শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

যক্ষ্মা বা টিবি রোগের জটিলতা ! শ্বাসকষ্ট বা ঠান্ডার দোষ, পেটের অসুখ, ফুসফুস, হার্ট, কিডনি, বন্ধ্যাত্ব, মানুষিক সমস্যা ইত্যাদি

বিভিন্ন জটিল প্রকৃতির শারীরিক সমস্যার পেছনে Tuberculosis (TB) যক্ষ্মা বা যক্ষা ফ্যাক্টর এবং টিবি রোগের ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে আজ আলোকপাত করবো। আপনারা হয়তো অনেকেই লক্ষ্য করে থাকবেন যিনি TB বা যক্ষাতে আক্রান্ত হন অথবা তার নিকট আত্মীয় কারো TB থাকলে তিনি বিভিন্ন রকম শারীরিক এবং মানুষিক সমস্যায় আক্রান্ত থাকেন। যেমন পেটের পীড়া - আইবিএস, আইবিডি, কোষ্টকাঠিন্য, শ্বাসকষ্ট বা ঠান্ডার দোষ, বন্ধ্যাত্ব, হার্ট, কিডনি, চর্মরোগ, মানুষিক সমস্যা ইত্যাদি যেন লেগেই থাকে। বছরের পর বছর ধরে লোকজন দেশ বিদেশে এলোপ্যাথির নামকরা চিকিৎসকের পেছনে দৌড়াতে থাকে কিন্তু সমস্যার আদৌ কোন স্থায়ী সমাধান হয় না।

কারণ এলোপ্যাথিতে মূলতঃ মূল রোগের চিকিৎসা করা হয় না বরং মূল রোগ বা তার জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল দ্বারা সৃষ্ট কিছু লক্ষণ ও উপসর্গকে রোগের নাম দিয়ে চিকিৎসা করা হয় তাও আবার স্থানিক ভাবে। যার কারণে এলোপ্যাথিতে ক্রনিক ডিজিস আদৌ স্থায়ীভাবে ভাল হয় না। যখন কোন রোগের পেছনের মূল কারণ থাকে TB বা যক্ষা অথবা ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল তখন বুঝতেই পারছেন আপনি যতই এলোপ্যাথিক ঔষধ সেবন করেন না কেন আপনার সমস্যা আদৌ স্থায়ী ভাবে নির্মূল হবে না। তবে ঔষধ খাওয়া অবস্থায় কিছুটা আরাম পাবেন মাত্র অর্থাৎ রোগ যন্ত্রনা উপশম হবে কিন্তু রোগ  আরোগ্য হবে না। তখন এলোপ্যাথিক চিকিৎসকগণ রোগীকে সারা জীবন ধরেই ঔষধ খেয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে। তাছাড়া মানুষকে সারা জীবন ধরে ঔষধ খাওয়ানোটা হল এলোপ্যাথিক মেডিক্যাল মাফিয়াদের একটা বিজনেস পলিসি। 
মূলত হোমিওপ্যাথিক নিয়মে প্রপার ইনভেস্টিগেশন করে TB বা যক্ষা অথবা ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়ালকে তার প্রিডোমিনান্ট অবস্থা থেকে রিসিসিভ করার জন্য চিকিৎসা দেয়াই হলো বিশ্বের সর্বোৎকৃষ্ট এবং কার্যকর একটি চিকিৎসা।
বিশ্বের যে দশটি রোগে বেশি মানুষ মারা যায় TB বা যক্ষা হলো তার একটি। যক্ষ্মা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ফুসফুসে। এছাড়া দেহের বিভিন্ন জয়েন্ট, গ্রন্থিসহ আমাদের মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে, ত্বক, অন্ত্র, লিভার, কিডনি, হাড়সহ দেহের যেকোন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে TB বা যক্ষার সংক্রমণ হতে পারে। বলতে গেলে আমাদের এমন কোন অঙ্গ নাই, যেখানে যক্ষ্মা হয়না। কারণ যক্ষ্মা হচ্ছে একটি বায়ুবাহিত ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক ব্যাধি যেটা মাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকুলোসিস জীবাণুর সংক্রমণে হয়ে থাকে। যতগুলো যক্ষ্মা বা TB রয়েছে, এর মধ্যে ৮০ ভাগই ফুসফুসে হয়ে থাকে এবং এটি সবচেয়ে গুরুতর ও ভীষণ ছোঁয়াচে প্রকৃতির। শরীরের অন্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের যক্ষ্মা এতোটা ছোঁয়াচে নয়। তাই সেগুলি ফুসফুসের যক্ষ্মার মতো ছড়ানোর ক্ষেত্রে ততটা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। যেহেতু যক্ষা বা TB নিয়ে কথা বলছি তাই আসুন এর লক্ষণ ও উপসর্গগুলি সম্পর্কেও কিছুটা জেনে নিই-

ফুসফুসের যক্ষার প্রধান উপসর্গ

  • ফুসফুসে যক্ষ্মা হলে হাল্কা জ্বর ও কাশি হতে পারে
  • কাশির সঙ্গে গলার ভিতর থেকে থুতুতে রক্তও বেরোতে পারে
  • বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট হিসেবে ৫-৬ মাস জ্বর থাকার মূল কারণ এই টিবি
  • সাধারনত তিন সপ্তাহের বেশি কাশি
  • জ্বর থাকে 
  • কাশির সাথে কফ এবং মাঝে মাঝে রক্ত বের হওয়া
  • অস্বাভাবিকভাবে ওজন হ্রাস পাওয়া 
  • অবসাদ অনুভব করা 
  • রাতে ঘাম হওয়া
  • বুকে ব্যথা, দুর্বলতা ও ক্ষুধামন্দা
  • ইত্যাদি
যক্ষা ফুসফুস থেকে অন্যান্য অঙ্গেও ছড়িয়ে পরতে পারে বিশেষ করে যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তাদের এবং বাচ্চাদের ক্ষেত্রে। তখন একে অ-শ্বাসতন্ত্রীয় যক্ষা বা Extra pulmonary Tuberculosis বলা হয়, যেমন-
  • কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে মেনিনজাইটিস (TB Meningitis)
  • প্রজনন তন্ত্রে প্রজনন তন্ত্রীয় যক্ষা (Genitourinary TB)
  • পরিপাক তন্ত্রে পরিপাক তন্ত্রীয় যক্ষা (Gastrointestinal TB)
  • লিভার সংক্রান্ত টিবি (TB of the Liver)
  • হাড় এবং জয়েন্ট টিবি (TB of Bones and Joints)
  • হৃদঝিল্লি সংক্রান্ত টিবি (TB Pericarditis)
  • ত্বক সম্পর্কিত টিবি (Cutaneous Tuberculosis)
  • পেট বা উদর সংক্রান্ত টিবি (TB Peritonitis)
  • লসিকাতন্ত্রে স্ক্রফুলা (TB Lymphadenitis)
অনেক ক্ষেত্রে ফুসফুসীয় এবং অ-ফুসফুসীয় যক্ষা একসাথে বিদ্যমান থাক্তে পারে। পৃথিবীর যক্ষ্মা রোগীদের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি অর্থাৎ প্রায় অর্ধেকই হল ভারতীয় উপমহাদেশবাসী।
যক্ষা বা TB রোগের জটিলতা
তবে একবার কেউ এই রোগে আক্রান্ত হলে সেটা আর বের হতে পারে না। আপনি হয়তো আমাদের ট্রাডিশনাল চিকিৎসা ব্যবস্থায় ৬ মাস, ৯ মাস....১৮ মাস চিকিৎসা নিয়ে রোগের তীব্রতা সেই পরিমান কমিয়ে আনতে পারবেন যেটি আপনার জীবন নাশ করবে না। অর্থাৎ আপনি হয়তো টেস্ট করে দেখছেন আপনার শরীরে টিবির জীবাণু নেই। কিন্তু তারপরও যক্ষা বা এর জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল আপনার শরীরে থেকে যাবে এবং আপনার থেকে আপনার পরবর্তী প্রজন্মে DNA এর মাধ্যমে বিস্তার লাভ করবে। আপনার বংশধরদের মধ্যে যাকে সুবিধা করতে পারবে তার শরীরেই TB বা যক্ষা জেগে উঠবে অথবা তাদের শরীরে বিভিন্ন অঙ্গে নানা প্রকার জটিল প্রকৃতির সমস্যা সৃষ্টি করে তাকে জীবনভর কষ্ট দিয়ে যাবে। 

পূর্বে টিবি আক্রান্ত হলে বা নিকট আত্মীয়ের টিবি থাকলে

কারো পাস্ট হিস্ট্রিতে টিবি থাকলে অথবা তার নিকট আত্মীয় যেমন মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী কারো টিবি থাকলে তার মধ্যে নিম্নোক্ত স্বাস্থ্য সমস্যাগুলি তার মধ্যে জেগে উঠতে পারে-
  • আইবিএস, ক্রনিক ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা প্রকার পেটের অসুখ
  • হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট বা ঠান্ডার দোষ
  • ফুসফুসের নানা সমস্যা
  • স্বরযন্ত্রের সমস্যা
  • হার্টের সমস্যা
  • লিভারের সমস্যা
  • কিডনি ও মূত্রতন্ত্রের  সমস্যা
  • পুরুষদের অন্ডকোষের সমস্যা যেমনঃ অর্কাইটিস, ভেরিকোসিল, বন্ধ্যাত্বইত্যাদি 
  • নারীদের ডিম্বাশয়ের সমস্যা, বন্ধ্যাত্ব ইত্যাদি 
  • থাইরয়েডের সমস্যা
  • নানা প্রকার মানুষিক সমস্যা
  • নানা প্রকার চর্মরোগ
  • মাইগ্রেন বা দুরারোগ্য মাথাব্যথা
  • পাইলস, ফিস্টুলা, মলদ্বার দিয়ে রক্ত ক্ষরণ ইত্যাদি
  • বিভিন্ন প্রকার ক্যান্সার
  • চিকন স্বাস্থ বা শরীর শুকিয়ে যাওয়া
  • ইত্যাদি

কাদের টিউবারকুলার ডায়াথেসিস প্রিডোমিনান্ট

এবার আসুন আমরা জেনে নিই কোন একজন রোগীর Family History তে কোন কোন দোষ উপস্থিত থাকলে তার মধ্যে Tubercular Diathesis, Predominant বলা যাবে। Pathological indications from Family History are as follows-
  • Tuberculosis
  • Leprosy
  • Heart disease with or without valvular lessions
  • Diabetes
  • Rheumatism
  • Cancer
  • Headache
  • Cerebro vascular accident (CVA)
  • IBS, IBD, Chronic  Dysentery Diarrhoea or Constipation
  • Anorectal Diseases - Piles, Fistula, Sinuses, stricture in rectum, Bleeding per rectum etc.
  • Obstructive airways disease -  Asthma, chronic bronchitis, emphysema, cystic fibrosis, and bronchiolitis
  • Bronchiectasis - Permanent enlargement of parts of the airways of the lung
  • Laryngitis - Inflammation of voice box (larynx)
  • Different types of skin diseases especially ring-worm, Pityriasis, allergy etc.
  • Lice at different parts of the body
  • Breathing distress or Asthma
  • Mental or Psychiatric Problem - Schizophrenia, Mania, Insanity, Uncontrolled rage from beginning etc.
  • Massive Haemoptysis - Coughing of blood originating from the respiratory tract

যক্ষা বা TB পরবর্তী জটিলতার চিকিৎসা

তাই কোন একটি মানুষের Past History তে Tuberculosis (TB) থাকলে তার চিকিৎসার বিষয়ে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। কারণ আপনাকে মনে রাখতে হবে-
Tuberculosis is results of disease and also one way disease.
একবার দেহ-মনে ঢুকলে আর বের হতে পারে না। দ্বিতীয় কারণটি হলো কোন মানুষ Tuberculosis এ আক্রান্ত হওয়ার পূর্বে এবং পরে বিভিন্ন সমস্যায় বিশেষ করে ঠান্ডাজনিত সমস্যায় বার বার কষ্ট পেতে থাকে এবং বিভিন্ন ঔষধ খেতে থাকে যার ফলে PTS বা Trauma তৈরী হয় তবে সেটা কিন্তু Triple Trauma.
  • প্রথমতঃ আগে পিছে বিভিন্ন ঔষধ খাওয়ার জন্য Trauma
  • দ্বিতীয়তঃ Tuberculosis নিজেই Trauma তৈরী করছে
  • তৃতীয়তঃ Tuberculosis থেকে মুক্তির জন্য ঔষধ খেতে হয় যা পূনরায় Trauma তৈরী করে
সুতরাং বুঝতেই পারছেন নানা জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের Past History তে Tuberculosis (TB) থাকলে অথবা নিকট আত্মীয়ের যেমন মা-বাবা,ভাই-বোন রোগ কারো  TB থাকলেও বুঝতে হবে তার শরীরেও ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল বিদ্যমান যেটি হয়তো সে পেয়েছে তার পূর্ব পুরুষ থেকে DNA এর মাধ্যমে বা অন্য কোন মাধ্যমে। তাই সেক্ষেত্রে Tuberculosis (TB) বা TD (Tubercular Diathesis) Predominant একজন IBS রোগীর চিকিৎসা করা মানেই হলো তার শরীর থেকে ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল রিসিসিভ করা। অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়ালকে নিস্তেজ করে করে সুপ্তাবস্থায় পাঠিয়ে রোগীর ভাইটাল ফোর্সকে শক্তিশালী করা না যাবে পেশেন্ট কখনই তার অনান্য শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ করবেন না।
তাই যেকোন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের Past History তে Tuberculosis (TB) থাকলে অথবা নিকট আত্মীয়ের TB থাকলে দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক খুঁজে বের করুন যিনি প্রপারলি ইনভেস্টিগেশন করে আপনাকে চিকিৎসা দিয়ে আপনার DNA তে Predominant ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল রিসিসিভ করার চিকিৎসা দিবেন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই পেশেন্টকে কিছুটা ধৈর্য ধরে চিকিৎসা নিতে হবে। কারণ রোগের তীব্রতা ভেদে ভালো হতে একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম সময় লাগতে পারে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং আল্লাহ পাক যেন আমাদের সকলকে এই প্রকার জটিল সমস্যা থেকে বাঁচিয়ে রাখেন - সেই কামনায়। ধন্যবাদ। 
Dr Imran
ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান
ডিএইচএমএস (বিএইচএমসি এন্ড হসপিটাল), ডিএমএস; ঢাকা
রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক (রেজিঃ নং-৩৩৪৪২)
যোগাযোগঃ আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী-ডেমরা রোড, ঢাকা।
Phone: +88 01671-760874; 01977-602004 || E-mail : delowaridb@gmail.com
About Me: Profile ➤ Facebook ➤ YouTube ➤