Wednesday, February 27, 2019

বাতজ্বর (Rheumatic Fever) কারণ, লক্ষণ এবং স্বল্প মেয়াদী চিকিৎসা পদ্ধতি

বাতজ্বর(Rheumatic Fever) স্ট্রেপ্টোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ঘটিত এক ধরনের প্রদাহজনিত রোগ। বিটা হিমোলাইটিক স্ট্রেপ্টোকক্কাস দ্বারা ফ্যারিংসে সংক্রমণ হওয়ার ২ থেকে ৪ সপ্তাহ পর বাতজ্বর দেখা দিতে পারে। সে সময় ফ্যারিঞ্জাইটিসের লক্ষণসমূহ আর থাকেনা।  বাতজ্বর সাধারণত ৫-১৫ বছর বয়েসী বাচ্চাদের বেশী হয়ে থাকে। তবে বয়স্করাও এতে আক্রান্ত হতে পারে।

বাতজ্বরের উপসর্গ

মাইগ্রেটরি পলি-আর্থ্রাইটিস: বাতজ্বরে আক্রান্ত ৭৫% রোগীর এই লক্ষণটি প্রকাশ পায়। সাধারণত হাঁটু, গোড়ালির গাঁট, কব্জি ও কনুই এর মতো বড় জয়েন্টগুলো আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত জয়েন্ট ফুলে লাল হয়ে যায়, অত্যন্ত ব্যথা ও গরম থাকে। সাধারণত ১-৩ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যায়। মেরুদণ্ড, হাত ও পায়ের ছোট ছোট জয়েন্ট ও নিতম্বের জয়েন্ট আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
বাতজ্বর (Rheumatic Fever) কারণ, লক্ষণ এবং স্বল্প মেয়াদী চিকিৎসা পদ্ধতি
কার্ডাইটিস: ৫০-৬০% রোগীর ক্ষেত্রে এটি হয়।বাতজ্বরে হার্টের তিনটি স্তরেই (এন্ডোকার্ডিয়াম, মায়োকার্ডিয়াম, পেরিকার্ডিয়াম)প্রদাহ হয় বলে এটা প্যানকার্ডাইটিস নামে পরিচিত। হার্টের ভালব বা কপাটিকা বিশেষ করে মাইট্রাল ভালব ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাইট্রাল ভালবের সাথে কখনো কখনো অ্যাওর্টিক ভালবও আক্রান্ত হতে পারে। তবে শুধু অ্যাওর্টিক ভালব বা ডানপার্শ্বীয় ট্রাইকাসপিড ভালব সাধারণত আক্রান্ত হয়না।

সিডেনহাম কোরিয়া: ১০-১৫% রোগীর এই সমস্যা হয়।ঐচ্ছিক পেশির অনিয়মিতভাবে অনৈচ্ছিক আন্দোলন কে কোরিয়া বলে। এই রোগীদের হাত বেঁকে গিয়ে চামুচের মতো আকৃতি ধারণ করতে পারে, জিহ্বা বাইরে বের হয়ে লাফাতে থাকে। এছাড়া হাতের লেখা খারাপ হতে থাকে, লেখাপড়ায় অবনতি হয়। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। মানসিক চাপের সময় এই লক্ষণগুলো বাড়ে তবে ঘুমানোর সময় আর থাকেনা।

সাবকিউটেনিয়াস নডিউল: ত্বকের নিচে ব্যথাহীন কিছুটা শক্ত দলা পাওয়া যায়।

ইরাইথেমা মার্জিনেটাম: এক ধরণের লালচে চুলকানিমুক্ত ফুসকুড়ি যার মধ্যভাগ কিছুটা বিবর্ণ। এটিদেহ,হাত ও পায়ে হয়ে থাকে তবে মুখমণ্ডলে হয়না। চামড়া গরম হলে ফুসকুড়ি বেশি হয়।
বাতজ্বরের রোগীর সাধারণত নিম্নলিখিত উপসর্গসমূহ দেখা দেয়
  • জ্বর
  • রক্তের ইএসআর অনেক বেশী হওয়া।
  • অস্থিসন্ধিতে মৃদু বা তীব্র ব্যথা যা প্রায়ই পায়ের গোড়ালি, হাঁটু, কনুই অথবা হাতের কবজি এবং কখনো কখনো কাঁধ, কোমর, হাত, পায়ের পাতায় হয়ে থাকে।
  • ব্যথা সাধারণত এক অস্থিসন্ধি থেকে আরেক অস্থিসন্ধিতে ছড়িয়ে পড়ে যা মাইগ্রেটরি পলি-আর্থ্রাইটিস নামে পরিচিত।
  • জয়েন্ট লাল,উষ্ণ ও ফোলা থাকে
  • ত্বকের নিচে ক্ষুদ্র ব্যথাহীন পিন্ড বা সাবকিউটেনিয়াস নডিউল থাকে।
  • বুকে ব্যথা ও বুক ধড়ফড় করে
  • অল্পতে ক্লান্ত বা দুবর্ল বোধ হয়
  • শ্বাসকষ্ট হয় ইত্যাদি

যে কারণগুলি বাতজ্বর হওয়ার ক্ষেত্রে ট্রিগার করে

  • দারিদ্র্য
  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব
  • ঠাণ্ডা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে এবং অজ্ঞতাই এ রোগের প্রধান কারণ।
  • যেসব শিশুর দীর্ঘ দিন ধরে খোসপাঁচড়া ও টনসিলের রোগ থাকে, তাদের বাতজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে

চিকিৎসা পদ্ধতি

  • এলোপ্যাথিক : এই সিস্টেমে দীর্ঘ মেয়াদী অর্থাৎ ৫ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে এন্টিবায়োটিক নিতে হয় যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে
  • হোমিওপ্যাথিক : এই সিস্টেমে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ঔষধের মাধ্যমেই ৪/৫ মাসের মধ্যেই বাতজ্বর ভাল হয়ে যায়

বাতজ্বর (Rheumatic Fever) কারণ, লক্ষণ এবং স্বল্প মেয়াদী চিকিৎসা পদ্ধতি ডাঃ ইমরান - ডিএইচএমএস, পিডিটি (হোমিও মেডিসিন), ঢাকা 5 of 5
বাতজ্বর(Rheumatic Fever) স্ট্রেপ্টোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ঘটিত এক ধরনের প্রদাহজনিত রোগ। বিটা হিমোলাইটিক স্ট্রেপ্টোকক্কাস দ্বারা ফ্যারিংস...
ডাঃ ইমরান; ডিএইচএমএস(হোমিওপ্যাথি) এবং ডিএমএস(অ্যালোপ্যাথি), ঢাকা।
আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
ফোন : ০১৬৭১-৭৬০৮৭৪ এবং ০১৯৭৭-৬০২০০৪

সকল আপডেট পেতে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন আমাদের সাথে।

No comments:

Post a Comment