সোমবার, ২১ জানুয়ারী, ২০১৯

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম PCOS এর চিকিৎসা বিষয়ে নারীদের যা জানতে হবে

নারীদের পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (পিসিওএস) Polycystic Ovary Syndrome (PCOS) এর চিকিৎসা নেয়ার আগে এই সম্পর্কে ধারণা নিয়ে ভিডিওটি দেখুন। এর কারণে মেয়েদের মুখে অবাঞ্ছিত লোম এবং ব্রণ, অনিয়মিত মাসিক,বন্ধ্যাত্ব, ওজন কমে যাওয়ার সমস্যা হতে দেখা যায়। এটি মূলত নারীদের মধ্যে অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন) এর মাত্রা বেড়ে যাওয়ার জন্য কিছু উপসর্গের সমাহার যা বিশেষজ্ঞ হোমিও ডাক্তারের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিলে ঠিক হয়ে যায়। 

বেশির ভাগ PCOS থাকা নারীদের ওভারিতে ছোট ছোট অনেক সিস্ট হয়। এজন্য একে পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম বলে। মূলত: সিস্টগুলো যখন ছোট থাকে তখন তা ক্ষতি নয়, আকার বড় হলেই তা ক্ষতিকর হয়। এগুলোই হরমোনের ভারসাম্যহীনতার জন্য দায়ী। সাধারণত: PCOS এর কারণে নারীদের ঋতুচক্রে অনিয়ম, প্রজননে সমস্যা, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, হার্টের রোগ, কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি পাওয়া ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। 

সিস্ট হলো ছোট পানি ভরা থলি, আর একাধিক সিস্টকে একসঙ্গে বলা হয় পলিসিস্ট। আর ওভারি যে ফিমেল রিপ্রোডাক্টিভ অরগ্যানগুলোর মধ্যে অন্যতম তা নিশ্চয়ই সবার জানা। ছোট ছোট সিস্ট (১০-১২টি) পুঁতির মালার মতো দেখতে ওভারি বা ডিম্বাশয়কে ঘিরে থাকে। এই সিস্টের জন্য ওভারির স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়। PCOS এ আক্রান্ত নারীদের ক্ষেত্রে আমরা যা যা দেখে থাকি-
  • শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমা। 
  • ঠোঁটের নিচে, গালে বা চিবুকে কখনোবা বুকে, পেটে, পিঠেও পুরুষালি লোম গজায়। 
  • পিরিয়ডের গোলমালের সুত্রপাত হয়, শুরুতে দুই-তিন মাস পরপর পিরিয়ড হয়। কখনোবা হরমোনের তারতম্য বেশি হলে বছরে দুই-তিনবার বা তারও কম পিরিয়ড হয়। কারো আবার অতিরিক্ত ব্লিডিং হয়। বিবাহিতাদের সন্তান ধারণে সমস্যা হয় অনিয়মিত পিরিয়ডের জন্য। 
  • অনেক ক্ষেত্রেই ইনফার্টিলিটির এক অন্যতম কারণ পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম।
  • অনিয়মিত মাসিক এবংবন্ধ্যাত্বের অন্যতম কারণ পলিসিস্টিক ওভারি ৷ 
মেয়েদের হরমোনাল সমস্যার মধ্যে ৫-১০ % এই পলিসিস্টিক ওভারি ৷ এই রোগটি যখন অনেক গুলো উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় তখন একে বলা হয় পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম ৷ সংক্ষেপে PCOS ৷

PCOS এর কারণ

PCOS এর সঠিক কারণ যদিও অজানা। কিন্তু ডাক্তারা বিশ্বাস করেন যে, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং বংশগতি একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এ ক্ষেত্রে। যেসব নারীর মা এবং বোনের PCOS আছে তাদের PCOS হবার সম্ভাবনা বেশি। তবে নারীদের শরীরে পুরুষ হরমোন অ্যান্ড্রোজেনের অত্যাধিক উৎপাদনও এর আরো একটি কারণ। অ্যান্ড্রোজেন হরমোন নারী দেহেও উৎপাদিত হয় কিন্তু PCOS থাকা নারীদের দেহে মাঝে মাঝে এর উৎপাদনের মাত্রা বেড়ে যায়। যা ডিম্বাশয় থেকে ডিম বের হওয়া এবং এর বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে।অতিরিক্ত ইন্সুলিন উৎপাদনও অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি কারণ হতে পারে। ইন্সুলিন হচ্ছে এমন একটি হরমোন যা শর্করা এবং শ্বেতসারকে শক্তিতে রুপান্তরিত করতে সাহায্য করে।

PCOS এর লক্ষণ

PCOS এর উপসর্গ শুরু হয় সাধারণত নারীদের ঋতুচক্র শুরু হওয়ার পর থেকেই। তবে উপসর্গের ধরণ এবং তীব্রতা একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। তবে সবচেয়ে সাধারণ যে উপসর্গ সবার মাঝে দেখা দেয় তা হলো অনিয়মিত পিরিয়ড।
যেহেতু PCOS এ নারী হরমোনের পরিমান কমে পুরুষ হরমোনের পরিমান বেড়ে যায় তাই নারীদের মাঝে তখন কিছু পুরুষালী বৈশিষ্ট্য দেখা দিতে থাকে।
  • মুখে, বুকে, পেটে, হাতে এবং পায়ের আঙ্গুলে অবাঞ্ছিত চুল গজানো
  • স্তনের আকার ছোট হয়ে যায়
  • গলার স্বর গভীর হয়ে যায়
  • চুল পড়তে শুরু করে
  • ব্রণ, ত্বকে আঁচিল
  • শরীরের ওজন বৃদ্ধি পাওয়া
  • কোমরের নিচের অংশ ব্যাথা
  • মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা
  • বন্ধ্যাত্ব
  • ওভারি আকারে বড় হয়ে যায় এবং ডিম্বাশয়ের চারদিকে অসংখ্য তরল পূর্ণ সিস্ট তৈরি হয়
  • অনিদ্রার এবং ঘুমের সময় নিঃশ্বাসে সমস্যা
  • অতিরিক্ত ইন্সুলিনের উৎপাদন
  • কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া
  • ডায়াবেটিস হওয়া
উল্লিখিত উপসর্গের অনেকগুলোই অনেকের ক্ষেত্রে হয়ত দেখা নাও দেখা দিতে পারে।

PCOS এর চিকিৎসা

নারীদের এই সমস্যার একটি উন্নত চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। প্রপার কেইস টেকিং এবং বিস্তারিত পর্যালোচনা করে হোমিও চিকিৎসা দিলে এই সমস্যা ঠিক হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। এর জন্য রেজিস্টার্ড কোন হোমিও চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। 
Dr Imran
ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান
ডিএইচএমএস, ডিএমএস, বিএসসি এন্ড এমএসসি; ঢাকা
রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক (রেজিঃ নং-৩৩৪৪২)
যোগাযোগঃ আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী-ডেমরা রোড, ঢাকা।
Phone: +88 01671-760874; 01977-602004 || E-mail : delowaridb@gmail.com
About Me: Profile ➤ Facebook ➤ YouTube ➤