মলদ্বারের রোগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মলদ্বারের রোগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২০

অর্শ বা পাইলস সারানোর উপায় Piles এর সার্জারী বা অপারেশন ছাড়া স্থায়ী চিকিৎসা

অর্শ Haemorrhoids, Piles বা পাইলস সারানোর উপায় এবং সার্জারী বা অপারেশন ছাড়া পাইলস এর চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। অর্শ বা পাইলস হলো মলদ্বারের ভেরিকোজ ভেইন অর্থাৎ রেক্টামের নিচের অংশে এবং মলদ্বারে ফুলে যাওয়া এবং ফাঁপা শিরা। এই রোগ হলে মলদ্বারে আঙ্গুর ফলের মতো বলি বের হতে পারে, সাথে রক্তপাত, মলদ্বার ভেজা, চুলকানি এবং জ্বালাযন্ত্রণা থাকতে পারে।

অনেকেই অপারেশন করে অর্শ বা পাইলসের  বলি অপসারণ বা কেটে ফেলে এর যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেতে চায় যদিও ৯৫% ক্ষেত্রেই তা সম্ভব নয়। এই সমস্যায় সার্জারী করলেও সেটা আবার হয়ে যায় বহু ক্ষেত্রেই। কারণ অর্শ বা পাইলসের সার্জারী বা অপারেশন হলো একটি সাময়িক চিকিৎসা আদৌ কোন স্থায়ী চিকিৎসা নয়। পাইলসের উপসর্গের মধ্যে রয়েছে পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া, এ রক্ত সাধারণত টাটকা লাল হয়। তাছাড়া মলদ্বারে ব্যথা বা জ্বালা, মলদ্বারে মাংসপিণ্ড ফুলে ওঠা যাকে বলি বলা হয়ে থাকে, যা কখনও কখনও মলদ্বারের বাইরে ঝুলে পড়ে এবং হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দিতে হয়। আর সেটাই কেটে সাময়িক সময়ের জন্য আরাম দেয়া হয়ে থাকে। 
সার্জারী বা অপারেশন অর্শ বা পাইলস সারানোর কোন স্থায়ী উপায় নয় বরং জোড়াতালি মার্কা একটি সাময়িক আরাম দেয়ার চিকিৎসা মাত্র। কারণ এখানে মূল রোগটির কোন চিকিৎসা করা হচ্ছে না বরং মূল রোগ কর্তৃক সৃষ্ট একটি উপসর্গের চিকিৎসা করা হচ্ছে। তাছাড়া এই রকম জটিল সমস্যাগুলির মূলত কোন স্থায়ী এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই। কারণ এলোপ্যাথিক চিকিৎসায় রেজাল্ট অফ ডিজিসের চিকিৎসা করা হয় মূল রোগের কোন চিকিৎসাই করা হয় না। 

সার্জারী বা অপারেশন করলেও অর্শ বা পাইলস আবার হয় কেন?

দেখা যায়, অর্শ বা পাইলস হওয়ার পেছনে বহু দিনের নানা প্রকার পেটের পীড়াকে সাধারণভাবে দায়ী করা হয়ে থাকে যদিও এই রোগ হওয়ার প্রকৃত কারণ হলো রোগীর DNA. বিস্তারিত দেখুন। আপনি বহু দিন যাবৎ পেটের পীড়া যেমন - আমাশয়, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, IBS, IBD ইত্যাদিতে ভুগছেন। আপনার পেটের অসুখ যেমন আমাশয়, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি দীর্ঘদিন থাকলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রেক্টামে বারবার চাপ সৃষ্টি হওয়ার ফলে সেখানে অর্থাৎ মলদ্বারের ভেতর বা বাহিরে শিরা ফুলে অর্শ বা পাইলসের বলি তৈরি হলো আর আপনি সার্জারি করে সেটিকে কেটে ফেলে কিছুটা সময়ের জন্য স্বস্তি পেলেন মাত্র আপনার মূল সমস্যা তো থেকেই গেলো। অর্থাৎ যেহেতু আপনার পেটের অসুখের স্থায়ী চিকিৎসা না করে একটা লক্ষণ বা উপসর্গের চিকিৎসা করলেন তাই কিছুটা সময় পর আবার আপনার মলদ্বারের ভেতর বা বাহিরে শিরা ফুলে অর্শ বা পাইলসের বলি তৈরি হচ্ছে। গর্ভাবস্থায়ও অর্শ বা পাইলস তৈরী হতে পারে আবার এর কারণে মলদ্বার দিয়ে রক্তও যেতে পারে। 
Piles এর সার্জারী বা অপারেশন ছাড়া স্থায়ী চিকিৎসা
এখানে মূলত সার্জারী বা অপারেশন অর্শ বা পাইলস সারানোর কোন স্থায়ী উপায় নয় বরং জোড়াতালি মার্কা একটি সাময়িক আরাম দেয়ার চিকিৎসা মাত্র। আপনার পেটের সমস্যার স্থায়ী চিকিৎসা না করা হলে আপনি বার বার অর্শ বা পাইলসের সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। আর এই রকম জটিল রোগ-ব্যাধির মূলত কোন স্থায়ী এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই। কারণ এলোপ্যাথিক চিকিৎসায় রেজাল্ট অফ ডিজিসের চিকিৎসা করা হয় মূল রোগের কোন চিকিৎসাই করা হয় না। মূল রোগটি থাকে মানুষের DNA এর মধ্যে যা জন্মলগ্ন থেকেই মানুষ নিয়ে আসে। সেখানে যে True Disease টি প্রি-ডোমিনেন্ট অবস্থায় থাকে সেটিই শরীরে নানা প্রকার লক্ষণ ও উপসর্গ তৈরি করে থাকে আর সেই লক্ষণ ও উপসর্গগুলিকে রোগের নাম দিয়ে চিকিৎসা করে থাকে এলোপ্যাথিক চিকিৎসা শাস্ত্র। কিন্তু DNA তে বিদ্যমান True Disease কে প্রচ্ছন্ন করার কোন এলোপ্যাথিক চিকিৎসাই নেই। আর তাই এলোপ্যাথিক চিকিৎসায় অর্শ বা পাইলসের মতো সমস্যাগুলি স্থায়ীভাবে ভালো হয় না ৯৫% ক্ষেত্রেই। ৫% ক্ষেত্রে পেটের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করে চললে কিছুটা সুফল পাওয়া যায় মাত্র। তাছাড়া আপনি হয়তো দেখে থাকবেন, বিভিন্ন রোগ-ব্যাধিতে এলোপ্যাথিক চিকিৎসকরা ঔষধ খেয়ে যেতে বলে সারা জীবন ধরে। আর কিছু কিছু সমস্যায় সার্জারী করে রোগ লক্ষণ বা উপসর্গের চিকিৎসা দিয়ে সাময়িক আরাম দেয়ার চেষ্টা করা হয়ে থাকে মাত্র, নির্দোষ ভাবে রোগ আদৌ নির্মূল হয় না।

অর্শ বা পাইলসের সার্জারী বা অপারেশন জটিলতাগুলির মধ্যে রয়েছে - ঘন ঘন মল ত্যাগের প্রবৃত্তি সৃষ্টি হওয়া, মলদ্বার ফুটো হয়ে যাওয়া, ইনফেকশন ঝুঁকি ইত্যাদি। তবে পাইলস সার্জারী করার পর সেটি ৯৫% ক্ষেত্রেই আবার হয়ে যায়। অর্থাৎ যেহেতু মূল রোগের চিকিৎসা না করে মূল রোগটি সৃষ্ট একটি লক্ষণ বা উপসর্গের চিকিৎসা করা হচ্ছে তাই DNA তে বিদ্যমান True Disease টি আবার মলদ্বারে সেই লক্ষন ও উপসর্গ তৈরী করে থাকে। আর এই কারণে সার্জারী বা অপারেশন করেও Piles আদৌ সারানো যায় না।

অর্শ বা পাইলস সারানোর স্থায়ী উপায় কি?

বর্তমান বিশ্বে অর্শ বা পাইলস সারানোর একটি স্থায়ী উপায় হলো - Real Homeopathic Therapeutic System অর্থাৎ Go Back ফর্মুলায় চিকিৎসা দেয়া বা নেয়া। এই মেথডে চিকিৎসা দিলে বা নিলে যে কারণে পাইলস তৈরি হয়ে থাকে সেটি অর্থাৎ রোগীর DNA তে বিদ্যমান অর্শ বা পাইলসের লক্ষণ সৃষ্টিকারী True Disease টি প্রচ্ছন্ন হয়ে আসে তখন পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া, মলদ্বারে মাংসপিণ্ড ফুলে ওঠা, মলদ্বারে ব্যথা বা জ্বালার মতো উপসর্গগুলি স্থায়ী ভাবে দূর হয়ে যায় এবং তা আর ফিরে আসে না। তবে এই সমস্যার চিকিৎসা নিতে হলে আগে আপনাকে রিয়েল হোমিওপ্যাথিতে এক্সপার্ট একজন হোমিও চিকিৎসক খুঁজে বের করতে হবে যিনি ঠিকঠাক ভাবে আপনার কেইস টেকিং করে চিকিৎসা কার্যটি সম্পাদন করতে পারবেন। ধন্যবাদ। 

যা যা জেনেছেন -

  • পাইলস কি
  • পাইলস এর চিকিৎসা কোথায় ভালো হয়
  • অপারেশন ছাড়া পাইলস এর চিকিৎসা
  • পাইলস অপারেশন
  • পাইলস অপারেশন এর খরচ
  • পাইলস এর চিকিৎসা
  • পাইলস অপারেশন ভিডিও
  • পাইলস এর ডাক্তার ঢাকা
  • পাইলস সারানোর উপায়
  • পাইলস চিকিৎসা
  • অর্শ রোগের হোমিও ঔষধ
  • piles center dhaka
  • piles doctor specialist
  • colorectal surgeon in uttara dhaka
  • colorectal surgeon in bsmmu
বিস্তারিত

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২০

পাইলস, এনাল ফিশার এবং ফিস্টুলা বা ভগন্দর - কারণ লক্ষন চিকিৎসা ও হোমিওপ্যাথিক ঔষধ

অর্শ বা পাইলস Haemorrhoids (Piles), এনাল ফিশার (Anal Fissure), অ্যানাল ফিস্টুলা Anal Fistula (ভগন্দর) ইত্যাদি হলো মানুষের মলদ্বারের জটিল এবং কষ্টদায়ক রোগগুলির মধ্যে অন্যতম। কেউ এই সমস্যাগুলির যেকোন একটিতে আক্রান্ত হলে যদি প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা না নিয়ে বিভিন্ন অপচিকিৎসার শিকার হয় তাহলে তাদের কষ্ট বা দুর্ভোগের সীমা থাকে না। যথা সময়ে প্রপার হোমিও চিকিৎসা নিলে এই সমস্যাগুলি তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যায় কিন্তু রোগটি যদি বহু দিনের পুরাতন হয়ে যায় বা ক্রনিক অবস্থায় থাকে তাহলে পুরুপুরি সারতে কিছুটা সময় লাগে। তবে হোমিও চিকিৎসার শুরুতে কয়েক দিনের মধ্যেই রোগীর যাবতীয় জটিল উপসর্গ বা কষ্টগুলি কমতে শুরু করে বিধায় রোগী প্রথম দিকেই অনেক আরাম অনুভব করতে থাকে।

অর্শ বা পাইলস Hemorrhoids (Piles)

অর্শ বা পাইলস হলো মলদ্বারের ভেরিকোজ ভেইন অর্থাৎ রেক্টামের নিচের অংশে মলদ্বারে ফুলে যাওয়া এবং ফাঁপা শিরা। এই রোগ হলে মলদ্বারে আঙ্গুর ফলের মতো বলি বের হতে পারে, সাথে রক্তপাত, মলদ্বার ভেজা, চুলকানি এবং জ্বালাযন্ত্রণা থাকতে পারে। অর্শ বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যদিও এর সঠিক কারণ প্রায়ই জানা যায় না। তবে আমরা যেগুলি বেশি দেখে থাকি এর মধ্যে রয়েছে- দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য, দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া, পরিবারে কারও পাইলস থাকার ইতিহাস ইত্যাদি। এছাড়া মলত্যাগের সময়ে অত্যধিক চাপ দেওয়ার কারণে বা গর্ভাবস্থায় রেক্টামের শিরার উপর চাপ পড়ার কারণেও হতে পারে।

লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে - পায়খানার সময় ব্যথাহীন রক্তপাত হওয়া, মলদ্বারে জ্বালাপোড়া, যন্ত্রণা বা চুলকানি হওয়া, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মলদ্বারে ব্যথাও হতে পারে। এটি নির্ভর করে অর্শের তীব্রতার উপরে। যে অর্শ কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য হয়, খাদ্যাভ্যাসের এবং জীবনধারার গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করা উচিত।

এনাল ফিশার (Anal Fissure) মলদ্বারে ফাটা, ঘা

এনাল ফিশার মলদ্বারের বা পায়ুপথের আরকেটি জটিল প্রকৃতির রোগ। এই রোগের সাধারণ লক্ষণ হল ব্যথা এবং রক্তপাত। সাধারণত, মলত্যাগ করার সময় ব্যথাটা শুরু হয় এবং প্রায় এক ঘন্টার জন্য থাকতে পারে। এতে ফোলাভাব ও অনুভব করা যায়। সাধারনত ব্যথার তীব্রতা সহ্য করা যায়, কিন্তু কখনো কখনো অসহ্য ব্যথাও হতে পারে। পায়খানায়, টিস্যু পেপারে, বা মলদ্বারের চারপাশে লাল রক্তের দাগ দেখা যায়। এছাড়া জ্বালা, চুকলানি, রক্ত, পুঁজ ইত্যাদি দেখা দিয়ে থাকে। মলদ্বারের চামড়ায় একটি পাতলা ফাটল দেখা যায়। দুইবার মলত্যাগ করার মাঝে এই লক্ষণগুলো সাধারনত আর দেখা যায় না।

প্রধানত কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য পায়ু নালীর মাধ্যমে শক্ত, বড় আকারের মল নামার ফলে এনাল ফিশার হয়। ইনফ্লেমমেটরি বাওয়েল ডিজিজ আইবিডি, যেমন - ক্রনস ডিজিজ এর ফলেও ফিশার হতে পারে। গর্ভাবস্থায় এবং সন্তানের জন্মের সময় ফিশার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও পাতলা পায়খানা এবং স্থায়ী ডায়রিয়া ও এই রোগের কারণ হতে পারে।

অ্যানাল ফিস্টুলা Anal Fistula (ভগন্দর)

মলদ্বারে ফোঁড়া বা অ্যাবসেস হলে সেটা এক সময় বাইরে এবং পায়ুপথের ভিতরে ফেটে যায় এবং পায়ুপথের সঙ্গে বাইরের একটি সংযোগ বা নালি তৈরি করে যাকে Anal Fistula অ্যানাল ফিস্টুলা বা ভগন্দর বলা হয়ে থাকে। এটি দিয়ে মলদ্বার বা পায়ুপথ থেকে পুঁজ, রক্ত, মল ইত্যাদি বাইরে আসতে থাকে।

মলদ্বারের ভেতরে অনেক গ্রন্থি রয়েছে, এগুলোর সংক্রমণের কারণে ফোড়া হয়। এই ফোড়া এক সময় ফেটে গিয়ে মলদ্বারের চতুর্দিকের কোনো এক স্খানে একটি ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে আসে এবং পুঁজ নির্গত হতে থাকে এবং তা নালী হয়ে বাহিরের দিকে বের হয় যা দেখতে পোড়ার মত মনে হয় । ( কেউ কেউ মনে করেন কৃমির বাসা থেকে এর উৎপত্তি ! আসলে তা ঠিক নয় তবে কৃমির উপদ্রবের কারনে নুখ দিয়ে চুলকাতে গিয়ে অনেক সময় পায়খানার রাস্থার ভিতরে ইনফেকশন বা ছিদ্র হয়ে হতে পারে)

এই সমস্যা তৈরী হওয়ার পেছনে যে যে কারণগুলি দায়ী সেগুলির মধ্যে রয়েছে - যক্ষ্মা, মলাশয় বা পায়ুপথের ক্যান্সার, এইচআইভি ও এইডস, ক্ল্যামিডিয়া,সিফিলিস, আলসার, সেখানে বিভিন্ন অপারেশনের জটিলতা ইত্যাদি।

পাইলস, এনাল ফিশার, ফিস্টুলা - চিকিৎসা

এই রোগগুলির স্থায়ী কোন এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই। তাই এলোপ্যাথিক চিকিৎসকরা এই সমস্যা হলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আরেকটি শাখা সার্জারিতে ট্রান্সফার করে। তবে সার্জারি বা অপারেশন করলে সাময়িক কিছু সময়ের জন্য আরাম পাওয়া যায় কিন্তু তারপর সমস্যাটি আবার ফিরে আসে এবং সাথে সাথে সমস্যাটি আরো জটিল আকার ধারণ করে। তাই সার্জারি এই সমস্যাগুলির কোন স্থায়ী সমাধান নয়। এই সমস্যাগুলি প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় রোগের তীব্রতা অনুসারে কমবেশি সময়ের ব্যবধানে ঠিক হয়ে যায়। তাই অর্শ বা পাইলস Hemorrhoids (Piles), এনাল ফিশার (Anal Fissure) মলদ্বারে ফাটা, অ্যানাল ফিস্টুলা Anal Fistula (ভগন্দর) মলদ্বারের এই সব জটিল পীড়ায় অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শক্রমে প্রপার হোমিও চিকিৎসা নিন। ধন্যবাদ।

পাইলস, এনাল ফিশার, ফিস্টুলা - হোমিওপ্যাথিক ঔষধ

মলদ্বারের এই জটিল এবং কষ্টদায়ক রোগগুলি চিকিৎসার জন্য রয়েছে বিভিন্ন শক্তির বহু হোমিওপ্যাথিক ঔষধ। একজন হোমিও চিকিৎসক মূলত পেশেন্টের হিস্ট্রি নিয়ে তার সার্বদৈহিক অবস্থা এবং জেনেটিক অবস্থা বিবেচনা পূর্বক নির্দিষ্ট ঔষধ নির্দিষ্ট শক্তিতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রয়োগ করে করে ইম্প্রোভমেন্টে নিয়ে যাবেন। রেপার্টরীতে পাইলস চিকিৎসার জন্য যে যে ঔষধগুলি রয়েছে-
পাইলস - হোমিওপ্যাথিক ঔষধ
এই ঔষধগুলি থেকে পেশেন্টের জন্য নির্বাচিত ঔষধ একজন এক্সপার্ট হোমিও চিকিৎসক পেশেন্টের শরীরে প্রয়োগ করবেন। আবার ফিশার চিকিৎসার জন্য হোমিওতে যে যে ঔষধগুলি রয়েছে-
এনাল ফিশার-হোমিওপ্যাথিক ঔষধ
এনাল ফিস্টুলার চিকিৎসার জন্যও রয়েছে বহু হোমিওপ্যাথিক ঔষধ। এখানে রেপার্টরীতে যে যে ঔষধগুলি রয়েছে -
এনাল ফিস্টুলা-হোমিওপ্যাথিক ঔষধ
এই ঔষধগুলি থেকে পাইলস, এনাল ফিশার এবং ফিস্টুলা বা ভগন্দর এর চিকিৎসার ক্ষেত্রে একেক জনের জন্য একেক রকম ঔষধ প্রয়োগ করতে হয় পেশেন্টের হিস্ট্রি নিয়ে। আর এটি করতে পারেন এক্সপার্ট একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। তাই প্রপার হোমিও চিকিৎসার মাধ্যমে রোগ নির্মূলের জন্য অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরী।
বিস্তারিত

শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২০

মলদ্বার বা পায়খানার রাস্তা বা পায়ু পথে রক্ত পড়ার কারণ ও প্রতিকার

পায়খানা করা ছাড়া অথবা পায়খানার সময় রক্ত যাওয়াকেই মূলত আমরা মলদ্বার দিয়ে রক্তক্ষরণ বুঝে থাকি। পায়ু পথে রক্ত পড়ার কারণ ও প্রতিকার এবং মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ করার উপায় সম্পর্কে আজ আমরা জানবো। পায়ুপথে রক্ত যাওয়া মূলত কোন রোগ নয়, বরং অন্য কোন রোগের লক্ষণ বা উপসর্গ মাত্র। যেহেতু পায়ুপথে রক্ত যাওয়া একটি অস্বাভাবিক ব্যাপার, তাই পায়ুপথে রক্ত গেলে তা যেকোন বয়সেই হোক না কেন, অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে ব্যবস্থা নিতে হবে। রক্ত পড়ার কারণ সাধারণ রোগ থেকে শুরু করে মারাত্মক ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।

পায়ু পথে রক্ত পড়ার কারণ

আগেই বলেছি, পায়ু পথে রক্ত যাওয়া নিজে কোন রোগ নয়, অন্য কোন রোগের লক্ষণ বা উপসর্গ মাত্র। আসুন এবার জেনে নেই কি কি কারণে মলদ্বার বা পায়খানার রাস্তা বা পায়ু পথ দিয়ে রক্ত আসতে পারে -

পাইলস বা হেমরয়েড : অর্শ রোগ নামেই অনেকে চিনে থাকেন। এই রোগে আক্রান্ত হলে অনেকেরই মলদ্বার দিয়ে রক্ত আসতে পারে। প্রথম দিকে পায়খানার পরে টাটক রক্ত ফোটায় ফোটায় বা ফিনকি দিয়ে পড়তে পারে, কিছুদিন পর মলদ্বার দিয়ে মাংসপিণ্ডের মতো বের হতে পারে।

এনাল ফিসার : এই রোগে মলদ্বার ফেটে যায় এবং এ ক্ষেত্রে সেখানে থেকে রক্ত আসতে পারে। এই সম্যসায় রক্ত পড়া ছাড়াও মলত্যাগের সময় ও পরে ব্যথা হতে পারে।

রেক্টাল পলিপ : এই সমস্যা হলে মলদ্বার বা পায়খানার রাস্তা দিয়ে টাটকা রক্ত যায়।  মলদ্বারে গোটার মতো বের হতে পারে। 

রেক্টামে ক্যান্সার : এ রোগ পায়ুপথে রক্ত যাওয়ার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। অনেকে পাইলস মনে করে যথাযথ চিকিৎসা না নিয়ে রোগটি জটিল করে ফেলেন।রেক্টামে ক্যান্সার হলে পায়ুপথে টাটকা রক্ত, মিউকাস যাওয়া ছাড়াও মলত্যাগের পর আরো মলত্যাগের ইচ্ছা থেকে যায়। মাঝে মাঝে ডায়রিয়া ও মাঝে মাঝে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।

রেক্টাল ফিস্টুলা : পায়ুপথের ভেতরে অনেকগুলো গ্রন্থি বা গ্লান্ড থাকে। এই গ্রন্থিতে সংক্রমণের কারণে মলদ্বারের পাশে ফোঁড়া হয়। এই ফোঁড়া একসময় ফেটে গিয়ে ফিস্টুলা হয়। এই রোগ হলে মলদ্বার বা পাশের অঞ্চল ফুলে যায়, ব্যথা করে, পুঁজ বা রক্তও বের হতে পারে। 

রেক্টাল আলসার : রেক্টামে যদি কোন কারণে ক্ষত তৈরী হয় এর কারণেও মলদ্বার দিয়ে রক্ত আসতে পারে। 

বেসিলারি ডিসেন্ট্রি : এক প্রকার আমাশয় যাকে আমরা রক্তামাশয় নামেই বেশি চিনি। এই সমস্যায় পেটের যন্ত্রণা এবং পায়খানা করার সময় রক্ত বের হয়ে থাকে। 
ক্রনস ডিজিজ : এই মূলত ইনফ্লেমেটরি বাওয়েল ডিজিজ - আইবিডি এর একটি রূপ। এই রোগে মুখ থেকে শুরু করে পায়ুপথ পর্যন্ত যেকোন স্থান আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত  স্মল ইনটেসটাইনের একটি বিশেষ অংশ ইলিয়াম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই রোগে কেউ আক্রান্ত হলে অন্যন্য উপসর্গের সাথে মলের সাথে রক্ত যাওয়া বা মলদ্বার দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে। 

 আলসারেটিভ কোলাইটিস : পেটের একটি দুরারোগ্য পীড়া বলেই বিবেচিত হয় আলসারেটিভ কোলাইটিস। ইনফ্লেমেটরি বাওয়েল ডিজিজ আইবিডি এর একটি রূপ হলো আলসারেটিভ কোলাইটিস। আমাদের কোলন বা বৃহদান্ত্রের প্রদাহকেই মূলত কোলাইটিস বলা হয়ে থাকে। ডায়রিয়ার সাথে রক্ত পড়া বা রক্ত আমাশয় হলো আলসারেটিভ কোলাইটিসের প্রধান লক্ষণ। এছাড়াও এর আরো বিভিন্ন উপসর্গ রয়েছে। 

এছাড়াও ডাইভার্টিকুলার ডিজিজ, ইন্টাস সাসসেপশান, এনজিও ডিস্লাসিয়া বা আঘাতজনিত কারণ সহ আরো বিভিন্ন কারণে মলদ্বার দিয়ে রক্ত আসতে পারে।

পায়ু পথে রক্ত পড়ারপ্রতিকার বা চিকিৎসা

কি কারণে মলদ্বার দিয়ে রক্ত আসছে সেগুলি নির্ণয় করে এর চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। তবে যে কারণেই পায়ু পথে রক্ত যাওয়ার সমস্যা তৈরী হোক না কেন এর প্রপার চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। আপনি যদি অভিজ্ঞ কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেন তাহলে এই সমস্যা দূর হয়ে অচিরেই সুস্বাস্থ ফিরে পাবেন ইনশা-আল্লাহ।

যা যা জেনেছেন

  • পায়ুপথে রক্তক্ষরণ
  • পায়খানার রাস্তা জ্বলে কেন
  • পায়খানার পর মলদ্বারে জ্বালা
  • মলদ্বার ফেটে গেলে করনীয়
  • পায়খানার রাস্তার পাশে ফোড়া
  • মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ
  • পাইলস এর ব্যাথা কমানোর উপায়
  • পায়খানার রাস্তায় ব্যথা হওয়ার কারণ
  • পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির উপায়
  • পাইলস এর জন্য হোমিও চিকিৎসা
  • মলদ্বারে রক্ত পড়া বন্ধ করার উপায়
  • পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্ত যাওয়ার কারণ কি
  • পায়খানার রাস্তা ফুলে যাওয়ার কারণ
  • পায়খানার রাস্তায় চুলকানি কেন হয়
  • পায়খানার সাথে রক্ত পড়া কিসের লক্ষণ
বিস্তারিত

বুধবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯

মলদ্বারের রোগ অ্যানাল ফিস্টুলা Anal Fistula বা ভগন্দর রোগের কারণ উপসর্গ চিকিৎসা

মলদ্বারে ফোঁড়া বা অ্যাবসেস হলে সেটা এক সময় বাইরে এবং পায়ুপথের ভিতরে ফেটে যায় এবং পায়ুপথের সঙ্গে বাইরের একটি সংযোগ বা নালি তৈরি করে যাকে Anal Fistula অ্যানাল ফিস্টুলা বা ভগন্দর বা নালী ঘা ও বলা হয়ে থাকে। এটি দিয়ে মলদ্বার বা পায়ুপথ থেকে পুঁজ, রক্ত, মল ইত্যাদি বাইরে আসতে থাকে। 

অ্যানাল ফিস্টুলা Anal Fistula  - কারণ

মলদ্বারের ভেতরে অনেক গ্রন্থি রয়েছে, এগুলোর সংক্রমণের কারণে ফোড়া হয়। এই ফোড়া এক সময় ফেটে গিয়ে মলদ্বারের চতুর্দিকের কোনো এক স্খানে একটি ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে আসে এবং পুঁজ নির্গত হতে থাকে এবং তা নালী হয়ে বাহিরের দিকে বের হয় যা দেখতে পোড়ার মত মনে হয় । (কেউ কেউ মনে করেন কৃমির বাসা থেকে এর উৎপত্তি ! আসলে তা ঠিক নয় তবে কৃমির উপদ্রবের কারনে নুখ দিয়ে চুলকাতে গিয়ে অনেক সময় পায়খানার রাস্থার ভিতরে ইনফেকশন বা ছিদ্র হয়ে হতে পারে ) অ্যানাল ফিস্টুলা হওয়ার অন্যান্য কারণগুলো হতে পারে-
  • মলাশয় বা পায়ুপথের ক্যান্সার - কোলনের শেষে একটি এলাকা যেখানে মল সংরক্ষিত হয়
  • যক্ষ্মা - এর কারনে প্রধানত ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশন ঘটে, কিন্তু পরবর্তীতে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে
  • এইচআইভি ও এইডস - এমন একটি ভাইরাস যা শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে (রোগ এবং ইনফেকশনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষাকারী) আক্রমণ করে
  • ক্ল্যামিডিয়া - যৌন মিলনের মাধ্যমে ছড়ানো ইনফেকশন যা কোন উপসর্গ দেখায় না
  • সিফিলিস - ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশন যা ড্রাগ, রক্ত বা যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ায়
  • আলসার (বেদনাদায়ক কালশিটে)
  • অপারেশনের জটিলতা
  • স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে জন্ম গ্রহন
কিন্তু প্রকৃত কারণ হলো Tubercular Diathesis অথাৎ Tubercular Diathesis এর পেশেন্ট কিন্তু Syphilitic Predominant or Psoric Predominant. আর এটি একমাত্র হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতে ইনভেস্টিগেশন করে নির্ণয় করে চিকিৎসা দিলে ঠিক হয়ে আসে।

অ্যানাল ফিস্টুলা Anal Fistula - লক্ষণ

  • পায়ুপথে ব্যথা হওয়া
  • পেটে তীক্ষ্ণ ব্যথা
  • মলের সাথে রক্ত যাওয়া
  • মলদ্বার দিয়ে রক্তক্ষরণ
  • পিঠের নিম্নাংশের মাংসপেশীতে টান বা খিঁচুনি দেখা দেওয়া
  • শরীরের নিম্নাংশে ব্যথা
  • মলের সাথে স্রাব বা মিউকাস নির্গত হওয়া
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • পায়ুপথের চারিদিকে ফোলা বা চাকা
  • অনৈচ্ছিক মলত্যাগ
  • অণ্ডথলিতে চাকা/পিণ্ড

অ্যানাল ফিস্টুলা Anal Fistula - চিকিৎসা

এলোপ্যাথিতে এর ভালো কোনো চিকিৎসা নেই। তাই সেখানে ডাক্তারগণ সার্জারি করার পরামর্শ দেন। সাধারণত অ্যানাল ফিস্টুলার সার্জারির ফলে জটিলতার সৃষ্টি হয়। এর ফলে ইনফেকশন, মলত্যাগের চাপ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং পুনরায় অ্যানাল ফিস্টুলা হতে পারে। তাই সার্জারি করার আগে ভালোভাবে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিবেন। তবে  অ্যানাল ফিস্টুলার সমস্যার স্থায়ী চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। তবে এর জন্য অবশ্যই এক্সপার্ট একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরী। 
বিস্তারিত

মঙ্গলবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯

এনাল ফিশার Anal Fissure মলদ্বারে ফাটা ঘা ব্যথা জ্বালা চুলকানি রক্ত পুঁজ প্রতিকার ও প্রতিরোধ

এনাল ফিশার মলদ্বারের বা পায়ুপথের আরকেটি জটিল প্রকৃতির রোগ। এই রোগের সাধারণ লক্ষণ হল ব্যথা এবং রক্তপাত। সাধারণত, মলত্যাগ করার সময় ব্যথাটা শুরু হয় এবং প্রায় এক ঘন্টার জন্য থাকতে পারে। এতে ফোলাভাব ও অনুভব করা যায়। সাধারনত ব্যথার তীব্রতা সহ্য করা যায়, কিন্তু কখনো কখনো অসহ্য ব্যথাও হতে পারে। পায়খানায়, টিস্যু পেপারে, বা মলদ্বারের চারপাশে লাল রক্তের দাগ দেখা যায়। এছাড়া জ্বালা, চুকলানি, রক্ত, পুঁজ ইত্যাদি দেখা দিয়ে থাকে। মলদ্বারের চামড়ায় একটি পাতলা ফাটল দেখা যায়। দুইবার মলত্যাগ করার মাঝে এই লক্ষণগুলো সাধারনত আর দেখা যায় না।

এনাল ফিশার - প্রধান কারণগুলো

  • কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য পায়ু নালীর মাধ্যমে শক্ত, বড় আকারের মল নামার ফলে এনাল ফিশার হয়
  • Inflammatory Bowel Disease(IBD), Irritable bowel syndrome-IBS Crohn's disease এর ফলেও ফিশার হতে পারে
  • গর্ভাবস্থায় এবং সন্তানের জন্মের সময় ফিশার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে
  • এছাড়াও পাতলা পায়খানা এবং স্থায়ী ডায়রিয়াও এই রোগের কারণ হতে পারে

এনাল ফিশার - লক্ষণ ও উপসর্গ

  • এই রোগের সাধারণ লক্ষণ হল ব্যথা এবং রক্তপাত
  • সাধারণত, মলত্যাগ করার সময় ব্যথাটা শুরু হয় এবং প্রায় এক ঘন্টার জন্য থাকতে পারে
  • এতে চুলকানি এবং ফোলা ভাব ও অনুভব করা যায়
  • সাধারনত ব্যথার তীব্রতা সহ্য করা যায়, কিন্তু কখনো কখনো অসহ্য ব্যথাও হতে পারে
  • পায়খানায়, টিস্যু পেপারে, বা মলদ্বারের চারপাশে লাল রক্তের দাগ দেখা যায়
  • মলদ্বারের চামড়ায় একটি পাতলা ফাটল দেখা যায়
  • দুইবার মলত্যাগ করার মাঝে এই লক্ষণগুলো সাধারনত আর দেখা যায় না

এনাল ফিশার - প্রতিরোধ

প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। প্রতিরোধের জন্যে নিন্মোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলা যেতে পারে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য যাতে না হয় সে ব্যবস্থা করা
  • অতিরিক্ত চাপ দিয়ে মলত্যাগের বদভ্যাস ত্যাগ করা
  • বারে বারে মলত্যাগের অভ্যাস ত্যাগ করা
  • নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন
  • অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করা
  • ডায়রিয়া হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া
  • পেটের যেকোন পীড়ায় যথাযথ হোমিও ট্রিটমেন্ট নিয়ে সেটা নির্মূল করা

এনাল ফিশার - কার্যকর চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথি হলো এনাল ফিশার সমস্যার সবচেয়ে উন্নত চিকিৎসা। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে এই সমস্যা দূর করতে এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
যা যা জেনেছেন-
  • এনাল ফিসার
  • এনাল ফিশারের ছবি
  • এনাল ফিশারের ঘরোয়া চিকিৎসা
  • এনাল ফিশারের হোমিও ঔষধ
  • এনাল ফিশার অপারেশন খরচ
  • এনাল ফিশার অপারেশন ভিডিও
  • মলদ্বারের হোমিও চিকিৎসা
  • মলদ্বারে মাংস বৃদ্ধি
বিস্তারিত

সোমবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০১৯

অর্শ বা পাইলস Haemorrhoids (Piles) কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ

অর্শ বা পাইলস হলো মলদ্বারের ভেরিকোজ ভেইন অর্থাৎ রেক্টামের নিচের অংশে এবং মলদ্বারে ফুলে যাওয়া এবং ফাঁপা শিরা। এই রোগ হলে মলদ্বারে আঙ্গুর ফলের মতো বলি বের হতে পারে, সাথে রক্তপাত, মলদ্বার ভেজা, চুলকানি এবং জ্বালাযন্ত্রণা থাকতে পারে। অর্শ বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যদিও আধুনিক বিজ্ঞানের মতে এর সঠিক কারণ প্রায়ই জানা যায় না তবে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শাস্ত্র মতে DNA তে বিদ্যমান নানা প্রকার True Disease প্রি-ডোমিনেন্ট থাকার কারণে অর্শ বা পাইলসের সমস্যা সৃষ্টি হয় বলে বাস্তব প্রমান পাওয়া যায়। আর এই কারণে এলোপ্যাথিতে এই রোগের চিকিৎসা না থাকলেও হোমিওপ্যাথিতে এই সমস্যা দূর করার কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে। 

সাধারণ ভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, মলত্যাগের সময়ে অত্যধিক চাপ দেওয়ার কারণে বা গর্ভাবস্থায় রেক্টামের শিরার উপর চাপ পড়ার কারণেও হতে পারে। লক্ষণগুলি সামান্য চুলকানি ও অস্বস্তি থেকে রক্তক্ষরণ এবং স্থানচ্যুতিও হতে পারে। এটি নির্ভর করে অর্শের তীব্রতার উপরে। যদি চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে অর্শ দীর্ঘস্থায়ী অসুখে পরিণত হবে, ব্যথা ও জ্বালা হবে। তারপর থ্রম্বোসিস (রক্ত জমাট বাঁধ) এবং ঘা হতে পারে। যে অর্শ কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য হয়, খাদ্যাভ্যাসের এবং জীবনধারার গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করা উচিত।

অর্শ বা পাইলস হলে বুঝবেন কি করে

মলদ্বারের অভ্যন্তরে হলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে..
  • পায়খানার সময় ব্যথাহীন রক্তপাত হওয়া।
  • মলদ্বারের ফোলা বাইরে বের হয়ে আসতে পারে, নাও পারে । যদি বের হয় তবে তা নিজেই ভেতরে চলে যায় অথবা হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া যায়। কখনও কখনও এমনও হতে পারে যে, বাইরে বের হওয়ার পর তা আর ভেতরে প্রবেশ করানো যায় না বা ভেতরে প্রবেশ করানো গেলেও তা আবার বের হয়ে আসে।
  • মলদ্বারে জ্বালাপোড়া, যন্ত্রণা বা চুলকানি হওয়া।
  • কোনো কোনো ক্ষেত্রে মলদ্বারে ব্যথাও হতে পারে।

অর্শের কারণ

  • দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য
  • দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া।
  • IBS আইবিএস
  • শাকসব্জী ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার এবং জল কম খাওয়া।
  • শরীরের অতিরিক্ত ওজন
  • গর্ভাবস্থা।
  • মলত্যাগে বেশী চাপ দেয়া
  • অতিরিক্ত মাত্রায় লেকজেটিভ (মল নরমকারক ওষুধ)
  • টয়লেটে বেশি সময় ব্যয় করা।
  • পরিবারে কারও পাইলস থাকা।
  • ভার উত্তোলন, দীর্ঘ সময় বসে থাকা ইত্যাদি।
মলদ্বারের বাইরে হলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে..
  •  মলদ্বারের বাইরে ফুলে যাওয়া যা হাত দিয়ে স্পর্শ ও অনুভব করা যায়।
  • কখনও কখনও রক্তপাত বা মলদ্বারে ব্যথাও হতে পারে।

অর্শ বা পাইলস হলে কি করবেন

  • কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং নিয়মিত মলত্যাগ করা।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসব্জি ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবংপানি 
  • সহনীয়মাত্রার অধিক পরিশ্রম না করা।
  • প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানো।
  • শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা।
  • টয়লেটে অধিক সময় ব্যয় না করা।
  • সহজে হজম হয় এমন খাবার গ্রহণ করা। যেমন-আঁশযুক্ত খাবার, শাকসবজি ইত্যাদি।
  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া লাক্সেটিভ বা রেচক ঔষধ বেশি গ্রহণ না করা।
  • মলত্যাগে বেশি চাপ না দেয়া।
  • দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া থাকলে তার চিকিত্‍সা নেয়া।
  • IBS আইবিএস  থাকলে তার চিকিত্‍সা নেয়া।

অর্শ বা পাইলস রোগের চিকিত্‍সা

অর্শ বা পাইলস এর উন্নত চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিলে মলদ্বার হতে রক্তপাত, মলদ্বার ভেজা, চুলকানি এবং জ্বালাযন্ত্রণা ইত্যাদি উপসর্গসহ এই সমস্যা অচিরেই ঠিক হয়ে আসে।

প্রতিরোধের উপায়

  • যার মধ্যে রয়েছে মলত্যাগের সময় জোরে চাপ না দেওয়া,
  • উচ্চ আঁশ যুক্ত খাদ্য ও প্রচুর তরল বা আঁশের সম্পূরক খাবার গ্রহণের মাধ্যমে কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়া পরিহার এবং পর্যাপ্ত ব্যায়াম করা।
  • মলত্যাগকালে অল্প সময় ব্যয়, টয়লেটে বসে পড়া বন্ধ করা
  • অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের ওজন কমানো
  • খুব ভারি বস্তু উত্তোলন পরিহার করা হয়
বিস্তারিত