Thursday, August 30, 2018

ত্বকের সোরিয়াসিস রোগের কারণ, লক্ষণ এবং কার্যকর চিকিৎসা

সোরিয়াসিস Psoriasis ত্বকের একটি জটিল রোগ, এই ধারণাটি হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এক দশক আগে সোরিয়াসিসের নামই এই ভূখণ্ডের মানুষজন জানতো না। কেননা এটি পাশ্চাত্যের রোগ হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে এখন ১০ জনের মধ্যে তিনজনের এই রোগ হয়। তাই এই বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। সোরিয়াসিস ত্বকের একটি প্রদাহজনিত রোগ যা সংক্রামক বা ছোঁয়াচে নয়।

এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি জটিল চর্মরোগ যা কখনোই সম্পূর্ণ সারে না - বলে থাকেন এলোপ্যাথিক চিকিৎসকগণ কারণ আমাদের এলোপ্যাথিতে এর তেমন কোন স্থায়ী কার্যকর চিকিৎসা নেই শুধু ঔষধ প্রয়োগ করে করে রোগীকে আরাম দেয়ার চেষ্টা করা হয়, অথচ হোমিও চিকিৎসায় এই রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করছেন লোকজন। আমাদের দেশে ঠিক কত জন এই সোরিয়াসিস রোগে আক্রান্ত তার কোনো হিসাব বা সঠিক পরিসংখ্যান নেই। যে কোনো বয়সের নারী ও পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে ৩০ বছর বয়সের পরে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

আমাদের দেহে ২১ দিন পরপর নতুন চামড়া গজায়। কিন্তু সোরিয়াসিসের ক্ষেত্রে দেখা যায় সেটা খুব দ্রুত হচ্ছে। মাছের আশের মতো জায়গায় জায়গায় চামড়াগুলো উঠে যাচ্ছে। শরীরের নির্দিষ্ট কিছু জায়গা মাথা,ঘাড়, কনুই, হাঁটুতে এগুলো হচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে একটি মানুষের জন্য এটি বিব্রতকর। সামাজিক ভাবেও এটি বিব্রতকর। আর নতুন রোগ হিসেবে এটা আতঙ্ক তৈরি করে অনেকের মাঝে।

সোরিয়াসিস রোগে ত্বকে প্রদাহযুক্ত দাগ হয়। সাধারণত, মানুষের ত্বকের কোষ প্রতিনিয়ত মারা যায় এবং নতুন করে কোষ তৈরি হয়। সোরিয়াসিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই মারা যাওয়া কোষের সংখ্যা ও বিস্তারের মাত্রা অস্বাভাবিক হয়ে উঠে। ত্বকের সবচেয়ে গভীর স্তর থেকে মৃত কেরাটিনোমাইটস উপরের স্তরে চলে আসতে সাধারণত ২৮ দিন সময় লাগে। কিন্তু সোরিয়াসিস এর ক্ষেত্রে এই সময় লাগে ৫ থেকে ৭ দিন। এই রোগ সম্পর্কে এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি। তকে কিছু কারণ যেমন: ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাল ইনফেকশন, ত্বকে আঘাত, আবহাওয়া, কিছু এলোপ্যাথিক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়, অতিরিক্ত লাল মাংস গ্রহণ এবং হতাশা ইত্যাদি কারণে সোরিয়াসিস হতে পারে।

সোরিয়াসিস রোগের লক্ষণ

সোরিয়াসিস একজন থেকে অন্যজনে এমনকি শরীরের এক অংশ থেকে অন্য অংশেও ছড়ায় না। সোরিয়াসিস হলে সাধারণত যেসব লক্ষণ ও উপসর্গগুলো দেখা দেয় :
  • ত্বক পুরু হয়ে যায় এবং লালচে দাগ পড়ে 
  • ত্বক চুলকায় অথবা ব্যথা হয়
  • ছোট বড় নানা আকারে লাল বর্ণের একটি/অনেকগুলো ম্যাকুল/প্যাচ দেহের নানা স্থানে প্রকাশ পায়। ঈষৎ ধূসর বর্ণের চকচকে প্রচুর আঁশ উঠে
  • কোন প্রকার ফুসকুড়ি হয় না, রস পড়ে না
  • প্যাঁচ মিলিয়ে গিয়ে আবারও আসে, কোন কোন প্যাঁচ দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়। অতিরিক্তি চুলকালে ক্ষতের সৃষ্টি হয়ে মধুর ন্যায় আঠালো রস বের হয়
  • ক্ষত মিলিয়ে যাওয়ার পর কোন দাগ থাকে না
  • আঁইশ উঠিয়ে দিলে তার নীচটা মসৃণ ও শুষ্ক দেখায়
  • শরীরের প্রায় সবখানেই হয়ে থাকে, অত্যাধিক বেশি হলে পুরো শরীরে হয়ে থাকে
  • নখ আক্তান্ত হলে নখের চারপাশে ও নখের নীচে ঘন আঁশ জমে নখ মোটা, ভেঙ্গে যায় ও বিকৃত হয়ে যায়, বিবর্ণ দেখায়, নখ ফাংগাস ইনফেকশনের মতো দেখায়
  • যাদের সোরিয়াসিসের সঙ্গে আর্থাইটিস থাকে তাদের ভয়ানক কষ্ট ভোগ করতে হয়। গায়ে সামান্য সূর্যতাপ লাগলে রোগী অসস্তিবোধ করে।
  • কদাচিৎ কোন কোন রোগীতে সর্বাঙ্গের ত্বক আক্রান্ত হয়ে লাল হয়ে প্রদাহ জন্মায় এবং তার ওপর পাতলা আঁশ স্তরে স্তরে জমা হয়
  • কোন কোন ক্ষেত্রে মাথার ত্বক আক্রান্ত হতে পারে এবং হাতের নখের রঙ নষ্ট হয়ে যায় এবং গর্ত (Pitted) হয়ে যায়। 
  • সোরিয়াসিসে আক্রান্ত প্রতি দশজনে একজনের বাত (আর্থ্রাইটিস) হতে পারে। একে সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস বলা হয়। এর ফলে হাত ও পায়ের আঙ্গুল, পিঠ, কোমর এবং হাঁটু ব্যথায় আক্রান্ত হয়।

সোরিয়াসিসের কারণ

  • হোমিওপ্যাথিক দৃষ্টি কোন থেকে সোরা ধাতু দোষই হলো মূল কারণ
  • জীবাণু সংক্রমণ
  • লিভার ক্রিয়ার গোলযোগ থাকলে
  • শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অভাব
  • খাদ্যাখাদ্য
  • পুষ্টির অভাব
  •  শীত প্রধান অঞ্চল
  • কালো লোকদের তুলনায় সাদা/ফর্সা লোকদের বেশি হয়

সোরিয়াসিস রোগ নির্ণয়

  • প্রথম দর্শনে এ রোগ নির্ণয় করা কঠিন, কারণ অন্যান্য চর্ম রোগের সাথে ভুল হওয়া খুব স্বাভাবিক
  • মাথার সোরিয়াসিসের সাথে মাথার খুশকি পার্থক্য করতে হবে
  • অন্যান্য চর্ম রোগের আঁশের সাথে এর পার্থক্য করতে হলে এর আঁইশ খুবই পাতলা, চকচকে, রূপালী কালারের ন্যায় হয়
  • এতে মাথার চুল নষ্ট হয় না, জট হয় না
  • সোরিয়াসিসের সাথে কোষ্ঠ-কাঠিন্য থাকতে পারে, সিফিলিস, একজিমা, নখের ফাংগাস ইনফেকশন, ক্যান্সারের সাথে পার্থক্য করে জেনে নিতে হবে। সোরিয়াসিস থেকেও স্কীন ক্যান্সার হতে পারে

ত্বকের সোরিয়াসিস রোগের চিকিৎসা

অনেক এলোপ্যাথিক ডাক্তারই আপনাকে বলে থাকবে - হোমিও চিকিৎসা নিয়েই নাকি সোরিয়াসিস রোগীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়!!! এটা একটা পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ হোমিওপ্যাথি নিয়ে পড়াশোনা না করে এ সম্পর্কে কথা বললে মানুষ তাদের মূর্খ্ ছাড়া আর কিছুই বলবে না কারণ এলোপ্যাথি এবং হোমিওপ্যাথি দুটি আলাদা চিকিৎসা শাস্ত্র। কারণ এখানে ঔষধ আলাদা - এলোপ্যাথিক ঔষধ হলো ম্যাটেরিয়াল যা একটি নির্দিষ্ঠ সময় পর নষ্ট হয়ে যায় কিন্তু হোমিও ঔষধ হল শক্তি বা পোটেন্সি যা কখনো নষ্ট হয় না অর্থাৎ এর কোন এক্সপায়ার ডেট নেই।

আবার এলোপ্যাথিক এবং হোমিওপ্যাথিক ঔষধের ফার্মাকোপিয়া এবং ফার্মাকোলজি সবই আলাদা। তাই কোন এলোপ্যাথিক ডাক্তার হোমিওপ্যাথি নিয়ে পড়াশোনা না করে কখনো হোমিও ঔষধ প্রয়োগ করতে পারেন না। অর্থাৎ কাউকে এলোপ্যাথিক ডাক্তারি করতে হয় তাকে এলোপ্যাথি নিয়ে পড়াশোনা করতে হবে আবার যদি কাউকে হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারি করতে হয় তাকে হোমিওপ্যাথি নিয়ে পড়াশোনা করতে হবে।

পৃথিবীর বহু উচ্চ ডিগ্রীধারী এলোপ্যাথিক ডাক্তারগণও হোমিওপ্যাথি সম্পর্কে একেবারে নূন্যতম ধারণাও রাখেন না। তাদের অনেকেই নানা এলোপ্যাথিক ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করার কারণে হোমিওপ্যাথি সম্পর্কে বিষদ্গার করে থাকেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডাঃ টেইলর কেন্ট তাদের অজ্ঞ আর মূর্খ্য বলে অবহিত করেছেন। বাস্তবেও তাই।

এবার আসুন আমাদের মূল বিষয়বস্ততে ফিরে যাই। অতীতের রেকর্ড থেকে এটি নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয় - যারা এই রোগ থেকে মুক্তি লাভ করেছেন তারা প্রায় সবাই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিয়েই সুস্থ হয়েছেন। কারণ যারা শুধু এলোপ্যাথি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন তারা সরাসরি আপনাকে বলবে সোরিয়াসিস এলোপ্যাথিতে নির্মূল হয় না - ঔষধ খেয়ে খেয়ে রোগের তীব্রতা কমিয়ে রাখতে হয়। কারণ এই রোগ স্থায়ীভাবে নির্মূলের কার্যকর ঔষধ এলোপ্যাথিতে এখন পর্যন্ত নেই। তাই এলোপ্যাথিক চিকিৎসকগণ সেটাই শিখে আসছেন এবং জেনে আসছেন।

অথচ দেখা যাচ্ছে বহু এলোপ্যাথিক ডাক্তারের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বহু টাকা পয়সা খরচ করে অবশেষে কোন এক হোমিও চিকিৎসকের চিকিৎসাতেই আরোগ্য লাভ করছেন সোরিয়াসিস রোগীরা। সোরিয়াসিসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে মনে রাখতে হবে যে - হোমিওপ্যাথি ঔষধ রোগীর সর্ব প্রকার লক্ষণ যেমন চারিত্রিক, শারীরিক, মানুষিক এবং যে রোগে আক্রান্ত সে রোগের লক্ষণ অনুসারে নির্বাচন করা হয়। যা একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পক্ষেই করা সম্ভব।

কিন্তু আমাদের দেশের অনেক মানুষই ডাক্তারের তথ্যাবধানে ভালো এবং উন্নত একটি চিকিৎসা না নিয়ে দুয়েকটি ঔষধের নাম জেনেই সেটা খেয়ে রোগ নির্মূলের বৃথা চেষ্টা চালায় যা একসময় তার রোগটিকে ধীরে ধীরে জটিল পর্যায়ে নিয়ে যায়। অথচ ঠিক সময়ে ডাক্তারের তথ্যাবধানে থেকে চিকিৎসা নিলে সে হয়তো ভালো একটা রেজাল্ট পেতো। তাছাড়া রোগীকেও মনে রাখতে হবে এই সকল রোগ যেগুলি আমাদের এলোপ্যাথিতে স্থায়ী চিকিৎসা নেই সেগুলি হোমিও চিকিৎসা নিলে কিছুটা ধৈর্য ধরে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে কারণ এ ক্ষেত্রে এই রোগের সাথে সাথে শরীরে আরো কিছু জটিলতা প্রকাশ পায় এবং সব মিলিয়ে ট্রিটমেন্ট করতে গেলে ডাক্তারকেও প্রজ্ঞাবান হতে হয়। 
ত্বকের সোরিয়াসিস রোগের কারণ, লক্ষণ এবং কার্যকর চিকিৎসা ডাঃ ইমরান - ডিএইচএমএস, পিডিটি (হোমিও মেডিসিন), ঢাকা 5 of 5
সোরিয়াসিস Psoriasis ত্বকের একটি জটিল রোগ, এই ধারণাটি হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এক দশক আগে সোরিয়াসিসের নামই এই ভূখণ্ডের মানুষজন জানতো না। কেন...
ডাঃ ইমরান; ডিএইচএমএস(হোমিওপ্যাথি) এবং ডিএমএস(অ্যালোপ্যাথি), ঢাকা।
আনোয়ার টাওয়ার, আল-আমিন রোড, কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
ফোন : ০১৬৭১-৭৬০৮৭৪ এবং ০১৯৭৭-৬০২০০৪

সকল আপডেট পেতে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন আমাদের সাথে।

No comments:

Post a Comment