রোগ-ব্যাধি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রোগ-ব্যাধি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

হাই প্রেশার বা উচ্চ রক্তচাপের হোমিওপ্যাথিক প্রতিকার

হাই প্রেশার বা হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা খুবই কার্যকর এবং পার্শপ্রিতিক্রিয়াবিহীন। যেখানে এলোপ্যাথিক পার্শপ্রিতিক্রিয়াযুক্ত ঔষধ সারা জীবন ধরে খেয়ে যেতে হয় সেখানে প্রাথমিক অবস্থায় প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা দিলে বহু রোগীরাই ঠিক হয়ে উঠছেন। তবে জটিল ক্ষেত্রে একটি মাত্র হোমিওপ্যাথিক ঔষধ দিন একবার করে নিয়মিত খেয়ে গেলেও ভালো থাকছেন সবাই। হোমিওপ্যাথিতে এই সমস্যার যেমন ভালো ও কার্যকর ঔষধ রয়েছে তেমনি অনেক অভিজ্ঞ চিকিৎসকও রয়েছে।

উচ্চ রক্তচাপ কী

এবার আসুন হাইপারটেনশন সম্পর্কে কিছুটা জেনে নেই। হৃৎপিণ্ডের ধমনীতে রক্ত প্রবাহের চাপ অনেক বেশি থাকলে সেটিকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার বলা হয়ে থাকে। দু'টি মানের মাধ্যমে এই রক্তচাপ রেকর্ড করা হয় - যেটার সংখ্যা বেশি সেটাকে বলা হয় সিস্টোলিক প্রেশার, আর যেটার সংখ্যা কম সেটা ডায়াস্টলিক প্রেশার।

প্রতিটি হৃৎস্পন্দন অর্থাৎ হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও সম্প্রসারণের সময় একবার সিস্টোলিক প্রেশার এবং একবার ডায়াস্টলিক প্রেশার হয়।
  • একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের রক্তচাপ থাকে সিস্টোলিক ১২০ এবং ডায়াস্টোলিক ৮০ মিলিমিটার মার্কারি।
  • কারও ব্লাড প্রেশার রিডিং যদি সিস্টোলিক ১৪০ এবং ডায়াস্টোলিক ৯০ বা এর চেয়েও বেশি হয়, তখন বুঝতে হবে তার উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে।
  • অন্যদিকে রক্তচাপ যদি সিস্টোলিক ৯০ এবং ডায়াস্টোলিক ৬০ বা এর আশেপাশে থাকে, তাহলে তাকে লো ব্লাড প্রেশার হিসেবে ধরা হয়।
  • যদিও বয়স নির্বিশেষে রক্তচাপ খানিকটা বেশি বা কম হতে পারে।
হাই প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপের হোমিওপ্যাথিক প্রতিকার

উচ্চ রক্তচাপের কারণ

উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার পেছনে যে কারণগুলিকে সাধারণত দায়ী করা হয়ে থাকে সেগুলি হলঃ 
  • বেশি লবণ গ্রহণ
  • অতিরিক্ত মেদ বা মাত্রাতিরিক্ত ওজন
  • কাজের চাপ বা স্ট্রেস
  • ধূমপান ও মদ্যপান করা 
  • অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ
  • অতিরিক্ত চা-কফি, কোমল পানীয় পান করা 
  • পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম না করা
  • নিদ্রাহীনতা
  • বয়স ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে হওয়া
  • নিকট আত্মীয়দের হাই ব্লাড প্রেশার থাকা
উচ্চরক্তচাপ সর্বাপেক্ষা সাধারণ জটিল উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অসুস্থতার একটি। এখন পর্যন্ত ৫০ টির অধিক জিনকে চিহ্নিত করা হয়েছে উচ্চ রক্তচাপের গবেষণার জন্য এবং এই সংখ্যা দিনে দিনে বেড়ে চলেছে

এক সময় ধরে নেয়া হত কেবল বয়স্ক মানুষ অর্থাৎ ৪০ বছরের বেশি হলেই কারো উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু এখন চিকিৎসকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অল্পবয়সীদের মধ্যেও এ রোগ দেখা যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় শঙ্কার ব্যাপার হচ্ছে, বেশিরভাগ মানুষ নিজেরাই জানেন না যে তারা  উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনে ভুগছেন।

তবে যাদের অল্প বয়সে উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত হয়, তাদের রক্তচাপ বেশি থাকার কিছু কারণ দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছেঃ কিডনি সমস্যা, রক্তনালী সরু হয়ে গেছে, হরমোন সমস্যা, থাইরয়েড সমস্যা, পিটুইটারি গ্লান্ডের সমস্যা, মস্তিষ্কে কোন সমস্যা থাকলে, স্টেরয়েড গ্রহণের ধারাবাহিকতা ইত্যাদি। 
অনেকে মনে করেন, কারো অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করার প্রবণতা থাকলে হয়ত সেটিকে হাইপারটেনশন বলে। কেউ মনে করেন কারো উচ্চ রক্তচাপ থাকলে হয়ত উদ্বেগ উৎকণ্ঠার সময় যে বুক ধড়ফড় করে সেটাই হাইপারটেনশন।- এগুলি মূলত ভুল ধারণা 

উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণসমূহ

উচ্চ রক্তচাপের একেবারে সুনির্দিষ্ট কোন লক্ষণ সেভাবে প্রকাশ পায় না। তবে সাধারণ কিছু লক্ষণের মধ্যে রয়েছে:
  • প্রচণ্ড মাথা ব্যথা করা
  • মাথা গরম হয়ে যাওয়া
  • মাথা ঘোরানো
  • ঝাপসা দৃষ্টি বা দাগ দেখা
  • ঘাড় ব্যথা করা
  • বুকে ব্যথা বা চাপ
  • অস্বাভাবিক ক্লান্তি
  • বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
  • মাঝে মাঝে কানে শব্দ হওয়া
  • অল্পতেই রেগে যাওয়া
  • অস্থির হয়ে শরীর কাঁপতে থাকা
  • রাতে ভালো ঘুম না হওয়া
  • নাক দিয়ে রক্ত ​​পড়া
  • অনেক সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলা

উচ্চ রক্তচাপ হলে কী করবেন

জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা দরকার এবং কয়েকটি বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে-
  • নিয়মিত ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রম করা
  • ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করা 
  • খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে দেয়া 
  • ওজন নিয়ন্ত্রণ করা
  • মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা কম করা
  • খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা 

উচ্চ রক্তচাপের হোমিও প্রতিকার

হাই প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের আশার আলো দেখাচ্ছে হোমিওপ্যাথি। এমন কিছু হোমিওপ্যাথিক ঔষধ রয়েছে যেগুলি এই সমস্যায় ম্যাজিকের মতো ফল দিয়ে থাকে। মিডিয়ার কল্যানে আজ মানুষজন এই বিষয়গুলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারছেন এবং হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খেয়ে উপকৃত হচ্ছেন।
বহু চিকিৎসকরা হাই প্রেশার বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ব্যক্তি ভেদে এবং লক্ষণ সাদৃশ্যে কিছু হোমিও ঔষধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন যেগুলি ব্যবহার করে অনেক রোগীদের ব্লাড প্রেশার স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে অনায়াসেই। যেমনঃ Natrum Mur, Glonoinum, Crataegus, Strophanthus, Passiflora, Veratrum Viride, Rauvolfia Serp, Adrinalin, Zincum met ইত্যাদি। 
সাধারণ অবস্থায় কোনো প্রকার জটিলতা ছাড়াই লক্ষণ সাদৃশ্যে এই রকম কিছু ঔষধ গ্রহণ করেও অনেক রোগীরা উপকৃত হচ্ছেন। এই সমস্ত হোমিওপ্যাথিক ঔষধের এলোপ্যাথির মতো কোন সাইড ইফেক্ট নেই। তবে আপনি যদি চিকিৎসক না হয়ে থাকেন তাহলে নিজ নির্বাচনে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। 

অভিজ্ঞ একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ঔষধ গ্রহণ করা জরুরি। কারণ এছাড়াও বহু হোমিওপ্যাথিক ঔষধ রয়েছে যা কেইস টেকিং করে প্রয়োগ করলে বেশ ভালো ফল পাওয়া যায়। আসুন রেপার্টরীতে হাই প্রেশার চিকিৎসার জন্য নির্বাচিত কিছু ঔষধ দেখে আসি....
উচ্চ রক্তচাপের হোমিও ঔষধ
ইতিপূর্বে আমি বলেছি উচ্চ রক্তচাপ এর এলোপ্যাথিতে যে চিকিৎসা রয়েছে সেখানে সারাজীবন ধরেই ওষুধ খেয়ে যেতে হয়। যেগুলি বিভিন্ন পার্শপ্রিতিক্রিয়া তৈরী করে। কিন্তু আপনি হয়তো জেনে থাকবেন, যখনই কারো উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা তৈরি হয় তার পিছনে কোন না কোন কারণ বিদ্যমান থাকে। সঠিক কারণটির নির্ণয় করে প্রথম অবস্থায় যদি এই ধরনের রোগীদের প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসা যায় তাহলে তখনই তারা সুস্থ হয়ে ওঠেন। 

কিন্তু দেখা যায়, যারা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিতে আসেন তারা মূলত দীর্ঘদিন যাবত এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নিতে নিতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং দীর্ঘদিন যাবৎ এলোপ্যাথিক ওষুধ খাওয়ার কারণে তাদের শরীরে বিভিন্ন রোগ জটিলতা জেগে উঠে। এক্ষেত্রেও হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রয়োগ করা হলে জটিল রোগীরাও ভালো থাকছেন। সুতরাং আমরা বলতে পারি, উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের জন্য হোমিওপ্যাথি স্রষ্টার একটি আশীর্বাদ ছাড়া আর কিছুই নয়।
বিস্তারিত

শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৩

গোসলের পর শরীরে উদ্ভেদবিহীন চুলকানি! বিরল প্রজাতির রক্তের রোগ

গোসলের পর অথবা আদ্র বা ভেজা আবহাওয়ায় অথবা বর্ষায় শরীরে উদ্ভেদবিহীন চুলকানি যা গতানুগতিক কোন চিকিৎসাতেই তেমন ফল দিচ্ছে না এটি মূলতঃ বিরল প্রজাতির ব্লাড ক্যান্সার পলিসাইথেমিয়া ভেরা Polycythemia vera এক প্রকারের ব্লাড ডিসঅর্ডার যেখানে রক্ত কণিকাগুলি বেশি মাত্রায় উৎপন্ন হয় বিশেষ করে লোহিত রক্ত কণিকা। রক্ত কণিকা বৃদ্ধির ফলে রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যায় যা স্ট্রোক, টিস্যু এবং অর্গান বিকল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এর সাথে অসহ্য চুলকানিতো আছেই। তাছাড়া ত্বকের শুষ্কতার জন্যও এই সমস্যা হতে দেখা যায়। 
বিরল প্রজাতির ব্লাড ক্যান্সার পলিসাইথেমিয়া ভেরা Polycythemia vera
অনেকেই আছেন এই রকম অভিযোগ করে থাকেন যাদের গোসল করার পর সারা শরীরে চুলকানি শুরু হয়ে বেশ কিছুক্ষন থাকার পর চুলকানি থেমে যায়। অথচ শরীরে কোন প্রকার রেস বা  উদ্ভেদ দেখা যায় না। একের পর এক এলোপ্যাথিক, হোমিওপ্যাথিক, আয়ুর্বেদিক ডাক্তার দেখিয়েও কোন লাভ হচ্ছে না। বছরের পর বছর চলে যাচ্ছে কিন্তু সমস্যা আদৌ দূর হচ্ছে না। 

পলিসাইথেমিয়া ভেরা Polycythemia vera. এই রোগের নির্দিষ্ট কোন ঔষধ নেই যা খেলেই কেউ ভালো হয়ে যাবে। যারা এরূপ সমস্যায় ভুগছেন তাদের বিশেষ প্রক্রিয়ায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার প্রয়োজন। অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার দেখিয়ে ঠিক ঠাক ভাবে ফ্যামিলির হিস্ট্রি সংগ্রহ করে ধাপে ধাপে চিকিৎসা দিলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আগেই বলেছি এর জন্য কস্টিটিউশনাল ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন। তাই অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ধৈর্য্য ধরে চিকিৎসা নেয়া জরুরি। 

যা যা জেনেছেনঃ 

  • গোসলের পর শরীর চুলকানি দূর করার উপায়
  • গোসলের পর পা চুলকায় কেন
  • চুলকানি দূর করার উপায় জেনে নিন
  • অ্যাকুয়োজেনিক আর্টেকেরিয়া
  • পানি জনিত এলার্জি
  • ত্বকের চুলকানি দূর করার উপায়
বিস্তারিত

শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০

ভেরিকোস ভেইন শিরা স্ফীতি কারণ লক্ষণ কার্যকর চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

ভেরিকোস ভেইন কি, কেন হয়, এর কারণ লক্ষণ এবং হোমিও চিকিৎসা সম্পর্কে আমরা জানবো। এটি আমাদের শিরা বা রক্তনালীর একটি রোগ। শরীরের কোন অংশের শিরা যদি প্রসারিত হয়ে যায় অর্থাৎ দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে বড় হয়ে যায় তাকে ভেরিকোস ভেইন (Varicose Vein) বলা হয়। শিরা হচ্ছে সে সকল রক্তনালী যেগুলি সারা শরীর থেকে দূষিত রক্তকে পরিশোধিত করার জন্য হৃদপিণ্ডে নিয়ে যায়। যখন এই কাজে বাঁধার সৃষ্টি হয় তখন রক্ত স্থির হয়ে থাকে এবং রক্তনালী ফুলে ওঠে। এই স্ফীত শিরাগুলোকেই ভেরিকোস ভেইন বলে। এই সমস্যা শরীরের যেকোন স্থানেই হতে পারে, তবে পা ও উরুতে বেশি দেখা যায়। এছাড়া পুরুষের স্ক্রোটামের ভেতর বা অন্ডথলির মধ্যেও বেশি হতে দেখা যায় যাকে ভেরিকোসিল বলা হয়ে থাকে, এ সম্পর্কে আপনারা ইতিপূর্বে জেনেছেন। আমরা মূলত এই পর্বে ভেরিকোস ভেইন বা শিরা স্ফীতি সম্পর্কেই আলোকপাত করবো।

পায়ের গোড়ালি থেকে হাঁটুর মাঝখানের অংশে (সেফানাস ভেইন) ভেরিকোস ভেইন বেশি হতে দেখা যায়, এ রোগ হলে শিরা বরাবর রোগী ব্যথা অনুভব করেন। চামড়ার ঠিক নিচে মোটা মোটা ভেইনগুলো দেখতেও বেশ কদাকার মনে হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করালে পায়ে আলসার বা ঘা হয়ে যেতে পারে, পায়ের স্নায়ু নষ্ট হয়ে গ্যাঙ্গরিন হতে পারে। অল্প আঘাতেই এসব শিরা থেকে রক্তপাত শুরু হবার সম্ভাবনাও খুব বেশি। প্রতিরক্ষা বাহিনী বা পুলিশ হিসেবে চাকরি করতে চাইলে ভেরিকোস ভেইন একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
ভেরিকোস ভেইন শিরা স্ফীতি কারণ লক্ষণ এবং কার্যকর চিকিৎসা

ভেরিকোস ভেইন শিরা স্ফীতি - কারণ

  • বংশে থাকলে এই অসুখের প্রবণতা বাড়ে
  • সাধারণত ভেইন বা শিরার ভাল্ব নষ্ট হয়ে যাবার কারণে এই রোগটি হয়
  • শিরায় ইনফেকশন হলে
  • গর্ভাবস্থায়, পেটে টিউমার হলে বা পানি জমলে
  • পেশাগত কারণে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কাজ করার কারণেও এ রোগটি হতে দেখা যায়।

ভ্যারিকোস ভেইন - লক্ষণসমূহ

  • পায়ের রক্তনালী ফুলে আঁকাবাঁকা হয়ে যায়।
  • ভেরিকোস ভেইন বা শিরা স্ফীতি হলে শুরুতে খুব একটা ব্যথা বেদনা থাকে না। 
  • শুরুতে পা ভারী ভারী মনে হয়।
  • পায়ের শিরা ঘন নীল বর্ণ ধারণ করে।
  • পায়ের শিরা পাকানো দড়ির মতো হয়ে যায়, যা বাইরে থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়।
  • পায়ের পাতা ফুলতে শুরু করে, জ্বালা ভাব থাকে।
  • পায়ের মাংসেপশীতে টান ধরা বা খিঁচুনি হতে পারে।
  • যে অংশে শিরা ফুলে ওঠে সেখানে চুলকানি হতে পারে।
  • পায়ের ত্বকের রঙ বদলে যায়, ত্বক শুকিয়ে পাতলা হয়ে যায়, ত্বক থেকে আঁশ ওঠে এবং ফুলে যায়।
  • যত দিন যায় সমস্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। টানা দাঁড়িয়ে বা বসে থাকলে পায়ে ব্যথা শুরু হয়।
  • পায়ের ফুলে ওঠা শিরার ব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকে।
  • চিকিৎসার অভাবে সমস্যা বাড়তেই থাকে, পায়ে আলসার বা ঘা হয়ে যায়। 
  • আচমকা ব্লিডিং শুরু হতে পারে।

ভেরিকোস ভেইন শিরা স্ফীতি - চিকিৎসা 

ভেরিকোস ভেইন বা শিরা স্ফীতি সমস্যার কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। কারণ একমাত্র হোমিওপ্যাথিতেই এই সমস্যার জন্য অনেক কার্যকর ঔষধ রয়েছে। তবে সেগুলি প্রয়োগ করলেই সমস্যা সেরে যাবে না। এর জন্য দরকার প্রোপার কেইস টেকিং এবং প্রোপার মেডিসিন এপ্লিকেশন যা করতে পারেন অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসক। এখানে আপনার নিজের যাবতীয় তথ্যের সাথে আপনার পিতা-মাতা, দাদা-দাদী এবং নানা-নানীর হিস্ট্রি নেয়ার প্রয়োজন হতে পারে একটি উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে। তাই এই সমস্যা নির্মূলে অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

ভেরিকোস ভেইন শিরা স্ফীতি - বিধি নিষেধ

খাবার দাবারে বিধি নিষেধ
  • মাংস, চর্বিজাতীয় ও উচ্চ প্রোটিন জাতীয় খাবার বর্জন করুন
  • যাবতীয় প্রাণীজ খাবার পরিহার করুন 
  • তৈলাক্ত খাবার, ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড, জাংফুড বর্জন করুন
  • লবন, মিষ্টি, চিনি এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার বর্জন করুন
  • চা, কফি এবং গরুর দুধ বর্জন করুন
  • শাকসবজি, ফল এবং ফলের জুস থেকে পারেন
জীবন যাপনে বিধি নিষেধ
  • কর্মস্থলে টানা দাঁড়িয়ে থাকবেন না, মাঝে মাঝে বসুন
  • টানা বসেও থাকবেন না মাঝে মাঝে হাঁটাচলা করুন
  • আঁটসাঁট পোশাক পরিহার করুন, ঢিলেঢালা কাপড় পরিধান করুন
  • তীব্র গরম পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ কাজ করা থেকে বিরত থাকুন
  • অধিক ভারী জিনিস উত্তোলন করা থেকে বিরত থাকুন
  • হালকা ব্যায়াম এবং সকাল বিকাল হাঁটা চলা করা
  • ব্যথা তীব্র হলে বিছানায় শুয়ে পা দুটি কিছুক্ষন উপর দিকে দিয়ে রাখুন
বিস্তারিত

বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

নখ কুনি ও নখের ফাঙ্গাস! নখ মোটা পুরু বা ফেটে যাওয়া রোগের কার্যকর চিকিৎসা

নখের ফাঙ্গাস হল অতি সাধারণভাবে দেখতে পাওয়া একটি ছত্রাকের সংক্রমণ যা হাতের নখে বা পায়ের নখে হয়। এটি নখের ডগা বা প্রান্তভাগ থেকে শুরু করে নখের মধ্যবর্তী স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এবং নখের রঙকে ফ্যাকাশে অথবা পরিবর্তিত করে। যদিও নখে ছত্রাক সংক্রমণ কোন গুরুতর বা জটিল পরিস্থিতি নয়, তবে এটি নিরাময় হতে দীর্ঘদিন সময় লাগতে পারে।

আবার কারো কারো নখ কুনির সমস্যাও দেখা দেয়। এর সাধারণ অবস্থা হল পায়ের বড় আঙুলর নখ পাশ নরম মাংসের মধ্যে বৃদ্ধি পাওয়া। ফলে কখনও কখনও ব্যথা, লালচেভাব, ফোলা, সংক্রমণ হয়

নখের ফাঙ্গাস -  লক্ষণ ও উপসর্গগুলি 

এর প্রধান লক্ষণ ও উপসর্গগুলি কি কি নখে ছত্রাকের সংক্রমণ নীচে দেওয়া উপসর্গগুলির মধ্যে যেকোন একটির কারণে হতে পারে:
  • নখের চারপাশে ব্যথা
  • নখের চারপাশের অংশ ফোলা
  • নখের আকারের পরিবর্তন
  • নখ শক্ত হয়ে যাওয়া
  • নখের রঙের ফ্যাকাশেভাব বা পরিবর্তন হয়ে যাওয়া
  • ভাঙ্গা নখ
  • নখের ভিতর ময়লা জমে থাকা
  • নখের প্রান্ত ভাগ ভেঙ্গে ভেঙ্গে যাওয়া
  • নখের চকচকে ও উজ্জ্বলভাব কমে যাওয়া

নখের ফাঙ্গাস - প্রধান কারণগুলি

সাধারণত হাতের নখের সংক্রমণের চেয়ে পায়ের নখের সংক্রমণ বেশি হতে দেখা যায়। নীচে দেওয়া পরিস্থিতিগুলি নখে ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়:
  • নখে অথবা ত্বকে সামান্য আঘাত লাগা।
  • দুর্বল অনাক্রম্যতা
  • নখের বিকৃতি
  • নখের রোগ
  • চাপা জুতো পরিধানের ফলে নখে হাওয়া চলাচল বাধা পায়
  • বহুসময় ধরে ত্বক আর্দ্র বা ভিজে অবস্থায় থাকা

নখের ফাঙ্গাস - রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

  • নখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা
  • নখটিকে চাঁচা হয়, এবং টিস্যুটিকে একটি মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এটি নখে কি ধরনের ছত্রাক সংক্রমণ হয়েছে তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
চিকিৎসা: নখ মোটা পুরু বা ফেটে যাওয়া রোগের কার্যকর চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি। এর জন্য এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন।

নখের ফাঙ্গাস - পরামর্শ 

নখের সংক্রমণ প্রতিহত করার উপায়:
  • সর্বদা আপনার নখ ও তার পার্শ্ববর্তী ত্বককে পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখুন
  • আপনার শরীর বা অন্য কারোর উপর অন্যান্য কোন ছত্রাক সংক্রমণের সংস্পর্শ হলে স্থানটিকে যথাযথভাবে ধুয়ে ফেলুন
  • অন্য ব্যক্তির হাত ও পা পরিষ্কারের সরঞ্জাম ব্যবহার এড়িয়ে চলুন
  • আপনার নখ ও ত্বকের সবচেয়ে ভালো পরিচর্যা করুন
নখের ফাঙ্গাস ঔষধ, হাতের নখের ফাঙ্গাস দূর করার উপায়, নখের ইনফেকশন, নখ মরে যাওয়া, ফাঙ্গাস এর চিকিৎসা, পায়ের নখের সমস্যা সমাধান, পায়ের নখ মরে যাচ্ছে এই সকল সমস্যার উন্নত চিকিৎসা মূলত হোমিওপ্যাথি। 
বিস্তারিত

সোমবার, ৫ আগস্ট, ২০১৯

মাথাব্যথা (Headache) ! মাইগ্রেন টেনশন ক্লাস্টার কারণ লক্ষণ এবং চিকিৎসা

মাথাব্যথা (Headache) খুবই সাধারণত একটি সমস্যা। প্রত্যেক মানুষই জীবনের কোনো না কোনো সময় মাথাব্যথায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। মাথাব্যথার অনেক রকমভেদ আছে যেমন মাইগ্রেন, টেনশন-টাইপ মাথাব্যথা, ক্লাস্টার মাথাব্যথা ইত্যাদি। ঘনঘন মাথাব্যথা প্রাত্যহিক পারিবারিক ও কর্মজীবনকে বিষাদময় করে তুলতে পারে। এছাড়া তীব্র মাথাব্যথা ডিপ্রেশনের ঝুঁকি বাড়ায়।

টেনশন হেডেক 

এই ব্যথা মাথার দুদিকেই হয়, চাপ চাপ ব্যথা অনুভূত হতে পারে এবং মনে হতে পারে যে মাথার চারদিকে একটি ব্যান্ড আটকে আছে। সকালের দিকে মাথাব্যথা কম থাকে এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা বাড়তে থাকে। ব্যথা ৩০ মিনিট থেকে ৭ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। টেনশন হেডেকে বমি বা আলো ভীতি থাকে না।
টেনশন হেডেকের কারণ এখন পর্যন্ত পুরোপুরি জানা যায়নি। কিন্তু্তু বলা হয় যে, মাথা ও ঘাড়ের মাংসপেশির অস্বাভাবিক সংকোচনের ফলে এই ব্যথা হয়। মানসিক চাপ ও অবসাদ রয়েছে টেনশন হেডেকের মূলে। বেশির ভাগ মাথা ব্যাথাই হয় টেনশন বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কারণে। টেনশন হলেই শরীরের অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিগুলো উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে, সেখান থেকে 'অ্যাড্রিনালিন' নামে বিশেষ এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরিত হয়। ফলে দেহকোষ থেকে হিস্টামিন, সেরাটোনিন ও অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসৃত হয়। এতে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত চাপ পড়ে মাথা ব্যথা শুরু হয়। মাথা ব্যথা ছাড়া অতিরিক্ত টেনশন থেকে হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদিও হতে পারে।

মাইগ্রেন হেডেক 

মাথা ব্যথার মধ্যে মাইগ্রেনের ব্যথা অধিকতর তীব্র। ব্রেনের ভেতরে রক্তবাহী নালিগুলো কোনো কারণে সংকুচিত হলে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলের তারতম্যের কারণেই এ ধরনের মাথা ব্যথা হয়। এ জন্য শরীরের পরিপাকপ্রক্রিয়া, মস্তিষ্কের রক্তসঞ্চালনে সমস্যা, এমনকি জেনেটিক্যালিও নানা সমস্যা হতে পারে। এ ধরনের ব্যথা মাথার এক পাশ দিয়ে শুরু হয় এবং আস্তে আস্তে অস্বস্তিকর অবস্থা তৈরি করে। এই ব্যথা শুরু হলে তা কয়েক ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

এই প্রকার মাথাব্যথায় মহিলারাই বেশি আক্রান্ত হন। বয়ঃসন্ধিকাল থেকে মধ্য বয়স পর্যন্ত মহিলাদের হার সবচেয়ে বেশি। তীব্র দপদাপ করে মাথাব্যথা। সাধারণত মাথার একদিকে, সেই সাথে বমি বা বমির ভাব এবং আলো ভীতি-এই হচ্ছে মাইগ্রেনের লক্ষণ। তাছাড়া চোখের সামনে রঙিন আলোকছটা দেখা, দৃষ্টি শক্তির সমস্যা, কথা বলতে বা খেতে অসুবিধা, শরীরে একপাশে দুর্বলতা বা অনুভূতিহীন ইত্যাদি উপসর্গ থাকতে পারে।

ক্লাস্টার হেডেক 

এই প্রকার মাথাব্যথাকে মাইগ্রেন মাথাব্যথার অন্তর্ভুক্ত বলা হয় অনেক সময়। ক্লাস্টার হেডেক বা গুচ্ছ মাথাব্যথায় সাধারণত ধমপায়ী পুরুষেরা আক্রান্ত হন। প্রতিদিন একই সময় বিশেষ করে সকালের দিকে ৩০ থেকে ৯০ মিনিট তীব্র মাথাব্যথা হয়। এভাবে কয়েকদিন, সপ্তাহ বা মাস এই ব্যথা হয় এবং তারপরে কয়েক মাস আবার কোনো ব্যথা থাকে না। ক্লাস্টার হেডেকের সাথে এক চোখ ব্যথা, কনজাংটিভার ইনফেকশন, এক চোখ দিয়ে পানি ঝরা এবং নাক বন্ধ হয়ে যায়
ক্লাস্টার মাথা ব্যথা হঠাৎ করেই শুরু হয়, তবে আস্তে আস্তে এর তীব্রতা বাড়ে। ব্যথা এক পাশে শুরু হয়ে অনেক সময় চোখের পেছনের দিকেও প্রবাহিত হয়ে তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় নাক, চোখ বা ব্যথার স্থান লাল বর্ণও ধারণ করতে পারে। তীব্র আলো, ঘ্রাণ বা গন্ধ এবং শব্দে এ ধরনের মাথা ব্যথা বেড়ে যায়।

মাথাব্যথা চিকিৎসা

মাথাব্যথা সেটা যে ধরণের উপসর্গ নিয়েই আসুক না কেন এর উন্নত এবং স্থায়ী চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। তবে এর জন্য এক্সপার্ট একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরি। 
বিস্তারিত

মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০১৯

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ কারণ ও প্রতিকার, Dengue Fever কার্যকর চিকিৎসা

ডেঙ্গু জ্বরে ব্যক্তির সাধারণত উচ্চ জ্বর হয় অর্থাৎ তাপমাত্রা ১০৪-১০৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা তার থেকে বেশি হবে। ডেঙ্গু জ্বরের Dengue Fever যে উপসর্গ বা লক্ষণগুলি দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা,পেশি এবং গাঁটে ব্যথা এবং ত্বকে হামজ্বরের মতো র‍্যাশ। স্বল্প ক্ষেত্রে অসুখটি প্রাণঘাতী ডেঙ্গু হেমোর‍্যাজিক ফিভার-এ পর্যবসিত হয় ,যার ফলে রক্তপাত, রক্ত অনুচক্রিকার কম মাত্রা এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ অথবা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম-এ পর্যবসিত হয়, যেখানে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কম থাকে।

এই Dengue Fever বা ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসার জন্য কার্যকর ঔষধ রয়েছে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শাস্ত্রে তবে এই ক্ষেত্রে অবশ্যই এক্সপার্ট কোন হোমিও ডাক্তারের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরি যিনি আপনার যাবতীয় লক্ষণ সমষ্টি পর্যালোচনা করে ঔষধ প্রয়োগ করবেন। নিজে নিজে ঔষধ গ্রহণ করা থাকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও উপসর্গ

একজন ডেঙ্গু জ্বরে ব্যক্তির সাধারণত উচ্চ জ্বর হয় অর্থাৎ তাপমাত্রা ১০৪-১০৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা তার থেকে বেশি হবে। সাথে নিম্নের লক্ষণগুলোর অন্তত দুটি প্রকাশ পাবে
  • তীব্র মাথা ব্যথা
  • চোখের পিছনের দিকে তীব্র ব্যথা
  • জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা
  • মাংসপেশী অথবা হাড়ে ব্যথা (এজন্য অন্য নাম: হাড় ভাঙ্গা জ্বর)
  • হামের মত র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা যায়
  • নাক, দাঁতের মাড়ি থেকে অল্প রক্তপাত হতে পারে
  • রক্তে শ্বেতকণিকার পরিমাণ করে যাবে
লক্ষণগুলো রোগীর বয়স অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। ছোট বাচ্চা ও প্রথমবার আক্রান্তদের থেকে বয়স্ক, শিশু ও দ্বিতীয়বার আক্রান্তদের মাঝে রোগের তীব্রতা বেশি হয়

ডেঙ্গু জ্বরের পরীক্ষা

ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে কিনা তা বুঝতে যে পরীক্ষা করা হয় তা হলো সিবিসি টেস্ট (CBC Test) । এটা হলো রক্তের প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করতে করা। প্লাটিলেট ( platelets) সাধারণত দেড় লক্ষের নীচে হলে সন্দেহ করা হয় ডেঙ্গুর দিকে যাচ্ছে। আরডেঙ্গু এনএস১এজি (Dengue NS1AG) এই অ্যান্টিজেন থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় ডেঙ্গু হয়েছে কিনা।

যখন পরীক্ষা করবেন 

জ্বর হওয়ার ৪/৫ দিন পর করবেন কারণ এর পূর্বে করলে রিপোর্ট নরমাল আসতে পারে।

কখন হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে?

ডেঙ্গু জ্বর হলেই যে হাসপাতালে ভর্তি হতেই হবে তেমন নয়। প্লাটিলেট কাউন্ট যখন ৩০ হাজারের নিচে নামে তখন আপনি হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেন। এছাড়াও যদি অনেক বমি শুরু হয় আর দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত যায়, কালো পায়খানা হয় এবং রোগী অনেক দূর্বল হয়ে যায়, তখন প্রেশার কমে গেলে দেরী না করে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বরের প্রতিরোধ

এ রোগের কোন টিকা নেই। তাই প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে হয়। এজন্য -
  • জমে থাকা খোলা পাত্রের পানিতে মশকী ডিম পাড়ে। পোষা প্রাণির খাবার পাত্র, পানির পাত্র, ফুল গাছের টব, নারকেলের মালা ইত্যাদিতে পানি জমে থাকতে পারে। সেগুলো পরিষ্কার রাখবেন।
  • দিন ও রাতে আলোতেও এরা কামড়ায়। তাই দিনের বেলাতেও মশারী ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তিকে যাতে মশা কামড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা নিতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা

এই রোগের কোন সুনির্দিষ্ট এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই কারণ এটি হলো ভাইরাস জ্বর। তবে এর ভালো চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। এই রোগের লক্ষণগুলোর উপর চিকিৎসা দেয়া হয়। এর সাথে যা যা করবেন...
  • রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখুন
  • প্রচুর পানি পান করতে দিন
  • ডাবের পানি খেতে দিতে পারেন
  • কমলা খেতে দিতে পারেন রোগীকে 
  • ১ গ্লাস বিশুদ্ধ পানিতে কয়েক ফোটা লেবুর রস মিশিয়ে দিনে কয়েক বার খেতে দিতে পারেন
  • সহজে হজম হয় এমন খাবার এবং শাকসব্জি খেতে দিন
  • স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে কাপড় ভিজিয়ে শরীর বারবার মুছে দিন
  • রোগীকে অ্যাসপিরিন বা এজাতীয় ঔষধ দিবেন না তাতে রক্ত ক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে 
  • ডেঙ্গু জ্বরে ভয়ের কিছু নেই। অভিজ্ঞ কোন হোমিও ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চললে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করা যায়।
বিস্তারিত

শুক্রবার, ৫ জুলাই, ২০১৯

BMI কি? বি এম আই BMI নির্ণয় পদ্ধতি ! অতিরিক্ত ওজন মেদ ভূঁড়ি কমানোর সহজ উপায়

বি এম আই - বডি মাস ইনডেক্স Body Mass Index (BMI) হলো আপনার দেহের ওজন এবং দৈর্ঘ্য বা উচ্চতার বর্গের অনুপাত। উদারহণ হিসেবে নিম্নে খোকনের বিএমআই নির্ণয় করে দেখানো হয়েছে। BMI হলো একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির ওজন ও উচ্চতার ভিত্তিতে স্থুলতা নির্ণয়ের একটি নির্ভরযোগ্য ও সর্বাধিক প্রচলিত সূচক বা পন্থা, যা ব্যক্তির ওজনাধিক্যের ধরণ নির্দেশ করে নানা স্বাস্থ্যগত সমস্যার ঝুঁকি হতে রক্ষা করে। বিএমআই মানের মাধ্যমে জানা যায় যে দেহের ওজন স্বাভাবিক, কম বা বেশী ইত্যাদির মধ্যে কোন পর্যায়ে আছে।  বি এম আই সূত্র হলো -
BMI = দেহের ওজন (কেজি) / দেহের উচ্চতা (মিটার)২
একেক দেশের লোকসংখ্যা ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী BMI এর স্ট্যান্ডার্ড ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। তবে মানব দেহে সুস্থতার জন্য BMI এর আদর্শ মান হলো ১৮.৫ থেকে ২৪.৯ এর মধ্যে।
বিএমআইশ্রেনী
১৮.৫ওজনহীনতা
১৮.৫ – ২৪.৯স্বাভাবিক ওজন 
২৫ – ২৯.৯অতিরিক্ত ওজন 
৩০ – ৩৪.৯ স্থুলতা

উদাহরণঃ খোকনের ওজন ৬৮ কেজি এবং উচ্চতা ১৭০ সে.মি. খোকনের বি এম আই নির্ণয় কর।

খোকন একজন দক্ষ ও অত্যন্ত পরিশ্রমী ফুটবল খেলোয়াড়। তার ওজন ৬৮ কেজি এবং উচ্চতা ১৭০ সেন্টিমিটার। সে রুটি, আলু, বাদাম, ডিমের কুসুম খেতে পছন্দ করে। শাকসবজি, ফলমূল ও মাছ, মাংস খেতে পছন্দ করেনা। 
খোকনের বি এম আই নির্ণয় কর
খোকনের বি এম আই নির্ণয় করে দেখা যাচ্ছে তার বিএমআই এর মান বা ফলাফল ১৮.৫ – ২৪.৯ এর মধ্যে রয়েছে। এর মানে হলো খোকন স্বাভাবিক ওজনের অধিকারী অর্থাৎ সে ওজনহীনতা, অতিরিক্ত ওজন বা স্থুলতায় ভুগছে না। 
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যগত নানা জটিলতার সাথে ওজনাধিক্যের রয়েছে  নিবিড় সম্পর্ক। যাদের ওজন বেশি, অর্থাৎ, যারা ওজনাধিক্য কিংবা স্থুলতায় ভুগছেন তাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, অষ্টিওপোরেসিস সহ নানা অসুখ হবার আশঙ্কা থাকে, যা মহিলাদের ক্ষেত্রে আরও প্রকট আকার ধারণ করে। পক্ষান্তরে, কারও ওজন যদি খুব কম থাকে, তবে সে সবসময় দুর্বল ও ক্লান্তবোধ করে, তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কম থাকে।

এ সকল বিষয়ের প্রেক্ষিতে প্রতিটি মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবন লাভের জন্য একটি কাম্য ওজন বা Standard weight বিবেচনা করা হয়। ব্যক্তি বিশেষের এই কাম্য ওজন পরিমাপের একটি পদ্ধতি হলো Body Mass Index Or BMI নিরূপণ।
মদ্যপান, অতিরিক্ত ঘুম, মানসিক চাপ, স্টেরয়েড এবং অন্য নানা ধরনের ওষুধ গ্রহণের ফলেও ওজন বাড়তে পারে। বাড়তি ওজন কিংবা ভুঁড়ি নিয়ে অনেক সমস্যা। বাড়তি ওজনের জন্য যেকোনো ধরনের হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া রক্তনালিতে চর্বি জমে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। বাড়তি ওজন রক্তচাপেরও কারণ। ডায়াবেটিস টাইপ-২ দেখা দিতে পারে মেদ বৃদ্ধির জন্য। মেদবহুল ব্যক্তির জরায়ু, প্রস্টেট ও কোলন ক্যান্সারের সম্ভাবনা শতকরা ৫ ভাগ বেশি।

ওজন বৃদ্ধির সাথে সাথে হাঁটাচলা করতে সমস্যা হয়। হাঁটুর সন্ধিস্থল, কার্টিলেজ, লিগামেন্ট ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। আর্থ্রাইটিস, গেঁটে বাত এবং গাউট হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। অতিরিক্ত চর্বি থেকে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, অতিরিক্ত কম ওজন বা অতিরিক্ত বেশি ওজন বা স্থূলত >> দুটোই সুস্থতার বিপরীত। নিজের আদর্শ ওজন নির্ণয় করুন, এবং আপনার অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ওজনকে আদর্শ অবস্থানে আনবার জন্য চেষ্টা করুন। কেবল সুন্দর থাকা মানেই ভালো থাকা নয়, সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকাই সত্যিকারের ভালো থাকা।

অতিরিক্ত ওজন মেদ ভূঁড়ি কমানোর সহজ উপায়

সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা। আজ থেকে প্রতিজ্ঞা করুন কোন প্রাণীজ খাবার অর্থাৎ এনিম্যাল ফুড খাবেন না এবং সে অনুযায়ী চলতে থাকুন তাহলেই আপনার ওজন অর্ধেক নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। কোন প্রকার পার্শপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই অতিরিক্ত ওজন স্থূলতা বা মেদ ভূঁড়ি কমানোর জন্য এর সাথে আপনি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাও নিতে পারেন। এই অতিরিক্ত ওজন স্থূলতা বা মেদ ভূঁড়ি সমস্যার পেছনে হরমোনাল কারণসহ বিভিন্ন ধরণের কারণ থাকে যা প্রপার হোমিও চিকিৎসার মাধ্যমে দূর করে ওজন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। তবে এর জন্য আপনাকে অবশ্যই এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিতে হবে। 
বিস্তারিত