Showing posts with label বাত ব্যথা. Show all posts
Showing posts with label বাত ব্যথা. Show all posts

Thursday, April 11, 2019

ঘাড়ের বাত ব্যথা ! সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস (Cervical Spondylosis)

সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস (Cervical Spondylosis) মূলত ঘাড়ের বাত ব্যথা নামেও পরিচিত।সার্ভিকাল স্পনডাইলোসিস হলে ঘাড়ের ব্যথা, ঘাড় ঘুরাতে অসুবিধা হওয়া এবং নাড়ালেই ব্যথা বৃদ্ধি পাওয়া, ঘাড়ের ব্যথার পাশাপাশি হাতের আঙুল ঝিনঝিন ও শিন শিন করা, ঘাড়ের মাংসপেশি কামড়াচ্ছে এমন অনুভব হওয়া, হাতের আঙুলে অবশভাব অনুভব হওয়া ইত্যাদি লক্ষণ ও উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে।
মানুষের মেরুদণ্ড ৩৩টি ছোট ছোট হাড় বা কশেরুকা দিয়ে তৈরি। ঘাড়ের অংশে থাকে সাতটি কশেরুকা। এই কশেরুকাগুলো একটি অপরটির সাথে ডিস্ক ও লিগামেন্ট দ্ব্বারা সংযুক্ত থাকে। মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশ সামনের দিকে উত্তলভাবে বাঁকানো। সবচেয়ে বেশি বাঁকানো থাকে পঞ্চ ও ষষ্ঠ কশেরুকার মধ্যকার ডিস্ক বরাবর। এই ডিস্কে স্পনডাইলোসিস বেশি ঘটে কারণ এই পয়েন্টে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে। ক্ষয়প্রাপ্তির প্রক্রিয়ায় ডিস্ক তার পানি হারিয়ে ফেলে এবং শুষ্ক হয়ে ওঠে। সুস্থ অবস্থায় ডিস্কগুলো নরম, স্থিতিস্থাপক এবং বেশি মজবুত। ডিস্কে যখন ক্ষয় শুরু হয় তখন তার নমনীয় তন্তুগুলো শক্ত হয়ে ওঠে এবং চাপের ফলে ভেঙ্গে যায়। দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিস্ক ক্ষয়ে যায় এবং পাতলা হয়ে যায়। এর ফলে কশেরুকাগুলোর প্রান্তগুলো পরস্পরের সাথে ঘষা খেতে থাকে এবং বিভিন্ন মাপের নতুন হাড়ের দানা দেখা দেয়। এই হাড়ের দানাগুলো সূচালো ও ধারালো। এক্সরে পরীক্ষায় এগুলো ধরা পড়ে।

যদি এই তীক্ষ হাড়ের দানাগুলোর কোনোটি স্নায়ুমূলকে খোঁচা মারে তাহলে হাতে তীব্র ব্যথার উদ্রেক হয়। হাড়ের দানাগুলো মাঝে মাঝে স্নাযুরজ্জুকেও চাপ দিতে পারে এবং পায়ে অসাড়তা ঘটাতে পারে। ক্ষয়প্রাপ্ত ডিস্ক তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে যেতে পারে, সেটাকে বলে স্লিপড ডিস্ক। সেক্ষেত্রে ডিস্ক স্নায়ুমূলের ওপর চাপ দিয়ে ব্যথা সৃষ্টি করে। স্লিপড ডিস্ক সাধারণত হয় দুর্ঘটনা, হঠাত্ পড়ে যাওয়া কিংবা ঘাড়ে আঘাতের কারণে। যা হোক, ডিস্কের স্থিতিস্থাপকতা হারিয়ে গেলে ক্ষয়প্রাপ্ত মেরুদণ্ডের নড়াচড়া সহজ হয় না। স্পনডাইলোসিস সাধারণত ঘটে থাকে ঘাড়ের নিচের চারটি কশেরুকাতে অর্থাত্ চতুর্থ থেকে সপ্তম কশেরুকাতে। ওপরের তিনটি কশেরুকাতে স্পনডাইলোসিস খুব কম হয় কারণ ওখানটায় খুব একটা চাপ পড়ে না। সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিসের ব্যথা সর্বদা ঘাড়ের পেছন দিকে অনুভূত হয়, কখনোই ঘাড়ের সামনের দিকে অনুভূত হবে না। ব্যথা তীব্র হলে তা কাঁধে এবং বাহুর পেছনের দিকে কনুই পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। কখনো কখনো ব্যথা হাতে এবং আঙুলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস -কারণ

  • যেকোনো ধরনের আঘাত
  • পজিশনাল অর্থাৎ ঘাড়ের নড়াচড়ার কারণে ব্যথা
  • হাড়ের ইনফেকশন
  • অস্টিওপোরেসিস
  • টিউমার
  • অস্টিও ম্যালেসিয়া বা ভিটামিন ডি-এর অভাব

সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস - উপসর্গ

  • ঘাড় ব্যথা এবং এ ব্যথা কাঁধ, বাহু, হাত ও আঙুল পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়া।
  • কাঁধ, বাহু, হাত ও আঙুলে অস্বাভাবিক অনুভূতি বা অবশভাবের উদ্রেক।
  • বাহু, হাত ও আঙুল দুর্বল অনুভূত হওয়া।
  • সব সময় ঘাড় ধরে বা জমে (স্টিফনেস) আছে এমন অনুভূতির সৃষ্টি হওয়া।
  • ঘাড়ের মুভমেন্ট ও দাঁড়ানো অবস্থায় কোনো কাজ করলে ব্যথা অনুভূত হওয়া।
  • ঘাড় নিচু করে ভারি কিছু তোলা বা অতিরিক্ত কাজের পর তীক্ষ্ণ ব্যথা অনুভূত হওয়া।
  • ঘাড় উপরের পিঠ এবং বাহুতে চাপ দিলে ব্যাথা এবং ঘাড়ের স্বাভাবিক নড়াচড়া ব্যাহত হওয়া।

সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস - রোগ নির্ণয়

স্পনডাইলোসিস নির্ণয়ের জন্য এক্সরে পরীক্ষা করা হয়। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান অথবা এমআরআই করা হয়ে থাকে। এক্সরেতে বিশেষ ধরনের কিছু পরিবর্তন দেখে স্পনডাইলোসিস নির্ণয় করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ডিস্কের ক্ষয়। কশেরুকাতে বিভিন্ন মাপের নতুন হাড়ের দানা লক্ষ করা যেতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী অংশের ফাঁক কমে যায়।

সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস - চিকিৎসা 

এই সমস্যার উন্নত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা রয়েছে। এর জন্য এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন।
বিস্তারিত

Wednesday, April 10, 2019

পিঠ বা শিরদাঁড়ার বাত ব্যথা ! স্পন্ডিলাইটিস এবং স্পনডাইলোসিস (Spondylitis & Spondylosis)

পিঠ বা শিরদাঁড়ার বাত ব্যথা অর্থাৎ স্পন্ডিলাইটিস এবং স্পনডাইলোসিস বা স্পন্ডিলোসিস (Spondylitis & Spondylosis) একেক ক্ষেত্রে একেক রকম লক্ষণ এবং উপসর্গ প্রকাশ করে থাকে। স্পন্ডিলাইটিসের ক্ষেত্রে হাঁটাচলা বা পরিশ্রম করলেই শিরদাঁড়ায় অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয় আবার স্পনডাইলোসিসের ক্ষেত্রে হাঁটাচলা বা পরিশ্রম করলে ব্যথার উপশম হয়।

স্পন্ডিলাইটিস (Spondylitis)

মূলত মেরুদণ্ড এবং মেরুদণ্ডের বিভিন্ন জয়েন্টে স্পন্ডিলাইটিস হয়। অস্টিওআর্থ্রাইটিস রোগের কারণেও অনেকসময় হয়ে থাকে। মেরুদণ্ডে অস্থিবৃদ্ধি হলে এই রোগের দাপট বাড়ে। সাধারণত তিন রকমের স্পন্ডিলাইটিস হয়। ঘাড়ের দিকে ব্যথা হলে বলা হয় সারভাইক্যাল স্পন্ডিলাইটিস। লাম্বার অংশে ব্যথা হলে তাকে লাম্বার স্পন্ডিলাইটিস বলে। ঘাড়, চোয়াল, কাঁধ, হিপ জয়েন্ট এবং হাঁটুতে ব্যথা হলে বলে অ্যাংকিলাইজিং স্পন্ডিলাইটিস >>। এবার আসুন স্পন্ডিলাইটিস হলে যে যে লক্ষণগুলি প্রকাশ পেতে পারে সেগুলি সম্পর্কে জেনে নিই -
  • পিঠের ব্যথা
  • পিঠের নিম্নাংশে ব্যথা
  • পায়ে ব্যথা
  • ঘাড়ের ব্যথা
  • নিতম্বে ব্যথা
  • শরীরের পার্শ্বীয় ব্যথা
  • পিঠের মাংসপেশীর টান/খিঁচুনি
  • শরীরের নিম্নাংশে ব্যথা
  • সারা শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া
  • মাংসেপশীর টান বা খিঁচুনি
  • পিঠের নিম্নাংশের মাংসপেশীতে টান বা খিঁচুনি দেখা দেওয়া

স্পনডাইলোসিস(Spondylosis)

আমাদের দুটো শিরদাঁড়ার মাঝে স্পঞ্জের মতো যে ডিস্ক থাকে এই ডিস্ক থেকে জেলির মতো তরল বের হয়ে থাকে। যার ফলে আমরা বিভিন্ন দিকে ইচ্ছেমতো নড়াচড়া করতে পারি এবং শিরদাঁড়ার হাড়ে ঘর্ষণ হয় না। কিন্তু যদি এই তরল যদি কোন কারণে কমে যায়, তাহলে হাড়ে-হাড়ে ঘষা লাগবে এবং যন্ত্রনা অনুভূত হবে।
অনেকে সারভাইকাল কলার বা কোমরে বেল্ট ব্যবহার করেন, এই ঘর্ষণের সম্ভাবনা কমানোর জন্যই। এতে ওই জায়গায় মুভমেন্ট আটকে রাখা যায়। কম বয়সে স্পনডাইলোসিস সাধারণত হয় না যদি না, তার আগে কোনও দুর্ঘটনায় শিরদাঁড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। কারওর শরীরে যদি আগে থেকেই কোনও কারণে হাড়ের ক্ষয় হয়ে থাকে, তাহলে কম বয়সেও হতে পারে স্পনডাইলোসিস। এই অসুখে এক্সারসাইজ় করলে ব্যথা আরও বাড়বে। তাই, বেল্ট, সারভাইকাল ট্র্যাকশন বা কোমরের হাড়ে ট্র্যাকশন দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এঁদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাড়ের ক্ষয় হয় ক্যালশিয়ামের অভাবে। এঁদের ক্যালশিয়াম সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন হয়। স্পনডাইলোসিসের যে যে লক্ষণগুলি দেখা যায় -
  • স্পনডাইলোসিসের ব্যথা সাধারণত ঘাড়ে আর কোমরেই হয়
  • ব্যথা ঘাড় থেকে হাতে চলে যায়
  • অনেকের হাতে ঝিঝি ধরে
  •  পিঠে বুকে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে
  • ঘাড় ডানে-বামে বা সামনে পেছনে ঝোঁকাতে কষ্ট হয়
  •  অনেকে উপরের দিকে তাকাতে পারেন না
  • কেউ বলেন তার কোনো কোনো আঙ্গুল অবশ লাগছে বা ঠিক বোধ পাচ্ছেন না
  • অনেকেই সকালে ঘুম থেকে ওঠে অনুভব করেন তার একটি হাত ঝিঝি লেগে আছে অথবা ঝিঝি লাগার কারণে মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে গেছে।
  • অনেক রোগীই মাথা ঘোরা মাথা ব্যথা বা বুকে ব্যথার কথা অভিযোগ করে থাকেন

চিকিৎসা

এর বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে। সেগুলির মধ্যে হোমিওপ্যাথি হলো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন এবং কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি। এর জন্য অবশ্যই দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসকের তত্থাবধানে চিকিৎসা নেয়া জরুরী।
বিস্তারিত

Tuesday, April 9, 2019

Ankylosing Spondylitis কি? এনকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস কারণ, উপসর্গ এবং জটিলতা

অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস (Ankylosing spondylitis) হল আমাদের শিরদাঁড়ার একপ্রকার বাত। এটি মূলত অক্ষীয় কঙ্কালতন্ত্রের দীর্ঘ মেয়াদী যন্ত্রণাদায়ক বাত ব্যাধি, মেরুদণ্ডের সন্ধি বা গাঁটের ব্যথা ও আড়ষ্টতা যার প্রধান উপসর্গ। কোমরের সন্ধি (Sacroiliac Joint) থেকে শুরু হয় রোগটা যা মেরুদণ্ডের অস্থিসন্ধিসহ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আক্রান্ত হয়। তবে এর রয়েছে উন্নত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা। এর জন্য এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন।

এনকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস উপসর্গ

  • মূল উপসর্গ হলো কোমর ব্যথা। প্রথম দিকে মৃদু ব্যথা থাকে বলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে রোগী দেরি করে। কিন্তু এই ব্যথা আস্তে আস্তে তীব্র হয়।
  • কোমরে ব্যথা না হলেও বিভিন্ন অস্থিসন্ধি, যেমন : পায়ের বড় গিঁট, কনুই, হাঁটু, পিঠের নিম্নাংশে ব্যথা হতে পারে বা ফুলে যেতে পারে। কোনো পায়ে বেশি আবার কোনো পায়ে ব্যথা কম হতে পারে।
  • ঘুমের সময় বিছানায় এপাশ-ওপাশ করে। রাতে ব্যথা বেড়ে ঘুম ভেঙে যায়।
  • ঘুম থেকে ওঠার পর কোমর অনড় হয়ে জমে থাকে। বেলা বাড়া ও হাঁটাচলা শুরু করলে ব্যথা আস্তে আস্তে কমতে থাকে।
  • বিশ্রাম নিলে ব্যথা বাড়ে আবার কাজকর্ম শুরু করলে ব্যথা কমতে থাকে।
  • পায়ের মাংসপেশিগুলো যেখানে হাড়ের সঙ্গে লেগে থাকে, সেসব স্থানে আক্রমণ করতে পারে এবং ব্যথা হতে পারে।
  • অনেকের শুধু চোখে আক্রমণ করতে পারে
  • ত্বকে অস্বাভাবিক অনুভূতি হতে পারে

এনকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস কারণ

পৃথিবীর ৮০ শতাংশ মানুষের জীবনের কোনো না কোনো সময় কোমরে ব্যথা হয়। কিছু ব্যথা আছে কারণ ছাড়াই হয়। আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম থাকে। এর কাজ হলো শরীর পাহারা দেওয়া। কিন্তু এরাই হঠাৎ করে প্রতারণা বা বিদ্রোহ করে বসে। তখন এরাই জয়েন্ট, মাংসপেশি, হাড় প্রভৃতিকে আক্রমণ করে। এনকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস জাতীয় বাত ব্যথা যে কারো হতে পারে। এখন পর্যন্ত এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি, তবে এনকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিসের জন্য কিছু জিনিসকে দায়ী করা হয়। ২০-২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে জেনেটিক কারণে বা বংশপরম্পরায় এ রোগটি হয়। কিছু কিছু ভাইরাসও এর সঙ্গে জড়িত। কোনো ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করলে এনকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস হতে পারে।

এনকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস চিকিৎসা

এই সমস্যার একটি আদর্শ চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। এর জন্য অবশ্যই আপনাকে এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিতে হবে। 
বিস্তারিত

Friday, March 15, 2019

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (Rheumatoid Arthritis) সন্ধিবাত বা গাঁট ফোলানো বাত

সন্ধিবাত বা গাঁট ফোলানো বাত (Rheumatoid Arthritis) রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস আমাদের হাত বা পায়ের ক্ষুদ্র জয়েন্টে আক্রমণ করে থাকে। এই সমস্যাটি হলে দেখা যায় - প্রথমে হাত ও পায়ের ছোট ছোট জয়েন্টগুলিতে ব্যাথা করে, জয়েন্ট গুলি ফুলে যায়, রিউম্যাটিক নডিউল দেখা যায় আবার ব্যাথার পাশাপাশি শরীরে জ্বর জ্বর অনুভূত হয়। এই রোগের উন্নত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা রয়েছে। বিস্তারিত ভিডিওতে.....
বিস্তারিত

Monday, March 11, 2019

বাত বা বাতের ব্যথা (Arthritis) আথ্রাইটিস কি? অষ্টিওআর্থ্রাইটিস গেঁটে বাত স্পন্ডিলাইটিস সায়াটিকা

সন্ধিবাত বা গাঁট ফোলানো বাত (Rheumatoid Arthritis) অষ্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis) বা অস্থিসংযোগ গ্রন্থি প্রদাহ, গেঁটে বাত (Gout), কটিবাত বা কোমর প্রদাহ (Lumbago), মেরুদণ্ড প্রদাহ বা স্পন্ডিলাইটিস (Spondylitis), সায়াটিকা/কোটি স্নায়ুশূল(Sciatica, আম বাত বা আর্টিকেরিয়া বা অ্যালার্জি(Urticaria), বাতজ্বর (Rheumatic Fever), সংক্রামক বাত বা সেপটিক আর্থ্রাইটিস রোগের লক্ষণসমূহ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা। নিম্নোলিখিত রোগগুলোই সাধারণত একত্রিত হয়ে বাতরোগ গঠিত হয়-
  • সন্ধিবাত/ গাঁট - ফোলানো বাত (Rheumatoid Arthritis)
  • অষ্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis)/অস্থিসংযোগ গ্রন্থি প্রদাহ
  • গেঁটে বাত (Gout)
  • কটিবাত বা কোমর প্রদাহ (Lumbago)
  • মেরুদণ্ড প্রদাহ বা স্পন্ডিলাইটিস (Spondylitis)
  • সায়াটিকা/কোটি স্নায়ুশূল (Sciatica)
  • আম বাত/আর্টিকেরিয়া/অ্যালার্জি (Urticaria)
  • বাতজ্বর (Rheumatic Fever)
  • সংক্রামক বাত/সেপটিক আর্থ্রাইটিস
বাতের ব্যথায় ভূগেনি এমন নানা-নানী বা দাদা দাদী খুজে পাওয়া খুবই দুস্কর। রক্তে ইউরিক এসিডের (Uric acid) মাত্রা বেড়ে গেলে বাত বা গাঊট (Gout) হয়। কিছু কিছু অসুধ সেবনে রক্তে uric acid এর মাত্রা বেড়ে যেতে পারে যেমন থায়াজাইড, এসপিরিন, পাইরাজিনামাইড ইত্যাদি। তেমনি রেনাল ফেইলুর, হাইপার প্যারাথাইরয়েডিজম এমন কিছু রোগেও ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে বাত হতে পারে।

শতকরা ৭০ ভাগ বাতের ব্যথাই শুরু হয় পায়ের বুড়ো আঙ্গুলে। এথেকে গোড়ালি, হাটু, হাত ও পায়ের ছোট জয়েন্ট, কবজি, কনুই ক্রমান্বয়ে এরোগে আক্রান্ত হতে পারে। আক্রান্ত অস্থিসন্ধিটি ফুলে কিছুটা লালচে বর্ণ ধারণ করে এবং ব্যথা করে। অনেক সময় খুধামন্দা এবং জ্বরও এর সহচর হিসেবে দেখা দেয়।

বাত রোগে রক্তে ইউরিক এসিড এর মাত্রার সাথে সাথে ই,এস,আর এবং শ্বেতকনিকার সংখাও বৃদ্ধি পায়। এক্সরে করলে হাড়ে পরিবর্তন ধরা পড়ে। অস্থিসন্ধি থেকে সাইনোভিয়াল ফ্লুইড বা অস্থিরস পরীক্ষা করেও এই রোগ নিশ্চিত হওয়া যায়।
সন্ধিবাত বা গাঁট ফোলানো বাত (Rheumatoid Arthritis): কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্রমশ এক বা একাধিক অস্থি সন্ধিতে ব্যথা, আড়ষ্ঠভাব প্রকাশ পায়। সাধারণত হাত ও পা প্রথমে আক্রান্ত হয় আবার কখনও শুধু একটি সন্ধি। অস্থিসন্ধিবাত প্রধানত দুই প্রকার, যথা: (ক) তরণ অস্থিসন্ধি বাত (খ) পুরাতন অস্থিসন্ধি বাত। যেমন- হাঁটু, কনুই, পাছার সন্ধি আক্রান্ত হয়। মাঝে মাঝে এই লক্ষণগুলো মারাত্মকভাবে দেখা দেয় এবং রোগী অচল হয়ে পড়ে ইহাই অস্থি সন্ধিবাত।

অষ্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis): অষ্টিও শব্দের অর্থ হলো অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট আর আর্থ্রাইটিস হলো ইনফ্লামেসন বা প্রদাহ। অর্থাৎ অষ্টিওআর্থ্রাইটিস শব্দের অর্থ হলো অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট এ প্রদাহ। হাঁটু ভাঁজ করতে ব্যথা হয়, ফুলে যায়, উঠতে বসতে ব্যথা হয়। নীচে বসে নামাজ পড়া, বাথরুমে বসা, সিঁড়ি দিয়ে নামাউঠা করা বেশ কষ্টকর হয়। কখনও কখনও ভিতরে কট্ কট্ শব্দ করে। দীর্ঘ দিন চিকিৎসা না নিলে মাংসপেশী দূর্বল হয়ে পা বাঁকা হয়ে যায়।

গেঁটে বাত (Gout): গেঁটে বাত বা গাউট হচ্ছে একটি প্রদাহজনিত রোগ; এতে সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি ও এর আশেপাশের টিস্যুতে মনোসোডিয়াম ইউরেট মনোহাইড্রেট ক্রিস্টাল জমা হয়। সাধারণত মাত্র ১-২% লোক এই রোগে আক্রান্ত হয় তবে মহিলাদের তুলনায় পুরুষেরা ৫ গুণ বেশি আক্রান্ত হয়। এটি পুরুষ ও বৃদ্ধা মহিলাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে লক্ষণীয় প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিস। পুরুষরা সাধারণত ৩০ বছরের পর এবং মহিলারা মেনোপজ বা রজোনিবৃত্তির পরে বেশি আক্রান্ত হয়। বয়স বৃদ্ধি ও রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে। মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের ইউরিক এসিডের মাত্রা বেশি থাকে তবে বয়স ও ওজন বাড়লে রক্তে ইউরিক এসিডও বাড়বে। কিছু এথনিক গ্রুপ যেমন মাউরি উপজাতি ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপের জনগোষ্ঠীদের রক্তে ইউরিক এসিড একটু বেশি থাকে। রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে তাকে হাইপারইউরিসেমিয়া বলে।

কটিবাত বা কোমর প্রদাহ (Lumbago): মেরুদন্ডের মাংসপেশি, লিগামেন্ট মচকানো, আংশিক ছিড়ে যাওয়া, দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিস্ক সমস্যা, কশেরুকার অবস্থানের পরিবর্তন ও মেরুদন্ডের নির্দিষ্ট বক্রতার পরিবর্তনকে বোঝায়। চলাফেরা, জীবিকার ধরন, খুব বেশী ভার বা ওজন বহন, মেরুদন্ডের অতিরিক্ত নড়াচড়া, একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে কোনো কাজ করা, মেরুদন্ডে আঘাত পাওয়া সর্বোপরি কোমরের অবস্থানগত ভুলের জন্য হয়ে থাকে। অন্যান্য কারণের মধ্যে বয়সজনিত মেরুদন্ডে ক্ষয় বা বৃদ্ধি, অস্টিওআথ্রাইটিস বা গেঁটে বাত, অস্টিওপোরোসিস, এনকাইলজিং স্পনডাইলোসিস, মেরুদন্ডের স্নায়বিক সমস্যা, টিউমার ক্যান্সার, বোন টিবি, কোমরের মাংসপেশির সমস্যা, পেটের বিভিন্ন ভিসেরার রোগ বা ইনফেকশন, বিভিন্ন স্ত্রীরোগজনিত সমস্যা, মেরুদন্ডের রক্তবাহী নালির সমস্যা, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, মেদ বা ভুঁড়ি অতিরিক্ত ওজন ইত্যাদি।

মেরুদণ্ড প্রদাহ বা স্পন্ডিলাইটিস (Spondylitis): স্পন্ডিলাইটিস  ঘাড়ে, পিঠে বা কোমরে যে কোনও জায়গায় হতে পারে। তবে ঘাড়েই বেশি হতে দেখা যায়। স্পন্ডিলাইটিস হচ্ছে মেরুদন্ডে প্রদাহজনিত সমস্যা। যেমন অ্যাষ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস, রিউম্যাটয়েড স্পন্ডিলাইটিস ইত্যাদি। ঘাড়ের স্পন্ডিলাইটিসে ঘাড়ে ব্যথার সাথে সাথে হাত বরাবর যন্ত্রণা নেমে আসে। দিনে দিনে এই রোগের সমস্যা বাড়ছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যেও এই রোগের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ছে। সার্ভাইকাল স্পন্ডিলাইটিসের কারণগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায় একনাগাড়ে ঘাড় নীচু করে কাজ করা, সেলাই করা হোক বা লেখাপড়ার কাজ, কম্পিউটার নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কাজ, অতিরিক্ত ওজন কিংবা ভারী স্কুলের ব্যাগ, উঁচু বালিশে শোয়া ইত্যাদি। লাম্বার স্পন্ডিলাইটিসের ক্ষেত্রে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা প্রণালী অথবা কাজকর্মের ধরনের ওপরও মেরুদন্ডের বাত নির্ভর করে। দেখা গেছে যারা ক্রমাগত বসে কাজ করেন যেমন অফিসের করনিক, কম্পিউটারে কাজ, সোনা-রূপোর দোকানে যারা কাজ করেন তাদের মেরুদন্ডে বাত ধরতে পারে। তেমনি আবার যারা দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে কাজ করেন তাদেরও স্পন্ডিলাইটিস হতে পারে।

সায়াটিকা/কোটি স্নায়ুশূল (Sciatica) : আমাদের শরীরে সায়াটিক নামের একটি নার্ভ বা স্নায়ু রয়েছে যার অবস্থান আমাদের মেরুদন্ডের লাম্বার স্পাইনের দিকের কশেরুকা বা ভার্টিরা এল ৩, ৪, ৫ ডিস্ক এবং সেকরাল স্পাইনের এস ১ কশেরুকা বা ভার্টিবা থেকে ঊরুর পিছন দিক দিয়ে হাঁটুর নিচের মাংসপেশির মধ্যে দিয়ে পায়ের আঙ্গুল পর্যন্ত। যখন কোনো কারণে এই নার্ভ বা স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে তখন এই নার্ভ বা স্নায়ুর ডিস্ট্রিবিউশন অনুযায়ী ব্যথা কোমর থেকে পায়ের দিকে ছড়িয়ে যায়, এটাকে সায়াটিকা বলা হয়।

বাত বা বাতের ব্যথা এবং চিকিৎসা

এই সকল বাতের ব্যথা নিরাময়ে কার্যকর এবং পার্শপ্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। এর জন অভিজ্ঞ কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিলে বেস্ট একটা রেজাল্ট পেয়ে যাবেন ইনশা-আল্লাহ। 
বিস্তারিত