শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২০

ডায়াবেটিক রোগীদের পায়ে ঘা, ক্ষতস্থানে দুর্গন্ধযুক্ত পচন বা গ্যাংরিন! চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি

ডায়াবেটিক রোগীদের অনেকেরই পায়ে ঘা বা আলসার হয়ে থাকে। দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস থাকার কারণে রোগীর পায়ে যে আলসার হয়ে থাকে তাকে ডায়াবেটিক ফুট বা ডায়াবেটিক ফুট সিন্ড্রম বলা হয়ে থাকে। পায়ের ঘা বিস্তার লাভ করলে একপর্যায়ে পচন ধরে অর্থ্যাৎ গ্যাংরিন সৃষ্টি হয়। গ্যাংরিন তৈরী হলে তীব্র জ্বালা-যন্ত্রনাসহ কঠিন কষ্ট করতে হয় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের। তাছাড়া পৃথিবীতে যত রোগীর পা কাটা লাগে তার মধ্যে ৮৪% হল ডায়াবেটিক ফুট বা পা।

ডায়াবেটিস রোগীর পায়ে আঘাত লাগলে বা ক্ষত হলে সেখানে ক্ষুদ্র রক্তনালীর বিকাশ, এক্সট্রাসেলুলার ম্যাট্রিক্স, ত্বক ইত্যাদির বৃদ্ধি খুব ধীর গতিতে হয়। ফলে ক্ষত নিরাময় প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয় এবং শুকাতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এতে জীবাণু সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কোন কোন ক্ষেত্রে ক্ষতস্থানে দুর্গন্ধযুক্ত পচন ধরে যায় অর্থাৎ গ্যাংরিন তৈরি হয়। গ্যাংরিন বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে - শুকনো, ভেজা এবং গ্যাস গ্যাংরিন। একেক টির ক্ষেত্রে একেক রকম লক্ষণ প্ৰকাশ করতে পারে। চূড়ান্ত কোন এলোপ্যাথিক চিকিৎসা না থাকায় রোগীর জীবন রক্ষার্থে অনেক সময় পা বা পায়ের কিছু অংশ কেটে বাদ দিতে পরামর্শ দেন এলোপ্যাথিক চিকিৎসকরা।
তবে আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না, ডায়াবেটিস রোগীদের গ্যাংরিন সারানোর কার্যকর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা রয়েছে। ডায়াবেটিক রোগীদের পায়ে ঘা, ক্ষতস্থানে দুর্গন্ধযুক্ত পচন বা গ্যাংরিন সমস্যায় অভিজ্ঞ কোন হোমিও চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করে প্রপার ট্রিটমেন্ট নিন। আশা করি বিফল হবেন না ইনশা-আল্লাহ। 
ডায়াবেটিক রোগীদের পায়ে ঘা, ক্ষতস্থানে দুর্গন্ধযুক্ত পচন বা গ্যাংগ্রিন

ডায়াবেটিক রোগীদের পায়ে ঘা - কারণ 

দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের যেসব কারণে পায়ে ক্ষত তৈরি হওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি, সেগুলো হলো :
  • পায়ের বোধশক্তি কমে আসা (নিউরোপ্যাথি)
  • পায়ের রক্ত চলাচলের পরিমাণ কমে যাওয়া (পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজ)
  • ছোট কোনো ক্ষত বা পায়ের তলায় তৈরি হওয়া ফাটল (ক্র্যাক) দিয়ে জীবাণুর অনুপ্রবেশ ইত্যাদি।
ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথী: ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথী হল পায়ে ব্যথার অনুভূতি কমে যাওয়া বা অসারতা। পা তখন গরম বা ঠাণ্ডা কোন বস্তুর সংস্পর্শে এলেও রোগী তা বুঝতে পারে না। তৈরি হয় ছোট একটি ক্ষত, যেটা পরবর্তী সময়ে বড় হতে থাকে। আবার বোধশক্তি না থাকায় অনেক সময় পায়ে ছোটখাটো আঘাত বা পায়ে কোনো কিছু ফুটে গেলেও রোগী বুঝতে পারে না। সেখান থেকে তৈরি হয় বড় ক্ষত।

পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজ: পায়ের হাড়, মাংস অর্থাৎ পায়ের কোষ অথবা  টিস্যুগুলো বা বাঁচিয়ে রাখার জন্য সঠিক মাত্রায় রক্তপ্রবাহ প্রয়োজন। ডায়াবেটিক রোগীদের এই রক্তপ্রবাহে ব্যাঘাত ঘটে, ফলে পায়ে সহজে ক্ষত সৃষ্টি হয়, তৈরি হওয়া ক্ষত সহজে সারে না। রক্তপ্রবাহ একেবারেই বন্ধ হয়ে গেলে পায়ে পচন ধরে, যেটাকে বলা হয় গ্যাংরিন।

পায়ের তলায় ফাটল (ক্র্যাক): দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিক রোগীদের পায়ের তলার চামড়া শুকিয়ে ফাটল তৈরি হয়। এই ফাটলগুলো দিয়ে রোগজীবাণুর সংক্রমণ ঘটে এবং পায়ে ও পায়ের হাড়ে ক্ষত  বা অস্টিওমায়েলাইটিস সৃষ্টি হতে পারে।

ডায়াবেটিক রোগীদের পায়ে ঘা - চিকিৎসা

এই সমস্যার ক্রনিক অবস্থায় তেমন কোন এলোপ্যাথিক চিকিৎসা না থাকায় সার্জারি করে পা কেটে ফেলার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু আপনি হয়তো জানেন না ডায়াবেটিক রোগীদের পায়ে ঘা, ক্ষতস্থানে দুর্গন্ধযুক্ত পচন বা গ্যাংরিন সমস্যার কার্যকর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা রয়েছে। অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে প্রপার ট্রিটমেন্ট নিলে এই সমস্যা দূর হয়ে পা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

যা যা জেনেছেন -

  • ডায়াবেটিক ফুট
  • ডায়াবেটিস ক্ষত
  • ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষত
  • ডায়াবেটিস রোগীর পায়ে ঘা
  • ডায়াবেটিসে পায়ের সমস্যা
  • ডায়াবেটিস রোগীর পায়ের ব্যথা
  • ডায়াবেটিস রোগীর পায়ের যত্ন
Dr Imran
ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান
ডিএইচএমএস (বিএইচএমসি এন্ড হসপিটাল), ডিএমএস; ঢাকা
রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক (রেজিঃ নং-৩৩৪৪২)
যোগাযোগঃ আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী-ডেমরা রোড, ঢাকা।
Phone: +88 01671-760874; 01977-602004 || E-mail : delowaridb@gmail.com
About Me: Profile ➤ Facebook ➤ YouTube ➤