বৃহস্পতিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০১৯

IBS কি? আইবিএস রোগের উপসর্গ এবং চিকিৎসা-IBS বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

IBS বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থেকে Irritable bowel syndrome-IBS রোগের পরামর্শ চাইলে আপনাকে মূলত একজন এক্সপার্ট হোমিও ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। কারণ একমাত্র হোমিওতে রয়েছে এই রোগের লক্ষণ অনুযায়ী কার্যকর চিকিৎসা। রোগীর পর্যায় অনুযায়ী এখানে চিকিৎসাটি ঠিকঠাক ভাবে সাজাতে পারলে এই সমস্যায় ভাল ফলাফল নিয়ে আসা যায়।
আইবিএসের প্রকৃত কারণ এ পর্যন্ত জানা যায়নি। অনেক কারণে এ রোগ হয় বলে চিকিৎসার আন্তর্নিহিত কারণ উদঘাটন সম্ভব হয়নি। আর এই কারণেই এলোপ্যাথিতে IBS সমস্যার কোন ভাল চিকিৎসা নেই এবং এলোপ্যাথিক চিকিৎসায় আইবিএস নির্মূল হয় না। বর্তমান বিশ্বে আইবিএস নির্মূলের এক মাত্র উন্নত চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। তবে এর জন্য আপনাকে এমন একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিতে হবে যিনি কমপ্লেক্স এবং ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথিতে দক্ষ।

শারীরবৃত্তীয় কারণগুলির মধ্যে রয়েছে অন্ত্রনালীর বেশি স্পর্শকাতরতা, অন্ত্রনালীর অস্বাভাবিক নাড়াচাড়া, এলার্জি ও ইনফেকশন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ গম ও দুধ জাতীয় খাবার সহ্যক্ষমতা কম অর্থাৎ এ জাতীয় খাবার খাওয়ার পরই আমাশয়ের সমস্যা তথা আইবিএস শুরু হয়।

এ সমস্যায় প্রথমেই আছে হতাশ ও দুশ্চিন্তা ইত্যাদি। এ ছাড়া অধিক মানসিক চাপ ও আইবিএসকে প্রভাবিত করে থাকে। আইবিএসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অল্প সমস্যা হলেই মানসিকভাবে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে ফলে তারা পরিস্থিতি সহজে মানিয়ে নিতে পারে না।

এ ছাড়া খাদ্যাভ্যাস, অন্ত্রের প্রদাহ, অন্ত্রের সংক্রমণ, মাদক গ্রহণ, পেটের অপারেশন, বংশগত কারণ, হরমোনজনিত কারণ বিশেষ করে মহিলাদের মাসিক চক্রের সমস্যা এবং অনেক সময় এন্টিবায়োটিকসহ অনেক এলোপ্যাথিক ওষুধ সেবনও আইবিএসের সমস্যাকে ত্বরান্বিত করে।
এ রোগে পুরুষ ও মহিলা উভয়ই ভুগে থাকেন। পুরুষের তুলনায় মহিলারা আনুপাতিক হারে বেশি ভুগে থাকেন। সাধারণত ১৮-৪০ বছরের মহিলা ও পুরুষের মধ্যে রোগের উপসর্গ দেখা দেয়।

আইবিএসের উপসর্গ বা লক্ষণাবলি

  • পাতলা পায়খানা ও কোষ্টকাঠিন্য উভয়ই দেখা যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, কিছু দিন কোষ্টকাঠিন্য আবার কিছু দিন পাতলা পায়খানা হচ্ছে।
  • পেটে ভুটভাট শব্দ হয়।
  • যাদের কোষ্টকাঠিন্য তাদের পেট ব্যথার সাথে ছোট ছোট কষ্টকর মলত্যাগ।
  • আমাশয় প্রধান আইবিএসে ঘন ঘন কিন্তু অল্প পরিমাণ পায়খানা হয়। এ ক্ষেত্রে ওজন ঠিক থাকে। আর মলের সাথে আম যায়। রক্ত যায় না।
  • খাদ্য গ্রহণের পরে পেটে অশান্তি বোধ এবং পেট ফুলে যায়।।
  • ডায়রিয়া সাধারণত সকালে মলত্যাগের সময় হয়ে থাকে।
  • পিচ্ছিল পদার্থ যা চর্বিযুক্ত মলত্যাগ।
  • মলত্যাগের পর ও মলত্যাগের ইচ্ছা অনুভব।
এ সমস্যাগুলো ৬ মাসের বেশি সময় থাকলে চিকিৎসকরা আইবিএস হয়েছে বলে সন্দেহ করেন। এ ছাড়াও যাদের এ সমস্যা আছে, তারা পোলাও, কোর্মা, বিরিয়ানি, তেহারি ইত্যাদি তেলযুক্ত খাবার এবং দুধ, দই, দুধ-চা, পায়েস, সেমাই ইত্যাদি খাবার খেলেই পেট খারাপ হয়ে পড়ে। আমাদের দেশে লিভার সেন্টারের গবেষণা হতে দেখা গেছে, যেসব রোগীর দীর্ঘমেয়াদি লিভার প্রদাহ থাকে এবং ফ্যাটি লিভার থাকে তাদের অধিকাংশই কোনো না কোনো সময় আইবিএসে আক্রান্ত হয়। আবার যেসব রোগীর পায়খানার অভ্যাসের পরিবর্তন, পেট ফোলা, পেটে ব্যথা, পেটে শব্দ, খাদ্য হজমে সমস্যা নিয়ে আসে তাদের অধিকাংশই পরবর্তীতে লিভার সিরোসিস ধরা পড়ে।

বলা বাহুল্য, বমিভাব, বমি, ঢেঁকুর ওঠা, ক্ষুধামন্দা, ঘাম হওয়া, মাথাব্যথা, অনিদ্রা, জ্ঞান হারানো, রক্ত মিশ্রিত পায়খানা এগুলো আইবিএসের উপসর্গ হিসেবে সুনির্দিষ্ট নয়। উপসর্গগুলো কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ, কয়েক মাসও থাকতে পারে। যদিও উপসর্গগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে ঘটে থাকে।
Dr Imran
ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান
ডিএইচএমএস, ডিএমএস, বিএসসি এন্ড এমএসসি; ঢাকা
রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক (রেজিঃ নং-৩৩৪৪২)
যোগাযোগঃ আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
ফোন : ০১৬৭১-৭৬০৮৭৪ এবং ০১৯৭৭-৬০২০০৪
প্রোফাইল ➤ ফেইসবুক ➤ ইউটিউব ➤