টাকার ফুটানি দেখিয়ে রেডিওথেরাপি নেওয়ার আগে প্রকৃত সত্যটা জেনে-বুঝে নেয়া সবার জন্য জরুরী। কোনো মানুষ যখন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, তখন তাঁর পূর্ণ অধিকার রয়েছে সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসাপদ্ধতি বেছে নেওয়ার। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে ঠিক তার উল্টোটা। ক্যান্সার শনাক্ত হওয়া মাত্রই রোগীদেরকে অনকোলজি সেন্টারে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে ব্যবহৃত চিকিৎসা উপাদান/সামগ্রীগুলো রোগীদেরকে ক্রমশ গুরুতর ক্ষতির দিকেই টেনে নিয়ে যায়- যেটা ধরে-বেঁধে পশু জবাইয়ের চাইতেও নির্মম ও নিষ্ঠুর বলেও কেউ কেউ তুলনা করেন!
এই গবেষণা-লব্ধ নিবন্ধে আমি রেডিওথেরাপি’র আদ্যোপান্ত তুলে ধরার চেষ্টা করবো। অনুগ্রহ করে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পাঠ করার জন্য সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে প্রচলিত চিকিৎসাপদ্ধতির দালালদের প্রতি উন্মুক্ত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে চাই- পারলে আমার এই লেখনীকে তথ্য ও যুক্তি দিয়ে ভুল প্রমাণ করুন? আর সেটা না পারলে পাপের পথ (রেডিয়েশন দিয়ে মানব-জীবন ধ্বংস) পরিত্যাগ করুন।
রেডিয়েশন থেরাপি বা সংক্ষেপে রেডিওথেরাপি এমন এক উদ্ভট (!) চিকিৎসাপদ্ধতি- যেখানে টিউমারের উপর আয়োনাইজিং এক্স-রে এবং গামা রশ্মি প্রয়োগ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলোকে মেরে ফেলার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালানো হয়। রেডিয়েশন দিয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষে আঘাত হানলে সেগুলোর আকৃতিগত ও সংখ্যা বৃদ্ধি সাময়িক ঠেকানো গেলেও এই ক্ষতিকর রশ্মি তার চলার পথে বিদ্যমান প্রত্যেকটি কোষকে (ভালো-মন্দ নির্বিশেষে) ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং এমন নেতিবাচক শারীরিক প্রতিক্রিয়ার ধারা সূচনা করে- যা বহুকাল (এমনকি উত্তরাধিকার সূত্রে পরবর্তী প্রজন্ম পর্যন্ত) স্থায়ী হতে পারে!
বর্তমানে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের ৬০% তাঁদের চিকিৎসার অংশ হিসেবে আগে/পরে রেডিওথেরাপি গ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁদের একজনও আয়োনাইজিং রেডিয়েশন-এর সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি সম্পর্কে ন্যূনতম সচেতন বা অবগত নন। আমরা জানি- জার্মান পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক উইলহেলম রন্টগেন ১৮৯৫ সালে প্রথম এক্স-রে আবিষ্কার করেন। এই আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯০১ সালে নোবেল পুরস্কার পান; কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী দু'জনেই এক্স-রে'র সংস্পর্শে আসার কারণে সৃষ্ট ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করেছিলেন! ব্যাপারটা কতখানি মর্মান্তিক- ভেবে দেখেছেন কি?
১৯৮৬ সালে চেরনোবিল পারমাণবিক দুর্ঘটনায় বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয় পদার্থ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে তা ইউরোপের বড় অংশ জুড়ে বৃষ্টি ও ধুলার মাধ্যমে ভূমিতে নেমে আসে। এই তেজস্ক্রিয় পদার্থের সংস্পর্শে আসা কারো ক্যান্সার নিরাময় হয়েছে- এমন প্রমাণ নাই, বরং ১০০০টিরও বেশি প্রকাশিত গবেষণা এবং ৫০০০টিরও বেশি অনলাইন ও মুদ্রিত প্রকাশনা (যা কিনা এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার বিষয়ক সবচেয়ে বড় ও বিস্তৃত গবেষণা) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৯৮৬ সাল থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে চেরনোবিল দুর্ঘটনায় নির্গত তেজস্ক্রিয়তার কারণে কমপক্ষে নয় লক্ষ ৮৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে- যাদের অধিকাংশ ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন।
চিকিৎসাবিদ্যার সুপরিচিত জার্নাল 'দ্য লান্সেট'-এ প্রকাশিত আরেকটি গবেষণা প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা এই মর্মে সিদ্ধান্ত পৌঁছান যে, প্রাথমিক স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুর হার বৃদ্ধির সঙ্গে স্থানীয় পোস্ট-অপারেটিভ রেডিয়েশনের রুটিন ব্যবহারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে!
এ পর্যন্ত প্রকাশিত নিয়ন্ত্রিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলোর মধ্যে ৩৪০০ রোগীর উপরে পরিচালিত ছয়টি ট্রায়ালেই দেখা গেছে- শুধুমাত্র ম্যাস্টেকটমি (সার্জারি) দ্বারা চিকিৎসা করা রোগীদের তুলনায় রেডিয়েশন নেওয়া রোগীদের বেঁচে থাকার হার ১% থেকে ১০% পর্যন্ত কমে গেছে। এছাড়াও 'দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন'-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা রিপোর্টে বলা হয় : সার্জারির সঙ্গে রেডিওথেরাপি যোগ করায় পরবর্তী ১০ বছর বেঁচে থাকার হারে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য দেখা যায়নি! তার মানে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত সকল গবেষণা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এটাই প্রতীয়মান তথা প্রমাণিত হয় যে, সর্বোত্তম ক্ষেত্রেও রেডিওথেরাপি স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের বেঁচে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারেনি, বরং এটি রোগীদের মৃত্যুকে ক্ষেত্রবিশেষে ত্বরান্বিত করেছে! এমনকি ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে অস্ত্রোপচারের পরে রেডিওথেরাপি দেওয়া হলে একই (উপরোক্ত) ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।
১৯৯৮ সালে 'দ্য ল্যান্সেট'-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, সার্জারির পরে রেডিওথেরাপি নেওয়া রোগীদের মৃত্যু ঝুঁকি ২৭% বেড়ে গিয়েছিল। গবেষকেরা শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, পোস্ট-অপারেটিভ রেডিওথেরাপি প্রাথমিক পর্যায়ের সম্পূর্ণ কেটে ফেলা নন-স্মল-সেল লাং ক্যান্সার (NSCLC) রোগীদের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি নিয়মিত ব্যবহার করা অনুচিত।
আমেরিকার বিজ্ঞানীরা ২০০৫ সালে নন-স্মল-সেল লাং ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে সার্জারির পরে রেডিওথেরাপির কার্যকারিতা নিয়ে একটি বিস্তৃত গবেষণা পরিচালনা করেন। 'লাং ক্যান্সার' জার্নালে প্রকাশিত ওই পর্যালোচনায় তাঁরা দেখেছেন- পোস্ট-অপারেটিভ রেডিওথেরাপি (PORT) এতোটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, মৃত্যুর সম্ভাবনা আপেক্ষিকভাবে ১৮% বেড়ে যায়। তারচেয়েও আশঙ্কাজনক খবর হলো, ক্যান্সারে মৃত্যুর পরিসংখ্যান প্রকাশের সময় ইচ্ছাকৃতভাবেই কারসাজি করা হয় যেন ক্যান্সার চিকিৎসার নামে যা কিছু চলছে- সেটাকে অপেক্ষাকৃত ভালো কিছু বলে মনে করা হয় (চালিয়ে দেওয়া যায়)!
রেডিওথেরাপি মানবদেহের মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, কলিজা, যকৃৎ, থাইরয়েড, ইমিউন সিস্টেমসহ শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও সিস্টেমগুলোর মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে এবং নিরাময় প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এর তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো শেষ পর্যন্ত রোগীদেরকেই মেরে ফেলে- যার অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে, কিন্তু চিকিৎসা প্রচেষ্টার দোহাই দিয়ে এসব হত্যাকাণ্ডের (!) বিচার দূরে থাক, আদালতে উত্থাপন পর্যন্ত করা হয় না!
১৯৯৩ সালে আমেরিকার টেক্সাস রাজ্যের হিউস্টনের অ্যান্ডারসন ক্যান্সার সেন্টারের গবেষকগণ চার লক্ষ ৭০ হাজার ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর কারণ পরীক্ষা করে এ সংক্রান্ত সরকারি পরিসংখ্যানের গ্রহণযোগ্যতা তথা বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। 'জার্নাল অব দ্য ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট'-এ প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যান্সার ছাড়া অন্য কারণে মৃত্যু বলে প্রতিবেদন দাখিল করা রোগীদের ২৭% রোগ নির্ণয়ের এক বছরের মধ্যে মারা গিয়েছিলেন। ধারণা করা হয়- এই অতিরিক্ত মৃত্যুর নেপথ্য কারণ ছিল ক্যান্সারের বিতর্কিত চিকিৎসা গ্রহণ করা। স্পষ্ট জেনে রাখুন- ক্যান্সার চিকিৎসা সম্পর্কে আমাদেরকে যা কিছু বোঝানো হয়, বাস্তবে এগুলো তার চেয়ে অনেক কম কার্যকর। অন্যদিকে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে যে মৃত্যুর পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়, বাস্তবে অঘটন ঘটে তার চাইতে অ-নে-ক বেশি!
একজন রোগী যদি কেমোথেরাপি গ্রহণ করার এক সপ্তাহ, এক মাস বা কয়েক বছর পরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, সেটাকে ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যর্থতা না বলে heart failure হিসেবেই গণ্য করা হয়; সাধারণ মানুষ কখনোই জানতে পারেন না যে, এর নেপথ্যেও রেডিওথেরাপির ব্যর্থতার দায়ভার লুকিয়ে আছে!
রেডিয়েশন থেরাপি দিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করা করা অল্প বয়েসী রোগীরা সেকেন্ডারি ক্যান্সার হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন আজীবন। অথচ রেডিওথেরাপি দেওয়ার আগে চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট কেউ এই চরম সত্যটা রোগীদের সামনে প্রকাশ করেন না (সচেতনভাবে গোপন রাখেন) যে, রেডিয়েশন-এর ক্ষতি জীবনের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে!
মূলধারার তত্ত্ব বলে- রেডিয়েশন সরাসরি DNA ক্ষতি করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে মেরে ফেলে। তবে ১৯৯২ সালে হার্ভার্ডের গবেষকেরা এমন কিছু খুঁজে পান বা আবিষ্কার করেন- যেটা প্রচলিত ধারণাটিকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে! তাঁদের মতে, ক্যান্সার আক্রান্ত একটি কোষে যখন রেডিয়েশন দেওয়া হয়, তখন আহত কোষটি থেকে এমন কিছু নির্গত হয়- যা একই ক্ষতি অ-রেডিয়েটেড কোষগুলোতেও স্থানান্তরিত হয়; এটাকে 'বাইস্ট্যান্ডার এফেক্ট' বলা হয়।
২.
অতি সম্প্রতি ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একদল ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী ও তাঁদের আত্মীয়-স্বজনকে মিছিল করতে দেখা যায়। তাঁদের দাবি ছিল- হাসপাতালে রেডিওথেরাপির মেশিনের সংখ্যা বাড়াতে হবে যেন রোগীরা আরো দ্রুতগতিতে অধিক সংখ্যক রেডিয়েশন থেরাপি নিতে পারেন! কিন্তু ওই সকল অসচেতন ও বোকা মানুষগুলো কি জানেন- যে কোনো প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যন্ত্রের ত্রুটি বা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে?
রেডিওথেরাপি প্রয়োগ/গ্রহণের সময় এখন পর্যন্ত এমন কিছু ভুল হয়েছে, যার পরিণতি ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর। ক্যান্সার আক্রান্ত স্কট জেরোম পার্কস অতিরিক্ত মাত্রায় রেডিয়েশন পেয়ে গুরুতরভাবে দগ্ধ হন, শ্রবণশক্তি হারান, দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মুখে ঘা হয়, দাঁত পড়ে যায়, এমনকি তিনি শ্বাস নিতে ও খাবার গিলতেও অক্ষম হয়ে পড়েন এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন। আরেকজন ভুক্তভোগী ছিলেন ৩২ বছর বয়েসী স্তন ক্যান্সারের রোগী আলেকজান্দ্রা জে. চার্লস- যিনি ২৭ দিন ধরে অতিরিক্ত রেডিয়েশন পান (এর মধ্যে ভুলটা কারো চোখেই পড়ে নাই)। এর ফলে তাঁর বুকে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং তিনি এতোটা তীব্র ব্যথা অনুভব করতেন যে, কষ্ট থেকে বাঁচতে আত্মহননের পরিকল্পনা পর্যন্ত চূড়ান্ত করে ফেলেছিলেন..!
রেডিওথেরাপি নিয়ে এতোসব ভয়ঙ্কর তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরার পরেও যারা নিতান্ত বাণিজ্যিক স্বার্থে এর পক্ষে সাফাই গাইতে চান, তাঁদের অবগতির জন্য আরো কিছু প্রমাণিত সত্য উপস্থাপন করছি :-
আমি আসলেই বুঝতে পারি না- প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রিধারী মেধাবী চিকিৎসকেরা কিভাবে স্পষ্ট প্রমাণ উপেক্ষা করতে পারেন যে, রেডিওথেরাপি ভালোর চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতির কারণ? অন্যদিকে পৃথিবীর সব অর্থ সম্পদ ঢেলে দিলেও রেডিওথেরাপি দিয়ে (সাময়িক লক্ষণ ধামাচাপা দেওয়া ব্যতীত) কাউকে পরিপূর্ণ সুস্থ করে তোলা যায় না- এই চরম সত্যটা কবে বুঝবে সাধারণ মানুষ?
সত্যি বলতে কি, ক্যান্সার কাউকে কবরের কাছাকাছি পৌঁছিয়ে দেয় না, বরং আক্রান্ত রোগীরা স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে রেডিওথেরাপি নিয়ে নিজেরাই মৃত্যুকে কাছে ডেকে আনছেন..! ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদেরকে রেডিওথেরাপি দিয়ে কোনো লাভ হয় না। শুধু শুধু টাকা নষ্ট আর বাড়ায় রোগীর কষ্ট! ডক্টর জুলিয়ান হুইটেকার এম.ডি যথার্থই বলেন : ‘আমি এমন থেরাপিতে আগ্রহী নই- যা ইমিউন সিস্টেমকে পঙ্গু করে দেয় এবং বেশিরভাগ ক্যান্সার রোগীর ক্ষেত্রে কার্যত ব্যর্থতা সুনিশ্চিত করে।’ আর দুইবারের নোবেল পুরস্কার বিজয়ী লিনাস পাউলিং বলেছেন : ‘সবার জানা থাকা উচিত যে, ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মূলত একটি সুস্পষ্ট প্রতারণা!’
বিস্তারিত
কেমোথেরাপি/রেডিওথেরাপি/সার্জারি কোনোটাই ক্যান্সারের প্রকৃত চিকিৎসা নয়, এগুলো প্রয়োগ করে কেবলমাত্র ক্যান্সারের লক্ষণকে সাময়িক ধামাচাপা দেওয়া হয়!
বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসার নামে এমন এক ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি চালু রয়েছে- যেখানে মানুষের জীবনের চাইতেও ব্যবসায়িক মুনাফাকে অধিক গুরুত্ব তথা প্রধান্য দেওয়া হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্র্রে এই শিল্পের স্বার্থ মানব-জীবনের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ক্যান্সারের প্রচলিত চিকিৎসা গ্রহণ করেও শেষ পর্যন্ত যারা প্রাণে বেঁচে যান, এমন নয় যে তাঁরা এই চিকিৎসা গ্রহণের কারণেই সুস্থ হয়েছেন, বরং বুঝে নিতে হবে- সৌভাগ্যক্রমে তাঁদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা খুবই শক্তিশালী ও সুদৃঢ় ছিল। নইলে প্রচলিত ক্যান্সার চিকিৎসার নামে রোগীর দেহে যে পরিমাণ অত্যাচার ও নির্যাতন চালানো হয়, অধিকাংশ মানুষের পক্ষে তা সহ্য করে বেঁচে থাকা অসম্ভব!

এমন বাস্তবতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সাধারণ মানুষকে সচেতন ও সতর্ক করা। তথ্যের প্রবাহ এমন নির্বিঘ্ন হওয়া উচিত যেন সবাই নিজের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে যে কোনো সিদ্ধান্ত তথা পদক্ষেপ নিজেরাই নিতে পারেন। কেউ যখন ডাক্তার বা অন্য কারো কাছ থেকে কোনো পরীক্ষা বা চিকিৎসার পরামর্শ পান, সেটা গ্রহণ করা বা না করার অর্থাৎ 'না' বলার অধিকার রোগীদের অবশ্যই থাকা উচিত। শরীর যার, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত তাঁকেই নিতে হবে। কিন্তু চলমান বাস্তবতা রোগীদেরকে সেই সুযোগ/অধিকার দেয় কি? নিজের শরীরে রেডিয়েশন থেরাপি নেওয়ার আগে প্রকৃত সত্যটা জানা-বোঝার সুযোগ পান ক’জনা?
এই গবেষণা-লব্ধ নিবন্ধে আমি রেডিওথেরাপি’র আদ্যোপান্ত তুলে ধরার চেষ্টা করবো। অনুগ্রহ করে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পাঠ করার জন্য সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে প্রচলিত চিকিৎসাপদ্ধতির দালালদের প্রতি উন্মুক্ত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে চাই- পারলে আমার এই লেখনীকে তথ্য ও যুক্তি দিয়ে ভুল প্রমাণ করুন? আর সেটা না পারলে পাপের পথ (রেডিয়েশন দিয়ে মানব-জীবন ধ্বংস) পরিত্যাগ করুন।
রেডিয়েশন থেরাপি বা সংক্ষেপে রেডিওথেরাপি এমন এক উদ্ভট (!) চিকিৎসাপদ্ধতি- যেখানে টিউমারের উপর আয়োনাইজিং এক্স-রে এবং গামা রশ্মি প্রয়োগ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলোকে মেরে ফেলার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালানো হয়। রেডিয়েশন দিয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষে আঘাত হানলে সেগুলোর আকৃতিগত ও সংখ্যা বৃদ্ধি সাময়িক ঠেকানো গেলেও এই ক্ষতিকর রশ্মি তার চলার পথে বিদ্যমান প্রত্যেকটি কোষকে (ভালো-মন্দ নির্বিশেষে) ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং এমন নেতিবাচক শারীরিক প্রতিক্রিয়ার ধারা সূচনা করে- যা বহুকাল (এমনকি উত্তরাধিকার সূত্রে পরবর্তী প্রজন্ম পর্যন্ত) স্থায়ী হতে পারে!
বর্তমানে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের ৬০% তাঁদের চিকিৎসার অংশ হিসেবে আগে/পরে রেডিওথেরাপি গ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁদের একজনও আয়োনাইজিং রেডিয়েশন-এর সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি সম্পর্কে ন্যূনতম সচেতন বা অবগত নন। আমরা জানি- জার্মান পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক উইলহেলম রন্টগেন ১৮৯৫ সালে প্রথম এক্স-রে আবিষ্কার করেন। এই আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯০১ সালে নোবেল পুরস্কার পান; কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী দু'জনেই এক্স-রে'র সংস্পর্শে আসার কারণে সৃষ্ট ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করেছিলেন! ব্যাপারটা কতখানি মর্মান্তিক- ভেবে দেখেছেন কি?
সূত্র : NOBEL LECTURES, PHYSICS 1901-1921, ELSEVIER PUBLISHING COMPANY, AMSTERDAM, 1967. AVAILABLE: HTTP://WWW.NOBLEPRIZE.ORG/NOBLE_PRIZES/PHYSI CS/LAUREATS/1901/RONTGEN-BIO.HTML. (December 1, 2016)এক্স-রে উৎপাদন করতে পারে- এমন একটি যন্ত্রের আবিষ্কার হওয়া মাত্র কোষ ধ্বংস করার জন্য ছ্যাঁকা দেওয়া বা এসিড দিয়ে পোড়ানোর চাইতেও চিত্তাকর্ষক উপায় চলে আসে চিকিৎসকদের হাতে। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের উপরে আয়োনাইজিং রেডিয়েশন-এর যথেচ্ছ ব্যবহার শুরু হলে এর তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় পোড়া, ত্বকের রোগ এবং অযাচিত টিউমার গঠনের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটতে থাকে গণহারে, কিন্তু চিকিৎসক-সমাজ এই সতর্কবার্তাগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিতে ব্যর্থ হন বা ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যান। ফলস্বরূপ ১৯২২ সালের মধ্যে ১০০ জনেরও বেশি রেডিওলজিস্ট ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এক্স-রে'র কারণে সৃষ্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তারপরেও কেউ সতর্ক হয়নি বা বন্ধ হয়নি রেডিওথেরাপি'র যথেচ্ছ অপব্যবহার।
১৯৮৬ সালে চেরনোবিল পারমাণবিক দুর্ঘটনায় বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয় পদার্থ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে তা ইউরোপের বড় অংশ জুড়ে বৃষ্টি ও ধুলার মাধ্যমে ভূমিতে নেমে আসে। এই তেজস্ক্রিয় পদার্থের সংস্পর্শে আসা কারো ক্যান্সার নিরাময় হয়েছে- এমন প্রমাণ নাই, বরং ১০০০টিরও বেশি প্রকাশিত গবেষণা এবং ৫০০০টিরও বেশি অনলাইন ও মুদ্রিত প্রকাশনা (যা কিনা এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার বিষয়ক সবচেয়ে বড় ও বিস্তৃত গবেষণা) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৯৮৬ সাল থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে চেরনোবিল দুর্ঘটনায় নির্গত তেজস্ক্রিয়তার কারণে কমপক্ষে নয় লক্ষ ৮৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে- যাদের অধিকাংশ ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন।
সূত্র : YABLOKOV AV, NESTERENKO VB, NESTERENKO AV ET AL. CHERNOBYL, CONSEQUENCES OF THE CATASTROPHE FOR PEOPLE AND THE ENVIRONMENT. JOHN WILEY & SONS; 2010
অথচ এ ধরনের তেজস্ক্রিয় পদার্থই রেডিওথেরাপিতে ব্যবহার/প্রয়োগ করা হয়। তার মানে রেডিওথেরাপি দিয়ে ক্যান্সার নির্মূল হোক বা না হোক, উল্টো ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়! অথচ এ বিষয়ে কেউ কোনো উচ্চবাচ্য করেন না বা বিশ্ব-বিবেকের সামনে প্রশ্ন উত্থাপন করেন না?
বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের এমিরেটস অধ্যাপক ওয়েড অ্যালিসন ২০১২ সালে নিউক্লিয়ার টেকনোলজি বিষয়ক একটি প্রতিবেদনে প্রসঙ্গক্রমে রেডিওথেরাপি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। তিনি সেখানে উল্লেখ করেন- এক মাসের চিকিৎসা চলাকালে টিউমার অংশে প্রায় ৪০ হাজার মিলিসিভার্ট (mSv) এবং আশেপাশের সুস্থ কোষগুলোতে ২০ হাজার মিলিসিভার্ট (mSv) বিকিরণ পৌঁছায়- যেটা কিনা চেরনোবিল দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কিছু কর্মীর শরীরে পাওয়া প্রাণঘাতী বিকিরণ মাত্রার প্রায় পাঁচগুণ। তাঁর মতে, রেডিওথেরাপির ডোজ যদি সময়ের ব্যবধানে ভাগ ভাগ করে না দিয়ে একবারে দেওয়া হতো, তাহলে সেই মাত্রার বিকিরণে রোগীরা তাৎক্ষণিক মারা যেতেন!
বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের এমিরেটস অধ্যাপক ওয়েড অ্যালিসন ২০১২ সালে নিউক্লিয়ার টেকনোলজি বিষয়ক একটি প্রতিবেদনে প্রসঙ্গক্রমে রেডিওথেরাপি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। তিনি সেখানে উল্লেখ করেন- এক মাসের চিকিৎসা চলাকালে টিউমার অংশে প্রায় ৪০ হাজার মিলিসিভার্ট (mSv) এবং আশেপাশের সুস্থ কোষগুলোতে ২০ হাজার মিলিসিভার্ট (mSv) বিকিরণ পৌঁছায়- যেটা কিনা চেরনোবিল দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কিছু কর্মীর শরীরে পাওয়া প্রাণঘাতী বিকিরণ মাত্রার প্রায় পাঁচগুণ। তাঁর মতে, রেডিওথেরাপির ডোজ যদি সময়ের ব্যবধানে ভাগ ভাগ করে না দিয়ে একবারে দেওয়া হতো, তাহলে সেই মাত্রার বিকিরণে রোগীরা তাৎক্ষণিক মারা যেতেন!
সূত্র : ALLISON,W. (2009). PUBLIC TRUST IN NUCLEAR ENERGY. [ONLINE]. AVAILABLE: HTTP://DOCPLAYER.NET/21237548-PUBLIC-TRUST-IN-NUCLEAR-ENERGY.HTML (December 1, 2016)রেডিওথেরাপি চালু হওয়ার পর থেকে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত মহিলাদের জন্য ক্যান্সার চিকিৎসার মানদন্ড নির্ধারণ করা হয় প্রথমে সার্জারির মাধ্যমে স্তন অপসারণ (রেডিক্যাল ম্যাস্টেকটমি), তারপর রেডিওথেরাপি। তবে চিকিৎসার নামে এই পদ্ধতিটি যখন চালু করা হয়, তখন পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত/প্রতিষ্ঠিত হয়নি যে, এটি রোগীদের জন্য আদৌ উপকারী কোনো পদ্ধতি কিনা? বরং ১৯৬০ সাল পর্যন্ত এর বিরোধিতা করে প্রচুর গবেষণাপত্র লেখা হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসা মাফিয়ারা অত্যন্ত সুকৌশলে পরিকল্পিতভাবে সেগুলোকে Limelight-এ আসতে দেয়নি!

১৯৭০ সালে 'অ্যানালস অব সার্জারি'-তে প্রকাশিত গবেষণাতেও দেখা গেছে, রেডিওথেরাপি সকল রোগীর বেঁচে থাকার হার কমিয়ে দিচ্ছে- সার্জারি করার তিন, চার ও পাঁচ বছর পর রোগীদের বেঁচে থাকার যে হার নির্ধারণ করা হয়েছিল, রেডিয়েশন নেওয়া রোগীদের বেঁচে থাকার হার প্রতিবারই ক্রমশ কমছিল। বেঁচে থাকার হার কমে যাওয়াটা পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হলেও সেদিকে সুনজর দেওয়া হয়নি সম্ভবত চিকিৎসা মাফিয়াদের ইশারাতেই?
চিকিৎসাবিদ্যার সুপরিচিত জার্নাল 'দ্য লান্সেট'-এ প্রকাশিত আরেকটি গবেষণা প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা এই মর্মে সিদ্ধান্ত পৌঁছান যে, প্রাথমিক স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুর হার বৃদ্ধির সঙ্গে স্থানীয় পোস্ট-অপারেটিভ রেডিয়েশনের রুটিন ব্যবহারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে!
এ পর্যন্ত প্রকাশিত নিয়ন্ত্রিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলোর মধ্যে ৩৪০০ রোগীর উপরে পরিচালিত ছয়টি ট্রায়ালেই দেখা গেছে- শুধুমাত্র ম্যাস্টেকটমি (সার্জারি) দ্বারা চিকিৎসা করা রোগীদের তুলনায় রেডিয়েশন নেওয়া রোগীদের বেঁচে থাকার হার ১% থেকে ১০% পর্যন্ত কমে গেছে। এছাড়াও 'দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন'-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা রিপোর্টে বলা হয় : সার্জারির সঙ্গে রেডিওথেরাপি যোগ করায় পরবর্তী ১০ বছর বেঁচে থাকার হারে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য দেখা যায়নি! তার মানে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত সকল গবেষণা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এটাই প্রতীয়মান তথা প্রমাণিত হয় যে, সর্বোত্তম ক্ষেত্রেও রেডিওথেরাপি স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের বেঁচে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারেনি, বরং এটি রোগীদের মৃত্যুকে ক্ষেত্রবিশেষে ত্বরান্বিত করেছে! এমনকি ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে অস্ত্রোপচারের পরে রেডিওথেরাপি দেওয়া হলে একই (উপরোক্ত) ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।
১৯৯৮ সালে 'দ্য ল্যান্সেট'-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, সার্জারির পরে রেডিওথেরাপি নেওয়া রোগীদের মৃত্যু ঝুঁকি ২৭% বেড়ে গিয়েছিল। গবেষকেরা শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, পোস্ট-অপারেটিভ রেডিওথেরাপি প্রাথমিক পর্যায়ের সম্পূর্ণ কেটে ফেলা নন-স্মল-সেল লাং ক্যান্সার (NSCLC) রোগীদের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি নিয়মিত ব্যবহার করা অনুচিত।
আমেরিকার বিজ্ঞানীরা ২০০৫ সালে নন-স্মল-সেল লাং ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে সার্জারির পরে রেডিওথেরাপির কার্যকারিতা নিয়ে একটি বিস্তৃত গবেষণা পরিচালনা করেন। 'লাং ক্যান্সার' জার্নালে প্রকাশিত ওই পর্যালোচনায় তাঁরা দেখেছেন- পোস্ট-অপারেটিভ রেডিওথেরাপি (PORT) এতোটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, মৃত্যুর সম্ভাবনা আপেক্ষিকভাবে ১৮% বেড়ে যায়। তারচেয়েও আশঙ্কাজনক খবর হলো, ক্যান্সারে মৃত্যুর পরিসংখ্যান প্রকাশের সময় ইচ্ছাকৃতভাবেই কারসাজি করা হয় যেন ক্যান্সার চিকিৎসার নামে যা কিছু চলছে- সেটাকে অপেক্ষাকৃত ভালো কিছু বলে মনে করা হয় (চালিয়ে দেওয়া যায়)!
রেডিওথেরাপি মানবদেহের মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, কলিজা, যকৃৎ, থাইরয়েড, ইমিউন সিস্টেমসহ শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও সিস্টেমগুলোর মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে এবং নিরাময় প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এর তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো শেষ পর্যন্ত রোগীদেরকেই মেরে ফেলে- যার অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে, কিন্তু চিকিৎসা প্রচেষ্টার দোহাই দিয়ে এসব হত্যাকাণ্ডের (!) বিচার দূরে থাক, আদালতে উত্থাপন পর্যন্ত করা হয় না!
১৯৯৩ সালে আমেরিকার টেক্সাস রাজ্যের হিউস্টনের অ্যান্ডারসন ক্যান্সার সেন্টারের গবেষকগণ চার লক্ষ ৭০ হাজার ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর কারণ পরীক্ষা করে এ সংক্রান্ত সরকারি পরিসংখ্যানের গ্রহণযোগ্যতা তথা বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। 'জার্নাল অব দ্য ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট'-এ প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যান্সার ছাড়া অন্য কারণে মৃত্যু বলে প্রতিবেদন দাখিল করা রোগীদের ২৭% রোগ নির্ণয়ের এক বছরের মধ্যে মারা গিয়েছিলেন। ধারণা করা হয়- এই অতিরিক্ত মৃত্যুর নেপথ্য কারণ ছিল ক্যান্সারের বিতর্কিত চিকিৎসা গ্রহণ করা। স্পষ্ট জেনে রাখুন- ক্যান্সার চিকিৎসা সম্পর্কে আমাদেরকে যা কিছু বোঝানো হয়, বাস্তবে এগুলো তার চেয়ে অনেক কম কার্যকর। অন্যদিকে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে যে মৃত্যুর পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়, বাস্তবে অঘটন ঘটে তার চাইতে অ-নে-ক বেশি!
একজন রোগী যদি কেমোথেরাপি গ্রহণ করার এক সপ্তাহ, এক মাস বা কয়েক বছর পরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, সেটাকে ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যর্থতা না বলে heart failure হিসেবেই গণ্য করা হয়; সাধারণ মানুষ কখনোই জানতে পারেন না যে, এর নেপথ্যেও রেডিওথেরাপির ব্যর্থতার দায়ভার লুকিয়ে আছে!
রেডিয়েশন থেরাপি দিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করা করা অল্প বয়েসী রোগীরা সেকেন্ডারি ক্যান্সার হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন আজীবন। অথচ রেডিওথেরাপি দেওয়ার আগে চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট কেউ এই চরম সত্যটা রোগীদের সামনে প্রকাশ করেন না (সচেতনভাবে গোপন রাখেন) যে, রেডিয়েশন-এর ক্ষতি জীবনের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে!
মূলধারার তত্ত্ব বলে- রেডিয়েশন সরাসরি DNA ক্ষতি করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে মেরে ফেলে। তবে ১৯৯২ সালে হার্ভার্ডের গবেষকেরা এমন কিছু খুঁজে পান বা আবিষ্কার করেন- যেটা প্রচলিত ধারণাটিকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে! তাঁদের মতে, ক্যান্সার আক্রান্ত একটি কোষে যখন রেডিয়েশন দেওয়া হয়, তখন আহত কোষটি থেকে এমন কিছু নির্গত হয়- যা একই ক্ষতি অ-রেডিয়েটেড কোষগুলোতেও স্থানান্তরিত হয়; এটাকে 'বাইস্ট্যান্ডার এফেক্ট' বলা হয়।
২.
অতি সম্প্রতি ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একদল ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী ও তাঁদের আত্মীয়-স্বজনকে মিছিল করতে দেখা যায়। তাঁদের দাবি ছিল- হাসপাতালে রেডিওথেরাপির মেশিনের সংখ্যা বাড়াতে হবে যেন রোগীরা আরো দ্রুতগতিতে অধিক সংখ্যক রেডিয়েশন থেরাপি নিতে পারেন! কিন্তু ওই সকল অসচেতন ও বোকা মানুষগুলো কি জানেন- যে কোনো প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যন্ত্রের ত্রুটি বা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে?
রেডিওথেরাপি প্রয়োগ/গ্রহণের সময় এখন পর্যন্ত এমন কিছু ভুল হয়েছে, যার পরিণতি ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর। ক্যান্সার আক্রান্ত স্কট জেরোম পার্কস অতিরিক্ত মাত্রায় রেডিয়েশন পেয়ে গুরুতরভাবে দগ্ধ হন, শ্রবণশক্তি হারান, দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মুখে ঘা হয়, দাঁত পড়ে যায়, এমনকি তিনি শ্বাস নিতে ও খাবার গিলতেও অক্ষম হয়ে পড়েন এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন। আরেকজন ভুক্তভোগী ছিলেন ৩২ বছর বয়েসী স্তন ক্যান্সারের রোগী আলেকজান্দ্রা জে. চার্লস- যিনি ২৭ দিন ধরে অতিরিক্ত রেডিয়েশন পান (এর মধ্যে ভুলটা কারো চোখেই পড়ে নাই)। এর ফলে তাঁর বুকে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং তিনি এতোটা তীব্র ব্যথা অনুভব করতেন যে, কষ্ট থেকে বাঁচতে আত্মহননের পরিকল্পনা পর্যন্ত চূড়ান্ত করে ফেলেছিলেন..!
রেডিওথেরাপি নিয়ে এতোসব ভয়ঙ্কর তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরার পরেও যারা নিতান্ত বাণিজ্যিক স্বার্থে এর পক্ষে সাফাই গাইতে চান, তাঁদের অবগতির জন্য আরো কিছু প্রমাণিত সত্য উপস্থাপন করছি :-
- রেডিওথেরাপি মেরুদন্ডের ক্ষতি করে, হাড়ভাঙ্গার কারণ হয়, হাড়ের সংযোগে ক্ষয় ঘটায়।
- রেডিওথেরাপি বুদ্ধিমত্তা ও স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দেয় এবং মনোযোগকে দুর্বল করে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়।
- রেডিওথেরাপি দৃষ্টিশক্তি হ্রাস করে, এমনকি অন্ধত্বের কারণ হতে পারে।
- রেডিওথেরাপি সম্পূর্ণ চুল পড়ার (অ্যালোপেসিয়া) কারণ হয়। ক্ষত নিরাময়কে ধীর করে দেয়।
- রেডিওথেরাপি ৪৫.৭১% রোগীর ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক বধিরতা ঘটায়। সময় অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটতে থাকে।
- রেডিওথেরাপি হৃৎপিন্ডের মাইক্রো-ভাসকুলার ক্ষতি করে, হৃৎপিন্ডের চারপাশের রক্তনালীকে দুর্বল করে দেয়, ধমনীকে সংকীর্ণ করে।
- রেডিওথেরাপি ইমিউন সিস্টেমকে দমন করে, এন্টি-টিউমার ইমিউনিটিকে বাধাগ্রস্ত করে, সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দেয়। ছোটবেলায় রেডিওথেরাপি নিলে বড়বেলাতেও সেই দুর্বলতা কাটে না।
- রেডিওথেরাপি প্রদাহ সৃষ্টি করে, কলিজা ও যকৃৎ বিকলের কারণ হতে পারে।
- রেডিওথেরাপি মানসিক ব্যাধি, উদ্বেগ, বিষন্নতা বাড়িয়ে দেয়।
- রেডিওথেরাপি দন্তক্ষয়ের উপলক্ষ হয়, চোয়ালের হাড়ের মৃত্যু ঘটায়, লালাগ্রন্থির কার্যকারিতা নষ্ট করে, মুখ খোলার সীমাবদ্ধতা (ট্রিসমাস) এবং গিলতে অসুবিধার (ডিসফ্যাজিয়া) কারণ হতে পারে।
- রেডিওথেরাপি ৯০% রোগীর ক্লান্তির উপলক্ষ। বমি বমি ভাব ও মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
- রেডিওথেরাপি ৪৮% রোগীর মধ্যে অপ্রত্যাশিত স্বাদ এবং গন্ধের পরিবর্তন ঘটায়। ৬৪% রোগীকে তাঁদের প্রধান খাদ্যগ্রহণের মাধ্যমে হিসেবে নলের ওপরে নির্ভর করতে বাধ্য করে। সার্বিক জীবন-মানকে যথেষ্ট দুর্বল করে দেয়!
- রেডিওথেরাপি প্রজনন ও জেনেটিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এমনকি বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে। ৭৮% মহিলা রোগীর ক্ষেত্রে যৌন আকাঙ্ক্ষাহীনতা আর ৯৩.৯% পুরুষের ক্ষেত্রে ইরেক্টাইল ডিজফাংশনের কারণ হয়।
- রেডিওথেরাপি ত্বক ও সংযোগকারী টিস্যুর পুরুত্ব এবং দাগ সৃষ্টি করে। আলসারসহ ডার্মাটাইটিস-এর কারণ হয়।
- রেডিওথেরাপি নেওয়া প্রায় অর্ধেক রোগী বাকি জীবনে আর কখনোই ঠিকমতো ঘুমাইতে পারেন না।
- রেডিওথেরাপি কন্ঠ ও কথার অবক্ষয় ঘটায়। ৫৩% রোগীর ক্ষেত্রে হাইপো-থাইরয়েডিজমের কারণ হতে পারে।
- রেডিওথেরাপি অনিচ্ছাকৃত প্রস্রাবের কারণ এবং দীর্ঘমেয়াদী অসংযম ও অন্ত্রের কার্যকারিতাই বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটায়।
- রেডিওথেরাপি একাধারে ফ্রি রেডিকেল বাড়ায়, কর্টিসোল বাড়ায়, এড্রেনালিন বাড়ায়, ইস্ট্রোজেন বাড়ায়, প্রোল্যাক্টিন বাড়ায়, নাইট্রিক অক্সাইড বাড়ায়, ভাস্কুলার এন্ডোথেলিয়াল গ্রোথ ফ্যাক্টর বাড়ায়, এপিডার্মাল গ্রোথ ফ্যাক্টর বাড়ায়, টিউমার নেক্রোসিস ফ্যাক্টর আলফা বাড়ায়, ইন্টারলিউকিন-১/৪/৬/৮ বাড়ায়, নিউক্লিয়ার ফ্যাক্টর কাপ্পা বি বাড়ায়, পোস্টাগ্ল্যান্ডিন বাড়ায়, ল্যাকটিক এসিড বাড়ায়, স্টেমসেল উৎপাদন বাড়ায়, হিস্টামিন বাড়ায়, সেরোটোনিন বাড়ায়, হাই মোবিলিটি গ্রুপ বাক্স ১ প্রোটিন বাড়ায়।
আমি আসলেই বুঝতে পারি না- প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রিধারী মেধাবী চিকিৎসকেরা কিভাবে স্পষ্ট প্রমাণ উপেক্ষা করতে পারেন যে, রেডিওথেরাপি ভালোর চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতির কারণ? অন্যদিকে পৃথিবীর সব অর্থ সম্পদ ঢেলে দিলেও রেডিওথেরাপি দিয়ে (সাময়িক লক্ষণ ধামাচাপা দেওয়া ব্যতীত) কাউকে পরিপূর্ণ সুস্থ করে তোলা যায় না- এই চরম সত্যটা কবে বুঝবে সাধারণ মানুষ?
সত্যি বলতে কি, ক্যান্সার কাউকে কবরের কাছাকাছি পৌঁছিয়ে দেয় না, বরং আক্রান্ত রোগীরা স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে রেডিওথেরাপি নিয়ে নিজেরাই মৃত্যুকে কাছে ডেকে আনছেন..! ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদেরকে রেডিওথেরাপি দিয়ে কোনো লাভ হয় না। শুধু শুধু টাকা নষ্ট আর বাড়ায় রোগীর কষ্ট! ডক্টর জুলিয়ান হুইটেকার এম.ডি যথার্থই বলেন : ‘আমি এমন থেরাপিতে আগ্রহী নই- যা ইমিউন সিস্টেমকে পঙ্গু করে দেয় এবং বেশিরভাগ ক্যান্সার রোগীর ক্ষেত্রে কার্যত ব্যর্থতা সুনিশ্চিত করে।’ আর দুইবারের নোবেল পুরস্কার বিজয়ী লিনাস পাউলিং বলেছেন : ‘সবার জানা থাকা উচিত যে, ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মূলত একটি সুস্পষ্ট প্রতারণা!’
..........লিখেছেনঃ রাজীব আহম্মেদ








