Monday, March 11, 2019

বাত বা বাতের ব্যথা (Arthritis) আথ্রাইটিস কি? অষ্টিওআর্থ্রাইটিস গেঁটে বাত স্পন্ডিলাইটিস সায়াটিকা

সন্ধিবাত বা গাঁট ফোলানো বাত (Rheumatoid Arthritis) অষ্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis) বা অস্থিসংযোগ গ্রন্থি প্রদাহ, গেঁটে বাত (Gout), কটিবাত বা কোমর প্রদাহ (Lumbago), মেরুদণ্ড প্রদাহ বা স্পন্ডিলাইটিস (Spondylitis), সায়াটিকা/কোটি স্নায়ুশূল(Sciatica, আম বাত বা আর্টিকেরিয়া বা অ্যালার্জি(Urticaria), বাতজ্বর (Rheumatic Fever), সংক্রামক বাত বা সেপটিক আর্থ্রাইটিস রোগের লক্ষণসমূহ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা। নিম্নোলিখিত রোগগুলোই সাধারণত একত্রিত হয়ে বাতরোগ গঠিত হয়-
  • সন্ধিবাত/ গাঁট - ফোলানো বাত (Rheumatoid Arthritis)
  • অষ্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis)/অস্থিসংযোগ গ্রন্থি প্রদাহ
  • গেঁটে বাত (Gout)
  • কটিবাত বা কোমর প্রদাহ (Lumbago)
  • মেরুদণ্ড প্রদাহ বা স্পন্ডিলাইটিস (Spondylitis)
  • সায়াটিকা/কোটি স্নায়ুশূল (Sciatica)
  • আম বাত/আর্টিকেরিয়া/অ্যালার্জি (Urticaria)
  • বাতজ্বর (Rheumatic Fever)
  • সংক্রামক বাত/সেপটিক আর্থ্রাইটিস
বাতের ব্যথায় ভূগেনি এমন নানা-নানী বা দাদা দাদী খুজে পাওয়া খুবই দুস্কর। রক্তে ইউরিক এসিডের (Uric acid) মাত্রা বেড়ে গেলে বাত বা গাঊট (Gout) হয়। কিছু কিছু অসুধ সেবনে রক্তে uric acid এর মাত্রা বেড়ে যেতে পারে যেমন থায়াজাইড, এসপিরিন, পাইরাজিনামাইড ইত্যাদি। তেমনি রেনাল ফেইলুর, হাইপার প্যারাথাইরয়েডিজম এমন কিছু রোগেও ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে বাত হতে পারে।

শতকরা ৭০ ভাগ বাতের ব্যথাই শুরু হয় পায়ের বুড়ো আঙ্গুলে। এথেকে গোড়ালি, হাটু, হাত ও পায়ের ছোট জয়েন্ট, কবজি, কনুই ক্রমান্বয়ে এরোগে আক্রান্ত হতে পারে। আক্রান্ত অস্থিসন্ধিটি ফুলে কিছুটা লালচে বর্ণ ধারণ করে এবং ব্যথা করে। অনেক সময় খুধামন্দা এবং জ্বরও এর সহচর হিসেবে দেখা দেয়।

বাত রোগে রক্তে ইউরিক এসিড এর মাত্রার সাথে সাথে ই,এস,আর এবং শ্বেতকনিকার সংখাও বৃদ্ধি পায়। এক্সরে করলে হাড়ে পরিবর্তন ধরা পড়ে। অস্থিসন্ধি থেকে সাইনোভিয়াল ফ্লুইড বা অস্থিরস পরীক্ষা করেও এই রোগ নিশ্চিত হওয়া যায়।
সন্ধিবাত বা গাঁট ফোলানো বাত (Rheumatoid Arthritis): কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্রমশ এক বা একাধিক অস্থি সন্ধিতে ব্যথা, আড়ষ্ঠভাব প্রকাশ পায়। সাধারণত হাত ও পা প্রথমে আক্রান্ত হয় আবার কখনও শুধু একটি সন্ধি। অস্থিসন্ধিবাত প্রধানত দুই প্রকার, যথা: (ক) তরণ অস্থিসন্ধি বাত (খ) পুরাতন অস্থিসন্ধি বাত। যেমন- হাঁটু, কনুই, পাছার সন্ধি আক্রান্ত হয়। মাঝে মাঝে এই লক্ষণগুলো মারাত্মকভাবে দেখা দেয় এবং রোগী অচল হয়ে পড়ে ইহাই অস্থি সন্ধিবাত।

অষ্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis): অষ্টিও শব্দের অর্থ হলো অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট আর আর্থ্রাইটিস হলো ইনফ্লামেসন বা প্রদাহ। অর্থাৎ অষ্টিওআর্থ্রাইটিস শব্দের অর্থ হলো অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট এ প্রদাহ। হাঁটু ভাঁজ করতে ব্যথা হয়, ফুলে যায়, উঠতে বসতে ব্যথা হয়। নীচে বসে নামাজ পড়া, বাথরুমে বসা, সিঁড়ি দিয়ে নামাউঠা করা বেশ কষ্টকর হয়। কখনও কখনও ভিতরে কট্ কট্ শব্দ করে। দীর্ঘ দিন চিকিৎসা না নিলে মাংসপেশী দূর্বল হয়ে পা বাঁকা হয়ে যায়।

গেঁটে বাত (Gout): গেঁটে বাত বা গাউট হচ্ছে একটি প্রদাহজনিত রোগ; এতে সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি ও এর আশেপাশের টিস্যুতে মনোসোডিয়াম ইউরেট মনোহাইড্রেট ক্রিস্টাল জমা হয়। সাধারণত মাত্র ১-২% লোক এই রোগে আক্রান্ত হয় তবে মহিলাদের তুলনায় পুরুষেরা ৫ গুণ বেশি আক্রান্ত হয়। এটি পুরুষ ও বৃদ্ধা মহিলাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে লক্ষণীয় প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিস। পুরুষরা সাধারণত ৩০ বছরের পর এবং মহিলারা মেনোপজ বা রজোনিবৃত্তির পরে বেশি আক্রান্ত হয়। বয়স বৃদ্ধি ও রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে। মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের ইউরিক এসিডের মাত্রা বেশি থাকে তবে বয়স ও ওজন বাড়লে রক্তে ইউরিক এসিডও বাড়বে। কিছু এথনিক গ্রুপ যেমন মাউরি উপজাতি ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপের জনগোষ্ঠীদের রক্তে ইউরিক এসিড একটু বেশি থাকে। রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে তাকে হাইপারইউরিসেমিয়া বলে।

কটিবাত বা কোমর প্রদাহ (Lumbago): মেরুদন্ডের মাংসপেশি, লিগামেন্ট মচকানো, আংশিক ছিড়ে যাওয়া, দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিস্ক সমস্যা, কশেরুকার অবস্থানের পরিবর্তন ও মেরুদন্ডের নির্দিষ্ট বক্রতার পরিবর্তনকে বোঝায়। চলাফেরা, জীবিকার ধরন, খুব বেশী ভার বা ওজন বহন, মেরুদন্ডের অতিরিক্ত নড়াচড়া, একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে কোনো কাজ করা, মেরুদন্ডে আঘাত পাওয়া সর্বোপরি কোমরের অবস্থানগত ভুলের জন্য হয়ে থাকে। অন্যান্য কারণের মধ্যে বয়সজনিত মেরুদন্ডে ক্ষয় বা বৃদ্ধি, অস্টিওআথ্রাইটিস বা গেঁটে বাত, অস্টিওপোরোসিস, এনকাইলজিং স্পনডাইলোসিস, মেরুদন্ডের স্নায়বিক সমস্যা, টিউমার ক্যান্সার, বোন টিবি, কোমরের মাংসপেশির সমস্যা, পেটের বিভিন্ন ভিসেরার রোগ বা ইনফেকশন, বিভিন্ন স্ত্রীরোগজনিত সমস্যা, মেরুদন্ডের রক্তবাহী নালির সমস্যা, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, মেদ বা ভুঁড়ি অতিরিক্ত ওজন ইত্যাদি।

মেরুদণ্ড প্রদাহ বা স্পন্ডিলাইটিস (Spondylitis): স্পন্ডিলাইটিস  ঘাড়ে, পিঠে বা কোমরে যে কোনও জায়গায় হতে পারে। তবে ঘাড়েই বেশি হতে দেখা যায়। স্পন্ডিলাইটিস হচ্ছে মেরুদন্ডে প্রদাহজনিত সমস্যা। যেমন অ্যাষ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস, রিউম্যাটয়েড স্পন্ডিলাইটিস ইত্যাদি। ঘাড়ের স্পন্ডিলাইটিসে ঘাড়ে ব্যথার সাথে সাথে হাত বরাবর যন্ত্রণা নেমে আসে। দিনে দিনে এই রোগের সমস্যা বাড়ছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যেও এই রোগের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ছে। সার্ভাইকাল স্পন্ডিলাইটিসের কারণগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায় একনাগাড়ে ঘাড় নীচু করে কাজ করা, সেলাই করা হোক বা লেখাপড়ার কাজ, কম্পিউটার নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কাজ, অতিরিক্ত ওজন কিংবা ভারী স্কুলের ব্যাগ, উঁচু বালিশে শোয়া ইত্যাদি। লাম্বার স্পন্ডিলাইটিসের ক্ষেত্রে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা প্রণালী অথবা কাজকর্মের ধরনের ওপরও মেরুদন্ডের বাত নির্ভর করে। দেখা গেছে যারা ক্রমাগত বসে কাজ করেন যেমন অফিসের করনিক, কম্পিউটারে কাজ, সোনা-রূপোর দোকানে যারা কাজ করেন তাদের মেরুদন্ডে বাত ধরতে পারে। তেমনি আবার যারা দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে কাজ করেন তাদেরও স্পন্ডিলাইটিস হতে পারে।

সায়াটিকা/কোটি স্নায়ুশূল (Sciatica) : আমাদের শরীরে সায়াটিক নামের একটি নার্ভ বা স্নায়ু রয়েছে যার অবস্থান আমাদের মেরুদন্ডের লাম্বার স্পাইনের দিকের কশেরুকা বা ভার্টিরা এল ৩, ৪, ৫ ডিস্ক এবং সেকরাল স্পাইনের এস ১ কশেরুকা বা ভার্টিবা থেকে ঊরুর পিছন দিক দিয়ে হাঁটুর নিচের মাংসপেশির মধ্যে দিয়ে পায়ের আঙ্গুল পর্যন্ত। যখন কোনো কারণে এই নার্ভ বা স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে তখন এই নার্ভ বা স্নায়ুর ডিস্ট্রিবিউশন অনুযায়ী ব্যথা কোমর থেকে পায়ের দিকে ছড়িয়ে যায়, এটাকে সায়াটিকা বলা হয়।

বাত বা বাতের ব্যথা এবং চিকিৎসা

এই সকল বাতের ব্যথা নিরাময়ে কার্যকর এবং পার্শপ্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। এর জন অভিজ্ঞ কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিলে বেস্ট একটা রেজাল্ট পেয়ে যাবেন ইনশা-আল্লাহ। 
বাত বা বাতের ব্যথা (Arthritis) আথ্রাইটিস কি? অষ্টিওআর্থ্রাইটিস গেঁটে বাত স্পন্ডিলাইটিস সায়াটিকা ডাঃ ইমরান - ডিএইচএমএস, পিডিটি (হোমিও মেডিসিন), ঢাকা 5 of 5
সন্ধিবাত বা গাঁট ফোলানো বাত (Rheumatoid Arthritis) অষ্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis) বা অস্থিসংযোগ গ্রন্থি প্রদাহ, গেঁটে বাত (Gout), কটিবা...
ডাঃ ইমরান; ডিএইচএমএস(হোমিওপ্যাথি) এবং ডিএমএস(অ্যালোপ্যাথি), ঢাকা।
আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
ফোন : ০১৬৭১-৭৬০৮৭৪ এবং ০১৯৭৭-৬০২০০৪

সকল আপডেট পেতে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন আমাদের সাথে।

No comments:

Post a Comment