সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২০

পুরুষদের ভেরিকোসিল Varicocele এর ফলে সৃষ্ট জটিলতাগুলি কি কি ?

ভেরিকোসিল হলো পুরুষদের শুক্রাণুর অস্বাভাবিকতা বা বন্ধ্যাত্ব সমস্যা তৈরীর একটি অন্যতম কারণ। এই পর্বে আমরা জানবো, ভেরিকোসিল Varicocele এর ফলে পুরুষদের কি কি জটিলতা তৈরি হতে পারে। যেহেতু এটি পুরুষদের স্ক্রোটামের শিরা-ঘটিত একটি জটিল প্রকৃতির রোগ তাই এর ফলে বহু ক্ষেত্রেই নানান জটিলতা তৈরী হয়ে থাকে তবে জটিলতাগুলি মূলত পার্সন টু পার্সন ভেরি করে অর্থাৎ সবার ক্ষেত্রে সমান ভাবে প্রকাশ পায় না। কারো ক্ষেত্রে পুরুষত্বহীনতা এবং কারো ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের সমস্যা প্রকট ভাবে তৈরী করে থাকে।

কিছু কিছু পেসেন্ট এর ক্ষেত্রে আমি দেখেছি গ্রেড-টু ভেরিকোসিল নিয়ে ৮/১০ বছর কাটিয়ে দিলেন তেমন কোন সমস্যাই হয়নি। কিন্তু হঠাৎ এক সময় তীব্র ব্যথা শুরু হলো আর অনলাইন সার্চ করে আমাকে ফোন দিয়ে তার বিস্তারিত সমস্যা বলতে শুরু করলো। শুরুতে তিনি বুঝতেই পারেননি এটি একটি সমস্যা বা রোগ। তাই বছর বছর ধরে তিনি সেটা পুষে রেখেছেন। কাউকেই কিছু বলেননি।

সাধারণভাবে যে সমস্যাগুলি পার্সন টু পার্সন ভেদে দেখা যায় - শিরাতে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া, অন্ডকোষ বা টেস্টিসে ব্যথা অনূভুত হয়, অন্তথলি বা স্ক্রোটাম ঝুলে যায়, অণ্ডথলিতে চাকা বা পিণ্ড অনুভূত হওয়া, শিরাতে চাকা বা পিণ্ড অনুভূত হওয়া, কুঁচকিতে ব্যথা হওয়া, অণ্ডথলি বা স্ক্রোটাম ফুলে উঠে, তলপেটে ব্যথা অনুভূত হয় কারো ক্ষেত্রে, অনৈচ্ছিক মূত্রত্যাগ, পুরুষাঙ্গে ব্যথা হওয়া, পায়ুপথে ব্যথা হওয়া ইত্যাদি।
আবার আমার একজন পেসেন্ট যার ভেরিকোসিল গ্রেড-থ্রী ছিল। বয়স প্রায় ৩৬ বছর। তিনি বহু বছর যাবৎ এই সমস্যাটি নিয়ে ছিলেন। কিন্তু তাঁর কোন প্রকার যৌন দূর্বলতার সমস্যা ছিল না এবং বন্ধ্যাত্বের সমস্যাও ছিল না। ভেরিকোসিল থাকা অবস্থাতেই তিনি ৩ ছেলে-মেয়ের পিতা ছিলেন। কিন্তু ইদানিং কালে ভেরিকোসিলের জন্য তাঁর সমস্যা হচ্ছিল - স্ক্রোটাম বেশি ঝুলে থাকতো তাই তিনি প্রচণ্ড অস্বস্থি বোধ করছিলেন।
কিছু কিছু পেসেন্ট যাদের বয়স ২৮ থেকে ৩৬ যখন বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা নিতে আমার কাছে আসেন তখন সিমেন এনালাইসিস রিপোর্টে শুক্রাণুহীনতার প্রমান পাওয়া যায়। কিন্তু ঠিক কি কারণে তাঁর এজোস্পার্মিয়া তৈরি হল পূর্বেকার এলোপ্যাথিক চিকিৎসকগণ তাঁকে কিছুই বলতে পারেননি। সরাসরি বলে দেয়া হলো আপনার বীর্যে শুক্রাণু নেই তাই আপনি বাবা হতে পারবেন না। আমি যখন তাকে একটা আলট্রাসনোগ্রাম করতে দেই তখন ধরা পড়ে দুই পাশেই ভেরিকোসিল সৃষ্টি হয়ে আছে। বিস্তারিত হিস্ট্রি নিয়ে দেখা গেলো বহু বছর যাবৎ সেখানে একটু একটু করে ব্যথা করছে। ব্যথার তীব্রতা কম হওয়ায় তেমন আমলে নেননি বিষয়টা। যার ফলাফল বন্ধ্যাত্ব।
প্রতি ১০০ জন পুরুষের মধ্যে ১৫-২০ জনের ভেরিকোসিল হয়ে থাকে। ভেরিকোসিলে আক্রান্ত প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৪ জনের বন্ধ্যাত্বের সমস্যা হতে দেখা গেছে।
ভেরিকোসিলের কারণে এখানে মূলত দুটি ঘটনা ঘটে। একটি হলো - শুক্রাণু বা স্পার্ম আসতে বাধা যাকে বলা হয় অবস্ট্রাক্টিভ এজোস্পার্মিয়া এবং দ্বিতীয়টি হলো দীর্ঘদিন যাবৎ এই অঞ্চলে কোন প্রদাহ থাকলে সেখানকার যে সেল বা কোষ গুলি (জার্ম সেল) শুক্রাণু বা স্পার্ম তৈরী করে সেগুলি নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে দেখা যায় শুক্রাণুর গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়, শুক্রাণু বা স্পার্ম কম তৈরি হয় অথবা একেবারেই তৈরী হয় না।

যেহেতু দীর্ঘদিন প্রদাহ থাকার কারণে সেখানকার সেল বা কোষগুলি ড্যামেজ হতে থাকে তাই যে সেল বা কোষগুলি (Leydig cells) টেস্টোস্টেরোন হরমোন তৈরী করে সেগুলিও দিন দিন নষ্ট হতে থাকায় টেস্টোস্টেরোন হরমোনের লেভেল কমতে থাকে। এ অবস্থায় অনেক পুরুষই শারীরিক দুর্বলতা এবং যৌন দুর্বলতায় ভুগতে থাকেন। কারো কারো ক্ষেত্রে পুরুষত্বহীনতাও দেখা দেয়।

ভেরিকোসিলের কারণে একবার এজোস্পার্মিয়া/বন্ধ্যাত্ব অথবা পুরুষত্বহীনতার সমস্যা তৈরী হলে সেখান থেকে ব্যাক করা অনেকটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই পুরুষদের ভেরিকোসিল Varicocele হলে অবহেলা না করে যথা সময়ে প্রপার হোমিও চিকিৎসা নিয়ে সেটাকে নির্মূল করা উচিত।
Dr Imran
ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান
ডিএইচএমএস, ডিএমএস, বিএসসি এন্ড এমএসসি; ঢাকা
রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক (রেজিঃ নং-৩৩৪৪২)
যোগাযোগঃ আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
ফোন : ০১৬৭১-৭৬০৮৭৪ এবং ০১৯৭৭-৬০২০০৪
প্রোফাইল ➤ ফেইসবুক ➤ ইউটিউব ➤