অ্যাজমা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অ্যাজমা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১

ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ COPD (Chronic Obstructive Pulmonary Disease)

সিওপিডি এবং এর হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ও চিকিৎসা সম্পর্কে থাকছে এ পর্বে। ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারী ডিজিজ (COPD - Chronic Obstructive Pulmonary Disease) যাকে সহজ বাংলায় পুরাতন বা দীর্ঘস্থায়ী অবরোধক অর্থাৎ রুদ্ধ শ্বাস ফুসফুসীয় ব্যাধি বলে অবহিত করা হয়। সিওপিডি এর প্রচলিত পরিস্থিতি হল ক্রনিক ব্রংকাইটিস (Chronic Bronchitis), এম্ফাইসেমা (Emphysema) এবং স্থায়ীভাবে শ্বাসকষ্ট। কোন ব্যক্তির দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক ব্রংকাইটিস হলে তার উপসর্গগুলি হবে এক নাগাড়ে কাশি আর তার সঙ্গে শ্লেষ্মা ক্ষরণ। 

এম্ফাইসেমার ক্ষেত্রে, অ্যালভিওলাই অর্থাৎ আমাদের ফুসফুসের মধ্যে থাকা ছোটো ছোটো বায়ুথলি আক্রান্ত হয় এবং বিভিন্ন বায়বীয় অস্বস্তিকারক পদার্থ যেমন: সিগারেটের ধোঁয়া, ক্রমাগত ধূলোবালিতে থাকা, কারখানার দূষিত ধোঁয়া ইত্যাদির কারণে ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যায়। এখানে মূলতঃ বায়ু থলিগুলির বেশ কিছু দেয়াল নষ্ট হয়ে যায়। যেহেতু এই দেয়ালের মাধ্যমেই আমাদের রক্ত প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পায়, নষ্ট দেয়ালের জন্যে আমাদের শরীর যথেষ্ট পরিমাণ অক্সিজেন পায় না।
ফুসফুস
সিওপিডি খুবই জটিল প্রকৃতির রোগ কারণ এটি ধীরে ধীরে ডেভেলপ করে এবং প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে ঠিক করতেও বেশ সময় নিয়ে থাকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। যাদের বয়স চল্লিশের উপর তাদের ক্ষেত্রেই এই রোগের প্রকোপটা বেশি দেখা যায় অর্থাৎ এটা মধ্য বয়সে বা বৃদ্ধ অবস্থায় ধরা পড়ে। আর সে বয়সে লোকজন আরো বিভিন্ন প্রকার স্বাস্থ্য সমস্যায়ও আক্রান্ত থাকেন। সিওপিডি শুরু হয় ধীরে ধীরে। কিন্তু বাড়তে বাড়তে এমন অবস্থায় পৌঁছায় যে, হাঁটাচলা করাও কঠিন হয়ে ওঠে। এটি সারানোর কোন এলোপ্যাথিক ওষুধ নেই। তবে বিভিন্ন এলোপ্যাথিক বা রাসায়নিক ঔষধ দিয়ে উপসর্গকে কিছুটা প্রশমিত রাখা যায় এবং রোগী আরাম পায়।

সিওপিডি সমস্যায় বহুলোক তাদের কর্মক্ষমতা হারাচ্ছে এবং বহু লোক মারাও যাচ্ছে। এটা যে ধীর গতিতে ডেভেলপ করে তাতে অনেকেই বুঝতেই পারে না যে তারা এই সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক কোটি কুড়ি লক্ষ লোকে এই অসুখে ভুগছে। আসল সংখ্যা হয়ত তার থেকেও বেশী। তাদের অনেকেই প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় আওতাধীনে না এসে এলোপ্যাথিক রাসায়নিক ঔষধ গ্রহণ করে থাকে যার কারণে এই সমস্যায় তাদের মৃত্যু হারও বেশি। 
এই রোগের কার্যকার কোন এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই তবে জটিলতা বা কষ্ট কমায় এবং আরাম দেয়। তবে হোমিওপ্যাথিতে এই সমস্যার স্থায়ী চিকিৎসা রয়েছে। সিপিওডি সমস্যায় ঠিকঠাক চিকিৎসা না হলে জটিলতা গুরুতর আকার ধারণ করে যেমন হৃৎপিণ্ডের সমস্যা এবং শ্বাস সংক্রান্ত ক্রনিক সংক্রমণ ইত্যাদি।
সিওপিডি COPD সমস্যায় প্রাথমিক অবস্থায় যেমন কিছু লক্ষণ ও উপসর্গ প্রকাশ পায় ঠিক তেমনি সমস্যার বিলম্বিত অবস্থায়ও জটিল কিছু লক্ষণ ও উপসর্গ প্রকাশ পায়। তবে এটি কষ্টদায়ক রোগ হওয়ায় যথাসময়ে প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।
COPD-Chronic Obstructive Pulmonary Disease

সিওপিডি সমস্যায় প্রাথমিক লক্ষণ ও উপসর্গ

  • ক্রনিক স্থায়ী কাশি বা নিরন্তর কাশি
  • কাশতে কাশতে বুকে চাপবোধ এবং দমবন্ধ ভাব
  • কাশির সাথে শ্লেষ্মা নির্গত হওয়া
  • শ্বাসকষ্ট হবে এটাই স্বাভাবিক
  • শ্বাসপ্রশ্বাসের সময় শব্দ হওয়া
  • বুকের মধ্যে সাই সাই শব্দ হতে থাকে
  • হাঁটাচলা করলে নিদারুন ক্লান্তি 

সিওপিডি সমস্যায় বিলম্বিত লক্ষণ ও উপসর্গ

  • হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া
  • জিহ্বা নীল বর্ণ ধারণ করা
  • নখ ও ঠোঁটের রঙ নীলাভ হয়ে যাওয়া
  • হাতের আঙুলের অংগ্রভাগ ফুলে উঠা
  • পা, পায়ের পাতা, গোড়ালী ফুলে উঠা
  • মানুষিক ভাবে অন্যমনস্ক থাকা 

যে যে কারণে সিওপিডি জেগে উঠতে পারে

  • যাদের এই সমস্যার পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে। 
  • রোগীর নিজের বা নিকট আত্মীয়ের কারো টিবি বা যক্ষার ইতিহাস রয়েছে। 
  • যারা হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট সমস্যায় ভোগছেন এবং এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নিয়ে রোগ নিয়ন্ত্রণ করেছেন। 
  • সিওপিডি সমস্যার পেছনে যে বিষয়টি বাহ্যিক ভাবে সবচেয়ে বেশি ট্রিগার করে তা হল - ধুমপান। অ্যাক্টিভ ও প্যাসিভ ধূমপায়ীরা সমান ঝুঁকি থাকে।
  • দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলের ক্ষতিকারক ধোঁয়া, ধুলো, উগ্র রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ সিওপিডি সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলে। 
  • দীর্ঘদিন যাবৎ যারা হার্টের সমস্যা ও ডায়াবেটিস আক্রান্ত আছেন এবং এ সমস্যায় এলোপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করে রোগ নিয়ন্ত্রণ করছেন। 
  • বায়ু দূষণ, যানবাহনের ধোয়াও এ রোগ জেগে উঠার ক্ষেত্রে ট্রিগার করে। 
আপনি হয়তো দেখে থাকবেন একই সাথে বহুলোক একই রকম পরিবেশে বসবাস করলেও তাদের সবাই কিন্তু এই সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে না। তাদের থেকে কিছু মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। একই পরিবেশে বাকিদের সমস্যা হচ্ছে না কেন ? একটা প্রশ্ন থেকে যায়। আসুন উত্তরটাও জেনে নিই।

সিওপিডি সমস্যার চিকিৎসা

সিওপিডি এর কার্যকর এবং স্থায়ী কোন এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই। কারণ এই রোগগুলি জেগে উঠে আমাদের ডিএনএ তে বিদ্যমান প্রিডোমিন্যান্ট কিছু প্রকৃত রোগ অর্থাৎ True Disease এর কারণে যা মূলত মানুষ জন্মগত ভাবে প্রাপ্ত হয়। বয়স বাড়ার সাথে বিভিন্ন পরিপোষক কারণ, অস্বাস্থ্যকর জীবন ধারা, পরিবেশগত বা অন্যকোন কারণে যখন ব্যক্তির ভাইটাল ফোর্স দুর্বল হতে থাকে তখন ব্যক্তির  ডিএনএ তে বিদ্যমান প্রকৃত রোগটি তার ফুসফুসে বিভিন্ন লক্ষণ উপসর্গ জাগিয়ে তুলে। এইসব  লক্ষণ উপসর্গকে বিভিন্ন নামে চিহ্নিত করে চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে বিভিন্ন থেরাপিউটিক সিস্টেমে। ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ COPD (Chronic Obstructive Pulmonary Disease) হলো তেমনি কিছু লক্ষণ বা উপসর্গের সমষ্টি। 
ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ - সিওপিডি নির্মূলের সর্বাধিক কার্যকর চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। তবে এর জন্য দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক নির্বাচন করা প্রয়োজন যিনি এই সমস্যাগুলির চিকিৎসা দিতে জানেন। 
প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে এই সমস্যাকে স্থায়ী ভাবে ঠিক করতে হলে ব্যক্তির শিশু কালের হিস্ট্রি, তার নিকট আত্মীয় যেমন মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদি, নানা-নানীর হিস্ট্রি প্রয়োজন। তারা কে কোন কোন রোগে ভুগেছেন কে কোন রোগে মারা গিয়েছেন সেগুলির বিস্তারিত তথ্য জেনেই দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক রোগীর ডিএনএ তে প্রিডোমিন্যান্ট প্রকৃত রোগটি নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করবেন এবং সমস্যার পেছনে কোন পরিপোষক কারণ থাকলে সেটা থেকেও পেশেন্টকে দূরে থাকতে বলবেন। 

যেহেতু একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম প্রকৃত রোগ বা True Disease বিদ্যমান থাকতে পারে এবং একেক জনের রোগের তীব্রতা বা জটিলতা একেক রকম হয়ে থাকে তাই একেক জনের ক্ষেত্রে আরোগ্য হওয়ার ধরণ এবং সময়ও ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে পেশেন্টের উচিত ইনভেস্টিগেশনের সময় বিস্তারিত তথ্য দিয়ে চিকিৎসকে সাহায্য করা এবং ধৈর্য ধরে চিকিৎসা নেয়া। কারণ হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতে স্টেপ বাই স্টেপ চিকিৎসার মাধ্যমে এই সমস্যা এক সময় স্থায়ীভাবে নির্মূল হয়ে যায় এবং রোগী স্থায়ী আরোগ্য লাভ করে থাকে।

সিওপিডি সমস্যায় হোমিওপ্যাথিক ঔষধ

ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারী ডিজিজ এর ক্ষেত্রে ক্রনিক ব্রংকাইটিস, এম্ফাইসেমা এবং স্থায়ীভাবে শ্বাসকষ্ট সমস্যায় (Synthesis Repertory) রেপার্টরীতে যে যে হোমিও ঔষধ রয়েছে-
Chronic Obstructive Pulmonary Disease

Chronic Obstructive Pulmonary Diseaseযা যা জেনেছেন

  • সিওপিডির ঔষধ
  • সিওপিডি কি
  • সিওপিডির লক্ষণ
  • সিওপিডি রোগ কি
  • সিওপিডি রোগের লক্ষণ
  • সিওপিডি রোগ নির্ণয়
  • সিওপিডি ও এজমা
  • সিওপিডি এর কারণ কি
  • সিওপিডি এর চিকিৎসা
  • সিওপিডি এর পুরো নাম কি
  • ব্রংকাইটিস এর লক্ষণ
  • ব্রংকাইটিস কি ভালো হয়
  • ব্রংকাইটিস কেন হয়
  • ব্রংকাইটিস এর হোমিও চিকিৎসা
  • ব্রংকাইটিস চিকিৎসা
  • ব্রংকাইটিস রোগের চিকিৎসা
  • Copd লক্ষণ
  • ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস কি
  • Copd বাংলা
  • Copd কি
  • ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ
বিস্তারিত

সোমবার, ৩১ মে, ২০২১

১৫ বছরের অ্যাজমা নির্মূল! হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট রোগের আধুনিক চিকিৎসা

আপনারা হয়তো জানেন, এলোপ্যাথিতে অ্যাজমা, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট নির্মূলের স্থায়ী কোন চিকিৎসা নেই। হাঁপানি রোগে তীব্র শ্বাসকষ্টের মুহূর্তে সাময়িক সময়ের জন্য কষ্ট লাঘব করার ঔষধ থাকলেও এর কোন স্থায়ী সমাধান আজ পর্যন্ত এলোপ্যাথি আবিষ্কার করতে পারেনি। অন্যান্য ক্রনিক ডিজিসের মতো এই সমস্যায়ও এলোপ্যাথিক মেডিক্যাল মাফিয়ারা রোগ পুষে রেখে সারাজীবন ধরে মানুষের সাথে বিজনেসের নীতিতে চলছে। তাছাড়া শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এলোপ্যাথিক ক্ষতিকর স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধসহ অন্যান্য রাসায়নিক ঔষধের দীঘদিন যাবৎ ক্রমাগত প্রয়োগে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আরো জটিল প্রকৃতির স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি হবে সেটাও অস্বাভাবিক নয়। অথচ প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় দীর্ঘদিনের পুরাতন অ্যাজমা বা হাঁপানি নির্মূল হয়ে যায় চিরতরে।

ইতিমধ্যেই আপনারা জেনেছেন, আমরা যে সব রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকি সেগুলি মূলত আমাদের DNA তে প্রিডোমিনেন্ট কিছু True Disease এর তৈরী করা কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ। ঠিক তেমনি অ্যাজমা বা হাঁপানি সমস্যার মূলেও রয়েছে True Disease. অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা দেখে থাকি - যারা এই সমস্যায় আক্রান্ত হন তারা মূলত Tubercular Diathesis এর পেশেন্ট। বর্তমান বিশ্বে একমাত্র হোমিওপ্যাথিই আপনার DNA তে প্রিডোমিনেন্ট True Disease কে ডায়নামিক হোমিও ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে রিসিসিভ করতে পারে আর তাই হোমিও চিকিৎসায় অ্যাজমা বা হাঁপানি স্থায়ী ভাবে নির্মূল হয়ে যায়। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক নির্বাচন করতে হবে যিনি হোমিওপ্যাথিক নিয়মনীতি অনুসারে আপনাকে যথাযথ চিকিৎসা দিতে পারবেন।

অপরদিকে এলোপ্যাথি স্থানিক ভাবে শ্বাসপথে বায়ু চলাচলে বাধাকে সাময়িক ভাবে দূর করে শ্বাসকষ্টের উপশম ঘটায় মাত্র স্থায়ীভাবে আদৌ হাঁপানি নির্মূল করতে পারে না। কারণ এলোপ্যাথিক চিকিৎসা শাস্ত্র আপনার DNA তে প্রিডোমিনেন্ট True Disease কে নির্ণয় করে সেটিকে রেসিসিভ করার চিকিৎসা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। আর তাই শ্বাসপথে বায়ু চলাচলে বাধাকে এলোপ্যাথিক পদ্ধতিতে দূর করলে কিছুটা সময় পর আবার সেখানে একই বাধা তৈরী হয়ে শ্বাসকষ্ট সমস্যার সৃষ্টি করে।
একজন অ্যাজমা পেশেন্টের ভয়াভয় প্রকৃতির হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। যিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে এই সমস্যায় ভুগছিলেন। দিনে ৫ বার ইনহেলার নেয়া লাগলো এবং সাথে শ্বাসকষ্টের জন্য এলোপ্যাথিক ঔষধও খাওয়া লাগতো। দীর্ঘদিন যাবৎ এলোপ্যাথিক ওয়ান টাইম রাসায়নিক ঔষধ ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে মানুষিক সমস্যাসহ শরীরে আরো জটিল জটিল সমস্যা জেগে উঠা শুরু করলে তিনি এক সময় হোমিও চিকিৎসার তথ্যাবধানে চলে আসেন। মাত্র ৫ মাসের প্রপার হোমিও চিকিৎসায় তিনি ক্রনিক অ্যাজমা এবং মানুষিক সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি লাভ করেন।
বিস্তারিত

শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

যক্ষ্মা বা টিবি রোগের জটিলতা ! শ্বাসকষ্ট বা ঠান্ডার দোষ, পেটের অসুখ, ফুসফুস, হার্ট, কিডনি, বন্ধ্যাত্ব, মানুষিক সমস্যা ইত্যাদি

বিভিন্ন জটিল প্রকৃতির শারীরিক সমস্যার পেছনে Tuberculosis (TB) যক্ষ্মা বা যক্ষা ফ্যাক্টর এবং টিবি রোগের ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে আজ আলোকপাত করবো। আপনারা হয়তো অনেকেই লক্ষ্য করে থাকবেন যিনি TB বা যক্ষাতে আক্রান্ত হন অথবা তার নিকট আত্মীয় কারো TB থাকলে তিনি বিভিন্ন রকম শারীরিক এবং মানুষিক সমস্যায় আক্রান্ত থাকেন। যেমন পেটের পীড়া - আইবিএস, আইবিডি, কোষ্টকাঠিন্য, শ্বাসকষ্ট বা ঠান্ডার দোষ, বন্ধ্যাত্ব, হার্ট, কিডনি, চর্মরোগ, মানুষিক সমস্যা ইত্যাদি যেন লেগেই থাকে। বছরের পর বছর ধরে লোকজন দেশ বিদেশে এলোপ্যাথির নামকরা চিকিৎসকের পেছনে দৌড়াতে থাকে কিন্তু সমস্যার আদৌ কোন স্থায়ী সমাধান হয় না।

কারণ এলোপ্যাথিতে মূলতঃ মূল রোগের চিকিৎসা করা হয় না বরং মূল রোগ বা তার জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল দ্বারা সৃষ্ট কিছু লক্ষণ ও উপসর্গকে রোগের নাম দিয়ে চিকিৎসা করা হয় তাও আবার স্থানিক ভাবে। যার কারণে এলোপ্যাথিতে ক্রনিক ডিজিস আদৌ স্থায়ীভাবে ভাল হয় না। যখন কোন রোগের পেছনের মূল কারণ থাকে TB বা যক্ষা অথবা ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল তখন বুঝতেই পারছেন আপনি যতই এলোপ্যাথিক ঔষধ সেবন করেন না কেন আপনার সমস্যা আদৌ স্থায়ী ভাবে নির্মূল হবে না। তবে ঔষধ খাওয়া অবস্থায় কিছুটা আরাম পাবেন মাত্র অর্থাৎ রোগ যন্ত্রনা উপশম হবে কিন্তু রোগ  আরোগ্য হবে না। তখন এলোপ্যাথিক চিকিৎসকগণ রোগীকে সারা জীবন ধরেই ঔষধ খেয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে। তাছাড়া মানুষকে সারা জীবন ধরে ঔষধ খাওয়ানোটা হল এলোপ্যাথিক মেডিক্যাল মাফিয়াদের একটা বিজনেস পলিসি। 
মূলত হোমিওপ্যাথিক নিয়মে প্রপার ইনভেস্টিগেশন করে TB বা যক্ষা অথবা ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়ালকে তার প্রিডোমিনান্ট অবস্থা থেকে রিসিসিভ করার জন্য চিকিৎসা দেয়াই হলো বিশ্বের সর্বোৎকৃষ্ট এবং কার্যকর একটি চিকিৎসা।
বিশ্বের যে দশটি রোগে বেশি মানুষ মারা যায় TB বা যক্ষা হলো তার একটি। যক্ষ্মা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ফুসফুসে। এছাড়া দেহের বিভিন্ন জয়েন্ট, গ্রন্থিসহ আমাদের মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে, ত্বক, অন্ত্র, লিভার, কিডনি, হাড়সহ দেহের যেকোন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে TB বা যক্ষার সংক্রমণ হতে পারে। বলতে গেলে আমাদের এমন কোন অঙ্গ নাই, যেখানে যক্ষ্মা হয়না। কারণ যক্ষ্মা হচ্ছে একটি বায়ুবাহিত ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক ব্যাধি যেটা মাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকুলোসিস জীবাণুর সংক্রমণে হয়ে থাকে। যতগুলো যক্ষ্মা বা TB রয়েছে, এর মধ্যে ৮০ ভাগই ফুসফুসে হয়ে থাকে এবং এটি সবচেয়ে গুরুতর ও ভীষণ ছোঁয়াচে প্রকৃতির। শরীরের অন্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের যক্ষ্মা এতোটা ছোঁয়াচে নয়। তাই সেগুলি ফুসফুসের যক্ষ্মার মতো ছড়ানোর ক্ষেত্রে ততটা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। যেহেতু যক্ষা বা TB নিয়ে কথা বলছি তাই আসুন এর লক্ষণ ও উপসর্গগুলি সম্পর্কেও কিছুটা জেনে নিই-

ফুসফুসের যক্ষার প্রধান উপসর্গ

  • ফুসফুসে যক্ষ্মা হলে হাল্কা জ্বর ও কাশি হতে পারে
  • কাশির সঙ্গে গলার ভিতর থেকে থুতুতে রক্তও বেরোতে পারে
  • বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট হিসেবে ৫-৬ মাস জ্বর থাকার মূল কারণ এই টিবি
  • সাধারনত তিন সপ্তাহের বেশি কাশি
  • জ্বর থাকে 
  • কাশির সাথে কফ এবং মাঝে মাঝে রক্ত বের হওয়া
  • অস্বাভাবিকভাবে ওজন হ্রাস পাওয়া 
  • অবসাদ অনুভব করা 
  • রাতে ঘাম হওয়া
  • বুকে ব্যথা, দুর্বলতা ও ক্ষুধামন্দা
  • ইত্যাদি
যক্ষা ফুসফুস থেকে অন্যান্য অঙ্গেও ছড়িয়ে পরতে পারে বিশেষ করে যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তাদের এবং বাচ্চাদের ক্ষেত্রে। তখন একে অ-শ্বাসতন্ত্রীয় যক্ষা বা Extra pulmonary Tuberculosis বলা হয়, যেমন-
  • কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে মেনিনজাইটিস (TB Meningitis)
  • প্রজনন তন্ত্রে প্রজনন তন্ত্রীয় যক্ষা (Genitourinary TB)
  • পরিপাক তন্ত্রে পরিপাক তন্ত্রীয় যক্ষা (Gastrointestinal TB)
  • লিভার সংক্রান্ত টিবি (TB of the Liver)
  • হাড় এবং জয়েন্ট টিবি (TB of Bones and Joints)
  • হৃদঝিল্লি সংক্রান্ত টিবি (TB Pericarditis)
  • ত্বক সম্পর্কিত টিবি (Cutaneous Tuberculosis)
  • পেট বা উদর সংক্রান্ত টিবি (TB Peritonitis)
  • লসিকাতন্ত্রে স্ক্রফুলা (TB Lymphadenitis)
অনেক ক্ষেত্রে ফুসফুসীয় এবং অ-ফুসফুসীয় যক্ষা একসাথে বিদ্যমান থাক্তে পারে। পৃথিবীর যক্ষ্মা রোগীদের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি অর্থাৎ প্রায় অর্ধেকই হল ভারতীয় উপমহাদেশবাসী।
যক্ষা বা TB রোগের জটিলতা
তবে একবার কেউ এই রোগে আক্রান্ত হলে সেটা আর বের হতে পারে না। আপনি হয়তো আমাদের ট্রাডিশনাল চিকিৎসা ব্যবস্থায় ৬ মাস, ৯ মাস....১৮ মাস চিকিৎসা নিয়ে রোগের তীব্রতা সেই পরিমান কমিয়ে আনতে পারবেন যেটি আপনার জীবন নাশ করবে না। অর্থাৎ আপনি হয়তো টেস্ট করে দেখছেন আপনার শরীরে টিবির জীবাণু নেই। কিন্তু তারপরও যক্ষা বা এর জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল আপনার শরীরে থেকে যাবে এবং আপনার থেকে আপনার পরবর্তী প্রজন্মে DNA এর মাধ্যমে বিস্তার লাভ করবে। আপনার বংশধরদের মধ্যে যাকে সুবিধা করতে পারবে তার শরীরেই TB বা যক্ষা জেগে উঠবে অথবা তাদের শরীরে বিভিন্ন অঙ্গে নানা প্রকার জটিল প্রকৃতির সমস্যা সৃষ্টি করে তাকে জীবনভর কষ্ট দিয়ে যাবে। 

পূর্বে টিবি আক্রান্ত হলে বা নিকট আত্মীয়ের টিবি থাকলে

কারো পাস্ট হিস্ট্রিতে টিবি থাকলে অথবা তার নিকট আত্মীয় যেমন মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী কারো টিবি থাকলে তার মধ্যে নিম্নোক্ত স্বাস্থ্য সমস্যাগুলি তার মধ্যে জেগে উঠতে পারে-
  • আইবিএস, ক্রনিক ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা প্রকার পেটের অসুখ
  • হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট বা ঠান্ডার দোষ
  • ফুসফুসের নানা সমস্যা
  • স্বরযন্ত্রের সমস্যা
  • হার্টের সমস্যা
  • লিভারের সমস্যা
  • কিডনি ও মূত্রতন্ত্রের  সমস্যা
  • পুরুষদের অন্ডকোষের সমস্যা যেমনঃ অর্কাইটিস, ভেরিকোসিল, বন্ধ্যাত্বইত্যাদি 
  • নারীদের ডিম্বাশয়ের সমস্যা, বন্ধ্যাত্ব ইত্যাদি 
  • থাইরয়েডের সমস্যা
  • নানা প্রকার মানুষিক সমস্যা
  • নানা প্রকার চর্মরোগ
  • মাইগ্রেন বা দুরারোগ্য মাথাব্যথা
  • পাইলস, ফিস্টুলা, মলদ্বার দিয়ে রক্ত ক্ষরণ ইত্যাদি
  • বিভিন্ন প্রকার ক্যান্সার
  • চিকন স্বাস্থ বা শরীর শুকিয়ে যাওয়া
  • ইত্যাদি

কাদের টিউবারকুলার ডায়াথেসিস প্রিডোমিনান্ট

এবার আসুন আমরা জেনে নিই কোন একজন রোগীর Family History তে কোন কোন দোষ উপস্থিত থাকলে তার মধ্যে Tubercular Diathesis, Predominant বলা যাবে। Pathological indications from Family History are as follows-
  • Tuberculosis
  • Leprosy
  • Heart disease with or without valvular lessions
  • Diabetes
  • Rheumatism
  • Cancer
  • Headache
  • Cerebro vascular accident (CVA)
  • IBS, IBD, Chronic  Dysentery Diarrhoea or Constipation
  • Anorectal Diseases - Piles, Fistula, Sinuses, stricture in rectum, Bleeding per rectum etc.
  • Obstructive airways disease -  Asthma, chronic bronchitis, emphysema, cystic fibrosis, and bronchiolitis
  • Bronchiectasis - Permanent enlargement of parts of the airways of the lung
  • Laryngitis - Inflammation of voice box (larynx)
  • Different types of skin diseases especially ring-worm, Pityriasis, allergy etc.
  • Lice at different parts of the body
  • Breathing distress or Asthma
  • Mental or Psychiatric Problem - Schizophrenia, Mania, Insanity, Uncontrolled rage from beginning etc.
  • Massive Haemoptysis - Coughing of blood originating from the respiratory tract

যক্ষা বা TB পরবর্তী জটিলতার চিকিৎসা

তাই কোন একটি মানুষের Past History তে Tuberculosis (TB) থাকলে তার চিকিৎসার বিষয়ে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। কারণ আপনাকে মনে রাখতে হবে-
Tuberculosis is results of disease and also one way disease.
একবার দেহ-মনে ঢুকলে আর বের হতে পারে না। দ্বিতীয় কারণটি হলো কোন মানুষ Tuberculosis এ আক্রান্ত হওয়ার পূর্বে এবং পরে বিভিন্ন সমস্যায় বিশেষ করে ঠান্ডাজনিত সমস্যায় বার বার কষ্ট পেতে থাকে এবং বিভিন্ন ঔষধ খেতে থাকে যার ফলে PTS বা Trauma তৈরী হয় তবে সেটা কিন্তু Triple Trauma.
  • প্রথমতঃ আগে পিছে বিভিন্ন ঔষধ খাওয়ার জন্য Trauma
  • দ্বিতীয়তঃ Tuberculosis নিজেই Trauma তৈরী করছে
  • তৃতীয়তঃ Tuberculosis থেকে মুক্তির জন্য ঔষধ খেতে হয় যা পূনরায় Trauma তৈরী করে
সুতরাং বুঝতেই পারছেন নানা জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের Past History তে Tuberculosis (TB) থাকলে অথবা নিকট আত্মীয়ের যেমন মা-বাবা,ভাই-বোন রোগ কারো  TB থাকলেও বুঝতে হবে তার শরীরেও ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল বিদ্যমান যেটি হয়তো সে পেয়েছে তার পূর্ব পুরুষ থেকে DNA এর মাধ্যমে বা অন্য কোন মাধ্যমে। তাই সেক্ষেত্রে Tuberculosis (TB) বা TD (Tubercular Diathesis) Predominant একজন IBS রোগীর চিকিৎসা করা মানেই হলো তার শরীর থেকে ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল রিসিসিভ করা। অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়ালকে নিস্তেজ করে করে সুপ্তাবস্থায় পাঠিয়ে রোগীর ভাইটাল ফোর্সকে শক্তিশালী করা না যাবে পেশেন্ট কখনই তার অনান্য শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ করবেন না।
তাই যেকোন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের Past History তে Tuberculosis (TB) থাকলে অথবা নিকট আত্মীয়ের TB থাকলে দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক খুঁজে বের করুন যিনি প্রপারলি ইনভেস্টিগেশন করে আপনাকে চিকিৎসা দিয়ে আপনার DNA তে Predominant ঢিবির জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল রিসিসিভ করার চিকিৎসা দিবেন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই পেশেন্টকে কিছুটা ধৈর্য ধরে চিকিৎসা নিতে হবে। কারণ রোগের তীব্রতা ভেদে ভালো হতে একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম সময় লাগতে পারে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং আল্লাহ পাক যেন আমাদের সকলকে এই প্রকার জটিল সমস্যা থেকে বাঁচিয়ে রাখেন - সেই কামনায়। ধন্যবাদ। 
বিস্তারিত

সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

অ্যাজমা Asthma - কারণ, লক্ষণ এবং হাঁপানি থেকে মুক্তির উপায়

অ্যাজমা Asthma শ্বাসকষ্ট সমস্যার কারণ, লক্ষণ এবং হাঁপানি থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত থাকছে আজকের পর্বে। হাঁপানি বলতে আমরা বুঝি শ্বাসপথে বায়ু চলাচলে বাধা সৃষ্টির জন্য শ্বাসকষ্ট Dyspnoea. সারা বিশ্বের প্রায় ১৫ কোটিরও বেশি মানুষ অ্যাজমা বা হাঁপানীতে আক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর ৫০ হাজার লোক এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। শ্বাসনালির প্রদাহজনিত জটিল একটি সমস্যা হল এই অ্যাজমা। শ্বাসনালিতে বিভিন্ন কোষ প্রধানত ইওসিনোফিল ও অন্যান্য উপাদান জমা হয়ে শ্বাসনালির ছিদ্র পথ সরু হয়ে যায়। রোগী শ্বাসকষ্টসহ শুকনো কাশি, বুকে কফ জমে যাওয়া, শ্বাস নেওয়ার সময় বুকে শোঁ শোঁ আওয়াজ হওয়া ইত্যাদি সমস্যায় ভুগতে থাকে। শীতকালে শুষ্ক ঠান্ডা আবহাওয়া বাতাসে উড়ে বেড়ানোয় ধূলিকণার আধিক্যে অ্যাজমা রোগীদের কষ্ট বেড়ে যেতে দেখা যায়।

অ্যাজমা Asthma - মূল কারণ

ইতিপূর্বে যারা আমার লেখা পড়েছেন তারা হয়তো জেনেছেন, আমরা যে সব রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকি সেগুলি মূলত আমাদের DNA তে প্রিডোমিনেন্ট কিছু True Disease এর তৈরী করা কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ। ঠিক তেমনি অ্যাজমা Asthma বা হাঁপানি সমস্যার মূলেও রয়েছে True Disease. অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা দেখি যারা এই সমস্যায় আক্রান্ত হন তারা মূলত Tubercular Diathesis এর পেশেন্ট। 
বর্তমান বিশ্বে একমাত্র হোমিওপ্যাথিই আপনার DNA তে প্রিডোমিনেন্ট True Disease কে ডায়নামিক হোমিও ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে রিসিসিভ করতে পারে আর তাই হোমিও চিকিৎসায় অ্যাজমা বা হাঁপানি স্থায়ী ভাবে নির্মূল হয়ে যায়। 
তবে এক্ষেত্রে আপনাকে দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক নির্বাচন করতে হবে যিনি হোমিওপ্যাথিক নিয়মনীতি অনুসারে আপনাকে যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে আপনার DNA তে প্রিডোমিনেন্ট True Disease কে রিসিসিভ করবেন। 
অ্যাজমা Asthma - কারণ, লক্ষণ এবং হাঁপানি থেকে মুক্তির উপায়
যারা অ্যাজমা বা হাঁপানিতে আক্রান্ত হন বিভিন্ন পরিবেশগত বা পরিপোষক কারণে তাদের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যেতে পারে যেমনঃ ঘরের উপাদানের থাকা ক্ষুদ্র কীট, ধুলাবালি, গাছ-আগাছা, ফুলের পরাগরেণু, পশুপাখির পালক, কীটপতঙ্গ ইত্যাদি হাঁপানি রোগীদের শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ট্রিগার করে থাকে। 

অ্যাজমা Asthma - লক্ষণ ও উপসর্গ

  • শ্বাসকষ্ট হওয়া 
  • হাঁটলে বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করলে শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া
  • বুকে কফ জমে যাওয়া
  • বুকে সাঁ-সাঁ শব্দে কষ্টসহ শ্বাস নেয়া 
  • শ্বাস নেওয়ার সময় বাঁশির মতো শব্দ হওয়া  
  • শুকনো কাশি বা কফযুক্ত কাশি
  • রাতে ঘুমানোর সময় কাশি বেড়ে যাওয়া
  • বুক ভার হয়ে থাকা
  • বুকে চাপ ধরা বা দমবন্ধ অনুভব করা 

অ্যাজমা Asthma -স্থায়ী চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি

আপনারা হয়তো জানেন, এলোপ্যাথিতে অ্যাজমা বা হাঁপানি নির্মূলের স্থায়ী কোন চিকিৎসা নেই। অন্যান্য ক্রনিক ডিজিসের মতো এই সমস্যায় ও এলোপ্যাথি রোগ পুষে রেখে সারাজীবন ধরে আপনার সাথে বিজনেসের নীতিতে চলবে এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এলোপ্যাথিক ক্ষতিকর স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধসহ অন্যান্য রাসায়নিক ঔষধের দীঘদিন যাবৎ ক্রমাগত প্রয়োগে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আরো জটিল প্রকৃতির স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি হবে সেটাও অস্বাভাবিক নয়।

ইতিমধ্যেই আপনারা জেনেছেন, আমরা যে সব রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকি সেগুলি মূলত আমাদের DNA তে প্রিডোমিনেন্ট কিছু True Disease এর তৈরী করা কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ। ঠিক তেমনি অ্যাজমা বা হাঁপানি সমস্যার মূলেও রয়েছে True Disease. অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা দেখে থাকি - যারা এই সমস্যায় আক্রান্ত হন তারা মূলত Tubercular Diathesis এর পেশেন্ট। বর্তমান বিশ্বে একমাত্র হোমিওপ্যাথিই আপনার DNA তে প্রিডোমিনেন্ট True Disease কে ডায়নামিক হোমিও ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে রিসিসিভ করতে পারে আর তাই হোমিও চিকিৎসায় অ্যাজমা বা হাঁপানি স্থায়ী ভাবে নির্মূল হয়ে যায়। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসক নির্বাচন করতে হবে যিনি হোমিওপ্যাথিক নিয়মনীতি অনুসারে আপনাকে যথাযথ চিকিৎসা দিতে পারবেন।

অপরদিকে এলোপ্যাথি স্থানিক ভাবে শ্বাসপথে বায়ু চলাচলে বাধাকে সাময়িক ভাবে দূর করে শ্বাসকষ্টের উপশম ঘটায় মাত্র স্থায়ীভাবে আদৌ হাঁপানি নির্মূল করতে পারে না। কারণ এলোপ্যাথিক চিকিৎসা শাস্ত্র আপনার DNA তে প্রিডোমিনেন্ট True Disease কে নির্ণয় করে সেটিকে রেসিসিভ করার চিকিৎসা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। আর তাই শ্বাসপথে বায়ু চলাচলে বাধাকে এলোপ্যাথিক পদ্ধতিতে দূর করলে কিছুটা সময় পর আবার সেখানে একই বাধা তৈরী হয়ে শ্বাসকষ্ট সমস্যার সৃষ্টি করে।

তবে একটা বিষয় আপনাকে মনে রাখতে হবে, অ্যাজমা বা হাঁপানির সমস্যা নিয়ে আপনি যখন রেজিস্টার্ড এবং দক্ষ একজন হোমিও চিকিৎসকের নিকট যাবেন, তিনি মূলত হোমিওপ্যাথিক নিয়মে ইনভেস্টিগেশন করে আপনার DNA তে প্রিডোমিনেন্ট True Disease কে নির্ণয় করে সেটি রেসিসিভ করার চিকিৎসা দিবেন। এক্ষেত্রে চিকিৎসক আপনার নিজের এবং আপনার পিতা-মাতা, দাদা-দাদি, নানা-নানীর হিস্ট্রি নিবেন অর্থাৎ আপনার নিকট আত্মীয়রা কে কোন কোন রোগে ভুগেছেন বা কে কোন কোন রোগে মারা গিয়েছেন সেগুলির বিস্তারিত তথ্যাদি নিয়ে চিকিৎসক আপনার চিকিৎসা কার্যটি শুরু করবেন। এক্ষেত্রে মূলতঃ ডাইনামিক হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রয়াগের মাধ্যমে আপনাকে স্টেপ বাই স্টেপ ইম্প্রোভমেন্টের দিকে নিয়ে যাবেন এবং এক সময় আপনি অ্যাজমা বা হাঁপানির সমস্যা থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি লাভ করবেন ইনশা-আল্লাহ।

যা যা জেনেছেন-

  • এজমা কেন হয়
  • শ্বাসকষ্টের ঔষধ
  • এজমা কাশি
  • এজমার হোমিও ঔষধ
  • হাঁপানি থেকে মুক্তির উপায়
  • এজমা রোগের হোমিও চিকিৎসা
  • হাঁপানি রোগের লক্ষণ
  • এলার্জি ও এজমা বিশেষজ্ঞ
  • হাঁপানি হোমিও
  • হাঁপানি রোগের আধুনিক চিকিৎসা
  • হাঁপানি থেকে মুক্তির উপায়
  • হাঁপানি রোগের লক্ষণ
  • হাঁপানি হলে করণীয়
  • হাঁপানি থেকে বাঁচার উপায়
বিস্তারিত