রবিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৯

শ্বেতী রোগ Leucoderma or Vitiligo ! কারণ লক্ষণ চিকিৎসা প্রতিরোধ

শ্বেতী রোগের প্রাকৃতিক ঔষধ স্থায়ী হোমিও চিকিৎসা কি হতে পারে ! Meaning in english is leucoderma or vitiligo. নারী কিংবা পুরুষ যে কোনো বয়সেই এই শ্বেতী রোগে আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত শরীরের যেসব অঙ্গ আবরণমুক্ত থাকে যেমন হাত, পা, মুখমণ্ডল এবং ঠোঁট ইত্যাদি অংশে শ্বেতী বেশি দেখা যায়। শ্বেতীরোগে সাধারণত শরীরের নির্দিষ্ট কিছু অংশে সাদা বর্ণের দাগ দেখা যায়। এ ছাড়া বংশগতভাবেও শ্বেতী রোগ হতে পারে। তবে শ্বেতী কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়।

ছোঁয়াচে রোগ না হলেও যে কেউ যেকোন সময় এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। রোগটি মরণব্যাধি কিংবা ঘাতক নয়, তবে একবার শরীরে বাসা বাধলে তা থেকে মুক্তি পাওয়া দুস্কর। এই অসুখে আমাদের ত্বকের রং তৈরি করার কোষ বা মেলানোসাইট নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় বা কমে যায়। বেশির ভাগ শ্বেতী আজকাল অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার থেকে হয়। রোজকার জীবনে এই সব রাসায়নিক সকলের ত্বক সহ্য করতে পারে না। তখনই শুরু হয় সমস্যা।

একবার এ রোগ হলে দ্রুত তা শরীরের অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। শ্বেতীতে আক্রান্ত রোগীরা বেশির ভাগই মানসিক অবসাদে ভোগেন। শ্বেতী বংশগতভাবেও হয়। প্রতি ১০০ জন শ্বেতী রোগীর মধ্যে ৩০ জনের ক্ষেত্রেই শ্বেতী হয় বংশগত ধারায়। বাকি ৭০ শতাংশের ক্ষেত্রে শ্বেতী সাদা দাগ ছড়াতে থাকে নিজস্ব কারণে, যার মূলে রয়েছে মেলানিনের কারসাজি।শ্বেতী রোগ বেশ কয়েক ধরণের হতে পারে:
  • শরীরের অল্প কিছু অংশে হতে পারে 
  • যে কোন একদিকে (বাম অথবা ডান দিকে) - এ ধরণের শ্বেতী শরীরের যেকোনো একপাশের হাত, পা বা মুখ আক্রান্ত হয়। অল্প বয়সেই রোগের লক্ষণ দেখা দেয়।
  • শরীরের অধিকাংশ জায়গায় - এ ধরণের শ্বেতী পুরো শরীরেই ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত এই ধরণের শ্বেতী বেশি দেখা যায়। প্রথমে এটি হাত, পা বা মুখের সামান্য অংশে ছোট ছোট সাদা দাগ হিসেবে দেখা দেয় এবং ক্রমে এগুলো একত্রিত হয়ে বড় আকার ধারন করে এবং সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

শ্বেতী রোগ - কারণ

এখনো পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা শ্বেতীর সঠিক কারণ বের করতে পারেনি। তবে নিম্নোক্ত কারণে শ্বেতী হতে পারে, যেমন -
  • বংশগত কারণে
  • কেউ কেউ জন্মগতভাবে এই রোগে আক্রান্ত হয়
  • শরীরে মেলানিন উৎপাদনকারী কোষ ধ্বংসকারী পদার্থ তৈরী হওয়া
  • অত্যাধিক মানসিক অবসাদ
  • নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক পদার্থ যেমন মনোইথাইলিন বেনজিন ইত্যাদির কারণেও শ্বেতী হতে পারে

শ্বেতী রোগ - লক্ষণসমূহ

  • মুখমণ্ডল, বাহু, হাত বা পায়ের চামড়া বিবর্ণ হয়ে যাওয়া (অধিক প্রচলিত),
  • শরীরে সাদা বা হালকা ফুস্কুরি দেখা দেয়া,
  • শরীরের অন্যান্য অংশ যেমন: বগল, কুচকি, যৌনাঙ্গ বা পায়ুপথ ইত্যাদির চামড়া বিবর্ণ হয়ে যাওয়া,
  • মুখগহবর ও নাকের ভেতরে বিবর্ণ রঙের কোষ দেখা যাওয়া,
  • চুল, ভ্র, চোখের পাপড়ি বা মুখের লোম সাদা হয়ে আসা,

শ্বেতী রোগ - চিকিৎসা

এলোপ্যাথিতে বিভিন্ন ধরণের স্টেরয়েড জাতীয় মলম, এবং মুখে খাবার স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ, রিভোফ্লবিন ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আবার বিভিন্ন থেরাপি এবং সার্জারীও করা হয়ে থাকে। তবে এর উন্নত চিকিৎসা মূলত হোমিওপ্যাথি। এর জন্য এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ধৈর্য ধরে চিকিৎসা নিতে হবে। কারণ এর চিকিৎসা মূলত দীর্ঘমেয়াদি।

শ্বেতী রোগ - সতর্কতা

  • কোনও রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে শরীরে কোনও সাদা দাগ হচ্ছে কি না সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। তেনমনটা দেখা দিলেই বন্ধ করতে হবে ক্ষতিকর রাসায়নিক দেওয়া জিনিসের ব্যবহার।
  • ডিটারজেন্ট ব্যবহারের সময় গ্লাভস ব্যবহার করুন। সাবান, তেল, শ্যাম্পুর বেলায় বিজ্ঞাপনী চমকে প্রভাবিত হয়ে না কিনে, চেষ্টা করুন ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে কিনুন
  • শ্বেতী ধরা পড়লে ছেড়ে দিন প্লাস্টিক বা রবারের জুতো পরা। সার্বিকভাবেই প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করে ফেলতে পারলে ভাল হয়
  • কোনও রকম ফরসা হওয়ার ক্রিম, হেয়ার ডাই ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হবে
  • সানস্ক্রিন ব্যবহারের সময় ইউভি এ ও ইউভি বি দুটোই ব্লক করছে কি না দেখুন। কেবল এসপিএফ-ই নয়, নজর রাখতে হবে পিএফ ফ্যাক্টরেও। এ ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের অনুমোদন দেওয়া সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
  • স্বাস্থ্যকর ডায়েট ও পর্যাপ্ত ঘুম মানসিক চাপ কমায়। 
Dr Imran
ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান
ডিএইচএমএস (বিএইচএমসি এন্ড হসপিটাল), ডিএমএস; ঢাকা
রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক (রেজিঃ নং-৩৩৪৪২)
যোগাযোগঃ আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী-ডেমরা রোড, ঢাকা।
Phone: +88 01671-760874; 01977-602004 || E-mail : delowaridb@gmail.com
About Me: Profile ➤ Facebook ➤ YouTube ➤