সোমবার, ৫ জুলাই, ২০২১

জলাতঙ্ক রোগ চিকিৎসা ও প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর ভয়ঙ্কর স্বাস্থ্য জটিলতা ! Post Rabies Syndrome (PRS)

জলাতঙ্ক রোগের চিকিৎসা ও প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর ভয়ঙ্কর স্বাস্থ্য জটিলতা এবং Post Rabies Syndrome (PRS) সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো এ পর্বে। বিস্তারিত ভালোভাবে বুঝতে সংযুক্ত ভিডিওটি দেখুন। কোন প্রাণী যেমনঃ মানুষ, কুকুর, বিড়াল, বেজি, ইঁদুর, বাঁদুর, বানর, হনুমান, শেয়াল, হায়েনা, কুমির, সাপ ইত্যাদির কামড় বা আঁচড়ের পর অথবা কোন পোকামাকড় বা বিষাক্ত পতঙ্গ যেমনঃ ভ্রমর, মৌমাছি, ভীমরুল, বিষ পিঁপড়া, ইত্যাদির কামড়ের পর থেকে অথবা রেবিস ভ্যাকসিন নেয়ার পর থেকে মারাত্মক প্রকৃতির রোগ যেমনঃ আক্রান্ত স্থানে সংক্রমণ হওয়া, হার্টের সমস্যা, কিডনির রোগ, পেনক্রিয়াস বা অগ্নাশয়ের সমস্যা, লিভারের সমস্যা, স্নায়ুবিক সমস্যা, মানুষিক সমস্যা বা যেকোন প্রকার মারাত্মক শারীরিক জটিলতার সৃষ্টি হলে এর কার্যকর চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি।

জলাতঙ্ক রোগ এবং রেবিস ভ্যাকসিন

জলাতঙ্ক রোগ এবং রেবিস ভ্যাকসিন সম্পর্কে নিশ্চয় শুনেছেন। জলাতঙ্ক রোগী পানি দেখলেই ভয় পায়। তাই এ রোগের নাম জলাতঙ্ক বা Hydrophobia হাইড্রোফোবিয়া। জলাতঙ্ক খুবই মারাত্মক প্রকৃতির রোগ। কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজি, বানর, বাদুড়সহ যেকোন প্রাণীর লালা কোন ভাবে মানুষের শরীর তথা একবার মস্তিষ্কের টিস্যুতে প্রবেশ করলে জলাতঙ্ক হয়ে মৃত্যু নিশ্চিত। তবে প্রাণী কামড় দেওয়ার সাথে সাথে দ্রুত সময়ের মধ্যে টিকা নিলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
রেবিস বহনকারী প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে অবশ্যই ভ্যাকসিন নিতে হবে। তবে প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর অথবা এর জন্য ভ্যাকসিন নেয়ার পর জলাতঙ্ক ভিন্ন যেকোন জটিল শারীরিক ও মানুষিক সমস্যা জেগে উঠলে অথবা PRS প্রিডোমিন্যান্ট এমন যেকোন কেইসে এর কার্যকর চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি।
সাধারনত গৃহপালিত প্রাণী ও বন্য প্রাণীদের প্রথমে সংক্রমিত করে, মানুষ এই সংক্রমিত প্রাণীগুলির বা এদের লালার সংস্পর্শে আসলে বা এই প্রাণীগুলি যদি মানুষকে কামড়ায় অথবা আঁচড় দেয় তাহলে এই রোগ মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। তাই কোন প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে রেবিস ভ্যাকসিন দেয়া হয়ে থাকে।

জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ

  • ক্ষতস্থান চুলকানো
  • ক্ষতস্থানে ব্যথা হওয়া 
  • মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ হওয়া
  • পানি দেখে ভয় পাওয়া
  • আলোর সংস্পর্শে এলে আতঙ্ক বেড়ে যাওয়া 
  • তীব্র মৃদু বায়ু প্রবাহে ভয় পাওয়া
  • শরীরে কাঁপুনি হওয়া
  • স্বল্পমাত্রায় জ্বর
  • গিলতে সমস্যা হওয়া
  • আবোল তাবোল বকা
  • প্যারালাইসিস
  • আক্রমণাত্মক আচরণ
  • মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া

প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর করণীয়

জলাতঙ্ক প্রাণঘাতী রোগ হলেও সময়মত ব্যবস্থা নিয়ে মৃত্যু এড়ানো যায়। প্রাণী কামড় বা আঁচড় দিলে ক্ষতস্থান ভাল ভাবে সাবান দিয়ে পনেরো মিনিট যাবৎ ধুতে হবে। সম্ভব হলে স্পিরিট দিয়ে ধৌত করে নিতে হবে। যে প্রাণী কামড়িয়েছে সেটিকে হত্যা না করে সতর্কতার সাথে বেঁধে রেখে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যদি দশ দিনের মধ্যে প্রাণীটির মৃত্যু না হয়, কামড়ের কারণে জলাতঙ্ক হওয়ার ঝুঁকি কম বলে ধরে নেয়া হয়। প্রাণীটির শরীরে জলাতঙ্ক জীবাণু আছে কিনা সেটা প্রাণীটির মস্তিষ্ক থেকে টিস্যু নিয়েও পরীক্ষা করে দেখা যায়। 
জলাতঙ্কের টিকা গ্রহণে শতভাগ জলাতঙ্ক প্রতিরোধ করা যায়। মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, টঙ্গী জেনারেল হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং দেশের প্রায় সবকটি জেলা সদরে অবস্থিত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে বিনা মূল্যে জলাতঙ্কের এই টিকা প্রদান করা হয়। কামড়ানো প্রাণীর দেহে র‌্যাবিসের জীবাণু না থাকলেও টিকা নিতে কোন অসুবিধা নেই।
আপনার আশেপাশে প্রশিক্ষিত কোন চিকিৎসকের পরামর্শক্রমেও টিকা নিতে পারেন। তাছাড়া চিকিৎসক বিস্তারিত জেনে গ্রেড অনুযায়ী আপনার চিকিৎসার পদ্ধতি ঠিক করবেন। প্রাণীর কামড়ের দিনই প্রতিষেধক টিকা নেয়া শুরু করতে হয়। সময়মত টীকা নিয়ে জলাতঙ্কের ঝুঁকি প্রায় শতভাগ এড়ানো সম্ভব। 

জলাতঙ্ক রোগের ক্ষেত্রে বিশেষত্ব হচ্ছে, কোন প্রাণী না কামড়ালেও আগে থেকে এ রোগের টিকানেয়া যায় আবার প্রাণী কামড়ানোর পরও টিকা নেয়া যায়। তবে অন্য যেকোন রোগের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়। জলাতঙ্কে আক্রান্ত কুকুরের কামড়ে গরু, ছাগল ইত্যাদি গৃহপালিত প্রাণীরও জলাতঙ্ক হতে পারে। এসব প্রাণীর মাংস খেয়ে মানুষও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। 

আপনি আগে থেকেই রেবিসের নির্ধারিত টিকাগুলি নিয়ে রেখেছেন। তারপর হয়তো কোন একসময় বেবিস ভাইরাস বহনকারী কোন প্রাণী আপনাকে কামড়িয়েছে বা আঁচড় দিয়েছে, এ অবস্থায়ও বিলম্ব না করে আপনাকে রেবিসের আরো দুটি টিকা নিতে হবে। তাই প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে পরামর্শক্রমে নির্ধারিত চিকিৎসা গ্রহণ করার জরুরী।
কিছু প্রাণী যেমনঃ কাঠবিড়াল, ভোঁদড়, খরগোশ, ইঁদুর ইত্যাদির মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগ না ছড়ালেও এইগুলির কোন একটির কামড় বা আঁচড়ের পর থেকে অন্য কোন বিষাক্ত জীবাণু মানব শরীরে প্রবেশ করার কারণে হয়তো এমনটি দেখা যায়, এরপর থেকে ব্যক্তির শরীরে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে এবং কোন ক্রমেই ভালো হচ্ছেন না অর্থ্যাৎ তিনি আর সুস্থ নেই। এই অবস্থায় একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি।
এছাড়া আপনি হয়তো দেখে থাকবেন রেবিস ভ্যাকসিন দেয়ার পর থেকে অনেকেই বিভিন্ন ধরণের রোগে ভুগছেন। অথবা তিনি তারপর থেকে আর সুস্থ নেই। এই অবস্থায় রোগ যত জটিলই হোক না কেন কার্যকর চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। তবে চিকিৎসক দক্ষ হওয়া চাই।

জলাতঙ্কবিহীন মারাত্মক জটিলতা

কেইস - ০১: সন্ধ্যার পর গ্রামের রাস্তা ধরে চলার পথে কোন এক প্রকার প্রাণী তাকে কামড়ায়। সেটি কুকুর না শেয়াল তিনি ঠিক বুঝতে পারেন নাই। যথারীতি রেবিস ভ্যাকসিন নিলেন। তার শরীরে জলাতঙ্ক রোগ জেগে উঠেনি ঠিকই কিন্তু প্রাণীর কামড়ের স্থানে ভয়াবহ সংক্রমণ সৃষ্টি হলো যা কোন চিকিৎসাতেই ঠিক হচ্ছে না। এলোপ্যাথিক চিকিৎসকগণ উচ্চ শক্তির এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ করেও ঠিক করতে পারছেন না। বছরের পর বছর ধরে এই সংক্রমণ নিয়ে ভুগে চলেছেন। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করছেন এর চিকিৎসার জন্য। তারপর সৌভাগ্যক্রমে প্রপার হোমিও চিকিৎসার তথ্যাবধানে আসার ফলে মাত্র কিছু দিনের চিকিৎসাতেই বলতে গেলে ম্যাজিকের মতো তার সেই সংক্রমণটি চলে গেল আর কখনও ফিরে আসেনি। আগেই বলেছি আক্রান্ত স্থান ১৫ মিনিট সাবান দিয়ে ধৌত করতে হবে। কিন্ত তিনি সেটা করেননি। ভ্যাকসিন নিয়ে জীবন বাঁচিয়েছেন ঠিকই, তবে আক্রান্ত স্থানে ভয়াবহ সৃষ্টি হয়েছিল। 

কেইস - ০২: সাপে কাটার পর এন্টিভেনম ইঞ্জেকশন নিয়ে প্রাণ রক্ষা হলো। কিন্তু তারপরই ব্যক্তির সেরাম ক্রিয়েটিনিন বেড়ে গেলো এবং কিডনি দুটোই অকেজো হয়ে পড়লো। 

কেইস - ০৩: বিলে মাছ ধরার প্রচন্ড নেশা। শিং মাছের কাটা ফুটে বিষের যন্ত্রনায় কত বার যে অজ্ঞান হয়েছিলেন হিসেব নেই। বয়স এখন পঁয়ত্রিশের উপর। সারা শরীরে বিষ-বেদনা নিয়ে কষ্ট করছেন বছরের পর বছর ধরে। কোন চিকিৎসাতেই সারছে না। প্রপার হোমিও চিকিৎসার আওতাধীনে আসার ফলে এই সমস্যা দূর হয়ে যায় স্থায়ী ভাবে।
এই রকম বহু ঘটনা হয়তো আপনার আশেপাশেই আপনি দেখতে পারেন। কোন প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর থেকে মারাত্মক রোগে আক্রান্ত !! আর ভালো হচ্ছে না। জেনে রাখুন, অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিলে এই সমস্যা স্থায়ীভাবে দূর হয়ে যাবে ইনশা-আল্লাহ।

পোস্ট রেবিস সিন্ড্রোম Post Rabies Syndrome (PRS)

কোন প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর ভেকসিন নিয়ে নিলেন আপনার শরীরে হয়তো জলাতঙ্ক জেগে উঠেনি কিন্তু রেবিসের জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল আপনার বংশ পরম্পরায় ট্রান্সফার হতে থাকবে এবং পরবর্তী প্রজন্ম নানা প্রকার ভয়াবহ জটিল স্বাস্থ সমস্যায় আক্রান্ত হবে। যাকে মেডিকেলের ভাষায় বলা হয় পোস্ট রেবিস সিন্ড্রোম Post Rabies Syndrome (PRS). আর এই সমস্যার হোমিওপ্যাথি ছাড়া আর কোন কার্যকর সমাধান নেই - জেনে রাখুন।

যেকোন Animal Bite (Dogs, Monkey, Bates, Snakes etc) এবং ঐ Bite এর কারণে চিকিৎসায় ব্যবহৃত Vaccine বা টিকা জনিত সমস্যা, পরবর্তী সময়ে এবং পরবর্তী প্রজন্মগুলিতে যেসকল জটিল পরিস্থিতি তথা বিভিন্ন অস্বাভাবিক এবং ভয়ঙ্কর সমস্যার সৃষ্টি হয়, সেগুলিকে একত্রে Post Rabies Syndrome (PRS) আখ্যা দেয়া হয়েছে।
  • এই বিষে বিষাক্ত Zygote থেকে সৃষ্ট শিশু, কখনো কখনো মাকে গর্ভাবস্থায় ভীষণ কষ্ট দেয় অর্থাৎ গর্ভাবস্থায় মা ভীষণ কষ্ট ভোগ করেন যদিও সব ক্ষেত্রে এমনটি হয় না।
  • এই বিষাক্ত Zygote থেকে সৃষ্ট শিশু মারাত্মক দৈহিক ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেয়, অবস্থা এমন ভয়ঙ্কর থাকে যে জন্ম নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে NICU তে ভর্তি করতে হয়, কাউকে আবার তক্ষনি অপারেশন করতে হয়, যেমন CDH - Congenital Diaphragmatic Hernia, শিশু জন্ম নিয়েছে কিন্তু মলদ্বার হয়নি ইত্যাদি।
  • শিশু জন্ম নেয়ার আগের মুহূর্তে মায়ের পানি ভেঙে গিয়ে এমন ভযঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল যে শিশুটিকে তক্ষনি পেট কেটে (Cesarean Section) না করলে মারা যেত।
  • শিশুটি মায়ের পেট থেকে বেরিয়ে এসেছিলো নীলবর্ণ, মৃতপ্রায় অবস্থায়, বাঁচবার কোন আশাই ছিল না।
  • এর আগে দুটি শিশু যথাক্রমে তিন মাসে এবং পাঁচ মাসে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক চিকিৎসার পর এই শিশুটি মৃতপ্রায় হয়ে জন্মেছে।
  • আবার এমন বিষাক্ত Zygote থেকে সৃষ্ট শিশু জন্ম নিয়েছে দুরারোগ্য Genetic Disease নিয়ে যেমনঃ Down Syndrome, Cerebral palsy, Autism, Juvenile Diabetes mellitus, Gilbert Syndrome, Thalassemia, Hemophilia, Huntington's Chorea, SLE (Systemic lupus erythrematosus), Psoriasis, Neurofibromatosis, Congenital Heart Diseases etc.
  • কখনো এমন বিষাক্ত Zygote থেকে সৃষ্ট শিশু Pancreas এর তীব্র সমস্যা নিয়ে জন্মায়। এই সমস্যা পরবর্তী সময়ে Acute pancreatitis, Chronic pancreatitis, Pancreatic carcinoma ইত্যাদি রূপে প্রকাশ পায়।
  • Post Rabies Syndrome (PRS) প্রকট, এমন শিশুরা মায়ের গর্ভে অবস্থান কালে মাকে ভীষণ কষ্ট দেয়, Neonatal period এও মাকে ভীষণ কষ্ট দেয় যেমনঃ দিবারাত্র ভীষণ কান্না, যার জন্য মায়ের খাওয়া-ঘুম থাকে না, আবার হঠাৎ হঠাৎ এমন ভয়ংকর অসুস্থ হয়ে যায় যে চিকিৎসকের নির্দেশে তক্ষনি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এই সকল শিশু অপ্রতুল Vital Force নিয়ে জন্মায় যার কারণে তাদের Immune System খুব দুর্বল থাকে ফলে এরা খুব সহজেই বিভিন্ন Infectious disease (Severe Pneumonia, Bronchitis, Typhoid, Gastroenteritis, Cold, Cough, Fever, Measles, Mumps, Pox, Tonsillitis, Cholera, Malaria etc) এ আক্রান্ত হয় এবং প্রত্যেকটি Infectious disease ই দ্রুত ভয়ঙ্কর রূপ নেয়।
  • আবার এমনও হতে পারে যে জন্মের সময় একটু সমস্যা ছিল বা ছিল না কিন্তু কিছু দিন পর ক্যান্সার বা ক্যান্সারের মতো ভয়ঙ্কর রোগ শুরু হলো।
এছাড়া সারাটা জীবন একটা না একটা সমস্যা লেগেই থাকে, সুস্থতার আনন্দ সৃষ্টিকর্তা তাদের জন্য মঞ্জর করেননি। এদের বয়স যত বাড়তে থাকে এদের রোগের জটিলতাও বাড়তে থাকে, কারণ PRS প্রকট এমন শিশু বা মানুষেরা যখন কোন দৈহিক বা মানুষিক সমস্যার চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন Therapeutic System এর চিকিৎসকের কাছে যান, তারা Symptomatic বা উপরি উপরি চিন্তা করে লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা দিয়ে তাৎক্ষণিক আরাম দিয়ে পেসেন্টকে সন্তুষ্ট করেন কিন্তু যে কারণে ঐ কষ্টকর লক্ষণগুলির সৃষ্টি, সেটির কোন প্রতিকার করা হয় না বলে মূল সমস্যা জটিল থেকে জটিলতর এবং সবশেষে জটিলতম অবস্থায় পৌঁছায়। তখন চিকিৎসকরা বলেন - "বয়স হয়েছে, আমরাও যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ভালোমন্দ খেতে দিন।"
এছাড়া Post Rabies Syndrome (PRS) প্রকট নিয়ে জন্মানো শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন অস্বাভাবিকতা দেখা যায় যেমন -
  • ভয়ঙ্কর দৈহিক পরিস্থিতি নিয়ে শিশুটি ভুমিষ্ঠ হয়েছে
  • জন্মাবার পর দীর্ঘক্ষণ কান্না করেনি, এমনকি অনেক চেষ্টার পরও
  • দীর্ঘক্ষণ পায়খানা প্রস্রাব করেনি
  • স্তনপান করেনি বরং বলা ভালো স্তনপান করবার শক্তিটুকু ছিল না
  • মস্তিষ্কে বা অন্য কোন অঙ্গে বড় টিউমার নিয়ে জন্মেছে
  • অসামঞ্জস্য দৈহিক গড়ন
  • শিশুটি ভূমিষ্ঠ হয়েছে দাঁত, চুল, দাঁড়ি, গোঁফ ইত্যাদি নিয়ে
  • জন্ম সময়ে শিশুটির মলদ্বার ছিল না
  • শিশুটি জন্মেছে মাথাটি অস্বাভাবিক বড় 
  • এমন বিপদজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে EDD [Expected date of delivery] এর ১ থেকে ২ মাস পূর্বেই গর্ভের শিশুকে বের করে নিতে হয় (Cesarean Section) অন্যথায় শিশুটির জীবন সংশয় দেখা দিতে পারে
  • শিশুটি জন্ম নেয়ার পর থেকে বা ১-২ দিন পর থেকে দিবারাত্র অবিরাম কান্না দীর্ঘদিন ধরে, কোন কিছুতেই কান্না বন্ধ হতো না, বেদনানাশক বা অচেতন করার ঔষধ না দিলে 
এছাড়া আরো যে যে কারণে Post Rabies Syndrome (PRS) সদৃশ পরিস্থিতি তৈরী হয় -
  • শিশুটি গর্ভে আসার আগে বাবা অথবা মা খুব কঠিন রোগের জন্য প্রচুর ঔষধ খেয়েছিলেন 
  • শিশুটি জন্মগ্রহণ করার পর বাবা অথবা মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়েছে
  • এই শিশুটি গর্ভে আসার পূর্বে পরপর তিনবার বিভিন্ন সময়ে বা মাসে Spontaneous Abortion হয়েছে বলে প্রচুর ঔষধ খাওয়ার পর এই শিশুটি জন্মেছে
  • গর্ভের শিশুটিকে অনাকাঙ্খিত মনে করে বিভিন্ন ঔষধ খেয়ে Induced Abortion করার চেষ্টা হয়েছিল কিন্তু গর্ভপাত হয়নি 
  • পাঁচ বছর আগে বিয়ে হলেও কোন সন্তান হয়নি বলে প্রচুর ঔষধ খেয়ে এই শিশুটি জন্মেছে
  • বিষধর সাপের দংশন এবং দংশনজনিত চিকিৎসার পর বিভিন্ন জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে
  • মায়ের ছোট বেলা অর্থাৎ প্রথম মাসিকের আগে থেকেই সাদা স্রাবের সমস্যা ছিল 
  • মায়ের প্রথম মাসিকে প্রচন্ড ব্যথা (Dysmenorrhea) ছিল।

পোস্ট রেবিস সিন্ড্রোম - চিকিৎসা

কোন প্রাণী যেমনঃ মানুষ, কুকুর, বিড়াল, বেজি, ইঁদুর, বাঁদুর, বানর, হনুমান, হায়েনা, কুমির, সাপ ইত্যাদির কামড় বা আঁচড়ের পর অথবা কোন পোকামাকড় বা বিষাক্ত পতঙ্গ যেমনঃ ভ্রমর, মৌমাছি, ভীমরুল, বিষ পিঁপড়া, ইত্যাদির কামড়ের পর থেকে জলাতঙ্ক ভিন্ন মারাত্মক রোগ যেমনঃ আক্রান্ত স্থানে সংক্রমণ হওয়া, হার্টের সমস্যা, কিডনির রোগ, লিভারের সমস্যা, অগ্নাশয়ের সমস্যা, স্নায়ুবিক সমস্যা, মানুষিক সমস্যা বা যেকোন প্রকার মারাত্মক শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হলে এর কার্যকর চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। এছাড়া  Post Rabies Syndrome (PRS) সমস্যায় প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার জন্য দক্ষ এবং রেজিস্টার্ড কোন হোমিও চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।ধন্যবাদ

যা যা জেনেছেন 

  • জলাতঙ্ক রোগ কিভাবে হয়
  • রেবিস ভ্যাকসিন দেয়ার নিয়ম
  • রেবিস ভ্যাকসিন ডোজ
  • রেবিস ভ্যাকসিন এর দাম
  • রেবিস ভ্যাকসিন এর কার্যকারিতা
  • রেবিস ভ্যাকসিন দেওয়ার নিয়ম
  • রেবিস ভ্যাকসিন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
  • বিড়ালের জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ
  • রেবিস ভ্যাকসিন ডোজ
  • কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন
  • কুকুর কামড়ালে কি রোগ হয়
  • কুকুর কামড়ালে করণীয়
  • কুকুর কামড় দিলে চিকিৎসা
  • কুকুর কামড় দিলে করনীয় কি
  • কুকুর কামড়ের চিকিৎসা
  • জলাতঙ্ক কাকে বলে
  • বিড়াল কামড়ালে কত দিনের মধ্যে টিকা দিতে হয়
  • কুকুরের কামড়ের ইনজেকশন 
  • জলাতঙ্ক রোগ কিভাবে হয়
  • জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ
  • জলাতঙ্ক রোগের টিকা দেওয়ার নিয়ম
  • জলাতঙ্ক রোগের চিকিৎসা
  • জলাতঙ্ক কি
  • জলাতঙ্ক রোগ কি
  • জলাতঙ্ক রোগের হোমিও চিকিৎসা
  • জলাতঙ্ক রোগের টিকার দাম
  • জলাতঙ্ক রোগের ঔষধ
  • গরুর জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ
  • জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাসের নাম কি
  • বিড়ালের জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ
  • জলাতঙ্ক রোগের ডাক্তার
  • জলাতঙ্ক রোগ কাকে বলে
Dr Imran
ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান
ডিএইচএমএস (বিএইচএমসি এন্ড হসপিটাল), ডিএমএস; ঢাকা
রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক (রেজিঃ নং-৩৩৪৪২)
যোগাযোগঃ আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, ডেমরা, ঢাকা।
Phone: +88 01671-760874; 01977-602004 (শুধু এপয়েন্টমেন্টের জন্য)
About Me: Profile ➤ Facebook ➤ YouTube ➤