গলব্লাডার স্টোন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গলব্লাডার স্টোন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ৬ মে, ২০২২

ঔষধের মাধ্যমে পিত্তথলির পাথর চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথিক ইনভেস্টিগেশন

পিত্তথলির পাথর গলানোর হোমিওপ্যাথি ঔষধ খুঁজে চলেছেন অনেকেই। কিন্তু জানেন কি ইন্টানেট সার্চ দিয়ে নিজের মতো করে কিছু হোমিও ঔষধ খেয়ে গেলেই জটিল এই সমস্যা থেকে আদৌ আপনি মুক্তি পাবেন না। তবে হ্যা, এ সংক্রান্ত জটিলতায় কিছুটা আরাম পেতে পারেন। পূর্ণাঙ্গ রোগ মুক্তির জন্য প্রথমেই আপনাকে একজন বিশেষজ্ঞ হোমিও চিকিৎসক খুঁজে বের করতে হবে যিনি এই সমস্যার সুচিকিৎসা দিতে জানেন।

বহু হোমিও চিকিৎসক ইতিপূর্বে বলে আসছেন, পিত্তথলিতে পাথর হলে হোমিওপ্যাথিতে অধিকাংশ রোগীই আরোগ্য হয় না এবং এর জন্য সার্জারি বা অপারেশন করা উচিত। কিন্তু আধুনিক রিয়েল হোমিওপ্যাথি ভিন্ন কথা বলছে। দেখা যাচ্ছে, প্রপার কেইস টেকিং করে যথাযথ চিকিৎসা দিলে রোগীর যাবতীয় জটিল উপসর্গ কিছু দিনের মধ্যেই দূর হয়ে যাচ্ছে এবং ধারাবাহিক চিকিৎসায় পিত্তথলির পাথরের সমস্যা পুরুপুরি নির্মূল হয়ে যাচ্ছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই।
পিত্তথলির পাথর গলানোর হোমিওপ্যাথি ঔষধ
তাই জেনে রাখুন যেসব হোমিও ডাক্তাররা বলে থাকে পিত্তথলির পাথর হোমিওপ্যাথিতে ভালো হয় না তারা মূলতঃ হোমিওপ্যাথিক প্রপার চিকিৎসা জানে না বরং আপনি দেখবেন কিছু গদবাধা হোমিও ঔষধ যেমনঃ কোলেস্টেরিনাম, কার্ডুয়াস মেরিয়েনাস, ক্যালকেরিয়া কার্ব, মার্ক সল, আর্ণিকা, চেলিডোনিয়াম, চায়না, ডিজিটেলিস, আর্সেনিক এল্ব, ফসফরাস, ব্রায়োনিয়া, হাইড্রাসটিস, ডায়োঙ্কোরিয়া ইত্যাদি রোগীকে ক্রমাগত প্রয়োগ করে করে ব্যর্থ হয়ে বলছে রোগী আর ভালো হবে না তাই অপারেশন করুন!
ভালো করে জেনে রাখুন, কিছু ক্ষেত্রে এই ঔষধগুলি প্রয়োগ করে রোগীর যন্ত্রনা কিছুটা কমলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সমস্যা আদৌ নির্মূল করে না। 
তাই পিত্তথলিতে পাথর হলে এর চিকিৎসার জন্য রেজিস্টার্ড এবং দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক খুঁজে বের করুন যিনি প্রপার কেইস টেকিং এবং হোমিওপ্যাথিক নিয়মে ইনভেস্টিগেশন করে যথাযথ চিকিৎসা দিতে পারেন। যেহেতু আপনার শরীরে শক্তিকৃত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রয়োগ করা হবে তাই হোমিওপ্যাথিক নিয়মে আপনার ইনভেস্টিগেশন করা হবে, এলোপ্যাথিক নিয়মে নয়। 

এক্ষেত্রে দক্ষ একজন হোমিও  চিকিৎসক নির্বাচন করে চিকিৎসা নিতে পারলে আপনি সুনিশ্চিত ফলাফল পাবেন ইনশা-আল্লাহ। কারণ পিত্তথলির পাথর এবং এ সংক্রান্ত যাবতীয় জটিলতা নির্মূলের ক্ষেত্রে বর্তমান বিশ্বে একমাত্র হোমিওপ্যাথির সাফল্যের হার সবচাইতে বেশি। তবে এক্ষেত্রে প্রপার ইনভেস্টিগেশনের জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলিও জানা প্রয়োজন-
  • প্রথমত রোগীর বর্তমান কষ্টের বর্ণনা
  • বর্তমান কষ্টের সম্পর্কযুক্ত লক্ষণ, কখন এবং  কিসে বাড়ছে বা কমছে
  • রোগীর পূর্ব রোগের ইতিহাস - ইতিপূর্বে কি কি রোগে কষ্ট করেছেন
  • রোগীর শৈশবের জীবনদর্শন
  • জন্মের সময় কোন প্রকার সমস্যা হয়েছিল কিনা বা সিজারিয়ান ডেলিভারী লেগেছিল কিনা
  • জন্মের পর পর কি কি স্বাস্থ সমস্যায় ভুগতে হয়েছিল
  • শিশুকালে কি কি অসুখ-বিসুখে কষ্ট করতে হয়েছিল
  • রোগীর বা তার পিতা-মাতার কারো কোন প্রাণীর কামড়-আঁচড়ের হিস্ট্রি আছে কিনা 
  • অথবা কোন প্রাণীর কামড়-আঁচড়ের ফলে ভ্যাক্সিন নিয়েছিল কিনা
  • তার পিতা-মাতা, দাদা-দাদী এবং নানা-নানী কে কোন কোন অসুখ-বিসুখে ভুগেছেন 
  • মাতার প্রথম মাসিকে কোন কষ্ট ছিল কিনা
  • মাতার প্রথম মাসিকের পূর্বে সাদাস্রাবের কোন দোষ ছিল কিনা
  • সন্তান হচ্ছে না বলে রোগীর জন্মের পূর্বে মাতাকে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল কিনা 
  • মাতা দীর্ঘ দিন যাবৎ প্রজননতন্ত্রের কোন রোগে কষ্ট করেছেন কিনা
  • কারো কোন নেশাদ্রব্য গ্রহণ করার হিস্ট্রি আছে কিনা 
  • দীর্ঘকাল যাবৎ পরিবারের কারো কোন রোগে ভুগার হিস্ট্রি আছে কিনা
  • বংশে টিবি বা যক্ষা রোগের হিস্ট্রি আছে কি না 
ইত্যাদি আরো বহু বিষয় চিকিৎসক কেইস টেকিং এর সময় জেনে নিবেন। পেশেন্টকে অবশ্যই ঠিকঠাক তথ্যদি দিয়ে চিকিৎসককে সাহায্য করতে হবে। কারণ তার মধ্যে বিদ্যমান True diseases খুঁজে বের করে তার আলোকে যথাযথ চিকিৎসা দিলে অতি দ্রুত আশানুরূপ রেজাল্ট পাবেন ইনশা-আল্লাহ। 
বিস্তারিত

অপারেশন ছাড়াই পিত্তথলির পাথর দূর করার কার্যকর উপায় রয়েছে

পিত্তথলির পাথর ল্যাপারোস্কোপিক অপারেশন খরচ কত বা গলব্লাডারে পাথর হলে কি খাওয়া উচিত ইত্যাদি বিষয় চিন্তা না করে খুব সহজেই ঔষধের মাধ্যমে খুব তাড়াতাড়ি এ সংক্রান্ত জটিলতা দূর করার উপায় সম্পর্কে বলবো আজকের পর্বে সাথে থাকছে এ সংক্রান্ত ভিডিও। ঢাকা চট্টগ্রাম বা দেশের বহু জায়গায় আপনি কিছু দক্ষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক খুঁজে পাবেন যারা এই সমস্যা নির্মূলের প্রায় অব্যর্থ চিকিৎসা দিতে জানেন। তাই এই সমস্যায় আক্রান্ত রোগীকে প্রথমেই একজন এক্সপার্ট হোমিও চিকিৎসক খুঁজে বের করতে হবে যিনি এই রোগের ঠিকঠাক চিকিৎসা দিতে জানেন। কারণ বহু রোগীই বলে থাকেন হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খেয়েছি কিন্তু সমস্যা যায়নি। অথচ তারা কিন্তু দক্ষ একজন হোমিও ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা নেননি, নিজের মতো করে ঔষধ কিনে খেয়েছেন। ফলশ্রুতিতে যা হওয়ার তাই হয়েছে।
পিত্তথলির পাথর দূর করার কার্যকর উপায় হলো হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা। তবে মাত্র ১-২% ক্ষেত্রে এর বিকল্প হতে পারে ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি। অপারেশনের মাধ্যমে মূলতঃ পিত্তথলি কেটে ফেলে দেয়া হয়। তাই পিত্তপাথরী সমস্যায় বিশেষজ্ঞ হোমিও চিকিৎসক খুঁজে বের করুন এবং চিকিৎসা নিন। আশানুরূপ ফলাফল পাবেন ইনশা-আল্লাহ। 
অনেকেরই ধারণা, হোমিও ঔষধ খেলেই রোগ সেরে যাবে। বিষয়টি কিন্তু তা নয়। একই রোগের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিলে একেক জনের কনস্টিটিউশন অনুযায়ী একেক রকম ঔষধ আসবে। যেটি হোমিওপ্যাথিক নিয়মে প্রপার একটি ইনভেস্টিগেশন করে দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক সিলেক্ট করবেন এবং সেটির নির্দিষ্ট পোটেন্সি রোগীর শরীরে প্রয়োগ করবেন। আপনি নিজের মতো করে কিছু লক্ষণ মিলিয়ে একটি হোমিও ঔষধ সিলেক্ট করে আপনার শরীরে প্রয়োগ করলে হয়তো কিছু সময়ের জন্য কিছুটা আরাম পাবেন কিন্তু রোগ আদৌ নির্মূল হবে না। আর সেই বোকামিটিই অনেকে করে থাকে।
অপারেশন ছাড়াই পিত্তথলির পাথর দূর করার উপায়
পিত্তথলির পাথর দূর করতে ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতেও সম্পূর্ণ পিত্তথলিকে কেটে ফেলে দেয়া হচ্ছে আর এর ফলে পরবর্তীতে বেশির ভাগ রোগীরাই পেটের ভীষণ জটিলতায় ভুগে থাকে। অপারেশন বা অস্ত্রোপচারের পর কিছু কিছু রোগী দৃশ্যমান আরোগ্য লাভ করলেও এদের মধ্যে অনেক রোগী পরবর্তীতে ক্যান্সার, জন্ডিস, বি-ভাইরাস ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে আপনি হয়তো সার্জারি চিন্তা করতে পারেন যা মাত্র ১%-২% রোগীর ক্ষেত্রে হতে পারে। কারণ অধিকাংশ কেইস প্রপার হোমিও চিকিৎসায় ঠিক হয়ে যায়।

পিত্তথলিতে পাথর হলে এর চিকিৎসার জন্য রেজিস্টার্ড এবং দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক খুঁজে বের করুন যিনি প্রপার কেইস টেকিং এবং হোমিওপ্যাথিক নিয়মে ইনভেস্টিগেশন করে যথাযথ চিকিৎসা দিতে পারেন। দক্ষ চিকিৎসক নির্বাচন করে চিকিৎসা নিতে পারলে আপনি সুনিশ্চিত ফলাফল পাবেন ইনশা-আল্লাহ। কারণ পিত্তথলির পাথর সংক্রান্ত যাবতীয় জটিলতা নির্মূলের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথির সাফল্যের হারই বেশি। তবে এক্ষেত্রে প্রপার ইনভেস্টিগেশনের জন্য রোগীর পূর্ব রোগের ইতিহাস, তার পিতা-মাতা, দাদা-দাদী এবং নানা-নানীর হিস্ট্রি জানা প্রয়োজন যা চিকিৎসক কেইস টেকিং এর সময় জেনে নিবেন। পিত্তথলির পাথর সমস্যায় শুরুতেই অপারেশন করার চিন্তা না করে আগে মেডিসিন প্রয়োগ করে সারানোর চেষ্টা করা উচিত।

যা যা জেনেছেন 

  • পিত্তথলির পাথরের চিকিৎসা
  • গলব্লাডার না থাকলে কি হয়
  • পেটে পাথর হলে কি খেলে ভালো হবে
  • পিত্তথলির পাথর অপারেশনের পর করণীয়
বিস্তারিত

বৃহস্পতিবার, ৫ মে, ২০২২

পিত্তথলিতে পাথর হলে কি কি লক্ষণ এবং জটিলতা হতে পারে

পিত্তথলির পাথর এর লক্ষণ এবং জটিলতাগুলি কি কি হতে পারে এ সম্পর্কে আলোকপাত করবো এই পর্বে। যেকারো পিত্তথলি বা গলব্লাডারে পাথর হলে প্রদাহ হতে পারে। যার অন্যতম লক্ষণ তৈলাক্ত খাবার ভালোভাবে হজম না হওয়া। পিত্তথলিতে পাথর হলে অনেক ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে। তবে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই পিত্তপাথর হওয়ার পরও কোন লক্ষণ থাকে না। পিত্তথলিতে পাথর এবং এ সংক্রান্ত নানা প্রকার জটিলতা থেকে প্রপার হোমিও চিকিৎসার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই রেহাই পেতে পারেন। 
পিত্তথলির পাথর এর লক্ষণ এবং এর জটিলতা

পিত্তথলিতে পাথর হলে তার লক্ষণ

  • উপরের পেটের ডান দিকে তীব্র ব্যথা যা ডান কাঁধে ছড়ায়।
  • মধ্য পেটে ব্যথা হয়।
  • পিঠের মধ্যভাগে ব্যথা হয়।
  • কারো আবার মধ্য পেটে ব্যথা হয়ে একেবারে পেছন দিকে চলে যায়।
  • বদহজম হয়, বিশেষ করে চর্বি ও তেলজাতীয় খাবারে।
  • বমি ও বমিবমি ভাব হতে পারে।
  • খাওয়ার পর গলায় তেতো ভাব।
  • বারবার ঢেঁকুর হওয়া।
  • পেটে গ্যাস।
  • ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা।
  • পায়খানার রং সাদা সাদা হয়।
  • মাথা ঝিমঝিম করা।
  • মাথাব্যথা, বিশেষ করে ডান পাশে।
  • অনেক সময় কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতে পারে।
  • জ্বরের সঙ্গে বমি হতে পারে।
  • জ্বরের সঙ্গে জন্ডিস হতে পারে। এ ক্ষেত্রে যা হয় তা হলো পাথর হয়তো পিত্তনালিতে চলে যায়।

পিত্তপাথরের জটিলতা

পিত্তথলিতে পাথরের জটিলতা নিম্নরুপঃ
  • গলব্লাডার বা পিত্তথলিতে প্রদাহ।
  • জন্ডিস এবং এর সাথে পিত্তনালীতে প্রতিবন্ধকতা।
  • অগ্ন্যাশয়ের নালীর প্রতিবন্ধকতা
  • অগ্ন্যাশয় প্রদাহ অর্থ্যাৎ প্যানক্রিয়েটাইটিস
  • গলব্লাডার বা পিত্তথলিতে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়বে।

পিত্তথলিতে পাথর নিরাময়ের উপায় 

এই যন্ত্রনাদায়ক সমস্যা হোমিও চিকিৎসাতেই সেরে যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। তাই অপারেশন বা সার্জারির আদৌ কোন প্রয়োজন পড়ে না। তবে এর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন রেজিস্টার্ড এবং দক্ষ হোমিও চিকিৎসক যিনি এই সমস্যার প্রপার ট্রিটমেন্ট দিতে জানেন। দক্ষ চিকিৎসক নির্বাচনে ব্যর্থ হলে আপনি এই সমস্যা থেকে আরোগ্য লাভ করতে প্রায় শত ভাগ বিফল হবেন।
বিস্তারিত

রবিবার, ১ মে, ২০২২

পিত্তথলির পাথর হওয়ার কারণ ও তা দূর করার উপায়

অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, গর্ভাবস্থা, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়া, লিভারের রোগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদিকে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার কারণ বলে দায়ী করা হলেও মূল বিষয়টি কিন্তু তা নয়। তাহলে পিত্তথলিতে পাথর কেন হয় অর্থাৎ পিত্তথলির পাথর হওয়ার কারণ মূলতঃ কি ? আমাদের পেটের ডানদিকে লিভারের পেছনে ও তলার দিকে থাকে আমাদের পিত্তথলি বা গলব্লাডার। পিত্তরস তৈরি করাই এর কাজ। খাবার হজমে, বিশেষ করে চর্বিজাতীয় খাবার হজম করতে পিত্তরস দরকার হয়। নানা কারণে এই পিত্তথলিতে বিভিন্ন পদার্থ অতিরিক্ত জমে গিয়ে পাথরের সৃষ্টি করে।
পিত্তথলির পাথর আসলে ছোট ছোট বালুর দানার মতো থেকে শুরু করে মটরের দানা বা তার চেয়েও বড় শক্ত দানাদার বস্তু, যা বিভিন্ন রঙের ও বিভিন্ন আকৃতির হতে পারে। এটা নির্ভর করে কী পদার্থ দিয়ে পাথরটা তৈরি তার ওপর। কোলেস্টেরল, বিলিরুবিন বা ক্যালসিয়াম ইত্যাদি পদার্থের সংমিশ্রণে তৈরি এই পাথরগুলো পিত্তরসের সঙ্গে মেশানো অবস্থায় থাকে এবং হালকা বাদামি, ময়লাটে সাদা বা কুচকুচে কালো রঙেরও হতে পারে।
পিত্তথলির পাথর হওয়ার কারণ

পিত্তথলির পাথর কাদের বেশি হয় ?

অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের পিত্তথলিতে পাথর বেশি হতে দেখা যায়। পুরুষদের তুলনায় নারীদের এই প্রবণতা বেশি। এ ছাড়া চল্লিশোর্ধ্ব বয়স, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খাবার অভ্যাস, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ ইত্যাদি এই ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

পিত্তথলির পাথর হওয়ার কারণ কি ?

  • পিত্ত একটি তরল পদার্থ যার মধ্যে কিছু কঠিন পদার্থ থাকে। তরল পদার্থের পরিমাণ কমে গেলে কঠিন পদার্থের পরিমাণ বেড়ে গেলে পাথর হতে পারে। 
  • কোন কারণে যদি পিত্তথলির সঙ্কোচন ও প্রসারণের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় তাহলে পিত্তথলিতে পাথর হতে পারে। 
  • খাবারে কোলেস্টরলের পরিমাণ বেশি থাকলে পিত্তথলিতে পাথর হয়।
  • অর্থাৎ যারা চর্বি জাতীয় খাবার বেশি খায়, যারা ভেজাল খাবার খান।
  • বছরের পর বছর এলোপ্যাথিক গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেলেও পিত্তথলিতে পাথর হয়।
  • যেসব নারী নিয়মিত পিল খান তাদেরও পিত্তথলিতে পাথর হয়।
  • যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের পিত্তথলির পাথর হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
  • যাদের লিভারের রোগে যারা আক্রান্ত তাদের  পিত্তথলিতে পাথর হতে পারে।
  • যেসব নারী বারবার গর্ভবর্তী হন তাদের  পিত্তথলিতে পাথর হতে পারে।
  • যারা শারীরিক পরিশ্রম কম করে তারাও পিত্তথলির পাথর হওয়ার ঝুঁকিতে ভোগেন।
  • যারা মোটা ও ওজন বেশি তাদের পিত্তথলিতে পাথর হতে পারে।

পিত্তথলির পাথরের সবচেয়ে উন্নত চিকিৎসা কি ?

মানুষের মনে একটা ভ্রান্ত ধারণা হলো - অপারেশন বা সার্জারি হলো পিত্তথলির পাথর দূর করার একমাত্র চিকিৎসা। এটা মূলত একটা ভ্রান্ত ধারণা আগেই বলেছি। কারণ, এলোপ্যাথিতে এই সমস্যার কোন চিকিৎসা নেই। ফলে এলোপ্যাথিক ডাক্তাররা সার্জারী করে পিত্তথলি কেটে ফেলে দিতে বলে থাকে। অথচ প্রপার হোমিও চিকিৎসায় শুধুমাত্র পার্শপ্রতিক্রিয়াহীন শক্তিকৃত ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে  পিত্তথলির পাথর এবং এ সংক্রান্ত যাবতীয় জটিলতা সহজেই দূর হয়ে যায়। 

অপারেশন বা সার্জারির আদৌ কোন প্রয়োজন পড়ে না। তবে এর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন রেজিস্টার্ড এবং দক্ষ হোমিও চিকিৎসক যিনি এই সমস্যার প্রপার ট্রিটমেন্ট দিতে জানেন। দক্ষ চিকিৎসক নির্বাচনে ব্যর্থ হলে আপনি এই সমস্যা থেকে আরোগ্য লাভ করতে প্রায় শত ভাগ বিফল হবেন। পিত্তথলির পাথর হওয়ার কারণ যাই হোক না কেন তা দূর করার কার্যকর উপায় হলো হোমিওপ্যাথি।
বিস্তারিত

শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২১

পিত্তথলির পাথর গলানোর উপায়! হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নাকি অপারেশন !

পিত্তথলির পাথর গলানোর ঔষধ, ভেষজ প্রতিকার বা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা, অপারেশনের খরচ বা গলব্লাডার স্টোন সার্জারি করার পর জটিলতা নিয়ে ভাবছেন অনেকেই। আজ থাকছে - পিত্তথলির পাথর হওয়ার কারণ, লক্ষণ, জটিলতা এবং এর উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে। আপনারা এই তথ্যগুলি পেয়ে উপকৃত হবেন অবশ্যই। আগেই একটি কথা বলে নেই - এখানে পিত্তথলির পাথর গলানো বলতে বুঝানো হয়েছে পাথরকে ভেঙে বা ক্ষয় করে এই সমস্যা দূর করা। 
প্রথমেই জেনে রাখুনঃ চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটি কোলেলিথিয়াসিস Cholelithiasis নামে পরিচিত আর এই যন্ত্রনাদায়ক সমস্যা হোমিও চিকিৎসাতেই সেরে যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। তাই অপারেশন বা সার্জারির আদৌ কোন প্রয়োজন পড়ে না। তবে এর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন রেজিস্টার্ড এবং দক্ষ হোমিও চিকিৎসক যিনি এই সমস্যার প্রপার ট্রিটমেন্ট দিতে জানেন। দক্ষ চিকিৎসক নির্বাচনে ব্যর্থ হলে আপনি এই সমস্যা থেকে আরোগ্য লাভ করতে প্রায় শত ভাগ বিফল হবেন।
মানব দেহের বুকের পাঁজরের ডান দিকে পেটের ওপরে অংশের যকৃত বা লিভারের নিচে যুক্ত থাকে গলব্লাডার বা পিত্তথলি। আমাদের যকৃত বা লিভারে পিত্তরস বা বাইল তৈরি হয়। ছোট নালীর মাধ্যমে এই রস পিত্তথলিতে জমা হয়। পিত্তথলিতে এই রস জমা থাকে। আমরা যখন চর্বি জাতীয় খাবার খাই তখন কোলেসিস্টোবাইনিন নামে এক ধরনের হরমোন নিঃসরণ হয়। এই হরমোনের প্রভাবে পিত্তথলি সঙ্কোচিত হয় এবং জমা থাকা রস বের করে দেয়। পরে এই রস ক্ষুদ্রাতন্ত্রে গিয়ে খাদ্য হজমে সাহায্য করে।
পিত্তথলির পাথর নির্মূলে ম্যাজিক দেখাচ্ছে হোমিওপ্যাথি
পিত্তথলিতে পাথর জমা হওয়াকে পিত্তপাথুরি বলে। এতে নাভি প্রদেশে দারুণ শূল বেদনা হয়। আর এটি অতি কষ্টদায়ক ব্যাধি। বর্তমান যুগে পিত্তপাথুরির প্রকোপ প্রচণ্ড রূপে দেখা দিয়েছে। অপারেশন বা অস্ত্রোপচারের পর কিছু কিছু রোগী আরোগ্য লাভ করলেও এদের মধ্যে অনেক রোগী পরবর্তীতে ক্যান্সার, জন্ডিস, বি-ভাইরাস ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে - অপারেশনের নাম করে পিত্তথলি টাকেই কেটে ফেলে দেয়া হচ্ছে আর এর ফলে পরবর্তীতে বেশির ভাগ রোগীরাই পেটের ভীষণ জটিলতায় ভুগে থাকে।

পিত্তথলির পাথর হওয়ার কারণ

পিত্তথলি লিভার থেকে তৈরি পিত্তরস বা বাইল জমা রাখে এবং চর্বি জাতীয় খাবার খেলে হজমের জন্য পিত্তথলি থেকে পিত্তরস বেরিয়ে আমাদের খাদ্য নালীতে চলে আসে এবং হজমে সহায়তা করে। পিত্তরস পিত্তথলিতে থাকার সময়কালে পিত্তরস তথা বাইলের কিছু পরিবর্তন সাধিত হয়। পিত্তরস হলুদ রঙের তরল পদার্থ। এতে থাকে কোলেস্টেরল, ক্যালসিয়াম, লবণ, এসিড ও অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান। এই পিত্তরসের বিভিন্ন উপাদান দিয়ে তৈরি হয় পিত্তথলির পাথর। 
  • পিত্ত একটি তরল পদার্থ যার মধ্যে কিছু কঠিন পদার্থ থাকে। তরল পদার্থের পরিমাণ কমে গেলে কঠিন পদার্থের পরিমাণ বেড়ে গেলে পাথর হতে পারে। 
  • কোন কারণে যদি পিত্তথলির সঙ্কোচন ও প্রসারণের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় তাহলে পিত্তথলিতে পাথর হতে পারে। 
  • তাছাড়া গবেষকদের মতে যারা চর্বি জাতীয় খাবার বেশি খায়, যারা ভেজাল খাবার খান, যাদের ডায়াবেটিস আছে, লিভারের রোগে যারা আক্রান্ত, যেসব নারী বারবার গর্ভবর্তী হন, যারা মোটা ও ওজন বেশি তাদের পিত্তথলিতে পাথর হতে পারে।

পিত্তথলিতে পাথর হলে তার লক্ষণ

  • উপরের পেটের ডান দিকে তীব্র ব্যথা যা ডান কাঁধে ছড়ায় এবং রোগীর বমি হয়।
  • অনেক সময় কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতে পারে।
  • তৈলাক্ত খাবার, চর্বিজাতীয় খাবার বা মাংস খেলে এ রকম ব্যথা হতে পারে।
  • মধ্য পেটে ব্যথা হয়। মধ্য পেটে ব্যথা হয়ে একেবারে পেছন দিকে চলে যায়।
  • জ্বরের সঙ্গে বমি হতে পারে।
  • জ্বরের সঙ্গে জন্ডিস হতে পারে। এ ক্ষেত্রে যা হয় তা হলো পাথর হয়তো পিত্তনালিতে চলে যায়।

পিত্তপাথরের জটিলতা

পিত্তথলিতে পাথরের জটিলতা নিম্নরুপঃ 
  • গলব্লাডার বা পিত্তথলিতে প্রদাহ
  • জন্ডিস এবং এর সাথে পিত্তনালীতে প্রতিবন্ধকতা
  • অগ্ন্যাশয়ের নালীর প্রতিবন্ধকতা এবং অগ্ন্যাশয় প্রদাহ অর্থ্যাৎ প্যানক্রিয়েটাইটিস
  • গলব্লাডার বা পিত্তথলিতে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়বে

পিত্তথলিতে পাথর হলে চিকিৎসা কি ?

বহু হোমিও চিকিৎসক ইতিপূর্বে বলে আসছেন, পিত্তথলিতে পাথর হলে হোমিওপ্যাথিতে অধিকাংশ রোগীই আরোগ্য হয় না এবং এর জন্য সার্জারি বা অপারেশন করা উচিত। কিন্তু আধুনিক রিয়েল হোমিওপ্যাথি ভিন্ন কথা বলছে। দেখা যাচ্ছে, প্রপার কেইস টেকিং করে যথাযথ চিকিৎসা দিলে রোগীর যাবতীয় জটিল উপসর্গ কিছু দিনের মধ্যেই দূর হয়ে যাচ্ছে এবং ধারাবাহিক চিকিৎসায় পিত্তথলির পাথরের সমস্যা পুরুপুরি নির্মূল হয়ে যাচ্ছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই।
তাই জেনে রাখুন যেসব হোমিও ডাক্তাররা বলে থাকে পিত্তথলির পাথর হোমিওপ্যাথিতে ভালো হয় না তারা মূলতঃ হোমিওপ্যাথিক প্রপার চিকিৎসা জানে না বরং আপনি দেখবেন কিছু গদবাধা হোমিও ঔষধ যেমনঃ কোলেস্টেরিনাম, কার্ডুয়াস মেরিয়েনাস, ক্যালকেরিয়া কার্ব, মার্ক সল, আর্ণিকা, চেলিডোনিয়াম, চায়না, ডিজিটেলিস, আর্সেনিক এল্ব, ফসফরাস, ব্রায়োনিয়া, হাইড্রাসটিস, ডায়োঙ্কোরিয়া ইত্যাদি রোগীকে ক্রমাগত প্রয়োগ করে করে ব্যর্থ হয়ে বলছে রোগী আর ভালো হবে না তাই অপারেশন করুন!
ভালো করে জেনে রাখুন, কিছু ক্ষেত্রে এই ঔষধগুলি প্রয়োগ করে রোগীর যন্ত্রনা কিছুটা কমলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সমস্যা আদৌ নির্মূল করে না। 
তাই পিত্তথলিতে পাথর হলে এর চিকিৎসার জন্য রেজিস্টার্ড এবং দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক খুঁজে বের করুন যিনি প্রপার কেইস টেকিং এবং হোমিওপ্যাথিক নিয়মে ইনভেস্টিগেশন করে যথাযথ চিকিৎসা দিতে পারেন। দক্ষ চিকিৎসক নির্বাচন করে চিকিৎসা নিতে পারলে আপনি সুনিশ্চিত ফলাফল পাবেন ইনশা-আল্লাহ। কারণ পিত্তথলির পাথর নির্মূলের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথির সাফল্যের হারই বেশি। তবে এক্ষেত্রে প্রপার ইনভেস্টিগেশনের জন্য রোগীর পূর্ব রোগের ইতিহাস, তার পিতা-মাতা, দাদা-দাদী এবং নানা-নানীর হিস্ট্রি জানা প্রয়োজন যা চিকিৎসক কেইস টেকিং এর সময় জেনে নিবেন। পিত্তথলির পাথর সমস্যায় শুরুতেই অপারেশন করার চিন্তা না করে আগে মেডিসিন প্রয়োগ করে সারানোর চেষ্টা করা উচিত।

যা যা জেনেছেন 

  • কলিলিথিয়াসিস
  • পিত্তনালীর পাথর
  • গলব্লাডার স্টোন সার্জারি
  • গলব্লাডারে পাথর হোমিওপ্যাথি
  • পিত্তথলির পাথর হওয়ার কারণ
  • পিত্তথলি ফেলে দিলে কি হয়
  • পিত্তথলি অপারেশন পরবর্তী জটিলতা
  • পিত্তথলির পাথর ডাক্তার ঢাকা
  • পিত্তথলির পাথর সাইজ
  • পিত্তথলির পাথর এর লক্ষণ
  • পিত্তথলির পাথর কেন হয়
  • পিত্তথলিতে পাথর হলে কি কি সমস্যা হয়
  • পেটে পাথর হলে কি খেলে ভালো হবে
  • পিত্তথলির পাথরের হোমিও চিকিৎসা
  • পিত্তথলির পাথর অপারেশন খরচ কত
  • পিত্তথলির পাথর in english
  • গলব্লাডার স্টোন কি
  • গলব্লাডার স্টোন অপারেশন কস্ট ইন বাংলাদেশ
  • পিত্তথলির পাথর অপারেশন খরচ কত বাংলাদেশ
বিস্তারিত