বক্ষব্যাধি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বক্ষব্যাধি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১

ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ COPD (Chronic Obstructive Pulmonary Disease)

সিওপিডি এবং এর হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ও চিকিৎসা সম্পর্কে থাকছে এ পর্বে। ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারী ডিজিজ (COPD - Chronic Obstructive Pulmonary Disease) যাকে সহজ বাংলায় পুরাতন বা দীর্ঘস্থায়ী অবরোধক অর্থাৎ রুদ্ধ শ্বাস ফুসফুসীয় ব্যাধি বলে অবহিত করা হয়। সিওপিডি এর প্রচলিত পরিস্থিতি হল ক্রনিক ব্রংকাইটিস (Chronic Bronchitis), এম্ফাইসেমা (Emphysema) এবং স্থায়ীভাবে শ্বাসকষ্ট। কোন ব্যক্তির দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক ব্রংকাইটিস হলে তার উপসর্গগুলি হবে এক নাগাড়ে কাশি আর তার সঙ্গে শ্লেষ্মা ক্ষরণ। 

এম্ফাইসেমার ক্ষেত্রে, অ্যালভিওলাই অর্থাৎ আমাদের ফুসফুসের মধ্যে থাকা ছোটো ছোটো বায়ুথলি আক্রান্ত হয় এবং বিভিন্ন বায়বীয় অস্বস্তিকারক পদার্থ যেমন: সিগারেটের ধোঁয়া, ক্রমাগত ধূলোবালিতে থাকা, কারখানার দূষিত ধোঁয়া ইত্যাদির কারণে ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যায়। এখানে মূলতঃ বায়ু থলিগুলির বেশ কিছু দেয়াল নষ্ট হয়ে যায়। যেহেতু এই দেয়ালের মাধ্যমেই আমাদের রক্ত প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পায়, নষ্ট দেয়ালের জন্যে আমাদের শরীর যথেষ্ট পরিমাণ অক্সিজেন পায় না।
ফুসফুস
সিওপিডি খুবই জটিল প্রকৃতির রোগ কারণ এটি ধীরে ধীরে ডেভেলপ করে এবং প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে ঠিক করতেও বেশ সময় নিয়ে থাকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। যাদের বয়স চল্লিশের উপর তাদের ক্ষেত্রেই এই রোগের প্রকোপটা বেশি দেখা যায় অর্থাৎ এটা মধ্য বয়সে বা বৃদ্ধ অবস্থায় ধরা পড়ে। আর সে বয়সে লোকজন আরো বিভিন্ন প্রকার স্বাস্থ্য সমস্যায়ও আক্রান্ত থাকেন। সিওপিডি শুরু হয় ধীরে ধীরে। কিন্তু বাড়তে বাড়তে এমন অবস্থায় পৌঁছায় যে, হাঁটাচলা করাও কঠিন হয়ে ওঠে। এটি সারানোর কোন এলোপ্যাথিক ওষুধ নেই। তবে বিভিন্ন এলোপ্যাথিক বা রাসায়নিক ঔষধ দিয়ে উপসর্গকে কিছুটা প্রশমিত রাখা যায় এবং রোগী আরাম পায়।

সিওপিডি সমস্যায় বহুলোক তাদের কর্মক্ষমতা হারাচ্ছে এবং বহু লোক মারাও যাচ্ছে। এটা যে ধীর গতিতে ডেভেলপ করে তাতে অনেকেই বুঝতেই পারে না যে তারা এই সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক কোটি কুড়ি লক্ষ লোকে এই অসুখে ভুগছে। আসল সংখ্যা হয়ত তার থেকেও বেশী। তাদের অনেকেই প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় আওতাধীনে না এসে এলোপ্যাথিক রাসায়নিক ঔষধ গ্রহণ করে থাকে যার কারণে এই সমস্যায় তাদের মৃত্যু হারও বেশি। 
এই রোগের কার্যকার কোন এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই তবে জটিলতা বা কষ্ট কমায় এবং আরাম দেয়। তবে হোমিওপ্যাথিতে এই সমস্যার স্থায়ী চিকিৎসা রয়েছে। সিপিওডি সমস্যায় ঠিকঠাক চিকিৎসা না হলে জটিলতা গুরুতর আকার ধারণ করে যেমন হৃৎপিণ্ডের সমস্যা এবং শ্বাস সংক্রান্ত ক্রনিক সংক্রমণ ইত্যাদি।
সিওপিডি COPD সমস্যায় প্রাথমিক অবস্থায় যেমন কিছু লক্ষণ ও উপসর্গ প্রকাশ পায় ঠিক তেমনি সমস্যার বিলম্বিত অবস্থায়ও জটিল কিছু লক্ষণ ও উপসর্গ প্রকাশ পায়। তবে এটি কষ্টদায়ক রোগ হওয়ায় যথাসময়ে প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।
COPD-Chronic Obstructive Pulmonary Disease

সিওপিডি সমস্যায় প্রাথমিক লক্ষণ ও উপসর্গ

  • ক্রনিক স্থায়ী কাশি বা নিরন্তর কাশি
  • কাশতে কাশতে বুকে চাপবোধ এবং দমবন্ধ ভাব
  • কাশির সাথে শ্লেষ্মা নির্গত হওয়া
  • শ্বাসকষ্ট হবে এটাই স্বাভাবিক
  • শ্বাসপ্রশ্বাসের সময় শব্দ হওয়া
  • বুকের মধ্যে সাই সাই শব্দ হতে থাকে
  • হাঁটাচলা করলে নিদারুন ক্লান্তি 

সিওপিডি সমস্যায় বিলম্বিত লক্ষণ ও উপসর্গ

  • হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া
  • জিহ্বা নীল বর্ণ ধারণ করা
  • নখ ও ঠোঁটের রঙ নীলাভ হয়ে যাওয়া
  • হাতের আঙুলের অংগ্রভাগ ফুলে উঠা
  • পা, পায়ের পাতা, গোড়ালী ফুলে উঠা
  • মানুষিক ভাবে অন্যমনস্ক থাকা 

যে যে কারণে সিওপিডি জেগে উঠতে পারে

  • যাদের এই সমস্যার পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে। 
  • রোগীর নিজের বা নিকট আত্মীয়ের কারো টিবি বা যক্ষার ইতিহাস রয়েছে। 
  • যারা হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট সমস্যায় ভোগছেন এবং এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নিয়ে রোগ নিয়ন্ত্রণ করেছেন। 
  • সিওপিডি সমস্যার পেছনে যে বিষয়টি বাহ্যিক ভাবে সবচেয়ে বেশি ট্রিগার করে তা হল - ধুমপান। অ্যাক্টিভ ও প্যাসিভ ধূমপায়ীরা সমান ঝুঁকি থাকে।
  • দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলের ক্ষতিকারক ধোঁয়া, ধুলো, উগ্র রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ সিওপিডি সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলে। 
  • দীর্ঘদিন যাবৎ যারা হার্টের সমস্যা ও ডায়াবেটিস আক্রান্ত আছেন এবং এ সমস্যায় এলোপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করে রোগ নিয়ন্ত্রণ করছেন। 
  • বায়ু দূষণ, যানবাহনের ধোয়াও এ রোগ জেগে উঠার ক্ষেত্রে ট্রিগার করে। 
আপনি হয়তো দেখে থাকবেন একই সাথে বহুলোক একই রকম পরিবেশে বসবাস করলেও তাদের সবাই কিন্তু এই সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে না। তাদের থেকে কিছু মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। একই পরিবেশে বাকিদের সমস্যা হচ্ছে না কেন ? একটা প্রশ্ন থেকে যায়। আসুন উত্তরটাও জেনে নিই।

সিওপিডি সমস্যার চিকিৎসা

সিওপিডি এর কার্যকর এবং স্থায়ী কোন এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই। কারণ এই রোগগুলি জেগে উঠে আমাদের ডিএনএ তে বিদ্যমান প্রিডোমিন্যান্ট কিছু প্রকৃত রোগ অর্থাৎ True Disease এর কারণে যা মূলত মানুষ জন্মগত ভাবে প্রাপ্ত হয়। বয়স বাড়ার সাথে বিভিন্ন পরিপোষক কারণ, অস্বাস্থ্যকর জীবন ধারা, পরিবেশগত বা অন্যকোন কারণে যখন ব্যক্তির ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হতে থাকে তখন ব্যক্তির  ডিএনএ তে বিদ্যমান প্রকৃত রোগটি তার ফুসফুসে বিভিন্ন লক্ষণ উপসর্গ জাগিয়ে তুলে। এইসব  লক্ষণ উপসর্গকে বিভিন্ন নামে চিহ্নিত করে চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে বিভিন্ন থেরাপিউটিক সিস্টেমে। ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ COPD (Chronic Obstructive Pulmonary Disease) হলো তেমনি কিছু লক্ষণ বা উপসর্গের সমষ্টি। 
ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ - সিওপিডি নির্মূলের সর্বাধিক কার্যকর চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। তবে এর জন্য দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক নির্বাচন করা প্রয়োজন যিনি এই সমস্যাগুলির চিকিৎসা দিতে জানেন। 
প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে এই সমস্যাকে স্থায়ী ভাবে ঠিক করতে হলে ব্যক্তির শিশু কালের হিস্ট্রি, তার নিকট আত্মীয় যেমন মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদি, নানা-নানীর হিস্ট্রি প্রয়োজন। তারা কে কোন কোন রোগে ভুগেছেন কে কোন রোগে মারা গিয়েছেন সেগুলির বিস্তারিত তথ্য জেনেই দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক রোগীর ডিএনএ তে প্রিডোমিন্যান্ট প্রকৃত রোগটি নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করবেন এবং সমস্যার পেছনে কোন পরিপোষক কারণ থাকলে সেটা থেকেও পেশেন্টকে দূরে থাকতে বলবেন। 

যেহেতু একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম প্রকৃত রোগ বা True Disease বিদ্যমান থাকতে পারে এবং একেক জনের রোগের তীব্রতা বা জটিলতা একেক রকম হয়ে থাকে তাই একেক জনের ক্ষেত্রে আরোগ্য হওয়ার ধরণ এবং সময়ও ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে পেশেন্টের উচিত ইনভেস্টিগেশনের সময় বিস্তারিত তথ্য দিয়ে চিকিৎসকে সাহায্য করা এবং ধৈর্য ধরে চিকিৎসা নেয়া। কারণ হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতে স্টেপ বাই স্টেপ চিকিৎসার মাধ্যমে এই সমস্যা এক সময় স্থায়ীভাবে নির্মূল হয়ে যায় এবং রোগী স্থায়ী আরোগ্য লাভ করে থাকে।

সিওপিডি সমস্যায় হোমিওপ্যাথিক ঔষধ

ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারী ডিজিজ এর ক্ষেত্রে ক্রনিক ব্রংকাইটিস, এম্ফাইসেমা এবং স্থায়ীভাবে শ্বাসকষ্ট সমস্যায় (Synthesis Repertory) রেপার্টরীতে যে যে হোমিও ঔষধ রয়েছে-
Chronic Obstructive Pulmonary Disease

Chronic Obstructive Pulmonary Diseaseযা যা জেনেছেন

  • সিওপিডির ঔষধ
  • সিওপিডি কি
  • সিওপিডির লক্ষণ
  • সিওপিডি রোগ কি
  • সিওপিডি রোগের লক্ষণ
  • সিওপিডি রোগ নির্ণয়
  • সিওপিডি ও এজমা
  • সিওপিডি এর কারণ কি
  • সিওপিডি এর চিকিৎসা
  • সিওপিডি এর পুরো নাম কি
  • ব্রংকাইটিস এর লক্ষণ
  • ব্রংকাইটিস কি ভালো হয়
  • ব্রংকাইটিস কেন হয়
  • ব্রংকাইটিস এর হোমিও চিকিৎসা
  • ব্রংকাইটিস চিকিৎসা
  • ব্রংকাইটিস রোগের চিকিৎসা
  • Copd লক্ষণ
  • ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস কি
  • Copd বাংলা
  • Copd কি
  • ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ
বিস্তারিত

সোমবার, ৩১ মে, ২০২১

১৫ বছরের অ্যাজমা নির্মূল! হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট রোগের আধুনিক চিকিৎসা

আপনারা হয়তো জানেন, এলোপ্যাথিতে অ্যাজমা, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট নির্মূলের স্থায়ী কোন চিকিৎসা নেই। হাঁপানি রোগে তীব্র শ্বাসকষ্টের মুহূর্তে সাময়িক সময়ের জন্য কষ্ট লাঘব করার ঔষধ থাকলেও এর কোন স্থায়ী সমাধান আজ পর্যন্ত এলোপ্যাথি আবিষ্কার করতে পারেনি। অন্যান্য ক্রনিক ডিজিসের মতো এই সমস্যায়ও এলোপ্যাথিক মেডিক্যাল মাফিয়ারা রোগ পুষে রেখে সারাজীবন ধরে মানুষের সাথে বিজনেসের নীতিতে চলছে। তাছাড়া শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এলোপ্যাথিক ক্ষতিকর স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধসহ অন্যান্য রাসায়নিক ঔষধের দীঘদিন যাবৎ ক্রমাগত প্রয়োগে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আরো জটিল প্রকৃতির স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি হবে সেটাও অস্বাভাবিক নয়। অথচ প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় দীর্ঘদিনের পুরাতন অ্যাজমা বা হাঁপানি নির্মূল হয়ে যায় চিরতরে।

ইতিমধ্যেই আপনারা জেনেছেন, আমরা যে সব রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকি সেগুলি মূলত আমাদের DNA তে প্রিডোমিনেন্ট কিছু True Disease এর তৈরী করা কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ। ঠিক তেমনি অ্যাজমা বা হাঁপানি সমস্যার মূলেও রয়েছে True Disease. অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা দেখে থাকি - যারা এই সমস্যায় আক্রান্ত হন তারা মূলত Tubercular Diathesis এর পেশেন্ট। বর্তমান বিশ্বে একমাত্র হোমিওপ্যাথিই আপনার DNA তে প্রিডোমিনেন্ট True Disease কে ডায়নামিক হোমিও ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে রিসিসিভ করতে পারে আর তাই হোমিও চিকিৎসায় অ্যাজমা বা হাঁপানি স্থায়ী ভাবে নির্মূল হয়ে যায়। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক নির্বাচন করতে হবে যিনি হোমিওপ্যাথিক নিয়মনীতি অনুসারে আপনাকে যথাযথ চিকিৎসা দিতে পারবেন।

অপরদিকে এলোপ্যাথি স্থানিক ভাবে শ্বাসপথে বায়ু চলাচলে বাধাকে সাময়িক ভাবে দূর করে শ্বাসকষ্টের উপশম ঘটায় মাত্র স্থায়ীভাবে আদৌ হাঁপানি নির্মূল করতে পারে না। কারণ এলোপ্যাথিক চিকিৎসা শাস্ত্র আপনার DNA তে প্রিডোমিনেন্ট True Disease কে নির্ণয় করে সেটিকে রেসিসিভ করার চিকিৎসা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। আর তাই শ্বাসপথে বায়ু চলাচলে বাধাকে এলোপ্যাথিক পদ্ধতিতে দূর করলে কিছুটা সময় পর আবার সেখানে একই বাধা তৈরী হয়ে শ্বাসকষ্ট সমস্যার সৃষ্টি করে।
একজন অ্যাজমা পেশেন্টের ভয়াভয় প্রকৃতির হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। যিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে এই সমস্যায় ভুগছিলেন। দিনে ৫ বার ইনহেলার নেয়া লাগলো এবং সাথে শ্বাসকষ্টের জন্য এলোপ্যাথিক ঔষধও খাওয়া লাগতো। দীর্ঘদিন যাবৎ এলোপ্যাথিক ওয়ান টাইম রাসায়নিক ঔষধ ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে মানুষিক সমস্যাসহ শরীরে আরো জটিল জটিল সমস্যা জেগে উঠা শুরু করলে তিনি এক সময় হোমিও চিকিৎসার তথ্যাবধানে চলে আসেন। মাত্র ৫ মাসের প্রপার হোমিও চিকিৎসায় তিনি ক্রনিক অ্যাজমা এবং মানুষিক সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি লাভ করেন।
বিস্তারিত

শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১

ড্রাগ রেজিস্টেন্ট টিবি ! এমডিআর (MDR) এক্সডিআর (XDR) এবং আরআর (RR) TB

মাল্টিপল ড্রাগ রেজিস্টেন্ট টিবি (এমডিআর টিবি) Multidrug resistant tuberculosis (MDR TB), এক্সটেনসিভলি ড্রাগ রেজিস্টেন্ট টিবি (এক্সডিআর টিবি) Extensively drug resistant tuberculosis (XDR TB), রিফামপিসিন রেজিস্টেন্ট টিবি (আরআর টিবি) Rifampicin resistant tuberculosis (RR TB) অর্থ্যাৎ এলোপ্যাথিক ঔষধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করবো এই পর্বে। 
এই সকল জটিল ঔষধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা বা টিবিতে মূলত তারাই আক্রান্ত হয়ে থাকেন যারা এই রোগের এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিলে ড্রাগ রেজিস্টেন্ট টিবিতে আক্রান্ত হওয়ার কোন ঝুঁকি নেই। কারণ, কোন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিনই মানব দেহে রেজিস্টেন্ট হয় না। 
প্রিয় পাঠক, আমি ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান। এর আগের পর্বগুলিতে আপনারা জেনেছেন -
বর্তমান বিশ্বের এই মারাত্মক রোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে অবশ্যই আপনাকে উপরিউক্ত আর্টিকেলগুলি খুব গুরুত্ত্ব দিয়ে পড়তে হবে। তাছাড়া আমি বলবো টিবি সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে উপরের লিংকে দেয়া সবগুলি আর্টিকেল ধারাবাহিক ভাবে পড়ে আজকেরটি শুরু করুন।
ড্রাগ রেজিস্টেন্ট টিবি

রিফামপিসিন রেজিস্টেন্ট টিবি (আরআর টিবি)

টিবিতে আক্রান্ত হওয়ার হলে সরকারি ফ্রি চিকিৎসা নেয়ার সময় প্রয়োগকৃত এলোপ্যাথিক ঔষধগুলির মধ্যে রিফাম্পিসিন, আইসোনিয়াজিড, পাইরাজিনামাইড এবং ইথামবুটল রয়েছে এবং এর মধ্যে রিফামপিসিন অন্যতম যেটি রিফাম্পিন নামেও পরিচিত Rifampicin, also known as rifampin. এই ঔষধটি প্রয়োগ কালে কেউ যদি অনিয়মিত ওষুধ সেবন করে বা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ঔষধ সেবন না করে অথবা কোন ঔষধের ডোজ মিস দেয় তখন রোগী যে ঔষধ প্রতিরোধী টিবিতে আক্রান্ত হয় তার নামই হলো রিফামপিসিন রেজিস্টেন্ট টিবি (আরআর টিবি) Rifampicin resistant tuberculosis (RR TB) 

মাল্টিপল ড্রাগ রেজিস্টেন্ট টিবি (এমডিআর টিবি)

টিবিতে আক্রান্ত হওয়ার পর সরকারি ফ্রি চিকিৎসা নেয়ার সময় যে এলোপ্যাথিক ঔষধগুলি প্রয়োগ করা হয়ে থাকে তার মধ্যে রিফাম্পিসিন এবং আইসোনিয়াজিড অন্যতম। কম পক্ষে এই দুটি ঔষধ যদি কারো শরীরে প্রতিরোধী হয়ে উঠে তখন রোগী যে টিবিতে আক্রান্ত হয় তার নামই হলো মাল্টিপল ড্রাগ রেজিস্টেন্ট টিবি (এমডিআর টিবি) Multidrug resistant tuberculosis (MDR TB).
MDR TB is caused by an organism that is resistant to at least isoniazid and rifampin, the two most potent TB drugs.

এক্সটেনসিভলি ড্রাগ রেজিস্টেন্ট টিবি (এক্সডিআর টিবি)

এটি মূলতঃ মাল্টিপল ড্রাগ রেজিস্টেন্ট বা এমডিআর টিবির একটি বিরল ধরণ। টিবিতে আক্রান্ত হওয়ার পর সরকারি ফ্রি চিকিৎসা নেয়ার সময় যে এলোপ্যাথিক ঔষধগুলি প্রয়োগ করা হয়ে থাকে তার মধ্যে রিফাম্পিসিন, আইসোনিয়াজিড, একটি ফ্লোরোকুইনলোন এবং কমপক্ষে একটি সেকেন্ড লাইনের ইনজেক্টেবল ড্রাগ (অ্যামিক্যাসিন, কানামাইসিন, ক্যাপ্রিওমাইসিন) প্রতিরোধী হয়ে উঠলে তাকেই বলা হয় এক্সটেনসিভলি ড্রাগ রেজিস্টেন্ট টিবি অর্থ্যাৎ ব্যাপকভাবে ঔষধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা (এক্সডিআর টিবি) Extensively drug resistant tuberculosis (XDR TB)
Extensively drug-resistant TB (XDR TB) is a rare type of multidrug-resistant tuberculosis (MDR TB) that is resistant to isoniazid and rifampin, plus any fluoroquinolone and at least one of three injectable second-line drugs (i.e., amikacin, kanamycin, or capreomycin). 

এমডিআর (MDR) এক্সডিআর (XDR) ও আরআর (RR) টিবি হওয়ার কারণ

ড্রাগ রেজিস্টেন্ট টিবিতে মূলত তারাই আক্রান্ত হয়ে থাকেন যারা যক্ষা বা টিবির এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। বিভিন্ন কারণে মানুষ ঔষধ প্রতিরোধী যক্ষ্মায় আক্রান্ত হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে-
  • রোগীরা মেডিসিন গ্রহণে অবহেলা করলে
  • টিবি রোগীরা চিকিৎসা সম্পূর্ণ না করলে
  • ভুল মেডিসিন এবং মেডিসিনের ডোজ প্রয়োগ করলে
  • টিবি মেডিসিনের গুনগত মান ঠিক না হলে 
  • টিবি ওষুধের সহজলভ্যতা 
  • এমডিআর টিবিতে আক্রান্ত রোগীর সাথে দীর্ঘদিন উঠাবসা, চলাফেরা বা একত্রে বসবাস করলে
  • এমডিআর টিবিতে আক্রান্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অবাধ যাতায়াত ইত্যাদি কারণে এই টিবিতে যে কেউ আক্রান্ত হতে পারে।  

এমডিআর (MDR) এক্সডিআর (XDR) এবং আরআর (RR) টিবি - চিকিৎসা 

প্রথমতঃ বলবো টিবিতে আক্রান্ত হয়ে যদি আপনি টাকা পয়সা খরচ করে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা না নিয়ে সরকারি ফ্রি চিকিৎসা নেয়া শুরু করেন তাহলে সেখানে চিকিৎসা চালিয়ে যাবেন শেষ পর্যন্ত। মেডিসিনের কোন ডোজ ভুল করেও মিস দিবেন না। অর্থাৎ এই চিকিৎসা গ্রহণে আপনি বিন্দুমাত্র কোন অবহেলা দেখাবেন না। তাহলে আপনি অন্তত ড্রাগ রেজিস্টেন্ট টিবিতে আক্রান্ত হবেন না যদি ভুল মেডিসিন প্রয়োগ করা না হয় এবং ঔষধের গুনগত মান ঠিক থাকে।
একজন এমডিআর টিবি রোগী যদি চিকিৎসার আওতায় না আসেন তাহলে প্রতিবছর উনি কমপক্ষে ১০ জনকে নতুন করে এমডিআর টিবি রোগে আক্রান্ত করতে পারেন। এই নতুন রোগীরা যদি চিকিৎসার আওতায় না আসেন, তাহলে তাদের মৃত্যু অবধারিত। সুতরাং সাধু সাবধান !!
দ্বিতীয়তঃ কোন কারণে এমডিআর (MDR TB) এক্সডিআর (XDR TB) এবং আরআর (RR TB) টিবিতে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন, এ অবস্থায় আতঙ্কিত হবেন না। পূর্বে যেখানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করে পুনরায় যথাযথ চিকিৎসা শুরু করে সেখানে নির্দিষ্ট মেয়াদের চিকিৎসা শেষ করবেন। তখন আপনার মেডিসিন বাড়বে এবং চিকিৎসা কাল আরো দীর্ঘ মেয়াদি হবে। 

তৃতীয়তঃ এর পরেও আপনার সমস্যা পুরুপুরি ঠিক হচ্ছে না অথবা ক্রমাগত রাসায়নিক বা এলোপ্যাথিক ঔষধ প্রয়োগের ফলে আপনার শরীরে জটিল জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জেগে উঠলো সে অবস্থায় একমাত্র হোমিওপ্যাথিই আপনার সামনে স্রষ্টার আর্শিবাদ হয়ে দাঁড়াবে। দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক খুঁজে বের করুন এবং প্রপার হোমিও চিকিৎসা নিন। আশা করি আপনি দিন দিন ভালোর দিকে যাবেন এবং একসময় সেরে উঠবেন। কারণ আপনার জেনে রাখা উচিত, টিবি রোগ এবং এলোপ্যাথিক পদ্ধতিতে টিবির চিকিৎসাকালে ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে জেগে উঠা জটিলতাগুলি নির্মূলের ক্ষেত্রে কার্যকর এবং উন্নত চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই দক্ষ এবং রেজিস্টার্ড একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরি। 

সবশেষে যেটা সকলেরই জেনে রাখা দরকার, টিবি রোগী যারা দীর্ঘমেয়াদী এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নিয়ে থাকে সেখানে মূলত উচ্চ শক্তির বিভিন্ন প্রকার এন্টিবায়োটিক ধারাবাহিক ভাবে ক্রমাগত শরীরে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। এই ঔষধগুলির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই মারাত্মক ও জটিল। হোমিও চিকিৎসায় এই জটিলতা কাটানো অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে দাঁড়ায় তবে অসম্ভব নয়। এক্ষেত্রে ধৈর্য্য ধরে প্রপার হোমিও চিকিৎসা নিলে ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে আসে।

যা যা জেনেছেন

  • টিবি রোগের ঔষধের নাম
  • যক্ষার ঔষধ খাওয়ার নিয়ম
  • টিবি রোগের হোমিও চিকিৎসা
  • টিবি রোগ কি কারনে হয়
  • টিবির ওষুধ
বিস্তারিত

শনিবার, ১৫ মে, ২০২১

যক্ষ্মা বা টিবি রোগ প্রতিরোধের উপায় ! বিসিজি BCG টিকা নিলেও TB হয় কেন?

বিসিজি টিকার পুরা নাম ব্যাসিলাস ক্যালমেট গুয়েরিন Bacillus Calmette-Guérin (BCG). যক্ষ্মা বা টিবি (Tuberculosis TB) রোগ প্রতিরোধের কার্যকর উপায় এবং বিসিজি BCG টিকা নেয়ার পরও মানুষ টিবিতে আক্রান্ত হয় কেন এ সম্পর্কে বিস্তারিত থাকছে এ পর্বে। প্রিয় পাঠক, আমি ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান। যক্ষ্মা বা টিবি রোগ এবং এর পরবর্তী যাবতীয় শারীরিক ও মানুষিক জটিলতার চিকিৎসা দিয়ে আসছি। মাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস Mycobacterium Tuberculosis নামক জীবাণু এই রোগের কোসেটিভ এজেন্ট। জীবাণু শরীরে ঢুকলেই কিন্তু যক্ষ্মা অ্যাকটিভ হয়ে যায় না বরং কিছু ক্ষেত্রে ল্যানেন্ট বা সুপ্ত অবস্থায় থাকে আবার কিছু ক্ষেত্রে প্রি-ডোমিনেন্ট অবস্থায় থাকে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে গেলে অর্থাৎ যখন যাকে সুবিধা করতে পারে তার শরীরেই যক্ষ্মা সরাসরি আত্মপ্রকাশ করে থাকে যাকে আমরা অ্যাকটিভ টিবি বলে থাকি।
যক্ষ্মা বা টিবি রোগ প্রতিরোধের উপায়
বলতে গেলে আমাদের শরীরে এমন কোন অঙ্গ নাই, যেখানে যক্ষ্মা বা টিবি হয় না। যতগুলো যক্ষ্মা বা TB রয়েছে, এর মধ্যে ৮০ ভাগই ফুসফুসে হয়ে থাকে এবং এটি সবচেয়ে গুরুতর ও ভীষণ ছোঁয়াচে প্রকৃতির। শরীরের অন্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের যক্ষ্মা এতোটা ছোঁয়াচে নয়। তাই সেগুলি ফুসফুসের যক্ষ্মার মতো ছড়ানোর ক্ষেত্রে ততটা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। আগের পর্বগুলিতে আপনারা জেনেছেন-

বিসিজি BCG টিকা নিলেও টিবি TB বা যক্ষ্মা হয় কেন?

অনেকেই প্রশ্ন করেন বিসিজি টিকা নেয়ার পরও যক্ষা হয় কেন? আপনি ইতিমধ্যে জেনেছেন, আমাদের এমন কোন অঙ্গ নাই, যেখানে যক্ষ্মা হয়না তবে এর মধ্যে ৮০ ভাগই ফুসফুসে হয়ে থাকে যা সবচেয়ে গুরুতর ও ভীষণ ছোঁয়াচে প্রকৃতির। বিসিজি BCG টিকা ফুসফুসীয় টিবি প্রতিরোধ করতে পারে না। বিসিজি টিকার পুরা নাম ব্যাসিলাস ক্যালমেট গুয়েরিন Bacillus Calmette-Guérin (BCG), এ টিকা দেওয়া হয় শিশুর জন্মের সাথে সাথে অর্থাৎ ৪২ দিনের মধ্যে। বাংলাদেশ টিবি প্রধান দেশ হওয়ায় অনেক চিকিৎসকই আবার জন্মের দিনই শিশুদের এই টিকা দেয়ার পক্ষপাতী। 
কিন্তু এই বিসিজি BCG টিকা মূলত শিশু অবস্থায় অর্থাৎ শিশুদের টিউববারকুলাস মেনিনজাইটিস Tuberculous Meningitis এবং মিলিয়ারি টিবি Miliary Tuberculosis (TB) এবং কিছু বিচ্ছিন্ন সামান্য দেহাংশের টিবি প্রতিরোধের জন্য দেয়া হতে থাকে। Pulmonary TB অর্থাৎ ফুসফুসীয় যক্ষ্মা এই টিকা প্রতিরোধ করতে পারে না। তাছাড়া শিশুদের মধ্যে এটা প্রায় ২০% কে টিবি সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং যারা সংক্রমিত হয়ে পড়ে তাদের মধ্যে এটি অর্ধেককে রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। অর্থ্যাৎ এই টিকা শিশুদের মধ্যে মাত্র ২০% সংক্রমণ ঝুঁকি কমায় এবং ৮০% ঝুঁকিই থেকে যায়। অথচ নির্বাচিত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ শিশু বা যুবক যেকারো শরীরের ভাইটাল ফোর্স উন্নত করে টিবি সংক্রমণ প্রতিরোধে ম্যাজিকের মত রেজাল্ট দিয়ে থাকে-যা অনেকেরই অজানা।
সুতরাং বুঝতেই পারছেন এই টিকা সব শিশুদেরও পুরুপুরি সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ। যার কারণে এই যুগেও সারা বিশ্বে টিবি বা যক্ষ্মা এখনও একটি আতঙ্কের নাম। বাংলাদেশের জেলা উপজেলা স্বাস্থকেদ্র বা এনজিও নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ কেদ্র গুলিতে খুঁজ নিলেই দেখবেন শিশুকালে বিসিজি BCG টিকা নিয়েছেন অথচ যক্ষ্মা বা টিবি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এমন রোগীদের সংখ্যাই বেশি। কারণ বাংলাদেশে শিশুদের বিসিজি টিকা দেয়া বাধ্যতামুলক। এরপরও টিবিতে আক্রান্ত হচ্ছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। 

তেমন কোন ভালো সুরক্ষা দিচ্ছে না এবং শিশু বয়সের পর যুবকদের ক্ষেত্রেও কোন কাজ দিচ্ছে না তারপরও এটি কেন ব্যবহৃত হচ্ছে ? এমন প্রশ্ন অনেকেরই মনে জাগতে পারে। উত্তর হচ্ছে "নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো" অর্থাৎ শিশু বয়সে কিছু কিছু শিশুদের ক্ষেত্রে তো কাজ দিচ্ছে তার উপর এর জন্য বিকল্প কোন কার্যকর ব্যবস্থা এলোপ্যাথি আজও আবিষ্কার করতে পারেনি। বিসিজি BCG টিকা টিবি প্রতিরোধে খুব বেশি কাজ করে না বিধায় আমেরিকার মতো দেশে এই টিকার তেমন কোন ব্যবহার নেই। 
The TB vaccine is called Bacillus Calmette-Guérin (BCG), and it is used in many countries to prevent severe forms of TB in children. However, BCG is not generally recommended in the United States because it has limited effectiveness for preventing the most common forms of TB and in preventing TB in adults.

যক্ষ্মা বা টিবি রোগ প্রতিরোধের উপায় কি ?

টিবিতে আক্রান্ত হলে বিনা খরচের সরকারি এলোপ্যাথিক চিকিৎসাই অধিকাংশ মানুষ গ্রহণ করে থাকে। কিন্তু এর জটিলতা এবং পার্শপ্রতিক্রিয়া অনেক। বহু ক্ষেত্রেই রোগীদের জীবন প্রায় নরক যন্ত্রণায় ভরে দেয়। টিবির জটিলতা দূর হলেও বহু বর্ণনাতীত কষ্ট সারা জীবন ধরে বয়ে বেড়াতে হয়। যদিও হোমিওপ্যাথিতে রয়েছে টিবি রোগের এবং টিবি পরবর্তী যাবতীয় জটিলতার কার্যকর চিকিৎসা। তবে রোগটি শরীরে জেগে উঠার পূর্বে এর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ।

এর আগের পর্বে আপনারা জেনেছেন, টিবির জীবাণু শরীরে ঢুকলেই কিন্তু যক্ষ্মা বা টিবি অ্যাকটিভ হয়ে যায় না বরং কিছু ক্ষেত্রে ল্যানেন্ট বা সুপ্ত অবস্থায় থাকে আবার কিছু ক্ষেত্রে প্রি-ডোমিনেন্ট অবস্থায় থাকে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে গেলে অর্থাৎ যখন যাকে সুবিধা করতে পারে তার শরীরেই যক্ষ্মা সরাসরি আত্মপ্রকাশ করে থাকে যাকে আমরা অ্যাকটিভ টিবি বলে থাকি। তবে যারা ল্যানেন্ট বা সুপ্ত টিবিতে আক্রান্ত আছেন তাদের টিউবারকুলিন স্কিন টেস্ট Tuberculin Skin Test (TST)  করে সনাক্ত করা সম্ভব। প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় সেটির চিকিৎসা করা হলে তা আর সহসাই জেগে উঠতে পারে না। কিন্তু কোন প্রকার চিকিৎসা না করলে ভাইটাল ফোর্সের দুর্বলতম অবস্থায় সেটি যেকোন সময় আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

বুঝতেই পারছেন ভাইটাল ফোর্সের দুর্বলতম অবস্থা সহজেই টিবি আক্রমণের পথ সুগম করে দেয়। যারা মাদক সেবন করেন তাদের ভাইটাল ফোর্স ক্রমাগত দুর্বল হতে থাকে। তাছাড়া মাদকসেবীরা এইডস এর উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন। আর যারা এইডসে আক্রান্ত হন HIV সংক্রমিত মানবদেহে সহজেই টিবি জেগে উঠে এবং বেশির ভাগ এইডসের রোগীরা টিবিতেই মারা যান। 

ডায়াবেটিস রোগীদের টিবি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার শুরুতেই যারা প্রোপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিয়ে এটি ঠিক না করেন বরং বিভিন্ন এলোপ্যাথিক বা রাসায়নিক ঔষধের মাধ্যমে সুগার নিয়ন্ত্রণের চিকিৎসা নিয়ে যাচ্ছেন আর ভেতরে ভেতরে রোগ জটিলতা বাড়িয়ে তুলছেন তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ভাইটাল ফোর্স ধীরে ধীরে দুর্বল থেকে দুর্বলতর হতে থাকে। সাধারণ মানুষের তুলোনায় এলোপ্যাথিক ঔষধ গ্রহণকারী ডায়াবেটিস রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহু গুন কম থাকে। ভাইটাল ফোর্সের দুর্বলতম অবস্থায় ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরে টিবি যেকোন সময় জেগে উঠতে পারে। 

এনিম্যাল ফুড বা প্রাণীজ খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্টফুড জাংফুড পরিহার করে গার্ডেন গ্রীন ভেজিটেবল বা সবুজ শাকসবজি, পুষ্টিকর সুষম খাদ্য ও ফলমূল গ্রহণ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে থাকে। এতে করে টিবিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও কমে আসে। 

এমন কোন কাজ করা যাবে না যাতে শরীরে ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হয়ে পড়ে। যাবতীয় মাদকদ্রব্য পরিহার করে চলা উচিত। এছাড়া যে যে কারণে ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হয়ে পড়ে এ সম্পর্কে বিস্তারিত সবারই জেনে রাখা উচিত। কারণ যেকোন বয়সে ভাইটাল ফোর্স শক্তিশালী থাকাই হলো পুরিপূর্ণ সুস্বাস্থ বজায় থাকা। 

টিবির জীবাণুটি কিন্তু অ্যানেরোবিক (Anaerobic) প্রকৃতির অর্থ্যাৎ এরা কম বাতাসে বেঁচে থাকে। বেশি বাতাসে তাদের বংশ বিস্তারে অসুবিধা হয়। তাই ফুসফুসে তাজা বাতাস প্রবেশ করানোর জন্য নিয়মিত খেলাধুলা, হাঁটাচলা, ব্যায়াম ইত্যাদি বেশ ফলদায়ক। 
জনাকীর্ণ পরিবেশে বসবাস যথাসম্ভব পরিহার করে বাসস্থানের পরিবেশ খোলামেলা, আলো-বাতাসযুক্ত উষ্ণ প্রকৃতির হওয়া প্রয়োজন। কারণ টিবির জীবাণু আদ্র, স্যাঁতসেঁতে স্থানে বংশবিস্তার করতে পারে আরাম করে।

জীবনের শুরুতে যেসকল শিশুরা হোমিও চিকিৎসার তথ্যাবধানে চলে আসে তারা অন্যান্য শিশুদের তুলনায় উচ্চ জীবনী শক্তি নিয়ে বেড়ে উঠে। তাদের সহজেই টিবি প্রতিরোধী করে তুলা যায়। তবে যেসব শিশুরা হোমিও চিকিৎসার তথ্যাবধানে না আসে তাদের বিসিজি টিকা দেয়া দরকার কারণ সবাইকে সমান ফল না দিলেও ঐ বয়সে কিছু শিশু অন্তত টিবি প্রতিরোধী থাকবে।

নিজেকে টিবির সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পাবলিক প্লেস যেমনঃ রেল বাস লঞ্চ স্টেশন, বাজার ইত্যাদি স্থানে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে রুমাল ব্যবহার করা এবং মুখে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। মসজিদে অজু করার পর বা হোটেলে খাওয়ার পর সেখানা টাঙানো তোয়ালে বা গামছা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

আপনি নিজে ফুসফুসীয় টিবিতে আক্রান্ত হলে অবশ্যই পাবলিক প্লেসগুলিতে মাস্ক ব্যবহার করুন। কারণ আপনার কারণে নিজের অজান্তেই বহু সুস্থ মানুষ টিবিতে আক্রান্ত হয়ে পড়বে। 

যদি আপনি হোমিও চিকিৎসা না নিয়ে বিনামূল্যে প্রদত্ত সরকারি চিকিৎসা গ্রহণ করে থাকেন তাহলে কোন ক্রমেই ঔষধের কোন ডোজ মিস দিবেন না। কর্তব্যরত চিকিৎসক যত মাস পর্যন্ত আপনাকে ঔষধ খেয়ে যেতে বলবেন আপনি ততদিন পর্যন্ত ঔষধ চালিয়ে যাবেন। 

এরপরও যদি আপনার টিবি না সাড়ে বা কফে রক্ত যায় অথবা অন্য কোন শারীরিক বা মানুষিক জটিলতা দেখা দেয় তাহলে মনে রাখবেন একমাত্র হোমিওপ্যাথিই আপনার জীবনের জন্য এক মহা আর্শীবাদ হয়ে আসবে। অর্থ্যাৎ প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিলে এই সকল জটিলতা দূর হয়ে যাবে ইনশা-আল্লাহ। 
বিস্তারিত

সোমবার, ১৫ মার্চ, ২০২১

যক্ষ্মা বা যক্ষা Tuberculosis বা টিবি ! প্রকারভেদ, কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা এবং ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

যক্ষ্মা অর্থাৎ Tuberculosis (TB) টিবি - পৃথিবীর সবচেয়ে পুরাতন রোগগুলির মধ্যে একটি। যক্ষা বা টিবি ল্যানেন্ট বা সুপ্ত, প্রি-ডোমিনেন্ট, অ্যাকটিভ এই তিন টাইপের হয়ে থাকে। প্রিয় পাঠক, আমি ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান আর এ পর্বে আমি আলোকপাত করবো- যক্ষা বা টিবি রোগের টাইপ, কারণ, লক্ষণ এবং এর চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত এলোপ্যাথিক এন্টিবায়োটিক ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে। আমরা আরো জানবো টিবি প্রি-ডোমিনেন্ট থাকলে আপনার শরীরে জেগে উঠা জটিল জটিল স্বাস্থ্য সমস্যাগুলি স্থায়ীভাবে নির্মূলের জন্য বিশ্বের একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা কি রয়েছে সে সম্পর্কে। 

মাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস (Mycobacterium tuberculosis) নামক একটি জীবাণু এই রোগের কোসেটিভ এজেন্ট। যক্ষ্মা রোগে সবচেয়ে বেশী আক্রান্ত হয় ফুসফুস, যদিও হৃৎপিণ্ড, অগ্ন্যাশয়, ঐচ্ছিক পেশী ও থাইরয়েড গ্রন্থি ছাড়া শরীরের প্রায় যেকোন অঙ্গেই যক্ষ্মা রোগ হতে পারে এমনকি কিডনি, মেরুদন্ড অথবা মস্তিষ্ক পর্যন্ত আক্রান্ত হতে পারে। বলতে গেলে আমাদের এমন কোন অঙ্গ নাই, যেখানে যক্ষ্মা হয়না। যতগুলো যক্ষ্মা বা TB রয়েছে, এর মধ্যে ৮০ ভাগই ফুসফুসে হয়ে থাকে এবং এটি সবচেয়ে গুরুতর ও ভীষণ ছোঁয়াচে প্রকৃতির। শরীরের অন্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের যক্ষ্মা এতোটা ছোঁয়াচে নয়। তাই সেগুলি ফুসফুসের যক্ষ্মার মতো ছড়ানোর ক্ষেত্রে ততটা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। সুতরাং আমরা দেখছি টিবি বা যক্ষ্মা সেটা শ্বাসতন্ত্রীয় বা Pulmonary এবং অ-শ্বাসতন্ত্রীয়  বা Extra pulmonary হয়ে থাকে। পরবর্তী পর্বগুলোতে আপনারা আরো জানতে পারবেন-
যক্ষ্মা বা যক্ষা Tuberculosis বা টিবি
জীবাণু শরীরে ঢুকলেই কিন্তু যক্ষ্মা অ্যাকটিভ হয়ে যায় না বরং কিছু ক্ষেত্রে ল্যানেন্ট বা সুপ্ত অবস্থায় থাকে আবার কিছু ক্ষেত্রে প্রি-ডোমিনেন্ট অবস্থায় থাকে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে গেলে অর্থাৎ যখন যাকে সুবিধা করতে পারে তার শরীরেই যক্ষ্মা সরাসরি আত্মপ্রকাশ করে থাকে যাকে আমরা অ্যাকটিভ টিবি বলে থাকি।
অ্যাকটিভ টিবির ক্ষেত্রে আপনার নিকটস্থ জেলা-উপজেলা স্বাস্থ কেন্দ্রে বা বিভিন্ন দাতব্য চিকিৎসালয়ে ফ্রি বা বিনা মূল্যে আপনি চিকিৎসা পাবেন। তবে সেগুলিতে বিনামূল্যে শুধু ঔষধ দেয়া হয় এবং কাশির পরীক্ষাটি করা হয়। এর বাইরে যেমন এক্সরে, সিটি স্ক্যান বা যক্ষ্মা সম্পর্কিত অন্যান্য পরীক্ষা নিরীক্ষা বা চিকিৎসা কিছুই বিনামূল্যে হয়না, এমনকি বক্ষব্যাধি হাসপাতালেও সব বেড ফ্রি নেই।
যক্ষ্মা হলেই যে তা ছোঁয়াচে হবে এমন কিন্তু নয়। ল্যানেন্ট বা সুপ্ত অবস্থায় ব্যক্তির শরীরে যক্ষ্মার জীবানু প্রবেশ করলেও শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সামনে সেটি মাথা তুলতে পারে না। ফলে ল্যানেন্ট টিবিতে আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে সংক্রমণের আশঙ্কা নেই বললেই চলে। আবার প্রি-ডোমিনেন্ট অবস্থায় যখন রোগীর ব্যক্তির ভাইটাল ফোর্স ততটা শক্তিশালী অবস্থায় থাকে না তখন শরীরে বিভিন্ন লক্ষণ বাউপসর্গ তৈরি করে কষ্ট দিয়ে থাকে। মনে রাখা প্রয়োজন, এ ধরনের রোগীর শরীরে যে কোনও সময় যক্ষ্মার জীবানু অ্যাকটিভ হয়ে উঠতে পাতে। সেক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে অন্যের দেহে জীবানু সংক্রমণের সম্ভাবনা আছে।

যক্ষ্মা বা টিবি - প্রকারভেদ

  • ল্যানেন্ট বা সুপ্ত টিবি
  • প্রি-ডোমিনেন্ট টিবি
  • অ্যাকটিভ টিবি
ল্যানেন্ট বা সুপ্ত টিবি: এই কন্ডিশনে টিবি সুপ্তাবস্থায় থাকে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে সংক্রমণের আশঙ্কা নেই বললেই চলে। তবে কোন কারণে ব্যক্তির ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হয়ে পড়লেই ল্যাটেন্ট টিবি অ্যাকটিভ হয়ে উঠতে পারে।

প্রি-ডোমিনেন্ট টিবি: প্রথমেই আসুন জেনে নিই কোন শর্তে আপনি বুঝবেন টিবি প্রি-ডোমিনেন্ট!
  • প্রথমতঃ আপনি পূর্বে একবার টিবিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন আর ট্র্যাডিশনাল ট্রিটমেন্ট সিস্টেমে ৬ মাস, ৯ মাস, ১২ মাস ইত্যাদি কোর্সে ঔষধ খেয়ে অ্যাকটিভ টিবি কিছুটা রেসিসিভ করেছেন। 
  • দ্বিতীয়তঃ আপনি নিজে টিবিতে আক্রান্ত হননি কিন্তু আপনার নিকট আত্মীয় যেমনঃ মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী কেউ না কেউ টিবিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
তাহলে আপনি বুঝে নিবেন আপনার শরীরেও টিবি প্রি-ডোমিনেন্ট। অর্থাৎ যখন সুবিধা করতে পারবে তখনই আপনার শরীরে টিবি অ্যাকটিভ হয়ে উঠবে। তবে টিবি প্রি-ডোমিনেন্ট অবস্থায়ও আপনি হয়তো পুরুপুরি শান্তিতে থাকতে পারবেন না। এই অবস্থায় যখন ব্যক্তির ভাইটাল ফোর্স ততটা শক্তিশালী অবস্থায় থাকে না তখন তার শরীরে বিভিন্ন লক্ষণ বা উপসর্গ তৈরি করে তাকে কষ্ট দিয়ে থাকে আর এই সব লক্ষণ ও উপসর্গকে বিভিন্ন রোগের নাম দিয়ে ব্যবসা করে যায় এলোপ্যাথিক ট্রিটমেন্ট সিস্টেমের লোকজন। কারণ তারা আদৌ এই রোগগুলির মূল কারণটি নির্ণয় করতে পারে না বিধায় ওয়ান টাইম ঔষধগুলি সারা জীবন ধরেই লোকজনকে খেয়ে যেতে বলে। ফলশ্রুতিতে ঐ সব রাসায়নিক ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় লোকজন আরো জটিল জটিল স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। 

সুতরাং বুঝতেই পারছেন, প্রি-ডোমিনেন্ট টিবির কোন এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই তবে হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা দিয়ে প্রি-ডোমিনেন্ট টিবিকে রেসিসিভ করা যায়। 

টিবি প্রি-ডোমিনেন্ট থাকলে যে যে সমস্যা জেগে উঠতে পারে

  • আইবিএস, ক্রনিক ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা প্রকার পেটের অসুখ
  • হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট বা ঠান্ডার দোষ
  • ফুসফুসের নানা সমস্যা
  • স্বরযন্ত্রের সমস্যা
  • হার্টের সমস্যা
  • লিভারের সমস্যা
  • কিডনি ও মূত্রতন্ত্রের  সমস্যা
  • পুরুষদের অর্কাইটিস ও  বন্ধ্যাত্ব
  • নারীদের ডিম্বাশয়ের সমস্যা ও  বন্ধ্যাত্ব
  • নানা প্রকার মানুষিক সমস্যা
  • নানা প্রকার চর্মরোগ
  • মাইগ্রেন বা দুরারোগ্য মাথা ব্যথা
  • পাইলস, ফিস্টুলা, মলদ্বার দিয়ে রক্ত ক্ষরণ 
  • নানা প্রকার ক্যান্সার
  • শরীর শুকিয়ে যাওয়া
  • টিবি একটিভ হয়ে উঠতে পারে
  • ইত্যাদি
অ্যাকটিভ টিবি: অ্যাকটিভ টিবি দু'ধরণের হতে পারে-
  • শ্বাসতন্ত্রীয় টিবি বা যক্ষ্মা  বা Pulmonary Tuberculosis (TB)
  • অ-শ্বাসতন্ত্রীয় টিবি বা যক্ষ্মা বা Extra pulmonary Tuberculosis (TB)
শ্বাসতন্ত্রীয় টিবির ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত লক্ষণ বা উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে
  • ফুসফুসে যক্ষ্মা হলে হাল্কা জ্বর ও কাশি হতে পারে
  • কাশির সাথে কফ এবং মাঝে মাঝে রক্ত বের হওয়া
  • কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট হতে পারে
  • বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট হিসেবে ৫-৬ মাস জ্বর থাকার মূল কারণ এই টিবি
  • সাধারনত তিন সপ্তাহের বেশি কাশি
  • জ্বর থাকে - সন্ধ্যার দিকে জ্বর আসা
  • অস্বাভাবিকভাবে ওজন হ্রাস পাওয়া
  • অবসাদ অনুভব করা
  • রাতে ঘাম হওয়া
  • বুকে ব্যথা, দুর্বলতা ও ক্ষুধামন্দা
  • ইত্যাদি

অ-শ্বাসতন্ত্রীয় যক্ষা বা Extra pulmonary Tuberculosis

যক্ষা ফুসফুস থেকে অন্যান্য অঙ্গেও ছড়িয়ে পরতে পারে বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তাদের এবং বাচ্চাদের ক্ষেত্রে। তখন একে অ-শ্বাসতন্ত্রীয় যক্ষা বা Extra pulmonary Tuberculosis বলা হয়। তখন আক্রান্ত অঙ্গের অবস্থান ভেদে ভিন্ন ভিন্ন লক্ষণ ও উপসর্গ পরিলক্ষতি হয়ে থাকে।  অ-শ্বাসতন্ত্রীয় টিবি বা যক্ষার মধ্যে রয়েছে-
  • কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে মেনিনজাইটিস (TB Meningitis)
  • প্রজনন তন্ত্রে প্রজনন তন্ত্রীয় যক্ষা (Genitourinary TB)
  • পরিপাক তন্ত্রে পরিপাক তন্ত্রীয় যক্ষা (Gastrointestinal TB)
  • লিভার সংক্রান্ত টিবি (TB of the Liver)
  • হাড় এবং জয়েন্ট টিবি (TB of Bones and Joints)
  • হৃদঝিল্লি সংক্রান্ত টিবি (TB Pericarditis)
  • ত্বক সম্পর্কিত টিবি (Cutaneous Tuberculosis)
  • পেট বা উদর সংক্রান্ত টিবি (TB Peritonitis)
  • লসিকাতন্ত্রে স্ক্রফুলা (TB Lymphadenitis)

মিলিয়ারি টিবি Miliary Tuberculosis (TB)

কখনো কখনো টিবি বা যক্ষ্মায় আক্রান্ত স্থান থেকে কোন না কোন ভাবে যক্ষ্মা জীবাণু রক্তস্রোতে মিশে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট টিউবারক্যালসের সৃষ্টি হয়। এভাবে সারা শরীরে যক্ষ্মা জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়। যাদের শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তারাই সাধারণত এ রোগে আক্রান্ত হয়। এক্সট্রা পালমোনারি টিবি'র মধ্যে মিলিয়ারি টিবিই সব থেকে ভয়াবহ। চিকিৎসা না করলে ৯৫ ভাগ রোগীরই মৃত্যু হয়। মিলিয়ারি টিবিতে সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি জ্বর হতে পারে এবং রোগী অস্বস্তিবোধ করে।

যক্ষ্মা বা টিবি রোগ নির্নয়ের জন্য পরীক্ষা

  • রক্তের পরীক্ষা
  • কফ পরীক্ষা
  • জিন এক্সপার্ট টেস্ট
  • ত্বকের পরীক্ষা
  • বুকের এক্স-রে
  • সিটি স্ক্যান
  • কালচার টেস্ট

যক্ষ্মা বা টিবি রোগের চিকিৎসা - এলোপ্যাথি এবং হোমিওপ্যাথি

অ্যাকটিভ টিবির ক্ষেত্রে আপনার নিকটস্থ জেলা-উপজেলা স্বাস্থ কেন্দ্রে ফ্রি বা বিনা মূল্যে আপনি চিকিৎসা পাবেন। তবে বিনামূল্যে শুধু ঔষধ দেয়া হয়ে থাকে এবং কাশির পরীক্ষাটি করা হয়। এর বাইরে যেমন এক্সরে, সিটি স্ক্যান বা যক্ষ্মা সম্পর্কিত অন্যান্য পরীক্ষা নিরীক্ষা বা চিকিৎসা কিছুই বিনামূল্যে হয়না, এমনকি বক্ষব্যাধি হাসপাতালেও সব বেড ফ্রি নেই। তথ্যসূত্র: বিবিসি (www.bbc.com/bengali/news-51447395)

টিবি বা যক্ষ্মার চিকিৎসার জন্য সাধারণত যে ধরণের অ্যান্টিবায়োটিকগুলি নির্ধারিত হয় সেগুলি হল আইসোনিয়াজিড, রিফাম্পিসিন, পাইরাজিনামাইড এবং ইথামবুটল বা রাইফেটার নামক একটি সংমিশ্রণ। রিফটার সাধারণত দুই মাস ব্যবহার করা হয়। ডোজ নিজেই রোগীর শরীরের ওজনের সাথে সামঞ্জস্য করা হবে। জেনে রাখা ভালো, রাইফটারে এলোপ্যাথিক জন্ম নিয়ন্ত্রণের ওষুধ, ডায়াবেটিসের ওষুধ এবং উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের সাথেও Contraindications রয়েছে। তাছাড়া অন্যান্য সকল এলোপ্যাথিক ওষুধের মতো টিবি ঔষধেরও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। এলোপ্যাথিতে টিবি রোগের চিকিৎসা কালীন প্রয়োগকৃত অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধের যে যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া  দেখা যায় সেগুলির মধ্যে রয়েছে-
  • বমি বমি ভাব এবং বমি বমি ভাব
  • পেটে ব্যথা হয়
  • বুকে ব্যথা এবং উত্তাপ সংবেদন
  • অতিসার বা পাতলা পায়খানা হওয়া 
  • পেশী ব্যথা এবং জয়েন্টে ব্যথা
  • মাথা ব্যথা
  • ত্বকে ফুসকুড়ি এবং চুলকানি
  • মাথা ঘোরা
  • বার বার কানে কানে বাজে
  • অলসতা ইত্যাদি 
তবে এলোপ্যাথিতে টিবি ওষুধ প্রয়োগ করার পর নিম্ন লিখিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনুভব করলে অবিলম্বে আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন-
  • ফোলা ফোলাসহ জোড়ের ব্যথা
  • চোখ হলুদ হয়ে যায়
  • প্রস্রাবের পরিমাণে পরিবর্তন
  • তৃষ্ণা বেড়ে গেলে 
  • রক্তাক্ত প্রস্রাব
  • দৃষ্টি পরিবর্তন
  • দ্রুত হার্টবিট সমস্যা 
  • সহজ ক্ষত বা রক্তপাত
  • জ্বর এবং অবিরাম গলা লাগা (একটি নতুন সংক্রমণের লক্ষণ)
  • মেজাজ পরিবর্তন যেমন বিভ্রান্তি, এবং অনুভূতি বা দেখা বা শোনা যায় এমন বিভ্রান্তির অভিজ্ঞতা
  • খিঁচুনি

টিবির এলোপ্যাথিক ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও জটিলতা (পরবর্তীতে)

কারো শরীরে কিছু দিন যাবৎ এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ করলে শরীরের অবস্থা কিরূপ দাঁড়ায় সেটা সকলেরই জানা। এক্ষেত্রে দীর্ঘদিন যাবৎ ক্রমাগত উচ্চশক্তির এন্টিবায়োটিক ঔষধ যদি কারো শরীরে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে তাহলে তার শরীরে যে নানা প্রকার ভয়ানক জটিলতার সৃষ্টি হবে সেটা একজন সাধারণ মানুষ মাত্রই অনুমান করতে পারেন। টিবির এলোপ্যাথিক চিকিৎসার পর দেখবেন, একের পর এক শরীরে নানা রকম সমস্যা জেগে উঠছে। এলোপ্যাথিক চিকিৎসকরা তখন রোগ নির্ণয়ে হাতড়িয়ে মরে এবং খুঁজেই পায় না কি থেকে কি হচ্ছে। টিবি পরবর্তী জটিলতাগুলির মধ্যে রয়েছে  আইবিএস, ক্রনিক ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা প্রকার পেটের অসুখ, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট বা ঠান্ডার দোষ, ফুসফুসের নানা সমস্যা, পুরুষদের অন্ডকোষের সমস্যা যেমনঃ অর্কাইটিস, ভেরিকোসিল, বন্ধ্যাত্ব ইত্যাদি, পাইলস, ফিস্টুলা, মলদ্বার দিয়ে রক্ত ক্ষরণ ইত্যাদি, নানা প্রকার মানুষিক সমস্যা, মাইগ্রেন বা দুরারোগ্য মাথাব্যথা, হার্টের সমস্যা, থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিস ইত্যাদি অন্যতম। 

হতে পারে সেগুলি টিবির কারণে বা টিবির এলোপ্যাথিক চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে জেগে উঠেছে। যদি চিকিৎসা কালীন ক্রমাগত উচ্চশক্তির এন্টিবায়োটিক ঔষধ প্রয়োগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে নানা সমস্যা জেগে উঠে তাহলে হোমিও চিকিৎসায় এই জটিলতা কাটানো অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে দাঁড়ায় তবে অসম্ভব নয়। এক্ষেত্রে ধৈর্য্য ধরে প্রপার হোমিও চিকিৎসা নিলে ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে আসে।
মনে রাখা ভালো, হোমিওপ্যাথিতে রয়েছে টিবি রোগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন কার্যকর চিকিৎসা। তবে এর জন্য দক্ষ এবং রেজিস্টার্ড একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরী। তাছাড়া একটিভ টিবির এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নিলেও আপনাকে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দূর করতে অথবা প্রিডোমিনান্ট টিবির ভয়ঙ্কর জটিলতাকে দূর করতে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাই নিতে হবে পরবর্তীতে। এখানে দ্বিতীয় আর কোন কার্যকর অপশন নেই। 

টিবির চিকিৎসাকালীন পরামর্শ

যাই হোক, চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি এবং বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান করার কারণে লোকজন টিবিতে আক্রান্ত হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এলোপ্যাথিক চিকিৎসাই নিয়ে থাকেন। সরকারি হাসপাতালে বা বিভিন্ন দাতব্য চিকিৎসালয়ে ৬ মাস, ৯ মাস, ১২ মাস ইত্যাদি কোর্সে আপনাকে বিনামূল্যে এলোপ্যাথিক এন্টিবায়োটিক ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা দিবে। তবে কিছু দিন ঔষধ খেয়ে টিবি ভালো হয়ে গেছে ভেবে মাঝ পথেই ঔষধ খাওয়া বন্ধ করলে আপনি আরো জটিল টিবিতে আক্রান্ত হবেন যাকে বলা হয় ঔষধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা বা মাল্টিড্র্যাগ রেজিস্টেন্ট টিবি - এমডিআর (MDR TB) অথবা (RR TB) আরআর টিবি - রিফাম্পিসিন রেজিস্ট্যান্স টিবি। রিফাম্পিসিন টিবির একটি বহুল ব্যবহৃত ঔষধ। 

এমডিআর বা আরআর টিবিতে আক্রান্ত অবস্থায় এক বা একাধিক ঔষধ রোগীর শরীরে কাজ করতে চায় না। সাধারণত টিবি রোগের চিকিৎসা কালে অনিয়মিত ঔষধ সেবন বা ঔষধের কোর্স শেষ না করা বা অন্য কোন এমডিআর টিবি রোগীর সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ একত্রে বসবাস করলে এই সমস্যা হয়ে থাকে। 

তাই অবশ্যই পূর্ণাঙ্গ মেয়াদে ঔষধ খেয়ে যাবেন। যেদিন সেখানকার চিকিৎসক আপনাকে ঔষধ বন্ধ করতে বলবেন তখনই আপনি ঔষধ খাওয়া বন্ধ করবেন। পূর্ণাঙ্গ মেয়াদে ঔষধ খাওয়ার পর যেদিন চিকিৎসক আপনাকে ছুটি দিবেন তখন হয়তো আপনি প্রাণে বেঁচে যাবেন অর্থাৎ টিবির বহু লক্ষণ উপসর্গ থেকেই আপনি মুক্তি পেয়ে যাবেন। তখন আপনি অ্যাকটিভ টিবির পেশেন্ট থাকবেন না তবে টিবি প্রি-ডোমিনেন্ট থাকবে আপনার শরীরে।
অনেক এলোপ্যাথিক চিকিৎসকই মনে করেন একবার তাদের চিকিৎসায় টিবি ভাল হয়ে গেলে সেটা আর দ্বিতীয়বার হয় না এবং তার পরবর্তী প্রজন্মের কেউ টিবিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নেই। কিন্তু হোমিওপ্যাথিক বাস্তব দর্শন ভিন্ন কথা বলে। জেনে রাখা ভালো, Tuberculosis is results of disease and also one way disease. একবার দেহ-মনে ঢুকলে আর বের হতে পারে না। টিবির জেনেটিক ম্যাটারিয়াল পরবর্তী প্রজন্মে ট্রান্সফার হয় এবং তারাও টিবিতে আক্রান্ত হতে পারে অথবা তাদের DNA তে টিবির জেনেটিক ম্যাটারিয়াল প্রি-ডোমিনেন্ট থাকার ফলে নানা প্রকার দুরারোগ্য স্বাস্থ্য জটিলতা সৃষ্টি হয়ে থাকে। তবে কার শরীরে কি তীব্রতায় রোগ-ব্যাধি জেগে উঠবে সেটা নির্ভর করে ব্যক্তির ভাইটাল ফোর্সের সক্ষমতা এবং DNA তে প্রি-ডোমিনেন্ট অন্যান্য True Disease এর উপস্থিতি বা অবস্থার উপর। 
টিবি প্রি-ডোমিনেন্ট থাকলে আপনি কি কি স্বাস্থ সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন ইতিমধ্যেই সেগুলি আপনারা জেনেছেন। আর টিবি প্রি-ডোমিনেন্ট থাকা কালে যেকোন স্বাস্থ সমস্যায় আপনাকে কার্যকর রেজাল্ট দিবে একমাত্র হোমিওপ্যাথি এছাড়া টিবি রোগের একটি কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতিও হলো হোমিওপ্যাথি। তবে এর জন্য আগে দক্ষ এবং রেজিস্টার্ড একজন হোমিও ডাক্তার নির্বাচন করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন। 
আপনি জানেন কি ? টিবি বা যক্ষা সম্পর্কে হোমিওপ্যাথিক দর্শন কি বলছে ? পৃথিবীতে টিউবারকুলার পেশেন্টরাই সবচেয়ে ভালো মানুষ হয়ে থাকে। তারা ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করে। সমস্ত পৃথিবীটাকে তারা তাদের নিজেদের মনে করে। আকাশটাকে ভাবে নিজেদের ছাদ। পৃথিবীর সমস্ত মানুষকে ভাবে নিজেদের আপনজন। তারা মানুষের জন্য কিছু একটা করতে পারলেই আনন্দ পায়।
সমাজের অনেকেই আছেন যারা একটিভ টিউবারকুলার পেসেন্টদের ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখেন। এমনকি বিয়ে-সাদী বা বন্ধুত্ব পর্যন্ত করতে চায় না। কিন্তু ডায়াবেটিস, হার্ট, লিভার বা কিডনি বা অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের সেরূপ দৃষ্টিতে দেখা হয় না। যারা টিউবারকুলার পেসেন্টদের প্রতি এমন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন তাদের এটাও জেনে রাখা উচিত, টিউবারকুলার পেসেন্টরা পৃথিবীর ভালো মানুষগুলির মধ্যে অন্যতম। আপনি তাদের সাথে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ হলে বা বন্ধত্ব করলে কখনও ঠকবেন না বা প্রতারিত হবেন না যদি তার মধ্যে অন্যান্য True Disease প্রিডোমিন্যান্ট না থাকে। কারণ এই লোকগুলি মানুষের জন্য কিছু একটা করতে পারলেই আনন্দ পায়।

যা যা জেনেছেন 

  • টিবি রোগ কি
  • যক্ষা রোগ কি ছোঁয়াচে
  • যক্ষা রোগের ঔষধ কি
  • যক্ষা রোগের পরীক্ষা
  • যক্ষা রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
  • যক্ষা হলে রক্ষা নাই
  • টিবি রোগের লক্ষণ কি কি
  • টিবি রোগ হলে করণীয়
  • টিবি রোগের ঔষধ কি
  • যক্ষা ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
  • গ্লান্ড টিবি কি
  • টিবি রোগ কি কারনে হয়
  • এমডিআর টিবি
  • বোন টিবি লক্ষণ
  • পেটের যক্ষা
  • টিবি রোগের হোমিও চিকিৎসা
  • টিবি রোগের ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বিস্তারিত

শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

যক্ষ্মা বা টিবি রোগের জটিলতা ! শ্বাসকষ্ট বা ঠান্ডার দোষ, পেটের অসুখ, ফুসফুস, হার্ট, কিডনি, বন্ধ্যাত্ব, মানুষিক সমস্যা ইত্যাদি

বিভিন্ন জটিল প্রকৃতির শারীরিক সমস্যার পেছনে Tuberculosis (TB) যক্ষ্মা বা যক্ষা ফ্যাক্টর এবং টিবি রোগের ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে আজ আলোকপাত করবো। আপনারা হয়তো অনেকেই লক্ষ্য করে থাকবেন যিনি TB বা যক্ষাতে আক্রান্ত হন অথবা তার নিকট আত্মীয় কারো TB থাকলে তিনি বিভিন্ন রকম শারীরিক এবং মানুষিক সমস্যায় আক্রান্ত থাকেন। যেমন পেটের পীড়া - আইবিএস, আইবিডি, কোষ্টকাঠিন্য, শ্বাসকষ্ট বা ঠান্ডার দোষ, বন্ধ্যাত্ব, হার্ট, কিডনি, চর্মরোগ, মানুষিক সমস্যা ইত্যাদি যেন লেগেই থাকে। বছরের পর বছর ধরে লোকজন দেশ বিদেশে এলোপ্যাথির নামকরা চিকিৎসকের পেছনে দৌড়াতে থাকে কিন্তু সমস্যার আদৌ কোন স্থায়ী সমাধান হয় না।

কারণ এলোপ্যাথিতে মূলতঃ মূল রোগের চিকিৎসা করা হয় না বরং মূল রোগ বা তার জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল দ্বারা সৃষ্ট কিছু লক্ষণ ও উপসর্গকে রোগের নাম দিয়ে চিকিৎসা করা হয় তাও আবার স্থানিক ভাবে। যার কারণে এলোপ্যাথিতে ক্রনিক ডিজিস আদৌ স্থায়ীভাবে ভাল হয় না। যখন কোন রোগের পেছনের মূল কারণ থাকে TB বা যক্ষা অথবা ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল তখন বুঝতেই পারছেন আপনি যতই এলোপ্যাথিক ঔষধ সেবন করেন না কেন আপনার সমস্যা আদৌ স্থায়ী ভাবে নির্মূল হবে না। তবে ঔষধ খাওয়া অবস্থায় কিছুটা আরাম পাবেন মাত্র অর্থাৎ রোগ যন্ত্রনা উপশম হবে কিন্তু রোগ  আরোগ্য হবে না। তখন এলোপ্যাথিক চিকিৎসকগণ রোগীকে সারা জীবন ধরেই ঔষধ খেয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে। তাছাড়া মানুষকে সারা জীবন ধরে ঔষধ খাওয়ানোটা হল এলোপ্যাথিক মেডিক্যাল মাফিয়াদের একটা বিজনেস পলিসি। 
মূলত হোমিওপ্যাথিক নিয়মে প্রপার ইনভেস্টিগেশন করে TB বা যক্ষা অথবা ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়ালকে তার প্রিডোমিনান্ট অবস্থা থেকে রিসিসিভ করার জন্য চিকিৎসা দেয়াই হলো বিশ্বের সর্বোৎকৃষ্ট এবং কার্যকর একটি চিকিৎসা।
বিশ্বের যে দশটি রোগে বেশি মানুষ মারা যায় TB বা যক্ষা হলো তার একটি। যক্ষ্মা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ফুসফুসে। এছাড়া দেহের বিভিন্ন জয়েন্ট, গ্রন্থিসহ আমাদের মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে, ত্বক, অন্ত্র, লিভার, কিডনি, হাড়সহ দেহের যেকোন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে TB বা যক্ষার সংক্রমণ হতে পারে। বলতে গেলে আমাদের এমন কোন অঙ্গ নাই, যেখানে যক্ষ্মা হয়না। কারণ যক্ষ্মা হচ্ছে একটি বায়ুবাহিত ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক ব্যাধি যেটা মাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকুলোসিস জীবাণুর সংক্রমণে হয়ে থাকে। যতগুলো যক্ষ্মা বা TB রয়েছে, এর মধ্যে ৮০ ভাগই ফুসফুসে হয়ে থাকে এবং এটি সবচেয়ে গুরুতর ও ভীষণ ছোঁয়াচে প্রকৃতির। শরীরের অন্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের যক্ষ্মা এতোটা ছোঁয়াচে নয়। তাই সেগুলি ফুসফুসের যক্ষ্মার মতো ছড়ানোর ক্ষেত্রে ততটা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। যেহেতু যক্ষা বা TB নিয়ে কথা বলছি তাই আসুন এর লক্ষণ ও উপসর্গগুলি সম্পর্কেও কিছুটা জেনে নিই-

ফুসফুসের যক্ষার প্রধান উপসর্গ

  • ফুসফুসে যক্ষ্মা হলে হাল্কা জ্বর ও কাশি হতে পারে
  • কাশির সঙ্গে গলার ভিতর থেকে থুতুতে রক্তও বেরোতে পারে
  • বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট হিসেবে ৫-৬ মাস জ্বর থাকার মূল কারণ এই টিবি
  • সাধারনত তিন সপ্তাহের বেশি কাশি
  • জ্বর থাকে 
  • কাশির সাথে কফ এবং মাঝে মাঝে রক্ত বের হওয়া
  • অস্বাভাবিকভাবে ওজন হ্রাস পাওয়া 
  • অবসাদ অনুভব করা 
  • রাতে ঘাম হওয়া
  • বুকে ব্যথা, দুর্বলতা ও ক্ষুধামন্দা
  • ইত্যাদি
যক্ষা ফুসফুস থেকে অন্যান্য অঙ্গেও ছড়িয়ে পরতে পারে বিশেষ করে যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তাদের এবং বাচ্চাদের ক্ষেত্রে। তখন একে অ-শ্বাসতন্ত্রীয় যক্ষা বা Extra pulmonary Tuberculosis বলা হয়, যেমন-
  • কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে মেনিনজাইটিস (TB Meningitis)
  • প্রজনন তন্ত্রে প্রজনন তন্ত্রীয় যক্ষা (Genitourinary TB)
  • পরিপাক তন্ত্রে পরিপাক তন্ত্রীয় যক্ষা (Gastrointestinal TB)
  • লিভার সংক্রান্ত টিবি (TB of the Liver)
  • হাড় এবং জয়েন্ট টিবি (TB of Bones and Joints)
  • হৃদঝিল্লি সংক্রান্ত টিবি (TB Pericarditis)
  • ত্বক সম্পর্কিত টিবি (Cutaneous Tuberculosis)
  • পেট বা উদর সংক্রান্ত টিবি (TB Peritonitis)
  • লসিকাতন্ত্রে স্ক্রফুলা (TB Lymphadenitis)
অনেক ক্ষেত্রে ফুসফুসীয় এবং অ-ফুসফুসীয় যক্ষা একসাথে বিদ্যমান থাক্তে পারে। পৃথিবীর যক্ষ্মা রোগীদের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি অর্থাৎ প্রায় অর্ধেকই হল ভারতীয় উপমহাদেশবাসী।
যক্ষা বা TB রোগের জটিলতা
তবে একবার কেউ এই রোগে আক্রান্ত হলে সেটা আর বের হতে পারে না। আপনি হয়তো আমাদের ট্রাডিশনাল চিকিৎসা ব্যবস্থায় ৬ মাস, ৯ মাস....১৮ মাস চিকিৎসা নিয়ে রোগের তীব্রতা সেই পরিমান কমিয়ে আনতে পারবেন যেটি আপনার জীবন নাশ করবে না। অর্থাৎ আপনি হয়তো টেস্ট করে দেখছেন আপনার শরীরে টিবির জীবাণু নেই। কিন্তু তারপরও যক্ষা বা এর জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল আপনার শরীরে থেকে যাবে এবং আপনার থেকে আপনার পরবর্তী প্রজন্মে DNA এর মাধ্যমে বিস্তার লাভ করবে। আপনার বংশধরদের মধ্যে যাকে সুবিধা করতে পারবে তার শরীরেই TB বা যক্ষা জেগে উঠবে অথবা তাদের শরীরে বিভিন্ন অঙ্গে নানা প্রকার জটিল প্রকৃতির সমস্যা সৃষ্টি করে তাকে জীবনভর কষ্ট দিয়ে যাবে। 

পূর্বে টিবি আক্রান্ত হলে বা নিকট আত্মীয়ের টিবি থাকলে

কারো পাস্ট হিস্ট্রিতে টিবি থাকলে অথবা তার নিকট আত্মীয় যেমন মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী কারো টিবি থাকলে তার মধ্যে নিম্নোক্ত স্বাস্থ্য সমস্যাগুলি তার মধ্যে জেগে উঠতে পারে-
  • আইবিএস, ক্রনিক ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা প্রকার পেটের অসুখ
  • হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট বা ঠান্ডার দোষ
  • ফুসফুসের নানা সমস্যা
  • স্বরযন্ত্রের সমস্যা
  • হার্টের সমস্যা
  • লিভারের সমস্যা
  • কিডনি ও মূত্রতন্ত্রের  সমস্যা
  • পুরুষদের অন্ডকোষের সমস্যা যেমনঃ অর্কাইটিস, ভেরিকোসিল, বন্ধ্যাত্বইত্যাদি 
  • নারীদের ডিম্বাশয়ের সমস্যা, বন্ধ্যাত্ব ইত্যাদি 
  • থাইরয়েডের সমস্যা
  • নানা প্রকার মানুষিক সমস্যা
  • নানা প্রকার চর্মরোগ
  • মাইগ্রেন বা দুরারোগ্য মাথাব্যথা
  • পাইলস, ফিস্টুলা, মলদ্বার দিয়ে রক্ত ক্ষরণ ইত্যাদি
  • বিভিন্ন প্রকার ক্যান্সার
  • চিকন স্বাস্থ বা শরীর শুকিয়ে যাওয়া
  • ইত্যাদি

কাদের টিউবারকুলার ডায়াথেসিস প্রিডোমিনান্ট

এবার আসুন আমরা জেনে নিই কোন একজন রোগীর Family History তে কোন কোন দোষ উপস্থিত থাকলে তার মধ্যে Tubercular Diathesis, Predominant বলা যাবে। Pathological indications from Family History are as follows-
  • Tuberculosis
  • Leprosy
  • Heart disease with or without valvular lessions
  • Diabetes
  • Rheumatism
  • Cancer
  • Headache
  • Cerebro vascular accident (CVA)
  • IBS, IBD, Chronic  Dysentery Diarrhoea or Constipation
  • Anorectal Diseases - Piles, Fistula, Sinuses, stricture in rectum, Bleeding per rectum etc.
  • Obstructive airways disease -  Asthma, chronic bronchitis, emphysema, cystic fibrosis, and bronchiolitis
  • Bronchiectasis - Permanent enlargement of parts of the airways of the lung
  • Laryngitis - Inflammation of voice box (larynx)
  • Different types of skin diseases especially ring-worm, Pityriasis, allergy etc.
  • Lice at different parts of the body
  • Breathing distress or Asthma
  • Mental or Psychiatric Problem - Schizophrenia, Mania, Insanity, Uncontrolled rage from beginning etc.
  • Massive Haemoptysis - Coughing of blood originating from the respiratory tract

যক্ষা বা TB পরবর্তী জটিলতার চিকিৎসা

তাই কোন একটি মানুষের Past History তে Tuberculosis (TB) থাকলে তার চিকিৎসার বিষয়ে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। কারণ আপনাকে মনে রাখতে হবে-
Tuberculosis is results of disease and also one way disease.
একবার দেহ-মনে ঢুকলে আর বের হতে পারে না। দ্বিতীয় কারণটি হলো কোন মানুষ Tuberculosis এ আক্রান্ত হওয়ার পূর্বে এবং পরে বিভিন্ন সমস্যায় বিশেষ করে ঠান্ডাজনিত সমস্যায় বার বার কষ্ট পেতে থাকে এবং বিভিন্ন ঔষধ খেতে থাকে যার ফলে PTS বা Trauma তৈরী হয় তবে সেটা কিন্তু Triple Trauma.
  • প্রথমতঃ আগে পিছে বিভিন্ন ঔষধ খাওয়ার জন্য Trauma
  • দ্বিতীয়তঃ Tuberculosis নিজেই Trauma তৈরী করছে
  • তৃতীয়তঃ Tuberculosis থেকে মুক্তির জন্য ঔষধ খেতে হয় যা পূনরায় Trauma তৈরী করে
সুতরাং বুঝতেই পারছেন নানা জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের Past History তে Tuberculosis (TB) থাকলে অথবা নিকট আত্মীয়ের যেমন মা-বাবা,ভাই-বোন রোগ কারো  TB থাকলেও বুঝতে হবে তার শরীরেও ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল বিদ্যমান যেটি হয়তো সে পেয়েছে তার পূর্ব পুরুষ থেকে DNA এর মাধ্যমে বা অন্য কোন মাধ্যমে। তাই সেক্ষেত্রে Tuberculosis (TB) বা TD (Tubercular Diathesis) Predominant একজন IBS রোগীর চিকিৎসা করা মানেই হলো তার শরীর থেকে ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল রিসিসিভ করা। অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়ালকে নিস্তেজ করে করে সুপ্তাবস্থায় পাঠিয়ে রোগীর ভাইটাল ফোর্সকে শক্তিশালী করা না যাবে পেশেন্ট কখনই তার অনান্য শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ করবেন না।
তাই যেকোন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের Past History তে Tuberculosis (TB) থাকলে অথবা নিকট আত্মীয়ের TB থাকলে দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক খুঁজে বের করুন যিনি প্রপারলি ইনভেস্টিগেশন করে আপনাকে চিকিৎসা দিয়ে আপনার DNA তে Predominant ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল রিসিসিভ করার চিকিৎসা দিবেন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই পেশেন্টকে কিছুটা ধৈর্য ধরে চিকিৎসা নিতে হবে। কারণ রোগের তীব্রতা ভেদে ভালো হতে একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম সময় লাগতে পারে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং আল্লাহ পাক যেন আমাদের সকলকে এই প্রকার জটিল সমস্যা থেকে বাঁচিয়ে রাখেন - সেই কামনায়। ধন্যবাদ। 
বিস্তারিত

সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

অ্যাজমা Asthma - কারণ, লক্ষণ এবং হাঁপানি থেকে মুক্তির উপায়

অ্যাজমা Asthma শ্বাসকষ্ট সমস্যার কারণ, লক্ষণ এবং হাঁপানি থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত থাকছে আজকের পর্বে। হাঁপানি বলতে আমরা বুঝি শ্বাসপথে বায়ু চলাচলে বাধা সৃষ্টির জন্য শ্বাসকষ্ট Dyspnoea. সারা বিশ্বের প্রায় ১৫ কোটিরও বেশি মানুষ অ্যাজমা বা হাঁপানীতে আক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর ৫০ হাজার লোক এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। শ্বাসনালির প্রদাহজনিত জটিল একটি সমস্যা হল এই অ্যাজমা। শ্বাসনালিতে বিভিন্ন কোষ প্রধানত ইওসিনোফিল ও অন্যান্য উপাদান জমা হয়ে শ্বাসনালির ছিদ্র পথ সরু হয়ে যায়। রোগী শ্বাসকষ্টসহ শুকনো কাশি, বুকে কফ জমে যাওয়া, শ্বাস নেওয়ার সময় বুকে শোঁ শোঁ আওয়াজ হওয়া ইত্যাদি সমস্যায় ভুগতে থাকে। শীতকালে শুষ্ক ঠান্ডা আবহাওয়া বাতাসে উড়ে বেড়ানোয় ধূলিকণার আধিক্যে অ্যাজমা রোগীদের কষ্ট বেড়ে যেতে দেখা যায়।

অ্যাজমা Asthma - মূল কারণ

ইতিপূর্বে যারা আমার লেখা পড়েছেন তারা হয়তো জেনেছেন, আমরা যে সব রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকি সেগুলি মূলত আমাদের DNA তে প্রিডোমিনেন্ট কিছু True Disease এর তৈরী করা কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ। ঠিক তেমনি অ্যাজমা Asthma বা হাঁপানি সমস্যার মূলেও রয়েছে True Disease. অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা দেখি যারা এই সমস্যায় আক্রান্ত হন তারা মূলত Tubercular Diathesis এর পেশেন্ট। 
বর্তমান বিশ্বে একমাত্র হোমিওপ্যাথিই আপনার DNA তে প্রিডোমিনেন্ট True Disease কে ডায়নামিক হোমিও ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে রিসিসিভ করতে পারে আর তাই হোমিও চিকিৎসায় অ্যাজমা বা হাঁপানি স্থায়ী ভাবে নির্মূল হয়ে যায়। 
তবে এক্ষেত্রে আপনাকে দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক নির্বাচন করতে হবে যিনি হোমিওপ্যাথিক নিয়মনীতি অনুসারে আপনাকে যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে আপনার DNA তে প্রিডোমিনেন্ট True Disease কে রিসিসিভ করবেন। 
অ্যাজমা Asthma - কারণ, লক্ষণ এবং হাঁপানি থেকে মুক্তির উপায়
যারা অ্যাজমা বা হাঁপানিতে আক্রান্ত হন বিভিন্ন পরিবেশগত বা পরিপোষক কারণে তাদের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যেতে পারে যেমনঃ ঘরের উপাদানের থাকা ক্ষুদ্র কীট, ধুলাবালি, গাছ-আগাছা, ফুলের পরাগরেণু, পশুপাখির পালক, কীটপতঙ্গ ইত্যাদি হাঁপানি রোগীদের শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ট্রিগার করে থাকে। 

অ্যাজমা Asthma - লক্ষণ ও উপসর্গ

  • শ্বাসকষ্ট হওয়া 
  • হাঁটলে বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করলে শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া
  • বুকে কফ জমে যাওয়া
  • বুকে সাঁ-সাঁ শব্দে কষ্টসহ শ্বাস নেয়া 
  • শ্বাস নেওয়ার সময় বাঁশির মতো শব্দ হওয়া  
  • শুকনো কাশি বা কফযুক্ত কাশি
  • রাতে ঘুমানোর সময় কাশি বেড়ে যাওয়া
  • বুক ভার হয়ে থাকা
  • বুকে চাপ ধরা বা দমবন্ধ অনুভব করা 

অ্যাজমা Asthma -স্থায়ী চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি

আপনারা হয়তো জানেন, এলোপ্যাথিতে অ্যাজমা বা হাঁপানি নির্মূলের স্থায়ী কোন চিকিৎসা নেই। অন্যান্য ক্রনিক ডিজিসের মতো এই সমস্যায় ও এলোপ্যাথি রোগ পুষে রেখে সারাজীবন ধরে আপনার সাথে বিজনেসের নীতিতে চলবে এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এলোপ্যাথিক ক্ষতিকর স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধসহ অন্যান্য রাসায়নিক ঔষধের দীঘদিন যাবৎ ক্রমাগত প্রয়োগে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আরো জটিল প্রকৃতির স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি হবে সেটাও অস্বাভাবিক নয়।

ইতিমধ্যেই আপনারা জেনেছেন, আমরা যে সব রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকি সেগুলি মূলত আমাদের DNA তে প্রিডোমিনেন্ট কিছু True Disease এর তৈরী করা কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ। ঠিক তেমনি অ্যাজমা বা হাঁপানি সমস্যার মূলেও রয়েছে True Disease. অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা দেখে থাকি - যারা এই সমস্যায় আক্রান্ত হন তারা মূলত Tubercular Diathesis এর পেশেন্ট। বর্তমান বিশ্বে একমাত্র হোমিওপ্যাথিই আপনার DNA তে প্রিডোমিনেন্ট True Disease কে ডায়নামিক হোমিও ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে রিসিসিভ করতে পারে আর তাই হোমিও চিকিৎসায় অ্যাজমা বা হাঁপানি স্থায়ী ভাবে নির্মূল হয়ে যায়। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক নির্বাচন করতে হবে যিনি হোমিওপ্যাথিক নিয়মনীতি অনুসারে আপনাকে যথাযথ চিকিৎসা দিতে পারবেন।

অপরদিকে এলোপ্যাথি স্থানিক ভাবে শ্বাসপথে বায়ু চলাচলে বাধাকে সাময়িক ভাবে দূর করে শ্বাসকষ্টের উপশম ঘটায় মাত্র স্থায়ীভাবে আদৌ হাঁপানি নির্মূল করতে পারে না। কারণ এলোপ্যাথিক চিকিৎসা শাস্ত্র আপনার DNA তে প্রিডোমিনেন্ট True Disease কে নির্ণয় করে সেটিকে রেসিসিভ করার চিকিৎসা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। আর তাই শ্বাসপথে বায়ু চলাচলে বাধাকে এলোপ্যাথিক পদ্ধতিতে দূর করলে কিছুটা সময় পর আবার সেখানে একই বাধা তৈরী হয়ে শ্বাসকষ্ট সমস্যার সৃষ্টি করে।

তবে একটা বিষয় আপনাকে মনে রাখতে হবে, অ্যাজমা বা হাঁপানির সমস্যা নিয়ে আপনি যখন রেজিস্টার্ড এবং দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসকের নিকট যাবেন, তিনি মূলত হোমিওপ্যাথিক নিয়মে ইনভেস্টিগেশন করে আপনার DNA তে প্রিডোমিনেন্ট True Disease কে নির্ণয় করে সেটি রেসিসিভ করার চিকিৎসা দিবেন। এক্ষেত্রে চিকিৎসক আপনার নিজের এবং আপনার পিতা-মাতা, দাদা-দাদি, নানা-নানীর হিস্ট্রি নিবেন অর্থাৎ আপনার নিকট আত্মীয়রা কে কোন কোন রোগে ভুগেছেন বা কে কোন কোন রোগে মারা গিয়েছেন সেগুলির বিস্তারিত তথ্যাদি নিয়ে চিকিৎসক আপনার চিকিৎসা কার্যটি শুরু করবেন। এক্ষেত্রে মূলতঃ ডাইনামিক হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রয়াগের মাধ্যমে আপনাকে স্টেপ বাই স্টেপ ইম্প্রোভমেন্টের দিকে নিয়ে যাবেন এবং এক সময় আপনি অ্যাজমা বা হাঁপানির সমস্যা থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি লাভ করবেন ইনশা-আল্লাহ।

যা যা জেনেছেন-

  • এজমা কেন হয়
  • শ্বাসকষ্টের ঔষধ
  • এজমা কাশি
  • এজমার হোমিও ঔষধ
  • হাঁপানি থেকে মুক্তির উপায়
  • এজমা রোগের হোমিও চিকিৎসা
  • হাঁপানি রোগের লক্ষণ
  • এলার্জি ও এজমা বিশেষজ্ঞ
  • হাঁপানি হোমিও
  • হাঁপানি রোগের আধুনিক চিকিৎসা
  • হাঁপানি থেকে মুক্তির উপায়
  • হাঁপানি রোগের লক্ষণ
  • হাঁপানি হলে করণীয়
  • হাঁপানি থেকে বাঁচার উপায়
বিস্তারিত