সোমবার, ৩ জুন, ২০১৯

লিভার ক্যান্সার (Liver Cancer) কারণ লক্ষণ প্রতিকার প্রতিরোধ

লিভার ক্যান্সার (Liver Cancer) যাকে হেপাটিক ক্যান্সার (Hepatic Cancer),  প্রাইমারি হেপাটিক ক্যান্সার (Primary Hepatic Cancer) এবং বাংলায় যকৃতের ক্যান্সার বলে। লিভার ক্যান্সারের উৎপত্তি মূলত লিভারেই হয়ে থাকে। যখন অন্য অঙ্গ থেকে ক্যান্সার কোষ লিভারে ছড়ায় তখন তাকে লিভার মেটাস্টাসিস বলে। অর্থাৎ  লিভার ক্যান্সার দুই ধরনের একটি হলো প্রাথমিক লিভার ক্যান্সার - যার উৎপত্তি লিভার থেকে। অপরটি হলো সেকেন্ডারি লিভার ক্যান্সার - যার উৎপত্তি ফুসফুস, স্তন, পাকস্থলী, অন্ত্র এবং জরায়ু থেকে।

লিভার ক্যান্সারের প্রধান কারণ হলো হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি অথবা অ্যালকোহলের কারণে লিভার সিরোসিস হওয়া। অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে আফলাটক্সিন, নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ, ও লিভার ফ্লুকস। প্রধান দুটি টাইপ হলো হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা যা ৮০% ক্ষেত্রে হয় এবং কোলানজিওকার্সিনোমা। অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ টাইপ হলো মিউসিনাস সিস্টিক নিওপ্লাজম ও ইন্ট্রাডাক্টাল প্যাপিলারি নিওপ্লাজম রক্তপরীক্ষা ও মেডিকেল ইমেজিং এর মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা যায় তবে টিস্যু বায়োপসি করে নিশ্চিত হওয়া যায়।

যে কোন বয়সের লোকই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। লিভার ক্যান্সারের ঝুকি পুরুষদের ক্ষেত্রে মহিলাদের চেয়ে ৪ থেকে ৬ গুণ বেশী। সাধারণতঃ ক্যান্সার হওয়ার আগে লিভারে সিরোসিস দেখা দেয়, তবে এর ব্যতিক্রম হওয়াটাও অস্বাভাবিক না। লিভার ক্যান্সারের রোগীরা প্রায়ই পেটের ডান পাশে উপরের দিকে অথবা বুকের ঠিক নীচে মাঝ বরাবর ব্যথা অনুভব করেন যার তীব্রতা রোগী ভেদে বিভিন্ন রকম। সহজেই ক্লান্ত হয়ে পরা, পেট ফাপা, ওজন কমে যাওয়া আর হালকা জ্বর জ্বর ভাব এ রোগের অন্যতম লক্ষণ। 
লিভার ক্যান্সার রোগীদের প্রায়ই জন্ডিস থাকে না, আর থাকলেও তা খুবই অল্প। রোগীদের খাওয়ায় অরুচি, অতিরিক্ত গ্যাস কিংবা কষা পায়খানার উপসর্গ থাকতে পারে- আবার কখনো দেখা দেয় ডায়রিয়া। পেটে পানি থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে। অন্য ক্যান্সারের মতোই লিভার ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোন লক্ষণ প্রকাশ পায়না। ক্যান্সার কোষ ক্রমশ বড় হতে থাকলে বা শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়।

লিভার ক্যান্সার (Liver Cancer) প্রতিরোধমূলক উপায় হিসেবে হেপাটাইটিস বি এর টিকা নিতে হয় এবং হেপাটাইটিস বি ও সি তে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা নিতে হয়। ক্রনিক লিভার ডিজিজের রোগীর নিয়মিত ক্যান্সার স্ক্রিনিং করাহয়ে থাকে প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় । এলোপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে সার্জারি, টার্গেটেড থেরাপি, রেডিওথেরাপি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অ্যাবলেশন থেরাপি, এমবোলাইজেশন থেরাপি বা লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন থেরাপি ব্যবহার করা হয়।

তবে লিভার ক্যান্সার (Liver Cancer) রোগের পার্শপ্রতিক্রিয়াহীন উন্নত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা রয়েছে। যথাসময়ে চিকিৎসা শুরু করলে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ভালো রেজাল্ট চলে আসে। তবে এর জন্য অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরী। 
Dr Imran
ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান
ডিএইচএমএস, ডিএমএস, বিএসসি এন্ড এমএসসি; ঢাকা
রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক (রেজিঃ নং-৩৩৪৪২)
যোগাযোগঃ আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী-ডেমরা রোড, ঢাকা।
Phone: +88 01671-760874; 01977-602004 || E-mail : delowaridb@gmail.com
About Me: Profile ➤ Facebook ➤ YouTube ➤