বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৯

ঘাড়ের বাত ব্যথা ! সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস (Cervical Spondylosis)

সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস (Cervical Spondylosis) মূলত ঘাড়ের বাত ব্যথা নামেও পরিচিত।সার্ভিকাল স্পনডাইলোসিস হলে ঘাড়ের ব্যথা, ঘাড় ঘুরাতে অসুবিধা হওয়া এবং নাড়ালেই ব্যথা বৃদ্ধি পাওয়া, ঘাড়ের ব্যথার পাশাপাশি হাতের আঙুল ঝিনঝিন ও শিন শিন করা, ঘাড়ের মাংসপেশি কামড়াচ্ছে এমন অনুভব হওয়া, হাতের আঙুলে অবশভাব অনুভব হওয়া ইত্যাদি লক্ষণ ও উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে।

মানুষের মেরুদণ্ড ৩৩টি ছোট ছোট হাড় বা কশেরুকা দিয়ে তৈরি। ঘাড়ের অংশে থাকে সাতটি কশেরুকা। এই কশেরুকাগুলো একটি অপরটির সাথে ডিস্ক ও লিগামেন্ট দ্ব্বারা সংযুক্ত থাকে। মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশ সামনের দিকে উত্তলভাবে বাঁকানো। সবচেয়ে বেশি বাঁকানো থাকে পঞ্চ ও ষষ্ঠ কশেরুকার মধ্যকার ডিস্ক বরাবর। এই ডিস্কে স্পনডাইলোসিস বেশি ঘটে কারণ এই পয়েন্টে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে। ক্ষয়প্রাপ্তির প্রক্রিয়ায় ডিস্ক তার পানি হারিয়ে ফেলে এবং শুষ্ক হয়ে ওঠে। সুস্থ অবস্থায় ডিস্কগুলো নরম, স্থিতিস্থাপক এবং বেশি মজবুত। ডিস্কে যখন ক্ষয় শুরু হয় তখন তার নমনীয় তন্তুগুলো শক্ত হয়ে ওঠে এবং চাপের ফলে ভেঙ্গে যায়। দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিস্ক ক্ষয়ে যায় এবং পাতলা হয়ে যায়। এর ফলে কশেরুকাগুলোর প্রান্তগুলো পরস্পরের সাথে ঘষা খেতে থাকে এবং বিভিন্ন মাপের নতুন হাড়ের দানা দেখা দেয়। এই হাড়ের দানাগুলো সূচালো ও ধারালো। এক্সরে পরীক্ষায় এগুলো ধরা পড়ে।

যদি এই তীক্ষ হাড়ের দানাগুলোর কোনোটি স্নায়ুমূলকে খোঁচা মারে তাহলে হাতে তীব্র ব্যথার উদ্রেক হয়। হাড়ের দানাগুলো মাঝে মাঝে স্নাযুরজ্জুকেও চাপ দিতে পারে এবং পায়ে অসাড়তা ঘটাতে পারে। ক্ষয়প্রাপ্ত ডিস্ক তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে যেতে পারে, সেটাকে বলে স্লিপড ডিস্ক। সেক্ষেত্রে ডিস্ক স্নায়ুমূলের ওপর চাপ দিয়ে ব্যথা সৃষ্টি করে। স্লিপড ডিস্ক সাধারণত হয় দুর্ঘটনা, হঠাত্ পড়ে যাওয়া কিংবা ঘাড়ে আঘাতের কারণে। যা হোক, ডিস্কের স্থিতিস্থাপকতা হারিয়ে গেলে ক্ষয়প্রাপ্ত মেরুদণ্ডের নড়াচড়া সহজ হয় না। স্পনডাইলোসিস সাধারণত ঘটে থাকে ঘাড়ের নিচের চারটি কশেরুকাতে অর্থাত্ চতুর্থ থেকে সপ্তম কশেরুকাতে। ওপরের তিনটি কশেরুকাতে স্পনডাইলোসিস খুব কম হয় কারণ ওখানটায় খুব একটা চাপ পড়ে না। সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিসের ব্যথা সর্বদা ঘাড়ের পেছন দিকে অনুভূত হয়, কখনোই ঘাড়ের সামনের দিকে অনুভূত হবে না। ব্যথা তীব্র হলে তা কাঁধে এবং বাহুর পেছনের দিকে কনুই পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। কখনো কখনো ব্যথা হাতে এবং আঙুলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস -কারণ

  • যেকোনো ধরনের আঘাত
  • পজিশনাল অর্থাৎ ঘাড়ের নড়াচড়ার কারণে ব্যথা
  • হাড়ের ইনফেকশন
  • অস্টিওপোরেসিস
  • টিউমার
  • অস্টিও ম্যালেসিয়া বা ভিটামিন ডি-এর অভাব

সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস - উপসর্গ

  • ঘাড় ব্যথা এবং এ ব্যথা কাঁধ, বাহু, হাত ও আঙুল পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়া।
  • কাঁধ, বাহু, হাত ও আঙুলে অস্বাভাবিক অনুভূতি বা অবশভাবের উদ্রেক।
  • বাহু, হাত ও আঙুল দুর্বল অনুভূত হওয়া।
  • সব সময় ঘাড় ধরে বা জমে (স্টিফনেস) আছে এমন অনুভূতির সৃষ্টি হওয়া।
  • ঘাড়ের মুভমেন্ট ও দাঁড়ানো অবস্থায় কোনো কাজ করলে ব্যথা অনুভূত হওয়া।
  • ঘাড় নিচু করে ভারি কিছু তোলা বা অতিরিক্ত কাজের পর তীক্ষ্ণ ব্যথা অনুভূত হওয়া।
  • ঘাড় উপরের পিঠ এবং বাহুতে চাপ দিলে ব্যাথা এবং ঘাড়ের স্বাভাবিক নড়াচড়া ব্যাহত হওয়া।

সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস - রোগ নির্ণয়

স্পনডাইলোসিস নির্ণয়ের জন্য এক্সরে পরীক্ষা করা হয়। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান অথবা এমআরআই করা হয়ে থাকে। এক্সরেতে বিশেষ ধরনের কিছু পরিবর্তন দেখে স্পনডাইলোসিস নির্ণয় করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ডিস্কের ক্ষয়। কশেরুকাতে বিভিন্ন মাপের নতুন হাড়ের দানা লক্ষ করা যেতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী অংশের ফাঁক কমে যায়।

সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস - চিকিৎসা 

এই সমস্যার উন্নত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা রয়েছে। এর জন্য এক্সপার্ট কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন।
Dr Imran
ডাঃ দেলোয়ার জাহান ইমরান
ডিএইচএমএস, ডিএমএস, বিএসসি এন্ড এমএসসি; ঢাকা
রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক (রেজিঃ নং-৩৩৪৪২)
যোগাযোগঃ আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী-ডেমরা রোড, ঢাকা।
Phone: +88 01671-760874; 01977-602004 || E-mail : delowaridb@gmail.com
About Me: Profile ➤ Facebook ➤ YouTube ➤