পরিপাকতন্ত্রের রোগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পরিপাকতন্ত্রের রোগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২০

পাইলস, এনাল ফিশার এবং ফিস্টুলা বা ভগন্দর - কারণ লক্ষন চিকিৎসা ও হোমিওপ্যাথিক ঔষধ

অর্শ বা পাইলস Haemorrhoids (Piles), এনাল ফিশার (Anal Fissure), অ্যানাল ফিস্টুলা Anal Fistula (ভগন্দর) ইত্যাদি হলো মানুষের মলদ্বারের জটিল এবং কষ্টদায়ক রোগগুলির মধ্যে অন্যতম। কেউ এই সমস্যাগুলির যেকোন একটিতে আক্রান্ত হলে যদি প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা না নিয়ে বিভিন্ন অপচিকিৎসার শিকার হয় তাহলে তাদের কষ্ট বা দুর্ভোগের সীমা থাকে না। যথা সময়ে প্রপার হোমিও চিকিৎসা নিলে এই সমস্যাগুলি তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যায় কিন্তু রোগটি যদি বহু দিনের পুরাতন হয়ে যায় বা ক্রনিক অবস্থায় থাকে তাহলে পুরুপুরি সারতে কিছুটা সময় লাগে। তবে হোমিও চিকিৎসার শুরুতে কয়েক দিনের মধ্যেই রোগীর যাবতীয় জটিল উপসর্গ বা কষ্টগুলি কমতে শুরু করে বিধায় রোগী প্রথম দিকেই অনেক আরাম অনুভব করতে থাকে।

অর্শ বা পাইলস Hemorrhoids (Piles)

অর্শ বা পাইলস হলো মলদ্বারের ভেরিকোজ ভেইন অর্থাৎ রেক্টামের নিচের অংশে মলদ্বারে ফুলে যাওয়া এবং ফাঁপা শিরা। এই রোগ হলে মলদ্বারে আঙ্গুর ফলের মতো বলি বের হতে পারে, সাথে রক্তপাত, মলদ্বার ভেজা, চুলকানি এবং জ্বালাযন্ত্রণা থাকতে পারে। অর্শ বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যদিও এর সঠিক কারণ প্রায়ই জানা যায় না। তবে আমরা যেগুলি বেশি দেখে থাকি এর মধ্যে রয়েছে- দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য, দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া, পরিবারে কারও পাইলস থাকার ইতিহাস ইত্যাদি। এছাড়া মলত্যাগের সময়ে অত্যধিক চাপ দেওয়ার কারণে বা গর্ভাবস্থায় রেক্টামের শিরার উপর চাপ পড়ার কারণেও হতে পারে।

লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে - পায়খানার সময় ব্যথাহীন রক্তপাত হওয়া, মলদ্বারে জ্বালাপোড়া, যন্ত্রণা বা চুলকানি হওয়া, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মলদ্বারে ব্যথাও হতে পারে। এটি নির্ভর করে অর্শের তীব্রতার উপরে। যে অর্শ কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য হয়, খাদ্যাভ্যাসের এবং জীবনধারার গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করা উচিত।

এনাল ফিশার (Anal Fissure) মলদ্বারে ফাটা, ঘা

এনাল ফিশার মলদ্বারের বা পায়ুপথের আরকেটি জটিল প্রকৃতির রোগ। এই রোগের সাধারণ লক্ষণ হল ব্যথা এবং রক্তপাত। সাধারণত, মলত্যাগ করার সময় ব্যথাটা শুরু হয় এবং প্রায় এক ঘন্টার জন্য থাকতে পারে। এতে ফোলাভাব ও অনুভব করা যায়। সাধারনত ব্যথার তীব্রতা সহ্য করা যায়, কিন্তু কখনো কখনো অসহ্য ব্যথাও হতে পারে। পায়খানায়, টিস্যু পেপারে, বা মলদ্বারের চারপাশে লাল রক্তের দাগ দেখা যায়। এছাড়া জ্বালা, চুকলানি, রক্ত, পুঁজ ইত্যাদি দেখা দিয়ে থাকে। মলদ্বারের চামড়ায় একটি পাতলা ফাটল দেখা যায়। দুইবার মলত্যাগ করার মাঝে এই লক্ষণগুলো সাধারনত আর দেখা যায় না।

প্রধানত কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য পায়ু নালীর মাধ্যমে শক্ত, বড় আকারের মল নামার ফলে এনাল ফিশার হয়। ইনফ্লেমমেটরি বাওয়েল ডিজিজ আইবিডি, যেমন - ক্রনস ডিজিজ এর ফলেও ফিশার হতে পারে। গর্ভাবস্থায় এবং সন্তানের জন্মের সময় ফিশার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও পাতলা পায়খানা এবং স্থায়ী ডায়রিয়া ও এই রোগের কারণ হতে পারে।

অ্যানাল ফিস্টুলা Anal Fistula (ভগন্দর)

মলদ্বারে ফোঁড়া বা অ্যাবসেস হলে সেটা এক সময় বাইরে এবং পায়ুপথের ভিতরে ফেটে যায় এবং পায়ুপথের সঙ্গে বাইরের একটি সংযোগ বা নালি তৈরি করে যাকে Anal Fistula অ্যানাল ফিস্টুলা বা ভগন্দর বলা হয়ে থাকে। এটি দিয়ে মলদ্বার বা পায়ুপথ থেকে পুঁজ, রক্ত, মল ইত্যাদি বাইরে আসতে থাকে।

মলদ্বারের ভেতরে অনেক গ্রন্থি রয়েছে, এগুলোর সংক্রমণের কারণে ফোড়া হয়। এই ফোড়া এক সময় ফেটে গিয়ে মলদ্বারের চতুর্দিকের কোনো এক স্খানে একটি ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে আসে এবং পুঁজ নির্গত হতে থাকে এবং তা নালী হয়ে বাহিরের দিকে বের হয় যা দেখতে পোড়ার মত মনে হয় । ( কেউ কেউ মনে করেন কৃমির বাসা থেকে এর উৎপত্তি ! আসলে তা ঠিক নয় তবে কৃমির উপদ্রবের কারনে নুখ দিয়ে চুলকাতে গিয়ে অনেক সময় পায়খানার রাস্থার ভিতরে ইনফেকশন বা ছিদ্র হয়ে হতে পারে)

এই সমস্যা তৈরী হওয়ার পেছনে যে যে কারণগুলি দায়ী সেগুলির মধ্যে রয়েছে - যক্ষ্মা, মলাশয় বা পায়ুপথের ক্যান্সার, এইচআইভি ও এইডস, ক্ল্যামিডিয়া,সিফিলিস, আলসার, সেখানে বিভিন্ন অপারেশনের জটিলতা ইত্যাদি।

পাইলস, এনাল ফিশার, ফিস্টুলা - চিকিৎসা

এই রোগগুলির স্থায়ী কোন এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই। তাই এলোপ্যাথিক চিকিৎসকরা এই সমস্যা হলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আরেকটি শাখা সার্জারিতে ট্রান্সফার করে। তবে সার্জারি বা অপারেশন করলে সাময়িক কিছু সময়ের জন্য আরাম পাওয়া যায় কিন্তু তারপর সমস্যাটি আবার ফিরে আসে এবং সাথে সাথে সমস্যাটি আরো জটিল আকার ধারণ করে। তাই সার্জারি এই সমস্যাগুলির কোন স্থায়ী সমাধান নয়। এই সমস্যাগুলি প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় রোগের তীব্রতা অনুসারে কমবেশি সময়ের ব্যবধানে ঠিক হয়ে যায়। তাই অর্শ বা পাইলস Hemorrhoids (Piles), এনাল ফিশার (Anal Fissure) মলদ্বারে ফাটা, অ্যানাল ফিস্টুলা Anal Fistula (ভগন্দর) মলদ্বারের এই সব জটিল পীড়ায় অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শক্রমে প্রপার হোমিও চিকিৎসা নিন। ধন্যবাদ।

পাইলস, এনাল ফিশার, ফিস্টুলা - হোমিওপ্যাথিক ঔষধ

মলদ্বারের এই জটিল এবং কষ্টদায়ক রোগগুলি চিকিৎসার জন্য রয়েছে বিভিন্ন শক্তির বহু হোমিওপ্যাথিক ঔষধ। একজন হোমিও চিকিৎসক মূলত পেশেন্টের হিস্ট্রি নিয়ে তার সার্বদৈহিক অবস্থা এবং জেনেটিক অবস্থা বিবেচনা পূর্বক নির্দিষ্ট ঔষধ নির্দিষ্ট শক্তিতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রয়োগ করে করে ইম্প্রোভমেন্টে নিয়ে যাবেন। রেপার্টরীতে পাইলস চিকিৎসার জন্য যে যে ঔষধগুলি রয়েছে-
পাইলস - হোমিওপ্যাথিক ঔষধ
এই ঔষধগুলি থেকে পেশেন্টের জন্য নির্বাচিত ঔষধ একজন এক্সপার্ট হোমিও চিকিৎসক পেশেন্টের শরীরে প্রয়োগ করবেন। আবার ফিশার চিকিৎসার জন্য হোমিওতে যে যে ঔষধগুলি রয়েছে-
এনাল ফিশার-হোমিওপ্যাথিক ঔষধ
এনাল ফিস্টুলার চিকিৎসার জন্যও রয়েছে বহু হোমিওপ্যাথিক ঔষধ। এখানে রেপার্টরীতে যে যে ঔষধগুলি রয়েছে -
এনাল ফিস্টুলা-হোমিওপ্যাথিক ঔষধ
এই ঔষধগুলি থেকে পাইলস, এনাল ফিশার এবং ফিস্টুলা বা ভগন্দর এর চিকিৎসার ক্ষেত্রে একেক জনের জন্য একেক রকম ঔষধ প্রয়োগ করতে হয় পেশেন্টের হিস্ট্রি নিয়ে। আর এটি করতে পারেন এক্সপার্ট একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। তাই প্রপার হোমিও চিকিৎসার মাধ্যমে রোগ নির্মূলের জন্য অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরী।
বিস্তারিত

শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২০

মলদ্বার বা পায়খানার রাস্তা বা পায়ু পথে রক্ত পড়ার কারণ ও প্রতিকার

পায়খানা করা ছাড়া অথবা পায়খানার সময় রক্ত যাওয়াকেই মূলত আমরা মলদ্বার দিয়ে রক্তক্ষরণ বুঝে থাকি। পায়ু পথে রক্ত পড়ার কারণ ও প্রতিকার এবং মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ করার উপায় সম্পর্কে আজ আমরা জানবো। পায়ুপথে রক্ত যাওয়া মূলত কোন রোগ নয়, বরং অন্য কোন রোগের লক্ষণ বা উপসর্গ মাত্র। যেহেতু পায়ুপথে রক্ত যাওয়া একটি অস্বাভাবিক ব্যাপার, তাই পায়ুপথে রক্ত গেলে তা যেকোন বয়সেই হোক না কেন, অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে ব্যবস্থা নিতে হবে। রক্ত পড়ার কারণ সাধারণ রোগ থেকে শুরু করে মারাত্মক ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।

পায়ু পথে রক্ত পড়ার কারণ

আগেই বলেছি, পায়ু পথে রক্ত যাওয়া নিজে কোন রোগ নয়, অন্য কোন রোগের লক্ষণ বা উপসর্গ মাত্র। আসুন এবার জেনে নেই কি কি কারণে মলদ্বার বা পায়খানার রাস্তা বা পায়ু পথ দিয়ে রক্ত আসতে পারে -

পাইলস বা হেমরয়েড : অর্শ রোগ নামেই অনেকে চিনে থাকেন। এই রোগে আক্রান্ত হলে অনেকেরই মলদ্বার দিয়ে রক্ত আসতে পারে। প্রথম দিকে পায়খানার পরে টাটক রক্ত ফোটায় ফোটায় বা ফিনকি দিয়ে পড়তে পারে, কিছুদিন পর মলদ্বার দিয়ে মাংসপিণ্ডের মতো বের হতে পারে।

এনাল ফিসার : এই রোগে মলদ্বার ফেটে যায় এবং এ ক্ষেত্রে সেখানে থেকে রক্ত আসতে পারে। এই সম্যসায় রক্ত পড়া ছাড়াও মলত্যাগের সময় ও পরে ব্যথা হতে পারে।

রেক্টাল পলিপ : এই সমস্যা হলে মলদ্বার বা পায়খানার রাস্তা দিয়ে টাটকা রক্ত যায়।  মলদ্বারে গোটার মতো বের হতে পারে। 

রেক্টামে ক্যান্সার : এ রোগ পায়ুপথে রক্ত যাওয়ার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। অনেকে পাইলস মনে করে যথাযথ চিকিৎসা না নিয়ে রোগটি জটিল করে ফেলেন।রেক্টামে ক্যান্সার হলে পায়ুপথে টাটকা রক্ত, মিউকাস যাওয়া ছাড়াও মলত্যাগের পর আরো মলত্যাগের ইচ্ছা থেকে যায়। মাঝে মাঝে ডায়রিয়া ও মাঝে মাঝে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।

রেক্টাল ফিস্টুলা : পায়ুপথের ভেতরে অনেকগুলো গ্রন্থি বা গ্লান্ড থাকে। এই গ্রন্থিতে সংক্রমণের কারণে মলদ্বারের পাশে ফোঁড়া হয়। এই ফোঁড়া একসময় ফেটে গিয়ে ফিস্টুলা হয়। এই রোগ হলে মলদ্বার বা পাশের অঞ্চল ফুলে যায়, ব্যথা করে, পুঁজ বা রক্তও বের হতে পারে। 

রেক্টাল আলসার : রেক্টামে যদি কোন কারণে ক্ষত তৈরী হয় এর কারণেও মলদ্বার দিয়ে রক্ত আসতে পারে। 

বেসিলারি ডিসেন্ট্রি : এক প্রকার আমাশয় যাকে আমরা রক্তামাশয় নামেই বেশি চিনি। এই সমস্যায় পেটের যন্ত্রণা এবং পায়খানা করার সময় রক্ত বের হয়ে থাকে। 
ক্রনস ডিজিজ : এই মূলত ইনফ্লেমেটরি বাওয়েল ডিজিজ - আইবিডি এর একটি রূপ। এই রোগে মুখ থেকে শুরু করে পায়ুপথ পর্যন্ত যেকোন স্থান আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত  স্মল ইনটেসটাইনের একটি বিশেষ অংশ ইলিয়াম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই রোগে কেউ আক্রান্ত হলে অন্যন্য উপসর্গের সাথে মলের সাথে রক্ত যাওয়া বা মলদ্বার দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে। 

 আলসারেটিভ কোলাইটিস : পেটের একটি দুরারোগ্য পীড়া বলেই বিবেচিত হয় আলসারেটিভ কোলাইটিস। ইনফ্লেমেটরি বাওয়েল ডিজিজ আইবিডি এর একটি রূপ হলো আলসারেটিভ কোলাইটিস। আমাদের কোলন বা বৃহদান্ত্রের প্রদাহকেই মূলত কোলাইটিস বলা হয়ে থাকে। ডায়রিয়ার সাথে রক্ত পড়া বা রক্ত আমাশয় হলো আলসারেটিভ কোলাইটিসের প্রধান লক্ষণ। এছাড়াও এর আরো বিভিন্ন উপসর্গ রয়েছে। 

এছাড়াও ডাইভার্টিকুলার ডিজিজ, ইন্টাস সাসসেপশান, এনজিও ডিস্লাসিয়া বা আঘাতজনিত কারণ সহ আরো বিভিন্ন কারণে মলদ্বার দিয়ে রক্ত আসতে পারে।

পায়ু পথে রক্ত পড়ারপ্রতিকার বা চিকিৎসা

কি কারণে মলদ্বার দিয়ে রক্ত আসছে সেগুলি নির্ণয় করে এর চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। তবে যে কারণেই পায়ু পথে রক্ত যাওয়ার সমস্যা তৈরী হোক না কেন এর প্রপার চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। আপনি যদি অভিজ্ঞ কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেন তাহলে এই সমস্যা দূর হয়ে অচিরেই সুস্বাস্থ ফিরে পাবেন ইনশা-আল্লাহ।

যা যা জেনেছেন

  • পায়ুপথে রক্তক্ষরণ
  • পায়খানার রাস্তা জ্বলে কেন
  • মলদ্বার ফেটে গেলে করনীয়
  • মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ
  • পাইলস এর ব্যাথা কমানোর উপায়
  • পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির উপায়
  • পাইলস এর জন্য হোমিও চিকিৎসা
  • মলদ্বারে রক্ত পড়া বন্ধ করার উপায়
  • পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্ত যাওয়ার কারণ কি
বিস্তারিত

সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০

আইবিএস IBS স্থায়ী ভাবে নির্মূলের চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি! প্রামাণ্য কেইস - মামুনুর রশিদ, ঢাকা

হোমিওতে আইবিএস "IBS" স্থায়ী ভাবে নির্মূল হয়। বর্তমান বিশ্বে আইবিএস "IBS - Irritable bowel syndrome" দুরারোগ্য সমস্যা গুলির একটি। আইবিএস এর মূলত কোন এলোপ্যাথিক স্থায়ী চিকিৎসা নেই। ইতিপূর্বে আমার চিকিৎসায় ক্লাসিক্যাল এবং রিয়েল হোমিওপ্যাথি অনুসরণ করেই বহু রোগীর আইবিএস "IBS" নির্মূল হয়েছে। তাদের মধ্যে যারা ভিডিওতে আসতে চায় তাদের নিয়ে আমি প্রামাণ্য ভিডিও তৈরী করি কিন্তু খুব কম সংখ্যক রোগীই ভিডিওতে আসতে চায়। ইতিপূর্বে মামুন সাহেবের ভিডিওটি দিয়েছিলাম যিনি দীর্ঘ ১৫ বছর আইবিএস "IBS" সমস্যায় ভুগছিলেন এবং ঢাকা, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরে ডাক্তার দেখিয়েছেন। তিনি প্রায় ৮ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন এই সমস্যার চিকিৎসা নিতে গিয়ে। আজ তারই কেইস... বিস্তারিত থাকছে.....

পরিচিতি
নাম : মামুনুর রশিদ (৪৭)
পেশা : ব্যবসা (ব্যায়ামবিদ)
বিয়ে : ২২ বছর
ঠিকানা : গোল্ডেন জিম, কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
--------
বর্তমান সমস্যাবলী
  • প্রচন্ড ক্ষুধা এবং পেটে জ্বালা
  • খওয়ার পরই টয়লেটের চাপ
  • পাতলা পায়খানা
  • আমাশয়, আলসার
  • কোন দুঃসংবাদ শুনলেই পেটের পীড়া বেড়ে যায়
  • পাইলস
  • পায়খানার সাথে রক্ত
  • রক্তচাপের সমস্যা - ঔষধ খেতে হয়
  • অনিদ্রা - ঔষধ খেতে হয়
  • বুকে কফ জমে থাকে
সার্বদৈহিক অবস্থা
  • Thirst: Extreme
  • Tongue: Ulcerated left side and edge black color
  • Saliva: NAD
  • Appetite: Ravenous
  • Desire: Cold, Bitter, Egg, Milk
  • Agg: Milk (Diarrhoea)
  • Perspiration: NAD
  • Stool: Soft, sometimes thin, Mucous profuse, Eating after agg, Flatus during
  • Urine: NAD
  • Genitalia: Impotence
অতীত ইতিহাস :
- ১৬ বছর পূর্বে একবার হলে সিনেমা দেখতে গিয়ে কয়েক জন লোক জোর করে কি যেন খাইয়ে অজ্ঞান করে দেয়, তারপর থেকে সমস্যার শুরু ...
- এরপর থেকে টানা বহু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখিয়ে ঔষধ সেবন চলেছে ১৫ বছর যাবৎ
  • ছোটবেলা থেকেই ঠান্ডায় ভুগছেন
  • ৬ বছর বয়সে Rectal Prolapse হয়েছিল, আমাশয় আর পাতলা পায়খানা হতো
  • ইতিপূর্বে টনসিলের অপারেশন করিয়েছেন
  • ঠান্ডায় গলাব্যথা, হাঁচি,
  • এলার্জি
  • জন্ডিসে ভুগেছেন
  • কুকুরের কামড়ের ভেক্সিন নিয়েছেন
জীবনদর্শন
  • মিশুক মানুষ, প্রাণ খোলা, সবার সাথেই দিল খুলে মিশে
  • কারো দুঃখ সহ্য করতে পারেন না, দুঃখীদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন, যেকেউ সাহায্য চাইলে এগিয়ে আসেন। মানবতার সেবায় নিবেদিত প্রাণ।
  • ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন
  • বন্ধবান্ধব অনেক - ছোট বেলা থেকেই
ফ্যামিলি হিস্ট্রি
  • Father: CVA
  • Mother: DM, Kidney problem, Stomach Disorder
  • GF: N/A
  • GM: N/A
  • GF (M): N/A
  • GM (M): N/A
বাকিটা ভিডিওতে....
শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই হোমিওপ্যাথি সম্পর্কে তেমন ভালো জ্ঞান রাখেন না। অনেকেই হোমিওপ্যাথিকে এলোপ্যাথির মতো মনে করেন এবং রোগের নাম দিয়ে ঔষধ খেতে চান। হোমিওতে একটি ঔষধ প্রয়োগ করতে হলে আপনার নিজের জীবনদর্শন, আপনার পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানীর তথ্যাদির প্রয়োজন হয় যখন আপনি দুরারোগ্য কোন স্বাস্থ সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন। আপনার আরোগ্যের জন্য একটি ঔষধ বের করতে চিকিৎসককেও অনেক যত্নবান হতে হয় এবং বেশ মাথা খাটাতে হয়। উক্ত ব্যক্তি যে ঔষধে সেরেছেন আপনি ভাববেন না অন্যরাও ঠিক একই ঔষধে সেরে যাবেন। বরং অন্যরা এই ঔষধ গ্রহণে উল্টো রোগ জটিলতা আরো বাড়তে পারে। আপনার জন্য যে ঔষধ প্রয়োজন সেটা একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকই আপনাকে সিলেক্ট করে দিতে পারেন। ওহ হে, এখানেই শেষ নয় ! ঔষধটি কখন কোন মাত্রায় আপনার শরীরে কিভাবে প্রয়োগ করতে হবে সেটাও অনেক বড় একটি ফ্যাক্টর। ভাববেন না - ঔষধ বাজার থেকে কিনে আনলাম, খেলাম আর রোগ ভালো হয়ে গেলো। জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে স্থায়ী ভাবে মুক্তি পেতে আপনার চিকিৎসককে অবশ্যই প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী দিয়ে সাহায্য করতে হবে।

হোমিওতে নির্দিষ্ট রোগের কোন নির্দিষ্ট ঔষধ নেই। আপনি যদি হোমিও চিকিৎসা নিতে চান তাহলে আগেই আপনাকে একজন ক্লাসিক্যাল হোমিও চিকিৎসক খুঁজে বের করতে হবে। তারপর যাবতীয় তথ্যাদি দিয়ে যদি চিকিৎসককে সাহায্য করতে পারেন তাহলে পা থেকে মাথা পর্যন্ত সব সমস্যাই দূর হয়ে দেহ আবার নীরোগ হয়ে উঠবে হোমিও চিকিৎসায়। আপনি কি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এখানে সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। মামুন সাহেবের কেইসটি দেখুন - উনি কতগুলি রোগে আক্রান্ত ছিলেন। অথচ উনার নির্দিষ্ট কোনো রোগের ট্রিটমেন্ট করা হয়নি । মূলত উনার হিস্ট্রি নিয়ে ঔষধ প্রয়োগকরা হয়েছে । তার শরীরে সব সমস্যাই চলে গেছে। উনার পাইলস নেই, প্রেসারের সমস্যা নেই, অনিদ্রা নেই সাথে IBS এর সমস্যাও চলে গেছে। এটাই হলো হোমিওপ্যাথি, যার মাধ্যমে শরীরকে আবার নীরোগ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়। ধন্যবাদ।

যা যা জেনেছেন 

  • আইবিএস কি
  • আইবিএস এর চিকিৎসা
  • Ibs এর হোমিও চিকিৎসা
  • আই বি এস এর ওষুধ
  • আই বি এস এর প্রাকৃতিক চিকিৎসা
বিস্তারিত

সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

আইবিএস IBS নির্মূলের চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি! প্রামাণ্য কেইস - আব্দুর রহিম, চাঁদপুর

আব্দুর রহিম হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর থেকে আসেন আইবিএস IBS - Irritable Bowel Syndrome এর চিকিৎসা নিতে ২১ এপ্রিল ২০১৯ সালে। বয়স ২২ বছর। দীর্ঘ ৮/৯ বছর  বছর যাবৎ পেটের পীড়া আইবিএস সমস্যায় ভুগছেন। একটি অস্বস্থিকর জীবন যাপন করে আসছেন। বহু ডাক্তার দেখিয়ে আর বহু চিকিৎসা নিয়েও ফল হচ্ছে না।

যে যে লক্ষণগুলির কথা বলেছিলেন

  • পেট ফুলে থাকে 
  • টক ঝাল ঢেকুর আসে 
  • নিচ পেটে ভুটভাট শব্দ হতে থাকে 
  • পেটের অস্বস্থি যেন তার নিত্য সঙ্গী 
  • বমি বমি ভাব লেগে থাকে সব সময় 
  • গাড়িতে এবং লঞ্চে চড়তে পারে না 
  • কখনো আমাশয়ে ভুগেন 
  • আবার কখনো কোষ্ঠবদ্ধতায় ভুগেন 
  • টয়লেট কখনো পরিষ্কার হয় না 

চিকিৎসার সময় কাল

  • চিকিৎসা শুরু : ২১ই এপ্রিল ২০১৯
  • সমস্যার  সমাপ্তি: ১৮ই  অক্টবর ২০১৯
  • অবজারভেশন : নভেম্বর, ডিসেম্বর ২০১৯
  • চিকিৎসা সমাপ্তি: ডিসেম্বর ২০১৯
এখন পর্যন্ত তার আইবিএস IBS এর সমস্যা নিয়ে আর কোন অভিযোগ নেই। আল-হামদুল্লিয়াহ।
বিস্তারিত ভিডিওতে দেখুন.....

যারা আইবিএস IBS এ ভুগছেন

আইবিএস সমস্যা নির্মূলের একমাত্র উন্নত চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। যারা আইবিএস IBS এ ভুগছেন তারা হয়তো ভাবছেন হোমিওপ্যাথিক ঔষধ টানা কয়েক মাস খেয়ে গেলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন। না, মোটেও না ! এটি একটি জটিল চিকিৎসা টেকনিক। আপনি যদি এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের তথ্যাবধানে চিকিৎসা না নেন তাহলে আপনার আইবিএস থেকে মুক্তি লাভ হয়তো স্বপ্নই থেকে যাবে। কিন্তু কেন ? কারণ, আইবিএস নির্মূল করতে হয় মূলত হোমিওপ্যাথির ক্লাসিক্যাল টেকনিক ফলো করে।
রোগীর অভিযোগ: পূর্বে বহু স্থানে হোমিও চিকিৎসা নিয়েছি। ডাক্তাররা  ৪ মাস, ৬ মাস, ৮ মাসের কিছু হোমিও ঔষধ দিয়ে একটা কোর্স এবং ৪/৬টি বোতল  ধরিয়ে দিতো। তাদের কেউ কেউ বলতো আমরা অরিজিনাল জার্মানির ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা করি। আপনি নিশ্চিত ভালো হয়ে যাবেন। কেউ কেউ বলত তাদের এখানে ২ বছর ঔষধ খেলে পার্মানেন্টলি ভালো হয়ে যাবো। এভাবে অনেক জায়গায় ট্রাই করেছি কিন্তু ভালো হইনি। আইবিএস আদৌ নির্মূল হয়নি, মাঝে মাঝে একটু আরাম লাগতো মাত্র, ঔষধ বন্ধ করলেই আবার আগের মতো অবস্থা। 
মূলত এভাবে IBS রোগীদের উপর ঔষধ প্রয়োগ করা হলে তাদের রোগ জটিলতা দিন দিন আরো বাড়তে থাকে। আপনি নিজেই চিন্তা করুন প্রথম রোগাক্রান্ত যখন হয়েছিলেন তখন কিন্তু আপনার অবস্থা অনেকটাই ভালো ছিল। বহু ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা নেয়ার পর আপনার অবস্থা কিন্তু পূর্বের থেকে আরো জটিল পর্যায়ে চলে এসেছে।

তাই অভিজ্ঞ কোন হোমিও চিকিৎসক এই কাজটি কখনই করেন না। একজন হোমিও চিকিৎসক আপনাকে কখনই বলবেন না তিনি জার্মানির বা অন্য ঔষধ ব্যবহার করেন। কারণ দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক আপনাকে সেই ঔষধটিই দিবেন যাতে আপনার রোগ সেরে যায়। মেডিসিন সিলেকশন যদি ঠিক থাকে তাহলে বিশ্বের যেকোন কোম্পানির হোমিও ঔষধ আপনার শরীরে প্রয়োগ করলেই আপনি রেজাল্ট পাবেন। যারা এ বিষয়ে সতর্ক নয় অথবা বিষয়টি সম্পর্কে অজ্ঞ তারা পরিনামে অনেক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ পর্যন্ত আইবিএস IBS এর চিকিৎসা দিতে গিয়ে কেইস টেকিং এর সময় এই রকম গল্পই শুনে আসছি বহু ক্ষেত্রে। 

ভাল হোমিও চিকিৎসক বুঝবেন কিভাবে ?

ভালো একজন হোমিও চিকিৎসক আপনাকে নির্দিষ্ট সময় পর পর ঔষধ প্রয়োগ করে করে আপনাকে ইম্প্রোভমেন্টে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন এবং এক সময় আপনিও মামুন সাহেব, সোহান, রাসেল, শাওন বা আব্দুর রহিমদের মত সুস্থ হয়ে যাবেন।

আগেই বলেছি, আইবিএস IBS স্থায়ী ভাবে নির্মূলের কার্যকর চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথির ক্লাসিক্যাল টেকনিক অর্থাৎ ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথি। যারা বলে এই সমস্যা নির্মূল হয় না তারা মূলত নিজেদের অজ্ঞতা বা মূর্খতা বশতঃ এই ধরণের কথা বলে থাকেন, অথবা নিজের নামের পেছনে উচ্চ উচ্চ ডিগ্রী লাগালেও বাস্তব ক্ষেত্রে অর্থাৎ ডাক্তারি করে রোগ সারাবার ক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতা বহুগুন্ কম। মনে রাখা ভালো, একজন চিকিৎসকের যোগ্যতা প্রকাশ পায় রোগীর রোগ সারানোর দক্ষতার উপর নিজের নামের পেছনে উঁচু উঁচু ডিগ্রী লাগানোর মধ্যে নয়। যে চিকিৎসক যত বেশি ক্রনিক রোগ সারাতে দক্ষ তিনিই তত ভাল চিকিৎসক। তিনি হোমিওপ্যাথি, এলোপ্যাথি, আয়ুর্বেদ বা যে ঔষধই প্রয়োগে এক্সপার্ট হোন বা কেন।

জেনে রাখা ভালো, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সম্পর্কে আমাদের শিক্ষিত সমাজের ৮০% এরই সঠিক এবং প্রকৃত কোন জ্ঞান নেই। অনেকেই আবার এলোপ্যাথির সাথে হোমিওপ্যাথিকে গুলিয়ে ফেলেন। মনে রাখতে হবে দুটিই আলাদা চিকিৎসা পদ্ধতি। বহু দুরারোগ্য রোগ রয়েছে যেগুলির এলোপ্যাথিক চিকিৎসাই নেই অথচ সেগুলি হোমিও চিকিৎসায় ঠিক হয়ে যাচ্ছে। তাই যেকোন চিকিৎসা নেয়ার পূর্বেই আপনাকে জানতে হবে কোন চিকিৎসা পদ্ধতিতে কোন রোগের স্থায়ী চিকিৎসা রয়েছে। ধন্যবাদ।

যা যা জেনেছেন 

  • আইবিএস কি
  • আইবিএস এর চিকিৎসা
  • ibs এর হোমিও চিকিৎসা
  • আই বি এস এর ওষুধ
বিস্তারিত

রবিবার, ৫ মে, ২০১৯

কেন আপনার IBS ভালো হচ্ছে না? Irritable Bowel Syndrome আইবিএস থেকে মুক্তির উপায়

আইবিএস Irritable bowel syndrome (IBS) সমস্যায় ভয়ের কিছু নেই। এটি যদিও অন্ত্রের রোগ তবে এই সমস্যাটি আপনার সার্বদৈহিক অবস্থার পরিবর্তন নিয়ে আসে। অর্থাৎ আপনি দেখে থাকবেন যখনই আপনি অসুস্থ হন তখন আপনার শরীরে নানা প্রকার পরিবর্তন সংগঠিত হয়। আপনার পিপাসা, জিহ্বা, লালা, ক্ষুধা, খাদ্য, পেটের গ্যাস, মল, মূত্র, ঘুম, সপ্ন, ঘাম, মন-মানুষিকতা ইত্যাদির কোন না কোন দিকে পরিবর্তন হচ্ছে। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা মূলত রোগীর যাবতীয় শারীরিক, মানুষিক পরিবর্তনের লক্ষণ নিয়ে করা হয়ে থাকে।

আপনার শরীরে যে প্রকার রোগই সৃষ্টি হোক না কেন সেই পরিবর্তনগুলিকে বিবেচনায় এনে চিকিৎসা করা হলে শরীরে আক্রান্ত রোগ নির্মূল হয়ে শরীর যন্ত্র আবার বিশৃখল অবস্থা থেকে সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরে আসে। আইবিএস এবং যাবতীয় জটিল রোগের  চিকিৎসার ক্ষেত্রেও হোমিওপ্যাথি সেটিই করে থাকে। তবে এর জন্য দরকার একজন উন্নত জ্ঞানধারী হোমিও চিকিৎসক।

এলোপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় মূলত রোগের কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। অথচ বহু ক্ষেত্রে রোগের পেছনের প্রকৃত কারণ ঠিকঠাক ভাবে নির্ণয় করা যায় না বিধায় বহু ক্রনিক রোগই এলোপ্যাথিক চিকিৎসায় নির্মূল হয় না। অথচ হোমিওপ্যাথি সেখানে শত বছর যাবৎ সফলতা দেখিয়ে আসছে। আইবিএস (IBS) মূলতো হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানেই নির্দোষ ভাবে আরোগ্য করা সম্ভব হচ্ছে। কারণ এর পেছনের কারণ কি সেটা হোমিওপ্যাথির জানার কোন প্রয়োজন নেই। এই রোগটি হলে মানব শরীরে কি কি পরিবর্তন সংগঠিত হয় মূলত সেটাই বিবেচ্য বিষয় যা হোমিওপ্যাথি ছাড়া আর কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি করতে পারে না। এই সবগুলি পরিবর্তন বিবেচনায় এনে একটি উন্নত হোমিও চিকিৎসা দিলে বেশ ভালো ফলাফল আশা করা যায়।
আইবিএস Irritable bowel syndrome (IBS) চিকিৎসার ক্ষেত্রে ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথি নির্দোষ আরোগ্য নিয়ে আসে তবে ক্ষেত্র বিশেষে কমপ্লেক্স হোমিওপ্যাথিও বেশ ভাল ফলাফল দিয়ে থাকে। মনে রাখা জরুরী, IBS এবং অন্য যেকোন প্রকার ক্রনিক রোগের চিকিৎসায় অবশ্যই এক্সপার্ট হোমিও চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। 
বিস্তারিত

লিভার সিরোসিস (Liver Cirrhosis) রোগ কি? কারণ লক্ষণ প্রতিকার

লিভার সিরোসিস মানুষের যকৃতের দীর্ঘস্থায়ী রোগের ফল যা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত থেকে সৃষ্টি হতে পারে এবং মারাত্মক পর্যায়ের সিরোসিসে লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে মানুষের মৃত্যু ডেকে আনতে পারে। সিরোসিসের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এতে যকৃতের সুস্থ-সবল কলা (tissue) ক্ষয়যুক্ত কলা বা নডিউল (nodule) দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়ে যায় ফলে লিভার আর কাজ করতে পারে না।

সিরোসিসের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে লিভারের দীর্ঘস্থায়ী রোগ এবং লিভারে সংক্রমণ ছাড়াও দীর্ঘদিন যাবৎ অতিরিক্ত মদ্যপান, হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, ফ্যাটি লিভার রোগ ইত্যাদি। তবে সিরোসিসের প্রধান কারণ দেশ অনুযায়ী ভিন্ন হয়। যেমন ইউরোপ এবং আমেরিকায় সিরোসিস হয় প্রধানতঃ মদ্যপানের ফলে আর হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের আক্রমেন। পক্ষান্তরে বাংলাদেশে প্রধানতঃ হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের আক্রমণ আর ফ্যাটি লিভার লিভার সিরোসিসের পেছনে দায়ী (প্রায় আড়াই হাজার রোগীর উপরে জরীপ চালিয়ে দেখা গেছে। এছাড়াও অজানা কারণে লিভার সিরোসিস হতে পারে।
লিভার সিরোসিসের প্রাথমিক লক্ষণ ধরা পড়তে দেরি হয়। হঠাৎ রক্তে লিভার এনজাইমের অস্বাভাবিকতা বা আলট্রাসনোগ্রাফিতে যকৃতের আকার-আকৃতির পরিবর্তনের কারণ খুঁজতে গিয়ে লক্ষণ ধরা পড়ে। সাধারণত খাদ্যে অরুচি, ওজন হ্রাস, বমি ভাব বা বমি, বমি বা মলের সঙ্গে রক্তপাত, শরীরে পানি আসা ইত্যাদি হলো মূল উপসর্গ। পরে যকৃতের অকার্যকারিতার সঙ্গে কিডনির অকার্যকারিতা, রক্তবমি, রক্তে আমিষ ও লবণের অসামঞ্জস্য ইত্যাদি জটিলতা।

লিভার সিরোসিস (Liver Cirrhosis) এর উন্নত হোমিও চিকিৎসা রয়েছে। শুরু থেকেই যদি অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ট্রিটমেন্ট স্টার্ট করা যায় তাহলে বেশ ভালো ফলাফল আশা করা যায়। 
বিস্তারিত

বুধবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৯

পেপটিক আলসার(Peptic Ulcer) গ্যাস্ট্রিক আলসার !! কারণ, উপসর্গ ও প্রতিকার

পেপটিক আলসার (Peptic Ulcer) বা গ্যাস্ট্রিক আলসার। খাদ্যনালীর নিম্নাংশ, পাকস্থলী, ডিউডেনামসহ অন্ত্রের ৫টি বিভিন্ন স্থানের যেকোন একটিতে ঘা বা ক্ষত তৈরী হলে আমরা মূলত এটিকে পেপটিক আলসার বলে থাকি। আমাদের পেট খালি থাকলে পেটের উপরিভাগে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হওয়া হল এর একেবারে সাধারণ লক্ষণ। এছাড়াও আরো লক্ষণ এবং উপসর্গ থাকতে পারে।
  • সাধারণত পেটের উপরি ভাগের মাঝখানে বক্ষ পিঞ্জরের ঠিক নিচে পেটিক আলসারের ব্যথা অনুভব হয়। তবে কখনো কখনো ব্যথাটা পেছনের দিকেও যেতে পারে।
  • এ জাতীয় রোগী ক্ষুধার্ত হলেই প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে এবং খাবার খেলে সাথে সাথে ব্যথা কমে যায়।
  • অনেক সময় রাতের বেলা পেটে ব্যথার কারণে রোগী ঘুম থেকে জেগে উঠে কিছু খেলে ব্যথা কমে যায়।
  • পেপটিক আলসারের ব্যথা সাধারণত সবসময় থাকে না, একাধারে ব্যথাটা কয়েক সপ্তাহ চলতে থাকে তারপর রোগী সম্পূর্ণরূপে ভালো হয়ে যায়, এ অবস্থা কয়েকমাস থাকে তারপর আবার কয়েক সপ্তাহ ধরে ঠিক আগের মতো ব্যথা অনুভব হয়।
  • পেপটিক আলসার ব্যথা সাধারণত দুধ, এন্টাসিড, খাবার খেলে কিংবা বমি করলে অথবা ঢেকুর তুললে ব্যথা কমে যায়।
  • এছাড়াও পেপটিক আলসারের রোগীদের মধ্যে বুক জ্বালা, অরুচি, বমি বমি ভাব, ক্ষুধা মন্দা, কিংবা হঠাৎ করে রক্ত বমি অথবা পেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব হতে পারে।
পেপটিক আলসারের যে সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে
  • পাকস্থলী ফুটা হয়ে যেতে পারে
  • রক্ত বমি হতে পারে
  • কালো পায়খানা হতে পারে
  • রক্তশূন্যতা হতে পারে
  • পৌষ্টিক নালীর পথ সরু হয়ে যেতে পারে এবং রোগীর বার বার বমি হতে পারে
  • ক্যান্সার হতে পারে
পেপটিক আলসার বা গ্যাস্ট্রিক আলসার রোগের রয়েছে উন্নত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা। এর জন্য এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন।
বিস্তারিত