মঙ্গলবার, ৩১ মে, ২০২২

অর্শ বা পাইলসের প্রাথমিক উপসর্গ ও ঘরোয়া চিকিৎসা

অর্শ বা পাইলসের প্রাথমিক উপসর্গ সৃষ্টি হলে এর জন্য এলোপ্যাথি হোমিওপ্যাথি আয়ুর্বেদিক বা ঘরোয়া চিকিৎসা কোনটা নিবেন সেটা নিয়ে অনেকেই চিন্তায় পড়ে যান। তাই শুরুতে আপনি নিজে নিজেই কিভাবে ঘরোয়া চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন সেটাই থাকছে আজকের পর্বে। প্রাথমিক পর্যায়ের পাইলসে রক্ত যাওয়া, মলদ্বারে ব্যথা বা জ্বালা, ছোট মাংসের মতো দলা তৈরী হতে পারে। যখন শুধু রক্ত যায় আর মাংসপিণ্ড বা দলা তৈরি হয়, এ সময়ে অনেক ক্ষেত্রেই কিছু নিয়ম কানুন অনুসরণ করেই আপনি সেরে উঠতে পারেন।

প্রথমেই অর্থাৎ সমস্যার শুরুতেই ফোলা ও ব্যথা কমানোর জন্য আপনি ঠিক কি করে উপরকার পেতে পারেন যেটা জেনে নিন।পাইলসের সমস্যা দেখা দিলে আপনি গরম পানি ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে একটি পাত্রে সহনীয় পর্যায়ের গরম পানি নিয়ে দিনে ১০-১৫ মিনিট বসে পড়ুন। এভাবে দিনে কয়েকবার এই ভাপ নিতে পারেন। বিশেষত, পায়খানা করার পর যাদের ব্যথা বা জ্বালা থাকে তারা ভালো রেজাল্ট পেয়ে যাবেন।
অর্শ বা পাইলসের প্রাথমিক উপসর্গ ও চিকিৎসা
আবার পাইলস এর ঘরোয়া চিকিৎসার ক্ষেত্রে বরফ বিশেষ ভূমিকা পালন করে। কারণ বরফ দেহে রক্ত চলাচল সচল করতে সহায়তা করে এবং ব্যথা দূর করে থাকে। এক টুকরো বরফ নিয়ে মলদ্বারের আক্রান্ত স্থানে দিয়ে আরাম পেতে পারেন।

যদি কারো দীর্ঘদিনের আমাশয়ের সমস্যা থাকে এবং এর ফলে অর্শ বা পাইলসের সমস্যা জেগে উঠে তাহলে যে খাবারগুলি গ্রহণ করলে আপনি ভালো থাকেন সেগুলি গ্রহণ করুন এবং যেগুলি খেলে আপনার পেটের সমস্যাসহ আনুসঙ্গিক আরো সমস্যা তৈরি হয় সেগুলি বিশেষ করে প্রাণীজ খাবার বাদ দিন। তাতেও উপরকার না হলে অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিয়ে আপনার পেটের অসুখ ঠিক করুন দেখবেন আপনার পাইলসের সমস্যাও দূর হয়ে গেছে। পুরাতন আমাশয় নির্মূলের জন্য ঘরোয়া চিকিৎসা আপনাকে কিছুটা আরাম দিলেও প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ছাড়া এর থেকে নিস্তার পাওয়া দুস্কর।
 
পাইলসের সমস্যায় প্রতিদিন সকালে খালি পেটে স্বাভাবিক তাপমাত্রার গরুর দুধের সাথে একটি লেবু চিপে তার রস মিশিয়ে সাথে সাথে খেয়ে নিতে হবে। ভালো লাগলে টানা ৭-১০ দিন এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন। সুফল পাবেন। কিন্তু যদি কারো ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে পেটের যন্ত্রনা বেড়ে যায় তাহলে তিনি সেটি পরিহার করবেন।

আরেকটি পদ্ধতি অনুসরণ করে দেখতে পারেন। আদা ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে তাতে ১ চামচ মধু ভাল করে মিশিয়ে নিন। দিনে দুবার করে এই মিশ্রণটি খেয়ে যান। পাইলসের সমস্যা কমে আসবে। তবে যদি কারো দীর্ঘদিনের পেটের অসুখ থাকে তাহলে এই পদ্ধতি সহ্য নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনি সেটা পরিহার করে বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

যদি দীর্ঘদিনের কোষ্টকাঠিন্য বা পায়খানা শক্ত থাকার কারণে কারো অর্শ বা পাইলসের সমস্যা সৃষ্টি হয় তাহলে পেটের এই সমস্যাটিই ব্যক্তির পাইলস সৃষ্টির পেছনের একটি প্রধান নিয়মক ও পরিপোষক কারণ হিসেবে কাজ করে। সেক্ষেত্রে যেভাবে জীবন যাপন করলে পায়খানা নরম এবং স্বাভাবিক থাকে সেভাবেই তাকে জীবনযাপন করতে হবে। প্রাণীজ খাদ্য যেমন গরু ছাগলের মাংস, ফাস্ট ফুড, জাঙ্ক ফুড এবং উগ্র মসলা জাতীয় খাদ্য পরিহার করে সবুজ শাক সবজি নিয়মিত খেয়ে যেতে হবে। 

এর সাথে প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যায় ইসবগুল, বেলের শরবত এবং এর সাথে পর্যাপ্ত পানি পান করলে কোষ্টকাঠিন্য উপশম করে পাইলের সমস্যা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে। দেখা গেছে এভাবে চললে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে এবং এর সাথে পাইলসের সমস্যাটিও দূর হয়ে যায়। তারপরও যদি আপনি ঠিক না হতে পারেন তাতেও চিন্তার কিছু নেই। অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসক খুঁজে বের করে যথাযথ চিকিৎসা নিন, ঠিক হয়ে যাবেন ইনশা-আল্লাহ।
Dr. Delowar Jahan Imran
ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান
ডিএইচএমএস (বিএইচএমসি এন্ড হসপিটাল), ডিএমএস; ঢাকা
রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক (রেজিঃ নং-৩৩৪৪২)
যোগাযোগঃ আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, ডেমরা, ঢাকা।
Phone: +88 01671-760874; 01977-602004 (শুধু এপয়েন্টমেন্টের জন্য)
About Me: Profile ➤ Facebook ➤ YouTube ➤