শনিবার, ২৮ মে, ২০২২

অর্শ বা পাইলস থেকে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কতটুকু

অনেকেই মনে করেন, পাইলস থেকে ক্যান্সার হয়, বিষয়টি কিন্তু তা নয়। বরং যারা বারবার পাইলসের অপারেশন বা সার্জারি করেন তাদেরই ক্যান্সার হতে দেখা যায়। মলদ্বারের রোগের মধ্যে অর্শ বা পাইলস জটিল প্রকৃতির একটি রোগ। তবে রেক্টাম ক্যান্সারের রোগীদের একই সঙ্গে পাইলস ও ক্যান্সার থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাদের পাইলসের চিকিৎসা দেয়া হলে রোগীর কিছু জটিলতা কমলেও অধিকাংশ কষ্টগুলির সমাধান হয় না। তখন কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা যেমনঃ কোলনস্কপি বা সিগময়ডস্কপি করলে ক্যান্সার ধরা পড়ে।

বহু বছর যাবৎ পাইলসে ভুগছেন কিন্তু সঠিক হোমিও চিকিৎসা নিচ্ছেন না, এমন ক্ষেত্রে রোগটি ধীরে ধীরে জটিল থেকে জটিলতর হতে থাকে এবং বহু বছর ধরে রোগে ভুগতে ভুগতে কিছু ক্ষেত্রে ক্যান্সার হতে পারে। যাদের বয়স ৫০ এর বেশি অর্থাৎ যাদের ভাইটাল ফোর্স বিভিন্ন কারণে খুব দুর্বল হয়ে পড়ে তাদের ক্ষেত্রেই এমনটা হতে দেখা যায়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বার বার পাইলসের অপারেশন বা সার্জারি করার ফলে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি তৈরী হয়। এই বিষয়টিও স্মরণ রাখবেন। 
পাইলস থেকে কি ক্যান্সার হয়তাই পাইলস হলেই যে ক্যান্সার হয়ে যাবে বিষয়টি ঠিক এমন নয়। সঠিক সময়ে অভিজ্ঞ ডাক্তার দেখিয়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিলে অর্শ বা পাইলস এর মতো জটিল প্রকৃতির রোগটি সারতে খুব একটা সময় লাগে না। কিন্তু দেখা যায়, যারা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিতে আসেন তারা মূলতঃ এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নিতে নিতে ব্যর্থ হয়ে রোগের অবস্থা জটিল থেকে জটিলতর করে সব শেষে হোমিও চিকিৎসকের কাছে আসেন। সে অবস্থায় তাকে ঠিক করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। ধৈর্য্য ধরে চিকিৎসা নিলে তাদেরও জটিল উপসর্গগুলি নির্মূল হয়ে যায় এবং সুস্থতা লাভ করেন।

সাধারণতঃ পাইলস হওয়ার পেছনে যে বিষয়গুলি ভূমিকা পালন করে সেগুলির মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিণ্যে ভোগা, পুরনো ডায়রিয়া, মলত্যাগে দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকা ও দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা ইত্যাদি। এছাড়া পারিবারিক ইতিহাস, আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া, ভারি মালপত্র বহন করা, স্থুলতা, কায়িক শ্রম কম করা।

গর্ভকালীন সময়ে, পায়ুপথে যৌনক্রিয়া, যকৃত রোগ বা লিভার সিরোসিস ইত্যাদি কারণেও এ রোগের আশংকা বেড়ে যায়। সর্বোপরি পোর্টাল ভেনাস সিস্টেমে কোনো ভাল্ব না থাকায় উপরিউক্ত যে কোন কারণে পায়ু অঞ্চলে শিরাগুলোতে চাপের ফলে পাইলস সৃষ্টি হয়।

অর্শ বা পাইলসের কারণে পায়ুপথে বিভিন্ন কষ্টকর লক্ষণ বা উপসর্গের সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে- মলদ্বার বা পায়ূপথে ব্যথা, মলদ্বারের চারপাশে চুলকানি, মলদ্বারে জ্বালাপোড়া, মল সাথে বা মলত্যাগের পর রক্ত যাওয়া, মলদ্বারের চারপাশে শক্তভাব, মলত্যাগের সময় ব্যথাহীন রক্তপাত, মলদ্বারের কাছে বেদনাদায়ক বলি, বসার সময় ব্যথা বা অস্বস্তি, মলদ্বারে রক্তক্ষরণ।

মূলতঃ এই সমস্যা হওয়ার পেছনে যে বিষয়টি বেশি দেখা যায় তাহলো দীর্ঘস্থায়ী পেটের অসুখ। আর যে প্রকৃত রোগটি এর পেছনে বেশি দায়ী থাকে তা হলো Tubercular Miasm যেটি হলো Psoric Miasm (Psora) এবং Syphilitic Miasm (Syphilis) এর মিলিত ফল। কিছু ক্ষেত্রে PRS থাকতে দেখা যায়। তাই হোমিওপ্যাথিক নিয়মে সেগুলির চিকিৎসা দিলে সময়ের ব্যবধানে অর্শ বা পাইলস রোগ নির্মূল হয়ে যায়। মাত্র কিছু ক্ষেত্রে (১%-২%) অপারেশন করে পাইলস এর বলি কেটে ফেলা হয়।

যা যা জেনেছেন

  • পাইলস এর ছবি
  • পাইলস কিভাবে ভালো হয়
  • পাইলস অপারেশন
  • পাইলস দেখতে কেমন
  • অর্শ রোগের অপারেশন
  • পাইলস থেকে কি ক্যান্সার হয়
  • অর্শ রোগ চিকিৎসা
  • অর্শ রোগ কেন হয়
  • অর্শ রোগের ছবি
Dr. Delowar Jahan Imran
ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান
ডিএইচএমএস (বিএইচএমসি এন্ড হসপিটাল), ডিএমএস; ঢাকা
রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক (রেজিঃ নং-৩৩৪৪২)
যোগাযোগঃ আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, ডেমরা, ঢাকা।
Phone: +88 01671-760874; 01977-602004 (শুধু এপয়েন্টমেন্টের জন্য)
About Me: Profile ➤ Facebook ➤ YouTube ➤