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদানের সমন্বয়ে তৈরী করা ন্যাচারাল ফুড সাপ্লিমেন্ট। দুটি প্রোডাক্ট মূলতঃ দুই ধরণের ফ্লেভার সমৃদ্ধ যাদের প্রধান উপাদান হলো সয়া প্রোটিন। সয়া মূলত আমাদের ভারত বর্ষের প্রাচীন জমিদার শ্রেণীর মানুষদের শক্তিবর্ধক, পুষ্টিবর্ধক, কান্তিবর্ধক শক্তিশালী খাবার হিসেবে সুপরিচিত। যা তারা নিয়মিত ব্যবহার করে সুস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করতেন। 

সয়া মূলতঃ নিরামিষ ভোজীদের পছন্দের খাবার। যারা ডিম, মাংস, দুগ্ধজাত খাবার এবং অন্যান্য প্রাণীজ খাবার খেতে পছন্দ করেন না অথচ প্রাণীজ খাবারের গুনাগুন পেতে চান তাদের কাছে এটি খুবই জনপ্রিয়। সয়া উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের একটি শক্তিশালী উৎস। প্রকৃতপক্ষে উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের সমস্ত অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে এই সয়াতে। 

এক গ্রাম আমিষ বা প্রোটিন থেকে চার কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। দৈনিক প্রয়োজনীয় ক্যালরির ২০-২৫ ভাগ প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাদ্য থেকে গ্রহণ করা উচিত। ভাত বা রুটি জাতীয় খাদ্যের চেয়ে সয়া প্রোটিনে প্রায় ১৫ গুণ আয়রন, ক্যালসিয়াম, খনিজ জাতীয় পদার্থ বিদ্যমান রয়েছে। এক্ষেত্রে জিডিএম সয়া প্রো ম্যাক্স এবং সয়া হেলথ ড্রিংক ব্যবহার করে আমরা সহজেই উপকৃত হতে পারি। 

আমাদের দেহে আমিষ বা প্রোটিনের কাজ কি ?

  • আমাদের দেহের অস্থি, পেশী, বিভিন্ন দেহযন্ত্র, রক্ত কণিকা থেকে শুরু করে দাঁত, চুল, নখ পর্যন্ত প্রোটিন দিয়ে গঠিত। 
  • প্রোটিন শিশুদের দৈহিক বৃদ্ধি সাধন ও দেহ গঠন করে। মানসিক বিকাশ বা মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য প্রোটিন অপরিহার্য।
  • আমাদের দেহের সেল বা কোষগুলো প্রতিনিয়তই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এই ক্ষয়প্রাপ্ত স্থানে নতুন কোষগুলো গঠন করে ক্ষয়পূরণ করতে এবং কোন ক্ষতস্থান সারাতে প্রোটিনের ভূমিকা রয়েছে। 
  • আমাদের দেহে যখন চর্বি ও শর্করার অভাব দেখা যায় তখন প্রোটিন তাপশক্তি উৎপাদনের কাজ করে। 
  • রোগ সৃষ্টিকারী রোগজীবাণুকে প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের দেহে তাদের প্রতিরোধী পদার্থ বা অ্যান্টিবডি তৈরী করা প্রোটিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। 
মোট কথা, মাংস পেশীর গঠনে, পেশীর বল প্রয়োগে সহায়তা, হাড়ের মেটাবলিজমে, সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে, হৃদরোগ কমাতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে, বয়সের ছাপ কমাতে, ত্বকের সুস্থতায়, ইমিউন সিস্টেমের উন্নতিতে, অ্যান্টিবডি তৈরী, হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা, ইত্যাদিতে ভূমিকা পালন করে প্রোটিন বা আমিষ।
জিডিএম সয়া প্রো ম্যাক্স GDM Soya Pro Max ও সয়া হেলথ ড্রিংক Health Drink
সয়া ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ, যার মধ্যে বি ভিটামিন, জিঙ্ক এবং আয়রন রয়েছে। এছাড়া রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এতে রয়েছে প্রচুর ডায়েটরি ফাইবার, ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬, ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন বি১, ভিটামিন বি৯, ভিটামিন কে, তামা, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস এবং মলিবডেনামের খনিজ রয়েছে। সয়ায় আইসোফ্লাভোন্স, ফাইটিক অ্যাসিড এবং স্যাপোনিনের মতো ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস রয়েছে, যা দেহে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্রিয়াকলাপ বাড়ায়। 

সয়া প্রো ম্যাক্স হেলথ ড্রিংক উপাদানঃ

  • রিফাইন্ড সয়া প্রোটিন
  • রিফাইন্ড চিনি
  • মল্ট এক্সট্র্যাক্ট
  • সয়া ফাইবার
  • ক্যালসিয়াম এন্ড ফসফেট

সয়া হেলথ ড্রিংক উপাদানঃ

  • ফার্মেন্টেড বা গাঁজনকৃত সয়া প্রোটিন
  • যবের ভুসি
  • বিটা কেরোটিন
  • বায়োটিন

মূল্য এবং প্রাপ্তিস্থান

  • জিডিএম সয়া প্রো ম্যাক্স হেলথ ড্রিংক: ১২০০/= টাকা 
  • জিডিএম সয়া হেলথ ড্রিংক: ৯৫০/= টাকা 
  • প্রাপ্তিস্থান:- গোল্ডেন ডেইজ ম্যানুফ্যাকচারিং এন্ড মার্কেটিং লিমিটেড, আব্দুল আজিজ প্লাজা (৩য়  তলা), নিউ টাউন আ/এ, সাইনবোর্ড, ডেমরা, ঢাকা
  • ফোনঃ 01600-372714 (ফোনে যোগাযোগ করে কুরিয়ারেও নিতে পারেন)

জিডিএম সয়া প্রো ম্যাক্স এবং সয়া হেলথ ড্রিংক এর উপকারিতা

উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের উৎস:- নিরামিষ ভোজীদের জন্য সয়া প্রো ম্যাক্স ও সয়া হেলথ ড্রিংক প্রোটিনের চাহিদা পূরণের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর উপায়। অর্থাৎ এটি মূলত মাছ বা মাংসের বিকল্প এবং মাংসের অন্যান্য সকল গুণে ভরপুর একটি ন্যাচারাল ফুড সাপ্লিমেন্ট। 

উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেষ্ট্ররাল কমায়:- সয়া প্রোটিন কোলেস্টেরলের মাত্রা, এলডিএল (খারাপ কোলেস্টেরল) এবং ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে কার্যকর। সয়া প্রোটিন আইসোলেটে কোন কোলেস্টেরল নেই। সয়া প্রোটিন উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে:- গবেষণায় দেখা গেছে, সয়া জাতীয় খাবারের ফাইটোনিউট্রিয়েন্টগুলোর উচ্চ ঘনত্ব পুরুষ এবং নারীদের ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়তা করে। নারীদের স্তন ক্যান্সার এবং পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পরিপাক ক্রিয়া বাড়ায়:- এটি মানব দেহের পরিপাকে সহায়ক এবং পাকস্থলীর কার্যক্রম শক্তিশালী করে। তাই জিডিএম সয়া প্রো ম্যাক্স এবং সয়া হেলথ ড্রিংক গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সিস্টেমের জন্য দুর্দান্ত কার্যকর একটি ফুড সাপ্লিমেন্ট যা আমাদের খাদ্যে ফাইবার যোগ করে পাকস্থলী এবং ক্ষুদ্রান্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

হৃদরোগ প্রতিরোধক:- প্রাণীজ প্রোটিনের পরিবর্তে উদ্ভিজ্জ সয়া প্রোটিন আমাদের সামগ্রিক হৃদরোগের উন্নতি সাধন করে থাকে। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ক্ষমতা থাকায় আইসোলেটেড সয়া প্রোটিন হৃদরোগ থেকে রক্ষা করে। রক্তে এলডিএল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমানো ও এইচডিএলের মাত্রা বাড়ানোর ক্ষমতা থাকায় কোলস্টেরল বৃদ্ধিজনিত হৃদরোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধক:- সয়া প্রোটিন রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। আমাদের রক্তে উচ্চ শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে শরীরে ইনসুলিন উৎপাদনকে প্ররোচিত করে। তাই, সয়া একটি ডায়াবেটিক খাদ্যের সেরা উৎস। তাই জিডিএম সয়া প্রো ম্যাক্স এবং সয়া হেলথ ড্রিংক ডায়াবেটিস প্রতিরোধে কার্যকর একটি ফুড সাপ্লিমেন্ট। 

পেশী শক্তি বাড়ায়:- নিয়মিত জিডিএম সয়া প্রো ম্যাক্স অথবা সয়া হেলথ ড্রিংক গ্রহণ স্বাস্থ্যকর পেশী বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, সয়া পেশী প্রোটিন সংশ্লেষণকে উদ্দীপিত করে, যার ফলে পেশী গঠনে সহায়তা করে এবং পেশী শক্তি বৃদ্ধি পায়। এটি হাড়ের ক্ষয় রোধ ও হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। 

স্মৃতিশক্তি বাড়ায়:- গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে সয়ার উপস্থিতি মস্তিস্কের ক্ষতের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে সহায়তা করে। এ ক্ষতগুলো জীবনের অনেক স্মৃতি ভুলিয়ে দেয়। তাই সয়া জাতীয় খাবার খেলে স্মৃতিশক্তি হ্রাস বা ডিমেনশিয়া হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। এক্ষেত্রে জিডিএম সয়া প্রো ম্যাক্স এবং সয়া হেলথ ড্রিংক নিয়মিত গ্রহণ করে প্রত্যাশিত ফলাফল পেতে পারেন। 

শিশু ও নারীদের পুষ্টি:- জিডিএম সয়া প্রো ম্যাক্স এবং সয়া হেলথ ড্রিংক শিশুদের মেধা বিকাশে সাহায্য করে এবং গর্ববতী মায়েদের জন্য বিশেষ উপকারী ফুড সাপ্লিমেন্ট।

সয়া পাউডার সরাসরি সেবন না করে সয়ার সমন্বয়ে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তৈরীকৃত ফুড বা ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা অধিক উপকারী। কারণ সেগুলি প্রয়োজনীয় পুষ্টিমান বিশিষ্ট বিভিন্ন প্রকার সম্পূরক খাবারের সমন্বয়ে তৈরী করা হয়ে থাকে। জিডিএম সয়া প্রো ম্যাক্স GDM Soya Pro Max ও সয়া হেলথ ড্রিংক Health Drink গাঁজনকৃত সয়া প্রোটিনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদানের সমন্বয়ে তৈরী করা ন্যাচারাল ফুড সাপ্লিমেন্ট। যারা প্রাণীজ প্রোটিন গ্রহণ করেন না তারা উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের এই শক্তিবর্ধক, পুষ্টিবর্ধক, কান্তিবর্ধক শক্তিশালী ফুড সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করে উপকৃত হতে পারেন।

যা যা জেনেছেনঃ 

  • সয়া খাওয়ার উপকারিতা
  • সয়া চাঙ্ক দাম
  • সয়াবিন বড়ি খাওয়ার উপকারিতা
  • সয়া প্রোটিন এর দাম
  • সয়া প্রোটিন গোল্ড
  • সয়াবিন তেলের উপকারিতা ও অপকারিতা
  • সয়া প্রোটিন পাউডার
  • জিডিএম সয়া প্রোটিন 
বিস্তারিত

রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

জিডিএম মরিঙ্গা ভেজিক্যাপ প্লাস GDM Moringa VEGECAP+ ন্যাচারাল ইমিউন বোস্টার

GDM Moringa VEGECAP+ জিডিএম মরিঙ্গা ভেজিক্যাপ প্লাস আমাদের ভাইটাল ফোর্সকে শক্তিশালী করে মারাত্মক ক্ষতিকারক রোগ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে। মরিঙ্গা ভেজি ক্যাপ+ মূলত বেশ কিছু শক্তিশালী প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি করা একটি ন্যাচারাল ফুড সাপ্লিমেন্ট যা বাংলাদেশে তৈরি ও বাজারজাত করছে জিডিএম কোম্পানী।

সুস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতিতে কোন মানুষ যে কোন ধরণের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সমর্থ হয়। আমাদের পার্থিব অস্তিত্ব প্রতিনিয়ত সহস্র রোগশক্তির কাছে উন্মোচিত অর্থাৎ আমরা সবাই সর্বদা সহস্র রোগশক্তি দ্বারা পরিবেষ্টিত, তা সত্ত্বেও সবাই রোগের কবলে পতিত হয় না বা রোগ যন্ত্রনা ভোগ করি না, কারণ ভাইটাল ফোর্স প্রতিনিয়ত মারাত্মক ক্ষতিকারক রোগ শক্তির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিয়ে চলেছে, যার জন্য আমরা সুস্থ থাকি। কিন্তু বিভিন্ন কারণে আমাদের এই ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আমরা নানা প্রকার রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ি। ভাইটাল ফোর্সের দুর্বলতার জন্য দায়ী মূলতঃ দুটি ফ্যাক্টর। এখানে দেখুন বিস্তারিতঃ

মরিঙ্গা বা সজনে পাতাকে বলা হয় সুপার ফুড যার বহু স্বাস্থ্য উপকারীতা রয়েছে যা প্রায় সকলেরই জানা। কিন্তু জিডিএম মরিঙ্গা ভেজিক্যাপ প্লাস মরিঙ্গা বা সজনে পাতার পাশাপাশি আরো কিছু শক্তিশালী প্রাকৃতিক উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে যা দুর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী ব্যক্তিকে ধীরে ধীরে হৃষ্টপুষ্ট বা সুস্বাস্থের অধিকারী করে তুলে।
জিডিএম মরিঙ্গা ভেজিক্যাপ প্লাস

জিডিএম মরিঙ্গা ভেজিক্যাপ প্লাস - উপাদান 

  • অর্গানিক মরিঙ্গা পাউডার 
  • জংলী চন্দ্রমল্লিকা
  • টারমারিক বা হলুদ
  • কালো জিরা 
  • মুথা মূল 
  • ইত্যাদি 

জিডিএম মরিঙ্গা ভেজিক্যাপ প্লাস - উপকারিতাঃ 

সুখী এবং স্বাস্থ্যকর জীবনের জন্য জিডিএম মরিঙ্গা ভেজিক্যাপ প্লাস হল একটি মিরাক্যাল সুপার ফুড। সংক্ষেপে বলতে গেলে এটি মূলতঃ 
  • অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট 
  • ফ্রী রেডিক্যাল প্রোটেক্টর 
  • অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি
  • অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল 
  • ডি-টক্সিফায়ার
  • এবং ইমিউন বোস্টার 
জিডিএম মরিঙ্গা ভেজিক্যাপ প্লাস সাপ্লিমেন্টে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপাদানগুলির মধ্যে একটি হল অর্গানিক মরিঙ্গা পাউডার। নির্দিষ্ঠ পরিমান মরিঙ্গা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রয়োগে শরীরের পুষ্টি সাধন করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাবলী দূরীকরণে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। তাছাড়া অন্যান্য উপাদানগুলিরও রয়েছে স্বতন্ত্র কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা যা আমরা ধাপে ধাপে জানবো। 

মূল্য এবং প্রাপ্তিস্থান

  • জিডিএম মরিঙ্গা ভেজিক্যাপ+ (১২০ ক্যাপসুল) মূল্য: ১৬০০/=
  • প্রাপ্তিস্থান:- গোল্ডেন ডেইজ ম্যানুফ্যাকচারিং এন্ড মার্কেটিং লিমিটেড, আব্দুল আজিজ প্লাজা (৩য় তলা), নিউ টাউন আ/এ, সাইনবোর্ড, ডেমরা, ঢাকা
  • ফোনঃ 01600-372714 (ফোনে যোগাযোগ করে কুরিয়ার করেও নিতে পারেন)

মরিঙ্গা বা সজনে পাতার স্বাস্থ্য উপকারিতা

  • কোমর, হাত-পায়ের আঙ্গুল, জয়েন্টের ব্যথা প্রতিরোধ করে
  • অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের রোগ রোধ করে
  • বার্ধক্যজনিত দূর্বলতা রোধ করে
  • ঠাণ্ডা জনিত হাঁপানি সমস্যা দূর করে
  • শ্বাসতন্ত্রে প্রদাহের সমস্যা দুর করে
  • ডায়াবেটিস জনিত দুর্বলতা দুর করে
  • ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম এর অভাব পূরণ করে
  • কোষ্টকাঠিন্য সমস্যা দুর করে
  • হজম দূর্বলতা, আমাশয় সমস্যা দূর হয়
  • স্বাস্থ্যহীনতা রুগ্নতায় শরীর সবল করে
  • চোঁখ, হাত, পা, জ্বালাপোড়া রোধ করে
  • প্রসাবে জ্বালাপোড়া ইনফেকশন দূর করে
  • নারীদের লিউকোরিয়া সমস্যা দূর করে
  • নারীদের অনিয়মিত মাসিক দুর করে
  • পাইলস রোগে কার্যকরী
  • হিমোগ্লোবিন অভাব পূরণ করে
  • রিউমেটিক ফিভার বা বাতজ্বরে কার্যকরী
  • নার্ভের ব্যথা দূর করতে সহায়তা করে
  • মাইগ্রেন বা মাথা ব্যথা দুর করে
  • ঘুমের সমস্যা দুর করে
  • দৃষ্টি স্বল্পতা বা চোখে কম দেখা রোধ করে
  • শারীরিক দুর্বলতা দূর করে
  • মানব দেহের হরমোন ক্ষয়ের ঘাটতি পূরণ করে
  • ব্যথা বা চিবানো দূর করে
  • শরীরে রোগ প্রতিরোধ উন্নয়ন ঘটায়

চন্দ্রমল্লিকার স্বাস্থ্য উপকারিতা

  • চন্দ্রমল্লিকা ঠান্ডা, জ্বর, সর্দি ইত্যাদি রোগে ভালো কাজ করে থাকে।
  • ইহা আমাদের দেহের ত্বককে সবল রাখতে সহায়তা করে থাকে।
  • চোখের লাল ভাব, চোখ ফোলা সারাতে চন্দ্রমল্লিকা ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়।
  • চন্দ্রমল্লিকা ক্ষত সারাতে সাহায্য করে থাকে।
  • দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চন্দ্রমল্লিকা ভালো কাজ করে থাকে।
  • চন্দ্রমল্লিকা এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে 
  • ডায়াবেটিস রোগের ক্ষেত্রে উপকারী।
  • চন্দ্রমল্লিকা হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে থাকে।
  • চন্দ্রমল্লিকা মাথার চুল কালো করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

টারমারিক বা হলুদ এর স্বাস্থ্য উপকারিতা

  • হলুদে থাকা কারকিউমিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
  • হলুদ একটি উৎকৃষ্ট ফ্রি রেডিক্যাল প্রোটেক্টর যা আমাদের দেহে ফ্রি রেডিক্যাল এর ক্ষতি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
  • হলুদ একটি উৎকৃষ্ট ডি-টক্সিফায়ার যা আমাদের শরীর থেকে বর্জ ও বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন অপসারণ করতে সাহায্য করে।
  • হলুদের কারকিউমিনে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে এটি আপনার বাতের ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে
  • হলুদ হজমশক্তির উন্নতি ঘটায়। এটি পরিপাক ক্রিয়াকে বাড়িয়ে দেয় এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে।
  • হলুদে থাকা কারকিউমিনে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আমাদের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ত্বকের জন্যও অনেক উপকারী।

কালোজিরার স্বাস্থ্য উপকারিতা

  • কালোজিরা রক্তচাপের স্বাভাবিক মাত্রা সুনিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
  • এটি শ্বসনতন্ত্র, সংবহন এবং ইমিউন সিস্টেমকে উন্নত করে। 
  • কালোজিরা মায়েদের বুকের দুধের প্রবাহ এবং স্থায়ীত্ব বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
  • কালোজিরা ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তের শর্করা কমিয়ে ডায়াবেটিক আয়ত্তে রাখতে সহায়তা করে।
  • কালোজিরা চুল পড়া বন্ধ করতে সহায়তা করে।
  • ইহা মস্তিস্কের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্মরণ শক্তি বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে
  • কালোজিরা সেবনে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে সতেজ করে ও সার্বিকভাবে স্বস্থ্যের উন্নতি সাধন করে।
  • অরুচি, উদরাময়, শরীর ব্যথা, গলা ও দাঁতের ব্যথা, মাইগ্রেন  সমস্যায় কালোজিরা উপকারী।
  • চুলপড়া, সর্দি, কাশি, হাঁপানি ইত্যাদি সমস্যায় কালোজিরা উপকারী। 
  • ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসাবে কালোজিরা সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
  • জ্বর, কফ, গায়ের ব্যথা দূর করার জন্য কালোজিরা যথেষ্ট উপকারী। 
  • কালোজিরায় রয়েছে ক্ষুধা বাড়ানোর উপাদান। 
  • পেটের যাবতীয় রোগ-জীবাণু ও গ্যাস দূর করে ক্ষুধা বাড়ায়।
  • দেহের কাটা ছেঁড়া শুকানোর জন্য কাজ করে। 
  • কালো জিরা কৃমি দূর করার জন্য কাজ করে।
  • কালোজিরা নারী ও পুরুষের উভয়ের যৌন ক্ষমতা বাড়ায়।
  • অধিক ঋতু স্রাব, মাত্রাতিরিক্ত স্রাব প্রতিরোধ করতে কালোজিরার উপকারিতা অপরিসীম। 
  • কালোজিরা রিউমেটিক এবং পিঠে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
  • কালোজিরায় রয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এজেন্ট, অর্থাৎ শরীরের রোগ-জীবাণু ধ্বংসকারী উপাদান। এ উপাদানের জন্য শরীরে সহজে ঘা, ফোড়া, সংক্রামক রোগ হয় না।

মুথা মূল এর স্বাস্থ্য উপকারিতা

  • মুথা রক্ত পরিস্কারক, যকৃত, পাকস্থলী ও হৃদপিন্ডের শক্তিবর্ধক।
  • মুথা  মল রোধক, বায়ু, অজীর্ণ ও ক্রিমিনাশক।
  • মুথা  ক্ষত, বমি ও দাঁতের রোগ নাশক।
  • মুথা কফ, পিত্ত এবং গনোরিয়া রোগে উপকারী।
  • মূত্র ঘর্ম ও ঋতুস্রাব প্রবাহক হিসেবে মুথা কার্যকর।
  • মস্তিস্ক, যৌন ও স্নায়ুশক্তি বর্ধক হলো মুথা।
  • বীর্যস্তম্ভক ও যৌন উত্তেজক হিসেবে কাজ করে মুথা
  • বিছা ও বোলতার বিষ নাশক এবং পাচড়ায় উপকারী
  • আমাশয় সমস্যায় মুথা ভালো ফল দিয়ে থাকে।
  • এপিলেপ্সি বা মৃগী রোগে মুথা বেশ উপকারী ।
  • কোন কিছুর খোঁচা লেগে ঘা হলে মুথা যন্ত্রণা উপশম হয়।
  • পাইওরিয়া ও শোথ সারাতে মুথা বেশ কার্যকর।
  • হাত পা জ্বালায় নিরাময়ে মুথা উপকারী।
অর্গানিক মরিঙ্গা পাউডার, জংলী চন্দ্রমল্লিকা, টারমারিক বা হলুদ, কালো জিরা, মুথা মূল ইত্যাদির সমন্বয়ে তৈরী করা হয়েছে মিরাকল সুপারফুড জিডিএম মরিঙ্গা ভেজিক্যাপ প্লাস যা আমাদের ভাইটাল ফোর্সকে শক্তিশালী করে মারাত্মক ক্ষতিকারক রোগ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে এবং সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে থাকে। 

যদিও এটি একটি ন্যাচারাল ফুড সাপ্লিমেন্ট, তবে কার কি পরিমান লাগবে বা কিভাবে কোন ডোজে মরিঙ্গা ভেজিক্যাপ প্লাস গ্রহণ করলে অধিকতর উপকার পাওয়া যাবে এর জন্য আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নির্দিষ্ট মাত্রায় যেকোন ন্যাচারাল ফুড সাপ্লিমেন্টই আপনার স্বাস্থ্যের জন্য আর্শীবাদ বয়ে আনবে কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজনে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জিডিএম মরিঙ্গা ভেজিক্যাপ প্লাস  (GDM Moringa VEGECAP+)  গ্রহণ করে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করুন। ধন্যবাদ।
বিস্তারিত