মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২০

ভেরিকোসিল Varicocele রোগীদের জীবন যাপনে কিছু বিধি নিষেধ

আগের পর্বগুলিতে পুরুষদের ভেরিকোসিল Varicocele অন্ডকোষের শিরাস্ফীতি কি, কিভাবে হয়, এর জটিলতা, চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এ পর্বে আমরা জানবো ভেরিকোসিল রোগীদের জন্য কিছু বিধি নিষেধ সম্পর্কে।

যারা ভেরিকোসিলে আক্রান্ত হন তাদের স্ক্রোটাম ঝুলে যেতে দেখা যায়। সে সময় ব্যথা অনুভূত হওয়া এবং তীব্র অস্বস্থির জন্ম দিয়ে থাকে। অনেকেই তখন বেঁধে রাখার জন্য ব্যবস্থা করে থাকেন। ইতিমধ্যে আপনারা জেনেছেন ভেরিকোসিল হলে কি কি যন্ত্রণাদায়ক লক্ষণ এবং উপসর্গ দেখা দেয়। ভেরিকোসিল সুচিকিৎসার পাশাপাশি আরো কিছু মেইনটেনেন্স এর প্রয়োজন পড়ে যা প্রত্যেক রোগীকেই পালন করা কর্তব্য। আসুন এ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই -

খাবার দাবারে বিধি নিষেধ

  • মাংস, চর্বিজাতীয় ও উচ্চ প্রোটিন জাতীয় খাবার বর্জন করুন
  • তৈলাক্ত খাবার, ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড, জাংফুড বর্জন করুন
  • মিষ্টি, চিনি এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার বর্জন করুন
  • চা, কফি এবং গরুর দুধ বর্জন করুন
  • শাকসবজি, ফল এবং ফলের জুস থেকে পারেন
  • যেসব খাবার আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য তৈরি করে সেগুলি বর্জন করুন

জীবন যাপনে বিধি নিষেধ

  • কর্মস্থলে টানা দাঁড়িয়ে থাকবেন না, মাঝে মাঝে বসুন
  • টানা বসেও থাকবেন না মাঝে মাঝে হাঁটাচলা করুন
  • তীব্র গরম পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ কাজ করা থেকে বিরত থাকুন
  • দীর্ঘ সময় গাড়ি বা মোটর সাইকেল চালানো থেকে বিরত থাকুন
  • টাইট প্যান্ট বা কাপড় পড়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন
  • বাসায় থাকলে লুঙ্গি পড়ুন অর্থাৎ স্থানটি যাতে কখনো গরম হয়ে না যায় খেয়াল রাখুন
  • আক্রান্ত শিরাতে দিনে কয়েকবার বরফ লাগান যাতে ঠান্ডা থাকে
  • গোসলের সময় শুরুতেই মাথায় পানি ঢালবেন না
  • গোসলের সময় প্রথমেই পানি দিয়ে স্থানটি ভিজিয়ে নিন। তারপর পায়ের গোড়ালী, তারপর হাটু পর্যন্ত, তারপর কোমড় এবং সর্বশেষে মাথায় পানি ঢালুন
  • অধিক ভারী জিনিস উত্তোলন করা থেকে বিরত থাকুন
  • হালকা ব্যায়াম এবং সকাল বিকাল হাঁটা চলা করা
  • ব্যথা তীব্র হলে বিছানায় শুয়ে পা দুটি কিছুক্ষন উপর দিকে দিয়ে রাখুন

যা থেকে বিরত থাকবেন

  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যখন তখন এন্টিবায়োটিক ও ব্যথা নাশক ঔষধ খাবেন না
  • তীব্র যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করে এমন ঔষধ খাওয়া পরিহার করুন
  • নিজ নির্বাচনে অনবরত ঔষধ স্থুলমাত্রায় হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন
ইন্টারনেট বা বিভিন্ন সোর্স থেকে নাম জেনে বিভিন্ন হোমিওপ্যাথিক ঔষধ স্থুলমাত্রায় অনবরত খেয়ে যাবেন না। এলোপ্যাথিক ঔষধ এবং অসদৃশ হোমিওপ্যাথিক ঔষধ অনবরত খেতে থাকলে সেটা সাময়িক কিছুটা আরাম দিলেও আপনার মধ্যে মেডিসিনাল ট্রমা তৈরি করবে এবং দিন দিন আপনার ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হতে থাকবে। যার ফলে আপনি আরো নানা প্রকার স্বাস্থ সমস্যায় ভুগতে থাকবেন। বিশেষ করে আপনি দেখবেন, সব কাজকর্ম ঠিকই করে যেতে পারছেন অথচ আপনি ভালো নেই।  তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এলোপ্যাথি বা হোমিওপ্যাথি যেকোন ঔষধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।  
যে সকল পেসেন্ট আমার ট্রিটমেন্টে থাকেন দ্রুত সুস্থতার জন্য তাদের অবস্থার আলোকে বিধি নিষেধ বা মেইনটেনেন্সটা কিছু দিনের জন্য আমি নির্ধারণ করে দেই যা ব্যক্তি বিশেষে একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়ে থাকে। অর্থাৎ আপনার চিকিৎসক আপনার মেইনটেনেন্স নির্ধারণ করে দিবেন যা মূলত চিকিৎসকের দক্ষতার উপর নির্ভর করে।
Dr Imran
ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান
ডিএইচএমএস, ডিএমএস, বিএসসি এন্ড এমএসসি; ঢাকা
রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক (রেজিঃ নং-৩৩৪৪২)
যোগাযোগঃ আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
ফোন : ০১৬৭১-৭৬০৮৭৪ এবং ০১৯৭৭-৬০২০০৪
প্রোফাইল ➤ ফেইসবুক ➤ ইউটিউব ➤